২০৭ ম্যাচ, ১২৫ গোল, একটি বিশ্বকাপ, দুটি কোপা আমেরিকা আর একটি ফিনালিসিমা; আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসির মহাকাব্যিক ক্যারিয়ারের বাঁকে বাঁকে জড়িয়ে আছে কতশত রোমাঞ্চ আর গল্প। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে পরাজয়ের পর হয়তো আলবিসেলেস্তেদের হয়ে নিজের শেষ অধ্যায়টি লিখে ফেলেছেন তিনি । এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না এলেও, ট্রফিহীন এই সমাপ্তিই আর্জেন্টিনার জার্সিতে ৩৯ বছর বয়সী তারকার নিশ্চিত বিদায়ঘণ্টা হতে পারে।
ফাইনালে স্পেনের রক্ষণভাগের নিখুঁত পরিকল্পনার সামনে পুরোটা সময় নিষ্ক্রিয় ছিলেন মেসি। যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সহজাত ক্ষমতা থাকলেও স্প্যানিশ ডিফেন্ডাররা তাঁকে পেনাল্টি বক্স ও বলের দখল থেকে সম্পূর্ণ দূরে রেখেছিলেন। মাঠের ভেতরে তাঁকে একরকম বোতলবন্দী করে রেখেছিল স্পেনের মাঝমাঠ ও রক্ষণ।
মেসির সামনে পরবর্তী বিশ্বকাপ যখন আসবে, তখন তাঁর বয়স হবে ৪৩। কিংবদন্তি এই ফরোয়ার্ডের জন্য ৪৩ বছর বয়সে বিশ্বকাপে খেলাটা প্রায় অসম্ভব বলেই মনে হয়। তবে ২০২৮ কোপা আমেরিকা কিছুটা কাছে। আর্জেন্টিনার হয়ে আবারও তিনি মাঠে নামবেন কি না, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে তাঁর শারীরিক সক্ষমতা ও ফর্মের ওপর।
ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর মতো মেসিরও এটি ছিল ষষ্ঠ বিশ্বকাপ, যা ফুটবল ইতিহাসে আর কোনো ফুটবলারের নেই। এই টুর্নামেন্টে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসন নিয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে মেসির এক ঐতিহাসিক লড়াই দেখা গেছে।
টুর্নামেন্ট চলাকালীন মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ড ভেঙে মেসি শীর্ষে উঠলেও, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের সুযোগ নিয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পে ২২ গোল করে তাঁকে (২১) ছাড়িয়ে যান।
বে আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসি যা অর্জন করেছেন, তা নিয়ে তিনি গর্ব করতেই পারেন, যদিও শুরুটা ছিল ভীষণ বেদনার। ২০০৬ বিশ্বকাপে সার্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে আলো ছড়ানোর পরও জার্মানির বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে হোসে পেকারমান মেসিকে এক মিনিটের জন্যও মাঠে নামাননি।
এরপর শুরু হয় আর্জেন্টিনার জার্সিতে তাঁর যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন আর টানা চার ফাইনাল (২০০৭, ২০১৫ ও ২০১৬ কোপা আমেরিকা এবং ২০১৪ বিশ্বকাপ) হারের দুঃস্বপ্ন। ২০১৬ সালে তো অভিমানে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরই নিয়ে নিয়েছিলেন তিনি।
অবশ্য মেসি ফিরে এসেছিলেন এবং কোচ লিওনেল স্কালোনির অধীনে নিজের ক্যারিয়ারের গতিপথ বদলে দিয়েছিলেন। করোনাকালের সেই মারাকানায় কোপা আমেরিকা জয়, এরপর ফিনালিসিমা এবং কাতার বিশ্বকাপে অধরা ট্রফি উঁচিয়ে ধরে সব সমালোচনার জবাব দেন মেসি।
২০২৪ কোপা আমেরিকা জিতে এই বিশ্বকাপে পা রাখা মেসি পুরো টুর্নামেন্টে ৮ গোল করে বিশ্বকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছিলেন। কিন্তু ফাইনালে স্পেনের কাছে স্বপ্নভঙ্গে থমকে গেল তাঁর দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের ও সম্ভবত শেষ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট। এখন আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বলটি লিওনেল মেসির কোর্টেই।