১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফোন করে সৌদির পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সতর্ক করলেন ইরানের আরাঘচি

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ০২, ২০২৬
ফোন করে সৌদির পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সতর্ক করলেন ইরানের আরাঘচি
আব্বাস আরাঘচি, প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ

ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কার মধ্যেই কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

দুই দেশের শীর্ষ কূটনীতিকের এই যোগাযোগকে চলমান সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ফোনালাপে আরাগচি সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যেকোনো ‘আগ্রাসনের’ উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের হামলায় অংশগ্রহণকারী আঞ্চলিক দেশগুলোকেও নিশানা করা হবে।

ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে যেকোনো হামলার জবাবে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলোতে পাল্টা আঘাত হানার হুমকি বরাবরই দিয়ে আসছেন ইরানের শীর্ষ নেতারা। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াচ্ছে ইরান।

দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির, তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ও সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে আলাদাভাবে টেলিফোনে কথা বলেছেন এবং সংঘাত আরও বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করেছেন।

এই ফোনালাপগুলোতে তেহরান মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সতর্ক করে দিয়েছে এবং পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, তাদের সার্বভৌমত্ব বা জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যেকোনো আক্রমণের কঠোর জবাব দিতে তারা প্রস্তুত।

অন্যদিকে হরমুজ প্রণালীতে যাতায়াত নিয়ন্ত্রণের নিয়মগুলো উপেক্ষা করে এবং একটি ‘অননুমোদিত রুটের’ মধ্য দিয়ে জাহাজ পরিচালনা করে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযুক্ত করে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি কড়া বিবৃতি দিয়েছে।

তেহরান আরও অভিযোগ করেছে, বাণিজ্যিক জাহাজের আড়ালে হরমুজ প্রণালীতে সামরিক চলাচল গোপন রাখা, নতুন নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধ আরোপ এবং ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে নতুন বিমান হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতিকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

ইরানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে একটি নতুন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের বিষয়ে ক্রমবর্ধমান জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই এই ঘটনাগুলো ঘটছে, অন্যদিকে তেহরান এই অঞ্চলের বাইরেও তাদের প্রতিশোধমূলক আক্রমণ প্রসারিত করার হুমকি দিচ্ছে।

সৌদির এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের ভিডিও প্রকাশ করল হুতি

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
সৌদির এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের ভিডিও প্রকাশ করল হুতি

সৌদি আরবের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করে এর ভিডিও প্রকাশ করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। বুধবার প্রকাশিত প্রায় চার মিনিটের ভিডিওতে যুদ্ধবিমানটি লক্ষ্যবস্তু করার দৃশ্যের পাশাপাশি দুর্ঘটনাস্থলে আগুন ও ধোঁয়া এবং পরে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়।

হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, মারিব প্রদেশের আকাশসীমায় ‘শত্রুতামূলক অভিযান’ চালানোর সময় স্থানীয়ভাবে তৈরি একটি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সৌদি এফ-১৫টি ভূপাতিত করা হয়। একই সঙ্গে সৌদি আরবের ৪৫০টি বিমান হামলার অভিযোগও করেন তিনি।

ভিডিওতে রাতের দৃশ্যে মাটিতে তীব্র আগুন ও ধোঁয়া দেখা যায়। পরবর্তী দিনের দৃশ্যে পাথুরে মরুভূমিতে ছড়িয়ে থাকা পোড়া ও দুমড়েমুচড়ে যাওয়া ধাতব অংশ দেখানো হয়। এর মধ্যে সৌদি বিমানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ চিহ্নযুক্ত একটি বড় উল্লম্ব পাখনাও দেখা যায়। কিছু সশস্ত্র ব্যক্তিকে ধ্বংসাবশেষের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে এবং হুথি যোদ্ধাদের পিকআপে মরুভূমির মধ্য দিয়ে চলাচল করতে দেখা যায়।

তবে ভিডিওটির দৃশ্যগুলো দিয়ে বিমানটি ভূপাতিত হওয়ার হুতিদের দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

এদিকে বুধবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট অভিযোগ করেছে, হুতিরা ইসলাম ধর্মের পবিত্র নগরী মক্কাকে লক্ষ্য করে একটি ড্রোন পাঠিয়েছিল। জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি জানান, সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী মক্কার নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ড্রোনটি শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে। তিনি ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে বর্ণনা করে দুই পবিত্র মসজিদ ও মুসল্লিদের নিরাপত্তাকে ‘লাল রেখা’ বলে উল্লেখ করেন।

তবে মক্কাকে লক্ষ্য করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে হুথিরা। সৌদি আরবের এই দাবি ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ বলে উল্লেখ করেছে গোষ্ঠীটি।

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান বৃহত্তর সংঘাতের মধ্যেই ইয়েমেনকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে। হুতিদের হামলা ও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের পাল্টা বিমান হামলার কারণে আঞ্চলিক সংঘাতে নতুন করে আরেকটি উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

মক্কাকে লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা, হুথিদের ড্রোন ভূপাতিত করল সৌদি আরব

মঙ্গলবার সৌদি সময় সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে মক্কার দক্ষিণে ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয়।
প্রকাশ: বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
মক্কাকে লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা, হুথিদের ড্রোন ভূপাতিত করল সৌদি আরব

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ছোড়া একটি ড্রোন পবিত্র নগরী মক্কার আকাশসীমায় ঢোকার আগেই ধ্বংস করেছে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী। মক্কাকে লক্ষ্য করে হুথিদের এ হামলাকে বড় ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মঙ্গলবার সৌদি সময় সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে মক্কার দক্ষিণে ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয়।

বুধবার ভোরে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইয়েমেনে বৈধ সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় গঠিত জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালকি ঘটনাটিকে 'রেড লাইন' বা সীমা লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, "প্রয়োজনীয় ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে জোট কোনো দ্বিধা করবে না।"

মক্কা ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র নগরী এবং হজের প্রধান কেন্দ্র। প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ লাখ মুসলমান হজ ও ওমরাহ পালনে সেখানে যান। ফলে ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর এ হামলা বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করতে পারে।

জোটের বিবৃতিতে বলা হয়, "এটি একটি লজ্জাজনক কাজ। ওহি নাজিলের ভূমি এবং বিশ্বের লাখ লাখ মুসলমানের হৃদয়ের গন্তব্যকে লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা করা হয়েছে।"

তবে মক্কার আশপাশে হুথিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার ঘটনা এবারই প্রথম নয়।

আরব জোটের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালেও মক্কার দিকে হুথিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছিল সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী।

জোট সে সময় জানিয়েছিল, তায়েফ প্রদেশের আল-ওয়াসলিয়া এলাকার আকাশে ক্ষেপণাস্ত্রটি ধ্বংস করা হয়। ওই ঘটনায় কেউ হতাহত হননি এবং কোনো ক্ষয়ক্ষতিও হয়নি।

এদিকে সোমবার সৌদি আরবের খামিস মুশাইত, আবহা ও তায়েফের বেসামরিক এলাকা লক্ষ্য করে হুথিদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৩ জন আহত হন।

এর আগের সপ্তাহেও সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরে হুথিদের হামলায় নারী ও শিশুসহ ৭০ জনের বেশি আহত হন।

এর আগে শুক্রবার রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে কয়েকটি ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন লক্ষ্যবস্তু হলে সেটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

পাইপলাইনে ওই হামলার নিন্দা জানায় উপসাগরীয় ও মুসলিম বিভিন্ন সংস্থা। একই সঙ্গে তারা সৌদি আরবের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে।

সৌদিতে হুতিদের ব্যাপক হামলা, জেদ্দাসহ বিভিন্ন শহরে সতর্কতা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
সৌদিতে হুতিদের ব্যাপক হামলা, জেদ্দাসহ বিভিন্ন শহরে সতর্কতা

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সৌদি আরবে ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। এসব হামলায় সাতটি বাড়ি ও দুটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

সোমবার সৌদি আরবের খামিস মুশাইত, আবহা ও তাইফের বেসামরিক এলাকায় হামলাগুলো চালানো হয়। মঙ্গলবার ভোরে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুরকি আল-মালকি।

সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহতদের কয়েকজনের আঘাত সামান্য থেকে মাঝারি মাত্রার।

হুতিদের হামলার পর সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ দেশটির পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি শহরে সতর্কতা জারি করেছে। সতর্কতার আওতায় থাকা শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে আবহা, জেদ্দা, জাজান, তাইফ, ইয়ানবু ও আল-উলা।

সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে সতর্ক থাকতে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেওয়া নির্দেশনা মেনে চলতে বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিবৃতিতে হুতিদের বিরুদ্ধে বেসামরিক নাগরিক ও স্থাপনা লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানোর অভিযোগ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, এ ধরনের ধারাবাহিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা হুতিদের ‘উগ্রপন্থি মতাদর্শ ও উত্তেজনা বাড়ানোর নীতি’ প্রকাশ করে।

সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বেসামরিক নাগরিক ও স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জোটের যৌথ বাহিনী দায়িত্বশীল ও কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

এর আগে, গত সপ্তাহে হুতিদের চালানো হামলায় সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর ও এলাকায় ৭০ জনের বেশি মানুষ আহত হন। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুও ছিল।

শুক্রবার রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে কয়েক দফা ড্রোন হামলার পর সৌদি আরব সাময়িকভাবে দেশটির পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন বন্ধ করে দেয়।

হুতিদের ওই হামলার নিন্দা জানায় উপসাগরীয় ও মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন সংগঠন। একই সঙ্গে সৌদি আরবের প্রতি সংহতিও প্রকাশ করে তারা।

মার্কিন সেন্টকম কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সাথে সৌদি যুবরাজের বৈঠক

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
মার্কিন সেন্টকম কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সাথে সৌদি যুবরাজের বৈঠক

মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক সর্বশেষ পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সাথে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান।

সৌদি আরবের জেদ্দায় এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অ্যাডমিরাল কুপার এবং তার সাথে থাকা মার্কিন প্রতিনিধিদলের সাথে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন সৌদি যুবরাজ।

বিশেষ করে দুই দেশের মধ্যকার কৌশলগত সহযোগিতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক ও নিরাপত্তার সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সৌদি প্রেস এজেন্সি সূত্রে জানা গেছে, এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সৌদি আরবের পক্ষে দেশটির প্রতিমন্ত্রী, ক্যাবিনেট সদস্য এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. মুসাইদ বিন মোহাম্মদ আল-আইবান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বৈঠকে উভয় দেশের সামরিক ও কূটনৈতিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অংশ নেন।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান নানা উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন সেন্টকম প্রধানের এই সৌদি সফর এবং শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

মদিনায় মিলল ১১ কোটি টন ইউরেনিয়াম আকরিকের বিশাল খনি

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
মদিনায় মিলল ১১ কোটি টন ইউরেনিয়াম আকরিকের বিশাল খনি

​ভিশন ২০৩০-এর আওতায় খনিজ সম্পদ ও পারমাণবিক শক্তির সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে সৌদি আরবের মদিনা অঞ্চলে প্রায় ১১ কোটি (১১০ মিলিয়ন) টন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ খনিজ আকরিকের সন্ধান পাওয়া গেছে।

​সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ৭০তম সাধারণ সম্মেলনে সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রী যুবরাজ আব্দুলআজিজ বিন সালমান এই ঐতিহাসিক আবিষ্কারের ঘোষণা দেন।

​জ্বালানি মন্ত্রী জানান, মদিনার 'জাবল সায়েদ' প্রকল্পের অধীনে পরিচালিত ভূতাত্ত্বিক জরিপ ও অনুসন্ধানে এই খনির সন্ধান মেলে। এই আকরিকগুলোতে ভারী উপাদানসহ দুর্লভ মৃত্তিকা খনিজের (রেয়ার আর্থ মিনারেল) উচ্চ ঘনত্ব রয়েছে এবং সেই সাথে ইউরেনিয়ামের প্রতিশ্রুতিশীল উপস্থিতি চিহ্নিত করা হয়েছে।

​সৌদি আরব তাদের 'ভিশন ২০৩০' পরিকল্পনার মাধ্যমে অর্থনীতিকে বহুমুখী করতে জাতীয় জ্বালানি মিশ্রণে পারমাণবিক শক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করার কাজ দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে। তবে, আকরিকগুলোতে ইউরেনিয়ামের সুনির্দিষ্ট ঘনত্ব কত তা মন্ত্রী প্রকাশ করেননি। ফলে এই খনি থেকে ঠিক কত পরিমাণ খাঁটি ইউরেনিয়াম নিষ্কাশন করা সম্ভব হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।

যুবরাজ আব্দুলআজিজ জানান, সৌদি আরব ইউরেনিয়াম অনুসন্ধানের পাশাপাশি অন্যান্য শিল্প প্রক্রিয়া থেকে ইউরেনিয়াম আহরণের প্রযুক্তি নিয়েও কাজ করছে। দেশের উত্তরাঞ্চলের ফসফেট সার শিল্পে উৎপাদিত ফসফরিক অ্যাসিড থেকে ইউরেনিয়াম নিষ্কাশনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। ফরাসি প্রতিষ্ঠান 'ওরানো'-এর সাথে পরিচালিত পরীক্ষামূলক কাজে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক পন্থায় ইউরেনিয়াম আহরণের ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

​সৌদি আরব কেবল অপ্সরিত কাঁচামাল রপ্তানির ওপর নির্ভর না করে অনুসন্ধান, খনন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও শোধনের মাধ্যমে একটি সমন্বিত শিল্প অবকাঠামো গড়ে তুলতে চায়। এর অংশ হিসেবে ফসফেট, সোনা, তামা, দস্তা এবং অন্যান্য মূল্যবান খনিজ সম্পদ উন্নয়নে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব জোরদার করা হচ্ছে।

​সম্মেলনে জ্বালানি মন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন যে, পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি)-র অধীনে পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের পূর্ণ অধিকার সৌদি আরবের রয়েছে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নির্দেশিকা মেনে একটি নিরাপদ ও টেকসই পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তুলছে রিয়াদ।

​অন্যদিকে, ভিয়েনায় মার্কিন জ্বালানি সচিবের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে যে, সৌদি আরবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কোনো পরিকল্পনা এই মুহূর্তে নেই।

উল্লেখ্য, ইউরেনিয়াম মূলত পারমাণবিক বিদ্যুৎ চুল্লির জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত আইসোটোপ উৎপাদন ও গবেষণাতেও এর ব্যবহার রয়েছে।