বিশ্বকাপ ও অন্যান্য বড় ফুটবল ইভেন্টের মালিকানাসংশ্লিষ্ট শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির উদ্যোগকে কেন্দ্র করে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা।
উয়েফা ইতোমধ্যে ফিফা এবং মার্কিন বিনিয়োগকারী জোশুয়া কুশনারকে পৃথক চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে তারা আদালতে যাওয়ার পাশাপাশি সালিশি ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে অভিযোগ করার বিষয়টি বিবেচনা করছে। একই সঙ্গে পরিকল্পনাসংক্রান্ত কোনো নথি বা তথ্য যেন নষ্ট না করা হয়, সে নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
দ্য টেলিগ্রাফ ও দ্য অ্যাথলেটিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৩১ জুলাই পাঠানো ছয় পৃষ্ঠার ওই চিঠিতে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোসহ সংস্থাটির ১৮ জন শীর্ষ কর্মকর্তার কাছে সংশ্লিষ্ট সব নথি ও তথ্য সংরক্ষণের দাবি জানানো হয়েছে। একই ধরনের চিঠি পাঠানো হয়েছে জোশুয়া কুশনারের কাছেও।
জোশুয়া কুশনার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ভাই। তার পরিচালিত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ‘থ্রাইভ ইটারনাল’-এর কাছে ফিফা নতুন একটি প্রতিষ্ঠানের ২০ শতাংশ শেয়ার প্রায় ৪ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে বিক্রির পরিকল্পনা করেছিল।
উয়েফার পক্ষে একটি আন্তর্জাতিক আইন সংস্থা চিঠিতে দাবি করেছে, এই প্রকল্পের পরিকল্পনা, কাঠামো, মালিকানা, আর্থিক মূল্যায়ন এবং বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ধরনের তথ্য ও নথি সংরক্ষণ করতে হবে। এর মধ্যে বোর্ড সভার কার্যবিবরণী, কমিটির নথি, কৌশলগত পরিকল্পনা, আর্থিক বিশ্লেষণ, আইনি পরামর্শ, চুক্তির খসড়া এবং সংশ্লিষ্ট যোগাযোগের রেকর্ডও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এছাড়া ফিফার কর্মকর্তা, কর্মচারী, সদস্য দেশ, পরামর্শক, বিপণন প্রতিষ্ঠান ও পৃষ্ঠপোষকদের সঙ্গে হওয়া সব ধরনের যোগাযোগ সংরক্ষণেরও আহ্বান জানিয়েছে উয়েফা।
গত ২৮ জুলাই ফিফা ঘোষণা দিয়েছিল, বিশ্বকাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতা পরিচালনার জন্য ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি নতুন অলাভজনক সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠন করা হবে। ওই প্রতিষ্ঠানের ২০ শতাংশ শেয়ার ‘থ্রাইভ ইটারনাল’-এর কাছে বিক্রির পরিকল্পনাও প্রকাশ করা হয়।
তবে উয়েফাসহ বিভিন্ন মহলের তীব্র বিরোধিতার মুখে ৩১ জুলাই ফিফা ওই পরিকল্পনা থেকে সরে দাঁড়ায়। এর আগে উয়েফা পরিকল্পনা প্রত্যাহার না করলে বিশ্বকাপসহ ফিফার টুর্নামেন্ট বয়কটের হুমকিও দিয়েছিল।
উয়েফার নথি সংরক্ষণের তালিকায় ফিফার গ্লোবাল ফুটবল ডেভেলপমেন্ট প্রধান আর্সেন ওয়েঙ্গার, সাবেক মার্কিন নারী দলের কোচ জিল এলিস এবং প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা কেভিন লামুরের নাম রয়েছে। তবে তালিকায় নাম থাকা মানেই তারা সরাসরি এই পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন—এমনটি নয়।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে দ্য টেলিগ্রাফ ও দ্য অ্যাথলেটিক ফিফার সঙ্গে যোগাযোগ করলেও সংস্থাটির পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
এদিকে ৩০ জুলাই উয়েফার বৈঠকে ইউরোপের ৫৫টি সদস্য দেশ একমত হয় যে, ফিফা পরিকল্পনা থেকে সরে না এলে তারা ফিফার টুর্নামেন্ট বর্জনের পথে হাঁটবে। পরে উত্তর, মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল সংস্থা কনকাকাফ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনও এ পরিকল্পনার বিরোধিতা করে।
পরিকল্পনা বাতিলের পর ১ আগস্ট দেওয়া এক বিবৃতিতে উয়েফা জানায়, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ওপর তাদের আস্থা আর নেই। সংস্থাটি এই উদ্যোগকে গোপন, অস্বচ্ছ, এবং অন্ধকার কক্ষের লেনদেন, হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র সমালোচনা করেছে।