৪ আগস্ট ২০২৬

জুলাইয়ে প্রবাসী আয় ২.৮৬ বিলিয়ন ডলার, বেড়েছে ১৫.৪ শতাংশ

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ০৩, ২০২৬
জুলাইয়ে প্রবাসী আয় ২.৮৬ বিলিয়ন ডলার, বেড়েছে ১৫.৪ শতাংশ
প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক ধারা। ছবি: সংগৃহীত

দেশে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ২৮৫ কোটি ৮৬ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার (প্রায় ২.৮৬ বিলিয়ন ডলার) রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ বা প্রায় ৩৮ কোটি ডলার। এ সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহের ইতিবাচক ধারা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী রাখতে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে।

রোববার (২ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জুলাইয়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার। সেই হিসাবে চলতি বছরের জুলাইয়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ৩৮ কোটি ডলার। প্রতি ডলার ১২৩ টাকা বিনিময় হার ধরে জুলাই মাসে আসা রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩৫ হাজার ১৬১ কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, মাসের প্রথম পাঁচ দিনে আসে ৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার। পরে ধারাবাহিকভাবে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়তে থাকে। ২১ দিনে মোট প্রবাসী আয় দাঁড়ায় ২০৯ কোটি ৫০ লাখ ডলারে, ২৭ দিনে তা বেড়ে হয় ২৫২ কোটি ৪০ লাখ ডলার এবং মাস শেষে তা পৌঁছে প্রায় ২৮৬ কোটি ডলারে।

ব্যাংকভিত্তিক হিসাবে জুলাইয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৪৩ কোটি ৭৯ লাখ ৭০ হাজার ডলার। বিশেষায়িত ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৩২ কোটি ৫৫ লাখ ডলার, বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে ২০৮ কোটি ৯৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৫৩ লাখ ২০ হাজার ডলার।

তবে জুলাই মাসে আটটি ব্যাংকের মাধ্যমে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি। এগুলোর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল), বিশেষায়িত রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব), বেসরকারি আইসিবি ইসলামী ব্যাংক ও পদ্মা ব্যাংক।

এছাড়া বিদেশি ব্যাংকের মধ্যে ব্যাংক আল-ফালাহ, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান এবং স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার মাধ্যমে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ, প্রণোদনা এবং প্রবাসীদের আগ্রহ বৃদ্ধির ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহ ইতিবাচক ধারায় রয়েছে।

এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী মাসগুলোতেও প্রবাসী আয় উচ্চ অবস্থানে থাকবে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা, আমদানি ব্যয় নির্বাহ এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জুলাইয়ে প্রবাসী আয় ২.৮৬ বিলিয়ন ডলার, বেড়েছে ১৫.৪ শতাংশ

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ০৩, ২০২৬
জুলাইয়ে প্রবাসী আয় ২.৮৬ বিলিয়ন ডলার, বেড়েছে ১৫.৪ শতাংশ
প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক ধারা। ছবি: সংগৃহীত

দেশে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ২৮৫ কোটি ৮৬ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার (প্রায় ২.৮৬ বিলিয়ন ডলার) রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ বা প্রায় ৩৮ কোটি ডলার। এ সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহের ইতিবাচক ধারা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী রাখতে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে।

রোববার (২ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জুলাইয়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার। সেই হিসাবে চলতি বছরের জুলাইয়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ৩৮ কোটি ডলার। প্রতি ডলার ১২৩ টাকা বিনিময় হার ধরে জুলাই মাসে আসা রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩৫ হাজার ১৬১ কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, মাসের প্রথম পাঁচ দিনে আসে ৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার। পরে ধারাবাহিকভাবে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়তে থাকে। ২১ দিনে মোট প্রবাসী আয় দাঁড়ায় ২০৯ কোটি ৫০ লাখ ডলারে, ২৭ দিনে তা বেড়ে হয় ২৫২ কোটি ৪০ লাখ ডলার এবং মাস শেষে তা পৌঁছে প্রায় ২৮৬ কোটি ডলারে।

ব্যাংকভিত্তিক হিসাবে জুলাইয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৪৩ কোটি ৭৯ লাখ ৭০ হাজার ডলার। বিশেষায়িত ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৩২ কোটি ৫৫ লাখ ডলার, বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে ২০৮ কোটি ৯৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৫৩ লাখ ২০ হাজার ডলার।

তবে জুলাই মাসে আটটি ব্যাংকের মাধ্যমে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি। এগুলোর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল), বিশেষায়িত রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব), বেসরকারি আইসিবি ইসলামী ব্যাংক ও পদ্মা ব্যাংক।

এছাড়া বিদেশি ব্যাংকের মধ্যে ব্যাংক আল-ফালাহ, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান এবং স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার মাধ্যমে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ, প্রণোদনা এবং প্রবাসীদের আগ্রহ বৃদ্ধির ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহ ইতিবাচক ধারায় রয়েছে।

এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী মাসগুলোতেও প্রবাসী আয় উচ্চ অবস্থানে থাকবে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা, আমদানি ব্যয় নির্বাহ এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রবাসীর ৫ ফুট চওড়া বসতঘর, দূর-দূরান্ত থেকে দেখতে আসছে মানুষ

প্রকাশ: শনিবার, আগস্ট ০১, ২০২৬
প্রবাসীর ৫ ফুট চওড়া বসতঘর, দূর-দূরান্ত থেকে দেখতে আসছে মানুষ

মাত্র এক শতাংশ জমিতে ব্যতিক্রমী নকশায় নির্মিত একটি বসতঘর ঘিরে কৌতূহল তৈরি হয়েছে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে। স্বল্প পেন্নাই গ্রামে ৮৫ ফুট দীর্ঘ ও মাত্র ৫ ফুট প্রস্থের এই ঘরের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিদিনই এটি দেখতে ভিড় করছেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ।

ঘরটির মালিক সৌদি আরবপ্রবাসী মো. শাহজালাল। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘরের জায়গাটি ডোবা ছিল। সেটি ভরাট করে চলতি বছরের জুন মাসে প্রায় আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে টিনের ছাউনি ও বেড়ার ঘরটি নির্মাণ করেন শাহজালাল। এই ঘরটিই সম্বল ওই প্রবাসীর।

শাহজালালের স্ত্রী খাদিজা আক্তার জানান, ২০১৩ সালে শাহজালালের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তখন তার স্বামী দেশে মাইক্রোবাস চালাতেন। ২০১৫ সালে প্রথমে ইরাকে যান, সেখান থেকে তিন বছর পর দেশে ফেরেন। ২০১৬ সালে বাবা শহীদ উল্লাহর কাছ থেকে এক শতাংশ নিচু জমি কেনেন। এর আগে ২০১৬ সালে শাহজালাল পৈত্রিক ভিটায় একটি পাকা ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করেন। তখন শাহজালালের প্রতিবেশী স্বজন আদালতে জায়গা সংক্রান্ত একাধিক মামলা দায়ের করেন। শাহজালাল একা এসব মামলা চালাতে গিয়ে সর্বশান্ত হয়ে পড়েন। এ সময় তিনি স্ত্রী তিন সন্তানকে নিয়ে কখনো স্বজনদের বসতঘরে, কখনে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করেছেন। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে শাহজালাল সৌদি আরবে যান। তার পাঠানো টাকায় চলতি বছরের জুন মাসে টিনের ছাউনি ও বেড়ার ঘরটি নির্মাণ করা হয়।

৫ ফুট চওড়ার ঘরে দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে বসবাস শাহজালালের স্ত্রী খাদিজা আক্তারের। তিনি বলেন, ঘর ছোট হলেও মোটামুটি সব সুযোগ–সুবিধাই তাতে রয়েছে। ঘরে ছয় ফুট দৈর্ঘ্য ও তিন ফুট প্রস্থের চৌকিতে সন্তানদের নিয়ে রাতে ঘুমান। সবার জায়গা না হওয়ায় চৌকির পাশে মোড়া রেখে তার ওপর কাঠ বিছিয়ে শোয়ার জন্য অতিরিক্ত জায়গার ব্যবস্থা করা হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঘরটির প্রবেশমুখে রয়েছে রান্নাঘর। এরপর খাবার ঘর, যেখানে রান্নার সামগ্রী রাখার একটি আলমারি রাখা। পরবর্তী অংশে শোয়ার কক্ষ। সেখানে ছয় ফুট দৈর্ঘ্য এবং তিন ফুট প্রস্থের চৌকি রাখা। এরপর রয়েছে ওয়্যারড্রোব ও স্টিলের একটি আলমারি রাখার জায়গা। সর্বশেষ অংশে রয়েছে পানি উত্তোলনের মোটর ও শৌচাগার। ঘরের সামনে ১০ ফুট দৈর্ঘ্য ও পাঁচ ফুট প্রস্থের চলাচলের পথ এবং পেছনে ১৪ ফুট দৈর্ঘ্য এবং পাঁচ ফুট প্রস্থের একটি খোলা বসার স্থান রাখা হয়েছে।

ভাইরাল ঘরটি দেখতে প্রায় প্রতিদিনই আসছেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ। শুক্রবার সন্ধ্যায় ঘরটির সামনে কথা হয় নাজমুল হাসান, আমির আলী, গিয়াস উদ্দিন নামে তিনজনের সঙ্গে। তারা জানান, এটি খুবই ব্যতিক্রমী একটি বসতঘর। ঘরটি নিজের চোখে না দেখলে পরিবারটির দুঃখ-কষ্ট ও সুখের অনুভূতি বুঝতে পারবে না।

শাহজালালের পরিবার মাথা গুঁজার ব্যবস্থা করতে পারায় খুশি স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রতিবেশী মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, পরিবারটির বসবাসের জন্য কোনো জায়াগাই ছিল না। এতদিন অনেক কষ্টে বিভিন্ন মানুষের বাড়িতে দিন কাটিয়েছেন। অল্প জায়গার মধ্যে হলেও অবশেষে বসত ঘরটি নির্মাণ করতে পেরেছেন শাহজালাল। অবশেষে একটি স্থায়ী ঠিকানা হলো তাদের।

একই ভাষ্য গৌরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত ১ নম্বর ওয়ার্ডের নারী সদস্য জাহানারা আক্তারের। তিনি বলেন, শাহজালাল দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকলেও সীমিত বেতনের কারণে এবং পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণ শেষে বসতঘর নির্মাণের জন্য জায়গা ক্রয় করার সামর্থ্য হয়ে ওঠেনি। তাছাড়া স্বল্পপেন্নাই গ্রামে এক শতাংশ ডোবার জায়গা ক্রয় করতেও কমপক্ষে ২০ লাখ টাকার প্রয়োজন হয়। তাই নিরুপায় পরিবারটি অল্প জায়গাতেই মাথা গোঁজার ঠাঁই করে নিয়েছে।

প্রবাসীর জমি নিজের নামে রেজিস্ট্রি, দলিল লেখকের লাইসেন্স বাতিল

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ৩০, ২০২৬
প্রবাসীর জমি নিজের নামে রেজিস্ট্রি, দলিল লেখকের লাইসেন্স বাতিল

প্রবাসীর কেনা কৃষিজমি প্রতারণার মাধ্যমে নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার এক দলিল লেখকের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।

অভিযুক্ত দলিল লেখক মির্জা আব্দুর রব এবং ভুক্তভোগী দুবাইপ্রবাসী ফরহাদ আলী—উভয়ের বাড়ি তাড়াশ পৌর এলাকার কহিত গ্রামে।

অভিযোগকারী, দলিল সম্পাদনকারী, দলিল লেখক, দলিলের সাক্ষী ও স্থানীয় গ্রামবাসীর লিখিত বক্তব্য, সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং সরেজমিন তদন্তের ভিত্তিতে অভিযোগের সত্যতা পান তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহজাদপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. রবিউল ইসলাম।

পরে বিধি অনুযায়ী জেলা রেজিস্ট্রার শরীফ তোরাফ হোসেন অভিযুক্ত দলিল লেখক মির্জা আব্দুর রবের লাইসেন্স বাতিল করেন।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, শুধু লাইসেন্স বাতিল করলেই হবে না, প্রকৃত মালিককে তার জমি ফিরিয়ে দিতে হবে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ এপ্রিল ২০২৬ দুবাইপ্রবাসী ফরহাদ আলীর মা ফিরোজা বেগম জেলা প্রশাসক ও জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে বলা হয়, ফরহাদ আলীর বাবা নুরুল ইসলাম একজন ভ্যানচালক।

একমাত্র সম্বল সোয়া বিঘা কৃষিজমি বিক্রি করে ছেলেকে বিদেশে পাঠান। পরে ফরহাদ আলী বিদেশে উপার্জিত অর্থ দিয়ে ২০২১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি কহিত মৌজায় দেড় বিঘা কৃষিজমি ৭ লাখ ২৬ হাজার টাকায় কেনেন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, জমির রেজিস্ট্রেশনের দায়িত্ব দেওয়া হয় তাড়াশ দলিল লেখক অফিসের দলিল লেখক মির্জা আব্দুর রবকে। কিন্তু তিনি ফরহাদ আলীর বাবা-মায়ের অজ্ঞতা ও সরলতার সুযোগ নিয়ে জমিটি ক্রেতার নামে না করে নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেন।

ফরহাদ আলীর বাবা নুরুল ইসলাম (৭৭) বলেন, বিদেশে আমার ছেলের আয় খুবই কম। ঠিকমতো টাকাও পাঠাতে পারে না। গত রমজানে পান্তা ভাত খেয়েও রোজা রেখেছি। বসতবাড়ি আর ছেলের কেনা জমিটুকুই আমাদের শেষ সম্বল। জমি ফেরত না পেলে শোকে হয়তো মরেই যাব।

জমির বিক্রেতা কহিত তেতুলিয়া গ্রামের মৃত সোলেমানের সন্তান বাবলু মিয়া, কালাম হোসেন, শামীমা খাতুন ও সুমি খাতুন জানান, তারা চার ভাই-বোন ২০২১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ফরহাদ আলীর কাছে দেড় বিঘা কৃষিজমি বিক্রি করেন।

কিন্তু পরে জানতে পারেন, প্রতারণার মাধ্যমে দলিল লেখক মির্জা আব্দুর রব জমিটি নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নিয়েছেন।

জানা গেছে, পরে নুরুল ইসলাম দলিল লেখকের কাছে দলিলের জাবেদা নকল চাইলে তিনি দীর্ঘদিন তা দেননি। পরে ২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর অন্য মাধ্যমে দলিলের নকল সংগ্রহ করে পরিবারটি বিষয়টি জানতে পারে।

এরপর খাজনা ও নামজারি করতে ভূমি অফিসে গেলে তাদের জানানো হয়, দলিল অনুযায়ী জমির মালিক মির্জা আব্দুর রব। যদিও শুরু থেকেই জমিটি ভোগদখলে রয়েছে ফরহাদ আলীর পরিবারের।

জেলা রেজিস্ট্রার শরীফ তোরাফ হোসেন দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, প্রবাসী ফরহাদ আলীর মা ফিরোজা বেগমের অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেছে। তাই বিধি অনুযায়ী তাড়াশ দলিল লেখক অফিসে কর্মরত দলিল লেখক মির্জা আব্দুর রবের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।

প্রবাসীর বাড়ি থেকে অর্ধকোটি টাকার বিদেশি মদ জব্দ

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ৩০, ২০২৬
প্রবাসীর বাড়ি থেকে অর্ধকোটি টাকার বিদেশি মদ জব্দ


সিলেট মহানগরীর বালুচর এলাকায় মধ্যরাতে একটি আবাসিক বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৮৮২ বোতলে ৪৫০ লিটার বিদেশি মদ ও বিয়ার উদ্ধার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৯)। এ সময় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া এসব মদের বাজারমূল্য প্রায় কোটি টাকার কাছাকাছি হতে পারে বলে ধারণা করছে র‌্যাব।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সিলেট মহানগরীর ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের বালুচর নতুনবাজার সংলগ্ন একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে এসব মদ উদ্ধার করা হয়।

অভিযানের সময় বিদেশি মদ সংরক্ষণ ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ওই বাসার মালিকের ছোট ভাই সিলেট মহানগরীর শাহপরান (রহ.) উত্তর বালুচর এলাকার ইনরুস আলী আবু শিতাব (৪০) এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মো. ফিরুজ মিয়ার ছেলে মো. মহর আলী (২৪)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।

জানা যায়, র‌্যাব-৯ সিপিসি-১ এর একটি আভিযানিক দল মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সিলেট মহানগরীর ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের বালুচর এলাকায় প্রবাসীর একটি আবাসিক বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় ওই বাড়ির নিচতলার একটি স্টোররুম থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৮৮২ বোতল বিদেশি মদ ও বিয়ার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন নামিদামি ব্র্যান্ডের বিদেশি মদের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় কোটি টাকার কাছাকাছি হতে পারে বলে ধারণা করছে র‌্যাব।

অভিযানের সময় মদ সংরক্ষণ ও সরবরাহের জন্য বাড়িটি দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা প্রবাসীর ছোট ভাই আবু শিতাবের সম্পৃক্ততা পায় র‌্যাব। তার হেফাজতেই এসব বিদেশি মদ সংরক্ষণ করা হতো এবং সেখান থেকে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় তাকে প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এদিকে, অভিযান চলাকালে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ চালক মো. মহর আলীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

উদ্ধারকৃত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিদেশি মদের মধ্যে রয়েছে—৭৫০ মিলি রয়েল গ্রিন ৫৯ বোতল, রয়েল স্ট্রং ৮ বোতল, ব্লেন্ডার প্রাইড ১২৭ বোতল, স্ট্রেলিং রিজার্ভ (বি৭) ৬ বোতল, সিগনেচার ৬৪ বোতল, আইকনিক হোয়াইট ৫২ বোতল, ওল্ড মন্ক ৬ বোতল। এছাড়া ৩৭৫ মিলি ব্লেন্ডার প্রাইড ১৪৭ বোতল, আইকনিক হোয়াইট ৬৭ বোতল, রয়েল গ্রিন ৫৭ বোতল, সিগনেচার ২৩ বোতল, ওল্ড মন্ক ৭৭ বোতল, আইস ভোদকা ১১ বোতল, ম্যাজিক মোমেন্ট ১৬ বোতল। ১৮০ মিলি রয়েল স্ট্রং ৩৫ বোতল ও সিগনেচার ৩৩ বোতল এবং কিং ফিসার (স্ট্রং) বিয়ার ৯৫ বোতল উদ্ধার করা হয়েছে।

অভিযান শেষে র‌্যাব-৯ সিপিসি-১ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর সাদমান বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মহানগরীর বালুচর এলাকায় মধ্যরাতে একটি আবাসিক বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বাসার নিচতলার একটি স্টোররুম থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ ও বিয়ার উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি জানান, এ ঘটনায় বাড়িটির দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা প্রবাসীর ছোট ভাই আবু শিতাবকে প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তার হেফাজতেই এসব বিদেশি মদ সংরক্ষণ করা হতো এবং সেখান থেকে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হতো বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া অভিযান চলাকালে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মো. মহর আলীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

মেজর সাদমান বলেন, এটি একটি আবাসিক এলাকায় পরিচালিত গোপন মদের গুদাম। দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদের চালানের তথ্য পাওয়া গেলেও গুদামটির অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছিল না। গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে এবার সেই গুদাম শনাক্ত করে অভিযান চালানো হয়েছে।

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৯) অধিনায়ক মো. তাজমিনুর রহমান চৌধুরী বলেন, সিলেট মহানগরীর বালুচর এলাকায় মধ্যরাতে একটি আবাসিক বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৮৮২ বোতলে ৪৫০.১১৫ লিটার বিদেশি মদ ও বিয়ার উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত আবু সাদাতসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ওমানের সালালাহ সাগরে পড়ে বাংলাদেশি প্রবাসী নিখোঁজ

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ৩০, ২০২৬
ওমানের  সালালাহ সাগরে পড়ে বাংলাদেশি প্রবাসী নিখোঁজ

ওমানের সালালাহ অঞ্চলের দেলকুত উপকূলে আরব সাগরে পড়ে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার এক প্রবাসী নিখোঁজ হয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে ওমানের ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

নিখোঁজ আবু ছায়েদ (৩৬) নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম চরকাঁকড়া গ্রামের পাটোয়ারীর হাট এলাকার ২নং ওয়ার্ডের কিলালি বাড়ির আবুল খায়ের ও মনোয়ারা বেগমের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওমানে কর্মরত ছিলেন।

পারিবারিক সূত্র ও সঙ্গে থাকা প্রবাসীদের বরাতে জানা গেছে, ছুটির দিনে কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে সালালাহর দেলকুত উপকূলে ঘুরতে যান আবু ছায়েদ। একপর্যায়ে সমুদ্রের কিনারায় পিচ্ছিল পাথরের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় পা পিছলে তিনি সাগরে পড়ে যান। প্রবল স্রোত ও ঢেউয়ের কারণে মুহূর্তের মধ্যে তিনি নিখোঁজ হয়ে যান।

সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে স্থানীয় জরুরি সেবা সংস্থাকে খবর দেন। পরে ওমানের ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর বিশেষজ্ঞ ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাঁর কোনো সন্ধান মেলেনি।

এদিকে আবু ছায়েদের নিখোঁজ হওয়ার খবর দেশে পৌঁছালে তাঁর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ ও শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান জোরদার করার পাশাপাশি ওমানে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতা কামনা করেছেন। একই সঙ্গে তাঁরা তাঁর সন্ধান পাওয়ার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।