মৌসুমের শুরুতেই গোলের বন্যা বইয়ে দিয়েছে বার্সেলোনার আক্রমণভাগ। লা লিগার প্রথম পাঁচ ম্যাচে রাফিনিয়া, লামিন ইয়ামাল ও ফেরমিন লোপেজ মিলে করেছেন ১৬ গোল। এর মাধ্যমে ১৯৫৮ সালের পর প্রথমবারের মতো স্পেনের শীর্ষ লিগে কোনো আক্রমণত্রয়ী প্রথম পাঁচ ম্যাচে এত গোল করার কীর্তি গড়েছে।
রবিবার রাতে লেভান্তের মাঠে ৪-২ গোলের জয়ের ম্যাচেই রেকর্ডটি স্পর্শ করে বার্সেলোনা। ম্যাচের ৪৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ইয়ামালের দ্বিতীয় গোলের পর আক্রমণভাগের তিন সদস্যের গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১৬ তে। নতুন মৌসুমে টানা পাঁচ ম্যাচ জিতে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগার শীর্ষস্থানও আরও শক্ত করেছে হানসি ফ্লিকের দল।
এই ১৬ গোলের মধ্যে রাফিনিয়া ও ইয়ামালের নামের পাশে রয়েছে ছয়টি করে গোল। বাকি চারটি করেছেন ফেরমিন লোপেজ। লেভান্তের বিপক্ষে জোড়া গোল করে ইয়ামালও দলের দুর্দান্ত শুরুর অন্যতম নায়ক হয়েছেন।
ম্যাচে বার্সেলোনার হয়ে প্রথম গোলটি করেন শাভি এসপার্ত। রাফিনিয়ার পাস থেকে গোলটি আসে। এরপর ইয়ামালের প্রথম গোলেও অবদান রাখেন রাফিনিয়া। পরে পেনাল্টি থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ইয়ামাল। তবে রক্ষণে দুটি ভুলের কারণে লেভান্তে দুই গোল শোধ করে ম্যাচে ফেরার আভাস দিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত কারিম আদেয়েমির গোলে জয় নিশ্চিত করে বার্সেলোনা।
ইয়ামালের দ্বিতীয় গোলের সাথে সাথেই ৬৮ বছর আগের একটি রেকর্ডের পাশে বসে বার্সার বর্তমান আক্রমণত্রয়ী। ১৯৫৮-৫৯ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি ত্রয়ী আলফ্রেডো দি স্তেফানো, ফেরেঙ্ক পুসকাস ও হেক্তর রিয়াল প্রথম পাঁচ ম্যাচে করেছিলেন ১৬ গোল।
তবে লা লিগার ইতিহাসে প্রথম পাঁচ ম্যাচে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ড এখনো সেভিয়ার। ১৯৪০-৪১ মৌসুমে গিয়ের্মো কাম্পানাল, মিগেল তোরোনতেগুই ও হোসে লোপেজ মিলে করেছিলেন ২৪ গোল।
এর পরের অবস্থানে রয়েছে ১৭ গোল করা দুটি আক্রমণত্রয়ী। একই মৌসুমে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের প্রুদেন সানচেজ, পাকো কাম্পোস ও কোসমে ভাসকেজ এবং সেলতা ভিগোর আগুস্তিন হারাবো, হুয়ান দেল পিনো ও রাইমুন্দো দিয়াজ এই কীর্তি গড়েছিলেন।
এ ছাড়া ১৯৪১-৪২ মৌসুমে সেভিয়ার রাইমুন্দো ব্লাঙ্কো, পেপিয়ো ও কাম্পানাল এবং ১৯৫০-৫১ মৌসুমে বার্সেলোনার সেসার রদ্রিগেজ, মার্কোস আউরেলিও ও এস্তানিসলাও বাসোরাও প্রথম পাঁচ ম্যাচে ১৬ গোল করেছিলেন। ফলে এবার নিজেদের ক্লাবের পুরোনো রেকর্ডও ছুঁয়ে ফেলেছে ইয়ামাল-রাফিনিয়ারা।