৩০ আগস্ট ২০২৬

ওআইসির নতুন মহাসচিব ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ

প্রকাশ: শনিবার, আগস্ট ২৯, ২০২৬
ওআইসির নতুন মহাসচিব ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ

ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) ৫৭ সদস্য রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মৌরিতানিয়ার কূটনীতিক ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদকে সংস্থাটির নতুন মহাসচিব নির্বাচিত করেছেন। তিনি বর্তমান মহাসচিব চাদের হুসেইন ইব্রাহিম তাহার স্থলাভিষিক্ত হবেন। ২০২১ সালের নভেম্বরে দায়িত্ব নেওয়া তাহার মেয়াদ ২০২৬ সালের নভেম্বরে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। খবর গালফ নিউজের।

ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিন দশকেরও বেশি সময়ের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন প্রবীণ কূটনীতিক। জাতিসংঘে কাজ করার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বেশ কয়েকটি জটিল রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায়ও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।

ওআইসির সনদ অনুযায়ী, মহাসচিব পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করেন। চাইলে একবার মেয়াদ নবায়ন করা যায়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের পরিষদ মহাসচিব নির্বাচন করে। এ ক্ষেত্রে ভৌগোলিক ভারসাম্য, পালাক্রমে দায়িত্ব প্রদান ও সমান সুযোগের পাশাপাশি প্রার্থীর দক্ষতা, সততা ও অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সংস্থাটির সনদে মহাসচিবের পদ আরব, আফ্রিকান ও এশীয় দেশগুলোর মধ্যে নির্দিষ্ট কোনো ক্রমানুসারে বণ্টনের বিধান নেই। বরং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ভৌগোলিক ন্যায্যতা ও পালাক্রমের নীতি অনুসরণ করা হয়।

ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদের প্রার্থিতা এরই মধ্যে আফ্রিকা মহাদেশের সমর্থন পেয়েছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আফ্রিকান ইউনিয়ন ২০২৭ থেকে ২০৩২ মেয়াদের জন্য ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার মহাসচিব পদে তার প্রার্থিতার প্রতি আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানায়। সেখানে মৌরিতানিয়াকে উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের দেশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

তার নির্বাচনের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও এশিয়াজুড়ে বিস্তৃত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আন্তঃসরকারি সংস্থার নেতৃত্বে এবার একজন মৌরিতানীয় কূটনীতিক আসছেন। সংস্থাটির সদস্যদের মধ্যে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক বাস্তবতার দেশ।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে সংঘাত থেকে বের হওয়ার পথ বাতলে দিল চীন

প্রকাশ: শনিবার, আগস্ট ২৯, ২০২৬
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে সংঘাত থেকে বের হওয়ার পথ বাতলে দিল চীন
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান। ছবি : সিনহুয়া

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে সংলাপ ও কূটনৈতিক আলোচনা ছাড়া আর কোনো কার্যকর পথ নেই বলে মন্তব্য করেছে চীন। ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার হুমকির মধ্যেই শুক্রবার (২৮ আগস্ট) এ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে বেইজিং। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বেইজিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ইরান ইস্যুতে সংলাপ ও আলোচনা একমাত্র কার্যকর পথ। চীন অবৈধ ও একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে। এ বিষয়ে বেইজিংয়ের অবস্থান ধারাবাহিক ও স্পষ্ট।

চীনের এই বক্তব্যের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা চীনা ব্যাংকগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেন।

বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে ট্রাম্পকে চীনা ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা আছে কি না জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘কে বলেছে আমি তা করছি না?’ একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, সব সিদ্ধান্ত আগেভাগে প্রকাশ করার প্রয়োজন নেই।

এর আগে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিটও জানান, তেহরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা এখনো স্থবির রয়েছে। তবে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ কর্মসূচির আওতায় ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে সব বিকল্পই খোলা রাখা হয়েছে।

ইরানকে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করার মার্কিন এই অভিযান দুই দেশের যুদ্ধের পর আরও জোরদার হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ওই সংঘাতে ইরানে শত শত মানুষ নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৮ মার্কিন সেনাসদস্যও রয়েছেন।

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং চীনা ব্যাংকগুলোর সঙ্গে তেহরানের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে ওয়াশিংটনের নতুন হুমকির মধ্যেই চীন সংলাপের ওপর জোর দিল।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ সময় চলছে। মে মাসে ট্রাম্পের বেইজিং সফরের পর পারস্পরিক সফরের অংশ হিসেবে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফরের কথা রয়েছে।

ইরান ইস্যুতে চীনের এ অবস্থান এমন সময়ে এলো, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনা থমকে আছে এবং হরমুজ প্রণালি, নিষেধাজ্ঞা ও যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ অব্যাহত রয়েছে।

ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল ভান্ডারের নিয়ন্ত্রণ নিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: শনিবার, আগস্ট ২৯, ২০২৬
ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল ভান্ডারের নিয়ন্ত্রণ নিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ভেনেজুয়েলার সবচেয়ে বড় তেল ভান্ডারের একটি বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ নিতে যুক্তরাষ্ট্র নজিরবিহীন উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, বেসরকারি কোম্পানির সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে ৬ হাজার ৫০০ কোটির বেশি ব্যারেল প্রমাণিত তেল মজুতের ওপর সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। খবর রয়টার্সের।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও যুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী পিট হেগসেথের নেতৃত্বে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেসের সঙ্গে আলোচনার পর এ চুক্তি হয়েছে। এতে মার্কিন করদাতাদের কোনো অর্থ ব্যয় হবে না বলেও দাবি করেন তিনি।

চুক্তির বিস্তারিত কাঠামো অবশ্য প্রকাশ করেননি ট্রাম্প। কোন কোন তেলক্ষেত্র বা কোম্পানি এর আওতায় পড়ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে এসব তেল ভান্ডারের ওপর সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগ করবে, সে বিষয়েও কোনো স্পষ্টতা দেননি তিনি।

ভেনেজুয়েলার পক্ষ থেকে এ চুক্তিকে স্বাগত জানানো হয়েছে। দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেস বলেছেন, চুক্তির আওতায় ১৭টি কৌশলগত তেল ক্ষেত্রের উন্নয়নের মাধ্যমে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব হবে। এর ফলে সরকারের কর রাজস্ব প্রায় ২০ হাজার ৯০০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে বলেও তিনি দাবি করেন।

রদ্রিগেস বলেন, এসব বিনিয়োগ শুধু দেশটির তেলশিল্পের পুনরুদ্ধার ও আধুনিকায়নেই সহায়তা করবে না, বরং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায়ও ভূমিকা রাখবে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও চুক্তিটিকে দুই দেশের জন্যই লাভজনক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার দাবি, এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র স্থিতিশীল ও কম দামের তেল পাবে, যা দেশটির জ্বালানি তেলের দাম কমাতে সহায়তা করতে পারে।

ভেনেজুয়েলার জন্য চুক্তিটি প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ আনবে এবং হাজার হাজার উচ্চ বেতনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে বলেও জানান রুবিও। তার মতে, এর মাধ্যমে দেশটির অর্থনীতি পুনর্গঠনের পথও তৈরি হবে।

ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি নিরাপত্তা ও তেলের দাম কমানোর পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য রয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি প্রমাণিত তেলভান্ডার থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিনের কম বিনিয়োগ, অব্যবস্থাপনা ও নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির উৎপাদন সম্ভাবনার তুলনায় অনেক কম।

বর্তমানে ভেনেজুয়েলা প্রতিদিন প্রায় ১২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন করে। দেশটির তেলশিল্প পুনরুজ্জীবিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের শোধনাগারগুলোর জন্য অতিরিক্ত অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে ওয়াশিংটন।

তবে চুক্তিটির আইনি ও আর্থিক ভিত্তি নিয়ে এখনো বড় ধরনের প্রশ্ন রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিনিয়োগ আকর্ষণে চুক্তির প্রকৃত কাঠামো ও আইনি ভিত্তি স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ডেভিড গোল্ডউইন প্রশ্ন তুলেছেন, ভেনেজুয়েলার সংবিধান ও নতুন হাইড্রোকার্বন আইনের আওতায় মার্কিন সরকারের তেলক্ষেত্র ইজারা নেওয়ার কোনো আইনি ভিত্তি আছে কি না। তার মতে, কোনো তেলক্ষেত্র পরিচালনার জন্য মার্কিন সরকারের ইজারা নেওয়ার এমন নজিরও নেই।

ভেনেজুয়েলায় দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, দুর্বল বিদ্যুৎ অবকাঠামো, সীমিত রপ্তানি সক্ষমতা এবং তেলশিল্পে সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণ বিনিয়োগের পথে বড় বাধা হয়ে আছে। এসব সমস্যা সমাধান না হলে নতুন চুক্তি বাস্তবে কতটা বিনিয়োগ আনতে পারবে, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।

এদিকে ভেনেজুয়েলার ভারী অপরিশোধিত তেল উত্তোলন, পরিবহন ও পরিশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। ফলে চুক্তির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে স্বল্পমেয়াদে জ্বালানি তেলের দাম কমবে কি না, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়।

১৯৭০-এর দশকে ভেনেজুয়েলা তার তেলশিল্প রাষ্ট্রীয়করণ করে। পরে প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজের আমলে বিদেশি কোম্পানিগুলোকে রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত যৌথ উদ্যোগে যেতে বাধ্য করা হয় এবং একপর্যায়ে এক্সনমোবিল ও কনোকোফিলিপসসহ কয়েকটি বিদেশি কোম্পানির সম্পদ অধিগ্রহণ করা হয়।

নিকোলাস মাদুরোর শাসনামলে দেশটির তেল উৎপাদন আরও দ্রুত কমে যায়। এখন ট্রাম্প প্রশাসন সেই শিল্প পুনরুজ্জীবিত করে ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর মার্কিন প্রভাব বাড়ানোর পাশাপাশি নিজেদের জ্বালানি বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

ওআইসির নতুন মহাসচিব ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ

প্রকাশ: শনিবার, আগস্ট ২৯, ২০২৬
ওআইসির নতুন মহাসচিব ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ

ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) ৫৭ সদস্য রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মৌরিতানিয়ার কূটনীতিক ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদকে সংস্থাটির নতুন মহাসচিব নির্বাচিত করেছেন। তিনি বর্তমান মহাসচিব চাদের হুসেইন ইব্রাহিম তাহার স্থলাভিষিক্ত হবেন। ২০২১ সালের নভেম্বরে দায়িত্ব নেওয়া তাহার মেয়াদ ২০২৬ সালের নভেম্বরে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। খবর গালফ নিউজের।

ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিন দশকেরও বেশি সময়ের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন প্রবীণ কূটনীতিক। জাতিসংঘে কাজ করার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বেশ কয়েকটি জটিল রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায়ও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।

ওআইসির সনদ অনুযায়ী, মহাসচিব পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করেন। চাইলে একবার মেয়াদ নবায়ন করা যায়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের পরিষদ মহাসচিব নির্বাচন করে। এ ক্ষেত্রে ভৌগোলিক ভারসাম্য, পালাক্রমে দায়িত্ব প্রদান ও সমান সুযোগের পাশাপাশি প্রার্থীর দক্ষতা, সততা ও অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সংস্থাটির সনদে মহাসচিবের পদ আরব, আফ্রিকান ও এশীয় দেশগুলোর মধ্যে নির্দিষ্ট কোনো ক্রমানুসারে বণ্টনের বিধান নেই। বরং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ভৌগোলিক ন্যায্যতা ও পালাক্রমের নীতি অনুসরণ করা হয়।

ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদের প্রার্থিতা এরই মধ্যে আফ্রিকা মহাদেশের সমর্থন পেয়েছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আফ্রিকান ইউনিয়ন ২০২৭ থেকে ২০৩২ মেয়াদের জন্য ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার মহাসচিব পদে তার প্রার্থিতার প্রতি আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানায়। সেখানে মৌরিতানিয়াকে উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের দেশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

তার নির্বাচনের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও এশিয়াজুড়ে বিস্তৃত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আন্তঃসরকারি সংস্থার নেতৃত্বে এবার একজন মৌরিতানীয় কূটনীতিক আসছেন। সংস্থাটির সদস্যদের মধ্যে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক বাস্তবতার দেশ।

নরওয়ের রাজা পঞ্চম হ্যারাল্ড না ফেরার দেশে

প্রকাশ: শনিবার, আগস্ট ২৯, ২০২৬
নরওয়ের রাজা পঞ্চম হ্যারাল্ড না ফেরার দেশে

নরওয়ের রাজা পঞ্চম হ্যারাল্ড মারা গেছেন। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানী অসলোর ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর।

অসলো রাজপ্রাসাদ এক বিবৃতিতে রাজার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

মৃত্যুর আগের ২৪ ঘণ্টায় রাজপরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে গিয়ে হ্যারাল্ডকে দেখে আসেন। এ সময় সাধারণ মানুষও রাজপ্রাসাদের সামনে ফুল রেখে তার আরোগ্য কামনা করেন।

রাজার মৃত্যুর পর রাজপ্রাসাদের রাজকীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। ১৯৩৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি অসলোর কাছে স্কাউগুম রাজকীয় এস্টেটে জন্মগ্রহণ করেন হ্যারাল্ড। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি জার্মানি নরওয়ে আক্রমণ করলে তিনি মা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রথমে সুইডেনে এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নেন।

যুদ্ধ শেষে নরওয়েতে ফিরে পড়াশোনা ও সামরিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন তিনি। ১৯৫৭ সালে যুবরাজ হন হ্যারাল্ড।

তার বাবা রাজা পঞ্চম ওলাভের মৃত্যুর পর ১৯৯১ সালের ১৭ জানুয়ারি নরওয়ের সিংহাসনে আরোহণ করেন হ্যারাল্ড। এরপর টানা প্রায় ৩৫ বছর দেশটির রাজা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

দীর্ঘ শাসনামলে হ্যারাল্ড নরওয়ের মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। আধুনিক ও সংস্কারবাদী রাজা হিসেবেও তার পরিচিতি ছিল।

সূত্র: আলজাজিরা

৯/১১ হামলা মামলা: ২৭ বছর পর খালিদ শেখ মোহাম্মদের বিচার শুরু হচ্ছে

প্রকাশ: শুক্রবার, আগস্ট ২৮, ২০২৬
৯/১১ হামলা মামলা: ২৭ বছর পর খালিদ শেখ মোহাম্মদের বিচার শুরু হচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্রে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত খালিদ শেখ মোহাম্মদ ও তার সঙ্গে অভিযুক্ত আরও তিনজনের বিচার শুরু হবে ২০২৮ সালের ৫ জুন। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আদালতের বিচারক বিমানবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাইকেল শ্রামা বুধবার এই বিচারসূচি নির্ধারণ করেছেন। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

এই আদেশ এসেছে এমন সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আপিল আদালত ওই সমঝোতা চুক্তি আটকে দিয়েছে, যার ফলে খালিদ শেখ মোহাম্মদ ও তার দুই সহআসামি দোষ স্বীকারের বিনিময়ে মৃত্যু দণ্ড এড়াতে পারতেন। মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে বিশেষ করে সিআইএর কারাগারে আটক থাকা অবস্থায় সংগৃহীত প্রমাণ এবং নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে আইনি বিরোধের কারণে।

প্রসিকিউশন চাইছিল ২০২৭ সালের শুরুতে বিচার শুরু হোক। তবে বিচারক বলেন, ওই সময়সীমায় প্রাক-বিচার পর্যায়ের প্রমাণসংক্রান্ত ও নিয়ম-মান্যতা নিশ্চিত করার আবেদনের শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যাবে না। তার আদেশে তিনি লিখেছেন, ‘বাস্তবসম্মত বিচার-তারিখ নির্ধারণে প্রাক-বিচার পর্যায়ে প্রমাণসংক্রান্ত শুনানি এবং নিয়ম-মান্যতা নিশ্চিত করার আবেদনের নিষ্পত্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে।’

খালিদ শেখ মোহাম্মদের সঙ্গে যে তিন আসামির বিচার হবে, তারা হলেন ওয়ালিদ বিন আত্তাশ, মুস্তফা আল-হাওসাওয়ি এবং আলী আবদুল আজিজ আলী।

আদেশ অনুযায়ী, প্রথমে সামরিক সদস্যদের নিয়ে জুরি নির্বাচন হবে। এরপর ৩০ দিন পর শুরু হবে উদ্বোধনী বক্তব্য। প্রসিকিউশন তাদের মামলা শেষ করার ৬০ দিন পর প্রতিরক্ষা পক্ষ নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপন শুরু করবে। বিচার শেষে সাজা নির্ধারণের ধাপ থাকবে।

খালিদ শেখ মোহাম্মদ ও তার দুই সহআসামি ২০২৪ সালে দোষ স্বীকারের বিনিময়ে মৃত্যু দণ্ড এড়াতে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছিলেন। তবে তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন কয়েক দিনের মধ্যেই সেই চুক্তি বাতিল করে দেন। পরে গত মাসে আপিল আদালত অস্টিনের ওই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে।

খালিদ শেখ মোহাম্মদকে ২০০৩ সালের মার্চে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী আটক করে। তিনি ২০০৬ সালে গুয়ান্তানামো বে কারাগারে নেয়ার আগে তিন বছর সিআইএর গোপন কারাগারেও ছিলেন।