১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মার্চ থেকে আগস্ট: বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর হিড়িকে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি দেশে

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
মার্চ থেকে আগস্ট: বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর হিড়িকে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি দেশে

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহে স্বস্তি এনে চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ১ শতাংশ। এ সময়ে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন ১ হাজার ৮৯৪ কোটি মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের ১ হাজার ৬৭৪ কোটি ডলারের তুলনায় ২২০ কোটি ডলার বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ ছয় মাসের মধ্যে পাঁচ মাসেই আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবাসী আয় বেড়েছে। এর মধ্যে আগস্টে প্রবৃদ্ধি ছিল সর্বোচ্চ ২২ দশমিক ৩ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চে দেশে আসে ৩৭৫ কোটি ডলার প্রবাসী আয়, যা আগের বছরের মার্চের ৩৩০ কোটি ডলারের তুলনায় ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। এপ্রিলে আসে ৩১৩ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি।

মে মাসে প্রবাসীরা পাঠান ৩৪৩ কোটি ডলার, যা এক বছর আগের একই মাসের তুলনায় ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। জুনে প্রবাসী আয় প্রায় স্থিতিশীল ছিল। এ মাসে আসে ২৮১ কোটি ডলার, যা আগের বছরের জুনে ছিল ২৮২ কোটি ডলার।

জুলাইয়ে আবার প্রবৃদ্ধির ধারা জোরালো হয়। এ মাসে দেশে আসে ২৮৬ কোটি ডলার, যা আগের বছরের জুলাইয়ের তুলনায় ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। আগস্টে আসে ২৯৬ কোটি ডলার, যা এক বছর আগের একই মাসের ২৪২ কোটি ডলারের তুলনায় ২২ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। ফলে ছয় মাসের মধ্যে আগস্টেই সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

ছয় মাসে দেশে প্রবাসী আয়ের প্রধান উৎস দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে ছিল সৌদি আরব। দেশটি থেকে এসেছে ৩০৮ কোটি ৮ লাখ ৫০ হাজার ডলার। এরপর যুক্তরাজ্য থেকে ২৯৪ কোটি ২ লাখ ৭০ হাজার ডলার, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ২২৬ কোটি ৭২ লাখ ২০ হাজার ডলার, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৭১ কোটি ৬৫ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং মালয়েশিয়া থেকে ১৪৮ কোটি ৭০ লাখ ৬০ হাজার ডলার প্রবাসী আয় এসেছে।

চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত এই পাঁচ দেশ থেকেই বাংলাদেশ পেয়েছে মোট ১ হাজার ১৫০ কোটি ডলার প্রবাসী আয়, যা এ সময়ে দেশে আসা মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ৬০ দশমিক ৭ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বাসসকে বলেন, প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের বহিঃখাতের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। এটি বৈধ ব্যাংকিং ও আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে কষ্টার্জিত অর্থ দেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ক্রমবর্ধমান আস্থার প্রতিফলন।

তিনি বলেন, প্রবাসীদের জন্য বৈধ পথে অর্থ পাঠানো আরও সহজ, দ্রুত ও সুবিধাজনক করতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে। একই সঙ্গে হুন্ডিসহ অবৈধ পথে অর্থ লেনদেন নিরুৎসাহিত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

আরিফ হোসেন খান বলেন, প্রবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারের বৈধ আর্থিক ব্যবস্থার ওপর আস্থার ইতিবাচক প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে প্রবাসী আয় বৃদ্ধির মধ্যে। তিনি বলেন, রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করা, ব্যাংকিং সেবার উন্নয়ন এবং বৈধ বৈদেশিক মুদ্রাবাজারকে আরও শক্তিশালী করতে সরকারের নেওয়া উদ্যোগ এ প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখছেন। প্রবাসী আয় বাড়াতে এবং তাদের জন্য আরও সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে সরকারের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।’

আরিফ হোসেন খান আশা প্রকাশ করেন, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ আরও শক্তিশালী হলে দেশের লেনদেনের ভারসাম্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হবে এবং বহিঃখাতে আরও স্থিতিশীলতা আসবে।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং আর্থিক ব্যবস্থার ওপর আস্থা পুনরুদ্ধারে সরকারের চলমান উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বেশি প্রবাসীকে বৈধ পথে তাদের আয় দেশে পাঠাতে উৎসাহিত করবে।

সরকার প্রবাসী কর্মী ও বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আসছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, রেমিট্যান্স সেবা আরও দ্রুত, নিরাপদ ও সহজলভ্য করতে নেওয়া উদ্যোগের ফলে প্রবাসী আয়ের ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকবে। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অবস্থান ও সামগ্রিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আরও শক্তিশালী হবে।

উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সালে মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর মধ্য দিয়ে দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে জনশক্তি রপ্তানির সূচনা হয়। এরপর ধীরে ধীরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি কর্মীদের অভিবাসন বিস্তৃত হয়েছে। সময়ের সঙ্গে দেশের অর্থনীতিতেও এ খাতের গুরুত্ব বেড়েছে। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স এখন বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান উৎস।

বর্তমানে বিশ্বের ১৭৬টি দেশে ১ কোটি ৫০ লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন।

মার্চ থেকে আগস্ট: বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর হিড়িকে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি দেশে

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
মার্চ থেকে আগস্ট: বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর হিড়িকে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি দেশে

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহে স্বস্তি এনে চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ১ শতাংশ। এ সময়ে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন ১ হাজার ৮৯৪ কোটি মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের ১ হাজার ৬৭৪ কোটি ডলারের তুলনায় ২২০ কোটি ডলার বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ ছয় মাসের মধ্যে পাঁচ মাসেই আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবাসী আয় বেড়েছে। এর মধ্যে আগস্টে প্রবৃদ্ধি ছিল সর্বোচ্চ ২২ দশমিক ৩ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চে দেশে আসে ৩৭৫ কোটি ডলার প্রবাসী আয়, যা আগের বছরের মার্চের ৩৩০ কোটি ডলারের তুলনায় ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। এপ্রিলে আসে ৩১৩ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি।

মে মাসে প্রবাসীরা পাঠান ৩৪৩ কোটি ডলার, যা এক বছর আগের একই মাসের তুলনায় ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। জুনে প্রবাসী আয় প্রায় স্থিতিশীল ছিল। এ মাসে আসে ২৮১ কোটি ডলার, যা আগের বছরের জুনে ছিল ২৮২ কোটি ডলার।

জুলাইয়ে আবার প্রবৃদ্ধির ধারা জোরালো হয়। এ মাসে দেশে আসে ২৮৬ কোটি ডলার, যা আগের বছরের জুলাইয়ের তুলনায় ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। আগস্টে আসে ২৯৬ কোটি ডলার, যা এক বছর আগের একই মাসের ২৪২ কোটি ডলারের তুলনায় ২২ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। ফলে ছয় মাসের মধ্যে আগস্টেই সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

ছয় মাসে দেশে প্রবাসী আয়ের প্রধান উৎস দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে ছিল সৌদি আরব। দেশটি থেকে এসেছে ৩০৮ কোটি ৮ লাখ ৫০ হাজার ডলার। এরপর যুক্তরাজ্য থেকে ২৯৪ কোটি ২ লাখ ৭০ হাজার ডলার, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ২২৬ কোটি ৭২ লাখ ২০ হাজার ডলার, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৭১ কোটি ৬৫ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং মালয়েশিয়া থেকে ১৪৮ কোটি ৭০ লাখ ৬০ হাজার ডলার প্রবাসী আয় এসেছে।

চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত এই পাঁচ দেশ থেকেই বাংলাদেশ পেয়েছে মোট ১ হাজার ১৫০ কোটি ডলার প্রবাসী আয়, যা এ সময়ে দেশে আসা মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ৬০ দশমিক ৭ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বাসসকে বলেন, প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের বহিঃখাতের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। এটি বৈধ ব্যাংকিং ও আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে কষ্টার্জিত অর্থ দেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ক্রমবর্ধমান আস্থার প্রতিফলন।

তিনি বলেন, প্রবাসীদের জন্য বৈধ পথে অর্থ পাঠানো আরও সহজ, দ্রুত ও সুবিধাজনক করতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে। একই সঙ্গে হুন্ডিসহ অবৈধ পথে অর্থ লেনদেন নিরুৎসাহিত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

আরিফ হোসেন খান বলেন, প্রবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারের বৈধ আর্থিক ব্যবস্থার ওপর আস্থার ইতিবাচক প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে প্রবাসী আয় বৃদ্ধির মধ্যে। তিনি বলেন, রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করা, ব্যাংকিং সেবার উন্নয়ন এবং বৈধ বৈদেশিক মুদ্রাবাজারকে আরও শক্তিশালী করতে সরকারের নেওয়া উদ্যোগ এ প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখছেন। প্রবাসী আয় বাড়াতে এবং তাদের জন্য আরও সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে সরকারের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।’

আরিফ হোসেন খান আশা প্রকাশ করেন, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ আরও শক্তিশালী হলে দেশের লেনদেনের ভারসাম্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হবে এবং বহিঃখাতে আরও স্থিতিশীলতা আসবে।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং আর্থিক ব্যবস্থার ওপর আস্থা পুনরুদ্ধারে সরকারের চলমান উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বেশি প্রবাসীকে বৈধ পথে তাদের আয় দেশে পাঠাতে উৎসাহিত করবে।

সরকার প্রবাসী কর্মী ও বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আসছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, রেমিট্যান্স সেবা আরও দ্রুত, নিরাপদ ও সহজলভ্য করতে নেওয়া উদ্যোগের ফলে প্রবাসী আয়ের ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকবে। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অবস্থান ও সামগ্রিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আরও শক্তিশালী হবে।

উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সালে মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর মধ্য দিয়ে দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে জনশক্তি রপ্তানির সূচনা হয়। এরপর ধীরে ধীরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি কর্মীদের অভিবাসন বিস্তৃত হয়েছে। সময়ের সঙ্গে দেশের অর্থনীতিতেও এ খাতের গুরুত্ব বেড়েছে। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স এখন বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান উৎস।

বর্তমানে বিশ্বের ১৭৬টি দেশে ১ কোটি ৫০ লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন।

প্রবাসীর ভোগান্তি কমাতে চালু হয়েছে অনলাইন সত্যায়ন ও ‘ই-অ্যাপোস্টিল’ ব্যবস্থা

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
প্রবাসীর ভোগান্তি কমাতে চালু হয়েছে অনলাইন সত্যায়ন ও ‘ই-অ্যাপোস্টিল’ ব্যবস্থা

প্রবাসীদের পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা দ্রুত, সহজ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। ইতোমধ্যে ১৭টি দেশের ২৭টি বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি সেবা চালু রয়েছে। পর্যায়ক্রমে মোট ৪১টি দেশে এই সেবা প্রসারে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিকের প্রশ্নের লিখিত জবাবে এসব কথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ই-পাসপোর্ট চালু থাকা মিশনগুলোতে প্রবাসীরা অনলাইনে আবেদন, সুবিধাজনক সময়ে বায়োমেট্রিক প্রদান এবং আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা জানার সুযোগ পাচ্ছেন। এনআইডি ও পাসপোর্ট দূতাবাস থেকে ইস্যু না হয়ে ঢাকা থেকে হওয়ায় প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন করতে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় রাখা হচ্ছে। পাসপোর্ট বিতরণের জন্য প্রস্তুত হলে আবেদনকারীকে এসএমএস বা ই-মেইলে জানিয়ে দেয়া হয়।

তিনি জানান, বিশেষ করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত প্রবাসীদের সমস্যা দূর করতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। ক্র্যাশ প্রোগ্রামের আওতায় ঢাকা থেকে কারিগরি দল পাঠিয়ে সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করা হচ্ছে।

এছাড়া কনস্যুলার সেবা সহজ করতে অনলাইন সত্যায়ন ও ‘ই-অ্যাপোস্টিল’ ব্যবস্থা চালু হয়েছে, যা প্রবাসীদের ভোগান্তি কমানোর পাশাপাশি সময় ও খরচ বাঁচাচ্ছে।

মন্ত্রী আরও জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের কর্মপরিকল্পনায় পাসপোর্ট, ভিসা এবং জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন যাচাই সহজ করতে একটি সমন্বিত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সব মিশনে অভিযোগ নিষ্পত্তিতে অনলাইন ‘গ্রিভ্যান্স রিড্রেস সিস্টেম’ চালু রয়েছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর উদ্যোগ: সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও নকশা প্রণয়ন শেষ

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর উদ্যোগ: সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও নকশা প্রণয়ন শেষ

ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন স্থাপনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিশদ নকশা প্রণয়নের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের অষ্টম দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ইলেকট্রিক ট্রেন কবে চালু হবে— এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ার পর বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা ও সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। অর্থায়ন প্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

তিনি জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এই রুটে ইলেকট্রিক ট্রেন পরিচালনা সম্ভব হবে। এতে ট্রেনের গড় গতি বাড়বে এবং যাতায়াতের সময় অনেকটাই কমে আসবে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরের দূরত্ব কমাতেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ঢাকা থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত সরাসরি ‘কর্ডলাইন’ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিশদ নকশা প্রণয়নের কাজ চলছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দুই শহরের দূরত্ব কমার পাশাপাশি ট্রেনের গড় গতি বৃদ্ধি পাবে। ফলে অল্প সময়ে ঢাকা-চট্টগ্রামের মধ্যে যাতায়াত করা যাবে।’

এ ছাড়া ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত পুরো রেলপথকে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে রূপান্তরের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, টঙ্গী-আখাউড়া এবং লাকসাম-চট্টগ্রাম অংশের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিশদ নকশা প্রণয়নের কাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে লাকসাম-চট্টগ্রাম ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

টঙ্গী-আখাউড়া অংশের প্রকল্প প্রস্তাব বা ডিপিপি প্রণয়নের কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আশা করা যাচ্ছে, এই প্রকল্প দুটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরে বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।’

এর আগে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক জানতে চান, ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে যাতায়াতের সময় ও দূরত্ব কমাতে ইলেকট্রিক বা বুলেট ট্রেন চালুর কোনো পরিকল্পনা সরকারের আছে কি না এবং থাকলে তা কবে নাগাদ বাস্তবায়ন হবে।

জবাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরে যাতায়াতের সময় ও দূরত্ব কমাতে সরকারের সমন্বিত পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

দুর্নীতি-জালিয়াতির অভিযোগের পর ডব্লিউএইচওর পদ ছাড়লেন সায়মা ওয়াজেদ

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
দুর্নীতি-জালিয়াতির অভিযোগের পর ডব্লিউএইচওর পদ ছাড়লেন সায়মা ওয়াজেদ

দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগের মধ্যেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালকের দায়িত্ব ছেড়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক তেদরোস আধানম গেব্রেয়াসুসের কাছে তাঁর দেওয়া পদত্যাগপত্র দেখেছে রয়টার্স।

বার্তা সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সায়মা ওয়াজেদের বিরুদ্ধে চীন ভ্রমণের সময় আর্থিক প্রতারণা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ এনেছে ডব্লিউএইচও। এ ছাড়া বাংলাদেশে অবৈধভাবে একটি জমি অধিগ্রহণের অভিযোগও তুলেছে সংস্থাটি। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পুতুল।

পদত্যাগপত্রে পুতুল জানিয়েছেন, ডব্লিউএইচওতে যোগ দেওয়ার আগেই তিনি ওই জমি পান। শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য একটি আইনের আওতায় তিনি ওই জমি পাওয়ার যোগ্য ছিলেন বলেও উল্লেখ করেন।

২০২৪ সালের শুরুর দিকে পাঁচ বছরের মেয়াদে ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন সায়মা ওয়াজেদ। ২০২৫ সালের মার্চে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলা করলে জুলাইয়ে সায়মা ওয়াজেদকে বেতন ছাড়া প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠায় ডব্লিউএইচও।

পদত্যাগপত্রে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল লিখেছেন, ‘আমি যে অঞ্চলের দেশগুলোর সেবা করার জন্য আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচিত হয়েছিলাম, আন্তরিকতার সঙ্গে তা করেছি। আপনি যেহেতু কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালনে বাধা দিয়ে যাচ্ছেন, তাই ডব্লিউএইচওর নেতৃত্বের প্রতি আমার সব আস্থা ও বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছি। তা ছাড়া, বেতন ছাড়া ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্তের প্রায় এক বছর পার হওয়ায় আমার আর্থিক পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে আমি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

এদিকে, ডব্লিউএইচও তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি। গত মাসে সংস্থাটি জানিয়েছিল, সায়মা ওয়াজেদ ছুটিতে আছেন। তবে গোপনীয়তা বজায় রাখার স্বার্থে তাঁর বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল তারা।

এর আগে জুলাইয়ে ডব্লিউএইচওকে দেওয়া এক চিঠিতে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ভ্রমণসংক্রান্ত আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেন। চিঠিতে বলা হয়, নিয়মিত ভ্রমণ খরচ ফেরত পাওয়ার আবেদন প্রক্রিয়া করতে গিয়ে একজন সহকারীর প্রশাসনিক ভুলের কারণে বিষয়টি ঘটেছে। ওই ঘটনায় ৯০১ ডলার গরমিলের অভিযোগ রয়েছে।

শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে অটিজম নিয়ে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পান। ওই যোগ্যতার বিষয়টি তিনি ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক তেদরোস আধানম গেব্রেয়াসুসকে জানিয়েছিলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুটি সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, সায়মা ওয়াজেদকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদ থেকে সরানোর পরিকল্পনাও করেছিল ডব্লিউএইচও। ১২ অক্টোবর ওই পদে নতুন মনোনয়ন ঘোষণা করবে সংস্থাটি। ডিসেম্বরে আবেদন যাচাইয়ের পর ২৪ জানুয়ারি নির্বাচন হবে।

ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক পরিচালকেরা বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী স্বাস্থ্য নীতিনির্ধারক হিসেবে বিবেচিত হন। রোগের প্রাদুর্ভাব ও জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দেওয়া এবং স্থানীয় পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ডব্লিউএইচওর নীতি বাস্তবায়ন তাঁদের অন্যতম দায়িত্ব।

শুরু হয়েছে সিআইপি আবেদনের প্রক্রিয়া

রেমিট্যান্স ও বিনিয়োগ বাড়াতে সিআইপি ক্যাটাগরি ও সংখ্যায় বড় পরিবর্তন

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
রেমিট্যান্স ও বিনিয়োগ বাড়াতে সিআইপি ক্যাটাগরি ও সংখ্যায় বড় পরিবর্তন

প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগ, রেমিট্যান্স পাঠানো ও রপ্তানি বাণিজ্যে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এবার সিআইপি মর্যাদার পরিধি বাড়াচ্ছে সরকার। তিনটি ক্যাটাগরিতে মোট ১৩৫ জন অনাবাসী বাংলাদেশিকে বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (সিআইপি) হিসেবে নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৭৫ জনকে নির্বাচিত করা হবে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানোর জন্য। এছাড়া দেশের শিল্পখাতে সরাসরি বিনিয়োগের জন্য ৫০ জন এবং বিদেশে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সঙ্গে যুক্ত ১০ জনকে সিআইপি মর্যাদা দেওয়া হবে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ২০২৫ সালের সিআইপি নির্বাচনের জন্য আবেদন আহ্বান করেছে। ‘বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (অনিবাসী বাংলাদেশি) নির্বাচন নীতিমালা, ২০১৮’-এর আওতায় বিদেশে বসবাসরত যোগ্য বাংলাদেশিরা অনলাইনে এ আবেদনের সুযোগ পাবেন।

রেমিট্যান্স পাঠানোয় ৭৫ জনের সুযোগ
নতুন নির্বাচনে দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ ৭৫ জনকে সিআইপি হিসেবে বাছাই করা হবে। এ জন্য ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে বাংলাদেশে অন্তত ১ লাখ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাঠাতে হবে।

প্রবাসীদের বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে এ স্বীকৃতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করা হচ্ছে। গত কয়েক বছরে রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা প্রবাসীদের সিআইপি মর্যাদা দেওয়ার ধারাবাহিকতাও রয়েছে।

শিল্পে বিনিয়োগে ৫০ জন
দেশের শিল্পখাতে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের জন্য রাখা হয়েছে প্রথম ক্যাটাগরি। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫০ জন নির্বাচিত হবেন।

যোগ্যতার জন্য ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের শিল্পখাতে মূলধন হিসেবে কমপক্ষে ৩ লাখ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বা তার বেশি বৈদেশিক মুদ্রা সরাসরি বিনিয়োগ করতে হবে।

বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে ১০ জন
তৃতীয় ক্যাটাগরিতে বিদেশে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সর্বোচ্চ ১০ জনকে সিআইপি করা হবে।

এ ক্যাটাগরিতে আবেদনের জন্য ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে কমপক্ষে ৩ লাখ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে হবে। প্রসিডস রিয়ালাইজেশন সার্টিফিকেট (পিআরসি) অনুযায়ী বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিকারক এবং অধিক মূল্য সংযোজনসম্পন্ন পণ্য রপ্তানিকারকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

সেপ্টেম্বরজুড়েই আবেদন
সিআইপি নির্বাচনের জন্য আবেদন করা যাবে ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত। নির্ধারিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন জমা দিতে হবে।

নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না। একই সঙ্গে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস বা মিশন কিংবা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে সরাসরি হার্ড কপি জমা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়নি।

আবেদন অসম্পূর্ণ বা ত্রুটিপূর্ণ হলে তা বাতিল বলে গণ্য হবে। কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই যেকোনো আবেদন কিংবা সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম বাতিল বা স্থগিত করার অধিকারও কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করেছে।

পাঁচ বছরে সিআইপি হয়েছেন ৩২৬ প্রবাসী
প্রবাসীদের বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানোর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে গত পাঁচ বছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ৩২৬ জন বাংলাদেশি সিআইপি মর্যাদা পেয়েছেন। এ তালিকায় সবচেয়ে এগিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত বাংলাদেশিরা।

শুধু রেমিট্যান্স পাঠানোর ভিত্তিতে গত পাঁচ বছরে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ১৪৯ জন বাংলাদেশি সিআইপি হয়েছেন। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দেশটি থেকে যথাক্রমে ৩০, ৩৭, ২৬, ১৬ ও ৪০ জন প্রবাসী এ মর্যাদা পেয়েছেন।

এ ছাড়া বিদেশে বাংলাদেশি পণ্যের আমদানিকারক হিসেবেও গত পাঁচ বছরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আরও ১০ জন প্রবাসী বাংলাদেশি সিআইপি মর্যাদা পেয়েছেন।

রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে ১ লাখ ডলারের শর্তে আবেদনের সুযোগ থাকায় প্রতি বছর সিআইপি হওয়ার আগ্রহ ও আবেদনের সংখ্যা বাড়ছে। এ প্রেক্ষাপটে আগের মতো সিআইপির সংখ্যা ৯০ জনে সীমাবদ্ধ না রেখে এবার তিনটি ক্যাটাগরিতে মোট ১৩৫ জন অনাবাসী বাংলাদেশিকে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

প্রবাসীদের বিনিয়োগ, বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানো এবং বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে অবদানের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি এসব খাতে আরও বেশি প্রবাসীকে সম্পৃক্ত করাই এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।