১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জিয়াকে গুলি করেন মতিউর, হত্যার আগে হেলিকপ্টারে চট্টগ্রামে তৎকালীন সেনাপ্রধান এরশাদ

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
জিয়াকে গুলি করেন মতিউর, হত্যার আগে হেলিকপ্টারে চট্টগ্রামে তৎকালীন সেনাপ্রধান এরশাদ

সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন বলেছেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মতিউর রহমান গুলি করেছিলেন। একই সাথে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের আগে তৎকালীন সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় মোজাফফর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর এসব তথ্য জানান ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা।

তিনি বলেন, ‘আজ সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় মোজাফফর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আগামীকাল সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আবার তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’

মোজাফফরকে জিজ্ঞাসাবাদে কী তথ্য পাওয়া গেছে—জানতে চাইলে প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদে মোজাফফর জানিয়েছেন, জিয়াউর রহমানকে গুলি করেছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মতিউর রহমান।’

তিনি আরও বলেন, ১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমান হত্যার শিকার হন। এর আগে ওই বছরের ২৮ মে তৎকালীন সেনাপ্রধান এরশাদ হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদে মোজাফফর এ তথ্যও জানিয়েছেন।

৪৫ বছর পর গ্রেফতার মোজাফফর

১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোররাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে একদল সেনা কর্মকর্তা তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যা করেন। এ হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৪৫ বছর পর গত ১৫ জুলাই রাজধানীর বনানী থেকে মোজাফফর হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।

এদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায়ও মোজাফফর হোসেন গ্রেফতার আছেন। ওই মামলায় গত ২৩ জুলাই তাকে দুদিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা জানিয়েছেন, জিয়াউর রহমান হত্যা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিষয়ে মোজাফফর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ভারতকে টপকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার এখন যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
ভারতকে টপকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার এখন যুক্তরাষ্ট্র

ভারতকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম একক বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) হিসাব অনুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের মোট বাণিজ্য দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলারে। বিপরীতে ভারতের সাথে মোট বাণিজ্য ছিল ১০ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার। বরাবরের মতো তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে চীন।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানি আশাতীত বৃদ্ধি পাওয়ায় বাণিজ্য পরিসংখ্যানে এই বড় পরিবর্তন এসেছে। গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি প্রায় ৪৩ শতাংশ বেড়ে ৩ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। মূলত মার্কিন শুল্কনীতির চাপ সামলাতে ওয়াশিংটন থেকে গম, সয়াবিন বীজ, তুলা ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি বাড়ানো হয়। পাশাপাশি বোয়িং থেকে ১৪টি বিমান কেনার সিদ্ধান্তও দুই দেশের বাণিজ্যিক আকার বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।

অন্যদিকে, সাম্প্রতিক নানা বিধিনিষেধ ও পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের কারণে ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যে খানিকটা মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় সুতা আমদানি বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর কলকাতা বিমানবন্দর ব্যবহার করে বাংলাদেশি পণ্য অন্য দেশে পাঠানোর বিশেষ সুবিধাটি রদ করে ভারত।

বাণিজ্যিক বিধিনিষেধের কারণে প্রতিবেশী ভারতের সাথে লেনদেনের গতি কমলেও একই সময়ে ওয়াশিংটনের সাথে ঢাকার অর্থনৈতিক ও কৌশলগত বাণিজ্যিক মেলবন্ধন আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।

জিয়াকে গুলি করেন মতিউর, হত্যার আগে হেলিকপ্টারে চট্টগ্রামে তৎকালীন সেনাপ্রধান এরশাদ

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
জিয়াকে গুলি করেন মতিউর, হত্যার আগে হেলিকপ্টারে চট্টগ্রামে তৎকালীন সেনাপ্রধান এরশাদ

সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন বলেছেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মতিউর রহমান গুলি করেছিলেন। একই সাথে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের আগে তৎকালীন সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় মোজাফফর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর এসব তথ্য জানান ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা।

তিনি বলেন, ‘আজ সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় মোজাফফর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আগামীকাল সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আবার তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’

মোজাফফরকে জিজ্ঞাসাবাদে কী তথ্য পাওয়া গেছে—জানতে চাইলে প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদে মোজাফফর জানিয়েছেন, জিয়াউর রহমানকে গুলি করেছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মতিউর রহমান।’

তিনি আরও বলেন, ১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমান হত্যার শিকার হন। এর আগে ওই বছরের ২৮ মে তৎকালীন সেনাপ্রধান এরশাদ হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদে মোজাফফর এ তথ্যও জানিয়েছেন।

৪৫ বছর পর গ্রেফতার মোজাফফর

১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোররাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে একদল সেনা কর্মকর্তা তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যা করেন। এ হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৪৫ বছর পর গত ১৫ জুলাই রাজধানীর বনানী থেকে মোজাফফর হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।

এদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায়ও মোজাফফর হোসেন গ্রেফতার আছেন। ওই মামলায় গত ২৩ জুলাই তাকে দুদিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা জানিয়েছেন, জিয়াউর রহমান হত্যা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিষয়ে মোজাফফর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ঢাকা উত্তর সিটিতে আসিফ ও দক্ষিণে পাটওয়ারীকে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা এনসিপির

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
ঢাকা উত্তর সিটিতে আসিফ ও দক্ষিণে পাটওয়ারীকে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা এনসিপির

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে উত্তর সিটিতে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও দক্ষিণ সিটিতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এনসিপি কার্যালয়ে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের সঙ্গে সমন্বয় সভায় এ ঘোষণা দেন দলটির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

সভায় আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরে মহানগর পর্যায়ে সাংগঠনিক প্রস্তুতি, সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী অন্বেষণ এবং ওয়ার্ডভিত্তিক সংগঠন শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা হয়। নাহিদ ইসলাম সভায় উপস্থিত নেতাকর্মী ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের সার্বিক দিকনির্দেশনা দেন।

এসময় সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী বাছাইয়ের পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ডের নাগরিক সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলো নিয়ে কার্যকরভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও তাদের পাশে থাকার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন নাহিদ ইসলাম।

সভায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নাশকতামূলক তৎপরতার বিষয়ে ওয়ার্ড পর্যায়ে কড়া নজরদারি রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়। পাশাপাশি মহানগরের প্রতিটি এলাকায় রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

সভায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ইসহাক সরকার, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক ও দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবসহ মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এনসিপি নেতারা জানান, সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে মহানগরের ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত সাংগঠনিক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই, স্থানীয় নাগরিক সমস্যা নিয়ে কাজ এবং তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে নির্বাচনি প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হবে।

সকালে, দুপুরে বা রাতে সবসময় ভারতের চিন্তা বাদ দিয়ে দেশের কথা ভাবার পরামর্শ প্রতিমন্ত্রীর

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
সকালে, দুপুরে বা রাতে সবসময় ভারতের চিন্তা বাদ দিয়ে দেশের কথা ভাবার পরামর্শ প্রতিমন্ত্রীর

সকালের নাস্তা, দুপুরের খাবার, রাতের খাবার—সবসময় ভারতের কথা ভাবলে চলবে না, নিজের দেশের কথাও ভাবতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

ভারত প্রসঙ্গে একের পর এক প্রশ্ন না করে সাংবাদিকদের নিজেদের দেশের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ডেইলি ঘুম থেকে উঠে ব্রেকফাস্ট খাইতেই ইন্ডিয়া, লাঞ্চ খাইতেই ইন্ডিয়া, ডিনার খাইতেই ইন্ডিয়া—তাহলে ভাই, আপনার নিজের দেশের খাবার কোন সময় খাবেন? খালি যদি ইন্ডিয়া ইন্ডিয়া করেন! নিজের দেশের চিন্তা করেন।’

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বনেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন—এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যার সঙ্গে যখন আমাদের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করতে হবে, বহুপক্ষীয় ফোরামে গিয়ে কথা বলতে হবে, আমরা তা করব। যেখানে যে সুযোগ থাকবে, আমরা সম্পৃক্ত হবো। নেতারা সবার সঙ্গে দেখা করতে পারেন না। অনেক আমন্ত্রণ থাকে। সাইডলাইনে অনেক অনুষ্ঠানে আমরা অংশ নেব।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাইডলাইনে বৈঠকের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের মূল লক্ষ্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়া। সাইডলাইনে কার সঙ্গে বৈঠক হবে, তা শেষ মুহূর্তেও নির্ধারিত হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বহুপক্ষীয় ফোরাম এভাবেই কাজ করে। একজন নেতা শেষ মুহূর্তেও বলতে পারেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চাই।’ বড় বড় সম্মেলনে এমনটাই হয়। সাইডলাইনে বিশ্বনেতাদের দৈনন্দিন কর্মসূচিতে অনেক পরিবর্তন আসে। এসব যখন আসবে, যার সঙ্গেই বৈঠক হোক, আপনাদের জানানো হবে। আপনারাই প্রথম জানতে পারবেন।

সীমান্তে হত্যাকাণ্ড ও বাংলাদেশিদের ধরে নিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাগুলোর বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, এসব বিষয় কূটনৈতিকভাবে ভারত সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। সীমান্ত ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক আইন ও সীমান্ত প্রটোকল রয়েছে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কাঠামোগত চুক্তিও রয়েছে। এসবের আওতায় উদ্বেগের বিষয়গুলো প্রতিটি পর্যায়ে তুলে ধরা হবে।

ভারতের সঙ্গে ১০১টি চুক্তির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং সংসদীয় কমিটিতে তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে চিফ হুইপের কাছে জানতে সাংবাদিকদের পরামর্শ দেন তিনি।

নির্যাতনের শিকার হয়েও থামছে না নারী প্রবাসীদের অনিরাপদ বিদেশযাত্রা

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
নির্যাতনের শিকার হয়েও থামছে না নারী প্রবাসীদের অনিরাপদ বিদেশযাত্রা

প্রায় প্রতিদিনই অমানবিক নির্যাতন ও লাঞ্ছনার শিকার হয়ে প্রবাসী নারীদের কেউ না কেউ দেশে ফিরছেন। তারপরও থেমে নেই নারীদের অনিরাপদ বিদেশযাত্রা।

এমনকি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি নেই—এমন ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে পাঠানো হচ্ছে নারী শ্রমিক। দালালদের ফাঁদে পড়ে সব হারাচ্ছেন অনেকে।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ মাসে ৪৭টি দেশে নারী শ্রমিক গেছেন প্রায় ২৬ হাজার। এর মধ্যে সৌদি আরবে ১৭ হাজারের বেশি, জর্ডানে সাড়ে ৬ হাজারের বেশি, কাতারে ৬০০ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২৫০ জনের বেশি, জাপানে ১৫৫ এবং ইতালিতে গেছেন অন্তত ১৫০ জন নারী গেছেন।

এ ছাড়া সিঙ্গাপুরে অন্তত ৭৭ জন, সাইপ্রাসে ৭৬ জন, মরিশাসে ৩৯ জন, দক্ষিণ কোরিয়ায় ৩৭ জন, গ্রিসে ৩৫ জন, পর্তুগালে ৩২ জন, লাওসে ২০ জন, মাল্টায় ২০ জন, ইরাকে ১৩ জন, লেবাননে ১৩ জন, মেসিডোনিয়ায় ১০ জন, রোমানিয়ায় ১০ জন, কেনিয়ায় ১০ জন, যুক্তরাজ্যে ৯ জন, ম্যাকাওয়ে ৯ জন, ভিয়েতনামে ৮ জন, রাশিয়ায় ৮ জন এবং সার্বিয়া ও মঙ্গোলিয়ায় ৭ জন নারী গেছেন কাজের জন্য। মলদোভা, ফিজি, চীন ও কুয়েতে ৫ জন করে; ব্রুনাই ও মালয়েশিয়ায় ৪ জন করে; স্লোভেনিয়া, বেলারুশ, সেশেলস ও বুলগেরিয়ায় ৩ জন করে; পোল্যান্ড, ব্রাজিল ও ওমানে ২ জন করে এবং অস্ট্রেলিয়া, আয়ারল্যান্ড, কম্বোডিয়া, টোঙ্গা, বাহামাস ও নিউজিল্যান্ডে অন্তত ১ জন করে নারী শ্রমিক গেছেন।

গত বছরের একই সময়ে বিদেশে গিয়েছিলেন ২৩ হাজার ৯৩৬ জন নারী শ্রমিক। এর মধ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন ১৬ হাজার ৬৩২ জন, জর্ডানে ৪ হাজার ৬৯৪ জন, কাতারে ১ হাজার ৪৭ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৪৪৭ জন ও কুয়েতে ১৭৪ জনসহ মোট ৫০টি দেশে এসব নারী অভিবাসী গিয়েছিলেন।

বিদেশ যাওয়া এসব নারীদের মধ্যে বড় একটি অংশ বাংলাদেশ থেকে অপ্রচলিত ও অনানুষ্ঠানিক শ্রমবাজারে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি, ভাষাশিক্ষা ছাড়া বিদেশ যাচ্ছেন। এ ছাড়া দ্বিপাক্ষিক চুক্তি নেই এমন দেশগুলোতেও যাচ্ছেন অনেক নারী শ্রমিক।

পর্যাপ্ত প্রস্তুতি, ভাষাশিক্ষা ও দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ছাড়া নারী শ্রমিকদের বিদেশযাত্রায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী বলেন, আনুষ্ঠানিক বাজার ছাড়া অন্য দেশগুলোতে কর্মী পাঠানোর ঘটনা ব্যক্তি উদ্যোগ বা ফড়িয়াদের প্রভাবে ঘটছে, যা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

বায়রা মহাসচিব বলেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ প্রচলিত বাজারগুলোতে বর্তমানে পুরুষ শ্রমিকের চাহিদা কমলেও নারী গৃহকর্মীদের একটি অংশ দুবাই, ওমান ও সৌদি আরবে কাজ পাচ্ছেন। তবে চুক্তিহীন বা অপ্রচলিত নতুন দেশগুলোতে নারী শ্রমিক পাঠানোর বিষয়টি মোটেই সাধারণ বাণিজ্য ব্যবস্থার অংশ নয়।

তিনি বলেন, রাশিয়া, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, টোঙ্গা বা বাহামাসের মতো দেশগুলোতে নারী গৃহকর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য যাচাই ও আইনি কাঠামোর ঘাটতি রয়েছে। রাশিয়ার মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ বা ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার মতো নিজস্ব শ্রম উদ্বৃত্ত থাকা দেশে বাংলাদেশি নারীরা কী কাজ করবেন—এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এসব দেশে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় যোগাযোগের দক্ষতা বা ভাষার প্রশিক্ষণ তাদের আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা উচিত।

আলী হায়দার চৌধুরী জানান, সৌদি আরব, জর্ডান এবং হংকংয়ের মতো যেসব দেশে দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা রয়েছে, কেবল সেখানেই বায়রা বা অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মী পাঠাতে পারে। অন্য অপ্রচলিত দেশগুলোতে কর্মী যাওয়ার ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের ফাঁদে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্র কীভাবে এসব ক্ষেত্রে বহির্গমন ছাড়পত্র (ম্যানপাওয়ার ক্লিয়ারেন্স) দিচ্ছে বা নথিপত্র অনুমোদন করছে, তা স্পষ্ট নয়।

অনানুষ্ঠানিক বাজারে অনিয়ন্ত্রিতভাবে নারী শ্রমিক পাঠানো বন্ধ এবং প্রবাসীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারকে নীতিমালা ও সঠিক তদারকি ব্যবস্থা জোরালো করার আহ্বান জানান বায়রা মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী।

ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক (মাইগ্রেশন) শরিফুল ইসলাম হাসান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে কাজের কথা বলে নারী শ্রমিকদের বিদেশে নিয়ে পাচার কিংবা অনৈতিক কাজে যুক্ত করার একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বিশেষ করে যেসব অপ্রচলিত দেশে আমাদের পুরুষ শ্রমিক নেই, অথচ নারী শ্রমিক পাঠানো হচ্ছে—সেসব বিষয়ে সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। এমনকি প্রেমের কিংবা বিয়ের ফাঁদে ফেলে বিদেশ নেওয়ার মতো বিষয়গুলোতেও আমাদের বাড়তি সচেতনতা ও সতর্কতা বজায় রাখা জরুরি।