১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তিন মাসে সৌদি আরবে ৩৪ বাংলাদেশী প্রবাসীর মৃত্যু

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
তিন মাসে সৌদি আরবে ৩৪ বাংলাদেশী প্রবাসীর মৃত্যু

সৌদি আরবের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের লাখো মানুষের উপস্থিতি। জীবিকার তাগিদে দেশ ছেড়ে যাওয়া এসব মানুষের অনেকেরই কর্মস্থল নির্মাণশিল্প, কারখানা, পরিবহন, দোকান কিংবা কৃষিখাত। কিন্তু চলতি বছরের জুন থেকে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত তিন মাসে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য যাচাই করে ১২টি পৃথক ঘটনায় অন্তত ৩৪ বাংলাদেশী নাগরিকের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।

তালিকাটি সরকারি কোনো পূর্ণাঙ্গ মৃত্যুর পরিসংখ্যান না হলেও সংবাদমাধ্যমে শনাক্ত হওয়া ঘটনাগুলোর ভিত্তিতে তৈরি একটি ন্যূনতম হিসাব। একই ঘটনার একাধিক প্রতিবেদন বাদ দিয়ে ঘটনাগুলো আলাদা করে হিসাব করা হয়েছে।

সবচেয়ে বড় প্রাণহানির ঘটনা ঘটে আগস্ট মাসে। সৌদি আরবের রিয়াদের একটি সোফা কারখানায়। আগুনে মারা যান ১৬ বাংলাদেশী শ্রমিক। এর বাইরে সড়ক দুর্ঘটনা, নির্মাণকাজের দুর্ঘটনা এবং দুটি হত্যাকাণ্ডও রয়েছে।

তিন মাসের হিসাব বলছে কী?
মাসভিত্তিক হিসাব করলে চিত্রটি আরও স্পষ্ট। তথ্য বলছে, চলতি বছরের জুন মাসে ৩টি ঘটনায় অন্তত তিনজন প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। জুলাই মাসে পৃথক ৪টি ঘটনায় ৮ জনের মৃত্যু সংবাদ প্রকাশ করে গণমাধ্যমগুলো। গেল আগস্ট মাসে মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। গণমাধ্যমগুলো বলছে, ৪টি ঘটনায় ১৯ জন প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া চলতি সেপ্টেম্বর মাসের ১ থেকে ৮ তারিখ পর্যন্ত ১টি ঘটনায় অন্তত ৪ জন প্রবাসী বাংলাদেশীর প্রাণহানি ঘটে।

অর্থাৎ তিন মাসে মোট ১২টি ঘটনায় ৩৪ জন। মৃত্যুর ধরন বিশ্লেষণ করলে অন্তত ১৪ জন সড়ক দুর্ঘটনায়, ১৮ জন কর্মস্থল বা কারখানা-সংশ্লিষ্ট দুর্ঘটনায় এবং ২ জন হত্যাকাণ্ডে মারা গেছেন।

কর্মক্ষেত্রের মৃত্যুর বড় অংশই এসেছে একটি ঘটনা থেকে, রিয়াদের সোফা কারখানার অগ্নিকাণ্ড। সেখানে একসঙ্গে প্রাণ হারিয়েছেন ১৬ জন।

জুনেই শুরু, জুলাইয়ে বাড়ে প্রাণহানি
১৭ জুন আল-জউফে কৃষি খামারে কাজ শেষে ফেরার পথে রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির গাড়ির ধাক্কায় মারা যান ফরিদপুরের গিয়াস উদ্দিন শিকদার (৬০)। এর মাত্র তিন দিন পর, ২০ জুন সৌদি আরবে একটি ভবনে কাজ করার সময় দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের মহিন উদ্দিন ভুঁইয়া।

২১ জুন কর্মস্থলে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের ২৪ বছর বয়সী নাহিদ হাসান শান্ত।

জুলাইয়ে প্রাণহানির পরিমাণ আরও বাড়ে!
৪ জুলাই রিয়াদের অলাইয়া এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনের লিফটের ফাঁকা শ্যাফটে পড়ে মারা যান জয় আহমদ ও মোহাম্মদ মোতাহার হোসাইন। দুজনই একই প্রতিষ্ঠানের অধীনে নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। তাদের মরদেহ ১৭ জুলাই বাংলাদেশে পৌঁছায়। ১৩ জুলাই বাহদাহ এলাকায় ডিউটি শেষে ফেরার সময় দ্রুতগতির গাড়ির ধাক্কায় মারা যান কুমিল্লার তোফায়েল হোসেন (৩২)।

১৫ জুলাই রিয়াদ থেকে জেদ্দা যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান দুই সহোদর ফয়েজ আহমেদ সজীব (২৯) ও ফরহাদ হোসেন সুজন (২১)। ২৮ জুলাই তাদের পাশাপাশি দাফন করা হয়।

এর এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পর, ২৩ জুলাই ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে রিয়াদ থেকে মক্কার পথে থাকা একটি পরিবার ভয়াবহ দুর্ঘটনার মুখে পড়ে। পেছন থেকে একটি ভারী যান তাদের গাড়িকে ধাক্কা দিলে তানিয়া তাহমিনা রিনা (৪৫) এবং তার দুই সন্তান তাসবিক ও জারা মারা যায়। আহত হন পরিবারের অন্য সদস্যরা।

আগস্টে এক ঘটনাতেই ১৬ মৃত্যু
আগস্টের ঘটনাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ৯ আগস্টের অগ্নিকাণ্ড। রিয়াদের শিফা/মানফুয়া এলাকার একটি সোফা কারখানায় আগুনে ১৬ বাংলাদেশী শ্রমিকের মৃত্যু হয়। প্রাথমিকভাবে আগুনের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের কথা বলা হয়েছিল।

এই ঘটনার পর মরদেহ শনাক্ত করতেও সময় লেগেছে। প্রথম ধাপে নয়জনের পরিচয় নিশ্চিত করে তাদের মরদেহ ২৭ আগস্ট বাংলাদেশে পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে আত্রাইয়ের সাতজন, নাটোরের নলডাঙ্গার একজন এবং রাজশাহীর বাগমারার একজন ছিলেন।

বাকি সাতজনের পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজন হয়। ৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ১৬ জনের পরিচয় শনাক্ত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। তবে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রকাশ্য সংবাদে বাকি সাতজনের মরদেহ বাংলাদেশে ফেরানোর নির্ভরযোগ্য তারিখ পাওয়া যায়নি।

এই ঘটনায় আরেকটি বিষয়ও নজরে আসে, ঘটনার শুরুর দিকের প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা ও জেলা পরিচয় নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে পার্থক্য ছিল। পরবর্তী সরকারি/দূতাবাস-ভিত্তিক তথ্যের মাধ্যমে ১৬ জনের সংখ্যা নিশ্চিত হয়।

দুর্ঘটনার বাইরে দুই হত্যাকাণ্ড
এই সময়ের সব মৃত্যু যে দুর্ঘটনাজনিত, তা নয়। ৪ আগস্ট রিয়াদের হারা এলাকায় নিজ বাসায় গাজী জাকির হোসেনকে গলা কেটে ও ছুরিকাঘাত করে হত্যার অভিযোগ ওঠে। পরিবারের পক্ষ থেকে তার কাছে থাকা অর্থ লুটের কথাও জানানো হয়। ঘটনার ২২ দিন পর, ২৭ আগস্ট তার মরদেহ বাংলাদেশে পৌঁছায়।

আরেকটি হত্যাকাণ্ড ঘটে ৩০ আগস্ট তায়েফের হাওয়াইয়া এলাকায়। সেখানে এক সৌদি তরুণের গুলিতে নিহত হন কামরুল জামান। পরে ওই হামলাকারী নিজেও আত্মহত্যা করে। ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী কামরুলের মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছিল।

আগস্টের আরও দুটি সড়ক দুর্ঘটনা
১০ আগস্ট জিজানে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে ইলেকট্রিক বাইকে থাকা মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের জাকির হোসেনকে পেছন থেকে একটি মালবাহী গাড়ি ধাক্কা দেয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ১৫ আগস্ট মদিনায় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান চট্টগ্রামের রাউজানের নুরুল মোস্তফা রাফাত (২৮)। তিনি একটি গ্রোসারি দোকানে কাজ করতেন।

দেশে ফেরার পথেও মৃত্যু
সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের ঘটনাটি এই তালিকায় আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। ৭ সেপ্টেম্বর তায়েফের আল-খুরমা এলাকায় জেদ্দা বিমানবন্দরের দিকে যাওয়ার পথে গাড়ি দুর্ঘটনায় চার বাংলাদেশী মারা যান। তাদের মধ্যে আব্দুল করিম ও খালিদ আহমদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে; অপর দুজনের পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া চলছিল।

সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয়, তারা সৌদি আরবে দীর্ঘদিন থাকার পর দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন এবং বিমানবন্দরের পথেই দুর্ঘটনার শিকার হন। ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাদের মরদেহ বাংলাদেশে পৌঁছায়নি।

মৃত্যুর পরও আরেক লড়াই: মরদেহ ফেরত
এই তিন মাসের ঘটনাগুলো শুধু মৃত্যুর সংখ্যাই দেখায় না; মরদেহ দেশে ফেরানোর জটিলতাও সামনে আনে। কোনো কোনো মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরেছে, আবার কোনো ক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহ লেগেছে। জাকির হোসেনের মরদেহ দেশে পৌঁছাতে ২২ দিন লেগেছে। সোফা কারখানার আগুনে নিহত ১৬ জনের ক্ষেত্রে পরিচয় শনাক্ত করতেই ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজন হয়েছে।

আবার জুন ও জুলাইয়ের কয়েকটি ঘটনায় প্রকাশ্য সংবাদে মরদেহ দেশে ফেরার নির্দিষ্ট তারিখ পাওয়া যায়নি।

এখানে একটি বিষয় আলাদা করে দেখা জরুরি, মৃত্যুর তারিখ এবং মরদেহ দেশে ফেরার তারিখ এক নয়। ফলে শুধু দেশে মরদেহ আসার খবর ধরে প্রবাসী মৃত্যুর সময়কাল হিসাব করলে প্রকৃত চিত্র বিকৃত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

যে প্রশ্নগুলো থেকে যায়
এই ঘটনাগুলোকে বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা হিসেবে দেখলে হয়তো প্রতিটি ঘটনার আলাদা ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে। কিন্তু ধারাবাহিকভাবে ঘটনাগুলো পাশাপাশি রাখলে কয়েকটি প্রশ্ন সামনে আসে।

নির্মাণকাজে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর? কর্মস্থলে ঝুঁকি মূল্যায়ন ও জরুরি নিরাপত্তা প্রটোকল কীভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে? সড়কে কর্মস্থলে যাতায়াতকারী প্রবাসীদের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত? আর বড় কোনো দুর্ঘটনার পর মরদেহ শনাক্ত ও দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়ায় কোথায় কোথায় সময় লাগছে?

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এই মৃত্যুগুলোর কতগুলো নিছক অনিবার্য দুর্ঘটনা, আর কতগুলো যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলে এড়ানো সম্ভব ছিল?

এই প্রশ্নের উত্তর পেতে শুধু মৃত্যুর সংখ্যা গোনা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সৌদি আরবে বাংলাদেশী শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ, নিয়োগকর্তার নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পরিবহনব্যবস্থা, দুর্ঘটনার তদন্ত এবং দূতাবাসের সহায়তা ব্যবস্থার আরও গভীর অনুসন্ধান। কারণ ৩৪টি মৃত্যু শেষ পর্যন্ত শুধু ৩৪টি সংখ্যা নয়, প্রতিটি সংখ্যার পেছনে রয়েছে একটি পরিবার, একটি অসমাপ্ত জীবন এবং দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা স্বজনদের দীর্ঘ অনিশ্চয়তা।

ওমানের উন্নয়নে বাংলাদেশি কর্মীদের অবদানের ভূয়সী প্রশংসা রাজপরিবারের

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
ওমানের উন্নয়নে বাংলাদেশি কর্মীদের অবদানের ভূয়সী প্রশংসা রাজপরিবারের

ওমানের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশি কর্মীদের মূল্যবান অবদানের প্রশংসা করেছেন দেশটির রাজপরিবারের সদস্য আল সাইয়্যিদ মোহাম্মদ সালিম আলী আল সাইয়্যিদ।

একই সঙ্গে তিনি দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ সব কথা বলেন।

মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে শামা ওবায়েদ ইসলাম বাংলাদেশ ও ওমানের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। বিশেষ করে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ওমানের শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার সম্ভাবনার ওপর জোর দেন তিনি।

ওমানের রাজপরিবারের সদস্য আল সাইয়্যিদ দেশটির উন্নয়ন ও অর্থনীতিতে প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের ভূমিকার কথা স্বীকার করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ও ওমানের মধ্যে পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতা আরো প্রসারিত করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে এবং ওমানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে ঢাকা যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তারই অংশ হিসেবে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ওমানের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ফাথিয়া আহমেদ আল বালুশি এবং প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

তিন মাসে সৌদি আরবে ৩৪ বাংলাদেশী প্রবাসীর মৃত্যু

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
তিন মাসে সৌদি আরবে ৩৪ বাংলাদেশী প্রবাসীর মৃত্যু

সৌদি আরবের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের লাখো মানুষের উপস্থিতি। জীবিকার তাগিদে দেশ ছেড়ে যাওয়া এসব মানুষের অনেকেরই কর্মস্থল নির্মাণশিল্প, কারখানা, পরিবহন, দোকান কিংবা কৃষিখাত। কিন্তু চলতি বছরের জুন থেকে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত তিন মাসে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য যাচাই করে ১২টি পৃথক ঘটনায় অন্তত ৩৪ বাংলাদেশী নাগরিকের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।

তালিকাটি সরকারি কোনো পূর্ণাঙ্গ মৃত্যুর পরিসংখ্যান না হলেও সংবাদমাধ্যমে শনাক্ত হওয়া ঘটনাগুলোর ভিত্তিতে তৈরি একটি ন্যূনতম হিসাব। একই ঘটনার একাধিক প্রতিবেদন বাদ দিয়ে ঘটনাগুলো আলাদা করে হিসাব করা হয়েছে।

সবচেয়ে বড় প্রাণহানির ঘটনা ঘটে আগস্ট মাসে। সৌদি আরবের রিয়াদের একটি সোফা কারখানায়। আগুনে মারা যান ১৬ বাংলাদেশী শ্রমিক। এর বাইরে সড়ক দুর্ঘটনা, নির্মাণকাজের দুর্ঘটনা এবং দুটি হত্যাকাণ্ডও রয়েছে।

তিন মাসের হিসাব বলছে কী?
মাসভিত্তিক হিসাব করলে চিত্রটি আরও স্পষ্ট। তথ্য বলছে, চলতি বছরের জুন মাসে ৩টি ঘটনায় অন্তত তিনজন প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। জুলাই মাসে পৃথক ৪টি ঘটনায় ৮ জনের মৃত্যু সংবাদ প্রকাশ করে গণমাধ্যমগুলো। গেল আগস্ট মাসে মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। গণমাধ্যমগুলো বলছে, ৪টি ঘটনায় ১৯ জন প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া চলতি সেপ্টেম্বর মাসের ১ থেকে ৮ তারিখ পর্যন্ত ১টি ঘটনায় অন্তত ৪ জন প্রবাসী বাংলাদেশীর প্রাণহানি ঘটে।

অর্থাৎ তিন মাসে মোট ১২টি ঘটনায় ৩৪ জন। মৃত্যুর ধরন বিশ্লেষণ করলে অন্তত ১৪ জন সড়ক দুর্ঘটনায়, ১৮ জন কর্মস্থল বা কারখানা-সংশ্লিষ্ট দুর্ঘটনায় এবং ২ জন হত্যাকাণ্ডে মারা গেছেন।

কর্মক্ষেত্রের মৃত্যুর বড় অংশই এসেছে একটি ঘটনা থেকে, রিয়াদের সোফা কারখানার অগ্নিকাণ্ড। সেখানে একসঙ্গে প্রাণ হারিয়েছেন ১৬ জন।

জুনেই শুরু, জুলাইয়ে বাড়ে প্রাণহানি
১৭ জুন আল-জউফে কৃষি খামারে কাজ শেষে ফেরার পথে রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির গাড়ির ধাক্কায় মারা যান ফরিদপুরের গিয়াস উদ্দিন শিকদার (৬০)। এর মাত্র তিন দিন পর, ২০ জুন সৌদি আরবে একটি ভবনে কাজ করার সময় দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের মহিন উদ্দিন ভুঁইয়া।

২১ জুন কর্মস্থলে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের ২৪ বছর বয়সী নাহিদ হাসান শান্ত।

জুলাইয়ে প্রাণহানির পরিমাণ আরও বাড়ে!
৪ জুলাই রিয়াদের অলাইয়া এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনের লিফটের ফাঁকা শ্যাফটে পড়ে মারা যান জয় আহমদ ও মোহাম্মদ মোতাহার হোসাইন। দুজনই একই প্রতিষ্ঠানের অধীনে নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। তাদের মরদেহ ১৭ জুলাই বাংলাদেশে পৌঁছায়। ১৩ জুলাই বাহদাহ এলাকায় ডিউটি শেষে ফেরার সময় দ্রুতগতির গাড়ির ধাক্কায় মারা যান কুমিল্লার তোফায়েল হোসেন (৩২)।

১৫ জুলাই রিয়াদ থেকে জেদ্দা যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান দুই সহোদর ফয়েজ আহমেদ সজীব (২৯) ও ফরহাদ হোসেন সুজন (২১)। ২৮ জুলাই তাদের পাশাপাশি দাফন করা হয়।

এর এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পর, ২৩ জুলাই ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে রিয়াদ থেকে মক্কার পথে থাকা একটি পরিবার ভয়াবহ দুর্ঘটনার মুখে পড়ে। পেছন থেকে একটি ভারী যান তাদের গাড়িকে ধাক্কা দিলে তানিয়া তাহমিনা রিনা (৪৫) এবং তার দুই সন্তান তাসবিক ও জারা মারা যায়। আহত হন পরিবারের অন্য সদস্যরা।

আগস্টে এক ঘটনাতেই ১৬ মৃত্যু
আগস্টের ঘটনাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ৯ আগস্টের অগ্নিকাণ্ড। রিয়াদের শিফা/মানফুয়া এলাকার একটি সোফা কারখানায় আগুনে ১৬ বাংলাদেশী শ্রমিকের মৃত্যু হয়। প্রাথমিকভাবে আগুনের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের কথা বলা হয়েছিল।

এই ঘটনার পর মরদেহ শনাক্ত করতেও সময় লেগেছে। প্রথম ধাপে নয়জনের পরিচয় নিশ্চিত করে তাদের মরদেহ ২৭ আগস্ট বাংলাদেশে পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে আত্রাইয়ের সাতজন, নাটোরের নলডাঙ্গার একজন এবং রাজশাহীর বাগমারার একজন ছিলেন।

বাকি সাতজনের পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজন হয়। ৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ১৬ জনের পরিচয় শনাক্ত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। তবে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রকাশ্য সংবাদে বাকি সাতজনের মরদেহ বাংলাদেশে ফেরানোর নির্ভরযোগ্য তারিখ পাওয়া যায়নি।

এই ঘটনায় আরেকটি বিষয়ও নজরে আসে, ঘটনার শুরুর দিকের প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা ও জেলা পরিচয় নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে পার্থক্য ছিল। পরবর্তী সরকারি/দূতাবাস-ভিত্তিক তথ্যের মাধ্যমে ১৬ জনের সংখ্যা নিশ্চিত হয়।

দুর্ঘটনার বাইরে দুই হত্যাকাণ্ড
এই সময়ের সব মৃত্যু যে দুর্ঘটনাজনিত, তা নয়। ৪ আগস্ট রিয়াদের হারা এলাকায় নিজ বাসায় গাজী জাকির হোসেনকে গলা কেটে ও ছুরিকাঘাত করে হত্যার অভিযোগ ওঠে। পরিবারের পক্ষ থেকে তার কাছে থাকা অর্থ লুটের কথাও জানানো হয়। ঘটনার ২২ দিন পর, ২৭ আগস্ট তার মরদেহ বাংলাদেশে পৌঁছায়।

আরেকটি হত্যাকাণ্ড ঘটে ৩০ আগস্ট তায়েফের হাওয়াইয়া এলাকায়। সেখানে এক সৌদি তরুণের গুলিতে নিহত হন কামরুল জামান। পরে ওই হামলাকারী নিজেও আত্মহত্যা করে। ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী কামরুলের মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছিল।

আগস্টের আরও দুটি সড়ক দুর্ঘটনা
১০ আগস্ট জিজানে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে ইলেকট্রিক বাইকে থাকা মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের জাকির হোসেনকে পেছন থেকে একটি মালবাহী গাড়ি ধাক্কা দেয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ১৫ আগস্ট মদিনায় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান চট্টগ্রামের রাউজানের নুরুল মোস্তফা রাফাত (২৮)। তিনি একটি গ্রোসারি দোকানে কাজ করতেন।

দেশে ফেরার পথেও মৃত্যু
সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের ঘটনাটি এই তালিকায় আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। ৭ সেপ্টেম্বর তায়েফের আল-খুরমা এলাকায় জেদ্দা বিমানবন্দরের দিকে যাওয়ার পথে গাড়ি দুর্ঘটনায় চার বাংলাদেশী মারা যান। তাদের মধ্যে আব্দুল করিম ও খালিদ আহমদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে; অপর দুজনের পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া চলছিল।

সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয়, তারা সৌদি আরবে দীর্ঘদিন থাকার পর দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন এবং বিমানবন্দরের পথেই দুর্ঘটনার শিকার হন। ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাদের মরদেহ বাংলাদেশে পৌঁছায়নি।

মৃত্যুর পরও আরেক লড়াই: মরদেহ ফেরত
এই তিন মাসের ঘটনাগুলো শুধু মৃত্যুর সংখ্যাই দেখায় না; মরদেহ দেশে ফেরানোর জটিলতাও সামনে আনে। কোনো কোনো মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরেছে, আবার কোনো ক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহ লেগেছে। জাকির হোসেনের মরদেহ দেশে পৌঁছাতে ২২ দিন লেগেছে। সোফা কারখানার আগুনে নিহত ১৬ জনের ক্ষেত্রে পরিচয় শনাক্ত করতেই ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজন হয়েছে।

আবার জুন ও জুলাইয়ের কয়েকটি ঘটনায় প্রকাশ্য সংবাদে মরদেহ দেশে ফেরার নির্দিষ্ট তারিখ পাওয়া যায়নি।

এখানে একটি বিষয় আলাদা করে দেখা জরুরি, মৃত্যুর তারিখ এবং মরদেহ দেশে ফেরার তারিখ এক নয়। ফলে শুধু দেশে মরদেহ আসার খবর ধরে প্রবাসী মৃত্যুর সময়কাল হিসাব করলে প্রকৃত চিত্র বিকৃত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

যে প্রশ্নগুলো থেকে যায়
এই ঘটনাগুলোকে বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা হিসেবে দেখলে হয়তো প্রতিটি ঘটনার আলাদা ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে। কিন্তু ধারাবাহিকভাবে ঘটনাগুলো পাশাপাশি রাখলে কয়েকটি প্রশ্ন সামনে আসে।

নির্মাণকাজে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর? কর্মস্থলে ঝুঁকি মূল্যায়ন ও জরুরি নিরাপত্তা প্রটোকল কীভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে? সড়কে কর্মস্থলে যাতায়াতকারী প্রবাসীদের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত? আর বড় কোনো দুর্ঘটনার পর মরদেহ শনাক্ত ও দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়ায় কোথায় কোথায় সময় লাগছে?

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এই মৃত্যুগুলোর কতগুলো নিছক অনিবার্য দুর্ঘটনা, আর কতগুলো যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলে এড়ানো সম্ভব ছিল?

এই প্রশ্নের উত্তর পেতে শুধু মৃত্যুর সংখ্যা গোনা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সৌদি আরবে বাংলাদেশী শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ, নিয়োগকর্তার নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পরিবহনব্যবস্থা, দুর্ঘটনার তদন্ত এবং দূতাবাসের সহায়তা ব্যবস্থার আরও গভীর অনুসন্ধান। কারণ ৩৪টি মৃত্যু শেষ পর্যন্ত শুধু ৩৪টি সংখ্যা নয়, প্রতিটি সংখ্যার পেছনে রয়েছে একটি পরিবার, একটি অসমাপ্ত জীবন এবং দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা স্বজনদের দীর্ঘ অনিশ্চয়তা।

অস্ট্রেলিয়ায় ডেপুটি মেয়র হলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এলিজা রহমান

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
অস্ট্রেলিয়ায় ডেপুটি মেয়র হলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এলিজা রহমান

অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সরকারে নেতৃত্বের নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এলিজা আজাদ রহমান। নিউ সাউথ ওয়েলসের সিডনির ক্যামডেন কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সরকারে এই প্রথম কোনো বাংলাদেশি নারী ডেপুটি মেয়রের দায়িত্ব পেলেন।

মঙ্গলবার রাতে ক্যামডেন সিটি কাউন্সিলকক্ষে অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হন এলিজা আজাদ।

তার এই নির্বাচনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সিডনির বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শুরু হয় আনন্দ-উচ্ছ্বাস। প্রবাসী বাংলাদেশিরা মনে করছেন, এলিজার এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; অস্ট্রেলিয়ার মূলধারার রাজনীতি ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতা ও অস্ট্রেলিয়ার প্রেস বাংলা মিডিয়ার প্রেসিডেন্ট রহমাতউল্লাহর নেতৃত্বে প্রবাসীরা এলিজাকে অভিনন্দন জানান। রহমাতউল্লাহ বলেন, তার বিজয় বহুজাতিক ও বহুসাংস্কৃতিক অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশিদের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করেছে।

তার মতে, এলিজার এই অর্জন অস্ট্রেলিয়ায় বেড়ে ওঠা বাংলাদেশি প্রজন্মকে মূলধারার কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রেও উৎসাহ দেবে।

‘অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে অবস্থান তৈরি সহজ ছিল না’
ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় এলিজা আজাদ বলেন, বাংলাদেশি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে নিজের অবস্থান তৈরি করা সহজ ছিল না। তবে তার লক্ষ্য শুধু নিজের রাজনৈতিক পথ তৈরি করা নয়; নারীরা যাতে রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্বে আরও বেশি জায়গা করে নিতে পারেন, সেটিও তিনি চান।

এই পথচলায় পরিবারের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেছেন এলিজা। স্বামী, সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতা পেয়েছেন বলে জানান তিনি।

একই সঙ্গে বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং স্থানীয় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কমিউনিটির সমর্থনকেও নিজের অনুপ্রেরণার বড় উৎস হিসেবে উল্লেখ করেন এলিজা আজাদ।

প্রবাসীদের প্রত্যাশা আরও বড়
এলিজা আজাদ ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় সিডনির বাংলাদেশি কমিউনিটিতে যেমন উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে, তেমনি তাকে ঘিরে প্রত্যাশাও বেড়েছে।

সিডনির ডেনহ্যাম কোর্টের বাসিন্দা বোরহান খান লিমন বলেন, এলিজা দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে তার এই অবস্থান প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন দাবিদাওয়া তুলে ধরার পাশাপাশি সামগ্রিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা করেন।

অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সরকারে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের রাজনৈতিক উপস্থিতি অবশ্য একেবারে নতুন নয়। এর আগে সুমন সাহা সিডনির কাম্বারল্যান্ড সিটি কাউন্সিল এবং মাসুদ খলিল ক্যাম্বেলটাউন সিটি কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে মাসুদ চৌধুরী ক্যাম্বেলটাউন সিটি কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তবে এলিজা আজাদের নির্বাচনের তাৎপর্য আলাদা, অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সরকারে প্রথম বাংলাদেশি নারী হিসেবে ডেপুটি মেয়রের দায়িত্বে বসেছেন তিনি। তার এই পথচলা অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক পরিসরে বাংলাদেশি নারীদের অংশগ্রহণের নতুন সম্ভাবনার কথাই সামনে আনছে।

কাতার প্রবাসীকে হত্যায় প্রেমিকা নেহার স্বীকারোক্তি, তার আরেক প্রেমিক রিমান্ডে

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
কাতার প্রবাসীকে হত্যায় প্রেমিকা নেহার স্বীকারোক্তি, তার আরেক প্রেমিক রিমান্ডে

রাজধানীর সবুজবাগে যুবক সিফাত উল্লাহকে ডেকে এনে হত্যার মামলায় তার প্রেমিকা নাফিজা শেখ নেহা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

একই মামলায় গ্রেফতার নেহার আরেক প্রেমিক সাজিদুল ইসলাম সাজিদ ও তার বন্ধু আল আমিন হোসেন জয়কে তিনদিন করে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার আদালতে তিন আসামিকে হাজির করা হলে তাদের বিষয়ে পৃথক আদেশ দেন দুই মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সবুজবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) গোলাপ উদ্দিন মাহমুদ আসামি নেহার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন। অন্যদিকে সাজিদ ও জয়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়।

আরও পড়ুন

বান্ধবীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে কাতার প্রবাসী যুবক খুন

ত্রিভুজ প্রেমের দ্বন্দ্বে খুন হন কাতার প্রবাসী সিফাত, প্রেমিকাসহ গ্রেফতার ৩

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা নেহার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। আর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন শুনানি শেষে সাজিদ ও জয়ের তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

সাজিদের পক্ষে তার আইনজীবী রিমান্ড বাতিলের পাশাপাশি জামিনের আবেদন করেন। তবে জয়ের পক্ষে কোনো আবেদন করা হয়নি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মমিনুল ইসলাম।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) শাহজাহানপুরের ঝিলপাড়া এলাকা থেকে জয় এবং কায়েতপাড়া বালুর মাঠ এলাকা থেকে সাজিদকে গ্রেফতার করে র‍্যাব। আর ঘটনার পর নেহাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

আরও পড়ুন

ঘরে ঢুকে কাতার প্রবাসীর স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা

ঘরে ঢুকে কাতার প্রবাসীর স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
ঘরে ঢুকে কাতার প্রবাসীর স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা

মাদারীপুরে ঘরে ঢুকে এক কাতার প্রবাসীর স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। হত্যার পর আইভী আক্তারের ব্যবহৃত আইফোন নিয়ে পালিয়ে গেছে তারা।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার কালিকাপুরে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত আইভী আক্তার (১৮) মাদারীপুর সদর উপজেলার কালিকাপুর এলাকার আসলাম শরীফের মেয়ে ও শরিয়তপুরের কাতার প্রবাসী মো. ফেরদৌসের স্ত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে ছোটবেলা থেকেই চাচা কালাম শরীফের বাড়িতে থাকতেন আইভী আক্তার। এক বছর আগে শরিয়তপুর শহরের বাসিন্দা মো. ফেরদৌসের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর পরিবারে স্বচ্ছলতা ফেরাতে ফেরদৌস কাতারে চলে যান।

আরও পড়ুন

বান্ধবীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে কাতার প্রবাসী যুবক খুন

ত্রিভুজ প্রেমের দ্বন্দ্বে খুন হন কাতার প্রবাসী সিফাত, প্রেমিকাসহ গ্রেফতার ৩

সিফাতকে ডেকে এনে হত্যায় প্রেমিকা নেহার স্বীকারোক্তি, তার আরেক প্রেমিক রিমান্ডে

স্থানীয়রা আরও জানায়, স্বামী বিদেশে থাকায় সম্প্রতি আইভী চাচার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। সন্ধ্যায় চাচা কালাম শরীফ নামাজ আদায় করতে স্থানীয় একটি মসজিদে যান। পরিবারের বাকি সদস্যরা চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার জন্য মাদারীপুর শহরে অবস্থান করছিলেন। পরে চাচা নামাজ শেষে বাড়িতে গিয়ে ঘরের মধ্যে রক্তাক্ত অবস্থায় আইভীকে মৃত দেখতে পান।

কালামের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে পুলিশে খবর দেয়। পরে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ ময়না তদন্তের জন্য মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আইভীর ব্যবহৃত আইফোন চুরির উদ্দেশে ঘরে ঢোকে চোরচক্র। তাদের চিনে ফেলায় প্রবাসীর স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করে আইফোন নিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

নিহতের চাচা কালাম শরীফ বলেন, ‘নামাজ শেষে বাড়িতে ফিরে রক্তাক্ত অবস্থায় আইভীকে মৃত দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেই। যারা এই ঘটনার সাথে জড়িত তাদের সবাইর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। চুরি নাকি পারিবারিক বিরোধে এই হত্যাকান্ড খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ’

ওসি বলেন, ‘এই ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করা সম্ভব না হলেও অভিযান ও তদন্ত চলমান রয়েছে।’