১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নভেম্বরের নির্বাচনের পরই যুদ্ধ থামার আশা ট্রাম্পের, তবে ভিন্ন মত শীর্ষ উপদেষ্টাদের

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
নভেম্বরের নির্বাচনের পরই যুদ্ধ থামার আশা ট্রাম্পের, তবে ভিন্ন মত শীর্ষ উপদেষ্টাদের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আশা করছেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরই ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটবে। কারণ, তার মতে ইরান এখন অত্যন্ত মরিয়া।

তবে তার শীর্ষ উপদেষ্টারা ব্যক্তিগতভাবে সতর্ক করে বলেছেন, এই সংঘাত ২০২৯ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত গড়াতে পারে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেডি ভ্যান্স ও মার্কো রুবিওর মতো শীর্ষ কর্মকর্তারা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ সামলে ইরান দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরোধ চালিয়ে যেতে পারে। গত সাত মাস ধরে চলা এই যুদ্ধে ইতোমধ্যে ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।

ট্রাম্প দ্রুত যুদ্ধ শেষের কথা বললেও, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংস করতে তিনি মূলত ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অবরোধ সমর্থন করছেন।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এবং ইরানের অর্থনীতি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।

যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কায় মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ মধ্যপ্রাচ্যে সেনা মোতায়েনের মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাড়াচ্ছেন।

বর্তমানে সেখানে ৫০ হাজার সেনা, ১৯টি যুদ্ধজাহাজ এবং বিমান ও আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট অবস্থান করছে। তাদের মোতায়েনের সময়সীমাও ৯ মাস থেকে বাড়িয়ে ১২ মাসের বেশি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ইরানও পিছিয়ে নেই। নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও রেভল্যুশনারি গার্ডের জেনারেল মোহাম্মদ রেজা নাকদি মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম পিবিএস-কে বলেন, আমেরিকার সঙ্গে কীভাবে লড়তে হয়, গত পাঁচ মাসে তারা সেই বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।

তিনি জানান, যেকোনো হামলার জন্য শত্রুকে যে চরম মূল্য চোকাতে হবে, সেই বার্তা দিতেই তারা পরবর্তী মার্কিন নির্বাচন পর্যন্ত এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করতে প্রস্তুত।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের তৎকালীন ৮৬ বছর বয়সী সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা নিহত হলে এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়।

এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় ইরান। সেই যুদ্ধ থেমে থেমে এখনও চলছে।

নির্বাচনে জিততে সব প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকানকে ৫ হাজার ডলারের ‘লোভ’ দেখালেন ট্রাম্প

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
নির্বাচনে জিততে সব প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকানকে ৫ হাজার ডলারের ‘লোভ’ দেখালেন ট্রাম্প

আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে যদি রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সব প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে নগদ অর্থ দেওয়ার নজিরবিহীন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ডালাসে আয়োজিত রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচনী কনভেনশনের উদ্বোধনী রাতে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি এই ঘোষণা দেন।

ডেমোক্র্যাটদের তুলনায় জনমত জরিপে তার দল যখন কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। ট্রাম্প সমর্থকদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারা যেন ধরে নেন নির্বাচনে তিনি নিজেই ব্যালটে লড়াই করছেন।

ভাষণে সমর্থকদের উজ্জীবিত করতে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যদি রিপাবলিকানরা জয়ী হয়, তবে আমাদের সঙ্গে আপনারাও জিতবেন এবং প্রত্যেকে ৫ হাজার ডলার করে পাবেন। এটাকে বলা হবে ট্রাম্প ডিভিডেন্ড। তিনি আরও দাবি করেন, দেশের বিপুল অর্থনৈতিক শক্তি এবং সাফল্যের কারণেই তিনি এই অর্থ বিতরণ করতে চান।

ডালাসের মহাসমাবেশে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, যদি রিপাবলিকানরা হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস এবং মার্কিন সিনেট উভয় কক্ষেই জয়ী হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সব প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে আমি ৫ হাজার ডলারের ডিভিডেন্ড প্রদান করব। তবে আমার একমাত্র শর্ত হলো, এই অর্থ অবশ্যই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই খরচ করতে হবে।

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা ট্রাম্পের এই বিশাল অর্থ প্রদানের প্রস্তাবকে আর্থিক ও রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ অসম্ভব এবং অবাস্তব বলে বর্ণনা করছেন। দেশের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে এই অর্থ দিতে গেলে সরকারের খরচ হবে অন্তত ১ ট্রিলিয়ন (এক লাখ কোটি) ডলারেরও বেশি। কিন্তু এই বিপুল পরিমাণ অর্থ কোথা থেকে আসবে বা কীভাবে তহবিল সংগ্রহ করা হবে, সে বিষয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট করে কিছুই জানাননি। শুধু এটুকু দাবি করেছেন, আমাদের দেশ এখন বিপুল পরিমাণে অর্থ উপার্জন করছে।

জরিপের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেন, ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে তার দল কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই নিজেদের কর্তৃত্ব ধরে রাখতে পারবে। ডেলিপোর্ট ও সমর্থকদের উৎসাহ দিতে তিনি বারবার অনুরোধ জানান, তারা যেন ধরে নেন নির্বাচনে ট্রাম্প নিজেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি বলেন, আমি আপনাদের কাছে অনুরোধ করছি, ধরে নিন যে আমি ব্যালটে আছি। আমিই ব্যালটে আছি, আমিই ব্যালটে আছি; শুধু আর একটি বারের জন্য।

সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি এবং ইরানে ট্রাম্পের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে সাধারণ জনগণের মধ্যে অসন্তোষ তীব্র হয়েছে। জনমত জরিপ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর নাগরিকদের সমর্থনের হার নেমে এসেছে ৩০-এর কোঠায়।

ডিসিশন ডেস্ক এইচকিউ-এর সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, নভেম্বরের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদে ২৩০-২০৫ আসনে এবং সেনেটে ৫১-৪৯ আসনে জয়ী হয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে।

নভেম্বরের নির্বাচনের পরই যুদ্ধ থামার আশা ট্রাম্পের, তবে ভিন্ন মত শীর্ষ উপদেষ্টাদের

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
নভেম্বরের নির্বাচনের পরই যুদ্ধ থামার আশা ট্রাম্পের, তবে ভিন্ন মত শীর্ষ উপদেষ্টাদের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আশা করছেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরই ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটবে। কারণ, তার মতে ইরান এখন অত্যন্ত মরিয়া।

তবে তার শীর্ষ উপদেষ্টারা ব্যক্তিগতভাবে সতর্ক করে বলেছেন, এই সংঘাত ২০২৯ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত গড়াতে পারে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেডি ভ্যান্স ও মার্কো রুবিওর মতো শীর্ষ কর্মকর্তারা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ সামলে ইরান দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরোধ চালিয়ে যেতে পারে। গত সাত মাস ধরে চলা এই যুদ্ধে ইতোমধ্যে ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।

ট্রাম্প দ্রুত যুদ্ধ শেষের কথা বললেও, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংস করতে তিনি মূলত ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অবরোধ সমর্থন করছেন।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এবং ইরানের অর্থনীতি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।

যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কায় মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ মধ্যপ্রাচ্যে সেনা মোতায়েনের মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাড়াচ্ছেন।

বর্তমানে সেখানে ৫০ হাজার সেনা, ১৯টি যুদ্ধজাহাজ এবং বিমান ও আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট অবস্থান করছে। তাদের মোতায়েনের সময়সীমাও ৯ মাস থেকে বাড়িয়ে ১২ মাসের বেশি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ইরানও পিছিয়ে নেই। নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও রেভল্যুশনারি গার্ডের জেনারেল মোহাম্মদ রেজা নাকদি মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম পিবিএস-কে বলেন, আমেরিকার সঙ্গে কীভাবে লড়তে হয়, গত পাঁচ মাসে তারা সেই বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।

তিনি জানান, যেকোনো হামলার জন্য শত্রুকে যে চরম মূল্য চোকাতে হবে, সেই বার্তা দিতেই তারা পরবর্তী মার্কিন নির্বাচন পর্যন্ত এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করতে প্রস্তুত।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের তৎকালীন ৮৬ বছর বয়সী সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা নিহত হলে এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়।

এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় ইরান। সেই যুদ্ধ থেমে থেমে এখনও চলছে।

ভারতে আসছেন পুতিন-শি: ইরান ও ডলারবিরোধী নীতিতে বিরক্ত যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
ভারতে আসছেন পুতিন-শি: ইরান ও ডলারবিরোধী নীতিতে বিরক্ত যুক্তরাষ্ট্র

চতুর্থ বারের মত ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ব্রিকস(BRICS)এর ১৮তম সম্মেলন। এবারের মূল থিম ‘Building for Resilience, Innovation, Cooperation and Sustainability’ যার কেন্দ্রে রয়েছে মোদির ‘Humanity First’ ধারণা। তবে, ‘ডি-ডলারাইজেশন’ তথা ডলারের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করে অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণের কারণে ব্রিকসের সমালোচনা আরও জোরালো করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

আগামী ১২–১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য এ সম্মেলনে প্রাধান্য পাবে পশ্চিম এশিয়া (ইরান-মার্কিন যুদ্ধ) সংঘাত। এই সংঘাত নিয়ে সদস্য দেশগুলোর অবস্থান কী হবে তাই এখন বড় প্রশ্ন। এ বিষয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও সংগঠনটির যৌথ ঘোষণায় অভিন্ন অবস্থান তুলে ধরার জোরালো আহ্বান জানিয়েছে ইরান।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আয়োজনে দুই দিনের এই সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। এছাড়া ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিসর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতারাও এতে উপস্থিত থাকবেন।

দ্য স্টেটসম্যান প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য মতে, এ সম্মেলনের ফাঁকে অংশগ্রহণকারী নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক্ষেত্রে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে মোদীর বৈঠকে আলাদা নজর থাকবে। সীমান্ত বিরোধসহ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা অত্যাধিক গুরুত্ব পাবে।
বিশ্ব অর্থনীতির এক-চতুর্থাংশের বেশি নিয়ন্ত্রণ করে ব্রিকসের সদস্য ১১টি দেশ। এর পাশাপাশি বিশ্বের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যা এই দেশগুলোতে বসবাস করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিম এশিয়া নিয়ে ব্রিকসের অভিন্ন অবস্থান তৈরি করা কঠিন হতে পারে। এর কারণ সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে দ্বিমত করার সমূহ সম্ভাবনা। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অবস্থান নিতে সৌদি আরব ও আমিরাত। গত মে মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকেও মতপার্থক্যের কারণে কোনো যৌথ ঘোষণা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

ইরানের সঙ্গে চুক্তি না হলে পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার হুমকি মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রীর

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
ইরানের সঙ্গে চুক্তি না হলে পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার হুমকি মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রীর

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং দুই দেশের সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠছে। ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ওয়াশিংটন আলোচনা চালিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা নাও হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তি না-ও হতে পারে। তবে সমঝোতা না হলে যুক্তরাষ্ট্র বসে থাকবে না বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

ক্রিস রাইটের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে না নেয়, তাহলে দেশটির পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে আরও হামলার পথ বেছে নিতে পারে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে ইরান যেন নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি বা ব্যবহার করতে না পারে, সে পথও বন্ধ করার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

তবে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্যই এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। দেশটির পক্ষ থেকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
ক্রিস রাইট আরও বলেন, ভবিষ্যতে ইরানে সরকার পরিবর্তন হলে দেশটির সঙ্গে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ, তেলবাহী জাহাজ আটক এবং দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিস্থিতিকে ‘খুব সামান্য একটা ব্যাপার’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিকে এখনই যুদ্ধ হিসেবে অভিহিত করার প্রয়োজন নেই এবং মাঠপর্যায়ের লড়াই আপাতত বন্ধ রয়েছে।

এদিকে ক্রিস রাইট আশা প্রকাশ করেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রকে একা থাকতে হবে না। ভবিষ্যতে আরও মিত্রদেশ ওয়াশিংটনের পাশে এসে দাঁড়াবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

ফিলিস্তিন থেকে ইরান—মার্কিন বোমাবর্ষণে নিরীহ প্রাণহানির ঘটনায় সোচ্চার মার্কিন এমপি

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
ফিলিস্তিন থেকে ইরান—মার্কিন বোমাবর্ষণে নিরীহ প্রাণহানির ঘটনায় সোচ্চার মার্কিন এমপি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধাপরাধের’ অভিযোগ তুলে সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন কংগ্রেস সদস্য ডেলিয়া রামিরেজ। একই সঙ্গে বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ব্যবহারেরও সমালোচনা করেছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ডেলিয়া রামিরেজ বলেন, ফিলিস্তিন থেকে ইরান—যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলায় নিরীহ নারী ও শিশুরা নিহত হচ্ছে।
তিনি লেখেন, ‘একটি দম্পতির নতুন জীবনের শুরুর সময়টি উদযাপনে ভরা থাকার কথা ছিল, কিন্তু সেটিই পরিণত হয়েছে ধ্বংসযজ্ঞে। ফিলিস্তিন থেকে ইরান— আমাদের বোমায় নিরীহ নারী ও শিশুরা নিহত হচ্ছে।’
ট্রাম্প ও হেগসেথের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মার্কিন কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রামিরেজ বলেন, ‘কংগ্রেস ট্রাম্প ও হেগসেথের যুদ্ধাপরাধের দিকে চোখ বন্ধ করে থাকতে পারে না। যুদ্ধবাজদের জবাবদিহির আওতায় আনার সময় এখনই।’
তিনি আরও বলেন, কংগ্রেসকে অবশ্যই ‘ব্লক দ্য বম্বস অ্যাক্ট’ পাস করতে হবে, নিজেদের ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করতে হবে এবং এই ‘অন্তহীন যুদ্ধের’ অবসান ঘটাতে হবে।