৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৬ দেশের বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য বাউবির এসএসসি প্রোগ্রাম

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
৬ দেশের বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য বাউবির এসএসসি প্রোগ্রাম

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপেন স্কুল পরিচালিত বহিঃবাংলাদেশ (নিশ-২) এসএসসি প্রোগ্রামে ২০২৭-২০২৮ শিক্ষাবর্ষে (২০২৭ ব্যাচ) শিক্ষার্থী ভর্তির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, ওমান, ইতালি ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত বা বসবাসরত বৈধ বাংলাদেশি প্রবাসী বা অভিবাসী কিংবা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আগ্রহী ব্যক্তিদের সেই দেশের বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে ভর্তি করা হবে।

ভর্তির যোগ্যতা—

মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা দুটি শাখায় ভর্তি করা হবে। আবেদনকারীকে অবশ্যই জেএসসি/জেডিসি/অষ্টম শ্রেণি বা সরকার স্বীকৃত সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সৌদি আরব/কাতার/কুয়েত/ওমান/ইতালি/সংযুক্ত আরব আমিরাতের বৈধ অভিবাসী কিংবা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হতে হবে। উল্লেখ্য যে ৩১ ডিসেম্বর ১৯৯৭ সালের পরে প্রদত্ত জন্মতারিখের ক্ষেত্রে জেএসসি/জেডিসি বা সমমানের সনদ প্রদান করতে হবে।

ভর্তির বিস্তারিত সময়—

ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদনের তারিখ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত।

আবেদন ফি জমা দিতে হবে: ৬১০ টাকা।

ভর্তি ফি জমাদান: ২৭ অক্টোবর থেকে

৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

যোগাযোগ—

১. বাংলাদেশ দূতাবাস: সৌদি আরব/কাতার/কুয়েত/ওমান/ইতালি/সংযুক্ত আরব আমিরাত।

২. ডিন, ওপেন স্কুল, বাউবি: [email protected]

৩. ইন্টারন্যাশনাল একাডেমিক প্রোগ্রাম উইং, বাউবি: https://[email protected]

# বিস্তারিত তথ্য জানতে ওয়েবসাইট: www.bou.ac.bd

কাতার ও উজবেকিস্তানের ঐতিহাসিক ৫ বছরের সাংস্কৃতিক চুক্তি স্বাক্ষর

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
কাতার ও উজবেকিস্তানের ঐতিহাসিক ৫ বছরের সাংস্কৃতিক চুক্তি স্বাক্ষর

কাতার ও উজবেকিস্তানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পাঁচ বছর মেয়াদী একটি ঐতিহাসিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। কাতার মিউজিয়ামস (QM) এবং উজবেকিস্তানের আর্ট অ্যান্ড কালচার ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (ACDF)-এর মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এতদিন দুই দেশের মধ্যকার সাংস্কৃতিক যোগাযোগ মূলত বিচ্ছিন্ন প্রদর্শনী, অনুদান ও পারস্পরিক সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করলেও এই চুক্তির ফলে তা একটি স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় এলো।

কাতারের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও কাতার মিউজিয়ামস বোর্ড অব ট্রাস্ট্রিজের সদস্য ড. মারিয়াম বিনতে আলি বিন নাসের আল মিসনাদ এবং এসিডিএফ-এর চেয়ারপারসন গায়ানে উমেরোভা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

কাতারের বৃহত্তর সাংস্কৃতিক কূটনীতি এবং ‘ইয়ার্স অব কালচার’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মাধ্যমে মানবসম্পদ উন্নয়ন, সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশ, যৌথ গবেষণা, শৈল্পিক প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণে উভয় দেশ একযোগে কাজ করবে।

কাতার মিউজিয়ামসের চেয়ারপারসন হিজ হাইনেস শেখা আল-মায়াসা বিনতে হামাদ বিন খলিফা আল থানি এই চুক্তি সম্পর্কে বলেন, “সংস্কৃতিতে বিনিয়োগ মানে মূলত মানুষের মেধা ও দক্ষতায় বিনিয়োগ।” ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং প্রতিভা বিকাশকে একসাথে যুক্ত করে এই অংশীদারিত্ব আন্তর্জাতিক মঞ্চে সৃজনশীল পেশাজীবীদের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে, উজবেকিস্তানের দীর্ঘ ঐতিহাসিক সভ্যতার কথা উল্লেখ করে গায়ানে উমেরোভা একে শিল্পী ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের টেকসই ভবিষ্যতের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন।

চুক্তির আওতায় যেসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:

ক্ষমতা বৃদ্ধি ও পেশাগত প্রশিক্ষণ: যৌথ কর্মশালা, শিক্ষা ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধি।

শিল্পী আবাসন ও বিনিময় কর্মসূচি: উভয় দেশের শিল্পীদের পারস্পরিক যাতায়াত এবং পেশাগত নেটওয়ার্ক বিস্তারের সুযোগ।

সৃজনশীল শিল্প খাত: ডিজাইন, কারুশিল্প , চলচ্চিত্র, ফ্যাশন, সঙ্গীত এবং রন্ধনশিল্পে যৌথ উদ্যোগ ও গবেষণা।

ইসলামিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ: বিশেষজ্ঞ জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে ঐতিহাসিক ইসলামিক সাংস্কৃতিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলোর পুনরুদ্ধার ও সুরক্ষা।

এই চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি এমন এক সময়ে এলো যখন দোহার মিউজিয়াম অব ইসলামিক আর্টে ‘উজবেকিস্তান: হেরিটেজ ইন মোশন’ শীর্ষক প্রদর্শনী চলছে, যা আগামী ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে।

একই সাথে সেখানে প্রদর্শিত হচ্ছে ‘একতাশাফ উজবেকিস্তান’ প্রদর্শনীটি, যেখানে তাসখন্দ, সমরকন্দ এবং বুখারার সিল্ক রোডের ঐতিহ্য থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে কাতারী শিল্পীদের তৈরি মূল শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে থেকেই দেশ দুটির মধ্যে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা জোরদার রয়েছে। ইতিপূর্বে প্রথম ‘ডিজাইন দোহা বিয়েনিয়াল’-এ অংশ নিয়েছিল উজবেকিস্তান।

এছাড়া সমরকন্দের ঐতিহাসিক এবং তৈমুরি আমলের অন্যতম বৃহৎ স্থাপত্য বিবি খানম মসজিদ কমপ্লেক্স পুনরুদ্ধারের জন্য কাতার ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট (QFFD)-এর পক্ষ থেকে ৪ দশমিক ১৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান প্রদান করা হয়েছিল। নতুন এই পাঁচ বছর মেয়াদী চুক্তির ফলে দুই দেশের এই সাংস্কৃতিক অংশীদারিত্ব আরও বেশি গতিশীল ও সুসংহত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

আরব লিগ কাউন্সিলের ১৬৬তম স্থায়ী প্রতিনিধি সভায় কাতারের অংশগ্রহণ

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
আরব লিগ কাউন্সিলের ১৬৬তম স্থায়ী প্রতিনিধি সভায় কাতারের অংশগ্রহণ

মিশরের রাজধানী কায়রোতে অবস্থিত আরব লিগের সাধারণ সম্পাদক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো আরব লিগ কাউন্সিলের ১৬৬তম সাধারণ অধিবেশন। স্থায়ী প্রতিনিধি পর্যায়ের এই বৈঠকের মাধ্যমে মূলত মন্ত্রিপর্যায়ের আসন্ন অধিবেশনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

কায়রোতে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে কাতারের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন মিশরে নিযুক্ত কাতারের রাষ্ট্রদূত এবং আরব লিগে দেশটির স্থায়ী প্রতিনিধি শেখ জাসিম বিন আবদুর রহমান বিন মোহাম্মদ আল থানি।

বৈঠকের মূল এজেন্ডায় রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে প্রধান আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল ফিলিস্তিন ইস্যু, আরব-ইসরায়েল সংঘাত, অধিকৃত জেরুজালেমে ইসরায়েলি লঙ্ঘন এবং ফিলিস্তিনি জনগণের টিকে থাকা ও তাদের বাজেট সহায়তার বিষয়টি। এছাড়া আরব দেশগুলোতে ইরানের বেআইনি হামলা ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি ইরানের বাধ্যবাধকতার বিষয়টির তীব্র নিন্দা জানানো হয়।

এজেন্ডায় আরও অন্তর্ভুক্ত ছিল ইয়েমেনের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ইয়েমেনের আকাশসীমা লঙ্ঘনের প্রতিবাদ। পাশাপাশি আরব উপসাগরীয় অঞ্চলে নৌ-চলাচল ও জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সিরিয়া, লেবানন, লিবিয়া, সোমালিয়া ও কোমোরোসের বর্তমান পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

অধিবেশনে সাধারণ সম্পাদকের দুটি প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা করা হয়, যার মধ্যে সাধারণ সম্পাদকের কার্যক্রম এবং বিগত দুটি সাধারণ সেশনের (১৬৪ ও ১৬৫) সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত ছিল। এছাড়া কাউন্সিলের ৩৫তম সাধারণ শীর্ষ সম্মেলনের খসড়া এজেন্ডাও এই বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়।

৬ দেশের বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য বাউবির এসএসসি প্রোগ্রাম

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
৬ দেশের বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য বাউবির এসএসসি প্রোগ্রাম

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপেন স্কুল পরিচালিত বহিঃবাংলাদেশ (নিশ-২) এসএসসি প্রোগ্রামে ২০২৭-২০২৮ শিক্ষাবর্ষে (২০২৭ ব্যাচ) শিক্ষার্থী ভর্তির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, ওমান, ইতালি ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত বা বসবাসরত বৈধ বাংলাদেশি প্রবাসী বা অভিবাসী কিংবা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আগ্রহী ব্যক্তিদের সেই দেশের বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে ভর্তি করা হবে।

ভর্তির যোগ্যতা—

মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা দুটি শাখায় ভর্তি করা হবে। আবেদনকারীকে অবশ্যই জেএসসি/জেডিসি/অষ্টম শ্রেণি বা সরকার স্বীকৃত সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সৌদি আরব/কাতার/কুয়েত/ওমান/ইতালি/সংযুক্ত আরব আমিরাতের বৈধ অভিবাসী কিংবা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হতে হবে। উল্লেখ্য যে ৩১ ডিসেম্বর ১৯৯৭ সালের পরে প্রদত্ত জন্মতারিখের ক্ষেত্রে জেএসসি/জেডিসি বা সমমানের সনদ প্রদান করতে হবে।

ভর্তির বিস্তারিত সময়—

ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদনের তারিখ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত।

আবেদন ফি জমা দিতে হবে: ৬১০ টাকা।

ভর্তি ফি জমাদান: ২৭ অক্টোবর থেকে

৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

যোগাযোগ—

১. বাংলাদেশ দূতাবাস: সৌদি আরব/কাতার/কুয়েত/ওমান/ইতালি/সংযুক্ত আরব আমিরাত।

২. ডিন, ওপেন স্কুল, বাউবি: [email protected]

৩. ইন্টারন্যাশনাল একাডেমিক প্রোগ্রাম উইং, বাউবি: https://[email protected]

# বিস্তারিত তথ্য জানতে ওয়েবসাইট: www.bou.ac.bd

বাংলাদেশসহ তিন দেশে এলএনজি সরবরাহ বন্ধের মেয়াদ বাড়াল কাতার

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
বাংলাদেশসহ তিন দেশে এলএনজি সরবরাহ বন্ধের মেয়াদ বাড়াল কাতার

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হওয়ায় বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ইতালিতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে ‘ফোর্স মেজর’-এর মেয়াদ বাড়িয়েছে কাতার এনার্জি। ফলে এসব দেশে কাতারের এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগতে পারে।

ব্লুমবার্গ ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের ক্রেতাদের চলতি সপ্তাহে কাতার এনার্জি জানিয়েছে, কয়েকটি এলএনজি চালান বাতিলের পরিস্থিতি অক্টোবর পর্যন্ত চলতে পারে। বাংলাদেশের ক্রেতাদের ক্ষেত্রেও সেপ্টেম্বরের পর পর্যন্ত ‘ফোর্স মেজর’ কার্যকর থাকবে।

ইউরোপের আরও কয়েকজন ক্রেতাকেও একই ধরনের নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

ইতালির জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এডিসনও কাতার এনার্জির সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ইতালির অ্যাড্রিয়াটিক এলএনজি টার্মিনালে নির্ধারিত আরও পাঁচটি চালান সরবরাহ করতে পারবে না কাতার এনার্জি। এ কারণে দেশটিতে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ রাখার মেয়াদ নভেম্বরের শুরুর দিক পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

এডিসনের হিসাবে, কাতার এনার্জির সরবরাহ করতে না পারা এলএনজি জাহাজের সংখ্যা বেড়ে ২৯টিতে দাঁড়িয়েছে। তবে ঘাটতি মোকাবিলায় বিকল্প উৎস থেকে গ্যাস সংগ্রহের ব্যবস্থা করেছে প্রতিষ্ঠানটি, যাতে গ্রাহকদের সরবরাহের প্রতিশ্রুতি বজায় রাখা যায়।

বিশ্বের অন্যতম বড় এলএনজি রপ্তানিকারক কাতারের বিপুল পরিমাণ গ্যাস হরমুজ প্রণালি হয়ে বিভিন্ন দেশে পৌঁছায়। সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এর প্রভাব পড়েছে কাতারের এলএনজি রপ্তানি কার্যক্রমেও।

হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির কারণে গত ৪ মার্চ প্রথমবার এলএনজি সরবরাহ স্থগিত করে ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করেছিল কাতার এনার্জি। চুক্তিতে থাকা ‘ফোর্স মেজর’ বিধান সাধারণত এমন অনিবার্য পরিস্থিতিতে কার্যকর হয়, যখন কোনো প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা ঘটনায় চুক্তির শর্ত অনুযায়ী সরবরাহ বা দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হয় না।

এর পাশাপাশি কাতারের এলএনজি অবকাঠামোও হামলার শিকার হয়েছে। মার্চে রাস লাফান শিল্প এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এলএনজি উৎপাদন ও রপ্তানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কাতার এনার্জির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং দেশটির জ্বালানি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সাদ শেরিদা আল-কাবি জানিয়েছিলেন, হামলার কারণে কাতারের এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতা ১৭ শতাংশ কমে গেছে।

এরপর জুলাইয়ে কাতার এনার্জির এলএনজি বহনকারী জাহাজ ‘আল রেকাইয়াত’ হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় হামলার শিকার হয়। কাতার এ ঘটনায় ইরানকে দায়ী করে। হামলায় জাহাজটির বাম পাশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পরে সব নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।

কাতার এনার্জির সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ এবং ইউরোপের এলএনজি আমদানিকারকদের বিকল্প উৎসের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। বিশেষ করে শীত মৌসুম সামনে রেখে ইউরোপে গ্যাসের চাহিদা বাড়লে সরবরাহ সংকট আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

কাতার এনার্জির সর্বশেষ সিদ্ধান্তে স্পষ্ট হচ্ছে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং কাতারের এলএনজি অবকাঠামোর ওপর হামলার প্রভাব এখনো পুরোপুরি কাটেনি। ফলে বাংলাদেশসহ এশিয়া ও ইউরোপের কাতারনির্ভর ক্রেতাদের এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগতে পারে।

ফিল্ড হাসপাতাল নিয়ে কলম্বিয়ায় পৌঁছাল কাতারি বিমান

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
ফিল্ড হাসপাতাল নিয়ে কলম্বিয়ায় পৌঁছাল কাতারি বিমান

কলম্বিয়ার ভয়াবহ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘব ও জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদানের লক্ষে একটি সুসজ্জিত ফিল্ড হাসপাতাল নিয়ে দেশটিতে পৌঁছেছে কাতার সশস্ত্র বাহিনীর একটি বিমান। কাতার ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্টের (QFFD) উদ্যোগে এই মানবিক সহায়তা পাঠানো হয়েছে।

ভূমিকম্পকবলিত এলাকার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোকে সহায়তা করা এবং জরুরি এই সংকটকালীন সময়ে স্বাস্থ্যসেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এই ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপনের মূল উদ্দেশ্য। জরুরি সাড়াদান পর্বে দ্রুত চিকিৎসাসেবা শুরু নিশ্চিত করতে কাতার ইন্টারন্যাশনাল সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ গ্রুপ (লখুইয়া)-এর একটি দল ফিল্ড হাসপাতালটি স্থাপন ও পরিচালনায় সহযোগিতা করছে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা প্রদান এবং বৈশ্বিক সংকট মোকাবেলায় কাতারের দীর্ঘদিনের মানবিক প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই কলম্বিয়াতে এই ত্রাণ ও চিকিৎসাসামগ্রী পাঠানো হয়েছে, যা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির মানবিক দায়িত্বশীলতার ভূমিকাকে আরও সুদৃঢ় করেছে।

উল্লেখ্য, গত ১০ আগস্ট ২০২৬ কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে দেশটির ঘরবাড়ি, হাসপাতাল, স্কুল ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং শত শত মানুষ হতাহত হন।