৩০ আগস্ট ২০২৬

বাংলাদেশের কারখানায় তৈরি গাড়ির সিটের কভার যাচ্ছে জাপানের হোন্ডা-সুজুকিতে

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ৩০, ২০২৬
বাংলাদেশের কারখানায় তৈরি গাড়ির সিটের কভার যাচ্ছে জাপানের হোন্ডা-সুজুকিতে

বাংলাদেশে তৈরি গাড়ির সিটের কভার যাচ্ছে জাপানের হোন্ডা-সুজুকিতে
আদমজী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ইপিজেড) অবস্থিত টিএস টেক বাংলাদেশ লিমিটেড ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটি দেশে ৪৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার বিনিয়োগ করেছে এবং সেখানে ৩৭৫ জন কর্মী কাজ করছেন।

দেশে জাপানি মালিকানাধীন একটি কারখানায় তৈরি গাড়ির সিটের কভার রপ্তানি হচ্ছে জাপানে। সেখানে এসব কভার দিয়ে সম্পূর্ণ আসন বা সিট তৈরি করে হোন্ডা ও সুজুকিসহ বিভিন্ন কোম্পানির গাড়িতে সংযোজন করা হয়।

আদমজী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ইপিজেড) অবস্থিত টিএস টেক বাংলাদেশ লিমিটেড ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটি দেশে ৪৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার বিনিয়োগ করেছে এবং সেখানে ৩৭৫ জন কর্মী কাজ করছেন।

গত অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি ১ কোটি ৪৭ লাখ ৫০ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। মূলত জাপানের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আসনের ট্রিম কভার সরবরাহ করে তারা।

বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেপজা) কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া ছয়তলা স্ট্যান্ডার্ড ফ্যাক্টরি বিল্ডিংয়ে (এসএফবি) প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম চলছে।

কারখানাটিতে শ্রমিকেরা চামড়া ও অন্যান্য উপকরণ নির্দিষ্ট নকশা অনুযায়ী কেটে বিভিন্ন অংশ সেলাই করে সিটের ট্রিম কভার তৈরি করেন। কাঁচামালের বেশির ভাগই আসে জাপান ও চীন থেকে।

তৈরি কভারগুলো পরে জাপানে টিএস টেকের বিভিন্ন কারখানায় পাঠানো হয়। সেখানে এগুলো দিয়ে সম্পূর্ণ আসন তৈরি করে সংশ্লিষ্ট গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে সরবরাহ করা হয়।

টিএস টেক বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাতোরু ওনিশি টিবিএসকে বলেন, "জাপানে আমাদের বড় ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে হোন্ডা, ইয়ামাহা, সুজুকি ও কাওয়াসাকি। বাংলাদেশে আমরা মূলত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের আসনের ট্রিম কভার এবং দরজা ও ছাদের ট্রিমের মতো প্লাস্টিকের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ তৈরি করি।"

তিনি বলেন, "কাঁচামাল কাটা ও সেলাইয়ের কাজ মূলত বাংলাদেশের কারখানায় করা হয়। এরপর জাপানে সম্পূর্ণ আসন তৈরি করা হয় এবং পরে গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো সেগুলো গাড়িতে সংযোজন করে।"

বাংলাদেশের কারখানাটিতে বর্তমানে বছরে প্রায় ২ লাখ ৬ হাজার সিটের ট্রিম কভার তৈরি হচ্ছে। আগামী বছরও উৎপাদন প্রায় একই পর্যায়ে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

অটোমেশন ও থ্রিডি প্রিন্টিং

সম্প্রতি কারখানাটি ঘুরে দেখা যায়, বিশাল উৎপাদন এলাকায় পুরোদমে কাজ চলছে। কোনো অংশে চামড়া কাটা হচ্ছে, আবার কোথাও শ্রমিকেরা সেলাই মেশিনে বিভিন্ন অংশ জোড়া দিচ্ছেন। কেউ কেউ যত্নসহকারে কভারের বিভিন্ন অংশ যুক্ত করছেন। অন্যদিকে তৈরি পণ্য পরীক্ষা ও মাপজোখ করছেন একদল শ্রমিক।

ওনিশি বলেন, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো ও অটোমেশনের ওপর ক্রমেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে টিএস টেক। পাশাপাশি কারখানার নিজস্ব উৎপাদনকাজে থ্রিডি প্রিন্টিংয়ের মতো আধুনিক প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হচ্ছে। বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর পর থেকে ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে।

উৎপাদন ব্যবস্থা উন্নত করতে ২০২৩ সালের আগস্টে বেশ কয়েকটি উদ্যোগ নেয় প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে ছিল কনভেয়ার বেল্ট, অটোমেশন ব্যবস্থা ও অটো-লে মেশিন স্থাপন।

উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন ধরনের জিগ ও উৎপাদন সহায়ক সরঞ্জামও কারখানাটিতেই তৈরি করে টিএস টেক। এর মধ্যে কিছু সরঞ্জাম থ্রিডি প্রিন্টারের মাধ্যমে নকশা ও তৈরি করা হয়।

টিএস টেক একটি বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ১৩টি প্রতিষ্ঠানের অধীনে তাদের ৭৩টি কারখানা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে মোট প্রায় ১ লাখ ৪১ হাজার কর্মী কাজ করেন। এর মধ্যে জাপানেই রয়েছেন প্রায় ১৬ হাজার কর্মী।

ওনিশি বলেন, "জাপানের বাজারে আমরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য পণ্য তৈরি করি। জাপানের বাইরেও টিএস টেক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসা করছে।"

ডে-কেয়ার সেন্টার

উৎপাদন কার্যক্রমের পাশাপাশি কর্মীদের সহায়তায় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা চালু করেছে টিএস টেক বাংলাদেশ। প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের প্রায় ৬০ শতাংশই নারী।

২০২৫ সালে কারখানার ভেতরেই একটি ডে-কেয়ার সেন্টার চালু করে প্রতিষ্ঠানটি। ওনিশি জানান, বর্তমানে সেখানে পাঁচজন শিশুসেবিকার তত্ত্বাবধানে ১৯টি শিশু রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির জাপানি ভাষার দোভাষী আসমার সন্তানও এই ডে-কেয়ার সেন্টারে থাকে। তিনি বলেন, "এটি আমার জন্য খুবই ভালো হয়েছে। সন্তানকে ডে-কেয়ার সেন্টারে রেখে নিশ্চিন্তে কাজে মনোযোগ দিতে পারি।"

গর্ভবতী কর্মীদের জন্যও বিশেষ সুবিধা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটিতে। তাদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করতে সবুজ রিবন পরানো হয়, যাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া যায়।

সবুজ রিবন পরা এক কর্মী বলেন, "এখানে গর্ভবতী কর্মীদের বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়।"

সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

বাংলাদেশের কারখানায় তৈরি গাড়ির সিটের কভার যাচ্ছে জাপানের হোন্ডা-সুজুকিতে

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ৩০, ২০২৬
বাংলাদেশের কারখানায় তৈরি গাড়ির সিটের কভার যাচ্ছে জাপানের হোন্ডা-সুজুকিতে

বাংলাদেশে তৈরি গাড়ির সিটের কভার যাচ্ছে জাপানের হোন্ডা-সুজুকিতে
আদমজী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ইপিজেড) অবস্থিত টিএস টেক বাংলাদেশ লিমিটেড ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটি দেশে ৪৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার বিনিয়োগ করেছে এবং সেখানে ৩৭৫ জন কর্মী কাজ করছেন।

দেশে জাপানি মালিকানাধীন একটি কারখানায় তৈরি গাড়ির সিটের কভার রপ্তানি হচ্ছে জাপানে। সেখানে এসব কভার দিয়ে সম্পূর্ণ আসন বা সিট তৈরি করে হোন্ডা ও সুজুকিসহ বিভিন্ন কোম্পানির গাড়িতে সংযোজন করা হয়।

আদমজী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ইপিজেড) অবস্থিত টিএস টেক বাংলাদেশ লিমিটেড ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটি দেশে ৪৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার বিনিয়োগ করেছে এবং সেখানে ৩৭৫ জন কর্মী কাজ করছেন।

গত অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি ১ কোটি ৪৭ লাখ ৫০ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। মূলত জাপানের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আসনের ট্রিম কভার সরবরাহ করে তারা।

বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেপজা) কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া ছয়তলা স্ট্যান্ডার্ড ফ্যাক্টরি বিল্ডিংয়ে (এসএফবি) প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম চলছে।

কারখানাটিতে শ্রমিকেরা চামড়া ও অন্যান্য উপকরণ নির্দিষ্ট নকশা অনুযায়ী কেটে বিভিন্ন অংশ সেলাই করে সিটের ট্রিম কভার তৈরি করেন। কাঁচামালের বেশির ভাগই আসে জাপান ও চীন থেকে।

তৈরি কভারগুলো পরে জাপানে টিএস টেকের বিভিন্ন কারখানায় পাঠানো হয়। সেখানে এগুলো দিয়ে সম্পূর্ণ আসন তৈরি করে সংশ্লিষ্ট গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে সরবরাহ করা হয়।

টিএস টেক বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাতোরু ওনিশি টিবিএসকে বলেন, "জাপানে আমাদের বড় ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে হোন্ডা, ইয়ামাহা, সুজুকি ও কাওয়াসাকি। বাংলাদেশে আমরা মূলত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের আসনের ট্রিম কভার এবং দরজা ও ছাদের ট্রিমের মতো প্লাস্টিকের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ তৈরি করি।"

তিনি বলেন, "কাঁচামাল কাটা ও সেলাইয়ের কাজ মূলত বাংলাদেশের কারখানায় করা হয়। এরপর জাপানে সম্পূর্ণ আসন তৈরি করা হয় এবং পরে গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো সেগুলো গাড়িতে সংযোজন করে।"

বাংলাদেশের কারখানাটিতে বর্তমানে বছরে প্রায় ২ লাখ ৬ হাজার সিটের ট্রিম কভার তৈরি হচ্ছে। আগামী বছরও উৎপাদন প্রায় একই পর্যায়ে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

অটোমেশন ও থ্রিডি প্রিন্টিং

সম্প্রতি কারখানাটি ঘুরে দেখা যায়, বিশাল উৎপাদন এলাকায় পুরোদমে কাজ চলছে। কোনো অংশে চামড়া কাটা হচ্ছে, আবার কোথাও শ্রমিকেরা সেলাই মেশিনে বিভিন্ন অংশ জোড়া দিচ্ছেন। কেউ কেউ যত্নসহকারে কভারের বিভিন্ন অংশ যুক্ত করছেন। অন্যদিকে তৈরি পণ্য পরীক্ষা ও মাপজোখ করছেন একদল শ্রমিক।

ওনিশি বলেন, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো ও অটোমেশনের ওপর ক্রমেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে টিএস টেক। পাশাপাশি কারখানার নিজস্ব উৎপাদনকাজে থ্রিডি প্রিন্টিংয়ের মতো আধুনিক প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হচ্ছে। বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর পর থেকে ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে।

উৎপাদন ব্যবস্থা উন্নত করতে ২০২৩ সালের আগস্টে বেশ কয়েকটি উদ্যোগ নেয় প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে ছিল কনভেয়ার বেল্ট, অটোমেশন ব্যবস্থা ও অটো-লে মেশিন স্থাপন।

উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন ধরনের জিগ ও উৎপাদন সহায়ক সরঞ্জামও কারখানাটিতেই তৈরি করে টিএস টেক। এর মধ্যে কিছু সরঞ্জাম থ্রিডি প্রিন্টারের মাধ্যমে নকশা ও তৈরি করা হয়।

টিএস টেক একটি বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ১৩টি প্রতিষ্ঠানের অধীনে তাদের ৭৩টি কারখানা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে মোট প্রায় ১ লাখ ৪১ হাজার কর্মী কাজ করেন। এর মধ্যে জাপানেই রয়েছেন প্রায় ১৬ হাজার কর্মী।

ওনিশি বলেন, "জাপানের বাজারে আমরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য পণ্য তৈরি করি। জাপানের বাইরেও টিএস টেক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসা করছে।"

ডে-কেয়ার সেন্টার

উৎপাদন কার্যক্রমের পাশাপাশি কর্মীদের সহায়তায় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা চালু করেছে টিএস টেক বাংলাদেশ। প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের প্রায় ৬০ শতাংশই নারী।

২০২৫ সালে কারখানার ভেতরেই একটি ডে-কেয়ার সেন্টার চালু করে প্রতিষ্ঠানটি। ওনিশি জানান, বর্তমানে সেখানে পাঁচজন শিশুসেবিকার তত্ত্বাবধানে ১৯টি শিশু রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির জাপানি ভাষার দোভাষী আসমার সন্তানও এই ডে-কেয়ার সেন্টারে থাকে। তিনি বলেন, "এটি আমার জন্য খুবই ভালো হয়েছে। সন্তানকে ডে-কেয়ার সেন্টারে রেখে নিশ্চিন্তে কাজে মনোযোগ দিতে পারি।"

গর্ভবতী কর্মীদের জন্যও বিশেষ সুবিধা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটিতে। তাদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করতে সবুজ রিবন পরানো হয়, যাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া যায়।

সবুজ রিবন পরা এক কর্মী বলেন, "এখানে গর্ভবতী কর্মীদের বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়।"

সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

মক্কা জোট নতুন সদস্যদের জন্য উন্মুক্ত: বাংলাদেশ প্রসঙ্গে পাকিস্তান

প্রকাশ: শুক্রবার, আগস্ট ২৮, ২০২৬
মক্কা জোট নতুন সদস্যদের জন্য উন্মুক্ত: বাংলাদেশ প্রসঙ্গে পাকিস্তান

পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে (এমজেডিএ) নতুন দেশ যোগ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান।

তবে কোনো দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেওয়ার আবেদন করলে সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে পরামর্শ করেই তা বিবেচনা করা হবে।

বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের এই জোটে যোগ দেওয়ার আগ্রহের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি এমন উত্তর দেন।

ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সাম্প্রতিক মন্তব্যের সূত্র ধরে জানতে চান, বাংলাদেশ মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে, এ ক্ষেত্রে পাকিস্তান কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা ফ্রন্টে নেতৃত্ব দিচ্ছে কি না। এছাড়া সিরিয়া ও ইরানের মত দেশগুলোর আগ্রহের বিষয়েও বিস্তারিত জানতে চান তিনি।

জবাবে তাহির আন্দ্রাবি বলেন, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি হল শান্তি রক্ষা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রচারের লক্ষ্যে গঠিত একটি প্রতিরক্ষামূলক কাঠামো। একটি উদীয়মান নিরাপত্তা বলয় হিসেবে এই জোটের দরজা সেসব দেশের জন্য খোলা, যারা অভিন্ন নিরাপত্তা স্বার্থ এবং যৌথ বাধ্যবাধকতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

নতুন সদস্য নেওয়ার প্রক্রিয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, জোটভুক্ত হওয়ার জন্য যে কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ আমাদের অংশীদার রিয়াদ এবং আঙ্কারার সঙ্গে পরামর্শ করে বিবেচনা করা হবে।

নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে কোনো দেশের নাম উচ্চারণ করেননি পাকিস্তানের মুখপাত্র। ইরান ও সিরিয়ার আগ্রহ নিয়েও তিনি আলাদা করে কোনো মন্তব্য করেননি।

তবে তিনি বলেছেন, চুক্তিটি কার্যকর করার প্রক্রিয়া এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার আলোচনা

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা চলছে। গত সপ্তাহে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ আরব নিউজকে জানিয়েছিলেন, এ বিষয়ে এখনো নীতিগত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে বলে স্বীকার করেন তিনি।

আরেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরও সোমবার একই ধরনের কথা বলেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা মক্কা নিয়ে তো সবসময় আলাদা একটা জায়গা, বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে, পশ্চিম এশিয়ায় একটা যদি হয়, যদি ইসলামিক দেশগুলোর মধ্যে একটা নিরাপত্তা চুক্তি হয়, তাহলে ওখানে তো অস্বাভাবিক না যাওয়া। দেখা যাক, বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে।

এই চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদান করা ঠিক হবে কি-না এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা দেখা যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সংসদে বলেন, মক্কা জোটের সদস্য দেশগুলোর কাছ থেকে বাংলাদেশকে যুক্ত করার প্রস্তাব এলে সরকার তা ‘ইতিবাচকভাবে’ বিবেচনা করবে।

তবে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশকে এই চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে প্রস্তাব আসেনি বলে জানিয়েছেন তিনি।

কী এই মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান গত ৭ অগাস্ট মক্কায় এ যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করে। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ ও সামরিক উত্তেজনার মধ্যে তিন দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করাই এর লক্ষ্য।

চুক্তির একটি মূল বিষয় হল, তিন দেশের যে কোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। অর্থাৎ কোনো সদস্য দেশ আক্রান্ত হলে অন্য সদস্যদেরও সম্মিলিত প্রতিরক্ষার আওতায় আসার কথা রয়েছে।

চুক্তিতে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামরিক সমন্বয়, যৌথ সামরিক মহড়া এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

সৌদি থেকে ফিরছে রিয়াদ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো ৯ বাংলাদেশির কফিন

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৭, ২০২৬
সৌদি থেকে ফিরছে রিয়াদ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো ৯ বাংলাদেশির কফিন

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৩৪০ ফ্লাইটে মরদেহগুলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা।

শনাক্ত হওয়া নিহত নয়জনের মধ্যে সাতজনের বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলায়। বাকি দুজনের একজন নাটোরের নলডাঙ্গা এবং অন্যজন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বাসিন্দা। প্রিয়জনের মরদেহ শেষবারের মতো দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন নিহতদের স্বজনেরা।

আত্রাই উপজেলার নিহতরা হলেন উদনপৈ গ্রামের মো. ফরিদ, গন্ডগোহালী গ্রামের রুবেল প্রামাণিক, কলিমউদ্দিন ইসলাম, মোহন আলী ও তার ছোট ভাই সুমন আলী, ডুবাই গ্রামের সোহেল রানা এবং পারকাসুন্দা গ্রামের আব্দুল জলিল সরকার। এ ছাড়া নাটোরের নলডাঙ্গার মহিষডাঙ্গা গ্রামের রবিউল ইসলাম এবং রাজশাহীর বাগমারার মরুগ্রামের শ্যামল উদ্দিনের পরিচয়ও শনাক্ত হয়েছে।

গত ৯ আগস্ট রিয়াদের একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ আগুনে প্রাণ হারান ওই বাংলাদেশিরা। সৌদি কর্তৃপক্ষ আঙুলের ছাপ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রথম ধাপে নয়জনের পরিচয় নিশ্চিত করে। তবে বাকি সাতজনের ডিএনএ পরীক্ষা এখনো শেষ না হওয়ায় তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

ফলে স্বজনদের অপেক্ষাও দীর্ঘ হচ্ছে। আত্রাইয়ের মধ্যবোয়ালী গ্রামের নিহত মিনহাজের মা পারুল বিবি ছেলের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের কাছে আকুতি জানিয়ে বলেন, ‘হামার ছাওয়ালের লাশ নাকি শনাক্ত হয়নি, এজন্য পরে আসবে। সরকারের কাছে আবদার, হামার ছেলের লাশ য্যান দ্রুত নিয়ে আসে। শেষবারের মতো ছেলেটাক এক নজর দেখতে মন স্থির রাখতে পারোছি না।’

আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, প্রশাসনের উদ্যোগে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে মরদেহগুলো বিনা খরচে স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়। পরিচয় নিশ্চিত হওয়া আত্রাইয়ের সাতজনের মরদেহ গ্রহণের জন্য তাদের পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে শুক্রবার রাতের মধ্যে মরদেহগুলো নিজ নিজ এলাকায় পৌঁছাতে পারে।

ইউএনও আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের পর প্রাথমিকভাবে আত্রাইয়ের ১৩ জন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেলেও বর্তমানে উপজেলার ১১ জন এবং নওগাঁ সদর উপজেলার একজনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। অন্য মরদেহগুলোও দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।

দূতাবাস সূত্র জানিয়েছে, বাকি সাতজনের ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের মরদেহও দ্রুত দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রবাসে পরিবারের ভাগ্য বদলের আশায় যাওয়া এসব মানুষের মৃত্যুতে এখন স্বজনদের ঘরে নেমে এসেছে শোকের আবহ।

দুর্যোগ মোকাবিলায় নেপালকে সব ধরনের সহযোগিতার ঘোষণা ঢাকার

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৭, ২০২৬
দুর্যোগ মোকাবিলায় নেপালকে সব ধরনের সহযোগিতার ঘোষণা ঢাকার

নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। প্রতিবেশী দেশটিতে উদ্ভূত এই দুর্যোগ মোকাবিলায় ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযানে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতি ঘোষণা করেছে ঢাকা।

বুধবার (২৬ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নেপালে প্রাকৃতিক দুর্যোগে বহু মানুষের মৃত্যু ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় বাংলাদেশের জনগণ গভীরভাবে শোকাহত। বাংলাদেশ সরকার বর্তমান পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

নেপাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় এখনো শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যাও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার ও বাংলাদেশের জনগণ এই কঠিন সময়ে বন্ধুপ্রতিম নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি নিখোঁজদের দ্রুত উদ্ধার ও আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছে।

সহযোগিতার বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘দুর্যোগ-পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দিতে কাঠমান্ডুকে সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে ঢাকা। বিশেষ করে ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে নেপালকে সম্ভাব্য সব উপায়ে সহযোগিতা করা হবে।’

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে নেপালের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার দ্রুত পুনরুদ্ধার ও সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার বিষয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।

নেপালের পাশে থাকার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৭, ২০২৬
নেপালের পাশে থাকার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে এই সংকটকালীন মুহূর্তে বন্ধুপ্রতিম দেশটিকে যেকোনো ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে বাংলাদেশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (২৬ আগস্ট) নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহকে পাঠানো এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘নেপালে বিধ্বংসী বন্যায় প্রাণহানির খবরে আমি গভীরভাবে মর্মাহত ও ব্যথিত। বাংলাদেশের জনগণ এবং সরকারের পক্ষ থেকে আমি নেপালের প্রধানমন্ত্রী ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।’

নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এই কঠিন সময়ে নেপালের যেকোনো প্রয়োজনে আমরা পাশে আছি। ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযানে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত।’

এদিকে নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯৮ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও কয়েকশ মানুষ। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৪০৩ জন নিখোঁজের মধ্যে ৩৪১ জনই বিদেশি পর্যটক। নিখোঁজদের মধ্যে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের নাগরিকও রয়েছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। নেপালে আটকে পড়াদের উদ্ধার ও ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসায় সহায়তার হাত বাড়াতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো প্রস্তুত রয়েছে। তবে দুর্গম এলাকা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নেপালে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা গেছে।