৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সৌদি আরবে নিহত চার প্রবাসীর পকেটেই ছিল বাড়ি ফেরার টিকিট

প্রকাশ: বুধবার, সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
সৌদি আরবে নিহত চার প্রবাসীর পকেটেই ছিল বাড়ি ফেরার টিকিট

সৌদি আরবে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় চার প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। দীর্ঘদিন সৌদিতে অবস্থানের পর দেশে ফিরছিলেন তারা। তাদের পকেটে ছিল বাড়ি ফেরার টিকিট।

বিমানবন্ধরে পৌঁছানোর আগে দেশটির তায়েফে সড়ক দুর্ঘটনায় লাশ হলেন চার প্রবাসী। এদের মধ্যে দুজনের বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে তায়েফের আল-খুরমা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে দুই পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সিলেটের নিহতরা হলেন আব্দুল করিম ও খালেদ আহমদ। তাদের বাড়ি উপজেলার ৭ নম্বর দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের গাছবাড়ী এলাকার লামার তালুক গ্রামে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, করিম ও খালেদ দীর্ঘদিন সৌদি আরবে ছিলেন। দেশে ফেরার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে লাগেজ নিয়ে তায়েফ থেকে জেদ্দা বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হন।

পথে আল-খুরমা এলাকায় তাদের গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

দেশে মৃত্যুর খবর পৌঁছালে স্বজনদের মধ্যে কান্নার রোল পড়ে। প্রিয়জনকে বরণ করে নেওয়ার অপেক্ষায় থাকা দুই পরিবারে নেমে আসে শোক।

উপজেলার দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লোকমান উদ্দিন বলেন, ‘খবরটি অত্যন্ত মর্মান্তিক।

দুই প্রবাসীর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর আমি তাদের পরিবারের সদস্যদের বাড়িতে গিয়েছি। পরিবার দুটির জন্য এটি অপূরণীয় ক্ষতি।’

গত তিন মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় কানাইঘাট উপজেলার আট প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। এর আগে গত জুনে কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় উপজেলার পাঁচ প্রবাসী নিহত হন। ওই শোক কাটতে না কাটতেই জুলাইয়ে সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় আরো এক প্রবাসীর মৃত্যু হয়। এবার আরো দুই প্রবাসীর মৃত্যুর খবর এলো।

আফ্রিকায় আশ্রয় চেয়েছেন ৬০ হাজারের বেশি বাংলাদেশী

প্রকাশ: বুধবার, সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
আফ্রিকায় আশ্রয় চেয়েছেন ৬০ হাজারের বেশি বাংলাদেশী

ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশী আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ২৪ হাজার ৫৬১। পরের বছর তা কমে ৯ হাজার ৭১৯ জনে দাঁড়ায়। ২০২৩ সালে এ সংখ্যা ছিল ৯ হাজার ২৩৯, ২০২৪ সালে সামান্য বেড়ে ৯ হাজার ৩৯৬ ও ২০২৫ সালে আরো কমে ৬ হাজার ৫৪০ জনে নেমে আসে। একই সময়ে দেশটিতে বাংলাদেশী রিফিউজির সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ২০০, ১৫৩, ১৬৯, ১৭৫ ও ১২৩।

এ অঞ্চলের আরেক দেশ সোমালিয়ায় ২০২১-২৫ সাল পর্যন্ত প্রতি বছরই ছয়জন বাংলাদেশী শরণার্থী হিসেবে নথিভুক্ত ছিলেন। অন্যদিকে নামিবিয়ায় শুধু ২০২৩ সালে পাঁচজন বাংলাদেশী আশ্রয়প্রার্থীর তথ্য পাওয়া গেছে।

পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকায় বাংলাদেশী আশ্রয়প্রার্থীর উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে খুবই সীমিত। মালিতে ২০২১ ও ২০২২ সালে ৩২ জন করে মোট ৬৪ বাংলাদেশী আশ্রয়প্রার্থীর তথ্য পাওয়া গেছে। ক্যামেরুনে ২০২৪ সালে আবেদন করেছেন মাত্র পাঁচজন। এ অঞ্চলের কোনো দেশেই আলোচ্য সময়ে বাংলাদেশীদের শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার তথ্য নেই।

জনশক্তি রফতানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৭০ হাজার মানুষ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে আশ্রয় চেয়েছেন। সংখ্যাটি আমার কাছে বিস্ময়কর মনে হয়েছে।

তবে বাংলাদেশী পাসপোর্ট নিয়ে অনেক দেশে সহজে ভিসা পাওয়া যায় না। এ কারণে কেউ কেউ আফ্রিকার কোনো দেশে গিয়ে স্থায়ী হওয়ার পর সেখান থেকে উন্নত দেশে যাওয়ার চেষ্টা করেন। সবাই সরাসরি ইউরোপে প্রবেশের সুযোগ পান না। তাই তুলনামূলক কম খরচে বা বিকল্প পথে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশকে বেছে নিচ্ছেন অনেকে।’

উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশী আশ্রয়প্রার্থীর তথ্য পাওয়া গেছে মরক্কোয়। ২০২১ সালে দেশটিতে ৭২ জন বাংলাদেশী আশ্রয়প্রার্থী ছিলেন। ২০২২ সালে এ সংখ্যা কমে ১৬ জনে, ২০২৩ সালে ১৪ ও ২০২৪ সালে ১০ জনে নেমে আসে। তবে ২০২৫ সালে তা কিছুটা বেড়ে ১৯ জনে দাঁড়ায়। পাঁচ বছরে মরক্কোয় মোট ১৩১ বাংলাদেশীর রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

মিসরে ২০২১-২৫ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর পাঁচজন করে বাংলাদেশী আশ্রয়প্রার্থীর তথ্য রয়েছে। তিউনিসিয়ায় ২০২১ সালে ছয়জন ও ২০২২ সালে পাঁচজনসহ মোট ১১ জন এবং আলজেরিয়ায় শুধু ২০২৫ সালে পাঁচজন বাংলাদেশী আশ্রয়প্রার্থীর তথ্য পাওয়া গেছে। উত্তর আফ্রিকার কোনো দেশেই বাংলাদেশীদের শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার তথ্য নেই।

অভিবাসন ও শরণার্থীবিষয়ক বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীরের মতে, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অভিবাসন নীতি কঠোর হওয়ায় বাংলাদেশীদের একটি অংশ আশ্রয়ের জন্য তুলনামূলকভাবে অভিবাসীবান্ধব দেশগুলোকে বেছে নিচ্ছেন। এসব দেশে বৈধ অভিবাসীর মর্যাদা বা রেসিডেন্সি কার্ড পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে উন্নত বিশ্বে কর্মসংস্থানের সুযোগ খোঁজার পথও সহজ করতে পারে।

তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশী পাসপোর্টের নানা সীমাবদ্ধতার কারণে অনেকে এসব দেশে দীর্ঘমেয়াদে থেকে রেসিডেন্সি পারমিট পাওয়ার চেষ্টা করেন। এটি পরবর্তী সময়ে ইউরোপ বা অন্য কোনো উন্নত দেশে ভিসা পাওয়া কিংবা পুনরায় অভিবাসনের পথকে সহজ করে তোলে।

দক্ষিণ আফ্রিকা দীর্ঘদিন ধরেই শক্তিশালী ও স্বাবলম্বী গন্তব্য হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশী প্রবাসীরা সেখানে ছোট-বড় ব্যবসা গড়ে তোলার পাশাপাশি নিজেদের ব্যবসা প্রসারে দেশ থেকেই স্বজন বা পরিচিতদের নিয়ে যান। ফলে সেখানে একটি টেকসই চেইন মাইগ্রেশন তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোর কৌশলগত ব্যবহারের ধরন কিছুটা ভিন্ন। তিউনিসিয়া, মরক্কোর মতো দেশগুলো মূলত ইউরোপে প্রবেশের মূল ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়।’

ত্রিভুজ প্রেমের দ্বন্দ্বে খুন হন কাতার প্রবাসী সিফাত, প্রেমিকাসহ গ্রেফতার ৩

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
ত্রিভুজ প্রেমের দ্বন্দ্বে খুন হন কাতার প্রবাসী সিফাত, প্রেমিকাসহ গ্রেফতার ৩

রাজধানীর সবুজবাগের আদর্শপাড়া এলাকার একটি বাসায় কাতার প্রবাসী সিফাত উল্লাহকে (২৭) ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি ও প্রেমিকাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৩। র‍্যাব বলছে, ত্রিভুজ প্রেমের দ্বন্দে সিফাত উল্লাহকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকালে রাজধানীর শাহজাহানপুরে র‍্যাব-৩ এর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব জানান র‍্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।

গ্রেপ্তাররা হলেন- আল আমিন হোসেন জয় (২৭) ও মো. সাজিদুল ইসলাম সাজিদ (২৪)। এছাড়াও, এই ঘটনায় পুলিশ হেফাজতে থাকা অভিযুক্ত প্রেমিকা নাফিজা শেখ নেহাকেও (২৩) গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

লে. কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন বলেন, সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে খিলগাঁওয়ের হাজীবাড়ি বালুরপাড় এলাকা থেকে সাজিদকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভোর ৫টার দিকে খিলগাঁও থানাধীন শেখের জায়গা বাজার এলাকা থেকে প্রধান আসামি জয়কে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, সিফাত উল্লাহ একজন কাতার প্রবাসী। গত দেড় মাস আগে সিফাত কাতার থেকে দেশে চলে আসেন। তার সঙ্গে নাফিজা শেখ নেহার দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। অন্যদিকে, গ্রেফতার সাজিদের সঙ্গে নেহার গত ৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং নেহার সঙ্গে সিফাতের সম্পর্কের বিষয়ে সাজিদ অবগত ছিল না।

গত (২৫ আগস্ট) নেহার জন্মদিনের অনুষ্ঠানে সাজিদ জানতে পারে, সিফাতের সঙ্গে নেহার প্রেমের সম্পর্ক আছে। বিষয়টি জানার পর নেহার সঙ্গে সাজিদের প্রেমের সম্পর্কে বিচ্ছেদ ঘটে।

অন্যদিকে, একসঙ্গে লেখাপড়ার সুবাদে গ্রেফতার আল আমিন হোসেন জয়ের সঙ্গে নেহার বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে যিনি একই এলাকার বড় ভাই এবং সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। তিনি মাঝেমধ্যে নেহার বাসায় বন্ধুদের নিয়ে এসে মাদক সেবন করতেন। বিষয়টি সিফাত জানতে পেরে তাদের ওই বাসায় আসতে নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

র‍্যাব-৩ এর অধিনায়ক বলেন, নেহা অনলাইনে ব্যবসা করার জন্য মাদারটেক বড়ইতলা এলাকায় একটি রুম সাবলেট ভাড়া নিয়ে তার ব্যবসার কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে ওই বাসায় সিফাত মোটরসাইকেল নিয়ে নেহার সঙ্গে দেখা করতে আসেন।

খবর পেয়ে জয়ের সহযোগী ইয়াছিন, অনিক, তুহিন ও রাজুসহ আরও কয়েকজন নেহার বাসায় আসেন। ওই সময় জয় বিল্ডিংয়ের নিচে অবস্থান করছিলেন। তারা ওই বাসায় ঢুকলে সিফাতের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তি হয়। এতে ইয়াসিন ও রাজু আহত হয়। তখন তারা নিচে নেমে আসে।

তাদের পিছন পিছন সিফাতও নিচে নেমে এসে মোটরসাইকেলে করে ওই এলাকা ত্যাগ করার চেষ্টা করে। তখন জয়ের সহযোগীরা সিফাতকে পিছন থেকে ইট ছুঁড়ে মারে। এতে সিফাত মাটিতে পড়ে গেলে জয় তার মাথায় লাঠি দিয়ে সজোড়ে আঘাত করে এবং অন্যরা তাকে ধারালো ছুরি দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। পাশাপাশি তার মোটরসাইকেলটি ভাঙচুর করা হয়।

তিনি বলেন, পরে স্থানীয়রা সিফাতকে গুরুতর আহত অবস্থায় মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় সিফাতের পরিবার বাদী হয়ে সবুজবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করেছে।

আরও পড়ুন

বান্ধবীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে কাতার প্রবাসী যুবক খুন

কাতারে না জানিয়ে কারো ছবি বা ভিডিও ধারণ করলেই জেল-জরিমানা

সবুজে সেজে উঠছে কাতার: সবুজায়ন ও বৃক্ষরোপণে নতুন মাইলফলক

প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে গবেষণা করা হয়েছে : প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে গবেষণা করা হয়েছে : প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেছেন, ই-পাসপোর্ট জটিলতা, সৌদি আরবে অপহরণ ও নির্যাতন, দালাল চক্রের প্রতারণার অভিযোগে সৌদিসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলাদেশি প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানে গবেষণা করা হয়েছে। প্রবাসীদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি তাদের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করাকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

রবিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে কার্যপ্রণালী-বিধির ৭১ বিধিতে দেওয়া মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া ‘সৌদিসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের সমস্যা সমাধান প্রসঙ্গে’ নোটিশটি দেন।

নোটিশে প্রবাসীদের ই-পাসপোর্ট জটিলতা, সৌদি আরবে অপহরণ ও নির্যাতন, দালাল চক্রের প্রতারণা, দক্ষ জনশক্তি তৈরি, গামকা ম্যাডিকেল পরীক্ষায় অনিয়ম, বিএমইটির দুর্নীতি, অবৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, দূতাবাস থেকে সরাসরি সহায়তা এবং অসুস্থ ও মৃত প্রবাসীদের সরকারি সহায়তাসহ ১০টি বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

জবাবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রকৃত অর্থে প্রবাসীদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেছেন। এর জন্য ওনাকে স্টাডি করতে হয়েছে, এক প্রকার রিসার্চ করতে হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রবাসীদের সমস্যাগুলো অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তাদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করাকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী নুর বলেন, যেহেতু প্রধানমন্ত্রী বিশেষ করে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রয়েছে, প্রবাসীদের জন্য কর্মসংস্থানের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে আমরা কর্মসংস্থানের পাশাপাশি তাদের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করা— এই বিষয়টি আমাদের একটি বড় অগ্রাধিকার।

এক সপ্তাহে ১২ হাজার প্রবাসী ফেরত পাঠাল সৌদি

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
এক সপ্তাহে ১২ হাজার প্রবাসী ফেরত পাঠাল সৌদি

সৌদি আরবে আবাসন, সীমান্ত নিরাপত্তা ও শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে এক সপ্তাহে ১৪ হাজার ১৬৫ জনকে আটক করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। একই সময়ে ১২ হাজার ৩৬৩ জনকে সৌদি আরব থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যের বরাত দিয়ে গালফ নিউজ জানিয়েছে, ২৭ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশজুড়ে পরিচালিত যৌথ অভিযানে এসব ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৭ হাজার ১২১ জন আবাসন আইন, ৩ হাজার ৬৩৬ জন সীমান্ত নিরাপত্তা আইন এবং ৩ হাজার ৪০৮ জন শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক হয়েছেন।

এ ছাড়া সৌদি আরবে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় আরও ১ হাজার ৩১৫ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৫৮ শতাংশ ইথিওপিয়ার, ৪১ শতাংশ ইয়েমেনের এবং বাকি ১ শতাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিক। দেশ থেকে অবৈধভাবে বের হওয়ার চেষ্টার সময় আরও ৪২ জনকে আটক করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১৮ হাজার ৯৩৭ জনকে প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি সংগ্রহের জন্য নিজ নিজ দেশের কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে। আরও ৩ হাজার ২৪০ জনকে ভ্রমণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে অবৈধ অভিবাসীদের পরিবহন, আশ্রয় দেওয়া কিংবা কাজে নিয়োজিত করার অভিযোগে আরও ২১ জনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে সৌদি আরবে বিভিন্ন আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় ২৯ হাজার ৭৭৩ জন প্রবাসী আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৭ হাজার ৮৪৫ জন পুরুষ এবং ১ হাজার ৯২৮ জন নারী।

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে জানিয়েছে, অবৈধভাবে কাউকে দেশে প্রবেশে সহায়তা, পরিবহন, আশ্রয় বা অন্য কোনো ধরনের সহযোগিতা করলে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। এ ধরনের কাজে ব্যবহৃত যানবাহন ও আশ্রয় দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত সম্পত্তিও জব্দ করা হতে পারে।

আইন লঙ্ঘনের ঘটনা জানাতে মক্কা, রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চলে ৯১১ এবং অন্যান্য অঞ্চলে ৯৯৯ ও ৯৯৬ নম্বরে যোগাযোগের আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বান্ধবীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে কাতার প্রবাসী যুবক খুন

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
বান্ধবীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে কাতার প্রবাসী যুবক খুন

রাজধানীর সবুজবাগের আদর্শপাড়া বরইতলা এলাকায় বান্ধবীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে সিফাত উল্লাহ (৩০) নামে এক কাতারপ্রবাসী যুবক নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুই যুবক আহত হয়েছে।

আজ রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের বান্ধবী নাজিফা শেখ (২৩) জানিয়েছেন, বিকেলে তার বন্ধু সিফাত বাসায় দেখা করতে এসেছিলেন। সেখানে ওই এলাকার জয়, রাজিব, ইয়াসিনসহ ৬-৭ জন তাদের বাসায় ঢুকে সিফাতকে জোরপূর্বক ধরে টেনেহিঁচড়ে নিচে নামানোর চেষ্টা করে। এ সময় তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা সিফাতকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে। এ সময় হামলাকারীদের মধ্যে রাজিব ও ইয়াসিন নামে দুজনও আহত হয়।

তিনি বললেন, গুরুতর আহত সিফাত উল্লাহকে উদ্ধার করে প্রথমে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি সেন্টারে (ওসেক) ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়। আহত দুই যুবকও ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসে।

আহত রাজিব ওরফে রাব্বি জানিয়েছেন, বড়ইতলার ওই বাসায় অনৈতিক কাজ চলছিল, এমন খবর পেয়ে তারা সেখানে যান। তিনি বলেন, ঐ বাসায় গেলে এক যুবক আমাদের ওপর তেড়ে আসে। আমরা এগিয়ে গেলে সে ছুরিকাঘাত করে। সেখানে ধস্তাধস্তি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে আমরা আহত হই।

এদিকে নাজিফা শেখ বলেছেন, ধোলাইপাড়ের বাসিন্দা সিফাতের সঙ্গে তার দুই বছর ধরে সম্পর্ক। সামনে তাদের বিয়ে হওয়ার কথা চলছে। নিজেকে বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের অনার্সের শিক্ষার্থী দাবি করে নাজিফা বলেন, ঘটনাস্থলের ওই বাসাটি আমার এক বড় বোনের। জয় এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী। সে ওই বাসায় মাঝে মাঝে বন্ধুদের নিয়ে এসে মাদক সেবন করত। বিষয়টি সিফাত জানতে পেরে তাদের ওই বাসায় না আসতে বলেছিলেন। এ নিয়ে তাদের ক্ষোভ ছিল।

হাসান নামে নিহতের এক বন্ধু হাসপাতালে এসে বলেন, সিফাত উল্লাহ কাতারপ্রবাসী ছিলেন। সেখানে তিনি ব্যবসা করতেন। নিহতের পরিবারের বিষয়ে তিনি জানান, তাদের বাড়ি যাত্রাবাড়ীর ধোলাইপাড় এলাকায়। তাঁর বাবার নাম জয়নাল আবেদীন। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে সিফাত ছিলেন ছোট।

সিফাতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সবুজবাগ থানাকে অবহিত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক হাবিবুর রহমান।

সবুজবাগ থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, কাতার প্রবাসী এই যুবক তার বান্ধবীর সাথে দেখা করতে আসলে মহল্লার বখাটে কয়েকজন যুবক মিলে তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করে। পরে হাসপাতালে দিলে ওই যুবকের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন।

তিনি জানান, লাস্ট ময়না তদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল মার্কেট রাখা হয়েছে। আজ সোমবার ময়না তদন্ত শেষ লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।