গত ২৬ আগস্ট ২০২৬ নেপালে আঘাত হানা ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে কাতার চ্যারিটি (Qatar Charity)। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্গতদের সহায়তায় একটি জরুরি মানবিক সহায়তা মিশন শুরু করা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে সেখানে কম্বল বিতরণ করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাতারের প্রধান কার্যালয়ে অবস্থিত মানবিক অপারেশন বিভাগের অধীনে নিজেদের ‘জরুরি সাড়া প্রদান সেল’ (Emergency Response Cell) সক্রিয় করেছে কাতার চ্যারিটি। একই সাথে সংস্থাটির ক্রাইসিস অ্যান্ড ইনফরমেশন সেন্টার নেপালের পরিবর্তিত মানবিক পরিস্থিতির ওপর নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি চাহিদা নিরূপণ ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য নেপালে অবস্থিত নিজস্ব ফিল্ড অফিসের সাথেও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।
বন্যা আক্রান্তদের জন্য বর্তমানে যে জীবন রক্ষাকারী জরুরি সহায়তাগুলোর সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন রয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে—তৈরি গরম খাবার, তোশক ও কম্বল, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, শিশুখাদ্য (ইনফ্যান্ট ফর্মুলা) এবং জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র।
ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের চিত্র
নেপালের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (NDRRMA)-এর গত ২৭ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্যায় প্রায় ১০,০০০ পরিবার জরুরি মানবিক সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছে। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ১৬৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, ২৪৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন এবং ৭৩ জন আহত হয়েছেন।
এছাড়াও বন্যায় দেশটির অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫টি মোটরচালিত সেতু এবং ৪৫টি ঝুলন্ত সেতু সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং অন্তত ৪০ কিলোমিটার পাকা রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নেপাল কর্তৃপক্ষের মতে, টানা ভারী বৃষ্টিপাত এবং দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে উদ্ধার ও তল্লাশি কার্যক্রম চালাতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূবৈজ্ঞানিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানিয়েছে, এই বিপর্যয়টি মূলত একটি তীব্র ঢস বা ডেব্রিস অ্যাভালাঞ্চ এবং ফ্ল্যাশ ফ্লাড ছিল, যা সম্ভবত একটি হিমবাহের দ্রুত পতন বা ভাঙনের ফলে সৃষ্টি হয়েছিল। এছাড়া এর প্রায় তিন ঘণ্টা পর সেখানে দ্বিতীয় আরেকটি ভূমিকম্পের ঘটনাও রেকর্ড করা হয়েছে।
সংকটময় এই সময়ে দুর্গত মানুষের কষ্ট লাঘবে কাতার চ্যারিটির এই জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।