১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নির্যাতনের শিকার হয়েও থামছে না নারী প্রবাসীদের অনিরাপদ বিদেশযাত্রা

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
নির্যাতনের শিকার হয়েও থামছে না নারী প্রবাসীদের অনিরাপদ বিদেশযাত্রা

প্রায় প্রতিদিনই অমানবিক নির্যাতন ও লাঞ্ছনার শিকার হয়ে প্রবাসী নারীদের কেউ না কেউ দেশে ফিরছেন। তারপরও থেমে নেই নারীদের অনিরাপদ বিদেশযাত্রা।

এমনকি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি নেই—এমন ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে পাঠানো হচ্ছে নারী শ্রমিক। দালালদের ফাঁদে পড়ে সব হারাচ্ছেন অনেকে।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ মাসে ৪৭টি দেশে নারী শ্রমিক গেছেন প্রায় ২৬ হাজার। এর মধ্যে সৌদি আরবে ১৭ হাজারের বেশি, জর্ডানে সাড়ে ৬ হাজারের বেশি, কাতারে ৬০০ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২৫০ জনের বেশি, জাপানে ১৫৫ এবং ইতালিতে গেছেন অন্তত ১৫০ জন নারী গেছেন।

এ ছাড়া সিঙ্গাপুরে অন্তত ৭৭ জন, সাইপ্রাসে ৭৬ জন, মরিশাসে ৩৯ জন, দক্ষিণ কোরিয়ায় ৩৭ জন, গ্রিসে ৩৫ জন, পর্তুগালে ৩২ জন, লাওসে ২০ জন, মাল্টায় ২০ জন, ইরাকে ১৩ জন, লেবাননে ১৩ জন, মেসিডোনিয়ায় ১০ জন, রোমানিয়ায় ১০ জন, কেনিয়ায় ১০ জন, যুক্তরাজ্যে ৯ জন, ম্যাকাওয়ে ৯ জন, ভিয়েতনামে ৮ জন, রাশিয়ায় ৮ জন এবং সার্বিয়া ও মঙ্গোলিয়ায় ৭ জন নারী গেছেন কাজের জন্য। মলদোভা, ফিজি, চীন ও কুয়েতে ৫ জন করে; ব্রুনাই ও মালয়েশিয়ায় ৪ জন করে; স্লোভেনিয়া, বেলারুশ, সেশেলস ও বুলগেরিয়ায় ৩ জন করে; পোল্যান্ড, ব্রাজিল ও ওমানে ২ জন করে এবং অস্ট্রেলিয়া, আয়ারল্যান্ড, কম্বোডিয়া, টোঙ্গা, বাহামাস ও নিউজিল্যান্ডে অন্তত ১ জন করে নারী শ্রমিক গেছেন।

গত বছরের একই সময়ে বিদেশে গিয়েছিলেন ২৩ হাজার ৯৩৬ জন নারী শ্রমিক। এর মধ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন ১৬ হাজার ৬৩২ জন, জর্ডানে ৪ হাজার ৬৯৪ জন, কাতারে ১ হাজার ৪৭ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৪৪৭ জন ও কুয়েতে ১৭৪ জনসহ মোট ৫০টি দেশে এসব নারী অভিবাসী গিয়েছিলেন।

বিদেশ যাওয়া এসব নারীদের মধ্যে বড় একটি অংশ বাংলাদেশ থেকে অপ্রচলিত ও অনানুষ্ঠানিক শ্রমবাজারে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি, ভাষাশিক্ষা ছাড়া বিদেশ যাচ্ছেন। এ ছাড়া দ্বিপাক্ষিক চুক্তি নেই এমন দেশগুলোতেও যাচ্ছেন অনেক নারী শ্রমিক।

পর্যাপ্ত প্রস্তুতি, ভাষাশিক্ষা ও দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ছাড়া নারী শ্রমিকদের বিদেশযাত্রায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী বলেন, আনুষ্ঠানিক বাজার ছাড়া অন্য দেশগুলোতে কর্মী পাঠানোর ঘটনা ব্যক্তি উদ্যোগ বা ফড়িয়াদের প্রভাবে ঘটছে, যা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

বায়রা মহাসচিব বলেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ প্রচলিত বাজারগুলোতে বর্তমানে পুরুষ শ্রমিকের চাহিদা কমলেও নারী গৃহকর্মীদের একটি অংশ দুবাই, ওমান ও সৌদি আরবে কাজ পাচ্ছেন। তবে চুক্তিহীন বা অপ্রচলিত নতুন দেশগুলোতে নারী শ্রমিক পাঠানোর বিষয়টি মোটেই সাধারণ বাণিজ্য ব্যবস্থার অংশ নয়।

তিনি বলেন, রাশিয়া, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, টোঙ্গা বা বাহামাসের মতো দেশগুলোতে নারী গৃহকর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য যাচাই ও আইনি কাঠামোর ঘাটতি রয়েছে। রাশিয়ার মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ বা ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার মতো নিজস্ব শ্রম উদ্বৃত্ত থাকা দেশে বাংলাদেশি নারীরা কী কাজ করবেন—এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এসব দেশে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় যোগাযোগের দক্ষতা বা ভাষার প্রশিক্ষণ তাদের আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা উচিত।

আলী হায়দার চৌধুরী জানান, সৌদি আরব, জর্ডান এবং হংকংয়ের মতো যেসব দেশে দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা রয়েছে, কেবল সেখানেই বায়রা বা অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মী পাঠাতে পারে। অন্য অপ্রচলিত দেশগুলোতে কর্মী যাওয়ার ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের ফাঁদে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্র কীভাবে এসব ক্ষেত্রে বহির্গমন ছাড়পত্র (ম্যানপাওয়ার ক্লিয়ারেন্স) দিচ্ছে বা নথিপত্র অনুমোদন করছে, তা স্পষ্ট নয়।

অনানুষ্ঠানিক বাজারে অনিয়ন্ত্রিতভাবে নারী শ্রমিক পাঠানো বন্ধ এবং প্রবাসীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারকে নীতিমালা ও সঠিক তদারকি ব্যবস্থা জোরালো করার আহ্বান জানান বায়রা মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী।

ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক (মাইগ্রেশন) শরিফুল ইসলাম হাসান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে কাজের কথা বলে নারী শ্রমিকদের বিদেশে নিয়ে পাচার কিংবা অনৈতিক কাজে যুক্ত করার একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বিশেষ করে যেসব অপ্রচলিত দেশে আমাদের পুরুষ শ্রমিক নেই, অথচ নারী শ্রমিক পাঠানো হচ্ছে—সেসব বিষয়ে সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। এমনকি প্রেমের কিংবা বিয়ের ফাঁদে ফেলে বিদেশ নেওয়ার মতো বিষয়গুলোতেও আমাদের বাড়তি সচেতনতা ও সতর্কতা বজায় রাখা জরুরি।

নির্যাতনের শিকার হয়েও থামছে না নারী প্রবাসীদের অনিরাপদ বিদেশযাত্রা

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
নির্যাতনের শিকার হয়েও থামছে না নারী প্রবাসীদের অনিরাপদ বিদেশযাত্রা

প্রায় প্রতিদিনই অমানবিক নির্যাতন ও লাঞ্ছনার শিকার হয়ে প্রবাসী নারীদের কেউ না কেউ দেশে ফিরছেন। তারপরও থেমে নেই নারীদের অনিরাপদ বিদেশযাত্রা।

এমনকি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি নেই—এমন ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে পাঠানো হচ্ছে নারী শ্রমিক। দালালদের ফাঁদে পড়ে সব হারাচ্ছেন অনেকে।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ মাসে ৪৭টি দেশে নারী শ্রমিক গেছেন প্রায় ২৬ হাজার। এর মধ্যে সৌদি আরবে ১৭ হাজারের বেশি, জর্ডানে সাড়ে ৬ হাজারের বেশি, কাতারে ৬০০ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২৫০ জনের বেশি, জাপানে ১৫৫ এবং ইতালিতে গেছেন অন্তত ১৫০ জন নারী গেছেন।

এ ছাড়া সিঙ্গাপুরে অন্তত ৭৭ জন, সাইপ্রাসে ৭৬ জন, মরিশাসে ৩৯ জন, দক্ষিণ কোরিয়ায় ৩৭ জন, গ্রিসে ৩৫ জন, পর্তুগালে ৩২ জন, লাওসে ২০ জন, মাল্টায় ২০ জন, ইরাকে ১৩ জন, লেবাননে ১৩ জন, মেসিডোনিয়ায় ১০ জন, রোমানিয়ায় ১০ জন, কেনিয়ায় ১০ জন, যুক্তরাজ্যে ৯ জন, ম্যাকাওয়ে ৯ জন, ভিয়েতনামে ৮ জন, রাশিয়ায় ৮ জন এবং সার্বিয়া ও মঙ্গোলিয়ায় ৭ জন নারী গেছেন কাজের জন্য। মলদোভা, ফিজি, চীন ও কুয়েতে ৫ জন করে; ব্রুনাই ও মালয়েশিয়ায় ৪ জন করে; স্লোভেনিয়া, বেলারুশ, সেশেলস ও বুলগেরিয়ায় ৩ জন করে; পোল্যান্ড, ব্রাজিল ও ওমানে ২ জন করে এবং অস্ট্রেলিয়া, আয়ারল্যান্ড, কম্বোডিয়া, টোঙ্গা, বাহামাস ও নিউজিল্যান্ডে অন্তত ১ জন করে নারী শ্রমিক গেছেন।

গত বছরের একই সময়ে বিদেশে গিয়েছিলেন ২৩ হাজার ৯৩৬ জন নারী শ্রমিক। এর মধ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন ১৬ হাজার ৬৩২ জন, জর্ডানে ৪ হাজার ৬৯৪ জন, কাতারে ১ হাজার ৪৭ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৪৪৭ জন ও কুয়েতে ১৭৪ জনসহ মোট ৫০টি দেশে এসব নারী অভিবাসী গিয়েছিলেন।

বিদেশ যাওয়া এসব নারীদের মধ্যে বড় একটি অংশ বাংলাদেশ থেকে অপ্রচলিত ও অনানুষ্ঠানিক শ্রমবাজারে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি, ভাষাশিক্ষা ছাড়া বিদেশ যাচ্ছেন। এ ছাড়া দ্বিপাক্ষিক চুক্তি নেই এমন দেশগুলোতেও যাচ্ছেন অনেক নারী শ্রমিক।

পর্যাপ্ত প্রস্তুতি, ভাষাশিক্ষা ও দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ছাড়া নারী শ্রমিকদের বিদেশযাত্রায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী বলেন, আনুষ্ঠানিক বাজার ছাড়া অন্য দেশগুলোতে কর্মী পাঠানোর ঘটনা ব্যক্তি উদ্যোগ বা ফড়িয়াদের প্রভাবে ঘটছে, যা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

বায়রা মহাসচিব বলেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ প্রচলিত বাজারগুলোতে বর্তমানে পুরুষ শ্রমিকের চাহিদা কমলেও নারী গৃহকর্মীদের একটি অংশ দুবাই, ওমান ও সৌদি আরবে কাজ পাচ্ছেন। তবে চুক্তিহীন বা অপ্রচলিত নতুন দেশগুলোতে নারী শ্রমিক পাঠানোর বিষয়টি মোটেই সাধারণ বাণিজ্য ব্যবস্থার অংশ নয়।

তিনি বলেন, রাশিয়া, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, টোঙ্গা বা বাহামাসের মতো দেশগুলোতে নারী গৃহকর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য যাচাই ও আইনি কাঠামোর ঘাটতি রয়েছে। রাশিয়ার মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ বা ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার মতো নিজস্ব শ্রম উদ্বৃত্ত থাকা দেশে বাংলাদেশি নারীরা কী কাজ করবেন—এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এসব দেশে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় যোগাযোগের দক্ষতা বা ভাষার প্রশিক্ষণ তাদের আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা উচিত।

আলী হায়দার চৌধুরী জানান, সৌদি আরব, জর্ডান এবং হংকংয়ের মতো যেসব দেশে দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা রয়েছে, কেবল সেখানেই বায়রা বা অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মী পাঠাতে পারে। অন্য অপ্রচলিত দেশগুলোতে কর্মী যাওয়ার ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের ফাঁদে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্র কীভাবে এসব ক্ষেত্রে বহির্গমন ছাড়পত্র (ম্যানপাওয়ার ক্লিয়ারেন্স) দিচ্ছে বা নথিপত্র অনুমোদন করছে, তা স্পষ্ট নয়।

অনানুষ্ঠানিক বাজারে অনিয়ন্ত্রিতভাবে নারী শ্রমিক পাঠানো বন্ধ এবং প্রবাসীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারকে নীতিমালা ও সঠিক তদারকি ব্যবস্থা জোরালো করার আহ্বান জানান বায়রা মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী।

ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক (মাইগ্রেশন) শরিফুল ইসলাম হাসান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে কাজের কথা বলে নারী শ্রমিকদের বিদেশে নিয়ে পাচার কিংবা অনৈতিক কাজে যুক্ত করার একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বিশেষ করে যেসব অপ্রচলিত দেশে আমাদের পুরুষ শ্রমিক নেই, অথচ নারী শ্রমিক পাঠানো হচ্ছে—সেসব বিষয়ে সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। এমনকি প্রেমের কিংবা বিয়ের ফাঁদে ফেলে বিদেশ নেওয়ার মতো বিষয়গুলোতেও আমাদের বাড়তি সচেতনতা ও সতর্কতা বজায় রাখা জরুরি।

বিমানবন্দরে প্রবাসীদের টার্গেট, আলামিনের ঘর থেকে মিলল ৩ আইফোনসহ ২২ ফোন

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
বিমানবন্দরে প্রবাসীদের টার্গেট, আলামিনের ঘর থেকে মিলল ৩ আইফোনসহ ২২ ফোন

বিদেশফেরত প্রবাসীদের টার্গেট করে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনে চালকের বেশে অপেক্ষা করতেন আলামিন শেখ (৩১)। স্বল্প ভাড়ায় গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে গাড়িতে তোলার পর সুযোগ বুঝে যাত্রীদের নগদ টাকা, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

পুলিশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এ কৌশলে প্রবাসীদের সর্বস্ব কেড়ে নেওয়া আলামিন অবশেষে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে ধরা পড়েছেন। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার পূর্ব মহারাজপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

অভিযানে আলামিনের ঘর থেকে বিপুল পরিমাণ মালামাল উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে একটি চায়নিজ কুড়াল, দুটি সুইচ গিয়ার চাকু, বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও মডেলের ১৫টি অ্যান্ড্রয়েড মুঠোফোন, তিনটি আইফোন, চারটি ট্যাব, সাতটি বাটন ফোন, ১০টি হাতঘড়ি ও ১১টি মানিব্যাগ। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের ৭৭টি মুদ্রার নোট এবং বাংলাদেশি এক লাখ ৭৯ হাজার টাকা জব্দ করেছে পুলিশ।

কম ভাড়ার প্রস্তাব, এরপর গাড়ির ভেতরেই ছিনতাই
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশ থেকে দেশে ফেরা প্রবাসীদেরই মূলত টার্গেট করতেন আলামিন। বিমানবন্দরের সামনে মাইক্রোবাস কিংবা প্রাইভেট কার নিয়ে চালকের মতো অবস্থান করতেন তিনি।

প্রবাসীরা বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার পর তাদের গন্তব্যে কম ভাড়ায় পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হতো। সরল বিশ্বাসে কেউ গাড়িতে উঠলে নির্জন বা ফাঁকা জায়গায় নেওয়ার পর পরিকল্পিতভাবে তার কাছে থাকা টাকা, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়া হতো বলে অভিযোগ।

মালামাল নেওয়ার পর ভুক্তভোগীদের ফাঁকা জায়গায় নামিয়ে দেওয়া হতো বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

বিমানবন্দরে চালক সেজে প্রবাসীদের ছিনতাই, চক্রের সদস্য গ্রেপ্তার

ছয় মামলার আসামি
বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনায় বিস্তারিত জানাতে গোপালগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সেখানে পুলিশ সুপার মো. হবীবুল্লাহ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আলামিন শেখ দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার বিমানবন্দর এলাকা ছাড়াও বিভিন্ন স্থানে চুরি ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

পুলিশ সুপার আরও জানান, আলামিনের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ডাকাতি ও মাদকসহ ছয়টি মামলা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কাজী হুমায়ুন রশীদ, সহকারী পুলিশ সুপার মো. হাসানুর রহমান, গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শক নয়ন চন্দ্র দেবনাথসহ জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পৃথক অভিযানে ৮০০ ইয়াবাসহ নারী গ্রেপ্তার
এদিকে একই দিনে মুকসুদপুরে পৃথক একটি অভিযান চালিয়ে ৮০০ ইয়াবাসহ মাকসুদা (৪৫) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবির আরেকটি দল।

মুকসুদপুর উপজেলার রাগদী ইউনিয়নের টেকেরহাট উত্তরপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মাকসুদা উপজেলার গোহালা ইউনিয়নের হরিশ্চর গ্রামের আবুবক্করের স্ত্রী।

পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা। এ ঘটনায় মাকসুদাকে আসামি করে মাদক আইনে একটি মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।

আরও পড়ুন

প্রবাসীর স্ত্রীকে গণধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

প্রবাসীর স্ত্রীর বাসায় শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু: ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

নারী কণ্ঠে প্রবাসীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও প্রতারণা, গ্রেপ্তার প্রতারক চক্রের ৩ সদস্য

আরো ৫ বিলিয়ন ডলার মার্কিন বিনিয়োগ চায় বাংলাদেশ

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
আরো ৫ বিলিয়ন ডলার মার্কিন বিনিয়োগ চায় বাংলাদেশ

বাংলাদেশে আগামী পাঁচ বছরে আরও ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ আনতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কাজ করার কথা জানিয়েছে সরকার। এ উদ্যোগে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচ্যাম) গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর র‌্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনের বলরুমে অ্যামচ্যামের ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সরকার ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত। সম্প্রতি অ্যামচ্যামের নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে আরও ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, নতুন বিনিয়োগ আনার ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের প্রকৃত সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করা জরুরি। কোনো ব্যবসায়িক সমস্যা সরকারের কাছে এলে তার বাস্তবসম্মত সমাধানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।

এ ক্ষেত্রে অ্যামচ্যামের সদস্য প্রতিষ্ঠান কর্টেভা বাংলাদেশের একটি সমস্যার উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির শিল্প ও বাণিজ্যিক লাইসেন্স-সংক্রান্ত জটিলতা সরকারি উদ্যোগে এক মাসের মধ্যে সমাধান করা হয়েছে।

বাণিজ্য ছাড়িয়ে বিনিয়োগে জোর
অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ বর্তমানে ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি। তবে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে শুধু আমদানি-রপ্তানির হিসাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান ও জ্ঞান বিনিময়ের ক্ষেত্রেও সম্পর্ক আরও গভীর করার সুযোগ রয়েছে।

তিনি জানান, অ্যামচ্যামের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে। এসব প্রতিষ্ঠান দেশের জাতীয় রাজস্বে ২০ শতাংশের বেশি অবদান রাখছে বলেও দাবি করেন তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে মার্কিন ব্যবসায়ীদের এই বিনিয়োগ দেশের অর্থনীতির প্রতি তাদের আস্থার প্রতিফলন। ভবিষ্যতে এ আস্থা আরও বড় বিনিয়োগে রূপ দিতে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে চায়।

বাংলাদেশকে বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান, বড় অভ্যন্তরীণ বাজার এবং তরুণ ও দক্ষ কর্মশক্তি বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা। প্রযুক্তি, ডিজিটাল উদ্ভাবন, স্বাস্থ্যসেবা, উৎপাদন শিল্প ও আর্থিক সেবাসহ বিভিন্ন খাতে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

তবে শুধু বিনিয়োগের সম্ভাবনা থাকলেই বিদেশি বিনিয়োগকারী আকৃষ্ট করা যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিনিয়োগকারীদের জন্য নীতির পূর্বাভাসযোগ্যতা, ব্যবসা পরিচালনার সহজ পরিবেশ, কার্যকর বাণিজ্যসুবিধা এবং স্থিতিশীল নীতিকাঠামো নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ব্যবসার পরিবেশ সহজ করার আশ্বাস
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজ করা, সরকারি সেবার ডিজিটালাইজেশন বাড়ানো, বাণিজ্যসুবিধা সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সরকার কাজ করছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে এসব উদ্যোগ আরও জোরদার করা হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ-মার্কিন অর্থনৈতিক সম্পর্কের পরবর্তী পর্যায়ে আরও মার্কিন কোম্পানি বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে পারে। এর মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক ব্যবসায়িক দক্ষতা দেশে আসার পাশাপাশি বাংলাদেশি পণ্য ও সেবার মার্কিন বাজারে প্রবেশের সুযোগও বাড়তে পারে।

এ জন্য সরকার, বেসরকারি খাত, বিনিয়োগকারী, উন্নয়ন সহযোগী এবং অ্যামচ্যামের মতো ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

‘অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে হবে’
অ্যামচ্যামের ৩০ বছর পূর্তিকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নেওয়ার সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেন, আগামী দিনে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরও বেশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনের সুযোগ তৈরি করতে হবে। এর সঙ্গে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারত্বও গড়ে তুলতে হবে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, অ্যামচ্যামের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল, সহসভাপতি আলা উদ্দিন আজাদ, সংগঠনটির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান ও সাবেক কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী নেতা ও গণমাধ্যমকর্মীরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী অ্যামচ্যামের ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সংগঠনটির সদস্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিনন্দন জানান।

প্রবাসী ভোটারদের নিবন্ধন ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
প্রবাসী ভোটারদের নিবন্ধন ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে আগ্রহী প্রবাসী ভোটারদের আগামী ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন করতে হবে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) পোস্টাল ভোট সংক্রান্ত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় তিনি এ আসন থেকে পদত্যাগ করেন। এতে এ আসনটি শূন্য হয়।

ইসি জানিয়েছে, আগামী ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী প্রবাসী ভোটাররা ১২ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত Postal Vote BD অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে পারবেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ভোটের জন্য যারা নিবন্ধন করেছিলেন, তাদের নতুন করে নিবন্ধন করতে হবে না। বিদেশে থাকা এ সকল ভোটারকে ই-মেইল, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে হোয়াটসঅ্যাপ এবং Postal Vote BD অ্যাপের মাধ্যমে বার্তা বা নোটিফিকেশন দেওয়া হবে। তাদের সম্মতি নিশ্চিত হওয়ার পর বর্তমান ঠিকানায় ব্যালট পাঠানো হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ভোটে নিবন্ধন না করা ঠাকুরগাঁও-১ আসনের প্রবাসী ভোটাররাও নতুন করে নিবন্ধন করে পোস্টাল ভোট দিতে পারবেন।

একইভাবে দেশের অভ্যন্তরে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তি এবং আইনানুগ হেফাজতে থাকা ভোটারদেরও পোস্টাল ভোটের সুযোগ রাখা হয়েছে। আগের নির্বাচনে নিবন্ধিত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মতি নেওয়ার পর হালনাগাদ ঠিকানায় ব্যালট পাঠানো হবে। আর যারা আগে নিবন্ধন করেননি, তারা নতুন করে নিবন্ধনের সুযোগ পাবেন।

নির্বাচনি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা নিজেদের ভোটকেন্দ্রে ভোট দেওয়ার সুযোগ না থাকায় Postal Vote BD অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে পারবেন। জেলখানায় থাকা বিচারাধীন বন্দিরাও একই প্রক্রিয়ায় পোস্টাল ভোট দিতে পারবেন।

ইসির তফসিল অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ২৭ সেপ্টেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ২৯ সেপ্টেম্বর। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত। আপিল নিষ্পত্তি হবে ৬ অক্টোবর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ৭ অক্টোবর এবং প্রতীক বরাদ্দ হবে ৮ অক্টোবর। ভোটগ্রহণ হবে ২৯ অক্টোবর।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিদেশে থাকা ৩৮৬ জন ভোটার ৩৩টি দেশ থেকে পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধন করেছিলেন। সবচেয়ে বেশি নিবন্ধন হয়েছিল সৌদি আরব থেকে।

এ ছাড়া ইন-কান্ট্রি পোস্টাল ভোটিংয়ে নিবন্ধন করেছিলেন ৪ হাজার ৪৫ জন। তাদের মধ্যে সরকারি চাকরিজীবী ছিলেন ২ হাজার ৭৩৫ জন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৫ লাখ ৭ হাজার ২০৩ জন। এবার ভোটার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ১৫ হাজার ৫২৫ জন। অর্থাৎ ভোটার বেড়েছে ৮ হাজার ৩২২ জন।

উপনির্বাচনে ১৮৫টি কেন্দ্রে ৯৮৯টি ভোটকক্ষে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ হবে।

মার্চ থেকে আগস্ট: বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর হিড়িকে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি দেশে

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
মার্চ থেকে আগস্ট: বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর হিড়িকে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি দেশে

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহে স্বস্তি এনে চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ১ শতাংশ। এ সময়ে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন ১ হাজার ৮৯৪ কোটি মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের ১ হাজার ৬৭৪ কোটি ডলারের তুলনায় ২২০ কোটি ডলার বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ ছয় মাসের মধ্যে পাঁচ মাসেই আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবাসী আয় বেড়েছে। এর মধ্যে আগস্টে প্রবৃদ্ধি ছিল সর্বোচ্চ ২২ দশমিক ৩ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চে দেশে আসে ৩৭৫ কোটি ডলার প্রবাসী আয়, যা আগের বছরের মার্চের ৩৩০ কোটি ডলারের তুলনায় ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। এপ্রিলে আসে ৩১৩ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি।

মে মাসে প্রবাসীরা পাঠান ৩৪৩ কোটি ডলার, যা এক বছর আগের একই মাসের তুলনায় ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। জুনে প্রবাসী আয় প্রায় স্থিতিশীল ছিল। এ মাসে আসে ২৮১ কোটি ডলার, যা আগের বছরের জুনে ছিল ২৮২ কোটি ডলার।

জুলাইয়ে আবার প্রবৃদ্ধির ধারা জোরালো হয়। এ মাসে দেশে আসে ২৮৬ কোটি ডলার, যা আগের বছরের জুলাইয়ের তুলনায় ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। আগস্টে আসে ২৯৬ কোটি ডলার, যা এক বছর আগের একই মাসের ২৪২ কোটি ডলারের তুলনায় ২২ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। ফলে ছয় মাসের মধ্যে আগস্টেই সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

ছয় মাসে দেশে প্রবাসী আয়ের প্রধান উৎস দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে ছিল সৌদি আরব। দেশটি থেকে এসেছে ৩০৮ কোটি ৮ লাখ ৫০ হাজার ডলার। এরপর যুক্তরাজ্য থেকে ২৯৪ কোটি ২ লাখ ৭০ হাজার ডলার, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ২২৬ কোটি ৭২ লাখ ২০ হাজার ডলার, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৭১ কোটি ৬৫ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং মালয়েশিয়া থেকে ১৪৮ কোটি ৭০ লাখ ৬০ হাজার ডলার প্রবাসী আয় এসেছে।

চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত এই পাঁচ দেশ থেকেই বাংলাদেশ পেয়েছে মোট ১ হাজার ১৫০ কোটি ডলার প্রবাসী আয়, যা এ সময়ে দেশে আসা মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ৬০ দশমিক ৭ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বাসসকে বলেন, প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের বহিঃখাতের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। এটি বৈধ ব্যাংকিং ও আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে কষ্টার্জিত অর্থ দেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ক্রমবর্ধমান আস্থার প্রতিফলন।

তিনি বলেন, প্রবাসীদের জন্য বৈধ পথে অর্থ পাঠানো আরও সহজ, দ্রুত ও সুবিধাজনক করতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে। একই সঙ্গে হুন্ডিসহ অবৈধ পথে অর্থ লেনদেন নিরুৎসাহিত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

আরিফ হোসেন খান বলেন, প্রবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারের বৈধ আর্থিক ব্যবস্থার ওপর আস্থার ইতিবাচক প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে প্রবাসী আয় বৃদ্ধির মধ্যে। তিনি বলেন, রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করা, ব্যাংকিং সেবার উন্নয়ন এবং বৈধ বৈদেশিক মুদ্রাবাজারকে আরও শক্তিশালী করতে সরকারের নেওয়া উদ্যোগ এ প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখছেন। প্রবাসী আয় বাড়াতে এবং তাদের জন্য আরও সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে সরকারের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।’

আরিফ হোসেন খান আশা প্রকাশ করেন, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ আরও শক্তিশালী হলে দেশের লেনদেনের ভারসাম্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হবে এবং বহিঃখাতে আরও স্থিতিশীলতা আসবে।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং আর্থিক ব্যবস্থার ওপর আস্থা পুনরুদ্ধারে সরকারের চলমান উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বেশি প্রবাসীকে বৈধ পথে তাদের আয় দেশে পাঠাতে উৎসাহিত করবে।

সরকার প্রবাসী কর্মী ও বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আসছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, রেমিট্যান্স সেবা আরও দ্রুত, নিরাপদ ও সহজলভ্য করতে নেওয়া উদ্যোগের ফলে প্রবাসী আয়ের ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকবে। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অবস্থান ও সামগ্রিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আরও শক্তিশালী হবে।

উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সালে মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর মধ্য দিয়ে দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে জনশক্তি রপ্তানির সূচনা হয়। এরপর ধীরে ধীরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি কর্মীদের অভিবাসন বিস্তৃত হয়েছে। সময়ের সঙ্গে দেশের অর্থনীতিতেও এ খাতের গুরুত্ব বেড়েছে। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স এখন বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান উৎস।

বর্তমানে বিশ্বের ১৭৬টি দেশে ১ কোটি ৫০ লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন।