৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জেল খেটে খালি হাতে, এক কাপড়ে দেশে ফিরলেন ৭৬ প্রবাসী

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুলাই ২১, ২০২৬
জেল খেটে খালি হাতে, এক কাপড়ে দেশে ফিরলেন ৭৬ প্রবাসী

সৌদি আরবে কারাভোগ শেষে খালি হাতে দেশে ফিরেছেন ৭৬ জন বাংলাদেশি প্রবাসী। সোমবার (২০ জুলাই) সকালে তারা চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। বিদেশে স্বপ্নভঙ্গের এই করুণ বাস্তবতা আবারও প্রবাস জীবনের অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকিকে সামনে এনে দিয়েছে।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, সকাল ৭টা ৪৬ মিনিটে ওমানের সালাম এয়ারের ওভি-৪০১ ফ্লাইটে ওই প্রবাসীরা দেশে ফেরেন। ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ক্ষতিগ্রস্তদের তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদান করে।

ফিরে আসা প্রবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ১৮ জনকে জরুরি সহায়তা দেওয়া হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত ‘প্রত্যাশা-২’ প্রকল্পের আওতায় তাদের খাবার ও নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য যাতায়াত ভাতা দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা সবাই বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বৈধ পথেই সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পরই শুরু হয় নানা সমস্যার। অনেকের নিয়োগকর্তা নির্ধারিত সময় শেষে আকামা নবায়ন করেননি। আবার অনেককে বৈধ কাগজপত্রের আশ্বাস দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বৈধ কাগজপত্র না থাকায় স্থানীয় পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। দেশে ফেরার আগে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাগারে মানবেতর জীবন কাটাতে হয়েছে।

নেত্রকোনার বাসিন্দা মো. রাসেল জানান, তিনি চার লাখ টাকা ঋণ নিয়ে দালালের মাধ্যমে দুই বছর আগে সৌদি আরবে যান। শুরুতে কোনো কাজ পাননি। পরে মরুভূমিতে উটের খামারে কাজ পেলেও নিয়মিত বেতন পাননি। আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ১৬ দিন কারাভোগ শেষে এক কাপড়ে দেশে ফিরেছেন তিনি।

খুলনার ইব্রাহীম শেখ বলেন, ১৫ মাস বিদেশে থাকলেও প্রথম পাঁচ মাস কোনো কাজ পাননি। পরবর্তী সময় কাজ করলেও মাত্র পাঁচ মাসের বেতন পেয়েছেন। বকেয়া বেতন চাইলে মালিক দায় চাপান দালালের ওপর। পরে দেশে ফেরার জন্য আরেক দালালকে টাকা দিলে তিনি উল্টো পুলিশের হাতে তুলে দেন। ২১ দিন কারাভোগ শেষে দেশে ফিরতে হয়েছে তাকে।

বাগেরহাটের সেলিম শিকদার জানান, ছয় মাস কাজ করেও বেতন না পাওয়ায় পাওনা দাবি করলে নিয়োগকর্তা তার বিরুদ্ধে মামলা করেন। এরপর ২২ দিন কারাভোগ শেষে দেশে ফিরতে বাধ্য হন।

ফিরে আসা প্রবাসীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দেশি-বিদেশি দালাল ও কিছু অসাধু এজেন্সির ভিসা জালিয়াতির কারণে তারা চরম আর্থিক ও মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন। এতে সৌদি আরবে বাংলাদেশের শ্রমবাজারও হুমকির মুখে পড়ছে বলে তারা মনে করছেন।

তারা সরকারের কাছে দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি বিদেশগামীদের দালালের প্রলোভনে পা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৪৫ হাজারের বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বিদেশফেরত অভিবাসীকে জরুরি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শুধু চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়েই ৫ হাজারের বেশি প্রবাসী এই সহায়তা পেয়েছেন।

সব মিলিয়ে, এই ৭৬ প্রবাসীর করুণ অভিজ্ঞতা শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতির গল্প নয়, বরং এটি একটি বড় সতর্কবার্তা। বৈধ পথেও ঝুঁকি থাকায় বিদেশে যাওয়ার আগে সঠিক তথ্য, নির্ভরযোগ্য মাধ্যম এবং সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় স্বপ্নের সন্ধানে গিয়ে অনেকের জীবনই দুর্বিষহ হয়ে উঠতে পারে।

সৌদি আরবে প্রবাসীর রহস্যজনক মৃত্যু: ৩ দিন ধরে ঘরে পড়েছিল মরদেহ

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
সৌদি আরবে প্রবাসীর রহস্যজনক মৃত্যু: ৩ দিন ধরে ঘরে পড়েছিল মরদেহ

সৌদি আরবে আবহা শহরে সোহাগ রানা (৪২) নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর পর টানা তিন দিন তার মরদেহ নিজ শয়ন কক্ষে পড়ে ছিল। খবর পেয়ে ওই সৌদি পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করেছে বলে ভাষ্য তার পরিবারের।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে মৃত সোহাগের পরিবার গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে। এরআগে বৃহস্পতিবার বিকেলে সৌদি আরবে আবহা শহরের বাসা থেকে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।

মৃত সোহাগ রানা নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের হাফেজ উল্যাহ মিয়ার বাড়ীর বশির উল্যাহর ছেলে। তিনি দুই কন্যা সন্তানের জনক ছিলেন।

মৃত সোহাগের মামাতো ভাই সৌদি প্রবাসী সৈয়দ রিগান জানান, সোহাগ ৭ বছরের বেশি সময় ধরে সৌদিতে আছেন। এর আগে তিনি দুবাইতে ছিলেন। এখানে আসায় পর গত কয়েকমাস তার আকামা ছিল না, পাসপোর্টের মেয়াদও শেষ। কিছুদিন ধরে অনেক চেষ্টা করছিলেন তা নবায়ন করতে। এনিয়ে হতাশায় ভুগছিলেন সোহাগ।

তিনি আরও জানান, গত সোমবার থেকে তিনি তার কর্মস্থলের দোকানে যাননি। প্রথম দিন তাকে দোকানে না দেখে অন্য সহকর্মীরা ভেবে ছিলেন তিনি অসুস্থ। দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনও না যাওয়ায় কফিলকে বিষয়টি জানালে তিনিসহ অন্যরা বাসায় গিয়ে দেখেন ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করা।

পরে অনেক ডাকাডাকির পর ভিতর থেকে কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে দরজা ভেঙে তারা সোহাগের মরদেহ রুমে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকদের ধারণা অতিরিক্ত চিন্তা থেকে স্ট্রোকে সোহাগের মৃত্যু হয়েছে।

সোহাগ রানার মরদেহ দেশে আনতে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতা কামনা করেছেন তার পরিবার।

প্রবাসী রুবেলের মৃত্যু, মরদেহ আনতে দালালের ৬ লাখ টাকা দাবি

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
প্রবাসী রুবেলের মৃত্যু, মরদেহ আনতে দালালের ৬ লাখ টাকা দাবি

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের ভবানী পুর নামাপাড়া গ্রামের প্রবাসী রুবেল মিয়া (২৪) কম্বোডিয়ায় মারা গেছেন। তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে দালাল ৭ লাখ টাকা দাবি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫ টার দিকে অসুস্থ হয়ে পড়লে দেশটির পোচেনটং রেফারেল হাসপাতালে মারা যান তিনি।

রুবেলের পরিবারের অভিযোগ, রুবেল মিয়া ৫ লাখ টাকা দালাল কামরুল ইসলামকে দিয়ে দেড় বছর আগে কম্বোডিয়া যান। সেখানে যাওয়ার পর পাসপোর্ট জোর করে নিয়ে যাওয়ায় এতদিন অবৈধভাবে জীবনযাপন করছিলেন তিনি। এরমধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়লে পোচেনটং রেফারেল হাসপাতালে মারা যান তিনি। রুবেলের মরদেহ দেশে আনতে এখন ৬ লাখ দাবি করছেন দালাল কামরুল।

দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এত টাকা দিয়ে মরদেহ আনা সম্ভব নয় বলে প্রবাসী রুবেলের বাড়িতে বিলাপ চলছে। ছেলের মুখখানা শেষবারের মত দেখতে বৃদ্ধ পিতা-মাতা সরকারের কাছে আকুতি জানিয়েছেন।

এলাকাবাসী ও রুবেলের পরিবার জানায়, জমি বিক্রি করে দালাল কামরুলকে ৫ লাখ টাকা দিয়ে কম্বোডিয়া গিয়েছিল। কিন্তু দেড় বছর কাজকর্ম না দিয়ে পাসপোর্ট নিয়ে যাওয়ায় অবৈধভাবে বসবাস করে আসছিলেন রুবেল। এমনকি, বাড়ি থেকে টাকা পাঠালে সেই টাকা দিয়ে খাবার খেত।

রুবেলের সঙ্গে স্থানীয় আরও ৪ যুবক অবৈধভাবে তাবু টানিয়ে বসবাস করছিল। রাতে তাবুতেই রুবেল অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার সঙ্গে থাকা স্থানীয় যুবক মিনহাজ রুবেলের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

রুবেলের কৃষক বারা সামু মিয়া ফকির বলেন, ‘সংসারে স্বচ্ছলতা আনতে জমি বিক্রি করে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়ে ছিলাম। দেড় বছরে এক টাকাও সে বাড়িতে পাঠাতে পারেনি। উল্টো বাড়ি থেকে টাকা পাঠালে খাবার পেত।’

তিনি আরও বলেন, ‘৬০ হাজার টাকা পাঠালে দেশে আসার আকুতির কথা ছেলে জানিয়েছিল কিন্ত দিতে পারি নাই। এখন ছেলের লাশ দেশে আনতে দালাল কামরুল ৬ লাখ টাকা চান।’

মিয়া ফকির বলেন, ‘আমি গরীর মানুষ এত টাকা আমি কেমনে দিমু।’

রুবেলের মা মিনারা খাতুন বলেন, ‘ভিসা না দিয়ে আমার ছেলের পাসপোর্ট নিয়ে গিয়েছিল দালাল। অবৈধভাবে বসবাস করে মানসিক যন্ত্রনায় তার মৃত্যু হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি আমার ছেলের মুখ দেখে মরতে চাই।’

কলকাতা ভ্রমণে বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
কলকাতা ভ্রমণে বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা

পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার নিউমার্কেটে একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর তিন শতাধিক আবাসিক হোটেল ও রেস্তোরাঁ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এতে শহরজুড়ে হঠাৎ তীব্র আবাসন সংকট তৈরি হয়েছে, ফলে সেখানে অবস্থানরত এবং বাংলাদেশ থেকে যাওয়া পর্যটকেরা চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশিদের বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়, কলকাতায় গত ১৯ আগস্ট সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডের পরবর্তী সময়ে স্থানীয় প্রশাসন কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে সৃষ্ট পরিস্থিতি বিবেচনায় চিকিৎসা বা অন্যান্য কারণে বাংলাদেশ থেকে কলকাতা ভ্রমণকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের অনভিপ্রেত পরিস্থিতি এড়িয়ে চলতে নিম্নলিখিত নির্দেশনা অনুসরণের অনুরোধ জানানো যাচ্ছে।

কলকাতায় আগমনের আগে সংশ্লিষ্ট হোটেলের বুকিং নিশ্চিত করে এবং হোটেলটির বর্তমান কার্যক্রম, কক্ষের প্রাপ্যতা ও অবস্থান সম্পর্কে যথাযথভাবে অবগত হয়ে ভ্রমণ করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।

চিকিৎসার উদ্দেশ্যে আগত রোগীর সফরসঙ্গীদের কলকাতায় আসার আগেই হোটেল বুকিং নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট হোটেলের কক্ষের প্রাপ্যতা, বুকিংয়ের বৈধতা, হোটেল থেকে হাসপাতালের দূরত্ব এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে কলকাতায় আগমনের আগেই নিশ্চিত হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, কলকাতায় সাম্প্রতিক সময়ে সংগঠিত মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের পর স্থানীয় প্রশাসন ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য দুর্ঘটনাপ্রবণ আবাসিক হোটেল, রেস্তোরাঁগুলো সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করেছে। স্থানীয় নিরাপত্তা বিধি ও অন্যান্য নিয়ম কানুন মেনে ওই হোটেলগুলো পুনরায় চালু হতে মাসখানেকের বেশি সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

এই পরিস্থিতিতে কলকাতায় এসে আবাসনের সমস্যায় পড়া এড়াতে অগ্রিম হোটেল বুকিং নিশ্চিত না করে ভ্রমণ না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হচ্ছে।

প্রবাসীর বাড়িতে বোমা বিস্ফোরণে আহত দুই, আটক ১

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
প্রবাসীর বাড়িতে বোমা বিস্ফোরণে আহত দুই, আটক ১

মাদারীপুরে এক ইতালি প্রবাসীর বসতবাড়িতে হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২ জন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে সদর উপজেলার পেয়ারপুর ইউনিয়নের পশ্চিম পেয়ারপুর গ্রামের ইতালি প্রবাসী রাজ্জাক মোল্লার বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।

আটক সালাউদ্দিন গাজী সদর উপজেলার মধ্য পেয়ারপুর গ্রামের মাফেজ গাজীর ছেলে। সে সম্পর্কে ইতালি প্রবাসীর খালাতো ভাই।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ইতালি প্রবাসী রাজ্জাক মোল্লার বাড়ির পেছনের কক্ষে ভোররাতে হঠাৎ হাতবোমা বিস্ফোরণ হয়। এতে আহত হন অন্তত দুইজন।

এ সময় টিনশেড ঘরের বেড়া উড়ে যায়। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে আশপাশে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে রাজ্জাক মোল্লার খালাতো ভাই সালাউদ্দিন গাজীকে আটক করে পুলিশ। পাশাপাশি পুলিশ বিস্ফোরণের আলামত সংগ্রহও করে।

পুলিশের ধারণা, ইতালি প্রবাসীর ঘরে বসে হাতবোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনায় জড়িতদের ধরতে এরমধ্যে মাঠে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, খবর পেয়ে সদর মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনায় জড়িতদের ধরতে মাঠে নেমেছে একাধিক টিম।

তিনি বলেন, আটক সালাউদ্দিন গাজীকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে আহতরা গ্রেফতার আতঙ্কে এখনো সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হননি।

ক্রোয়েশিয়া সীমান্তে বাংলাদেশিসহ আটক ৯৬

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
ক্রোয়েশিয়া সীমান্তে বাংলাদেশিসহ আটক ৯৬

ক্রোয়েশিয়ায় অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টার সময় বাংলাদেশিসহ ৯৬ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে আটক করেছে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার সীমান্ত পুলিশ।

বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) সীমান্ত নজরদারি অভিযানে পৃথক দু’টি ঘটনায় তাদের আটক করা হয়।

বৃহস্পতিবার দেশটির কর্মকর্তারা জানান, বুধবার বিকেলে বিস্ত্রিৎসা গ্রামের কাছে দু’টি নৌকা থেকে ৬৩ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৪০ জন পাকিস্তানি ও ২৩ জন বাংলাদেশি নাগরিক। এ সময় দু’জনকে মানবপাচারকারী হিসেবে সন্দেহ করা হয়। পরে সন্ধ্যায় একই এলাকায় আরও ৩৩ জনকে আটক করা হয়।

তাদের মধ্যে ১৮ জন আফগান, ১৩ জন বাংলাদেশি ও দু’জন পাকিস্তানি নাগরিক। আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে ফরেনার্স অ্যাফেয়ার্স সার্ভিসের বানিয়া লুকা ফিল্ড সেন্টারকে জানানো হয়েছে।

ঘটনাগুলোর তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে সীমান্ত পুলিশ।