বিশ্বের তরুণদের স্বপ্নপূরণে রাশিয়াকে সহযোগী হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তার শুভেচ্ছা বার্তা ও জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে রাশিয়ার ইকাতেরিনবার্গে শুরু হয়েছে ‘ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভ্যাল অব ইয়ুথ-২০২৬’।
গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) উৎসবের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হলেও মূল আয়োজনের উদ্বোধন হয় আজ রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) এ উপলক্ষে বিকেলে ইকাতেরিনবার্গের ইন্টারন্যাশনাল এক্সিবিশন সেন্টারে বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে ভিডিও বার্তায় পুতিন বলেন, আন্তর্জাতিক যুব উৎসবের অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের স্বাগত জানাতে পেরে তিনি আনন্দিত।
তিনি বলেন, এ বছর বিশ্বের তরুণরা সমবেত হয়েছেন উরাল অঞ্চলের রাজধানী ইয়েকাতেরিনবার্গে—এমন এক শহরে, যেখানে ইউরোপ ও এশিয়ার মিলন ঘটেছে এবং যেখানে ইতিহাস জীবন্ত হয়ে আছে।
পুতিন তার বক্তব্যে উরাল অঞ্চলের ঐতিহাসিক ও বৌদ্ধিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই অঞ্চল এমন সব ধারণা সৃষ্টি করেছে, যা রাশিয়াকে এগিয়ে নিয়েছে। প্রথম কারখানা, রাশিয়ার শিল্পবিপ্লব এবং আধুনিক যুগের অসংখ্য বৈজ্ঞানিক সাফল্যের কথাও তিনি স্মরণ করেন।
তার মতে, নতুন প্রযুক্তির প্রভাবে বদলে যাওয়া বিশ্ব ও ভবিষ্যৎ মানবসমাজ নিয়ে আলোচনা করার জন্য ইয়েকাতেরিনবার্গের চেয়ে উপযুক্ত স্থান খুব কমই আছে।
তবে তার বক্তব্যের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশ ছিল তরুণদের প্রতি আহ্বান। পুতিন বলেন, রুশ ভাষায় ‘মির’ শব্দের অর্থ যেমন বন্ধুত্ব, শান্তি ও সম্প্রীতি, তেমনি এর অর্থ বিশ্বও। এই ধারণাই রাশিয়ার বহুজাতিক রাষ্ট্রচরিত্র, সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডকে ব্যাখ্যা করে।
তার ভাষায়, ‘আমরা যদি বন্ধু হই, তবে আমাদের বন্ধুত্ব হবে দৃঢ় ও দীর্ঘস্থায়ী। আমরা যদি প্রতিবেশী হই, তবে আমরা ন্যায়বিচার ও পারস্পরিক সম্মান কামনা করি।’
তিনি আরও বলেন, পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের অধিকার আছে মানুষ হিসেবে মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার। কারও ভাগ্য তার জাতীয়তা, আর্থিক অবস্থা, সামাজিক মর্যাদা বা পারিবারিক পটভূমি দিয়ে নির্ধারিত হওয়া উচিত নয়। একই সঙ্গে প্রতিটি জাতির স্বাধীনভাবে নিজের পথ বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে।
ওষুধ, খাদ্য, পানি, জ্বালানি, শিক্ষা এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে সবার সমান প্রবেশাধিকার থাকা উচিত—এ কথাও জোর দিয়ে বলেন রুশ প্রেসিডেন্ট।
তরুণদের উদ্দেশে পুতিনের বার্তার শেষ অংশে ছিল সরাসরি আহ্বান। তিনি বলেন, যারা রাশিয়ায় এসে বিভিন্ন প্রকল্পে যুক্ত হতে চান, তাদের স্বাগত জানানো হবে। আবার যারা নিজ নিজ দেশে থেকে একটি নতুন, উন্মুক্ত ও ন্যায্য বিশ্ব গড়তে ভূমিকা রাখতে চান, তাদের প্রতিও রাশিয়ার সমান সমর্থন থাকবে।
তরুণ প্রজন্মকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আমার কোনো সন্দেহ নেই যে তোমরা সফল হবে। এটাই তোমাদের সময়। রাশিয়ার সঙ্গে তোমাদের স্বপ্ন অনুসরণ করো।’
আয়োজকরা জানিয়েছেন, বিশ্বের ১৯১টি দেশের ১০ হাজার যুব প্রতিনিধি, পেশাভিত্তিক বিশেষজ্ঞ ও গণমাধ্যমকর্মীর অংশগ্রহণে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এই উৎসব। প্রেসিডেন্ট পুতিনের নির্দেশনায় রাশিয়ার কেন্দ্রীয় যুব সংস্থা রজমলোদেজ এবং ওয়ার্ল্ড ইয়ুথ ফেস্টিভ্যাল অধিদপ্তর এই ফেস্টিভ্যাল আয়োজন করছে।
বাংলাদেশ থেকে এবারের উৎসবে অংশ নিয়েছেন ৭০ জন যুব প্রতিনিধি এবং চারজন গণমাধ্যমকর্মী। প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত অংশগ্রহণকারীদের সব খরচ বহন করছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ।