২১ জুন ২০২৬

৪৮ ঘণ্টায় দুবাই টুরিস্ট ভিসা, পর্যটকদের জন্য হোটেল ও ভ্রমণে বিশেষ ছাড়

প্রকাশ: রবিবার, জুন ২১, ২০২৬
৪৮ ঘণ্টায় দুবাই টুরিস্ট ভিসা, পর্যটকদের জন্য হোটেল ও ভ্রমণে বিশেষ ছাড়
টপ স্টোরিজ

পর্যটন খাতকে গতিশীল করতে নতুন সুবিধা ঘোষণা করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এখন দেশটিতে মাত্র ৪৮ কর্মঘণ্টার মধ্যেই টুরিস্ট ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে হোটেল, বিনোদন কার্যক্রম এবং বিভিন্ন ভ্রমণ প্যাকেজে বিশেষ ছাড় চালু করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে পর্যটক সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ট্রাভেল এজেন্টদের তথ্য অনুযায়ী, দ্রুত ভিসা সুবিধার পাশাপাশি আবাসন ও বিভিন্ন আউটডোর কার্যক্রমেও উল্লেখযোগ্য মূল্যছাড় দেওয়া হচ্ছে।

বর্তমানে দুবাইয়ের কিছু হোটেলে মাত্র ১৩৯ দিরহামেই কক্ষ ভাড়া পাওয়া যাচ্ছে, যা সাধারণ সময়ের তুলনায় অনেক কম। এছাড়া পর্যটকদের জন্য ডেজার্ট সাফারি, জেট স্কি রাইড এবং বাগি রাইডসহ জনপ্রিয় বিনোদন কার্যক্রমেও বিশেষ ডিসকাউন্ট অফার দেওয়া হচ্ছে।

ভ্রমণ ব্যয়ের ক্ষেত্রে আবাসন সাধারণত বড় অংশ দখল করে। তবে এই মৌসুমে অনেক হোটেল পর্যটক আকর্ষণে মূল্যছাড় ও বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করায় তুলনামূলক কম খরচে ভ্রমণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, শুধুমাত্র অনলাইন বুকিংয়ের ওপর নির্ভর না করে ভ্রমণকারীদের উচিত বিভিন্ন হোটেলের চলমান অফার যাচাই করা। অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি যোগাযোগ বা নির্দিষ্ট সময়ের প্রচারণার মাধ্যমে আরও সাশ্রয়ী দামে কক্ষ পাওয়া যেতে পারে। কারণ চাহিদা, মৌসুম এবং প্রচারণাভেদে হোটেল ভাড়া পরিবর্তিত হয়ে থাকে।

কোনো নথিপত্র ছাড়াই করা যাবে আবেদন:

আমিরাতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করতে নতুন নীতিমালা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুন ১১, ২০২৬
আমিরাতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করতে নতুন নীতিমালা
টপ স্টোরিজ

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ওয়ার্ক পারমিট প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের সংস্কার এনেছে দেশটির মানবসম্পদ ও আমিরাতিয়াকরণ মন্ত্রণালয়। এখন থেকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে, কোনো সহায়ক নথিপত্র ছাড়াই শতভাগ কাগজবিহীন উপায়ে কর্মসংস্থান অনুমতির আবেদন করা যাবে।

‘জিরো গভর্নমেন্ট ব্যুরোক্রেসি প্রোগ্রাম’-এর আওতায় নেওয়া এ উদ্যোগের লক্ষ্য সরকারি জটিলতা কমানো এবং শ্রমবাজারকে আরও গতিশীল ও প্রতিযোগিতামূলক করা। নতুন ব্যবস্থায় কিছু নির্দিষ্ট পারমিটের ক্ষেত্রে তথ্য প্রদানের বাধ্যবাধকতা ৭৫ থেকে ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হয়েছে, ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুততর হবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

বর্তমান ওয়ার্ক পারমিট সেবার কার্যকারিতা মূল্যায়ন এবং প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে ৩০ জুলাই পর্যন্ত একটি অনলাইন গণপরামর্শ চালু করা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে নাগরিক ও সেবাগ্রহীতারা ইলেকট্রনিক প্ল্যাটফর্মে মতামত ও প্রস্তাব দিতে পারবেন।

ডিজিটাল সেবা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে একটি সমন্বিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মও চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নিয়োগকর্তা ও কর্মীরা দূর থেকে আবেদন ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন।

নতুন নীতিমালায় মোট ১৩ ধরনের ওয়ার্ক পারমিট চালু রয়েছে। এর মধ্যে দুই বছর মেয়াদি ‘বাহিরাগত কর্মী নিয়োগ পারমিট’-এর মাধ্যমে বিদেশ থেকে কর্মী আনা যাবে। দেশটির ভেতরে চাকরি পরিবর্তনের জন্য রয়েছে দুই বছর মেয়াদি ‘ট্রান্সফার ওয়ার্ক পারমিট’।

এ ছাড়া পারিবারিক স্পনসরের অধীনে থাকা ব্যক্তিদের জন্য ‘ফ্যামিলি স্পনসরড পারমিট’, নির্দিষ্ট কাজের জন্য ‘মিশন ওয়ার্ক পারমিট’ এবং স্বল্পমেয়াদি কাজের জন্য ‘টেম্পোরারি ওয়ার্ক পারমিট’ চালু আছে।

ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ‘ফ্রিল্যান্স ওয়ার্ক পারমিট’ এবং প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরের দক্ষ কর্মীদের জন্য ‘পার্ট-টাইম ওয়ার্ক পারমিট’ চালু করা হয়েছে, যাতে তারা একাধিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে পারেন। শিক্ষকতার ক্ষেত্রে ‘প্রাইভেট টিউটরিং পারমিট’ এবং গোল্ডেন ভিসাধারীদের জন্য বিশেষ অনুমতির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

তরুণ ও শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের জন্য ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সিদের জন্য ‘জুভেনাইল ওয়ার্ক পারমিট’ এবং ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্য ‘স্টুডেন্ট ট্রেইনিং অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট পারমিট’ রয়েছে। এ ছাড়া আমিরাত ও জিসিসি নাগরিকদের জন্য সাধারণ কর্মসংস্থান পারমিট এবং স্থানীয় গ্র্যাজুয়েটদের প্রশিক্ষণের জন্য বিশেষ ‘ট্রেইনি ওয়ার্ক পারমিট’ চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।