২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্ত্রী থেকে স্বামী কতদিন দূরে থাকতে পারেন? জানুন ইসলামের সুনির্দিষ্ট বিধান

প্রকাশ: মঙ্গলবার, আগস্ট ০৪, ২০২৬
স্ত্রী থেকে স্বামী কতদিন দূরে থাকতে পারেন? জানুন ইসলামের সুনির্দিষ্ট বিধান

পবিত্র ও নির্মল এক সম্পর্কের নাম দাম্পত্য জীবন। সুস্থ সমাজ-ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ও মানুষের চরিত্রকে নিষ্কলুষ রাখতে বিয়ের বিকল্প নেই। ইসলামে প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষের বিয়ের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআনে দাম্পত্য জীবনকে আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী সর্বদা কাছাকাছি থাকবে এটাই স্বাভাবিক ধারা এবং ইসলামী শরিয়তেও এটিই কাম্য। তবে জীবিকার প্রয়োজন কিংবা অন্য কোনো কারণে (যেমন: ব্যবসা, প্রবাস বা জরুরি সফর) স্বামী যদি দূরে যান, তবে কতদিন দূরে থাকতে পারবেন, সে বিষয়ে ইসলামের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।

ইসলামী আইন ও ফেকাহশাস্ত্রবিদদের মতে, স্বামী জীবিকার প্রয়োজনে দূরে থাকলেও চার মাসের মধ্যে অন্তত একবার স্ত্রীর কাছে ফিরে আসতে হবে। কারণ, নারীরা সাধারণত তাঁদের স্বামী থেকে সর্বোচ্চ চার মাস পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবে ধৈর্য ধারণ করতে পারেন।

এই বিধানের ঐতিহাসিক ভিত্তি পাওয়া যায় ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রা.)-এর শাসন আমলে। এক রাতে প্রজাদের খোঁজখবর নেওয়ার সময় তিনি বিরহকাতর এক নারীর কবিতা শোনেন, যার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে জিহাদের ময়দানে ছিলেন। পরদিন খলিফা তাঁর কন্যা হযরত হাফসা (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করেন, নারীরা স্বামী ছাড়া কতদিন ধৈর্য ধরে থাকতে পারে? হযরত হাফসা (রা.) জানান, সর্বোচ্চ চার মাস। এরপর থেকে হযরত ওমর (রা.) কোনো মুজাহিদকে চার মাসের বেশি বাড়ির বাইরে রাখতেন না।

তাই চার মাসের অধিক সময় স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দূরে থাকা শরিয়ত সমর্থন করে না। তবে কোনো স্বামী যদি বিশেষ প্রয়োজনে এর চেয়ে বেশি সময় দূরে থাকতে চান, তবে অবশ্যই স্ত্রীর স্পষ্ট অনুমতি নিতে হবে। স্ত্রী যদি সানন্দে অনুমতি দেন এবং এই দীর্ঘ সময়ে উভয়েরই চরিত্র ও পবিত্রতা বজায় রাখার ব্যাপারে দৃঢ় আত্মবিশ্বাস থাকে, তবেই চার মাসের বেশি দূরে থাকা জায়েজ হবে।

প্রখ্যাত ফকীহ আল্লামা তাকি উসমানী তাঁর ‘ইসলাহী খুতবাত’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, চার মাসের কম সময়ের সফরে স্ত্রীর অনুমতির প্রয়োজন না হলেও, চার মাসের বেশি সময় হলে সফরটি যতই বরকতপূর্ণ (যেমন: হজ বা দ্বীনি দাওয়াত) হোক না কেন, স্ত্রীর অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক।

তবে চার মাসের কম সময় হলেও, যদি স্বামী বা স্ত্রীর কোনো একজনের গুনাহ বা পাপে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে, তবে চার মাসের কম সময়ও দূরে থাকা যাবে না। ইসলামে স্ত্রীর ওপর স্বামীর অভিভাবকত্ব থাকলেও স্বামীর ব্যাপারে স্ত্রীর সন্তুষ্টি ও অধিকারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘ ফ্লাইটে শরীর সুস্থ ও সতেজ রাখতে মেনে চলুন এই অভ্যাসগুলো

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
দীর্ঘ ফ্লাইটে শরীর সুস্থ ও সতেজ রাখতে মেনে চলুন এই অভ্যাসগুলো

হাজার হাজার ফুট উঁচুতে উড়োজাহাজে ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই জায়গায় আবদ্ধ থাকা, কেবিনের কৃত্রিম ও শুষ্ক আবহাওয়া, ভিন্ন টাইম জোন এবং শারীরিক দূরত্বের ক্লান্তি আমাদের স্বাভাবিক জীবনকে কিছুটা হলেও ব্যাহত করে।

জেটল্যাগ আর শারীরিক অবসাদ অনেক সময় ভ্রমণের আনন্দ ম্লান করে দেয়। অথচ একটু সচেতনতা, সঠিক পূর্বপ্রস্তুতি এবং ভ্রমণের প্রতিটি ধাপে নিজের প্রতি সামান্য যত্ন এই দীর্ঘ আর নিস্তেজ ভ্রমণকে করে তুলতে পারে দারুণ প্রশান্তিময় ও আরামদায়ক। আপনি যেন গন্তব্যে পৌঁছে ক্লান্তির বদলে একরাশ সতেজতা নিয়ে নামতে পারেন, সে জন্য পুরো ভ্রমণ আরামদায়ক করার কিছু কৌশল জেনে নিন।

ভ্রমণের পূর্বপ্রস্তুতি এবং সঠিক পোশাক নির্বাচন

দীর্ঘ উড়োজাহাজে ভ্রমণের আগে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সঠিক পোশাক বেছে নেওয়া। উড়োজাহাজে দীর্ঘ সময় বসে থাকতে হয় বলে ঢিলেঢালা, আরামদায়ক পোশাক পরা উচিত। লেগিংস বা সোয়েটপ্যান্টস এ ক্ষেত্রে সেরা পছন্দ। বিমানে সাধারণত পায়ের পাতা ফুলে যাওয়ার প্রবণতা থাকে। তাই সহজে খুলে ফেলা যায় এমন জুতা এবং পা গরম রাখার জন্য এক জোড়া সুতি বা উলের মোজা সঙ্গে রাখা ভালো।

ফ্লাইট চলাকালীন নড়াচড়া

একটানা একই জায়গায় বসে থাকা শরীরের রক্ত চলাচলে ব্যাঘাত ঘটায়। তাই ২ থেকে ৩ ঘণ্টা পরপর উঠে দাঁড়ানো এবং করিডরে কিছুটা হাঁটাচলা করা জরুরি। ওয়াশরুমে যাওয়ার বাহানায় অথবা বিমানের পেছনের দিকে খালি জায়গায় গিয়ে শরীর কিছুটা প্রসারিত করে নেওয়া যায়।

পর্যাপ্ত হাইড্রেশন এবং সঠিক খাবার খাওয়া

বিমানের ভেতরে বাতাস শুষ্ক থাকে বলে দ্রুত শরীর পানিশূন্য হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই প্রতি ঘণ্টায় অন্তত ২৫০ মিলিলিটার পানি পান করা উচিত। সিকিউরিটি চেকের পর ব্যবহারের জন্য একটি খালি রিফিলযোগ্য পানির বোতল সঙ্গে রাখলে খুব সহজে বিমানে পানি পান করা যায়। চা, কফি ও অ্যালকোহল জাতীয় পানীয় এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ, এগুলো শরীর থেকে দ্রুত পানি বের করে দেয় এবং ডিহাইড্রেশন বাড়ায়। তবে টমেটো জুস পান করা যেতে পারে। এটি বিমানে বেশ পুষ্টিকর এবং বারবার ওয়াশরুমে যাওয়ার প্রয়োজন কমায়। খাবারের ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াজাত ভারী খাবারের বদলে শসা, আঙুর, আপেল বা তরমুজের মতো পানিসমৃদ্ধ ফল এবং কাঠবাদামের মতো হালকা ও সহজে হজমযোগ্য খাবার বেছে নেওয়া ভালো।

ভ্রমণ আরামদায়ক করার অতিরিক্ত সরঞ্জাম

দীর্ঘ যাত্রায় প্রশান্তি এবং ভালো ঘুমের জন্য সঙ্গে কিছু জরুরি জিনিস রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। যেমন ঘাড়ের জন্য একটি ভালো নেক পিলো, চোখের মাস্ক, কানের ইয়ারপ্লাগ, ময়শ্চারাইজিং ক্রিম ও লিপবাম সঙ্গে রাখতে পারেন। সম্ভব হলে টিকিট কাটার সময় উইন্ডো সিট বা অতিরিক্ত লেগরুম আছে এমন সিট বেছে নিন। এতে হেলান দিয়ে ঘুমানো সহজ হবে এবং অন্য যাত্রীদের চলাচলের জন্য বারবার উঠতে হবে না।

ডিজিটাল ও মানসিক বিনোদনের সঠিক পরিকল্পনা

ফ্লাইটের দীর্ঘ সময় মানসিক একঘেয়েমি কাটাতে বিনোদনের আগাম প্রস্তুতি নেওয়া খুব দরকার। ফ্লাইটে ওঠার আগে মোবাইল বা ট্যাবলেটে আপনার পছন্দের সিনেমা, ওয়েব সিরিজ বা অডিও বুক ডাউনলোড করে রাখুন। কারণ, অনেক সময় বিমানের বিনোদনব্যবস্থায় বিকল্পের পরিমাণ সীমিত হতে পারে। স্ক্রিন টাইম বেশি হলে চোখ ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তাই মাইন্ডফুলনেস মিউজিক বা রিল্যাক্সিং পডকাস্ট শুনে চোখ বন্ধ করে মানসিক বিশ্রাম নিন।

অবতরণের পর শরীর পুনরুদ্ধার

বিমান থেকে নামার পর প্রথম কয়েক ঘণ্টা শরীরে রক্তসঞ্চালন পুনরায় স্বাভাবিক করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিমানবন্দরে এস্কেলেটর বা লিফট ব্যবহার না করে সিঁড়ি দিয়ে হেঁটে যাওয়া ভালো। গন্তব্যে বা হোটেলে পৌঁছে বিছানায় শুয়ে পা দুটি সামান্য উঁচুতে তুলে ধরে বাতাসে সাইকেল চালানোর মতো নড়াচড়া করলে পায়ের ক্লান্তি ও ব্যথা দ্রুত দূর হয়। পর্যাপ্ত পানি পান করে এবং হালকা খাবার খেয়ে শরীর নতুন টাইম জোন ও বায়ুচাপের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সময় দিন।

সূত্র: সেইফ অ্যান্ড হেলদি ট্রাভেল

ঋণের জালে জড়ানোর আগে নিজেকে যে তিনটি প্রশ্ন করা উচিত

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
ঋণের জালে জড়ানোর আগে নিজেকে যে তিনটি প্রশ্ন করা উচিত

মাসের শেষ। হাতে টাকা কম। অথচ সামনে বিয়ের অনুষ্ঠান। বন্ধুরা সবাই নতুন ফোন কিনেছে, আপনিও ভাবছেন একটা নতুন ফোন হলে মন্দ হয় না। আবার হঠাৎ কোথাও বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা হয়েছে। কিংবা ব্যবসায় ভালো একটা সুযোগ এসেছে, কিন্তু হাতে প্রয়োজনীয় টাকা নেই।

মুহূর্তেই মাথায় আসে ‘ধার করে নিলেই তো হয়!’ ঋণ নেওয়া সহজ। কিন্তু সেই ঋণ পরিশোধের সময়টিই আসল পরীক্ষা। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে পরিকল্পিত ঋণ জীবনের অংশ হতে পারে। কিন্তু এমন অনেক খরচ আছে, যেগুলোর জন্য ধার করলে আজকের আনন্দ বা প্রয়োজন মেটালেও ভবিষ্যতে তৈরি হতে পারে অপ্রয়োজনীয় আর্থিক চাপ। তাই ঋণ নেওয়ার আগে প্রশ্ন করা দরকার আমি কি সত্যিই এটি ধার করে কিনব, নাকি একটু অপেক্ষা করতে পারি?

চলুন দেখে নেওয়া যাক, কোন কোন কারণে ঋণ নেওয়া থেকে যতটা সম্ভব বিরত থাকা ভালো।

এক দিনের জাঁকজমকের জন্য বছরের পর বছর ঋণ নয়

বিয়ে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। কিন্তু সেই অনুষ্ঠান কতটা জাঁকজমকপূর্ণ হলো, তা দিয়ে সংসারের ভবিষ্যৎ ঠিক হয় না। শুধু আত্মীয়-স্বজন বা সমাজের বাহবা পাওয়ার জন্য নিজের সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজন করে ঋণ নেওয়া ভবিষ্যতে চাপ তৈরি করতে পারে। অনুষ্ঠান হোক আনন্দের, কিন্তু তার খরচ যেন নতুন সংসারের ওপর দীর্ঘদিনের বোঝা হয়ে না দাঁড়ায়। সামর্থ্যের মধ্যে সুন্দর আয়োজন ঋণ করে বড় আয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি স্বস্তির।

ভ্রমণের আনন্দের মাঝেই কিস্তির চিন্তা

ভ্রমণ মানুষকে আনন্দ দেয়, নতুন অভিজ্ঞতা দেয়। কিন্তু সেই ভ্রমণের খরচ যদি পুরোপুরি ঋণের ওপর নির্ভর করে, তাহলে ফিরে এসে কিস্তির চাপ সেই আনন্দকে ম্লান করে দিতে পারে।ভ্রমণের ইচ্ছা থাকলে আগে পরিকল্পনা করুন, সঞ্চয় করুন, তারপর বেড়াতে যান। বিশেষ করে বিলাসবহুল ভ্রমণের জন্য ঋণ নেওয়ার আগে নিজের ভবিষ্যৎ আয় ও অন্যান্য আর্থিক দায় বিবেচনা করা জরুরি।

নতুন ফোনের জন্য ধার করা বোকামি ছাড়া কিছুই না

বর্তমান ফোনটি ভালোভাবেই চলছে। তারপরও নতুন মডেল বাজারে এসেছে। বিজ্ঞাপন বলছে আরও ভালো ক্যামেরা, আরও বড় ডিসপ্লে, আরও আধুনিক ফিচার। কিন্তু প্রশ্ন হলো আপনার সত্যিই কি নতুন ফোনটি প্রয়োজন? শুধু সামাজিক মর্যাদা বা অন্যের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য ধার বা দীর্ঘমেয়াদি কিস্তিতে দামি গ্যাজেট, পোশাক কিংবা অন্য ভোগ্যপণ্য কেনা ভবিষ্যতের বাজেটে চাপ ফেলতে পারে। প্রয়োজন আর ইচ্ছার পার্থক্য বোঝা ব্যক্তিগত অর্থ ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

টাকা ধার নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগে চরম মাশুল গুনতে হতে পারে

‘এখন টাকা ধার করে বিনিয়োগ করি, লাভ হলে ঋণ শোধ করে দেব’ ভাবনাটা শুনতে আকর্ষণীয়। কিন্তু বিনিয়োগে লাভ নিশ্চিত নয়। শেয়ারবাজার, ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসায় ক্ষতি হলে বিনিয়োগের টাকা হারানোর পাশাপাশি ঋণ ও সুদ পরিশোধের দায়ও থেকে যায়। তাই ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগে ধার করা টাকা ব্যবহার করার আগে ঝুঁকির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত।

এক ঋণ শোধ করতেই আরেক ঋণ?

পুরোনো ঋণের কিস্তি দেওয়ার সময় নতুন করে ঋণ নেওয়া এভাবে চলতে থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।তবে সব ধরনের ঋণ একত্রীকরণ খারাপ নয়। কম সুদের ঋণে একাধিক ঋণ একত্র করার মতো কিছু ব্যবস্থা পরিস্থিতিভেদে উপকারী হতে পারে। সমস্যা তৈরি হয় যখন আয়-ব্যয়ের মূল সমস্যা সমাধান না করে শুধু পুরোনো ঋণ ঢাকতে নতুন ঋণ নেওয়া হয়। ঋণ নেওয়ার আগে তাই পরিশোধের বাস্তব পরিকল্পনা থাকা জরুরি।

অন্যের সঙ্গে নিজের জীবন মেলাতে গিয়ে ঋণ করা বোকামি

পাশের কলিগ নতুন গাড়ি কিনেছেন। কিংবা বন্ধু দামি ফোন ব্যবহার করছেন। অথবা পরিচিত কেউ বিদেশে ঘুরে এসেছেন। তাহলে আপনাকেও একই কাজগুলো করতে হবে এমন কোনো নিয়ম নেই। অনেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় এসব পোস্ট করে অন্যকে দেখাতে খুব আনন্দ পান। সামাজিক তুলনা অনেক সময় মানুষকে নিজের সামর্থ্যের বাইরে খরচ করতে উৎসাহিত করে। কিন্তু অন্যের আয়, সঞ্চয় বা আর্থিক পরিস্থিতি আপনি জানেন না। নিজের আয় অনুযায়ী জীবনযাপন করাই দীর্ঘমেয়াদে বেশি নিরাপদ।

মাসের বাজার-খরচ চালাতেই যদি নিয়মিত ধার করতে হয়

এক মাসে সমস্যা হওয়া আর প্রতি মাসে সমস্যা হওয়া এক জিনিস নয়। হঠাৎ কোনো জরুরি কারণে ধার করতে হতে পারে। কিন্তু বাজার, বিল, যাতায়াত কিংবা দৈনন্দিন খরচ মেটাতেই যদি নিয়মিত ধার করতে হয়, তাহলে কোথায় সমস্যা হচ্ছে তা খুঁজে দেখা দরকার। হয়তো খরচ কমাতে হবে, হয়তো বাজেট নতুন করে করতে হবে। কারণ নিয়মিত ঘাটতি পূরণের জন্য ঋণ নেওয়া সমস্যার সমাধান না করে সমস্যাটিকে দীর্ঘায়িত করতে পারে।

কাউকে খুশি করতে নিজের সামর্থ্যের বাইরে যাওয়া

কখনো আত্মীয়ের অনুষ্ঠান, কখনো বন্ধুর প্রয়োজন, কখনো সামাজিক প্রত্যাশা অন্যকে সাহায্য করতে গিয়ে অনেকেই নিজের সামর্থ্যের সীমা ভুলে যান। অন্যকে সাহায্য করা ভালো। কিন্তু সেই সাহায্যের জন্য এমন ঋণ নেওয়া ঠিক কি না, যা পরে নিজের পরিবারকে সমস্যায় ফেলবে সেটিও ভাবতে হবে। সাহায্য করার সামর্থ্য না থাকলে বিনয়ের সঙ্গে ‘না’ বলতে শেখাও আর্থিক দায়িত্বশীলতার অংশ।

জরুরি সময়ের জন্য কিছুই না রেখে সব খরচ করে ফেলা

জীবনে সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চলে না। হঠাৎ চিকিৎসার খরচ হতে পারে, বাড়ির কোনো জরুরি মেরামত লাগতে পারে, কাজের পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে হাতে কোনো সঞ্চয় না থাকলে ঋণের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে। তাই অপ্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে ধীরে ধীরে জরুরি সঞ্চয় গড়ে তোলা ভবিষ্যতের আর্থিক চাপ সামলাতে সাহায্য করতে পারে।

ঋণ নেওয়ার আগে একটু থামুন

ঋণ মানেই খারাপ বিষয়টি এমন নয়। বাড়ি, শিক্ষা, প্রয়োজনীয় ব্যবসায়িক বিনিয়োগ কিংবা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে পরিকল্পিত ঋণ যুক্তিসংগত হতে পারে। আসল বিষয় হলো কেন ঋণ নিচ্ছেন, কতটা নিচ্ছেন এবং কীভাবে পরিশোধ করবেন, তা আগে থেকেই ভাবা।

তাই ঋণ নেওয়ার আগে নিজেকে অন্তত তিনটি প্রশ্ন করুন

এটি কি সত্যিই প্রয়োজন?
ঋণ না নিয়ে কি কিছুদিন সঞ্চয় করে এটি করা সম্ভব?
আমার বর্তমান আয় দিয়ে কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ করা সম্ভব হবে কি?

আজকের ইচ্ছা পূরণ করতে গিয়ে যদি আগামী দিনের আয়কে আগেই খরচ করে ফেলেন, তাহলে সেই আনন্দের মূল্য অনেক বেশি হতে পারে। জীবনে ঋণ কখনো কখনো প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু অপ্রয়োজনীয় ঋণ থেকে দূরে থাকা অনেক সময় নিজেকেই ভবিষ্যতের আর্থিক চাপ থেকে দূরে রাখা।

টয়লেটে ফোন নিচ্ছেন? ডেকে আনছেন মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি!

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ১০, ২০২৬
টয়লেটে ফোন নিচ্ছেন? ডেকে আনছেন মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি!

সকালে টয়লেটে ঢুকে মাত্র দুই মিনিট ভেবে ফোন হাতে নেন। এরপর ফেসবুক, রিলস বা ভিডিও দেখতে দেখতে কখন যে ১৫–২০ মিনিট কেটে যায়, তা অনেকেই বুঝতে পারেন না। কিন্তু চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা— টয়লেটে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার এই অভ্যাস শুধু সময় নষ্টই নয়, এটি পাইলস, অ্যানাল ফিশার, কোষ্ঠকাঠিন্যসহ নানা জটিলতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, টয়লেটে ১০ মিনিটের বেশি বসে থাকলে মলদ্বার ও পেলভিক অংশের শিরাগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। বিশেষ করে ফোন ব্যবহার করলে মানুষ শরীরের স্বাভাবিক মলত্যাগের সংকেত উপেক্ষা করে দীর্ঘ সময় একই ভঙ্গিতে বসে থাকে। এতে মল কোলনে বেশি সময় থেকে শক্ত হয়ে যায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি বাড়ে।হিন্দুস্তান টাইমসের স্বাস্থ্য বিষয়ক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে এমন তথ্য।

১০ মিনিটের বেশি টয়লেটে থাকলে যা হতে পারে

পাইলস (হেমোরয়েড): দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার কারণে মলদ্বারের শিরাগুলো ফুলে যেতে পারে, যা পাইলসের ঝুঁকি বাড়ায়।

অ্যানাল ফিশার: শক্ত মল বের হওয়ার সময় মলদ্বারে ছোট ফাটল তৈরি হতে পারে। এতে তীব্র ব্যথা ও রক্তপাত হতে পারে।

কোষ্ঠকাঠিন্য: স্বাভাবিক মলত্যাগের অভ্যাস ব্যাহত হলে মল আরও শক্ত হয়ে যায়, ফলে সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

পেলভিক ফ্লোরের ওপর চাপ: একই ভঙ্গিতে দীর্ঘ সময় বসে থাকলে পেলভিক পেশিতে অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যা ভবিষ্যতে আরও জটিলতার কারণ হতে পারে।

পাইলস কি কোলন ক্যানসারে পরিণত হয়?

চিকিৎসকদের মতে, পাইলস থেকে কোলন ক্যানসার হয় না। দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন রোগ।তবে সমস্যাটি অন্য জায়গায়। অনেক সময় কোলন ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ— যেমন মলদ্বার দিয়ে রক্ত পড়া, মলত্যাগের অভ্যাস বদলে যাওয়া বা দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্য— মানুষ ভুল করে পাইলস ভেবে অবহেলা করেন। ফলে প্রকৃত রোগটি শনাক্ত হতে দেরি হয় এবং ক্যানসার অগ্রসর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, যদি দীর্ঘদিন রক্তপাত, ওজন কমে যাওয়া, দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য বা মলত্যাগের অভ্যাসে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।

যেভাবে ঝুঁকি কমাবেন

টয়লেটে ফোন বা অন্য কোনো স্ক্রিন ডিভাইস ব্যবহার না করাই ভালো।

৫–১০ মিনিটের মধ্যে মলত্যাগের কাজ শেষ করার চেষ্টা করুন।

পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

প্রতিদিন আঁশযুক্ত খাবার খান।

নিয়মিত শরীরচর্চা করুন।

প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে টয়লেটে যাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

চিকিৎসকদের মতে, টয়লেট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের জায়গা নয়। প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সময় সেখানে বসে থাকা একটি ছোট অভ্যাস মনে হলেও, দীর্ঘমেয়াদে এটি পাইলস, ফিশার ও কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে। পাশাপাশি মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত বা দীর্ঘস্থায়ী উপসর্গকে কখনোই শুধু পাইলস ভেবে অবহেলা করা উচিত নয়। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে গুরুতর রোগও প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা সম্ভব।

ধূমপান করেন? মুখের এসব লক্ষণ হতে পারে ক্যানসারের ইঙ্গিত

প্রকাশ: শুক্রবার, আগস্ট ০৭, ২০২৬
ধূমপান করেন? মুখের এসব লক্ষণ হতে পারে ক্যানসারের ইঙ্গিত

ধূমপান যে শুধু ফুসফুসের ক্ষতি করে, এমন ধারণা অনেকেরই। অথচ প্রতিদিন অতিরিক্ত সিগারেটের ধোঁয়া নীরবে আঘাত হানতে পারে মুখ, জিভ, মাড়ি ও গলাতেও। শুরুতে মুখে ছোট একটি ঘা, গলা ব্যথা বা স্বরের পরিবর্তনের মতো সাধারণ উপসর্গ দেখা দিলেও অনেকেই সেগুলোকে গুরুত্ব দেন না।

কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এসব লক্ষণের কিছু কিছু মুখ ও গলার ক্যানসারের প্রাথমিক সতর্কসংকেত হতে পারে। তাই বিশেষ করে নিয়মিত ধূমপায়ীদের এসব লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।

চিকিৎসকদের ভাষ্য, অল্পবয়সী ও মধ্যবয়সীদের মধ্যেও মুখ ও গলার ক্যানসারের প্রবণতা বাড়ছে। ধূমপান ও তামাকজাত পণ্য সেবন এ ধরনের ক্যানসারের অন্যতম প্রধান ঝুঁকির কারণ। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, রোগটি অনেক সময় প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়ে না। কারণ শুরুতে যে উপসর্গগুলো দেখা দেয়, সেগুলো সাধারণ অসুস্থতার লক্ষণ বলেই মনে হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিচের লক্ষণগুলো দুই থেকে তিন সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। যেসব লক্ষণ খেয়াল করবেন ধূমপায়ীরা?

মুখে ঘা

মুখ বা ঠোঁটে এমন কোনো ঘা বা ক্ষত তৈরি হতে পারে, যা দুই থেকে তিন সপ্তাহ কিংবা তারও বেশি সময় ধরে সারবে না। সাধারণ ওষুধ ব্যবহার করেও যদি ক্ষত ভালো না হয়, তবে তা গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

জিহ্বায় আলসার

জিহ্বার নিচে বা গোড়ায় দীর্ঘস্থায়ী আলসার দেখা দিতে পারে। সাধারণ আলসার ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে সেরে গেলেও ক্যানসারের ক্ষেত্রে ক্ষত দীর্ঘদিন থেকে যেতে পারে। পাশাপাশি জিহ্বা সাদা বা লালচে দাগ দেখা দিতে পারে। খাবার চিবানো, গিলতে বা কথা বলতে অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে।

মাড়ির সমস্যা

মাড়িতে ফোলা, ফোস্কার মতো ক্ষত, বারবার সংক্রমণ বা রক্তপাত হলে সতর্ক হতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে এসব সমস্যা থাকলে তা পরীক্ষা করানো জরুরি।

গলার স্বরের পরিবর্তন

কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই যদি গলার স্বর বদলে যায় বা দুই থেকে তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে গলা ব্যথা ও স্বর ভাঙা থাকে, তাহলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়।

কানে অকারণ ব্যথা

এক বা দুই কানে দীর্ঘদিন ধরে ব্যথা, কিংবা কান থেকে পুঁজ বা রক্ত বের হওয়াও মুখ ও গলার ক্যানসারের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

দীর্ঘদিনের শুকনো কাশি

দীর্ঘ সময় ধরে কাশি, কাশির সঙ্গে রক্ত আসা বা দুর্গন্ধযুক্ত কফ বের হওয়া উদ্বেগজনক লক্ষণ। এমন উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।

করণীয় কী?

এসব লক্ষণ থাকলেই যে ক্যানসার হয়েছে, এমন নয়। তবে উপসর্গগুলো যদি দুই থেকে তিন সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়, তাহলে দেরি না করে নাক-কান-গলা (ইএনটি) বিশেষজ্ঞ বা মুখগহ্বরের রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসা করে আরোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

রঙ চায়ে কেন দুধ মেশাল ব্রিটিশরা? জানুন সেই অদ্ভুত কারণ

প্রকাশ: মঙ্গলবার, আগস্ট ০৪, ২০২৬
রঙ চায়ে কেন দুধ মেশাল ব্রিটিশরা? জানুন সেই অদ্ভুত কারণ

বাঙালির দিন শুরু হয় এক কাপ দুধ-চা দিয়ে। এ যেন দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু এই দুধ-চায়ের পেছনে লুকিয়ে আছে বিস্ময়কর এক ইতিহাস, যেখানে জড়িয়ে আছে আভিজাত্য, কৌশল আর বাণিজ্যিক পরিকল্পনা।

চায়ের জন্মভূমি চীন। সেখানে প্রাচীনকাল থেকেই চা পান করা হতো নিখাদভাবে শুধু গরম পানি আর চা-পাতার সংমিশ্রণে। এটি ছিল এক ধরনের ঔষধি পানীয়, পরে যা ধীরে ধীরে আভিজাত্যের প্রতীক হয়ে ওঠে। চিনি বা দুধ মেশানোর ধারণা তখনো সেখানে অজানা ছিল।

১৭শ শতকে চা ইউরোপে পৌঁছালে যুক্তরাজ্যে এটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তবে তখনকার চীনামাটির কাপগুলো খুব নাজুক ছিল। ফুটন্ত গরম চা ঢাললেই ফেটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকত। এই সমস্যা এড়াতে ব্রিটিশরা কাপে আগে ঠাণ্ডা দুধ ঢেলে তারপর গরম চা যোগ করতে শুরু করে। এতে কাপ রক্ষা পেত, পাশাপাশি চায়ের তিক্ততাও কিছুটা কমে যেত।

এই অভ্যাস ধীরে ধীরে সামাজিক পরিচয়ের অংশে পরিণত হয়। ধনীরা তুলনামূলক বেশি চা ও কম দুধ ব্যবহার করলেও, নিম্নবিত্তরা খরচ বাঁচাতে দুধ বেশি দিয়ে অল্প চা মিশিয়ে পান করত।

পরবর্তীতে ১৯শ শতকে ব্রিটিশরা চায়ের জন্য চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে ভারতীয় উপমহাদেশ-এ চা চাষ শুরু করে। আসাম, দার্জিলিং ও সিলেট হয়ে ওঠে চা উৎপাদনের প্রধান কেন্দ্র। শুরুতে এসব চা ইউরোপে রপ্তানি হলেও স্থানীয় মানুষ তখনো চা পানে অভ্যস্ত ছিল না।

২০শ শতকের শুরুতে ব্রিটিশ ব্যবসায়ীরা নতুন বাজার তৈরির পরিকল্পনা করে। তারা লক্ষ্য করে, উপমহাদেশের মানুষ দুধ ও মিষ্টিতে অভ্যস্ত। তাই রেলস্টেশন, কলকারখানা ও জনবহুল এলাকায় বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে দুধ-চা বানানো শেখানো শুরু হয়। এই বিপণন কৌশল দ্রুত জনপ্রিয়তা পায়।

তবে উপমহাদেশীয় মানুষ ব্রিটিশদের শেখানো নিয়মে থেমে থাকেনি। বরং তারা দুধ-চাকে নিজের মতো করে বদলে নেয় যোগ করে আদা, এলাচসহ নানা মসলা। ফলে জন্ম নেয় এক নতুন স্বাদ, যা আজকের ‘মসলা চা’ বা ‘দুধ চা’ হিসেবে পরিচিত।

চায়ের এই দীর্ঘ যাত্রা প্রমাণ করে, এক কাপ দুধ-চা শুধু পানীয় নয় এতে মিশে আছে ইতিহাস, সংস্কৃতি ও বাণিজ্যের বহুস্তরীয় গল্প।