১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আমিরাতে ভিসা বাতিল ৪৮০০ বাংলাদেশির, দেশে ফিরে বিপাকে প্রবাসীরা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
আমিরাতে ভিসা বাতিল ৪৮০০ বাংলাদেশির, দেশে ফিরে বিপাকে প্রবাসীরা

সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ বাংলাদেশির ভিসা বাতিল করা হয়েছে। চলতি বছরের জুলাই থেকে বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশিদের ভিসা বাতিলের ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। হঠাৎ ভিসা বাতিল হওয়ায় অনেক বাংলাদেশি প্রবাসী আমিরাতে ফিরতে না পেরে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাত অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাজনিত কারণে এসব ভিসা বাতিল করছে। তবে ভিসা বাতিলের কারণ জানতে এবং সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেশটির সরকারের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নুরুল হক নুর বলেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে তিনি জানতে পেরেছেন, এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার ৮০০ বাংলাদেশির ভিসা বাতিল হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তিতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রথমে জানতে চাওয়া হয়েছে, ঠিক কী কারণে এসব ভিসা বাতিল করা হচ্ছে। একই সঙ্গে যাদের ভিসা বাতিল হয়েছে, তাদের বিষয়গুলো পুনরায় যাচাই-বাছাই করার অনুরোধও জানানো হয়েছে।

ভুক্তভোগী প্রবাসীদের অনেকেই জানিয়েছেন, জুলাই থেকে তাদের ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাচ্ছে। কারও ই-মেইল, কারও মোবাইল ফোনে এবং কারও ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কফিলের কাছে এ-সংক্রান্ত বার্তা পাঠানো হচ্ছে। অনেকে ছুটিতে বাংলাদেশে এসে ভিসা বাতিলের খবর পাওয়ায় আর আমিরাতে ফিরতে পারছেন না।

এক প্রবাসী জানান, তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা গ্রেপ্তারসংক্রান্ত অভিযোগ নেই। আমিরাতে তার ব্যবসা ও পরিবার রয়েছে। কিন্তু হঠাৎ ভিসা বাতিল হওয়ায় তিনি দেশে আটকা পড়েছেন। আমিরাতে ফিরতে না পারলে ব্যবসা ও জীবিকা হারানোর আশঙ্কা করছেন তিনি।

এ ঘটনায় বাংলাদেশিদের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের শ্রমবাজার নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত সংকট সমাধানে সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

সেন্টার ফর এনআরবির চেয়ারপারসন এম এস শেকিল চৌধুরীর মতে, এই পরিস্থিতির সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিরও কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে। তিনি আমিরাতের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন।ই-পেপার সাবস্ক্রাইব করুন

এদিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসা বাতিল হওয়া বাংলাদেশিদের বিস্তারিত তথ্য আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের নির্ধারিত ই-মেইলে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

আমিরাতে ভিসা বাতিল ৪৮০০ বাংলাদেশির, দেশে ফিরে বিপাকে প্রবাসীরা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
আমিরাতে ভিসা বাতিল ৪৮০০ বাংলাদেশির, দেশে ফিরে বিপাকে প্রবাসীরা

সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ বাংলাদেশির ভিসা বাতিল করা হয়েছে। চলতি বছরের জুলাই থেকে বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশিদের ভিসা বাতিলের ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। হঠাৎ ভিসা বাতিল হওয়ায় অনেক বাংলাদেশি প্রবাসী আমিরাতে ফিরতে না পেরে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাত অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাজনিত কারণে এসব ভিসা বাতিল করছে। তবে ভিসা বাতিলের কারণ জানতে এবং সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেশটির সরকারের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নুরুল হক নুর বলেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে তিনি জানতে পেরেছেন, এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার ৮০০ বাংলাদেশির ভিসা বাতিল হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তিতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রথমে জানতে চাওয়া হয়েছে, ঠিক কী কারণে এসব ভিসা বাতিল করা হচ্ছে। একই সঙ্গে যাদের ভিসা বাতিল হয়েছে, তাদের বিষয়গুলো পুনরায় যাচাই-বাছাই করার অনুরোধও জানানো হয়েছে।

ভুক্তভোগী প্রবাসীদের অনেকেই জানিয়েছেন, জুলাই থেকে তাদের ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাচ্ছে। কারও ই-মেইল, কারও মোবাইল ফোনে এবং কারও ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কফিলের কাছে এ-সংক্রান্ত বার্তা পাঠানো হচ্ছে। অনেকে ছুটিতে বাংলাদেশে এসে ভিসা বাতিলের খবর পাওয়ায় আর আমিরাতে ফিরতে পারছেন না।

এক প্রবাসী জানান, তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা গ্রেপ্তারসংক্রান্ত অভিযোগ নেই। আমিরাতে তার ব্যবসা ও পরিবার রয়েছে। কিন্তু হঠাৎ ভিসা বাতিল হওয়ায় তিনি দেশে আটকা পড়েছেন। আমিরাতে ফিরতে না পারলে ব্যবসা ও জীবিকা হারানোর আশঙ্কা করছেন তিনি।

এ ঘটনায় বাংলাদেশিদের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের শ্রমবাজার নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত সংকট সমাধানে সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

সেন্টার ফর এনআরবির চেয়ারপারসন এম এস শেকিল চৌধুরীর মতে, এই পরিস্থিতির সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিরও কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে। তিনি আমিরাতের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন।ই-পেপার সাবস্ক্রাইব করুন

এদিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসা বাতিল হওয়া বাংলাদেশিদের বিস্তারিত তথ্য আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের নির্ধারিত ই-মেইলে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

রাতে কাজ শেষে ফিরে কল দেব—

স্ত্রীকে বলা শেষ কথাটি আর রাখা হলো না কাতার প্রবাসী আজমের

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
স্ত্রীকে বলা শেষ কথাটি আর রাখা হলো না কাতার প্রবাসী আজমের

‘দিনে প্রচণ্ড গরম। রাতে কাজে যাচ্ছি। ফিরে কল দিয়ে কথা বলব।’ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে স্ত্রী সুলতানা বেগমকে ফোনে কথাগুলো বলেছিলেন কাতার প্রবাসী আজম মিয়া। কিন্তু সেই কথার আর কোনো উত্তর দেওয়া হয়নি তার। স্ত্রীর সাথে শেষ কথার কয়েক ঘণ্টা পরই নির্মাণাধীন বহুতল ভবন থেকে রশি ছিঁড়ে নিচে পড়ে ৩৫ বছর বয়সী আজমের মৃত্যু হয়।

এরপর থেকে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বামীকে হারিয়ে নির্বাক স্ত্রী, আর বাবার ফেরার অপেক্ষায় তিন সন্তান। বাড়িজুড়ে এখন শুধু কান্না আর অপেক্ষা।

জানা গেছে, কাতারের দোহায় একটি নির্মাণাধীন বহুতল ভবনে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন আজম। শনিবার রাতে শিফটে কাজ করার সময় হঠাৎ রশি ছিঁড়ে নিচে পড়ে যান তিনি। এ সময় সাথে থাকা আরও দুই শ্রমিক গুরুতর আহত হন। তবে ঘটনাস্থলেই মারা যান আজম।

পরে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে কাতার প্রবাসী স্বজনদের মাধ্যমে আজমের মৃত্যুর খবর জানতে পারে তার পরিবার।

আজমের বড় ভাই মাতাব মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমরা চার ভাই। সবার আলাদা সংসার। কিন্তু আজমের আয়েই তার স্ত্রী-সন্তানদের সংসার চলত। তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। ছোট মেয়েটার বয়স মাত্র চার বছর। এখন ওরা কীভাবে চলবে, সেটাই বুঝতে পারছি না।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ-ছয় বছর আগে জীবিকার তাগিদে কাতার পাড়ি জমান আজম। প্রায় দুই বছর আগে তিন মাসের ছুটিতে সর্বশেষ দেশে এসেছিলেন তিনি। এরপর আর দেশে ফেরা হয়নি তার।

স্বামীকে হারানোর খবর এখনো মেনে নিতে পারছেন না স্ত্রী সুলতানা বেগম। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, রাত ৮টায় কল দিছিলাম। কইলো, গরমের লাগি রাতে কাম। ফিরা আইয়া কল দিমুনে। এরপর আর ফোন ধরে নাই। সকালে শুনি, আমার মানুষটাই নাই।

বাবার মৃত্যুর খবর বুঝে ওঠার আগেই তিন সন্তান মাকে বারবার জিজ্ঞেস করছে- ‘আব্বা কবে আইবো?’ কিন্তু এই প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই সুলতানার কাছে।

রোববার সকালে আজমের বাড়িতে যান কুলাউড়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. রুশন মিয়া। তিনি বলেন, খবর শুনে পুরো গ্রাম স্তব্ধ হয়ে গেছে। আজম খুব ভালো মানুষ আছিল। তার মৃত্যুতে পরিবারটি একেবারে চাপে পড়ে গেছে। সরকারের কাছে অনুরোধ, তার লাশ যেন দ্রুত দেশে আনার ব্যবস্থা করা হয়।

পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্য, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে স্ত্রী ও তিন সন্তান এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারের স্বচ্ছলতার স্বপ্ন দেখেছিলেন আজম। কিন্তু কর্মস্থলের একটি দুর্ঘটনা সেই স্বপ্নকে মুহূর্তেই থামিয়ে দিয়েছে।

প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তাহীন কর্মপরিবেশ আবারও সামনে এনে দিয়েছে আজমের মৃত্যু। পরিবারের জন্য অর্থ উপার্জনের আশায় হাজারো মানুষ বিদেশে পাড়ি জমান। কিন্তু কর্মস্থলে দুর্ঘটনা কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু মুহূর্তেই একটি পরিবারের সব স্বপ্ন ভেঙে দেয়।

আজমের লাশ দেশে আনা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। পরিবারের দাবি, প্রিয় স্বজনের লাশ যেন শেষবারের মতো নিজ বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়।

যে মানুষটি স্ত্রীকে বলেছিলেন, ‘রাতের কাজ শেষে ফিরে কল দেব’, তিনি আর ফেরেননি। রেখে গেছেন স্ত্রী ও তিন সন্তানকে, আর লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাড়িতে রেখে গেছেন এক অসমাপ্ত অপেক্ষা।

পরিবারের পাশে দাঁড়াতে চাইলে কুলাউড়া উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে। লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারি সহায়তারও দাবি জানিয়েছে পরিবার।

আরও পড়ুন

মদিনায় মিলল ১১ কোটি টন ইউরেনিয়াম আকরিকের বিশাল খনি

কাতারে না জানিয়ে কারো ছবি বা ভিডিও ধারণ করলেই জেল-জরিমানা

সবুজে সেজে উঠছে কাতার: সবুজায়ন ও বৃক্ষরোপণে নতুন মাইলফলক

কাতারে খোলা জায়গায় গাড়ি ধোয়া নিষিদ্ধ: অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা

মধ্যপ্রাচ্যের শীর্ষ ১০০ ব্যবসায়িক নেতার তালিকায় কাতারের ৯ করপোরেট ব্যক্তিত্ব!

কাতারে জুমার নামাজের সময় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকান বন্ধ রাখার নতুন নিয়ম চালু

পাবলিক ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া ট্যাক্সি, লিমুজিন ও বাস চালানো নিষিদ্ধ: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

মায়ের স্মরণে কাতারের আল খোরে চালু হলো মহিলাদের জন্য ফ্রি কোরআন হিফজ কেন্দ্র

মালয়েশিয়ার যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান, আটক ৪৭২ বিদেশির ৩৬৪ জনই বাংলাদেশি

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
মালয়েশিয়ার যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান, আটক ৪৭২ বিদেশির ৩৬৪ জনই বাংলাদেশি

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশি অধ্যুষিত কোতারায়ায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে দেশটির যৌথ বাহিনী। রবিবার সকাল ১১টা থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানে প্রায় ২ হাজার ৫০০ বিদেশি নাগরিকের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। এর মধ্যে বিভিন্ন অভিযোগে ৪৭২ জনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৬৪ জনই বাংলাদেশি নাগরিক।

অভিযানে অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা এবং অহেতুক জনসমাগমের অভিযোগসহ অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হয়। কুয়ালালামপুরের অভিবাসন বিভাগের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সদস্যরা অংশ নেন।

আটক ৪৭২ জনের মধ্যে বাংলাদেশের ৩৬৪ জন ছাড়াও মিয়ানমারের ৫৭ জন, ফিলিপিন্সের ৯ জন, নেপাল, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানের ৭ জন করে, ভারতের ৬ জন, চীনের ৩ জন এবং জিম্বাবুয়ে ও সৌদি আরবের একজন করে নাগরিক রয়েছেন।

কুয়ালালামপুর অভিবাসন বিভাগের পরিচালক হামশাহ ইনজাউ জানান, অভিবাসন বিভাগ, সিটি করপোরেশন (ডিবিকেএল), ফায়ার সার্ভিস, জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মোট ৩৩৭ জন কর্মকর্তা যৌথভাবে অভিযানে অংশ নেন।

তিনি জানান, আটক ব্যক্তিদের বয়স ১৮ থেকে ৬২ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে ৪৩৯ জন পুরুষ ও ৩৩ জন নারী। বৈধ পরিচয়পত্র না থাকা, ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া এবং ভিসার শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে তাদের আটক করা হয়েছে। পরে তাদের পরবর্তী তদন্তের জন্য বুকিত জলিল ইমিগ্রেশন ডিপোতে পাঠানো হয়।

তদন্তে দেখা যায়, যাচাই করা অধিকাংশ বিদেশির বৈধ কাগজপত্র ছিল। তবে নির্দিষ্ট আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তাদের মধ্য থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আটক করা হয়েছে। অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে ডিবিকেএল আইনি ব্যবস্থা নেবে বলে জানানো হয়েছে।

হামশাহ ইনজাউ বাংলাদেশিসহ অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বিদেশিদের অবিলম্বে ‘মাইগ্র্যান্ট রিপ্যাট্রিয়েশন প্রোগ্রাম’ (পিআরএম)-এর আওতায় নিজ নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অবৈধভাবে বসবাসকারী এবং তাদের আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

প্রবাসীর স্ত্রীর বাসায় শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু: ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
প্রবাসীর স্ত্রীর বাসায় শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু: ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে প্রবাসীর স্ত্রীর ভাড়া বাসা থেকে কবীর হোসেন (২৫) নামে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ফুলবাড়ীয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভাড়া বাসায় থাকতেন প্রবাসী উজ্জল হোসেনের স্ত্রী শিরিন আক্তার ও তাঁর সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে।

উজ্জল হোসেন ওমানে থাকেন। প্রায় দুই বছর ধরে শিরিন আক্তারের ছেলেকে বাসায় গিয়ে প্রাইভেট পড়াতেন কবীর হোসেন।

গত বৃহস্পতিবার শিরিন আক্তার ময়মনসিংহ শহরে তাঁর বড় বোনের বাসায় বেড়াতে যাওয়ার সময় কবীর হোসেনকে বাসায় থাকার জন্য চাবি দিয়ে যান।

এরপর শুক্রবার কোনো এক সময় বাসার ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।


তবে নিহতের মা জোসনা বেগমের অভিযোগ, তাঁর ছেলে বাড়িতে গেলে উজ্জল হোসেনের স্ত্রী শিরিনা আক্তার ফোন করে তাঁকে বাসায় ডেকে নিতেন। তাঁর দাবি, শিরিনা আক্তারের কারণেই তাঁর ছেলে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।

আরও পড়ুন:

প্রবাসীদের ‘কামলা’ বলায় তোপের মুখে নাট্যকার আজাদ

প্রবাসীর স্ত্রীকে গণধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

ফুলবাড়িয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) প্রদীপ সাহা বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করেন। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে ঘটনার বিষয়ে ভাড়াটিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অধিকতর তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত করছে।

ফুলবাড়ীয়া থানার ওসি রাশেদুল হাসান বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে রয়েছেন এবং সেখানেই প্রবাসীর স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে। ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

মৃত্যুর ৯ মাস পর দেশে পৌঁছাল প্রবাসী তরিকুলের মরদেহ

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
মৃত্যুর ৯ মাস পর দেশে পৌঁছাল প্রবাসী তরিকুলের মরদেহ

লিবিয়ায় মর্মান্তিক মৃত্যুর দীর্ঘ ৯ মাস পর সমস্ত আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে দেশে ফিরেছে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার তরিকুল ইসলাম (২৫) নামে এক প্রবাসী যুবকের মরদেহ।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের গুরুড়া গ্রামের নিজ বাড়িতে তার মরদেহ এসে পৌঁছায়। নিহত তরিকুল ইসলাম ওই গ্রামের জাহাঙ্গীর প্রামানিকের ছেলে।

​নিহতের স্বজনরা জানান, অভাবের সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে ও জীবিকার তাগিদে প্রায় ৭ বছর আগে লিবিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন তরিকুল। প্রবাসে অবস্থানকালে চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি হঠাৎই তার করুণ মৃত্যু হয়।

তবে মৃত্যুর পর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার পথটি মসৃণ ছিল না। নানা কূটনৈতিক, প্রশাসনিক ও প্রক্রিয়াগত জটিলতা পার করতে করতেই পার হয়ে যায় দীর্ঘ ৯টি মাস।

নারী কণ্ঠে প্রবাসীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও প্রতারণা, গ্রেপ্তার প্রতারক চক্রের ৩ সদস্য

অবশেষে শনিবার দুপুরে বিমানযোগে কফিনবন্দি হয়ে তরিকুলের মরদেহ বাংলাদেশে এসে পৌঁছায়। বিমানবন্দর থেকে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিকেল ৪টার দিকে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার নিজ গ্রামে আনা হয় তার কফিন।

দীর্ঘ ৯ মাস অপেক্ষার পর তরিকুলের কফিনবন্দি দেহ বাড়িতে পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। নিহতের কফিন জড়িয়ে ধরে স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকার বাতাস ভারী হয়ে ওঠে, গ্রামজুড়ে নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া।

পরবর্তীতে বিকেল ৫টায় স্থানীয় ঈদগাহ ময়দানে মরহুমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

আরও পড়ুন

প্রবাসীরা চাইলে বাড়ি পাহারায় মিলবে আনসার

শাহজালালে ফ্রি শাটল বাস চালু হলেও যাত্রীদের সাড়া নেই!

মৃত্যুর ১১ মাস পর অবশেষে দেশে ফিরল প্রবাসী মিন্টু মিয়ার মরদেহ

ইউরোপে আশ্রয় না মিললে বাংলাদেশীদের আফ্রিকায় পাঠানোর পরিকল্পনা