১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২০২৬-২৭ শীতকালীন সিজনে বিশ্বব্যাপী ফ্লাইট সংখ্যা বাড়াচ্ছে কাতার এয়ারওয়েজ

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
২০২৬-২৭ শীতকালীন সিজনে বিশ্বব্যাপী ফ্লাইট সংখ্যা বাড়াচ্ছে কাতার এয়ারওয়েজ

আসন্ন ২০২৬-২০২৭ সালের শীতকালীন সিজন সামনে রেখে বিশ্বব্যাপী নিজেদের নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত করার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্বের অন্যতম সেরা বিমান সংস্থা কাতার এয়ারওয়েজ।

এই সিজনে বিশ্বের ১৭০টিরও বেশি গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করবে এয়ারলাইন্সটি, যার মাধ্যমে আফ্রিকা, এশিয়া প্যাসিফিক, ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সপ্তাহে প্রায় ১,৮০০-এর বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।

দোহায় অবস্থিত তাদের বিশ্বসেরা হাব হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (HIA)-এর মাধ্যমে যাত্রীরা আরও নির্বিঘ্ন ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াতের সুযোগ পাবেন।

যাত্রীদের ইন-ফ্লাইট অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কাতার এয়ারওয়েজ তাদের বহরে থাকা ১৫০টিরও বেশি ওয়াইডবডি বিমানে অত্যন্ত দ্রুতগতির স্টারলিংক (Starlink) স্যাটেলাইট ওয়াইফাই সংযোগ যুক্ত করার কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৩৪০টি স্টারলিংক-সক্ষম ফ্লাইটে যাত্রীরা আকাশে বসেই সুপার-ফাস্ট ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারছেন।

নথি অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ শীতকালীন সিজনে কোন অঞ্চলে কেমন সম্প্রসারণ ঘটছে তার মূল হাইলাইটস নিচে তুলে ধরা হলো:

আফ্রিকা মহাদেশে সংযোগ বৃদ্ধি

  • তানজানিয়ার জানজিবার (Zanzibar) রুটে আগামী ২৫ অক্টোবর ২০২৬ থেকে প্রতিদিন নিয়মিত ফ্লাইট চলাচল শুরু হবে।
  • সেশেলেস রুটে ফ্লাইট সংখ্যা সপ্তাহে ৪টি থেকে বাড়িয়ে ৭টিতে উন্নীত করা হবে, যা কার্যকর হবে ১ মার্চ ২০২৭ থেকে।
  • দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে আগামী ২ ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে সপ্তাহে ১৪টির পরিবর্তে ১৮টি ফ্লাইট পরিচালিত হবে।

উত্তর আমেরিকা নেটওয়ার্ক

  • কানাডার মন্ট্রিল (Montréal) রুটে ২৫ অক্টোবর ২০২৬ থেকে সপ্তাহে ৫টির পরিবর্তে ৭টি ফ্লাইট চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা সিট ক্যাপাসিটি বা আসন ক্ষমতা ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি করবে।

এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে ব্যাপক সম্প্রসারণ

এশিয়া অঞ্চলে বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় গন্তব্যে ফ্লাইট এবং ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ানো হচ্ছে:

  • থাইল্যান্ডের ফুকেট (২০২৬ সালের ২৫ অক্টোবর থেকে সপ্তাহে ১৪ থেকে বাড়িয়ে ২১টি) এবং মালদ্বীপের মালে রুটেও ফ্লাইট সংখ্যা সপ্তাহে ১২ থেকে বাড়িয়ে ২১টি করা হচ্ছে।
  • আগামী ৭ নভেম্বর ২০২৬ থেকে ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটি রুটে ফ্লাইট সপ্তাহে ৭টি থেকে বাড়িয়ে ১১টি করা হবে। এর মধ্যে দোহা ও হো চি মিন সিটির মধ্যে সরাসরি ৪টি সাপ্তাহিক ফ্লাইট পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত রয়েছে।
  • মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর রুটে ২৫ অক্টোবর থেকে সপ্তাহে ১৮টি ফ্লাইট পরিচালিত হবে, যা ওয়ানওয়ার্ল্ড পার্টনার মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের ১৪টি ফ্লাইটের সাথে যুক্ত হয়ে যাত্রীদের অতিরিক্ত সুবিধা দেবে।
  • আগামী ৯ ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে মেলবোর্ন হয়ে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরা (Canberra) রুটে দৈনিক ফ্লাইট পুনরায় চালু হচ্ছে। একই সাথে মেলবোর্ন রুটেও সাপ্তাহিক ফ্লাইট ৭টি থেকে বাড়িয়ে ১৪টি করা হচ্ছে। এছাড়া পার্টনার এয়ারলাইন্স ভার্জিন অস্ট্রেলিয়ার সাথে মিলে সিডনি, ব্রিসবেন ও পার্থ রুটেও ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।

ইউরোপীয় কানেক্টিভিটি আরও শক্তিশালী

  • লন্ডনের হিথ্রো (LHR) বিমানবন্দরে ২৫ অক্টোবর ২০২৬ থেকে সাপ্তাহিক ফ্লাইট ৪৯টি থেকে বাড়িয়ে ৫৬টি করা হচ্ছে, যা ১১ শতাংশ আসন ক্ষমতা বাড়াবে।
  • জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট (FRA) রুটেও ৭ ডিসেম্বর থেকে সপ্তাহে ১৮ থেকে বাড়িয়ে ২১টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।

মধ্যপ্রাচ্য ও সৌদি আরবে বিশেষ সম্প্রসারণ

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে শীতকালীন সিজনে ফ্লাইট সংখ্যা ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর মধ্যে সৌদি আরবের চারটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে ফ্লাইট পুনরায় চালুর ঘোষণা রয়েছে:

  • কাসিম (ELQ): ২৫ অক্টোবর ২০২৬ থেকে।
  • তায়েফ (TIF): ৩১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে।
  • ইয়েনবু (YNB): ২ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে।
  • তাবুক (TUU): ৩ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে।
এই নতুন রুটগুলোর মাধ্যমে সৌদি আরবের মোট ১২টি গন্তব্যে সপ্তাহে ১৫৫টিরও বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করবে কাতার এয়ারওয়েজ, যা গত গ্রীষ্মকালীন সিজনের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি।

নতুন এই শীতকালীন সিজনের টিকিট বুকিং ইতোমধ্যে কাতার এয়ারওয়েজের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (qatarairways.com) এবং মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে শুরু হয়ে গেছে। প্রিভিলেজ ক্লাব (Privilege Club) সদস্যরা এই ফ্লাইটগুলোতে স্টারলিংক ওয়াইফাই ব্যবহারের পাশাপাশি এভিয়স (Avios) পয়েন্ট সংগ্রহ ও তা রিডিম করার সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সাবেক আমির প্রয়াত শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সাবেক আমির প্রয়াত শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন

নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘ সদর দপ্তরে কাতারের সাবেক আমির প্রয়াত মহামান্য শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির স্মরণে একটি বিশেষ উচ্চপর্যায়ের অধিবেশন আয়োজন করেছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ।

সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং জাতিসংঘে কাতারের স্থায়ী প্রতিনিধি শায়খা আলিয়া আহমেদ বিন সাইফ আল-থানি উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সভায় জিসিসি (GCC), আরব গ্রুফ, ওআইসি (OIC) এবং জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন বা ন্যাম-এর (NAM) প্রতিনিধিরাসহ বিভিন্ন দেশের শীর্ষ কূটনীতিক ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশ নেন।

আধুনিক কাতারের রূপকার ও দূরদর্শী নেতা

সভায় বক্তারা শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির বর্ণাঢ্য জীবন ও তার অসামান্য অবদান গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। সাধারণ পরিষদের সভাপতি তার বক্তব্যে কাতারের নেতৃত্ব, সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, শায়খ হামাদের ১৮ বছরের শাসনামলে কাতার শিক্ষা, বিজ্ঞান, জ্ঞানচর্চা ও মানবসম্পদ উন্নয়নকে কেন্দ্র করে এক অভাবনীয় অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে গেছে। নারীর রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং ভোটাধিকার প্রদানে তার ঐতিহাসিক ভূমিকার কথাও তিনি কৃতজ্ঞতার সাথে উল্লেখ করেন।
জাতিসংঘ মহাসচিবের মূল্যায়ন

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস তার বক্তব্যে প্রয়াত আমিরকে একজন ‘দূরদর্শী নেতা’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, তার নেতৃত্বই কাতারকে দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধি ও বিশ্বমঞ্চে একটি শক্ত অবস্থান এনে দিয়েছে। কূটনীতি, মধ্যস্থতা, শিক্ষা, জ্বালানি এবং গণমাধ্যমের বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে কাতারের আত্মপ্রকাশের পেছনে তার অবদান অনন্য।

মহাসচিব আরও বলেন, “শেখ হামাদ বুঝতে পেরেছিলেন যে একটি দেশের প্রভাব কেবল অর্থনৈতিক অর্জন দিয়ে মাপা যায় না, বরং শান্তি ও সংলাপের প্রতি তার অবদানই আসল পরিমাপক।” কাতারের জাতীয় ভিশন ২০৩০ এবং কাতার ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় তার যুগান্তকারী বিনিয়োগের কথাও স্মরণ করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক অঙ্গন ও আঞ্চলিক জোটগুলোর শ্রদ্ধা

  • জিসিসি (GCC): বাহরাইনের স্থায়ী প্রতিনিধি জামাল ফারেস আলরোয়াইই জিসিসির পক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, শেখ হামাদ তার জীবন ও মেধা কাতারের সেবা এবং আধুনিক রেনেসাঁ গঠনে উৎসর্গ করেছিলেন।
  • আরব গ্রুপ: ওমানের স্থায়ী প্রতিনিধি এটিকে কাতার ছাড়াও সমগ্র আরব ও ইসলামিক বিশ্বের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বর্ণনা করেন।
  • ওআইসি (OIC): তুরস্কের স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, শেখ হামাদ ইসলামী উম্মাহর অধিকার রক্ষা এবং বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিলেন।
  • ন্যাম (NAM): উগান্ডার প্রতিনিধি সংঘাত নিরসনে সংলাপ ও মধ্যস্থতার প্রবক্তা হিসেবে তার আন্তর্জাতিক অবদানের কথা তুলে ধরেন।
কাতারের স্থায়ী প্রতিনিধির বক্তব্য

জাতিসংঘে কাতারের স্থায়ী প্রতিনিধি শায়খা আলিয়া আহমেদ বিন সাইফ আল-থানি বলেন, এই বিশেষ অধিবেশন বিশ্বমঞ্চে মরহুম নেতার উচ্চ মর্যাদারই বহিঃপ্রকাশ। ১৯৯৫ থেকে ২০১৩ সালের শাসনামলে তিনি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি এবং জনমুখী দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে আধুনিক কাতার গড়ে তুলেছিলেন।
তিনি উল্লেখ করেন, শায়খ হামাদ কেবল দেশীয় উন্নয়নের মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, বরং তিনি লেবাননের দোহা চুক্তি, দারফুর শান্তি চুক্তি এবং জিবুতি-ইরিত্রিয়া মধ্যস্থতাসহ আন্তর্জাতিক বহু বিরোধ নিষ্পত্তিতে কাতারকে বিশ্বস্ত আস্থার প্রতীকে পরিণত করেছিলেন।

শায়খ হামাদের প্রদর্শিত শান্তি ও মানবকল্যাণের এই পথ ধরেই বর্তমান আমির মহামান্য শায়খ তামিম বিন হামাদ আল থানির নেতৃত্বে কাতার বিশ্বমঞ্চে নিজেদের কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।

সিরীয় ভূখণ্ডে নেতানিয়াহুর অবৈধ প্রবেশ: তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাল কাতার

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
সিরীয় ভূখণ্ডে নেতানিয়াহুর অবৈধ প্রবেশ: তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাল কাতার

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সিরিয়ার ভূখণ্ডে অবৈধ প্রবেশ এবং আন্তর্জাতিক সীমান্ত লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে কাতার।

এটিকে ভ্রাতৃপ্রতিম সিরীয় আরব প্রজাতন্ত্রের সার্বভৌমত্বের ওপর এক নগ্ন হস্তক্ষেপ, আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি বলে অভিহিত করেছে দোহা।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবিলম্বে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

বিশেষ করে ১৯৭৪ সালের সেনা প্রত্যাহার চুক্তি (Disengagement Agreement) মেনে চলতে ইসরায়েলি বাহিনীকে বাধ্য করা এবং সিরীয় ভূখণ্ডে তাদের বারবার হামলা বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যাতে অঞ্চলে নতুন কোনো সংঘাত ও উত্তেজনা ছড়িয়ে না পড়ে।

বিবৃতিতে সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা এবং অখণ্ডতার প্রতি কাতারের পূর্ণ সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি, সিরিয়ার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতির লড়াইয়ে তাদের প্রতিও সংহতি প্রকাশ করেছে কাতার।

কাতারে অনুমোদিত রাইড-শেয়ারিং অ্যাপসের তালিকা প্রকাশ

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
কাতারে অনুমোদিত রাইড-শেয়ারিং অ্যাপসের তালিকা প্রকাশ

আধুনিক প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক অ্যাপসের মাধ্যমে কাতারে ল্যান্ড ট্রান্সপোর্ট বা যাত্রী পরিবহন সেবা পরিচালনার জন্য অনুমোদিত ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত কোম্পানির তালিকা প্রকাশ করেছে কাতারের পরিবহন মন্ত্রণালয়। ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত হালনাগাদ করা এই তালিকায় মোট ১১টি অ্যাপসকে বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, তালিকাভুক্ত নয় এমন কোনো কোম্পানি বা অবৈধ যানবাহন এই সেবা পরিচালনা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনুমোদিত রাইড-শেয়ারিং অ্যাপসের তালিকা:

* Uber
* badrgo
* Aabir
* Karwa
* Ryde
* EzGo
* Wer2GO
* iDriver
* WaselGo
* QGlide
* BDrive

যাত্রীদের নিরাপদ ও মানসম্মত পরিবহন সেবা নিশ্চিত করতেই এই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তাই যাতায়াতের সময় যেকোনো ধরনের আইনি জটিলতা এড়াতে তালিকাভুক্ত অনুমোদিত অ্যাপসগুলো ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন

কাতারে নির্মিত হচ্ছে প্রথম বৈদ্যুতিক গাড়ির কারখানা

হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্রিতে শাটল সার্ভিস চালু

কাতারে না জানিয়ে কারো ছবি বা ভিডিও ধারণ করলেই জেল-জরিমানা

সবুজে সেজে উঠছে কাতার: সবুজায়ন ও বৃক্ষরোপণে নতুন মাইলফলক

পাবলিক ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া ট্যাক্সি, লিমুজিন ও বাস চালানো নিষিদ্ধ: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

মায়ের স্মরণে কাতারের আল খোরে চালু হলো মহিলাদের জন্য ফ্রি কোরআন হিফজ কেন্দ্র

ইরান যুদ্ধের ধাক্কা:

যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি কিনছে কাতার

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি কিনছে কাতার

যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বব্যাপী মোট এলএনজি রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশের যোগান দিত কাতার। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে কাতারের গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা চরমভাবে ব্যাহত হওয়ায় দেশটি নিজস্ব গ্রাহকদের চাহিদাও যথাযথভাবে পূরণ করতে পারছে না। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানিকারক কাতার দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহকারীদের কাছ থেকে এলএনজি আমদানির বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের বরাতে বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যম এমন তথ্য জানিয়েছে।

আলোচনাটি খুবই গোপনীয় হওয়ায় নাম প্রকাশ না করা শর্তে ওই ব্যক্তিরা জানান, চালু থাকা ও নির্মাণাধীন রপ্তানি প্রকল্পগুলো থেকে গ্যাস পেতে আগ্রহী কাতারের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম মধ্যপ্রাচ্যের গণ্ডি পেরিয়ে নিজস্ব সরবরাহ বাড়াতে বিকল্প খুঁজছে কাতার।

সম্ভাব্য এই চুক্তিগুলো থেকে বোঝা যায়, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ কীভাবে কাতারকে তার গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে গ্যাসের বিকল্প উৎস খুঁজতে বাধ্য করছে।

একসময় বিশ্বের মোট এলএনজির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ একাই সরবরাহ করত কাতার। কিন্তু হরমুজ প্রণালি দিয়ে গ্যাস ট্যাংকার চলাচলের ঝুঁকির কারণে তাদের সরবরাহ এখন প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে কাতারএনার্জি সাড়া দেয়নি।

ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে কাতার তাদের রাস লাফান এলএনজি রপ্তানি কেন্দ্র থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে উৎপাদন প্রায় দ্বিগুণ করার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছিল। তবে বিশ্বের সর্ববৃহৎ এই স্থাপনা সংঘাতের প্রথম কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এটি পুরোপুরি মেরামত করতে তিন থেকে পাঁচ বছরের মতো সময় লাগতে পারে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিগগিরই যুদ্ধ শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। সংঘাত আরও বাড়াতে প্রস্তুত ইরান। শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, এ যুদ্ধ ২০২৯ সাল পর্যন্ত চলতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাতের আশঙ্কাই হয়তো কাতারকে বাণিজ্যের ওপর আরও বেশি মনোযোগ দিতে বাধ্য করছে।

কাতারের হাতে ইতিমধ্যেই মার্কিন সরবরাহের কিছু সুযোগ রয়েছে। তারা টেক্সাসে অবস্থিত গোল্ডেন পাস এলএনজি কারখানার অন্যতম মালিক। কারখানাটি গত এপ্রিলে রপ্তানি শুরু করেছে, ক্রমাগত উৎপাদনও বাড়াচ্ছে।

পারস্য উপসাগরীয় দেশটি তাদের কাতারএনার্জি ট্রেডিং ইউনিটের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি পরিবহনের সক্ষমতাও ধারাবাহিকভাবে বাড়াচ্ছে। এই ইউনিটটি মূলত স্বল্পমেয়াদি ব্যবসার ওপর কাজ করে।

বাতাস থেকে সুপেয় পানি উৎপাদনে লখুইয়ার অভিনব প্রযুক্তি ‘বদর’ সিস্টেম উদ্ভাবন

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
বাতাস থেকে সুপেয় পানি উৎপাদনে লখুইয়ার অভিনব প্রযুক্তি ‘বদর’ সিস্টেম উদ্ভাবন

বায়ুুমণ্ডলে থাকা আর্দ্রতা বা জলীয় বাষ্পকে টেনে তা থেকে বিশুদ্ধ ও সুপেয় পানীয় জল উৎপাদনের জন্য একটি অত্যন্ত আধুনিক ও যুগান্তকারী সিস্টেম তৈরি করেছে কাতারের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনী ‘লখুইয়া’ (Lekhwiya)। বাহিনীর সিকিউরিটি টেকনোলজি ডিপার্টমেন্ট এই উদ্ভাবনটি করেছে, যা জরুরি পরিস্থিতিতে পানীয় জলের বিকল্প উৎস হিসেবে এক বিরাট সাফল্য বলে মনে করা হচ্ছে।

লখুইয়ার উদ্ভাবিত এই অত্যাধুনিক সিস্টেমটি দুটি ভিন্ন মডেলের সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে, যা মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন অপারেশনাল প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম:

  • প্রথম মডেল (ইনডোর বা অভ্যন্তরীণ ব্যবহার): এই মডেলটি মূলত বিভিন্ন স্থাপনা বা ক্যাম্পের অভ্যন্তরে ব্যবহারের উপযোগী। এর দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ২০০ লিটার, যা প্রায় ৬০০টি ৩৩০ মিলিলিটারের পানির বোতলের সমান।

  • দ্বিতীয় মডেল (উচ্চ ধারণক্ষমতা): বৃহত্তর পরিসর বা যেসব এলাকায় পানির চাহিদা বেশি, সেসব জায়গার জন্য তৈরি করা হয়েছে এই মডেলটি। এর দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা সর্বোচ্চ ৫,০০০ লিটার, যা প্রায় ১২,০০০টি ৩৩০ মিলিলিটারের বোতলের সমান।

নিরাপত্তা, তেজস্ক্রিয়তা রোধ ও সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার

এই সিস্টেমটির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো—এটি যেকোনো ধরনের রাসায়নিক ও তেজস্ক্রিয় দূষণ (chemical and radioactive contaminants) মোকাবিলা করতে সক্ষম এবং এটি সর্বোচ্চ মানের সুরক্ষা ও বিশুদ্ধতা বজায় রেখে পানি উৎপাদন করে। পাশাপাশি, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই শক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে সিস্টেমটি সম্পূর্ণ সৌরশক্তি (solar energy) বা সোলার পাওয়ারের সাহায্যে পরিচালনা করার উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে, যা এর অপারেশনাল কার্যকারিতাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

শহীদ বদর আল-দোসারির স্মৃতির প্রতি উৎসর্গ: ‘বদর’ সিস্টেম

গত বছর দোহায় সংঘটিত ইসরায়েলি আগ্রাসনের সময় কর্তব্যরত অবস্থায় শাহাদাতবরণকারী লখুইয়ার বীর সদস্য বদর সাদ মোহাম্মদ আল-হামিদি আল-দোসারির পবিত্র স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই উদ্ভাবনী প্রযুক্তির নামকরণ করা হয়েছে ‘বদর’ (Badr) সিস্টেম।

জরুরি পরিস্থিতিতে অত্যন্ত কার্যকর বিকল্প

বিশেষ করে যুদ্ধকালীন বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে, যেখানে প্রচলিত পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হতে পারে বা সুপেয় পানির সংকট দেখা দিতে পারে—সেখানে এই এয়ার-টু-ওয়াটার (air-to-water) প্রযুক্তিটি জীবন রক্ষাকারী এক নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। লখুইয়ার এই উদ্যোগ প্রমাণ করে যে, আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগ এবং টেকসই সমাধানের মাধ্যমে যেকোনো সংকট মোকাবিলায় তারা কতটা প্রস্তুত ও উদ্ভাবনমুখী।

আরও পড়ুন

কাতারে নির্মিত হচ্ছে প্রথম বৈদ্যুতিক গাড়ির কারখানা

হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্রিতে শাটল সার্ভিস চালু

কাতারে খোলা জায়গায় গাড়ি ধোয়া নিষিদ্ধ: অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা

সহানুভূতি নয়, দক্ষতা! প্রতিবন্ধীদের সরাসরি কর্মসংস্থানে যুক্ত করছে কাতার