৬ আগস্ট ২০২৬

রঙ চায়ে কেন দুধ মেশাল ব্রিটিশরা? জানুন সেই অদ্ভুত কারণ

প্রকাশ: মঙ্গলবার, আগস্ট ০৪, ২০২৬
রঙ চায়ে কেন দুধ মেশাল ব্রিটিশরা? জানুন সেই অদ্ভুত কারণ

বাঙালির দিন শুরু হয় এক কাপ দুধ-চা দিয়ে। এ যেন দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু এই দুধ-চায়ের পেছনে লুকিয়ে আছে বিস্ময়কর এক ইতিহাস, যেখানে জড়িয়ে আছে আভিজাত্য, কৌশল আর বাণিজ্যিক পরিকল্পনা।

চায়ের জন্মভূমি চীন। সেখানে প্রাচীনকাল থেকেই চা পান করা হতো নিখাদভাবে শুধু গরম পানি আর চা-পাতার সংমিশ্রণে। এটি ছিল এক ধরনের ঔষধি পানীয়, পরে যা ধীরে ধীরে আভিজাত্যের প্রতীক হয়ে ওঠে। চিনি বা দুধ মেশানোর ধারণা তখনো সেখানে অজানা ছিল।

১৭শ শতকে চা ইউরোপে পৌঁছালে যুক্তরাজ্যে এটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তবে তখনকার চীনামাটির কাপগুলো খুব নাজুক ছিল। ফুটন্ত গরম চা ঢাললেই ফেটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকত। এই সমস্যা এড়াতে ব্রিটিশরা কাপে আগে ঠাণ্ডা দুধ ঢেলে তারপর গরম চা যোগ করতে শুরু করে। এতে কাপ রক্ষা পেত, পাশাপাশি চায়ের তিক্ততাও কিছুটা কমে যেত।

এই অভ্যাস ধীরে ধীরে সামাজিক পরিচয়ের অংশে পরিণত হয়। ধনীরা তুলনামূলক বেশি চা ও কম দুধ ব্যবহার করলেও, নিম্নবিত্তরা খরচ বাঁচাতে দুধ বেশি দিয়ে অল্প চা মিশিয়ে পান করত।

পরবর্তীতে ১৯শ শতকে ব্রিটিশরা চায়ের জন্য চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে ভারতীয় উপমহাদেশ-এ চা চাষ শুরু করে। আসাম, দার্জিলিং ও সিলেট হয়ে ওঠে চা উৎপাদনের প্রধান কেন্দ্র। শুরুতে এসব চা ইউরোপে রপ্তানি হলেও স্থানীয় মানুষ তখনো চা পানে অভ্যস্ত ছিল না।

২০শ শতকের শুরুতে ব্রিটিশ ব্যবসায়ীরা নতুন বাজার তৈরির পরিকল্পনা করে। তারা লক্ষ্য করে, উপমহাদেশের মানুষ দুধ ও মিষ্টিতে অভ্যস্ত। তাই রেলস্টেশন, কলকারখানা ও জনবহুল এলাকায় বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে দুধ-চা বানানো শেখানো শুরু হয়। এই বিপণন কৌশল দ্রুত জনপ্রিয়তা পায়।

তবে উপমহাদেশীয় মানুষ ব্রিটিশদের শেখানো নিয়মে থেমে থাকেনি। বরং তারা দুধ-চাকে নিজের মতো করে বদলে নেয় যোগ করে আদা, এলাচসহ নানা মসলা। ফলে জন্ম নেয় এক নতুন স্বাদ, যা আজকের ‘মসলা চা’ বা ‘দুধ চা’ হিসেবে পরিচিত।

চায়ের এই দীর্ঘ যাত্রা প্রমাণ করে, এক কাপ দুধ-চা শুধু পানীয় নয় এতে মিশে আছে ইতিহাস, সংস্কৃতি ও বাণিজ্যের বহুস্তরীয় গল্প।

রঙ চায়ে কেন দুধ মেশাল ব্রিটিশরা? জানুন সেই অদ্ভুত কারণ

প্রকাশ: মঙ্গলবার, আগস্ট ০৪, ২০২৬
রঙ চায়ে কেন দুধ মেশাল ব্রিটিশরা? জানুন সেই অদ্ভুত কারণ

বাঙালির দিন শুরু হয় এক কাপ দুধ-চা দিয়ে। এ যেন দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু এই দুধ-চায়ের পেছনে লুকিয়ে আছে বিস্ময়কর এক ইতিহাস, যেখানে জড়িয়ে আছে আভিজাত্য, কৌশল আর বাণিজ্যিক পরিকল্পনা।

চায়ের জন্মভূমি চীন। সেখানে প্রাচীনকাল থেকেই চা পান করা হতো নিখাদভাবে শুধু গরম পানি আর চা-পাতার সংমিশ্রণে। এটি ছিল এক ধরনের ঔষধি পানীয়, পরে যা ধীরে ধীরে আভিজাত্যের প্রতীক হয়ে ওঠে। চিনি বা দুধ মেশানোর ধারণা তখনো সেখানে অজানা ছিল।

১৭শ শতকে চা ইউরোপে পৌঁছালে যুক্তরাজ্যে এটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তবে তখনকার চীনামাটির কাপগুলো খুব নাজুক ছিল। ফুটন্ত গরম চা ঢাললেই ফেটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকত। এই সমস্যা এড়াতে ব্রিটিশরা কাপে আগে ঠাণ্ডা দুধ ঢেলে তারপর গরম চা যোগ করতে শুরু করে। এতে কাপ রক্ষা পেত, পাশাপাশি চায়ের তিক্ততাও কিছুটা কমে যেত।

এই অভ্যাস ধীরে ধীরে সামাজিক পরিচয়ের অংশে পরিণত হয়। ধনীরা তুলনামূলক বেশি চা ও কম দুধ ব্যবহার করলেও, নিম্নবিত্তরা খরচ বাঁচাতে দুধ বেশি দিয়ে অল্প চা মিশিয়ে পান করত।

পরবর্তীতে ১৯শ শতকে ব্রিটিশরা চায়ের জন্য চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে ভারতীয় উপমহাদেশ-এ চা চাষ শুরু করে। আসাম, দার্জিলিং ও সিলেট হয়ে ওঠে চা উৎপাদনের প্রধান কেন্দ্র। শুরুতে এসব চা ইউরোপে রপ্তানি হলেও স্থানীয় মানুষ তখনো চা পানে অভ্যস্ত ছিল না।

২০শ শতকের শুরুতে ব্রিটিশ ব্যবসায়ীরা নতুন বাজার তৈরির পরিকল্পনা করে। তারা লক্ষ্য করে, উপমহাদেশের মানুষ দুধ ও মিষ্টিতে অভ্যস্ত। তাই রেলস্টেশন, কলকারখানা ও জনবহুল এলাকায় বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে দুধ-চা বানানো শেখানো শুরু হয়। এই বিপণন কৌশল দ্রুত জনপ্রিয়তা পায়।

তবে উপমহাদেশীয় মানুষ ব্রিটিশদের শেখানো নিয়মে থেমে থাকেনি। বরং তারা দুধ-চাকে নিজের মতো করে বদলে নেয় যোগ করে আদা, এলাচসহ নানা মসলা। ফলে জন্ম নেয় এক নতুন স্বাদ, যা আজকের ‘মসলা চা’ বা ‘দুধ চা’ হিসেবে পরিচিত।

চায়ের এই দীর্ঘ যাত্রা প্রমাণ করে, এক কাপ দুধ-চা শুধু পানীয় নয় এতে মিশে আছে ইতিহাস, সংস্কৃতি ও বাণিজ্যের বহুস্তরীয় গল্প।

স্ত্রী থেকে স্বামী কতদিন দূরে থাকতে পারেন? জানুন ইসলামের সুনির্দিষ্ট বিধান

প্রকাশ: মঙ্গলবার, আগস্ট ০৪, ২০২৬
স্ত্রী থেকে স্বামী কতদিন দূরে থাকতে পারেন? জানুন ইসলামের সুনির্দিষ্ট বিধান

পবিত্র ও নির্মল এক সম্পর্কের নাম দাম্পত্য জীবন। সুস্থ সমাজ-ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ও মানুষের চরিত্রকে নিষ্কলুষ রাখতে বিয়ের বিকল্প নেই। ইসলামে প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষের বিয়ের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআনে দাম্পত্য জীবনকে আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী সর্বদা কাছাকাছি থাকবে এটাই স্বাভাবিক ধারা এবং ইসলামী শরিয়তেও এটিই কাম্য। তবে জীবিকার প্রয়োজন কিংবা অন্য কোনো কারণে (যেমন: ব্যবসা, প্রবাস বা জরুরি সফর) স্বামী যদি দূরে যান, তবে কতদিন দূরে থাকতে পারবেন, সে বিষয়ে ইসলামের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।

ইসলামী আইন ও ফেকাহশাস্ত্রবিদদের মতে, স্বামী জীবিকার প্রয়োজনে দূরে থাকলেও চার মাসের মধ্যে অন্তত একবার স্ত্রীর কাছে ফিরে আসতে হবে। কারণ, নারীরা সাধারণত তাঁদের স্বামী থেকে সর্বোচ্চ চার মাস পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবে ধৈর্য ধারণ করতে পারেন।

এই বিধানের ঐতিহাসিক ভিত্তি পাওয়া যায় ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রা.)-এর শাসন আমলে। এক রাতে প্রজাদের খোঁজখবর নেওয়ার সময় তিনি বিরহকাতর এক নারীর কবিতা শোনেন, যার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে জিহাদের ময়দানে ছিলেন। পরদিন খলিফা তাঁর কন্যা হযরত হাফসা (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করেন, নারীরা স্বামী ছাড়া কতদিন ধৈর্য ধরে থাকতে পারে? হযরত হাফসা (রা.) জানান, সর্বোচ্চ চার মাস। এরপর থেকে হযরত ওমর (রা.) কোনো মুজাহিদকে চার মাসের বেশি বাড়ির বাইরে রাখতেন না।

তাই চার মাসের অধিক সময় স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দূরে থাকা শরিয়ত সমর্থন করে না। তবে কোনো স্বামী যদি বিশেষ প্রয়োজনে এর চেয়ে বেশি সময় দূরে থাকতে চান, তবে অবশ্যই স্ত্রীর স্পষ্ট অনুমতি নিতে হবে। স্ত্রী যদি সানন্দে অনুমতি দেন এবং এই দীর্ঘ সময়ে উভয়েরই চরিত্র ও পবিত্রতা বজায় রাখার ব্যাপারে দৃঢ় আত্মবিশ্বাস থাকে, তবেই চার মাসের বেশি দূরে থাকা জায়েজ হবে।

প্রখ্যাত ফকীহ আল্লামা তাকি উসমানী তাঁর ‘ইসলাহী খুতবাত’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, চার মাসের কম সময়ের সফরে স্ত্রীর অনুমতির প্রয়োজন না হলেও, চার মাসের বেশি সময় হলে সফরটি যতই বরকতপূর্ণ (যেমন: হজ বা দ্বীনি দাওয়াত) হোক না কেন, স্ত্রীর অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক।

তবে চার মাসের কম সময় হলেও, যদি স্বামী বা স্ত্রীর কোনো একজনের গুনাহ বা পাপে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে, তবে চার মাসের কম সময়ও দূরে থাকা যাবে না। ইসলামে স্ত্রীর ওপর স্বামীর অভিভাবকত্ব থাকলেও স্বামীর ব্যাপারে স্ত্রীর সন্তুষ্টি ও অধিকারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মরক্কোর শতবর্ষী ঐতিহ্য হাম্মাম স্পা কী? ত্বকের সৌন্দর্য বাড়াতে বাড়িতে যেভাবে এই স্পা করা হয়

প্রকাশ: রবিবার, জুলাই ২৬, ২০২৬
মরক্কোর শতবর্ষী ঐতিহ্য হাম্মাম স্পা কী? ত্বকের সৌন্দর্য বাড়াতে বাড়িতে যেভাবে এই স্পা করা হয়

হাম্মাম স্পা হলো মরক্কোর ঐতিহ্য দ্বারা অনুপ্রাণিত একটি ত্বক পরিষ্কারের রীতি—যেখানে বাষ্প, মরক্কোর ব্ল্যাক সোপ, কেসা গ্লাভস দিয়ে এক্সফোলিয়েশন, ক্লে এবং পুষ্টিকর তেলের সমন্বয়ে ত্বককে গভীরভাবে পরিষ্কার ও কোমল করে তোলা হয়। মরক্কোর অধিবাসীরা স্পা সেন্টারের পরিবর্তে বাড়িতেই এই হাম্মাম স্পা করতে ভালোবাসেন।

বাড়িতে যেভাবে হাম্মাম স্পা করা হয়
মরোক্কানরা মনে করেন, একটি বিলাসবহুল স্পার জন্য সবসময় স্যালনে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। সঠিক পণ্য এবং একটি ধীরস্থির রুটিনের মাধ্যমে, যে কেউই বাড়িতে একটি হাম্মাম স্পা নিতে পারেন বলে তাঁরা মনে করেন।

হাম্মাম মানে শুধু একটি স্নান নয়। এটি একটি ত্বক পরিষ্কার, এক্সফোলিয়েট এবং ত্বককে আরাম দেওয়ার রীতি যা ত্বককে মসৃণ, কোমল এবং গভীর থেকে সতেজ করে তোলে। এর প্রধান ধাপগুলোর মধ্যে সাধারণত বাষ্প, মরক্কোর ব্ল্যাক সোপ, কেসা গ্লাভস দিয়ে এক্সফোলিয়েশন, ক্লে এবং একটি পুষ্টিকর তেল বা ফ্লোরাল ওয়াটার অন্তর্ভুক্ত থাকে। মরোক্কানরা মনে করেন, এই পদ্ধতিতে তাড়াহুড়ো না করে বাড়িতে শান্তিদায়ক উপায়ে ত্বকের যত্ন নেওয়া হয়; যা ত্বকের জন্য অন্যান্য যেকোনো রূপ-রুটিনের চেয়ে বেশি ফলদায়ক।

বাড়িতে হাম্মাম স্পার জন্য যা যা প্রয়োজন
মরোক্কান ব্ল্যাক সোপ
মরোক্কান ব্ল্যাক সোপ এক্সফোলিয়েশনের আগে ত্বককে নরম করতে সাহায্য করে। এটি মরোক্কান অলিভ এবং অর্গান অয়েল দিয়ে তৈরি। এটি মুখ ও শরীরে ব্যবহার করা যায় এবং ত্বক গভীরভাবে পরিষ্কার করার জন্য বিশেষভাবে তৈরি।

কেসা এক্সফোলিয়েটিং গ্লাভস
ব্ল্যাক সোপ ব্যবহারের পর ত্বক থেকে মৃত কোষ ও ময়লা দূর করতে কেসা গ্লাভস ব্যবহার করা হয়। মরোক্কান কেসা এক্সফোলিয়েটিং গ্লাভটি শাওয়ার বা বাথ এক্সফোলিয়েশনের জন্য বিশেষভাবে তৈরি এবং এটি ত্বককে মসৃণ ও নরম রাখতে সাহায্য করে।

মরোক্কান ক্লে
খনিজ উপাদান সমৃদ্ধ মরোক্কান ক্লে, যা হাম্মাম রীতিতে ব্যবহৃত হয়। ক্লে ত্বককে নরম, আর্দ্র ও ডিটক্সিফাই করার পাশাপাশি সিবাম কমাতে সাহায্য করে।

ফ্লোরাল ওয়াটার বা বডি অয়েল
এক্সফোলিয়েশনের পর ত্বকের হাইড্রেশন প্রয়োজন। রোজ ওয়াটার, অরেঞ্জ ব্লসম ওয়াটার, আর্গান অয়েল ত্বককে সতেজ ও পুষ্ট করতে সাহায্য করতে পারে।

যেভাবে হাম্মাম স্পা করা হয়
সবার আগে স্টিম বাথ
প্রথম ধাপে একটি বাষ্পায়িত কক্ষে ১০-১৫ মিনিট শুয়ে বা বসে থাকতে হয়। এর ফলে শরীরের রোমকূপ বা পোরস খুলে যায়। এতে করে ত্বকের উপরিভাগের মৃতকোষ নরম হয়ে আসে।

ব্ল্যাক সোপ বা কালো সাবান ব্যবহার
এরপর পুরো শরীরে মরক্কোর ঐতিহ্যবাহী ‘ব্ল্যাক সোপ’ মাখা হয়। এই সাবানটি ত্বকের গভীর থেকে ময়লা নরম করতে সাহায্য করে। সাবান মেখে কিছুক্ষণ আবারও বাষ্পের মধ্যে অপেক্ষা করতে হয় এবং তারপর হালকা গরম পানি দিয়ে শরীর ধুয়ে ফেলা হয়।

কেসা গ্লাভস দিয়ে স্ক্রাবিং
এটি হাম্মাম স্পার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং মূল ধাপ। কেসা নামক একধরনের বিশেষ খসখসে স্ক্রাবিং গ্লাভস বা দস্তানা হাতে পরে থেরাপিস্ট পুরো শরীর স্ক্র‍্যাব করতে হয়। এর মাধ্যমে শরীরের সমস্ত জমে থাকা মরা চামড়া এবং ময়লা সরে যায়।

পরিষ্কার পানিতে গোসল
সবশেষে হালকা গরম বা ঠান্ডা পানি দিয়ে পুরো শরীর ভালোমতো ধুয়ে পরিষ্কার করা হয়। শরীর পরিষ্কারের পর ময়শ্চারাইজার মেখে আরামদায়ক পোশাক পরে বিশ্রাম নিতে হয়। সাধারণত এই সময়ে ত্বকের আর্দ্রতা বাড়াতে ভেষজ চা বা মরক্কোর মিন্ট টি পান করা হয়।

মধ্যপ্রাচ্যের কোন কোন দেশের পারমাণবিক কর্মসূচি আছে, কোথায় সেগুলোর অবস্থান?

প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ২৪, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের কোন কোন দেশের পারমাণবিক কর্মসূচি আছে, কোথায় সেগুলোর অবস্থান?
স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যাচ্ছে ইরানের নাতাঞ্জ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা ও এর দক্ষিণে নির্মাণাধীন ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব বুধবার ৩০ বছরের একটি বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি সই করেছে। চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তুলতে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে। তবে চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। ফলে এটি পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের পারমাণবিক কর্মসূচির ধরন ভিন্ন ভিন্ন।

ইরান
ইরান দাবি করে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ বেসামরিক। ১৯৫৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় দেশটির কর্মসূচির সূচনা হয়। পরে নাতাঞ্জ, ইসফাহান ও ফোরদোতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র গড়ে তোলার পর পশ্চিমা দেশগুলো অভিযোগ তোলে, তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সীমিত করতে সম্মত হলেও পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি থেকে সরে গেলে ইরান সমৃদ্ধকরণের মাত্রা বাড়ায়।

ইসরায়েল
ইসরায়েল কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্র থাকার কথা স্বীকার বা অস্বীকার করেনি। তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মতে, দেশটির কাছে প্রায় ৯০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে। ইসরায়েল পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির সদস্য নয় এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকেও তাদের কর্মসূচি পরিদর্শনের সুযোগ দেয় না।

সংযুক্ত আরব আমিরাত
২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি করে দেশটি। বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রায় ৫ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার পূর্ণ তদারকিতে পরিচালিত হয় এই কর্মসূচি।


তুরস্ক
তুরস্কের নিজস্ব পারমাণবিক অস্ত্র নেই। তবে রাশিয়ার সহায়তায় আক্কুয়ু পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করেছে দেশটি, যা জাতীয় বিদ্যুতের প্রায় ১০ শতাংশ সরবরাহ করবে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সম্ভাবনার কথাও ইঙ্গিত দিয়েছেন।


মিসর
রাশিয়ার সহযোগিতায় এল-দাবা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে মিসর। এটি চালু হলে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। অতীতে সামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির চেষ্টা থাকলেও বর্তমানে দেশটির কর্মসূচি বেসামরিক।


ইরাক
সাদ্দাম হোসেনের আমলে ইরাক গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করেছিল। তবে বিভিন্ন সামরিক হামলা এবং আন্তর্জাতিক পরিদর্শনের পর সেই কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য নতুন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে অংশীদার খুঁজছে দেশটি।

সৌদি আরব
সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরব বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তোলার পথে এগোচ্ছে। চুক্তিটি এখন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে অঞ্চলটির প্রতিবেশী পাকিস্তানও একটি স্বীকৃত পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। ভারতের সঙ্গে প্রতিরোধ সক্ষমতা বজায় রাখতে দেশটি কয়েক দশক ধরে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি পরিচালনা করছে।

৭৪ বছর পর মিলল নিখোঁজ বিমানের ধ্বংসাবশেষ

যে বিমান দুর্ঘটনা বদলে দিয়েছিল আকাশপথের নিরাপত্তা

প্রকাশ: বুধবার, জুলাই ২২, ২০২৬
যে বিমান দুর্ঘটনা বদলে দিয়েছিল আকাশপথের নিরাপত্তা

প্রায় সাড়ে সাত দশক আগে আটলান্টিক মহাসাগরে বিধ্বস্ত হওয়া প্যান অ্যাম এয়ারওয়েজের ‘ক্লিপার এন্ডেভার’ বিমানের ধ্বংসাবশেষের সন্ধান মিলেছে। পুয়ের্তো রিকোর উপকূলসংলগ্ন সমুদ্রের প্রায় দুই হাজার ফুট গভীরে এ ধ্বংসাবশেষ শনাক্ত করা হয়েছে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২ জুন আন্ডারওয়াটার ড্রোন ও উচ্চ-রেজ্যুলেশনের সোনার প্রযুক্তির সহায়তায় এয়ার/সি হেরিটেজ ফাউন্ডেশন এবং ডিপ সি ভিশনের যৌথ অনুসন্ধানকারী দল বিমানটির অবস্থান নিশ্চিত করে। দুর্ঘটনার ৭৪ বছর পর এ আবিষ্কার সম্ভব হলো।

১৯৫২ সালের ১১ এপ্রিল ডগলাস ডিসি-৪ মডেলের বিমানটি ৬৪ জন যাত্রী ও ৫ জন ক্রু নিয়ে পুয়ের্তো রিকো থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই ডান পাশের দুটি ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেলে পাইলট বাধ্য হয়ে আটলান্টিক মহাসাগরে জরুরি অবতরণের চেষ্টা করেন।

প্রাথমিক আঘাতে বিমানের সবাই প্রাণে বেঁচে গেলেও কার্যকর উদ্ধারব্যবস্থার অভাব, ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা এবং উড্ডয়নের আগে জরুরি নিরাপত্তা নির্দেশনা সম্পর্কে যাত্রীদের পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় মাত্র তিন মিনিটের মধ্যেই বিমানটি পানির নিচে তলিয়ে যায়। ওই দুর্ঘটনায় ৫২ জন নিহত হন। জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল মাত্র ১৭ জনকে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পরই বাণিজ্যিক বিমান ভ্রমণে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে উড্ডয়নের আগে যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেটের ব্যবহার, জরুরি নির্গমন পথ এবং লাইফ র‍্যাফট সম্পর্কে যে বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা নির্দেশনা দেওয়া হয়, তার প্রচলন এই দুর্ঘটনার পর থেকেই শুরু হয়।

বর্তমানে এয়ার/সি হেরিটেজ ফাউন্ডেশন পুয়ের্তো রিকো সরকারের সহযোগিতায় ধ্বংসাবশেষের স্থানটি সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে সেখানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের পরিকল্পনাও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।