১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রেমিট্যান্স প্রণোদনার ৮,৫৬৫ কোটি টাকার বকেয়া নিয়ে বিপাকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ৩০, ২০২৬
রেমিট্যান্স প্রণোদনার ৮,৫৬৫ কোটি টাকার বকেয়া নিয়ে বিপাকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো

প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) সরকারি প্রণোদনার বকেয়া বাবদ ৮,৫৬৫ কোটি টাকারও বেশি অর্থের বোঝা বহন করছে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। সরকারের ঘোষিত প্রণোদনার অর্থ সময়মতো ফেরত না পাওয়ায়—ব্যাংকগুলোকে নিজস্ব আমানত থেকে এই ভর্তুকির অর্থ মেটাতে হচ্ছে। এতে ব্যাংক খাতে তারল্য সংকট তীব্র হওয়ার পাশাপাশি সার্বিক মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

সরকারি নীতি অনুযায়ী, দেশে আসা প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের ওপর প্রবাসীদের ২.৫ শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনা দেয় ব্যাংকগুলো। অর্থ মন্ত্রণালয়ের হয়ে ব্যাংকগুলো এই অর্থ বিতরণ করে এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে এই অর্থ তাদের ফেরত পাওয়ার কথা। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেকর্ড ৩,৫৫৯ কোটি (৩৫.৫৯ বিলিয়ন) ডলার প্রবাসী আয় আসা এবং টাকার অবমূল্যায়নের কারণে ডলারে প্রণোদনার খরচ বেড়ে ৩ টাকায় পৌঁছানোয়—সরকারের কাছ থেকে এই অর্থ ফেরত পেতে প্রায় সাড়ে ৯ মাস বিলম্ব হচ্ছে।

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের হাতে আসা নথি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুনের শেষে বকেয়া দাবির পরিমাণ ছিল ৮,১৮৫ কোটি টাকা। এরপর ২ আগস্ট ৫০০ কোটি টাকা পরিশোধ করা হলেও, জুলাই মাসের নতুন ৮৭৯ কোটি টাকার দাবিসহ মোট বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮,৫৬৫ কোটি টাকায়।

বর্তমানে সবচেয়ে বেশি বকেয়া দাবি রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের—১,৫১৩ কোটি টাকা। এরপরই রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক (৮৫০ কোটি টাকা), সিটি ব্যাংক (৩৩৫ কোটি টাকা), ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (২৫০ কোটি টাকা), পুবালী ব্যাংক (২৫০ কোটি টাকা) এবং সাউথইস্ট ব্যাংক (১৭০ কোটি টাকা)।

ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, প্রায় দুই বছর ধরে তাঁরা এই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। আমানতকারীদের তহবিল থেকে প্রবাসীদের এই প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে, যা ব্যাংকের মুনাফায় সরাসরি প্রভাব ফেলছে। কারণ, এই অর্থ ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ করা হলে ব্যাংকগুলো অন্তত ৯ শতাংশ হারে সুদ পেতে পারত।

বেসরকারি একটি ব্যাংকের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ব্যাংকের তহবিল সংগ্রহের খরচ (আমানতের সুদ) এবং সরকারের অর্থ ফেরতে বিলম্বের মধ্যে তৈরি হওয়া এই ব্যবধানের ফলে ব্যাংকগুলোর মুনাফা কমছে। এটি আগামী মাসগুলোতে প্রবাসী আয় সংগ্রহের বিষয়ে ব্যাংকগুলোর উৎসাহ কমিয়ে দিতে পারে।

বেসরকারি একটি ব্যাংকের অপর এক জ্যেষ্ঠ নির্বাহী বলেন, "রাজস্ব আহরণ কমে যাওয়ার কারণে অর্থ মন্ত্রণালয় তহবিল সংকটে রয়েছে, যার ফলে অর্থ ছাড় করতে দেরি হচ্ছে।" বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান নিশ্চিত করেছেন যে, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে তহবিল পাওয়ার পরপরই কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা বিতরণ করে। ফলে অর্থ ছাড়ের সময়সূচি এখন পুরোপুরি সরকারের ওপর নির্ভর করছে।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, "এই বিলম্বের কারণে ব্যাংকগুলোকে বড় ধরনের অপোরচুনিটি কস্ট গুনতে হচ্ছে। ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের আমানত থেকে এই নগদ অর্থ পরিশোধ করছে—যার বার্ষিক খরচ ৭ থেকে ৮ শতাংশ। অথচ এই অর্থ ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ করতে না পারায় ৯ শতাংশ বা তার বেশি আয় হাতছাড়া হচ্ছে।"

সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মাসরুর আরেফিন বলেন, "ব্যাংকগুলোর ওপর এর প্রভাব ত্রিমুখী। প্রথমত, ঋণের জন্য ব্যবহারযোগ্য তারল্য কমে যায়। দ্বিতীয়ত, আমানতের ওপর সুদের দায় অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও— আটকে থাকা তহবিল থেকে কোনো আয় আসে না। এবং তৃতীয়ত, আয় বাড়ায় এমন সম্পদে বিনিয়োগের সুযোগ হারায় ব্যাংক।"

তিনি আরও বলেন, "বাজেট ও নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সরকার চাপের মধ্যে রয়েছে। প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত রেমিট্যান্স বাড়ায় প্রণোদনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণও অনেক বেড়েছে। কিন্তু সে অনুযায়ী বাজেট বরাদ্দ ও অর্থ ছাড় বাড়েনি।"

মাসরুর আরেফিন প্রস্তাব করেন, ব্যাংকগুলোকে তিন মাসের অগ্রিম তহবিল দেওয়ার আগের ব্যবস্থাটি আবার চালু করা উচিত। এ ছাড়া প্রতি মাসে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যাংকগুলোর দাবি নিষ্পত্তি করা, রেমিট্যান্স প্রবাহের ওপর ভিত্তি করে বাজেটে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ রাখা এবং নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি দেরি হলে ব্যাংকগুলোর তহবিলের খরচ অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া প্রয়োজন।

তিনি জানান, "বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ব্যাংকগুলোর উদ্বেগের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে কথা বলে বকেয়া অর্থ পরিশোধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন।"

টাকার অবমূল্যায়নে বেড়েছে প্রণোদনার খরচ

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, সরকার এর আগে ব্যাংকগুলোকে অগ্রিম প্রণোদনার অর্থ প্রদান করত। তবে এখন অর্থ পরিশোধে বিলম্ব হওয়ায় কোনো কোনো বকেয়া পরিশোধের মেয়াদ দুই বছর পর্যন্ত গড়াচ্ছে।

একজন ব্যাংকার বলেন, দুই বছর আগের তুলনায় এখন রেমিট্যান্সের প্রবাহ অনেক বাড়ায় প্রণোদনার দায়ও বেড়েছে।

এদিকে, ২০২৪ সালের আগস্টের আগে রেমিট্যান্সের জন্য প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ১১৭ টাকা এবং ব্যাংকগুলো প্রণোদনা হিসেবে প্রতি ডলারে অতিরিক্ত ২.৯৫ টাকা প্রদান করত। বর্তমানে রেমিট্যান্সের বিনিময় হার বেড়ে ১২৩ টাকায় দাঁড়ানোয় ব্যাংকগুলোকে তাদের আমানত তহবিল থেকে প্রতি ডলারে ৩ টাকা করে প্রণোদনা দিতে হচ্ছে।

দীর্ঘমেয়াদি বকেয়ায় বহুবিধ ঝুঁকি

ব্যাংকাররা সতর্ক করে বলছেন, অর্থ পরিশোধের এই বিলম্ব দীর্ঘায়িত হলে তা বেশ কয়েকটি মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

প্রবাসী আয় আকৃষ্ট করতে ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত বিনিয়োগ ও প্রচারণা চালানোর আগ্রহ কমে যেতে পারে। একই সাথে বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউস ও মানি ট্রান্সফার কোম্পানিগুলোর সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রাখার খরচ বহন করাও ব্যাংকগুলোর জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।

ছোট ও তারল্য সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোর ওপর এই চাপ তুলনামূলক বেশি পড়বে।

সরকারি পাওনার বড় একটি অংশ অনাদায়ি হিসেবে পড়ে থাকায় ব্যাংকগুলোর সম্পদ-দায় ব্যবস্থাপনা (অ্যাসেট-লাইবিলিটি ম্যানেজমেন্ট) দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। এ ছাড়া প্রণোদনা প্রদানে বিলম্ব গ্রাহকদের আস্থা ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং প্রবাসীদের ব্যাংকিং চ্যানেলের বদলে অবৈধ 'হুন্ডি' পদ্ধতির দিকে ঝুঁকে পড়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।

এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজার, চলতি হিসাবের ভারসাম্য এবং রিজার্ভে রেমিট্যান্সের যে ইতিবাচক ভূমিকা রয়েছে, তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

কাতারে না জানিয়ে কারো ছবি বা ভিডিও ধারণ করলেই জেল-জরিমানা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
কাতারে না জানিয়ে কারো ছবি বা ভিডিও ধারণ করলেই জেল-জরিমানা

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুহূর্তেই ছবি বা ভিডিও শেয়ার করার এই যুগে অন্যের অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করা বা তা অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া বড় ধরনের আইনি বিপদের কারণ হতে পারে। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা এবং সাইবার অপরাধ রোধে দেশের প্রচলিত আইনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বাসিন্দাদের প্রতি কড়া সতর্কতা জারি করেছে কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (MOI)।


দণ্ডবিধির ৩৩৩ নম্বর ধারার গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিধান:

কাতারের পেনাল কোড বা দণ্ডবিধির ৩৩৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী, অনুমতি ছাড়া কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত জীবনে অনধিকার প্রবেশ, গোপনে বা বিনা অনুমতিতে ভিডিও ধারণ কিংবা ছবি তোলা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এই আইনের আওতায় নিষিদ্ধ বা দণ্ডনীয় বিষয়গুলো হলো—

  • কোনো ব্যক্তির সম্মতি বা অনুমতি ছাড়া তার ব্যক্তিগত বা গোপনীয় মুহূর্তের ছবি বা ভিডিও ধারণ করা।
  • কারও মানহানি করার উদ্দেশ্যে বা ক্ষতিসাধনের মানসে ছবি বা ভিডিও অনলাইনে শেয়ার করা।
  • সড়ক দুর্ঘটনা বা জরুরি কোনো উদ্ধারকাজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ভুক্তভোগী বা আহতদের ছবি বা ভিডিও ধারণ করা।
কঠোর শাস্তির বিধান:

আইন অমান্যকারীদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তির বিধান। এ ধরনের অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার কাতারি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানার মুখোমুখি হতে হতে পারে। এছাড়া ধারণকৃত ছবি বা ভিডিও অনলাইনে বা সাইবার মাধ্যমে প্রকাশ করা হলে দেশটির কঠোর সাইবার অপরাধ আইন অনুযায়ী অতিরিক্ত শাস্তির বিধান রয়েছে।

নিরাপদ ও সচেতন থাকার উপায়:

  • ছবি তোলার আগে অনুমতি নিন: ব্যক্তিগত ছবি বা ছোট কোনো দলের ছবি তোলার পূর্বে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে পরিষ্কার অনুমতি নিয়ে নিন।
  • দুর্ঘটনার দৃশ্য ধারণ থেকে বিরত থাকুন: যেকোনো দুর্ঘটনা বা আপৎকালীন পরিস্থিতিতে মোবাইল ফোন পকেটেই রাখুন; কারণ দুর্ঘটনাস্থলে ভুক্তভোগীদের ভিডিও করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
  • জনপরিসরে সচেতন থাকুন: জনবহুল স্থানে ছবি তোলার সময় লক্ষ্য রাখুন যেন আশপাশের সাধারণ মানুষ আপনার ছবির মূল বিষয়বস্তু বা ফ্রেমে চলে না আসে।
কারো ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের মতো ঘটনা ঘটলে কিংবা এসংক্রান্ত কোনো অপরাধের মুখোমুখি হলে তা সরাসরি ‘মেট্রাশ২’ (Metrash2) অ্যাপের মাধ্যমে সাইবার ক্রেম বিভাগে রিপোর্ট করার পরামর্শ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

আমিরি দিওয়ানে কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা তুলে দিলেন কাতারের আমীর

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬

২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে দেশের মাধ্যমিক স্কুল বা হাই স্কুলের সমাপনী পরীক্ষায় অসাধারণ সাফল্য অর্জনকারী কৃতি ও শীর্ষস্থানীয় ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা জানিয়েছেন কাতারের আমীর মহামান্য শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। সোমবার রাজধানী দোহার ঐতিহাসিক আমিরি দিওয়ানে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে মহামান্য আমীর কৃতি শিক্ষার্থীদের এই অনন্য একাডেমিক অর্জনের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের এই মেধা ও সাফল্য তাদের ভবিষ্যৎ জীবনে আরও বেশি জ্ঞান অর্জন এবং দক্ষতা বৃদ্ধিতে উৎসাহিত করবে। পাশাপাশি, তাদের এই অর্জন ভবিষ্যতের দিনে কাতার রাষ্ট্রকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

আরও পড়ুন

কাতারে না জানিয়ে কারো ছবি বা ভিডিও ধারণ করলেই জেল-জরিমানা
স্যামসাং ওয়ালেটে যুক্ত হলো কাতারের জাতীয় পেমেন্ট কার্ড ‘হিময়ান’

আমিরি দিওয়ানে মহামান্য আমীরের সাথে সাক্ষাত করতে পেরে এবং সরাসরি তাঁর হাত থেকে সম্মাননা গ্রহণ করতে পেরে অত্যন্ত আনন্দ প্রকাশ করেছেন সংবর্ধিত শিক্ষার্থীরা। তারা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এই স্বীকৃতি তাদের ভবিষ্যতের উচ্চাশা পূরণে এবং কাতার সেবায় নিজেদের আরও বেশি উৎসর্গ করতে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আমিরি দিওয়ানের প্রধান হিজ এক্সিলেন্সি শেখ আবদুল্লাহ বিন মোহাম্মদ আল খুলাইফি এবং শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষামন্ত্রী হিজ এক্সিলেন্সি ললওয়া আল খাতের। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কিউএনএ (QNA)-এর মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন

এক নজরে লিওনেল মেসির বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার

আর্জেন্টিনার জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা লিওনেল মেসির

মেসির অবসর ঘোষণার পর যা বলছে আর্জেন্টিনা ফুটবল

১০ বছর আগেই অবসর নিয়েছিলেন মেসি, কী এমন ঘটেছিল, অবসর ভাঙলেনই বা কেন?

সমর্থকদের এক সুতোয় বাঁধার জন্য মেসিকে ধন্যবাদ দিলেন ফিফা সভাপতি

কাতারে  তীব্র ঝড়ো হাওয়া ও ধুলোবালি থেকে বাঁচতে আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কতা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
কাতারে  তীব্র ঝড়ো হাওয়া ও ধুলোবালি থেকে বাঁচতে আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কতা

কাতারের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বায়ুমণ্ডলীয় চাপে পরিবর্তন এবং মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে দেশজুড়ে নতুন করে আবহাওয়া পরিবর্তনের পূর্বাভাস দিয়েছে কাতার আবহাওয়া বিভাগ (QMD)।

গত ৩০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এক বিশেষ আবহাওয়া বুলেটিনে জানানো হয়েছে যে, ১ ও ২ সেপ্টেম্বর (মঙ্গল ও বুধবার) দেশজুড়ে মাঝারি থেকে তীব্র বেগে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বায়ুপ্রবাহ বা উত্তরী হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এই আবহাওয়ার ফলে জনজীবন ও দৈনন্দিন কার্যক্রমে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া পরিস্থিতির মূল বৈশিষ্ট্য ও দৃশ্যমানতা হ্রাস

পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দুই দিন বাতাসের গতিবেগ তাজা থেকে শুরু করে বেশ জোরালো বা শক্তিশালী থাকতে পারে। খোলা অঞ্চল, মহাসড়ক এবং মরুভূমি সংলগ্ন এলাকায় এই বায়ুপ্রবাহের কারণে প্রবল বেগে ধূলিকণা ও বালি উড়তে পারে (blowing dust), যার ফলে দেশের নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে অনুভূমিক দৃষ্টিসীমা বা হরাইজন্টাল ভিজিবিলিটি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গাড়ি চালক এবং বাইরে যাতায়াতকারীদের জন্য এটি বিশেষ ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, কারণ ধুলোবালির কারণে অনেক সময় চোখের পলকে দূরবর্তী বস্তু বা ট্রাফিক সিগন্যাল পরিষ্কার দেখা যায় না। কাতার আবহাওয়া বিভাগ জনসাধারণকে এই সময়ে বিশেষ করে হাইওয়ে বা খোলা রাস্তায় গাড়ি চালানোর সময় অতিরিক্ত সতর্কতা বজায় রাখতে এবং গাড়ির গতিসীমা নিয়ন্ত্রণে রাখতে অনুরোধ জানিয়েছে।

নৌচলাচল ও সমুদ্র উপকূলে সতর্কতা

স্থলভাগের পাশাপাশি কাতারের সামুদ্রিক জলসীমা ও উপকূলীয় অঞ্চলগুলোর জন্য বিশেষ সামুদ্রিক সতর্কতা বা মেরিন অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বয়ে যাওয়া এই শক্তিশালী বাতাসের প্রভাবে পারস্য উপসাগরের কাতার উপকূলীয় অংশে সমুদ্রের পানির উচ্চতা স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পেতে পারে এবং ঢেউয়ের তীব্রতা বাড়তে পারে। এর ফলে ছোট নৌকা, ট্রলার, স্পিডবোট এবং সামুদ্রিক মাছ ধরার বা বিনোদনমূলক জলযানের চলাচলের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা কিংবা কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। সমুদ্র উপকূলে অবস্থানরত জেলে, সাঁতারু এবং নৌভ্রমণকারীদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গভীর সমুদ্রে যাওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তাপমাত্রা ও সার্বিক পরিবেশগত প্রভাব

সেপ্টেম্বরের শুরুতে এই উত্তরী হাওয়া প্রবাহের ফলে দেশের তাপমাত্রায় সাময়িক কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা যেতে পারে। যদিও দিনের বেলা রোদের তেজ ও গরমের অনুভূতি থাকবে, তবে বাতাসে ধূলিকণা ও বালির উপস্থিতি এবং শুষ্ক বাতাসের কারণে অনেকের শ্বাসকষ্ট বা এলার্জিজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্টের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যায় ভোগা রোগী, শিশু ও বয়স্কদের এই ধূলিময় আবহাওয়ায় অপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

কাতারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও জরুরি সেবামূলক সংস্থাগুলো সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কাতার আবহাওয়া বিভাগের অফিসিয়াল চ্যানেল ও সংবাদ মাধ্যমের নিয়মিত আপডেট অনুসরণ করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

নেপালে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি ত্রাণ সহায়তা কর্মসূচি শুরু করেছে কাতার চ্যারিটি

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
নেপালে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি ত্রাণ সহায়তা কর্মসূচি শুরু করেছে কাতার চ্যারিটি

গত ২৬ আগস্ট ২০২৬ নেপালে আঘাত হানা ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে কাতার চ্যারিটি (Qatar Charity)। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্গতদের সহায়তায় একটি জরুরি মানবিক সহায়তা মিশন শুরু করা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে সেখানে কম্বল বিতরণ করা হচ্ছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাতারের প্রধান কার্যালয়ে অবস্থিত মানবিক অপারেশন বিভাগের অধীনে নিজেদের ‘জরুরি সাড়া প্রদান সেল’ (Emergency Response Cell) সক্রিয় করেছে কাতার চ্যারিটি। একই সাথে সংস্থাটির ক্রাইসিস অ্যান্ড ইনফরমেশন সেন্টার নেপালের পরিবর্তিত মানবিক পরিস্থিতির ওপর নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি চাহিদা নিরূপণ ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য নেপালে অবস্থিত নিজস্ব ফিল্ড অফিসের সাথেও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।

বন্যা আক্রান্তদের জন্য বর্তমানে যে জীবন রক্ষাকারী জরুরি সহায়তাগুলোর সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন রয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে—তৈরি গরম খাবার, তোশক ও কম্বল, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, শিশুখাদ্য (ইনফ্যান্ট ফর্মুলা) এবং জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র।

ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের চিত্র

নেপালের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (NDRRMA)-এর গত ২৭ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্যায় প্রায় ১০,০০০ পরিবার জরুরি মানবিক সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছে। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ১৬৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, ২৪৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন এবং ৭৩ জন আহত হয়েছেন।

এছাড়াও বন্যায় দেশটির অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫টি মোটরচালিত সেতু এবং ৪৫টি ঝুলন্ত সেতু সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং অন্তত ৪০ কিলোমিটার পাকা রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নেপাল কর্তৃপক্ষের মতে, টানা ভারী বৃষ্টিপাত এবং দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে উদ্ধার ও তল্লাশি কার্যক্রম চালাতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূবৈজ্ঞানিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানিয়েছে, এই বিপর্যয়টি মূলত একটি তীব্র ঢস বা ডেব্রিস অ্যাভালাঞ্চ এবং ফ্ল্যাশ ফ্লাড ছিল, যা সম্ভবত একটি হিমবাহের দ্রুত পতন বা ভাঙনের ফলে সৃষ্টি হয়েছিল। এছাড়া এর প্রায় তিন ঘণ্টা পর সেখানে দ্বিতীয় আরেকটি ভূমিকম্পের ঘটনাও রেকর্ড করা হয়েছে।

সংকটময় এই সময়ে দুর্গত মানুষের কষ্ট লাঘবে কাতার চ্যারিটির এই জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

স্যামসাং ওয়ালেটে যুক্ত হলো কাতারের জাতীয় পেমেন্ট কার্ড ‘হিময়ান’

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
স্যামসাং ওয়ালেটে যুক্ত হলো কাতারের জাতীয় পেমেন্ট কার্ড ‘হিময়ান’

তৃতীয় আর্থিক খাত কৌশল এবং তৃতীয় জাতীয় উন্নয়ন কৌশল ২০২৪-২০৩০-এর সাথে সামঞ্জস্য রেখে দেশের ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থাকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল কাতার সেন্ট্রাল ব্যাংক। গত রবিবার (৩০ আগস্ট ২০২৬) স্যামসাং গালফ ইলেকট্রনিক্সের সাথে যৌথভাবে কাতারের নিজস্ব জাতীয় পেমেন্ট স্কিম ‘হিময়ান’ (Himyan)-কে ‘স্যামসাং ওয়ালেট’-এর (Samsung Wallet) সাথে যুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে কিউসিবি।

এর ফলে এখন থেকে নির্দিষ্ট কার্ডধারীরা তাদের সামঞ্জস্যপূর্ণ গ্যালাক্সি স্মার্টফোন এবং স্মার্টওয়াচ ব্যবহার করে খুব সহজেই দ্রুততম সময়ে, নিরাপদে এবং স্পর্শহীন (contactless) পেমেন্ট সম্পন্ন করতে পারবেন।

হিময়ান হলো কাতারের প্রথম নিজস্ব জাতীয় পেমেন্ট কার্ড ব্র্যান্ড, যা দেশে নিরাপদ, দক্ষ এবং স্থানীয়ভাবে পরিচালিত ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থাকে জনপ্রিয় করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। স্যামসাং ওয়ালেটে হিময়ান যুক্ত হওয়ার ফলে ব্যবহারকারীরা এখন ফিজিক্যাল কার্ড বহন করা ছাড়াই ডেবিট ও প্রিপেইড কার্ড যোগ করে মোবাইল পেমেন্টের পূর্ণ সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন। দেশের যেকোনো প্রান্তের পয়েন্ট-অফ-সেল (POS) টার্মিনাল ও খুচরা বাজারে এখন খুব সহজেই এই স্পর্শহীন লেনদেন করা যাবে।

কিউসিবি ও স্যামসাংয়ের শীর্ষ কর্তাদের মন্তব্য:

কাতার সেন্ট্রাল ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হিজ এক্সিলেন্সি শেখ আহমেদ বিন খালিদ বিন আহমেদ আল থানি এই উদ্যোগ সম্পর্কে বলেন, “স্যামসাং ওয়ালেটে হিময়ানের সংযুক্তি কাতারে হিময়ানকে শীর্ষস্থানীয় ডিজিটাল পেমেন্ট মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি একটি উন্নত এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল আর্থিক ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার প্রতি কিউসিবির প্রতিশ্রুতিরই বাস্তব প্রমাণ।”

স্যামসাং গালফ ইলেকট্রনিক্সের মোবাইল এক্সপেরিয়েন্স ডিভিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং হেড ফাদি আবু শামাত বলেন, “স্থানীয় কার্ডধারীদের ফিজিক্যাল কার্ড ছাড়াই আরও দ্রুত এবং নিরাপদ উপায়ে পেমেন্ট করার সুবিধা দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। স্যামসাং নক্সের (Samsung Knox) নিরাপত্তা এবং হিময়ানের বিশ্বস্ত স্থানীয় অবকাঠামোর সমন্বয়ে গ্রাহকরা আরও সহজ ও সুরক্ষিত অভিজ্ঞতা পাবেন।”

অ্যাডভান্সড সিকিউরিটি ও ব্যবহারের নিয়ম:

স্যামসাং ওয়ালেটের গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড এবং স্যামসাং নক্সের ডিভাইস টোকেনাইজেশন ও বায়োমেট্রিক অথেন্টিকেশন (ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা পিন ভেরিফিকেশন)-এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের আর্থিক ডেটা সম্পূর্ণ নিরাপদ রাখা হয়েছে।

স্যামসাং ওয়ালেটে হিময়ান কার্ড যুক্ত করতে ব্যবহারকারীদের শুধু তাদের সামঞ্জস্যপূর্ণ গ্যালাক্সি ডিভাইসে স্যামসাং ওয়ালেট অ্যাপ ওপেন করে ‘Add Card’ অপশনে যেতে হবে এবং কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংকের মাধ্যমে দ্রুত একটি ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।