৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতে আসছেন পুতিন-শি: ইরান ও ডলারবিরোধী নীতিতে বিরক্ত যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
ভারতে আসছেন পুতিন-শি: ইরান ও ডলারবিরোধী নীতিতে বিরক্ত যুক্তরাষ্ট্র

চতুর্থ বারের মত ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ব্রিকস(BRICS)এর ১৮তম সম্মেলন। এবারের মূল থিম ‘Building for Resilience, Innovation, Cooperation and Sustainability’ যার কেন্দ্রে রয়েছে মোদির ‘Humanity First’ ধারণা। তবে, ‘ডি-ডলারাইজেশন’ তথা ডলারের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করে অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণের কারণে ব্রিকসের সমালোচনা আরও জোরালো করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

আগামী ১২–১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য এ সম্মেলনে প্রাধান্য পাবে পশ্চিম এশিয়া (ইরান-মার্কিন যুদ্ধ) সংঘাত। এই সংঘাত নিয়ে সদস্য দেশগুলোর অবস্থান কী হবে তাই এখন বড় প্রশ্ন। এ বিষয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও সংগঠনটির যৌথ ঘোষণায় অভিন্ন অবস্থান তুলে ধরার জোরালো আহ্বান জানিয়েছে ইরান।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আয়োজনে দুই দিনের এই সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। এছাড়া ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিসর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতারাও এতে উপস্থিত থাকবেন।

দ্য স্টেটসম্যান প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য মতে, এ সম্মেলনের ফাঁকে অংশগ্রহণকারী নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক্ষেত্রে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে মোদীর বৈঠকে আলাদা নজর থাকবে। সীমান্ত বিরোধসহ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা অত্যাধিক গুরুত্ব পাবে।
বিশ্ব অর্থনীতির এক-চতুর্থাংশের বেশি নিয়ন্ত্রণ করে ব্রিকসের সদস্য ১১টি দেশ। এর পাশাপাশি বিশ্বের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যা এই দেশগুলোতে বসবাস করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিম এশিয়া নিয়ে ব্রিকসের অভিন্ন অবস্থান তৈরি করা কঠিন হতে পারে। এর কারণ সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে দ্বিমত করার সমূহ সম্ভাবনা। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অবস্থান নিতে সৌদি আরব ও আমিরাত। গত মে মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকেও মতপার্থক্যের কারণে কোনো যৌথ ঘোষণা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

ইরানের সঙ্গে চুক্তি না হলে পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার হুমকি মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রীর

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
ইরানের সঙ্গে চুক্তি না হলে পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার হুমকি মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রীর

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং দুই দেশের সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠছে। ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ওয়াশিংটন আলোচনা চালিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা নাও হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তি না-ও হতে পারে। তবে সমঝোতা না হলে যুক্তরাষ্ট্র বসে থাকবে না বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

ক্রিস রাইটের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে না নেয়, তাহলে দেশটির পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে আরও হামলার পথ বেছে নিতে পারে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে ইরান যেন নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি বা ব্যবহার করতে না পারে, সে পথও বন্ধ করার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

তবে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্যই এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। দেশটির পক্ষ থেকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
ক্রিস রাইট আরও বলেন, ভবিষ্যতে ইরানে সরকার পরিবর্তন হলে দেশটির সঙ্গে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ, তেলবাহী জাহাজ আটক এবং দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিস্থিতিকে ‘খুব সামান্য একটা ব্যাপার’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিকে এখনই যুদ্ধ হিসেবে অভিহিত করার প্রয়োজন নেই এবং মাঠপর্যায়ের লড়াই আপাতত বন্ধ রয়েছে।

এদিকে ক্রিস রাইট আশা প্রকাশ করেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রকে একা থাকতে হবে না। ভবিষ্যতে আরও মিত্রদেশ ওয়াশিংটনের পাশে এসে দাঁড়াবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

ফিলিস্তিন থেকে ইরান—মার্কিন বোমাবর্ষণে নিরীহ প্রাণহানির ঘটনায় সোচ্চার মার্কিন এমপি

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
ফিলিস্তিন থেকে ইরান—মার্কিন বোমাবর্ষণে নিরীহ প্রাণহানির ঘটনায় সোচ্চার মার্কিন এমপি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধাপরাধের’ অভিযোগ তুলে সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন কংগ্রেস সদস্য ডেলিয়া রামিরেজ। একই সঙ্গে বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ব্যবহারেরও সমালোচনা করেছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ডেলিয়া রামিরেজ বলেন, ফিলিস্তিন থেকে ইরান—যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলায় নিরীহ নারী ও শিশুরা নিহত হচ্ছে।
তিনি লেখেন, ‘একটি দম্পতির নতুন জীবনের শুরুর সময়টি উদযাপনে ভরা থাকার কথা ছিল, কিন্তু সেটিই পরিণত হয়েছে ধ্বংসযজ্ঞে। ফিলিস্তিন থেকে ইরান— আমাদের বোমায় নিরীহ নারী ও শিশুরা নিহত হচ্ছে।’
ট্রাম্প ও হেগসেথের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মার্কিন কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রামিরেজ বলেন, ‘কংগ্রেস ট্রাম্প ও হেগসেথের যুদ্ধাপরাধের দিকে চোখ বন্ধ করে থাকতে পারে না। যুদ্ধবাজদের জবাবদিহির আওতায় আনার সময় এখনই।’
তিনি আরও বলেন, কংগ্রেসকে অবশ্যই ‘ব্লক দ্য বম্বস অ্যাক্ট’ পাস করতে হবে, নিজেদের ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করতে হবে এবং এই ‘অন্তহীন যুদ্ধের’ অবসান ঘটাতে হবে।

৫০০ বছরের পুরোনো মানচিত্র বদল, বিশ্বকে নতুনভাবে দেখাবে জাতিসংঘ

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
৫০০ বছরের পুরোনো মানচিত্র বদল, বিশ্বকে নতুনভাবে দেখাবে জাতিসংঘ

বিশ্বকে দেখার প্রচলিত মানচিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে জাতিসংঘ। মহাদেশগুলোর প্রকৃত আয়তনের তুলনামূলক চিত্র আরও বাস্তবসম্মতভাবে তুলে ধরতে ‘ইকুয়াল আর্থ’ প্রজেকশন ব্যবহারের পক্ষে ভোট দিয়েছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ। নতুন মানচিত্রে আফ্রিকা তুলনামূলকভাবে বড় এবং ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা আগের চেয়ে ছোট দেখাবে।

শুক্রবারের (৪ সেপ্টম্বর) ভোটাভুটিতে প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দিয়েছে ১৬৪টি দেশ। বিপক্ষে ভোট দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আরও ছয়টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল।

জাতিসংঘের প্রস্তাবে সদস্য দেশগুলোকে দীর্ঘদিনের প্রচলিত ‘মারকেটর প্রজেকশন’-এর পরিবর্তে ‘ইকুয়াল আর্থ’ প্রজেকশন ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। ১৫৬৯ সালে ফ্লেমিশ মানচিত্রবিদ জেরার্ডাস মারকেটর সমুদ্রপথে নৌ চলাচল সহজ করার উদ্দেশ্যে যে মানচিত্র তৈরি করেছিলেন, সেটিই বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত বিশ্ব মানচিত্রের অন্যতম ভিত্তি।

নতুন উদ্যোগের অন্যতম উদ্যোক্তা টোগোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট দুসি বলেন, মানচিত্র শুধু ভৌগোলিক তথ্য উপস্থাপন করে না; মানুষের শিক্ষা, কল্পনা এবং পৃথিবী সম্পর্কে সামষ্টিক ধারণা তৈরিতেও এর প্রভাব রয়েছে।


তার ভাষ্য, মানচিত্র পুরোপুরি নিরপেক্ষ নয়। পৃথিবীর কোনো বিকৃত চিত্র দীর্ঘদিন প্রচলিত থাকলে তা মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি করতে পারে এবং সেই ধারণা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে টিকে যেতে পারে।

তবে জাতিসংঘের এ উদ্যোগে আপত্তি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ভোটের আগে মার্কিন প্রতিনিধি ইয়ারিনা ফেরেনসেভিচ সমালোচনা করে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক সমস্যায় মনোযোগ দেওয়ার পরিবর্তে জাতিসংঘ ১৬ শতকের একটি মানচিত্র, ক্ষতিপূরণ এবং তথাকথিত ‘কগনিটিভ জাস্টিস’ নিয়ে আলোচনা করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড জাতিসংঘের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কেন বদলানো হচ্ছে মানচিত্র
মারকেটর প্রজেকশনের বড় সীমাবদ্ধতা হলো, এতে মহাদেশগুলোর আকৃতি ও কোণ মোটামুটি ঠিক থাকলেও প্রকৃত আয়তনের অনুপাত বজায় থাকে না। গোলাকার পৃথিবীকে সমতল পৃষ্ঠে উপস্থাপন করতে গিয়ে এ ধরনের বিকৃতি তৈরি হয়।

এর প্রভাবে বিষুবীয় অঞ্চলের তুলনায় উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর কাছাকাছি অঞ্চলগুলোকে অনেক বড় দেখায় প্রচলিত মানচিত্র। ফলে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার আয়তন বাস্তবের তুলনায় বেশি মনে হয়। বিপরীতে আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকা তুলনামূলক ছোট দেখায়।

২০১৮ সালে একদল মানচিত্রবিদ ‘ইকুয়াল আর্থ’ প্রজেকশন তৈরি করেন। এই পদ্ধতিতে আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, দক্ষিণ এশিয়া ও ওশেনিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলের আয়তনকে বাস্তবের কাছাকাছি রেখে মানচিত্র তৈরি করা হয়েছে।

মানচিত্রটির অন্যতম নির্মাতা বোয়ান সাভরিচ ২০২৫ সালে এএফপিকে বলেন, ইকুয়াল আর্থ মহাদেশগুলোর পারস্পরিক আয়তনের অনুপাত ধরে রাখে এবং পৃথিবীর গোলাকার পৃষ্ঠে তাদের প্রকৃত আকৃতি যতটা সম্ভব সঠিকভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করে।

প্রচলিত মানচিত্র বাদ দিচ্ছে ফ্রান্সও
নতুন প্রজেকশনের পক্ষে থাকা দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ফ্রান্স। শুক্রবার দেশটি জানিয়েছে, তারা আর মারকেটর প্রজেকশন ব্যবহার করবে না।

ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো বলেন, প্রচলিত মানচিত্রে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনকে আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে বড় ও প্রভাবশালী দেখায়। একইভাবে গ্রিনল্যান্ডকেও প্রায় আফ্রিকার সমান বড় বলে মনে হয়।

তার মতে, মানচিত্র পরিবর্তন করলেই পৃথিবী বদলে যাবে না। তবে দীর্ঘদিনের বিকৃত উপস্থাপনাকে সংশোধন করা বাস্তবতাকে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে, বিশেষ করে সাবেক ফরাসি উপনিবেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা করছে ফ্রান্স। ফলে নতুন মানচিত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্তকে দেশটির বৃহত্তর কূটনৈতিক উদ্যোগের সঙ্গেও সম্পৃক্ত করে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

‘মরিচায় জীর্ণ’ মার্কিন রণতরী দেখে বিস্মিত থাইল্যান্ডের বাসিন্দারা

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
‘মরিচায় জীর্ণ’ মার্কিন রণতরী দেখে বিস্মিত থাইল্যান্ডের বাসিন্দারা

দীর্ঘ ২৮৬ দিন সমুদ্রে থাকার পর থাইল্যান্ডে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’। বন্দরে প্রবেশের সময় জাহাজটির গায়ে বড় বড় মরিচার দাগ ও রং উঠে যাওয়ার দৃশ্য নজর কেড়েছে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যবেক্ষকদের। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান ও কঠিন সামরিক কার্যক্রমের পর জাহাজটির এমন চেহারা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা শুরু হয়েছে।

বুধবার প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও মেরিন নিয়ে রণতরীটি থাইল্যান্ডের লায়েম চাবাং বন্দরে পৌঁছায়। এসময় স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের অনেকেই বিশাল রণতরীটি দেখতে বন্দরের ভিড় জমান।

মার্কিন সংবাদমাধ্য সিএনএনের প্রকাশিত ছবিতে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের হালের বিভিন্ন অংশে মরিচার বড় দাগ এবং রং উঠে যাওয়ার চিহ্ন দেখা গেছে। বিশেষ করে পানির ঠিক ওপরের অংশ ও ফ্লাইট ডেকের কিনারায় মরিচার ছাপ স্পষ্ট।

শুধু জাহাজের বাইরের চেহারাই নয়, দীর্ঘ এই মোতায়েনের সময় রণতরীতে থাকা নাবিকদের জীবনযাপন নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। খাবার ও স্বাস্থ্যবিধির সামগ্রীর ঘাটতি, মানসিক চাপ এবং অন্যান্য সমস্যার অভিযোগ সামনে এসেছে।

তবে মার্কিন নৌবাহিনী এসব অভিযোগের অনেকটাই অস্বীকার করেছে।

বিশেষজ্ঞরাও জানিয়েছেন, গত বছরের নভেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সান দিয়েগো নৌঘাঁটি থেকে যাত্রা শুরু করে আব্রাহাম লিংকন। এরপর দীর্ঘ ২৮৬ দিন সমুদ্রে অবস্থান করে রণতরীটি। সমুদ্রে এত লম্বা সময় ধরে থাকায় এটির নিচের অংশে মরিচা ধরেছে। তবে ব্যাপক মরিচা ও ক্ষয় মেরামতের জন্য রণতরীটিকে বন্দরে নিয়ে প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে।

মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক ক্যাপ্টেন কার্ল স্কুসজার, বলেছেন, ‘একটি জাহাজ যখন সমুদ্রে ৬০ দিন বা তার বেশি নিয়োজিত থাকে তখন এটির পানির অংশে মরিচা ধরা অস্বাভাবিক কোনো কিছু নয়। সমুদ্রে, বিশেষ করে যুদ্ধকালীন অভিযানের সময়, মরিচার সমস্যার মোকাবিলা করা সম্ভব না’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি যা দেখছি, তাতে সমস্ত মরিচা দূর করতে প্রায় ৩০ দিনের রক্ষণাবেক্ষণের কাজ লাগবে।’

সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘ ২৮৬ দিনের এই মোতায়েন শুধু ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের সামরিক সক্ষমতার পরীক্ষা নয়, বরং দীর্ঘ সময় যুদ্ধক্ষেত্রের কাছাকাছি অবস্থান করা একটি বিমানবাহী রণতরী ও তার ক্রুদের ওপর কতটা চাপ তৈরি করতে পারে, সেই বিষয়টিও সামনে এনেছে।

এদিকে থাইল্যান্ডে পৌঁছে প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও মেরিন সদস্যেররাকয়েক দিনের বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধারের সুযোগ পাচ্ছেন। রণতরীটি লায়েম চাবাং বন্দরে অবস্থান করবে, আর নাবিকদের বড় একটি অংশ কাছের পর্যটন শহর পাতায়ায় সময় কাটাবেন।

এক সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনা ও নাবিকের আগমনে স্থানীয় ব্যবসা ও পর্যটন খাতেও অর্থনৈতিক সুবিধা হবে বলে আশা করছে থাই কর্তৃপক্ষ।

পর্বতারোহীদের ‘মূত্র বিসর্জনে’ গলছে এভারেস্টের হিমবাহ

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
পর্বতারোহীদের ‘মূত্র বিসর্জনে’ গলছে এভারেস্টের হিমবাহ

বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট এভারেস্ট বা হিমালয়ের হিমবাহ গলার পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি মানুষের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডও ভূমিকা রাখছে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে পর্বতারোহী ও গাইডদের পোড়ানো জ্বালানির তাপ এবং সরাসরি হিমবাহে ত্যাগ করা মূত্র বরফ গলনের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে।

সম্প্রতি ‘রিজিওনাল এনভায়রনমেন্টাল চেঞ্জ’ নামক জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাটি নেপালের এভারেস্টের অংশে অবস্থিত খুম্বু হিমবাহকে কেন্দ্র করে করা হয়েছে। এভারেস্টের নেপাল অংশে অবস্থিত বেজ ক্যাম্পটি এই হিমবাহের ওপরে অবস্থিত।

আন্তর্জাতিক গবেষকদের একটি দল তিনটি প্রধান কারণ খতিয়ে দেখেছেন, এর মধ্যে রয়েছে- বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার এবং মানুষের মূত্র নিঃসরণ থেকে উৎপন্ন তাপ।

গবেষকদের হিসাবে, বসন্তের পর্বতারোহণ মৌসুমে বেস ক্যাম্পে প্রতিদিন প্রায় ৬ হাজার লিটার মূত্র উৎপন্ন হয়। এর বড় একটি অংশ সরাসরি হিমবাহের ওপর ফেলা হয়।

গবেষণায় বলা হয়েছে, মানুষের শরীর থেকে বের হওয়া মূত্রের তাপমাত্রা প্রায় ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বিপুল পরিমাণ উষ্ণ মূত্র সরাসরি বরফের ওপর পড়ায় স্থানীয়ভাবে বরফ গলার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়। ২০২৩ সালের হিসাব অনুযায়ী, শুধু মানুষের মূত্রের কারণে প্রায় ১৫৪ টন বরফ ও তুষার গলে যাওয়ার অনুমান করেছেন গবেষকেরা।

তবে গবেষকেরা স্পষ্ট করেছেন, হিমবাহ গলার প্রধান কারণ মূত্র নয়। বেস ক্যাম্পে রান্না, তাঁবু গরম রাখা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত জ্বালানির তাপও বড় ভূমিকা রাখছে।

এভারেস্ট বেস ক্যাম্প দ্বিগুণ দ্রুত উষ্ণ হচ্ছে
গবেষকরা ২০২৩ সালের বসন্তকালীন পর্বতারোহণ মৌসুমে এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ করেন। তারা ক্যাম্পে পরিচালিত বিভিন্ন কার্যকলাপের মাধ্যমে নির্গত শক্তি ও তাপ পরীক্ষা করে দেখেন। এর মধ্যে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস, কেরোসিন এবং পেট্রোলের ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত ছিল।

এই জ্বালানিগুলো রান্না, তাপ উৎপাদন এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো অপরিহার্য কাজে ব্যবহৃত হয়। গবেষকরা মূত্রত্যাগের ফলে উৎপন্ন তাপ নিয়েও গবেষণা করেছেন। বেস ক্যাম্পে মানুষের কার্যকলাপ কীভাবে খুম্বু হিমবাহকে প্রভাবিত করতে পারে, তা বোঝার জন্য এই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হয়েছে।

গবেষণা অনুসারে, ২০২৩ সালের বসন্ত মৌসুমে এই কার্যকলাপগুলো থেকে নির্গত মোট তাপশক্তির পরিমাণ আনুমানিক ৮৪৯,১৭৪ ± ১৭৯,৭৭৪ মেগাজুল ছিল। এটি একটি বিশাল পরিমাণ শক্তি। গবেষকরা হিসাব করে দেখেছেন যে, এই পরিমাণ তাপ প্রায় ২,৪৯২ ± ৫২৮ টন হিমবাহের বরফ ও তুষার গলানোর জন্য যথেষ্ট হবে।

গবেষকেরা আরও বলছেন, এভারেস্ট বেস ক্যাম্প এখন শুধু পর্বতারোহীদের অস্থায়ী অবস্থানস্থল নয়; এটি মৌসুমি একটি বড় বসতিতে পরিণত হয়েছে। ক্যাফে, গরম পানির ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য আধুনিক সুবিধার কারণে মানুষের পরিবেশগত প্রভাবও বেড়েছে। গবেষণার প্রধান লেখক খিম লাল গৌতমের মতে, হিমবাহের ওপর মানুষের এই চাপ ভবিষ্যতে টেকসই থাকবে না।

এই পরিস্থিতিতে গবেষকেরা এভারেস্ট বেস ক্যাম্পকে হিমবাহের ওপর থেকে সরিয়ে বরফমুক্ত স্থানে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং হিমবাহের ওপর সরাসরি মূত্রত্যাগ বন্ধ করাকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘটনাটিকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখা ঠিক হবে না। বৈশ্বিক উষ্ণায়নই হিমালয়ের হিমবাহ সংকুচিত হওয়ার মূল চালিকাশক্তি। মানুষের কর্মকাণ্ড সেই প্রক্রিয়াকে আরও প্রভাবিত করছে।