৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সন্তানকে দানের পরও সম্পত্তিতে বাবা-মার অধিকার, আইন পাস

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
সন্তানকে দানের পরও সম্পত্তিতে বাবা-মার অধিকার, আইন পাস

সন্তানকে সম্পত্তি হস্তান্তর করলেও আজীবন ভোগ করতে পারবেন বাবা-মা। ১৮৮২ সালের দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি অ্যাক্ট সংশোধনে বিল জাতীয় সংসদে পাশ হয়েছে। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। পরে বিলটি সংসদে কণ্ঠভোটে পাশ হয়েছে। যদিও বিল পাশের আগেই সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে বিরোধী দল। তবে বাবা-মাকে সুরক্ষায় বিলটিকে সাধুবাদ জানিয়েছে সরকারি দল।

রবিবার জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

পাস হওয়া বিলের বিধান অনুযায়ী, বাবা-মা কিংবা দাদা-দাদি বা নানা-নানির কাছ থেকে সন্তান বা নাতি-নাতনির কাছে সম্পত্তি দান করা হলে দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন। একইভাবে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি দানের ক্ষেত্রেও দাতার জীবনকালীন ভোগাধিকার বহাল থাকবে।

এ ছাড়া দাতার জীবদ্দশায় সম্পত্তির গ্রহীতার মৃত্যু হলে দাতার ভোগের অধিকার বজায় থাকবে। পরবর্তী সময়ে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ওই সম্পত্তি গ্রহীতার উত্তরাধিকারীদের কাছে হস্তান্তরিত হবে।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রচলিত আইনে সম্পত্তি হস্তান্তরের বিভিন্ন পদ্ধতি থাকলেও দাতার জীবদ্দশায় সম্পত্তির ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে দানের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বিধান ছিল না। প্রস্তাবিত সংশোধনের মাধ্যমে জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে সম্পত্তি দানের একটি স্বতন্ত্র ব্যবস্থা তৈরি হবে।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, নতুন এই বিধান সব ধর্মের মানুষের ক্ষেত্রে সমভাবে কার্যকর হবে। এর ফলে প্রচলিত সাধারণ দান, মুসলিম আইনের অধীনে হেবা কিংবা আইনস্বীকৃত অন্য কোনো সম্পত্তি হস্তান্তর পদ্ধতির ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না এবং সাংঘর্ষিক পরিস্থিতিও সৃষ্টি হবে না।

তবে বিলটি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন। এর আগে তিনি বিলটি কোরআন-সুন্নাহর সুস্পষ্ট পরিপন্থি দাবি করে সংসদে পাস না করার আহ্বান জানান।

তার বক্তব্য, এর মাধ্যমে দাতার আজীবন সম্পত্তি ভোগের সুযোগ রাখা হলে ইসলামী উত্তরাধিকার আইনের বিধানকে পাশ কাটানোর আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। তিনি দাবি করেন, দেশের কয়েকজন প্রখ্যাত আলেমও প্রস্তাবিত ব্যবস্থাকে ইসলামী আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মত দিয়েছেন।

ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন আরও অভিযোগ করেন, ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর এবং পরবর্তী সময়ে ২০২৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর দেওয়া সরকারের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে এই বিলের বিধান সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তার দাবি, সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর দেশে কোরআন-সুন্নাহর বাইরে কোনো আইন করা হবে না এমন অঙ্গীকার করা হয়েছিল।

তার মতে, প্রস্তাবিত আইন কার্যকর হলে উত্তরাধিকারীদের প্রাপ্য সম্পত্তির অধিকার নিয়ে ভবিষ্যতে জটিলতা তৈরি হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

৪০ ভরি স্বর্ণ গায়েব করলেন পুলিশ কনস্টেবল

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
৪০ ভরি স্বর্ণ গায়েব করলেন পুলিশ কনস্টেবল

চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক পুলিশ কনস্টেবলের সহযোগিতায় অভিযানের নামে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৪০ ভরি স্বর্ণ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ওই পুলিশ কনস্টেবলের নাম জাকির হোসেন। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার্স মেসে কর্মরত।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর কালীনগর ব্রিজের পাশে গত ৮ আগস্ট বেলা ৩টার দিকে স্বর্ণ লুটের ওই ঘটনাটি ঘটে বলে দাবি করা হয়েছে। গলিত অবস্থায় ৪০ ভরি স্বর্ণ রাজশাহী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের এক ব্যবসায়ীর কাছে পাঠিয়েছিলেন নিঝুম নামে আরেক স্বর্ণ ব্যবসায়ী।

রাজশাহী থেকে স্বর্ণগুলো চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিয়ে যান ব্যবসায়ী নিঝুমেরই দুলাভাই মোহাম্মদ আলী। তার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের চর আলমপুরে। মোহাম্মদ আলীর ছেলে মো. নয়নের বন্ধু হচ্ছেন পুলিশ কনস্টেবল জাকির হোসেন। মোহাম্মদ আলী স্বর্ণের চালানটি চাঁপাইনবাবগঞ্জের ওই ব্যবসায়ীর হাতে তুলে দেওয়ার দুই মিনিটের মধ্যে সেখানে হাজির হন কনস্টেবল জাকির।

পরে পুলিশ পরিচয়ে তিনি তার কাছ থেকে ওই স্বর্ণ নিয়ে চলে যান বলে অভিযোগ। ঘটনার পর ওই ব্যবসায়ী বিষয়টি নিঝুমকে জানান। নিঝুমের অভিযোগ, তার দুলাভাই মোহাম্মদ আলী ও ভাগনে মো. নয়ন স্বর্ণ লুটের ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্য জাকিরকে ব্যবহার করেছে। জাকির অভিযানের নামে ভয়ভীতি দেখিয়ে ৪০ ভরি স্বর্ণ হাতিয়ে তিনজনে ভাগবাঁটোয়ারা করেছেন।

ব্যবসায়ী নিঝুমের দাবি, ঘটনাটি যেদিন ঘটে সেদিন ছিল শনিবার। তিনি তার দুলাভাইয়ের হাত দিয়েই ওই ৪০ ভরি স্বর্ণ চাঁপাইনবাবগঞ্জে দিতে পাঠান। তার দুলাভাই মোহাম্মদ আলী ও ভাগনে নয়ন এই স্বর্ণ মেরে দিতে পুলিশ কনস্টেবল জাকিরকে ঠিক করেছিলেন। মোহাম্মদ আলী স্বর্ণের চালানটি হস্তান্তরের পরপরই সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্য জাকির আরেকজনকে নিয়ে গিয়ে ওই স্বর্ণ হাতিয়ে নেন।

এ ঘটনার পর চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর থেকে কালীনগর ব্রিজ পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানের ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন তিনি। এতে দেখা যায়, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে জাকির তার নিজের ব্যবহৃত অ্যাপাচি মোটরসাইকেলে তিনিসহ দুজন ব্রিজের দিকে যাচ্ছেন। মোটরসাইকেলে জাকিরের সঙ্গে অপরজন কে ছিলেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পুলিশ কনস্টেবল জাকির হোসেন সেদিন মোটরসাইকেলে কালীনগর ব্রিজের দিকে যাওয়ার কথা স্বীকার করলেও ঘটনার সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন। জাকির বলেন, ‘নিঝুম কারণ ছাড়াই এ ঘটনায় আমাকে জড়াচ্ছেন। কিন্তু আমি জড়িত না। বিষয়টা তাদের নিজেদের। ওদের মীমাংসার জন্য বসারও কথা ছিল। পরে তারা বসেনি।’

তবে কনস্টেবল জাকির হোসেন, নয়ন ও তার বাবা মোহাম্মদ আলীর মোবাইলের ফোনকল রেকর্ড বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঘটনার দিন, আগের দিন ও পরদিন মূল পরিকল্পনাকারী নয়ন ও তার বাবার সঙ্গে অসংখ্যবার মোবাইলে কথা হয়েছে জাকিরের। এর মধ্যে ঘটনার দুই দিন আগে ৬ আগস্ট জাকির তার ব্যবহৃত ০১৭০১৭৪**৭৪ নম্বর থেকে নয়নের ০১৩১৭৯৮**১৫ নম্বরে মোট ১০ বার কথা বলেছেন।

ঘটনার দিন ৮ আগস্ট জাকির ও নয়নের মোবাইলে কথা হয়েছে ১০ বার। ফোনকলের লোকেশন বিশ্লেষণে দেখা যায়, স্বর্ণ নিয়ে মোহাম্মদ আলী যখন কালীনগর ব্রিজের আশপাশে ছিলেন, তখন ওই এলাকাতেই ছিলেন পুলিশ সদস্য জাকির। তখনো তাদের মধ্যে কয়েকবার ফোনে কথা হয়েছে।

কথোপকথনের ব্যাপারে জানতে চাইলে পুলিশ কনস্টেবল জাকির হোসেন শুধু নয়নের সঙ্গে কথা বলার বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, অনেক দিন ধরেই নয়ন তার পরিচিত। তার সঙ্গে মাঝে মাঝে কথা হয়, দেখা হয়। তবে নয়নের বাবা মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে মোবাইলে এতবার কী কথা হয়েছে সে প্রশ্নের জবাব দেননি তিনি।

স্বর্ণের চালানটি চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন নয়নের বাবা মোহাম্মদ আলী। আর তার ছেলে নয়ন বলেন, ‘আমি চাঁপাইনবাবগঞ্জে একটা লাইব্রেরি চালাই, রাজশাহীতে পড়াশোনা করি। বেশির ভাগ সময় রাজশাহীতেই থাকি। আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত না। মামা কেন আমার কথা বলছে জানি না।’

এদিকে ঘটনার বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন বলেন, এ ব্যাপারে থানায় কেউ অভিযোগ করেননি। তিনি কিছু জানেন না।

জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) এ এন এম ওয়াসিম ফিরোজও এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন। ভুক্তভোগী কেউ অভিযোগ দিলে তদন্ত করে জাকিরের সম্পৃক্ততা পেলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সন্তানকে দানের পরও সম্পত্তিতে বাবা-মার অধিকার, আইন পাস

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
সন্তানকে দানের পরও সম্পত্তিতে বাবা-মার অধিকার, আইন পাস

সন্তানকে সম্পত্তি হস্তান্তর করলেও আজীবন ভোগ করতে পারবেন বাবা-মা। ১৮৮২ সালের দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি অ্যাক্ট সংশোধনে বিল জাতীয় সংসদে পাশ হয়েছে। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। পরে বিলটি সংসদে কণ্ঠভোটে পাশ হয়েছে। যদিও বিল পাশের আগেই সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে বিরোধী দল। তবে বাবা-মাকে সুরক্ষায় বিলটিকে সাধুবাদ জানিয়েছে সরকারি দল।

রবিবার জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

পাস হওয়া বিলের বিধান অনুযায়ী, বাবা-মা কিংবা দাদা-দাদি বা নানা-নানির কাছ থেকে সন্তান বা নাতি-নাতনির কাছে সম্পত্তি দান করা হলে দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন। একইভাবে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি দানের ক্ষেত্রেও দাতার জীবনকালীন ভোগাধিকার বহাল থাকবে।

এ ছাড়া দাতার জীবদ্দশায় সম্পত্তির গ্রহীতার মৃত্যু হলে দাতার ভোগের অধিকার বজায় থাকবে। পরবর্তী সময়ে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ওই সম্পত্তি গ্রহীতার উত্তরাধিকারীদের কাছে হস্তান্তরিত হবে।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রচলিত আইনে সম্পত্তি হস্তান্তরের বিভিন্ন পদ্ধতি থাকলেও দাতার জীবদ্দশায় সম্পত্তির ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে দানের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বিধান ছিল না। প্রস্তাবিত সংশোধনের মাধ্যমে জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে সম্পত্তি দানের একটি স্বতন্ত্র ব্যবস্থা তৈরি হবে।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, নতুন এই বিধান সব ধর্মের মানুষের ক্ষেত্রে সমভাবে কার্যকর হবে। এর ফলে প্রচলিত সাধারণ দান, মুসলিম আইনের অধীনে হেবা কিংবা আইনস্বীকৃত অন্য কোনো সম্পত্তি হস্তান্তর পদ্ধতির ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না এবং সাংঘর্ষিক পরিস্থিতিও সৃষ্টি হবে না।

তবে বিলটি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন। এর আগে তিনি বিলটি কোরআন-সুন্নাহর সুস্পষ্ট পরিপন্থি দাবি করে সংসদে পাস না করার আহ্বান জানান।

তার বক্তব্য, এর মাধ্যমে দাতার আজীবন সম্পত্তি ভোগের সুযোগ রাখা হলে ইসলামী উত্তরাধিকার আইনের বিধানকে পাশ কাটানোর আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। তিনি দাবি করেন, দেশের কয়েকজন প্রখ্যাত আলেমও প্রস্তাবিত ব্যবস্থাকে ইসলামী আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মত দিয়েছেন।

ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন আরও অভিযোগ করেন, ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর এবং পরবর্তী সময়ে ২০২৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর দেওয়া সরকারের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে এই বিলের বিধান সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তার দাবি, সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর দেশে কোরআন-সুন্নাহর বাইরে কোনো আইন করা হবে না এমন অঙ্গীকার করা হয়েছিল।

তার মতে, প্রস্তাবিত আইন কার্যকর হলে উত্তরাধিকারীদের প্রাপ্য সম্পত্তির অধিকার নিয়ে ভবিষ্যতে জটিলতা তৈরি হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে তারেক রহমান-ট্রাম্প বৈঠকের সম্ভাবনা

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে তারেক রহমান-ট্রাম্প বৈঠকের সম্ভাবনা

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশ নিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক হতে পারে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, ‘নতুন বাংলাদেশ’-এর অগ্রযাত্রার বার্তা নিয়ে জাতিসংঘে যাবেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, সফরের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। ভারতের সঙ্গে নানা বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনার পথ খোলা রয়েছে। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ভালো সম্পর্ক বজায় রাখা প্রয়োজন।

জ্বালানি খাত নিয়ে তিনি বলেন, এই খাতে অতীতে কী ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়ম হয়েছে, তা দেখলেই বিষয়টি বোঝা যায়। বর্তমান সরকার জ্বালানি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং সংকট নিরসনে আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

‘মক্কা চুক্তি’ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশের এ ধরনের কোনো নিরাপত্তা জোটে যুক্ত হওয়া অস্বাভাবিক নয়। বর্তমানে অনেক দেশ একাধিক নিরাপত্তা জোটের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করেই বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি বলেন, ‘জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে যেখানে যাওয়া দরকার, সেখানে যাওয়া হবে।’

আমেরিকার কাছ থেকে বোয়িং কেনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বোয়িং কিনতে হবে এটা কেউ চাপিয়ে দিচ্ছে না। চাহিদা আছে বলেই আমেরিকা থেকে বোয়িং কেনা হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও কেনা হবে।’

মালয়েশিয়ায় শ্রমশক্তি রপ্তানি প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আমলের সিন্ডিকেটের কারণে মালয়েশিয়ায় শ্রমশক্তি রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। বর্তমান সরকার এই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়েছে। ধাপে ধাপে শ্রমশক্তি রপ্তানি হবে।’

এ সময় সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।

শাহজালালে বিমানের কর্মীর পরিহিত বেল্ট থেকে ১৪ কেজি সোনার বার জব্দ

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
শাহজালালে বিমানের কর্মীর পরিহিত বেল্ট থেকে ১৪ কেজি  সোনার বার জব্দ

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটের টেকনিক্যাল হেলপারের বেল্টের ভেতর থেকে ১২০টি সোনার বার জব্দ করেছে কাস্টমস।

জব্দ করা সোনারবারগুলোর মোট ওজন ১৩ দশমিক ৯২ কেজি। কাস্টমস কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব বারের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৫ কোটি টাকা।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, সকালে দুবাই-চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে আসা বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট বিজি-১৪৮ থেকে সোনারবারগুলো উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় বাংলাদেশ বিমানের অ্যাসিস্ট্যান্ট টেকনিক্যাল হেলপার মো. সোয়েব গাজীকে আটক করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারা জানতে পারে, ওই ফ্লাইটের মাধ্যমে সোনা চোরাচালান হতে পারে। খবর পেয়ে কাস্টমস হাউজের কর্মকর্তা ও প্রিভেন্টিভ টিম বিমানবন্দরে গিয়ে উড়োজাহাজের অভ্যন্তরে বিশেষ তল্লাশি শুরু করে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মেকানিক্যাল ও ক্লিনিং দলের সদস্যরা বিমান পরিষ্কার করে নিচে নামার সময় তাদের তল্লাশি করা হচ্ছিল। এ সময় বিমানটির নিরাপত্তাকর্মী নুর ইসলামের সহযোগিতায় তল্লাশি চালানোর একপর্যায়ে টেকনিক্যাল হেলপার মো. সোয়েব গাজীর পরিহিত বেল্টের মধ্যে কালো স্কচটেপে মোড়ানো অবস্থায় কয়েকটি বস্তু দেখতে পান কর্মকর্তারা।

পরে কালো স্কচটেপে মোড়ানো ওই বস্তুগুলো কাস্টমস হলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিভিন্ন সংস্থার উপস্থিতিতে ইনভেন্টরি করে ১২০টি সোনার বার পাওয়া যায়। প্রতিটি বারের ওজন ১১৬ গ্রাম হিসেবে মোট ওজন দাঁড়ায় ১৩ দশমিক ৯২ কেজি।

এনবিআরের প্রাথমিক ধারণা, দুবাই-চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে আসা ফ্লাইট থেকে সোনারবারগুলো অত্যন্ত কৌশলে লুকিয়ে বিমানবন্দরের বাইরে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল। এভাবে সরকারি নির্ধারিত শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে সোনা চোরাচালানের চেষ্টা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে কাস্টমস।

অভিযানের সময় এভসেক, কাস্টমস গোয়েন্দা ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। কাস্টমস হাউজ, ঢাকা ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ তৎপরতায় সোনার চালানটি আটক করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে কাস্টমস।

এনবিআর জানায়, জব্দ সোনারবারগুলো অধিক মূল্যবান হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে বিমানবন্দর কাস্টমসের মূল্যবান পণ্যের গুদামে জমা করা হয়েছে।

বাংলাদেশিদের ভিজিটর ভিসা নিয়ে মার্কিন সতর্কতা

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
বাংলাদেশিদের ভিজিটর ভিসা নিয়ে মার্কিন সতর্কতা

বি১/বি২ ভিজিটর ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া বাংলাদেশিদের বিভিন্ন কার্যক্রমের বিষয়ে সতর্ক করেছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে সামাজিক মাধ্যমে এই সতর্কবার্তা জানানো হয়।

ঢাকার মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, বি১/বি২ ভিসায় ‘বার্থ ট্যুরিজম’ অর্থাৎ মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তানের জন্ম দেওয়া যাবে না।

সতর্কবার্তায় আরও জানানো হয়, ভিজিটর ভিসার অধীনে যুক্তরাষ্ট্রে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কাজ করা নিষিদ্ধ। পাশাপাশি ডিগ্রি বা প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেডিটের জন্য পড়াশোনা করা অনুমোদিত নয়।

চলতি বছরের ২২ আগস্ট বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশেও সতর্কবার্তা দিয়েছিল মার্কিন দূতাবাস। এতে শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিলের বিভিন্ন কারণ জানানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে নির্ধারিত পড়াশোনার বাইরে অতিরিক্ত কাজ করা, পড়াশোনা

মাঝপথে ছেড়ে দেওয়া এবং নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিত থাকা। এছাড়া নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে না জানিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম থেকে সরে গেলে স্টুডেন্ট ভিসা বাতিল হতে পারে।