২২ অক্টোবর ২০২৬

কাতার প্রবাসীর বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশন করা তরুণীকে গ্রেফতার

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
কাতার প্রবাসীর বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশন করা তরুণীকে গ্রেফতার

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে কাতার প্রবাসী এক যুবককে বিয়ের দাবিতে তার বাড়ির সামনে টানা ৬ দিন অনশন করার পর রাহেনা আক্তার (২৪) নামে এক তরুণীকে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দিবাগত ৩টায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশের তদন্তে তার প্রকৃত নাম রাহেনা আক্তার (২৪) বলে জানা গেছে। এর আগে তিনি নিজের নাম ফাতেমা আক্তার ও ঠিকানা সম্পর্কে ভুল তথ্য দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের তদন্ত ও স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, রাহেনা আক্তারের এর আগে ২টি বিয়ে হয়েছে। ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে মানুষকে হয়রানির অভিযোগেরও সত্যতা পাওয়া গেছে।

তবে পুলিশি অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর আরো অনেক তথ্য বেরিয়ে এসেছে। জানা যায়, ওই তরুণী মূলত একজন পেশাদার প্রতারক। ধনী যুবকদের টার্গেট করে প্রেমের ফাঁদে ফেলে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়াই তার মূল পেশা। তার প্রকৃত নাম: রাহেনা আক্তার, পিতা: নুরুল আলম, বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, উপজেলার উত্তর পায়ুং গ্রামের বাসিন্দা।

বিভিন্ন সময় ভিন্ন নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করে তিনি এ পর্যন্ত অন্তত আরো কয়েকজন যুবকের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। ইতিপূর্বে তিনি একাধিকবার বিয়েও করেছেন এবং ধনী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করাই তার কৌশল ছিল।

গ্রেপ্তার রাহেনা গত শনিবার থেকে রামগঞ্জ উপজেলার ৫ নম্বর চণ্ডীপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের উদ্য পাটোয়ারী বাড়িতে কাতার প্রবাসী ইমন হোসেনের বাড়ির সামনে অবস্থান নেন। তার দাবি ছিল, ইমন হোসেনের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরে ইমন তা থেকে সরে গেছেন।

রাহেনার আরও দাবি করে, কাতারে থাকা অবস্থায় ইমন হোসেন মোবাইল ফোনে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান এবং রমজান মাসে দেশে এসে তাকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু দেশে এসেও তাকে বিয়ে না করে ইমন আবার কাতারে চলে যান।

অনশনের সময় ইমন তাকে বিয়ে না করলে আত্মহত্যা করতে পারেন বলেও হুমকি দেন। এর আগেও ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলে তিনি দাবি করেন।

তবে কাতারপ্রবাসী ইমন হোসেন একাধিক ভিডিও বার্তায় রাহেনা আক্তারের সঙ্গে তার কোনো প্রেমের সম্পর্ক বা অন্য কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ওই নারীর অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

ভিডিওবার্তায় ইমন হোসেন আরও দাবি করেন, তার পরিবারকে হয়রানি ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশে রাহেনা আক্তার বারবার তার বাড়িতে এসে অনশনের নাটক করছেন। এ ঘটনায় রাহেনা আক্তারকে গ্রেপ্তার করায় তিনি রামগঞ্জ থানা পুলিশকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

এর আগে ইমন হোসেনের মা বলেন, তার ছেলের সঙ্গে রাহেনার কোনো প্রেমের সম্পর্ক নেই। প্রবাসে অবস্থানকালে কিছু দিন মোবাইল ফোনে কথা বলার সূত্র ধরে ওই নারী তাদের পরিবারকে হয়রানি করছে।

ইমনের মা আরও বলেন, এর আগেও কয়েকবার রাহেনা আক্তার তাদের বাড়িতে এসে একইভাবে অবস্থান নিয়েছে। এতে পরিবার ও এলাকার মানুষের মধ্যে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

রামগঞ্জ থানা পুলিশ জানিয়েছে, এর আগেও রাহেনা একই বাড়িতে এসে অনশনে বসেছিল। ওই সময় সে পুলিশকে নিজের নাম-পরিচয় ও ঠিকানা সম্পর্কে যে তথ্য দিয়েছিল তা যাচাই করে সঠিক পাওয়া যায়নি।

রামগঞ্জ থানার ওসি ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, তাকে বারবার বুঝিয়েও সঠিক নাম-ঠিকানা পাওয়া যায়নি। সে যে নাম-ঠিকানা দিয়েছিল তা ফেনীর ছাগলনাইয়া থানা পুলিশের মাধ্যমে যাচাই করা হলেও সঠিক পাওয়া যায়নি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আগের ঘটনায় তাকে থানা হেফাজতে নেওয়ার পর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছিল। পরে আদালত তাকে নিজ জিম্মায় ছেড়ে দেন। সবশেষ কাতার প্রবাসী ইমন হোসেনকে বিয়ের দাবিতে টানা ৫ দিন অনশনে থাকার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ রাহেনা আক্তারকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ভিক্ষা করায় সৌদিতে বাংলাদেশি ও ভারতীয় গ্রেপ্তার

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ২১, ২০২৬
ভিক্ষা করায় সৌদিতে বাংলাদেশি ও ভারতীয় গ্রেপ্তার

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ভিক্ষাবৃত্তির অভিযোগে চার বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা বাংলাদেশ ও ভারতের নাগরিক বলে জানিয়েছে সৌদি সংবাদমাধ্যম আল-সাবক।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রিয়াদ অঞ্চলে ভিক্ষা করার সময় ওই চারজনকে আটক করে নিরাপত্তা বাহিনী। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশি ও ভারতীয় নাগরিকের সংখ্যা কত, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

সৌদি পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেশটিতে ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চলমান উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

এদিকে সৌদি আরবের নিরাপত্তা বাহিনী সাধারণ মানুষকে অনুমোদিত মাধ্যম ব্যবহার করে দান-খয়রাত করার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, নির্ধারিত ও বৈধ ব্যবস্থার মাধ্যমে সহায়তা দেওয়া হলে প্রকৃত অভাবী মানুষের কাছে অর্থ পৌঁছানো সহজ হবে। একই সঙ্গে ভিক্ষাবৃত্তির মতো অবৈধ কর্মকাণ্ডও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, সমাজের সর্বস্তরে সব ধরনের ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধ করা এবং প্রকৃত অসচ্ছল ব্যক্তিদের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়াই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতায় তেহরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির

রাজমিস্ত্রির হাত ধরে উধাও প্রবাসীর স্ত্রী

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
রাজমিস্ত্রির হাত ধরে উধাও প্রবাসীর স্ত্রী

জীবিকার তাগিদে সুদূর দুবাইয়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন। স্বপ্ন ছিল, প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করে সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়বেন, স্ত্রীকে নিয়ে সুখের সংসার সাজাবেন। কিন্তু সেই স্বপ্নের সংসার ঘিরেই এবার দেখা দিয়েছে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ।

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার কামুল্ল্যা গ্রামের প্রবাসী শাকিল হোসেন ওরফে কাবিলের স্ত্রী লাভলী খাতুনের বিরুদ্ধে দুই সন্তানকে বাড়িতে রেখে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

পরিবারের অভিযোগ, গত ১৩ অক্টোবর গভীর রাতে একই গ্রামের আজিজুলের সঙ্গে চলে যান লাভলী খাতুন। এ সময় বাড়ি থেকে নগদ পাঁচ লাখ টাকা, পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান সম্পদ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২০ বছর আগে শাকিল হোসেন ওরফে কাবিলের সঙ্গে লাভলী খাতুনের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে রয়েছে দুই ছেলে সন্তান।

পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ও সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যতের আশায় দীর্ঘদিন ধরে দুবাইয়ে কাজ করছেন কাবিল। পরিবারের সদস্যদের দাবি, প্রবাসে থেকে কষ্টার্জিত অর্থ পাঠিয়ে সংসার পরিচালনা ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। তবে সাম্প্রতিক এ ঘটনায় পরিবারটি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, একই গ্রামের ইরফান হোসেনের ছেলে আজিজুল পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি।

দীর্ঘদিন ধরে কাবিলের বাড়িতে নির্মাণকাজ করার সুবাদে লাভলী খাতুনের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে দাবি পরিবারের সদস্যদের। তাঁদের আরও দাবি, বিষয়টি জানার পর কাবিল ও তাঁর দুই সন্তান লাভলী খাতুনকে ওই সম্পর্ক থেকে সরে আসার অনুরোধ করেছিলেন।

কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, এরপরও তাঁদের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত ছিল। পরিবারের অভিযোগ, গত ১৩ অক্টোবর গভীর রাতে দুই সন্তানকে বাড়িতে রেখে লাভলী খাতুন আজিজুলের সঙ্গে চলে যান।

এ সময় নগদ পাঁচ লাখ টাকা, পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার ও বাড়িতে থাকা মূল্যবান সম্পদ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এদিকে, আজিজুলের সংসারেও এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে আজিজুলের স্ত্রীর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি, তিনি গণমাধ্যমে কথা বলতে রাজি হননি।

ঘটনার পর দুই সন্তানকে ঘিরে তৈরি হয়েছে পারিবারিক অনিশ্চয়তা। কাবিলের ছেলেরা জানান তারা বর্তমানে মায়ের কাছে ফিরতে চায় না। তাদের চাওয়া, বাবার কষ্টার্জিত টাকা, স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক। দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখা কাবিলের সংসারে এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা।

এ ঘটনায় নন্দীগ্রাম থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বলে জানা গেছে।

বেড়া দিয়ে প্রবাসী স্ত্রীর বাড়িকে ‘কবরস্থান ঘোষণা’

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
বেড়া দিয়ে প্রবাসী স্ত্রীর বাড়িকে ‘কবরস্থান ঘোষণা’

চাঁদপুরের মতলব উত্তরের সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের গাজিরগাছখোলা গ্রামে সৌদি আরবপ্রবাসী মামুন মোল্লার বসতবাড়িতে প্রবেশের পথে বাঁশের বেড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জামায়াত নেতা ও ছেংগারচর পৌরসভার মেয়র প্রার্থী আবদুল হাই শিকদারের বিরুদ্ধে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে এ ঘটনার প্রতিবাদে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছেন।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বাড়িতে যাতায়াতের পথ উন্মুক্ত রাখা এবং স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, বাড়ির প্রবেশমুখে বাঁশের বেড়া দেওয়ায় পরিবারের সদস্যরা অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। বিশেষ করে স্কুলপড়ুয়া সন্তানদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

প্রবাসী মামুন মোল্লার স্ত্রী আঁখি আক্তার অভিযোগ করেন, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে থাকেন। অনেক কষ্টে উপার্জিত অর্থ দিয়ে তারা বাড়িটি নির্মাণ করেছেন। বাড়িতে প্রবেশের জন্য গেট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার সময় প্রবেশমুখে বাঁশের বেড়া দিয়ে পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে পরিবারের সদস্যরা বিপাকে পড়েছেন।

তিনি আরও বলেন, আমাদের বাড়িতে কোনো পুরুষ মানুষ নেই। বেড়া দেওয়ার কারণে ছেলে সাইকেল নিয়ে বের হতে পারছে না। স্কুলে যেতে তাকে প্রায় দুই কিলোমিটার পথ হেঁটে পাড়ি দিতে হচ্ছে।

মামুন মোল্লার সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে আশরাফুল জানায়, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বাড়ির সামনে বেড়া দেওয়ায় সাইকেল নিয়ে বের হতে পারছে না সে। স্কুল ও কোচিংয়ে যাতায়াতেও সমস্যা হচ্ছে। বাধ্য হয়ে তাকে প্রায় দুই কিলোমিটার পথ হেঁটে স্কুলে যেতে হচ্ছে।

অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে আবদুল হাই শিকদার বলেন, জমি আমার। এখানে কবরস্থান রয়েছে। কবরস্থানের নিরাপত্তার জন্য বেড়া দিয়েছি।

এ বিষয়ে মতলব উত্তর থানার (ওসি) মানস বড়ুয়া জানান, বিষয়টি সম্পর্কে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দেখা হবে। জমির মালিকানা ও চলাচলের পথ নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে আইনিভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। কেউ আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটালে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্যারিসে লুটপাটে বাংলাদেশি আট দোকান ক্ষতিগ্রস্ত

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
প্যারিসে লুটপাটে বাংলাদেশি আট দোকান ক্ষতিগ্রস্ত

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সংঘটিত লুটপাটে বাংলাদেশি মালিকানাধীন অন্তত আটটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এসব প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগই মোবাইল ফোন বিক্রি ও অর্থ স্থানান্তরের (মানি ট্রান্সফার) সেবা দিতো। প্রাথমিক হিসাবে, প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৭ লাখ ইউরো ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। তবে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি।

ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো জিএসআর ইনফোরমেটিক, থ্রি-জি ইনফরমেটিক, প্যারিস টেলিকম, আয়মান সার্ভিস, থ্রি-ডি ইনফোরমেটিক, ফোন স্টোর, বদি টেলিকম ও রাফিদ ইলেকট্রনিকস। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, এসব দোকান থেকে মোবাইল ফোন, অন্যান্য পণ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ লুট করা হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন, দোকান বন্ধ রাখা এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে পাহারার ব্যবস্থা করেও লুটপাট ঠেকানো সম্ভব হয়নি। জরুরি পরিস্থিতিতে পুলিশকে ফোন করেও তাৎক্ষণিক সহায়তা পাননি বলে দাবি তাঁদের। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দুই দোকানে ক্ষতি ১ লাখ ৮০ হাজার ইউরো

ক্ষতিগ্রস্ত রাফিদ ইলেকট্রনিকসের স্বত্বাধিকারী রবিউল হাসান জানান, তাঁর দোকানে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ইউরো মূল্যের পণ্যসামগ্রী ছিল। দোকান তালাবদ্ধ থাকা অবস্থায় সেগুলো লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রবিউল হাসান বলেন, আমার প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ইউরোর পণ্যসামগ্রী দোকানে ছিলো। এখন ব্যবসা আবার শুরু করার মতো সম্বল নেই।

ব্যবসায়ী আজিম উদ্দিনের ফোন স্টোর ও বদি টেলিকমেও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। তার দাবি, দুই প্রতিষ্ঠানে মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার ইউরোর ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে একটি দোকান মাত্র তিন মাস আগে চালু করেছিলেন তিনি।

আজিম উদ্দিন বলেন, দুটি দোকান থেকেই পণ্যসামগ্রী লুট করা হয়েছে। একটি প্রতিষ্ঠানে রিয়া মানি ট্রান্সফারের কাউন্টারে প্রায় ৩০ হাজার ইউরো নগদ অর্থ ছিলো বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, ঘটনার সময় পুলিশকে একাধিকবার ফোন করেও সহায়তা পাননি।

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

প্যারিসের সামাজিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আইসার সভাপতি ওবায়দুল্লাহ কয়েছের অভিযোগ, বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র বাংলাদেশি মালিকানাধীন মোবাইল ফোন ও মানি ট্রান্সফারের দোকানগুলোতে লুটপাট চালিয়েছে।

তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা প্রবাসী ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তার আশঙ্কা, সহিংসতার ঘটনাগুলো ফ্রান্সে অভিবাসনবিরোধী রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে বাংলাদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিলো কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মোবাইল ফোন ও মানি ট্রান্সফার ব্যবসায়ী মুহিবুর রহমান বলেন, পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় অনেক ব্যবসায়ী নিজেদের প্রতিষ্ঠান রক্ষায় ব্যক্তিগতভাবে পাহারার ব্যবস্থা করেছিলেন। তারপরও বিভিন্ন স্থানে লুটপাট ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়ে।

ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকলে তাদের বিনিয়োগ, জীবিকা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম ঝুঁকির মুখে পড়বে।

বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতা

প্রতিবেদনে দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ অক্টোবর ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির উচ্চমূল্য, ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস এবং সরকারি সেবার মান নিয়ে অসন্তোষের প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়। শ্রমিক ও শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে মজুরি, পেনশন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিস্থিতি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে উদ্ধৃত প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে দেশজুড়ে ১১০টি বিক্ষোভ কর্মসূচিতে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নেন। আয়োজক সংগঠনগুলোর দাবি ছিল, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় ৮ লাখ। বিক্ষোভের বেশির ভাগ শান্তিপূর্ণ থাকলেও প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও দোকানপাটে লুটপাটের ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ এবং পুলিশের ভূমিকা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানা যাবে।

অভিমান করে ছাদ থেকে ঝাঁপ দিলেন প্রবাসীর স্ত্রী

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
অভিমান করে ছাদ থেকে ঝাঁপ দিলেন প্রবাসীর স্ত্রী

মাদারীপুরের কালকিনিতে মায়ের সঙ্গে অভিমান করে তিনতলা ভবনের ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে মিম আক্তার (১৮) নামে এক প্রবাসীর স্ত্রী আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে।

রোববার ভোরে উপজেলার মিয়ারহাট বাজারের আনসার উদ্দিন মৃধার বাড়ির তিনতলা ভবনের ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে ওই প্রবাসীর স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত গৃহবধূ মিম আক্তার খুনেরচর গ্রামের প্রবাসী রাশেদ সরদারের স্ত্রী। ভুক্তভোগীর পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসীর স্ত্রী মিম আক্তার অল্প কিছুদিন ধরে তার বাবা-মাকে নিয়ে মিয়ারহাট বাজারের আনসার উদ্দিন মৃধার বাড়ির দুইতলায় ভাড়া থাকতেন।

বেড়া দিয়ে প্রবাসী স্ত্রীর বাড়িকে ‘কবরস্থান ঘোষণা’

কিন্তু পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে তার মায়ের সঙ্গে অভিমান করে ওই ভাড়া বাড়ির তিনতলা ভবনের ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে মাটিতে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে কালকিনি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মিম আক্তারের মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে কালকিনি থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। নিহতের বাবা আলামিন খান বলেন, কী কারণে আমার মেয়ে মারা গেছে- তা এখন বলতে পারছি না।

এ ব্যাপারে কালকিনি থানার ওসি জহিরুল আলম জানান, খবর পেয়ে আমি পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছে। কী কারণে ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন- তা সঠিকভাবে বলতে পারব না। আমরা জেনেছি মিম আক্তারের অল্প কিছুদিন আগে বিয়ে হয়েছে। স্বামী বিদেশ আছেন।

ভিডিওতে প্রেমিককে দায়ী করে প্রবাসীর স্ত্রীর আত্মহত্যা

রিয়াদে কাভার্ড ভ্যানের আগুনে পুড়ে প্রাণ হারালেন প্রবাসী

কিং খালিদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রবাসীর মৃত্যু: দেশে শোকের ছায়া