যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে আলজেরিয়া।
‘ফ্রান্স ২৪’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলজেরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রক্ষার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোর পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার জন্য দেশটিতে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূতকে ৪৮ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সম্পর্ক ছিন্ন করার কারণ হিসেবে আমিরাতের ‘উসকানিমূলক ও বৈরী কর্মকাণ্ড’-এর কথা উল্লেখ করেছে।
তবে ‘ফ্রান্স ২৪’-এর মন্তব্যের অনুরোধে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি। এর আগেও আলজেরিয়ার গণমাধ্যম সংযুক্ত আরব আমিরাতের তীব্র সমালোচনা করেছে এবং অঞ্চলটিতে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগ তুলেছে।
গত বছর দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেলমাজিদ তেব্বুনে বলেছিলেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের একটি দেশ ছাড়া বাকি সব দেশের সাথেই তার দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ। ‘ফ্রান্স ২৪’-এর মতে, এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি পরোক্ষভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কথাই বুঝিয়েছিলেন।
তেব্বুনে সৌদি আরব, কুয়েত, ওমান ও কাতারের সাথে আলজেরিয়ার সম্পর্ককে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। একই সাথে তিনি নাম উল্লেখ না করে একটি দেশের বিরুদ্ধে আলজেরিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টার অভিযোগ এনেছিলেন।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে আলজেরিয়া ২০১৩ সালের মে মাসে আবুধাবিতে স্বাক্ষরিত সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে একটি বিমান পরিবহন চুক্তি বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করে।
জুলাই মাসে টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তেব্বুনে বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে এবং তিনি স্পষ্ট করেন, আলজেরিয়া চায় দেশটি যেন তাদের থেকে দূরে থাকে।