৩০ আগস্ট ২০২৬

শিকার মৌসুম শুরু হওয়ায় সুক ওয়াকিফে বাজপাখির বিক্রি বেড়েছে ৬০ শতাংশ

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ৩০, ২০২৬
শিকার মৌসুম শুরু হওয়ায় সুক ওয়াকিফে বাজপাখির বিক্রি বেড়েছে ৬০ শতাংশ

কাতারের ঐতিহ্যবাহী সুক ওয়াকিফ বাজারের বাজপাখি বা ফ্যালকন মার্কেটে এখন ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় থেকে আগামী সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পরিযায়ী পাখি শিকারের মৌসুম শুরুর ঘোষণা দেওয়ায় বাজার বেশ জমে উঠেছে। গত সময়ের তুলনায় বর্তমানে বাজপাখির বিক্রি প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

মূলত কাতারসহ সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর ক্রেতারা শিকার মৌসুমের প্রস্তুতি হিসেবে এখন থেকেই পাখি কিনতে শুরু করেছেন। সশরীরে দোকানে এসে কেনার পাশাপাশি অনেক উপসাগরীয় ক্রেতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যেও অর্ডার করছেন এবং ব্যবসায়ীরা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে অন্য দেশেও পাখি পৌঁছে দিচ্ছেন।

বাজারে আসা বিভিন্ন জাতের বাজপাখির দাম মূলত সেগুলোর ধরন ও গুণগত মানের ওপর নির্ভর করে। শাহিন ফ্যালকনের দাম শুরু হয় ৩০ হাজার রিয়াল থেকে এবং গারফ্যালকনের দাম প্রায় ২০ হাজার রিয়াল। এছাড়া গার-শাহিন হাইব্রিড ফ্যালকনের দাম অন্তত ৫০ হাজার রিয়াল থেকে শুরু হয়। তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামের মধ্যে ওয়াকরি বা ল্যানার ফ্যালকন পাওয়া যাচ্ছে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার রিয়ালের মধ্যে। সুদানি ওয়াকরি ফ্যালকনের দাম প্রায় ২ হাজার রিয়াল, ব্রিটিশ গারমুশা ফ্যালকন ৪ হাজার রিয়াল এবং স্প্যানিশ গারফ্যালকন মিলছে ১০ হাজার রিয়াল থেকে। তবে ভালো মানের ও বিশেষ জাতের বাজপাখির দাম আরও অনেক বেশি হয়ে থাকে।

বাজপাখির পাশাপাশি শিকারের বিভিন্ন সরঞ্জাম ও উপকরণের চাহিদাও এখন অনেক বেশি। হাতমোজা, হুড, বহন করার বাক্স, পাখির স্ট্যান্ড, ছুরি, জাল, শিকারের পোশাক এবং বাইনোকুলারসহ নানা ধরনের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সাজিয়ে রাখা হয়েছে দোকানের তাকে। সাধারণ মানের হাতমোজা ৫০ রিয়াল থেকে শুরু হলেও আমদানিকৃত ডাচ মডেলের হাতমোজার দাম ৫০০ রিয়াল পর্যন্ত হয়ে থাকে। এছাড়া হুড ৩০ থেকে ১৫০ রিয়াল, বহন করার বাক্স ৬০ থেকে ৭০ রিয়াল এবং জার্মান প্রযুক্তির ভালো মানের বাইনোকুলারের দাম ২ হাজার ৮০০ রিয়াল থেকে শুরু হয়।

ব্যবসায়ীরা জানান, নতুন কেনা বাজপাখিকে শিকারের উপযোগী করতে সাধারণত ১৫ দিন পর্যন্ত বিশেষ প্রশিক্ষণ দিতে হয়। নতুন মালিকের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে এবং শিকারের সময় সঠিকভাবে পারফর্ম করতে এই প্রশিক্ষণ খুবই জরুরি। এছাড়া আগে থেকেই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পাখিও বাজারে পাওয়া যায়, যা ক্রেতাদের কাজ আরও সহজ করে দেয়।

আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে ইরান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইরাক ও সিরিয়া থেকে বাজপাখির নতুন চালান আসার কথা রয়েছে। ফলে সামনের মাসগুলোতে বাজারের এই চাঙ্গা ভাব আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমন ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদারে সম্মত কাতার ও তুরস্ক

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ৩০, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমন ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদারে সম্মত কাতার ও তুরস্ক

কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিজ হাইনেস শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান বিন জসিম আল-থানির সাথে ফোনালাপে অংশ নিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান।

দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও সহযোগিতাকে আরও জোরদার করার উপায় নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি ফোনালাপে বর্তমান আঞ্চলিক নানা পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমিত করতে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে যৌথ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আলাপকালে কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান যে, আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য যেকোনো কূটনৈতিক উদ্যোগকে কাতার সবসময় সমর্থন করে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাগরে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি অর্জনের পথ সুগম করতে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো জরুরি।

(তথ্যসূত্র: কাতার নিউজ এজেন্সি - QNA)

আর্মেনিয়া থেকে প্রথম লেজার চার্টার ফ্লাইটকে স্বাগত জানাল কাতার

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ৩০, ২০২৬
আর্মেনিয়া থেকে প্রথম লেজার চার্টার ফ্লাইটকে স্বাগত জানাল কাতার

কাতারে ইনবাউন্ড লেজার ট্যুরিজম বা বিনোদনমূলক পর্যটনের পরিধি বাড়াতে এবং নতুন পর্যটন বাজার তৈরির ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। আর্মেনিয়ার রাজধানী ইয়েরেভান থেকে আসা প্রথম লেজার চার্টার ফ্লাইটকে শনিবার হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়েছে।

রুস্তার ট্যুর অপারেটর এর অংশীদারিত্বে ফ্লাইওয়ান এয়ারলাইন্স এই ফ্লাইটটি পরিচালনা করছে। এর মাধ্যমে ইয়েরেভান ও দোহার মধ্যে এয়ারবাস এ৩২০ মডেলের বিমান দিয়ে প্রতি সপ্তাহে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালিত হবে। আগামী ২০২৭ সালের ১৫ মে পর্যন্ত এই চার্টার প্রোগ্রাম চলবে। এর ফলে নির্দিষ্ট এই সময়ের মধ্যে আর্মেনিয়া থেকে প্রায় ৬ হাজার ৫০০ পর্যটক কাতার ভ্রমণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক আঞ্চলিক অপারেশনাল ব্যাঘাতের পর কাতারে আসা এটিই প্রথম লেজার চার্টার ফ্লাইট। এটি প্রমাণ করে যে পর্যটক, ট্রাভেল পার্টনার এবং বৈশ্বিক এভিয়েশন কমিউনিটির কাছে কাতার এখন আগের মতো পুরোপুরি নিরাপদ এবং স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরে এসেছে।

বিশ্বমানের পর্যটন পরিকাঠামো, অতিথি আপ্যায়ন এবং এভিয়েশন খাতের ওপর ভিত্তি করে কাতার যে একটি নিরাপদ ও দারুণ গন্তব্য, এই ফ্লাইট চালুর মাধ্যমে সেটি আবারও প্রমাণিত হলো। এছাড়া এই উদ্যোগের ফলে কাতার ও আর্মেনিয়ার মধ্যে পর্যটন সম্পর্ক আরও গভীর হবে এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালুর পথও প্রশস্ত হবে।

সবুজে সেজে উঠছে কাতার: সবুজায়ন ও বৃক্ষরোপণে নতুন মাইলফলক

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ৩০, ২০২৬
সবুজে সেজে উঠছে কাতার: সবুজায়ন ও বৃক্ষরোপণে নতুন মাইলফলক

মরুময় আবহাওয়া ও তীব্র গরমের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশের শহরাঞ্চলকে আরও বসবাস উপযোগী, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই করে তুলতে বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছে কাতার। দেশজুড়ে পার্ক, উদ্যান এবং গাছপালা আচ্ছাদিত এলাকার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। পৌর মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কাতারের মোট সবুজ এলাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৯ লাখ বর্গমিটারে, যেখানে মাথাপিছু সবুজ জায়গার পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ৬.৮ বর্গমিটার।

পরিবেশগত টেকসই উন্নয়ন এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত করার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সরকার পার্ক নির্মাণ ও বৃক্ষরোপণে এই বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে। ন্যাশনাল প্ল্যানিং কাউন্সিলের উন্মুক্ত উপাত্তেও চাষযোগ্য সবুজ ভূমি, গাছপালা, গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ, খেজুর বাগান এবং রাস্তার ডিভাইডারে থাকা উদ্ভিদের বার্ষিক অগ্রগতির চিত্র নিয়মিত তুলে ধরা হয়।

প্যারিস জলবায়ু চুক্তির আওতায় জমা দেওয়া কাতারের ‘ন্যাশনাল্লি ডিটারমাইন্ড কন্ট্রিবিউশন ৩.০’ (NDC 3.0)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৫ সালে দেশের সবুজ এলাকা ছিল ৩.৫ বর্গকিলোমিটার, যা ২০২৩ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ১৬.৭ বর্গকিলোমিটারে। ২০১৯ সালে শুরু হওয়া এবং ২০২২ সালে সম্পন্ন হওয়া ‘এক মিলিয়ন গাছ রোপণ কর্মসূচি’-র পাশাপাশি সড়ক, শিল্পাঞ্চল, স্কুল ও আবাসিক এলাকায় বনায়নের মাধ্যমে এই অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। প্রথম প্রকল্পের সফলতার পর কাতার ২০২২ সালে ‘দশ মিলিয়ন গাছ রোপণ উদ্যোগ’ শুরু করে, যা বর্তমানেও বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে।

জাতিসংঘে জমাকৃত কাতারের ২০২৫ সালের স্বেচ্ছামূলক জাতীয় পর্যালোচনা প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশটিতে ১৫৯টি পার্ক এবং প্রায় ৩০ লাখ বর্গমিটারের উন্নত সবুজ এলাকা তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া ‘দশ মিলিয়ন গাছ রোপণ উদ্যোগ’-এর আওতায় ইতোমধ্যেই ৩ লাখ ২০ হাজার চারা রোপণ করা হয়েছে। দেশের মোট আয়তনের ২৭ শতাংশ বা ১২টি সুরক্ষিত এলাকার প্রায় ৩ হাজার ৪০০ বর্গকিলোমিটার অংশকে প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট স্থল ও সামুদ্রিক এলাকার ৩০ শতাংশ সংরক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কাতার।

কাতারের জলবায়ু ও ভৌগোলিক বাস্তবতায় এই সবুজায়নের গুরুত্ব অপরিসীম। গ্রীষ্মকালে এখানকার চরম তাপমাত্রা এবং প্রখর রোদ প্রায়ই মানুষের বহিরাঙ্গন চলাচল ও বিনোদনকে কঠিন করে তোলে। তবে গাছপালা ও সবুজ বেষ্টনী ছায়া দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় তাপমাত্রাকেও নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

দোহা ও আল দাইয়েন এলাকার ওপর পরিচালিত সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, পাকা রাস্তা বা কংক্রিটের কাঠামোর তুলনায় সবুজ এলাকায় ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কম থাকে। কাতারের উপযোগিতা বাড়াতে এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় গাছপালা ও বড় আকারের সবুজ পরিকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কাতার ইউনিভার্সিটির ২০২৬ সালের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, খোলা বালি বা শিল্পাঞ্চলের তুলনায় গাছপালা সমৃদ্ধ নিম্নমানের এলাকাগুলোতে তাপমাত্রা বেশ সহনীয় থাকে।

সবুজায়নের এই প্রচেষ্টার পেছনে ঐতিহাসিক কিছু পটভূমিও রয়েছে। ২০২৩ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২২ সালের ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে গৃহীত বিভিন্ন প্রস্তুতি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাতারের মোট সবুজ এলাকা বৃদ্ধিতে ৭৩ শতাংশেরও বেশি ভূমিকা রেখেছিল। এই আয়োজন সাধারণ মানুষের জন্য সবুজ পরিবেশের ন্যূনতম সুযোগ প্রায় ৯ গুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল।

পরিবেশ সুরক্ষায় গাছের ভূমিকা শুধু তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। গাছপালা ও সংযুক্ত সবুজ করিডোর পাখি, পোকামাকড় এবং অন্যান্য প্রাণীর জন্য নিরাপদ আবাসস্থল ও খাদ্যের জোগান দেয়। কাতার তার জাতীয় কৌশলের আওতায় বড় পরিসরে বনায়ন, ম্যানগ্রোভ বা সুন্দরবন পুনরুদ্ধার এবং নগর উন্নয়নে প্রকৃতির সঠিক মেলবন্ধন ঘটিয়ে একটি টেকসই ও বাসযোগ্য ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

শিকার মৌসুম শুরু হওয়ায় সুক ওয়াকিফে বাজপাখির বিক্রি বেড়েছে ৬০ শতাংশ

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ৩০, ২০২৬
শিকার মৌসুম শুরু হওয়ায় সুক ওয়াকিফে বাজপাখির বিক্রি বেড়েছে ৬০ শতাংশ

কাতারের ঐতিহ্যবাহী সুক ওয়াকিফ বাজারের বাজপাখি বা ফ্যালকন মার্কেটে এখন ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় থেকে আগামী সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পরিযায়ী পাখি শিকারের মৌসুম শুরুর ঘোষণা দেওয়ায় বাজার বেশ জমে উঠেছে। গত সময়ের তুলনায় বর্তমানে বাজপাখির বিক্রি প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

মূলত কাতারসহ সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর ক্রেতারা শিকার মৌসুমের প্রস্তুতি হিসেবে এখন থেকেই পাখি কিনতে শুরু করেছেন। সশরীরে দোকানে এসে কেনার পাশাপাশি অনেক উপসাগরীয় ক্রেতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যেও অর্ডার করছেন এবং ব্যবসায়ীরা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে অন্য দেশেও পাখি পৌঁছে দিচ্ছেন।

বাজারে আসা বিভিন্ন জাতের বাজপাখির দাম মূলত সেগুলোর ধরন ও গুণগত মানের ওপর নির্ভর করে। শাহিন ফ্যালকনের দাম শুরু হয় ৩০ হাজার রিয়াল থেকে এবং গারফ্যালকনের দাম প্রায় ২০ হাজার রিয়াল। এছাড়া গার-শাহিন হাইব্রিড ফ্যালকনের দাম অন্তত ৫০ হাজার রিয়াল থেকে শুরু হয়। তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামের মধ্যে ওয়াকরি বা ল্যানার ফ্যালকন পাওয়া যাচ্ছে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার রিয়ালের মধ্যে। সুদানি ওয়াকরি ফ্যালকনের দাম প্রায় ২ হাজার রিয়াল, ব্রিটিশ গারমুশা ফ্যালকন ৪ হাজার রিয়াল এবং স্প্যানিশ গারফ্যালকন মিলছে ১০ হাজার রিয়াল থেকে। তবে ভালো মানের ও বিশেষ জাতের বাজপাখির দাম আরও অনেক বেশি হয়ে থাকে।

বাজপাখির পাশাপাশি শিকারের বিভিন্ন সরঞ্জাম ও উপকরণের চাহিদাও এখন অনেক বেশি। হাতমোজা, হুড, বহন করার বাক্স, পাখির স্ট্যান্ড, ছুরি, জাল, শিকারের পোশাক এবং বাইনোকুলারসহ নানা ধরনের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সাজিয়ে রাখা হয়েছে দোকানের তাকে। সাধারণ মানের হাতমোজা ৫০ রিয়াল থেকে শুরু হলেও আমদানিকৃত ডাচ মডেলের হাতমোজার দাম ৫০০ রিয়াল পর্যন্ত হয়ে থাকে। এছাড়া হুড ৩০ থেকে ১৫০ রিয়াল, বহন করার বাক্স ৬০ থেকে ৭০ রিয়াল এবং জার্মান প্রযুক্তির ভালো মানের বাইনোকুলারের দাম ২ হাজার ৮০০ রিয়াল থেকে শুরু হয়।

ব্যবসায়ীরা জানান, নতুন কেনা বাজপাখিকে শিকারের উপযোগী করতে সাধারণত ১৫ দিন পর্যন্ত বিশেষ প্রশিক্ষণ দিতে হয়। নতুন মালিকের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে এবং শিকারের সময় সঠিকভাবে পারফর্ম করতে এই প্রশিক্ষণ খুবই জরুরি। এছাড়া আগে থেকেই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পাখিও বাজারে পাওয়া যায়, যা ক্রেতাদের কাজ আরও সহজ করে দেয়।

আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে ইরান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইরাক ও সিরিয়া থেকে বাজপাখির নতুন চালান আসার কথা রয়েছে। ফলে সামনের মাসগুলোতে বাজারের এই চাঙ্গা ভাব আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় ঐতিহ্য ও আধুনিক ফিটনেস সুবিধার সমন্বয়ে কাতারে উন্মুক্ত হলো নতুন তিনটি পার্ক

প্রকাশ: শুক্রবার, আগস্ট ২৮, ২০২৬
স্থানীয় ঐতিহ্য ও আধুনিক ফিটনেস সুবিধার সমন্বয়ে কাতারে উন্মুক্ত হলো নতুন তিনটি পার্ক

আল উকাইর এলাকায় সাধারণ মানুষের হাঁটাচলা, খেলাধুলা ও অবসরে সময় কাটানোর জন্য নতুন তিনটি পার্কের উদ্বোধন করেছে পৌর মন্ত্রণালয়। আন্তর্জাতিক মানের এই পার্কগুলো তৈরি করেছে পাবলিক পার্কস ডিপার্টমেন্ট এবং পাবলিক ওয়ার্কস অথরিটি (আশগাল)।

উদ্বোধন হওয়া নতুন পার্কগুলোর নাম রাখা হয়েছে স্থানীয় পরিবেশের সাথে মিলিয়ে—আল ওয়াকরাহ এলাকায় ‘আল মাশমুম’ ও ‘আল খুজামা’ এবং আল উকাইর এলাকায় ‘আল আরাক’। জাতীয় ঐতিহ্য রক্ষা এবং স্থানীয় পরিচয় তুলে ধরতে এই নামকরণ করা হয়েছে। পৌর মন্ত্রণালয়ের ২০২৪-২০৩০ কৌশলগত পরিকল্পনা এবং কাতার জাতীয় ভিশন ২০৩০ এর লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সেন্ট্রাল মিউনিসিপাল কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ বিন আলী আল-আতবে এবং পৌর মন্ত্রণালয়ের পাবলিক সার্ভিস অ্যাফেয়ার্সের সহকারী আন্ডারসেক্রেটারি আবদুল্লাহ আহমেদ আল-করানিসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

পৌর মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই পার্কগুলোতে সাধারণ মানুষের হাঁটার জন্য পথ, দৌড়ানোর ট্র্যাক, শিশুদের খেলার জায়গা এবং ব্যায়ামের আধুনিক ব্যবস্থা রয়েছে।

নতুন পার্কগুলোর বিবরণ:

আল মাশমুম পার্ক: মোট আয়তন ৪,৩৯৪ বর্গমিটার, যার মধ্যে প্রায় ২,৩৯৬ বর্গমিটারে গাছপালা ও সবুজায়ন করা হয়েছে। এখানে ৬৮টি গাছ, ২০৪ মিটার দীর্ঘ রানিং ট্র্যাক এবং শিশুদের খেলার আলাদা জায়গা রয়েছে।

আল খুজামা পার্ক: ৩,২৮৪ বর্গমিটার আয়তনের এই পার্কে ৫৯টি গাছ এবং ১,৩৬৭ বর্গমিটার সবুজ এলাকা রয়েছে। এখানে ১৭৮ মিটার দীর্ঘ রানিং ট্র্যাক ও আধুনিক ফিটনেস সরঞ্জাম যুক্ত করা হয়েছে।

আল আরাক পার্ক: ৩,৯৩৬ বর্গমিটার আয়তনের এই পার্কে ৫৬টি গাছ ও ২,১২৬ বর্গমিটার সবুজ জায়গা রয়েছে। এছাড়া ১৬৪ মিটার দীর্ঘ রানিং ট্র্যাক এবং খেলাধুলার নানা সুবিধা রাখা হয়েছে।