৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কাতার প্রবাসীর বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশন করা তরুণীকে গ্রেফতার

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
কাতার প্রবাসীর বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশন করা তরুণীকে গ্রেফতার

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে কাতার প্রবাসী এক যুবককে বিয়ের দাবিতে তার বাড়ির সামনে টানা ৬ দিন অনশন করার পর রাহেনা আক্তার (২৪) নামে এক তরুণীকে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দিবাগত ৩টায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশের তদন্তে তার প্রকৃত নাম রাহেনা আক্তার (২৪) বলে জানা গেছে। এর আগে তিনি নিজের নাম ফাতেমা আক্তার ও ঠিকানা সম্পর্কে ভুল তথ্য দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের তদন্ত ও স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, রাহেনা আক্তারের এর আগে ২টি বিয়ে হয়েছে। ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে মানুষকে হয়রানির অভিযোগেরও সত্যতা পাওয়া গেছে।

তবে পুলিশি অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর আরো অনেক তথ্য বেরিয়ে এসেছে। জানা যায়, ওই তরুণী মূলত একজন পেশাদার প্রতারক। ধনী যুবকদের টার্গেট করে প্রেমের ফাঁদে ফেলে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়াই তার মূল পেশা। তার প্রকৃত নাম: রাহেনা আক্তার, পিতা: নুরুল আলম, বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, উপজেলার উত্তর পায়ুং গ্রামের বাসিন্দা।

বিভিন্ন সময় ভিন্ন নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করে তিনি এ পর্যন্ত অন্তত আরো কয়েকজন যুবকের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। ইতিপূর্বে তিনি একাধিকবার বিয়েও করেছেন এবং ধনী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করাই তার কৌশল ছিল।

গ্রেপ্তার রাহেনা গত শনিবার থেকে রামগঞ্জ উপজেলার ৫ নম্বর চণ্ডীপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের উদ্য পাটোয়ারী বাড়িতে কাতার প্রবাসী ইমন হোসেনের বাড়ির সামনে অবস্থান নেন। তার দাবি ছিল, ইমন হোসেনের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরে ইমন তা থেকে সরে গেছেন।

রাহেনার আরও দাবি করে, কাতারে থাকা অবস্থায় ইমন হোসেন মোবাইল ফোনে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান এবং রমজান মাসে দেশে এসে তাকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু দেশে এসেও তাকে বিয়ে না করে ইমন আবার কাতারে চলে যান।

অনশনের সময় ইমন তাকে বিয়ে না করলে আত্মহত্যা করতে পারেন বলেও হুমকি দেন। এর আগেও ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলে তিনি দাবি করেন।

তবে কাতারপ্রবাসী ইমন হোসেন একাধিক ভিডিও বার্তায় রাহেনা আক্তারের সঙ্গে তার কোনো প্রেমের সম্পর্ক বা অন্য কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ওই নারীর অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

ভিডিওবার্তায় ইমন হোসেন আরও দাবি করেন, তার পরিবারকে হয়রানি ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশে রাহেনা আক্তার বারবার তার বাড়িতে এসে অনশনের নাটক করছেন। এ ঘটনায় রাহেনা আক্তারকে গ্রেপ্তার করায় তিনি রামগঞ্জ থানা পুলিশকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

এর আগে ইমন হোসেনের মা বলেন, তার ছেলের সঙ্গে রাহেনার কোনো প্রেমের সম্পর্ক নেই। প্রবাসে অবস্থানকালে কিছু দিন মোবাইল ফোনে কথা বলার সূত্র ধরে ওই নারী তাদের পরিবারকে হয়রানি করছে।

ইমনের মা আরও বলেন, এর আগেও কয়েকবার রাহেনা আক্তার তাদের বাড়িতে এসে একইভাবে অবস্থান নিয়েছে। এতে পরিবার ও এলাকার মানুষের মধ্যে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

রামগঞ্জ থানা পুলিশ জানিয়েছে, এর আগেও রাহেনা একই বাড়িতে এসে অনশনে বসেছিল। ওই সময় সে পুলিশকে নিজের নাম-পরিচয় ও ঠিকানা সম্পর্কে যে তথ্য দিয়েছিল তা যাচাই করে সঠিক পাওয়া যায়নি।

রামগঞ্জ থানার ওসি ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, তাকে বারবার বুঝিয়েও সঠিক নাম-ঠিকানা পাওয়া যায়নি। সে যে নাম-ঠিকানা দিয়েছিল তা ফেনীর ছাগলনাইয়া থানা পুলিশের মাধ্যমে যাচাই করা হলেও সঠিক পাওয়া যায়নি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আগের ঘটনায় তাকে থানা হেফাজতে নেওয়ার পর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছিল। পরে আদালত তাকে নিজ জিম্মায় ছেড়ে দেন। সবশেষ কাতার প্রবাসী ইমন হোসেনকে বিয়ের দাবিতে টানা ৫ দিন অনশনে থাকার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ রাহেনা আক্তারকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

কাতার প্রবাসীর বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশন করা তরুণীকে গ্রেফতার

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
কাতার প্রবাসীর বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশন করা তরুণীকে গ্রেফতার

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে কাতার প্রবাসী এক যুবককে বিয়ের দাবিতে তার বাড়ির সামনে টানা ৬ দিন অনশন করার পর রাহেনা আক্তার (২৪) নামে এক তরুণীকে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দিবাগত ৩টায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশের তদন্তে তার প্রকৃত নাম রাহেনা আক্তার (২৪) বলে জানা গেছে। এর আগে তিনি নিজের নাম ফাতেমা আক্তার ও ঠিকানা সম্পর্কে ভুল তথ্য দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের তদন্ত ও স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, রাহেনা আক্তারের এর আগে ২টি বিয়ে হয়েছে। ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে মানুষকে হয়রানির অভিযোগেরও সত্যতা পাওয়া গেছে।

তবে পুলিশি অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর আরো অনেক তথ্য বেরিয়ে এসেছে। জানা যায়, ওই তরুণী মূলত একজন পেশাদার প্রতারক। ধনী যুবকদের টার্গেট করে প্রেমের ফাঁদে ফেলে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়াই তার মূল পেশা। তার প্রকৃত নাম: রাহেনা আক্তার, পিতা: নুরুল আলম, বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, উপজেলার উত্তর পায়ুং গ্রামের বাসিন্দা।

বিভিন্ন সময় ভিন্ন নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করে তিনি এ পর্যন্ত অন্তত আরো কয়েকজন যুবকের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। ইতিপূর্বে তিনি একাধিকবার বিয়েও করেছেন এবং ধনী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করাই তার কৌশল ছিল।

গ্রেপ্তার রাহেনা গত শনিবার থেকে রামগঞ্জ উপজেলার ৫ নম্বর চণ্ডীপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের উদ্য পাটোয়ারী বাড়িতে কাতার প্রবাসী ইমন হোসেনের বাড়ির সামনে অবস্থান নেন। তার দাবি ছিল, ইমন হোসেনের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরে ইমন তা থেকে সরে গেছেন।

রাহেনার আরও দাবি করে, কাতারে থাকা অবস্থায় ইমন হোসেন মোবাইল ফোনে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান এবং রমজান মাসে দেশে এসে তাকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু দেশে এসেও তাকে বিয়ে না করে ইমন আবার কাতারে চলে যান।

অনশনের সময় ইমন তাকে বিয়ে না করলে আত্মহত্যা করতে পারেন বলেও হুমকি দেন। এর আগেও ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলে তিনি দাবি করেন।

তবে কাতারপ্রবাসী ইমন হোসেন একাধিক ভিডিও বার্তায় রাহেনা আক্তারের সঙ্গে তার কোনো প্রেমের সম্পর্ক বা অন্য কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ওই নারীর অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

ভিডিওবার্তায় ইমন হোসেন আরও দাবি করেন, তার পরিবারকে হয়রানি ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশে রাহেনা আক্তার বারবার তার বাড়িতে এসে অনশনের নাটক করছেন। এ ঘটনায় রাহেনা আক্তারকে গ্রেপ্তার করায় তিনি রামগঞ্জ থানা পুলিশকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

এর আগে ইমন হোসেনের মা বলেন, তার ছেলের সঙ্গে রাহেনার কোনো প্রেমের সম্পর্ক নেই। প্রবাসে অবস্থানকালে কিছু দিন মোবাইল ফোনে কথা বলার সূত্র ধরে ওই নারী তাদের পরিবারকে হয়রানি করছে।

ইমনের মা আরও বলেন, এর আগেও কয়েকবার রাহেনা আক্তার তাদের বাড়িতে এসে একইভাবে অবস্থান নিয়েছে। এতে পরিবার ও এলাকার মানুষের মধ্যে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

রামগঞ্জ থানা পুলিশ জানিয়েছে, এর আগেও রাহেনা একই বাড়িতে এসে অনশনে বসেছিল। ওই সময় সে পুলিশকে নিজের নাম-পরিচয় ও ঠিকানা সম্পর্কে যে তথ্য দিয়েছিল তা যাচাই করে সঠিক পাওয়া যায়নি।

রামগঞ্জ থানার ওসি ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, তাকে বারবার বুঝিয়েও সঠিক নাম-ঠিকানা পাওয়া যায়নি। সে যে নাম-ঠিকানা দিয়েছিল তা ফেনীর ছাগলনাইয়া থানা পুলিশের মাধ্যমে যাচাই করা হলেও সঠিক পাওয়া যায়নি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আগের ঘটনায় তাকে থানা হেফাজতে নেওয়ার পর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছিল। পরে আদালত তাকে নিজ জিম্মায় ছেড়ে দেন। সবশেষ কাতার প্রবাসী ইমন হোসেনকে বিয়ের দাবিতে টানা ৫ দিন অনশনে থাকার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ রাহেনা আক্তারকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সৌদি আরবে প্রবাসীর রহস্যজনক মৃত্যু: ৩ দিন ধরে ঘরে পড়েছিল মরদেহ

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
সৌদি আরবে প্রবাসীর রহস্যজনক মৃত্যু: ৩ দিন ধরে ঘরে পড়েছিল মরদেহ

সৌদি আরবে আবহা শহরে সোহাগ রানা (৪২) নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর পর টানা তিন দিন তার মরদেহ নিজ শয়ন কক্ষে পড়ে ছিল। খবর পেয়ে ওই সৌদি পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করেছে বলে ভাষ্য তার পরিবারের।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে মৃত সোহাগের পরিবার গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে। এরআগে বৃহস্পতিবার বিকেলে সৌদি আরবে আবহা শহরের বাসা থেকে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।

মৃত সোহাগ রানা নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের হাফেজ উল্যাহ মিয়ার বাড়ীর বশির উল্যাহর ছেলে। তিনি দুই কন্যা সন্তানের জনক ছিলেন।

মৃত সোহাগের মামাতো ভাই সৌদি প্রবাসী সৈয়দ রিগান জানান, সোহাগ ৭ বছরের বেশি সময় ধরে সৌদিতে আছেন। এর আগে তিনি দুবাইতে ছিলেন। এখানে আসায় পর গত কয়েকমাস তার আকামা ছিল না, পাসপোর্টের মেয়াদও শেষ। কিছুদিন ধরে অনেক চেষ্টা করছিলেন তা নবায়ন করতে। এনিয়ে হতাশায় ভুগছিলেন সোহাগ।

তিনি আরও জানান, গত সোমবার থেকে তিনি তার কর্মস্থলের দোকানে যাননি। প্রথম দিন তাকে দোকানে না দেখে অন্য সহকর্মীরা ভেবে ছিলেন তিনি অসুস্থ। দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনও না যাওয়ায় কফিলকে বিষয়টি জানালে তিনিসহ অন্যরা বাসায় গিয়ে দেখেন ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করা।

পরে অনেক ডাকাডাকির পর ভিতর থেকে কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে দরজা ভেঙে তারা সোহাগের মরদেহ রুমে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকদের ধারণা অতিরিক্ত চিন্তা থেকে স্ট্রোকে সোহাগের মৃত্যু হয়েছে।

সোহাগ রানার মরদেহ দেশে আনতে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতা কামনা করেছেন তার পরিবার।

প্রবাসী রুবেলের মৃত্যু, মরদেহ আনতে দালালের ৬ লাখ টাকা দাবি

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
প্রবাসী রুবেলের মৃত্যু, মরদেহ আনতে দালালের ৬ লাখ টাকা দাবি

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের ভবানী পুর নামাপাড়া গ্রামের প্রবাসী রুবেল মিয়া (২৪) কম্বোডিয়ায় মারা গেছেন। তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে দালাল ৭ লাখ টাকা দাবি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫ টার দিকে অসুস্থ হয়ে পড়লে দেশটির পোচেনটং রেফারেল হাসপাতালে মারা যান তিনি।

রুবেলের পরিবারের অভিযোগ, রুবেল মিয়া ৫ লাখ টাকা দালাল কামরুল ইসলামকে দিয়ে দেড় বছর আগে কম্বোডিয়া যান। সেখানে যাওয়ার পর পাসপোর্ট জোর করে নিয়ে যাওয়ায় এতদিন অবৈধভাবে জীবনযাপন করছিলেন তিনি। এরমধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়লে পোচেনটং রেফারেল হাসপাতালে মারা যান তিনি। রুবেলের মরদেহ দেশে আনতে এখন ৬ লাখ দাবি করছেন দালাল কামরুল।

দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এত টাকা দিয়ে মরদেহ আনা সম্ভব নয় বলে প্রবাসী রুবেলের বাড়িতে বিলাপ চলছে। ছেলের মুখখানা শেষবারের মত দেখতে বৃদ্ধ পিতা-মাতা সরকারের কাছে আকুতি জানিয়েছেন।

এলাকাবাসী ও রুবেলের পরিবার জানায়, জমি বিক্রি করে দালাল কামরুলকে ৫ লাখ টাকা দিয়ে কম্বোডিয়া গিয়েছিল। কিন্তু দেড় বছর কাজকর্ম না দিয়ে পাসপোর্ট নিয়ে যাওয়ায় অবৈধভাবে বসবাস করে আসছিলেন রুবেল। এমনকি, বাড়ি থেকে টাকা পাঠালে সেই টাকা দিয়ে খাবার খেত।

রুবেলের সঙ্গে স্থানীয় আরও ৪ যুবক অবৈধভাবে তাবু টানিয়ে বসবাস করছিল। রাতে তাবুতেই রুবেল অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার সঙ্গে থাকা স্থানীয় যুবক মিনহাজ রুবেলের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

রুবেলের কৃষক বারা সামু মিয়া ফকির বলেন, ‘সংসারে স্বচ্ছলতা আনতে জমি বিক্রি করে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়ে ছিলাম। দেড় বছরে এক টাকাও সে বাড়িতে পাঠাতে পারেনি। উল্টো বাড়ি থেকে টাকা পাঠালে খাবার পেত।’

তিনি আরও বলেন, ‘৬০ হাজার টাকা পাঠালে দেশে আসার আকুতির কথা ছেলে জানিয়েছিল কিন্ত দিতে পারি নাই। এখন ছেলের লাশ দেশে আনতে দালাল কামরুল ৬ লাখ টাকা চান।’

মিয়া ফকির বলেন, ‘আমি গরীর মানুষ এত টাকা আমি কেমনে দিমু।’

রুবেলের মা মিনারা খাতুন বলেন, ‘ভিসা না দিয়ে আমার ছেলের পাসপোর্ট নিয়ে গিয়েছিল দালাল। অবৈধভাবে বসবাস করে মানসিক যন্ত্রনায় তার মৃত্যু হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি আমার ছেলের মুখ দেখে মরতে চাই।’

কলকাতা ভ্রমণে বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
কলকাতা ভ্রমণে বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা

পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার নিউমার্কেটে একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর তিন শতাধিক আবাসিক হোটেল ও রেস্তোরাঁ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এতে শহরজুড়ে হঠাৎ তীব্র আবাসন সংকট তৈরি হয়েছে, ফলে সেখানে অবস্থানরত এবং বাংলাদেশ থেকে যাওয়া পর্যটকেরা চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশিদের বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়, কলকাতায় গত ১৯ আগস্ট সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডের পরবর্তী সময়ে স্থানীয় প্রশাসন কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে সৃষ্ট পরিস্থিতি বিবেচনায় চিকিৎসা বা অন্যান্য কারণে বাংলাদেশ থেকে কলকাতা ভ্রমণকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের অনভিপ্রেত পরিস্থিতি এড়িয়ে চলতে নিম্নলিখিত নির্দেশনা অনুসরণের অনুরোধ জানানো যাচ্ছে।

কলকাতায় আগমনের আগে সংশ্লিষ্ট হোটেলের বুকিং নিশ্চিত করে এবং হোটেলটির বর্তমান কার্যক্রম, কক্ষের প্রাপ্যতা ও অবস্থান সম্পর্কে যথাযথভাবে অবগত হয়ে ভ্রমণ করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।

চিকিৎসার উদ্দেশ্যে আগত রোগীর সফরসঙ্গীদের কলকাতায় আসার আগেই হোটেল বুকিং নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট হোটেলের কক্ষের প্রাপ্যতা, বুকিংয়ের বৈধতা, হোটেল থেকে হাসপাতালের দূরত্ব এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে কলকাতায় আগমনের আগেই নিশ্চিত হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, কলকাতায় সাম্প্রতিক সময়ে সংগঠিত মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের পর স্থানীয় প্রশাসন ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য দুর্ঘটনাপ্রবণ আবাসিক হোটেল, রেস্তোরাঁগুলো সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করেছে। স্থানীয় নিরাপত্তা বিধি ও অন্যান্য নিয়ম কানুন মেনে ওই হোটেলগুলো পুনরায় চালু হতে মাসখানেকের বেশি সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

এই পরিস্থিতিতে কলকাতায় এসে আবাসনের সমস্যায় পড়া এড়াতে অগ্রিম হোটেল বুকিং নিশ্চিত না করে ভ্রমণ না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হচ্ছে।

প্রবাসীর বাড়িতে বোমা বিস্ফোরণে আহত দুই, আটক ১

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
প্রবাসীর বাড়িতে বোমা বিস্ফোরণে আহত দুই, আটক ১

মাদারীপুরে এক ইতালি প্রবাসীর বসতবাড়িতে হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২ জন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে সদর উপজেলার পেয়ারপুর ইউনিয়নের পশ্চিম পেয়ারপুর গ্রামের ইতালি প্রবাসী রাজ্জাক মোল্লার বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।

আটক সালাউদ্দিন গাজী সদর উপজেলার মধ্য পেয়ারপুর গ্রামের মাফেজ গাজীর ছেলে। সে সম্পর্কে ইতালি প্রবাসীর খালাতো ভাই।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ইতালি প্রবাসী রাজ্জাক মোল্লার বাড়ির পেছনের কক্ষে ভোররাতে হঠাৎ হাতবোমা বিস্ফোরণ হয়। এতে আহত হন অন্তত দুইজন।

এ সময় টিনশেড ঘরের বেড়া উড়ে যায়। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে আশপাশে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে রাজ্জাক মোল্লার খালাতো ভাই সালাউদ্দিন গাজীকে আটক করে পুলিশ। পাশাপাশি পুলিশ বিস্ফোরণের আলামত সংগ্রহও করে।

পুলিশের ধারণা, ইতালি প্রবাসীর ঘরে বসে হাতবোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনায় জড়িতদের ধরতে এরমধ্যে মাঠে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, খবর পেয়ে সদর মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনায় জড়িতদের ধরতে মাঠে নেমেছে একাধিক টিম।

তিনি বলেন, আটক সালাউদ্দিন গাজীকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে আহতরা গ্রেফতার আতঙ্কে এখনো সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হননি।