পবিত্র ও নির্মল এক সম্পর্কের নাম দাম্পত্য জীবন। সুস্থ সমাজ-ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ও মানুষের চরিত্রকে নিষ্কলুষ রাখতে বিয়ের বিকল্প নেই। ইসলামে প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষের বিয়ের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআনে দাম্পত্য জীবনকে আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী সর্বদা কাছাকাছি থাকবে এটাই স্বাভাবিক ধারা এবং ইসলামী শরিয়তেও এটিই কাম্য। তবে জীবিকার প্রয়োজন কিংবা অন্য কোনো কারণে (যেমন: ব্যবসা, প্রবাস বা জরুরি সফর) স্বামী যদি দূরে যান, তবে কতদিন দূরে থাকতে পারবেন, সে বিষয়ে ইসলামের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
ইসলামী আইন ও ফেকাহশাস্ত্রবিদদের মতে, স্বামী জীবিকার প্রয়োজনে দূরে থাকলেও চার মাসের মধ্যে অন্তত একবার স্ত্রীর কাছে ফিরে আসতে হবে। কারণ, নারীরা সাধারণত তাঁদের স্বামী থেকে সর্বোচ্চ চার মাস পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবে ধৈর্য ধারণ করতে পারেন।
এই বিধানের ঐতিহাসিক ভিত্তি পাওয়া যায় ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রা.)-এর শাসন আমলে। এক রাতে প্রজাদের খোঁজখবর নেওয়ার সময় তিনি বিরহকাতর এক নারীর কবিতা শোনেন, যার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে জিহাদের ময়দানে ছিলেন। পরদিন খলিফা তাঁর কন্যা হযরত হাফসা (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করেন, নারীরা স্বামী ছাড়া কতদিন ধৈর্য ধরে থাকতে পারে? হযরত হাফসা (রা.) জানান, সর্বোচ্চ চার মাস। এরপর থেকে হযরত ওমর (রা.) কোনো মুজাহিদকে চার মাসের বেশি বাড়ির বাইরে রাখতেন না।
তাই চার মাসের অধিক সময় স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দূরে থাকা শরিয়ত সমর্থন করে না। তবে কোনো স্বামী যদি বিশেষ প্রয়োজনে এর চেয়ে বেশি সময় দূরে থাকতে চান, তবে অবশ্যই স্ত্রীর স্পষ্ট অনুমতি নিতে হবে। স্ত্রী যদি সানন্দে অনুমতি দেন এবং এই দীর্ঘ সময়ে উভয়েরই চরিত্র ও পবিত্রতা বজায় রাখার ব্যাপারে দৃঢ় আত্মবিশ্বাস থাকে, তবেই চার মাসের বেশি দূরে থাকা জায়েজ হবে।
প্রখ্যাত ফকীহ আল্লামা তাকি উসমানী তাঁর ‘ইসলাহী খুতবাত’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, চার মাসের কম সময়ের সফরে স্ত্রীর অনুমতির প্রয়োজন না হলেও, চার মাসের বেশি সময় হলে সফরটি যতই বরকতপূর্ণ (যেমন: হজ বা দ্বীনি দাওয়াত) হোক না কেন, স্ত্রীর অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক।
তবে চার মাসের কম সময় হলেও, যদি স্বামী বা স্ত্রীর কোনো একজনের গুনাহ বা পাপে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে, তবে চার মাসের কম সময়ও দূরে থাকা যাবে না। ইসলামে স্ত্রীর ওপর স্বামীর অভিভাবকত্ব থাকলেও স্বামীর ব্যাপারে স্ত্রীর সন্তুষ্টি ও অধিকারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।