১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায়

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায়

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।


মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ রায় ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো: মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।


মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অন্য আসামিরা হলেন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া সব আসামিই পলাতক রয়েছেন।

এর আগে, সোমবার উভয়পক্ষের শুনানি ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ থাকার পর বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রায়ের দিন ধার্য করেন।

গত বছরের নভেম্বরে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জুলাইয়ের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল।

গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এরপর পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হয়।

বাংলাদেশ থেকে ওমানে যাবে বৈদ্যুতিক বাইক, সমঝোতা স্মারক সই

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
বাংলাদেশ থেকে ওমানে যাবে বৈদ্যুতিক বাইক, সমঝোতা স্মারক সই
ওমানে বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল (ইভি বাইক) রপ্তানি, প্রযুক্তি বিনিময় ও যৌথ বিনিয়োগের লক্ষ্যে দেশটির প্রতিষ্ঠান স্টার ড্রোনসের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই। ছবি: সংগৃহীত

ওমানে বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল (ইভি বাইক) রপ্তানি, প্রযুক্তি বিনিময় ও যৌথ বিনিয়োগের লক্ষ্যে দেশটির প্রতিষ্ঠান স্টার ড্রোনসের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে বাংলাদেশের পিটন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় নভোথিয়েটারে ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬’-এর অনুষ্ঠানস্থলের লাউঞ্জে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেনের উপস্থিতিতে এই দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক সই হয়।

পিটন ইন্ডাস্ট্রিজের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ ইকবাল জাহেদী এবং মডার্ন স্টার বিজনেসেস এলএলসির (স্টার ড্রোনস) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদ আব্দুল গাফুর সাইফ উদ্দিন চুক্তিতে সই করেন।

মেলায় বাংলাদেশি পণ্যের মান ও তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবন দেখে এই যৌথ বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয় ওমানি প্রতিনিধিদল। সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী ওমানের ফুড ডেলিভারি অ্যাপ ‘বিজ’-এর জন্য বাংলাদেশ থেকে ইভি বাইক সংগ্রহ করা হবে।

এ ছাড়া রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে দুই দেশের প্রযুক্তি বিনিময় এবং পরবর্তীতে মধ্যপ্রাচ্যের বাজার ধরতে ওমানে একটি পূর্ণাঙ্গ অ্যাসেম্বলি লাইন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, দেশে প্রথমবারের মতো একাডেমিয়া, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তাদের নিয়ে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী স্টার ড্রোনস তাদের ড্রোন প্রযুক্তির সঙ্গে বাংলাদেশের তৈরি ইভি বাইক সমন্বয় করে আধুনিক ডেলিভারি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলবে। পাশাপাশি ওমান থেকে মূলধন ও ড্রোন প্রযুক্তি এনে বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে বড় পরিসরে যৌথ বিনিয়োগ করা হবে।

অনুষ্ঠানে ওমান দূতাবাসের উপরাষ্ট্রদূত ফাথিয়া বিনতে আহমেদ আল বালুশি, সৌদি আরব-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এসএবিসিসিআই) সভাপতি আশরাফুল হক চৌধুরী, পিটন ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান শামসুল আলম লিটন ও ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর আলী আজগর অপু উপস্থিত ছিলেন।

জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায়

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায়

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।


মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ রায় ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো: মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।


মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অন্য আসামিরা হলেন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া সব আসামিই পলাতক রয়েছেন।

এর আগে, সোমবার উভয়পক্ষের শুনানি ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ থাকার পর বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রায়ের দিন ধার্য করেন।

গত বছরের নভেম্বরে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জুলাইয়ের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল।

গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এরপর পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হয়।

লোহিত সাগরে হুথি সংকট, বড় ঝুঁকির মুখে বাংলাদেশের অর্থনীতি

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
লোহিত সাগরে হুথি সংকট, বড় ঝুঁকির মুখে বাংলাদেশের অর্থনীতি

লোহিত সাগর ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদেব প্রণালী ঘিরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের তৎপরতা নতুন করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ভূ-রাজনৈতিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তীব্র উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের জেরে এই জলপথে উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে এর নেতিবাচক প্রভাব কেবল ওই অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন আমদানিনির্ভর ও উন্নয়নশীল অর্থনীতিকেও এর চড়া মূল্য দিতে হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশ্ব বাণিজ্যে লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেবের গুরুত্ব

বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম লাইফলাইন বা প্রধান ধমনী হিসেবে পরিচিত লোহিত সাগর। এর দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত বাব আল-মানদেব প্রণালী আরব সাগর ও ভারত মহাসাগরকে লোহিত সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। মূলত এই পথ পাড়ি দিয়েই পণ্যবাহী জাহাজগুলো সুয়েজ খালের মাধ্যমে খুব সহজেই ইউরোপের বাজারে পৌঁছাতে পারে। এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের মধ্যে সংক্ষিপ্ততম দূরত্বে বিপুল পরিমাণ পণ্য পরিবহনের প্রধান মাধ্যম এই সমুদ্রপথ।

কিন্তু বর্তমান নিরাপত্তা সংকটের কারণে জাহাজগুলো যদি এই রুট এড়িয়ে চলতে বাধ্য হয়, তবে তাদের আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে কেপ অব গুড হোপ (Cape of Good Hope) হয়ে বিকল্প দীর্ঘ পথ বেছে নিতে হয়। এর ফলে জাহাজের স্বাভাবিক যাত্রাপথ কয়েক হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত বেড়ে যায়।

বিকল্প রুটের বাড়তি চাপ ও অর্থনৈতিক ক্ষতি

লোহিত সাগর এড়িয়ে কেপ অব গুড হোপ ঘুরে যাওয়ার কারণে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের ধাক্কা লাগছে:

  • সময় বৃদ্ধি: যে পণ্যগুলো সাধারণত স্বাভাবিক রুটে প্রায় ২৮ দিনে গন্তব্যে পৌঁছাত, বিকল্প রুটে সেখানে প্রায় ৪৫ দিন বা তার বেশি সময় লেগে যাচ্ছে।

  • লজিস্টিক ব্যয় বৃদ্ধি: দীর্ঘ দূরত্বের কারণে জ্বালানি খরচ, জাহাজের ভাড়া, ক্রু বা নাবিকদের বেতন এবং সামুদ্রিক বিমা বা ইনস্যুরেন্স প্রিমিয়াম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও রপ্তানি খাতে বড় আঘাত

বাংলাদেশের বৈদেশিক আয়ের সবচেয়ে বড় মাধ্যম হলো তৈরি পোশাক (RMG) খাত। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও পশ্চিমা দেশগুলোর বাজারে আমাদের পোশাকের বড় একটি অংশ সমুদ্রপথেই রপ্তানি করা হয়। লোহিত সাগরের এই সংকট প্রলম্বিত হলে পোশাক রপ্তানিকারকদের নানামুখী সংকটের মুখে পড়তে হচ্ছে:

  • নির্ধারিত সময়ে ক্রেতার কাছে পণ্য পৌঁছাতে না পারার ঝুঁকি।

  • কন্টেইনার ও জাহাজের ভাড়া বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়া।

  • সময়মতো চালান না পৌঁছালে অনেক সময় ক্রেতাদের জরিমানা গুনতে হয় বা কার্যাদেশ (অর্ডার) বাতিলের আশঙ্কা তৈরি হয়।

  • সার্বিক উৎপাদন ও সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় তৈরি হয় দীর্ঘসূত্রতা।

আমদানি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা

বাংলাদেশ কেবল রপ্তানির জন্যই নয়, বরং বিভিন্ন নিত্যপণ্য ও শিল্প কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথের ওপর বহুলাংশে নির্ভরশীল। সমুদ্রপথের দূরত্ব ও সময় বাড়ার কারণে শুধু জাহাজভাড়া নয়, আমদানিকৃত পণ্যের সামগ্রিক লজিস্টিক ব্যয়ও বহুগুণ বেড়ে যায়। এর প্রভাবে আমদানিকারকরা বাড়তি ব্যয়ের চাপ শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামের ওপর ফেলেন, যা দেশের বাজারে সাধারণ মানুষের জন্য মূল্যস্ফীতি আরও বাড়িয়ে তোলার আশঙ্কা তৈরি করে।

পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি তেল, তরলীকৃত গ্যাস (LNG) ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্য আমদানির ক্ষেত্রেও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। যদিও জ্বালানির স্থানীয় দাম কেবল পরিবহন খরচের ওপর নির্ভর করে না—এর সাথে আন্তর্জাতিক বাজারের তেলের দাম, ডলারের বিনিময় হার, সরকারি নীতি এবং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিও জড়িত; তবুও এই নৌপথের দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা দেশের সামগ্রিক জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।

সংকট উত্তরণে ভূ-রাজনৈতিক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা

মূলত গাজা যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক ভূ-রাজনীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে হুথিদের এই লোহিত সাগরমুখী আগ্রাসন। বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা ও হুমকি বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও এই সংকটের স্থায়ী সমাধান না হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে সরবরাহ সংকট আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে। আর তাই বাংলাদেশের মতো উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর সুরক্ষায় বিকল্প বাণিজ্যিক রুট সন্ধান এবং বৈশ্বিক কূটনীতিতে জোরালো ভূমিকা রাখার তাগিদ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট অর্থনীতিবিদরা।

ভারতকে টপকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার এখন যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
ভারতকে টপকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার এখন যুক্তরাষ্ট্র

ভারতকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম একক বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) হিসাব অনুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের মোট বাণিজ্য দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলারে। বিপরীতে ভারতের সাথে মোট বাণিজ্য ছিল ১০ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার। বরাবরের মতো তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে চীন।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানি আশাতীত বৃদ্ধি পাওয়ায় বাণিজ্য পরিসংখ্যানে এই বড় পরিবর্তন এসেছে। গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি প্রায় ৪৩ শতাংশ বেড়ে ৩ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। মূলত মার্কিন শুল্কনীতির চাপ সামলাতে ওয়াশিংটন থেকে গম, সয়াবিন বীজ, তুলা ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি বাড়ানো হয়। পাশাপাশি বোয়িং থেকে ১৪টি বিমান কেনার সিদ্ধান্তও দুই দেশের বাণিজ্যিক আকার বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।

অন্যদিকে, সাম্প্রতিক নানা বিধিনিষেধ ও পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের কারণে ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যে খানিকটা মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় সুতা আমদানি বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর কলকাতা বিমানবন্দর ব্যবহার করে বাংলাদেশি পণ্য অন্য দেশে পাঠানোর বিশেষ সুবিধাটি রদ করে ভারত।

বাণিজ্যিক বিধিনিষেধের কারণে প্রতিবেশী ভারতের সাথে লেনদেনের গতি কমলেও একই সময়ে ওয়াশিংটনের সাথে ঢাকার অর্থনৈতিক ও কৌশলগত বাণিজ্যিক মেলবন্ধন আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।

জিয়াকে গুলি করেন মতিউর, হত্যার আগে হেলিকপ্টারে চট্টগ্রামে তৎকালীন সেনাপ্রধান এরশাদ

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
জিয়াকে গুলি করেন মতিউর, হত্যার আগে হেলিকপ্টারে চট্টগ্রামে তৎকালীন সেনাপ্রধান এরশাদ

সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন বলেছেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মতিউর রহমান গুলি করেছিলেন। একই সাথে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের আগে তৎকালীন সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় মোজাফফর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর এসব তথ্য জানান ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা।

তিনি বলেন, ‘আজ সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় মোজাফফর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আগামীকাল সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আবার তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’

মোজাফফরকে জিজ্ঞাসাবাদে কী তথ্য পাওয়া গেছে—জানতে চাইলে প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদে মোজাফফর জানিয়েছেন, জিয়াউর রহমানকে গুলি করেছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মতিউর রহমান।’

তিনি আরও বলেন, ১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমান হত্যার শিকার হন। এর আগে ওই বছরের ২৮ মে তৎকালীন সেনাপ্রধান এরশাদ হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদে মোজাফফর এ তথ্যও জানিয়েছেন।

৪৫ বছর পর গ্রেফতার মোজাফফর

১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোররাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে একদল সেনা কর্মকর্তা তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যা করেন। এ হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৪৫ বছর পর গত ১৫ জুলাই রাজধানীর বনানী থেকে মোজাফফর হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।

এদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায়ও মোজাফফর হোসেন গ্রেফতার আছেন। ওই মামলায় গত ২৩ জুলাই তাকে দুদিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা জানিয়েছেন, জিয়াউর রহমান হত্যা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিষয়ে মোজাফফর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।