১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কাতার এয়ারওয়েজকে ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
কাতার এয়ারওয়েজকে ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ

বোর্ডিং পাস দেওয়ার পরও মাত্র ১০ মাসের এক স্তন্যপানরত শিশুকে বিমানে উঠতে বাধা দেওয়ার ঘটনায় কাতার এয়ারওয়েজের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন আদালত। যাত্রীদের সঙ্গে এমন আচরণকে ‘চূড়ান্ত অমানবিক’, পরিষেবায় গুরুতর ত্রুটি এবং অন্যায্য বাণিজ্যিক আচরণ হিসেবে অভিহিত করে এয়ারলাইন্সটিকে ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কেরলের উপভোক্তা বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন।

ঘটনার বিস্তারিত:

ইতালিতে বসবাসকারী এক ভারতীয় পরিবার কোচি বিমানবন্দর থেকে কাতার এয়ারওয়েজের ফ্লাইটে ইতালি ফেরার জন্য সমস্ত প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। বিমানবন্দরে এয়ারলাইন্সের কর্মীরা যাত্রীদের সমস্ত নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করার পরই তাদের নামে বোর্ডিং পাস ইস্যু করেছিলেন। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে শেষ মুহূর্তে পরিবারের দুই শিশুকে—যার মধ্যে একজন ১০ মাসের একটি স্তন্যপানরত শিশুও ছিল—বিমানে উঠতে বাধা দেওয়া হয়।

কোনও ধরনের যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়াই এই অনুমতি বাতিল করায় ওই পরিবার চরম মানসিক যন্ত্রণা, হয়রানি ও আকস্মিক ভোগান্তির শিকার হয়। পরবর্তীতে বাধ্য হয়েই আদালতের দ্বারস্থ হয় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও রায়:

মামলার শুনানিতে কেরলের ভোক্তা কমিশন অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে একবার সমস্ত নথিপত্র যাচাই করে বোর্ডিং পাস ইস্যু করার পর কোনো যথাযথ কারণ ছাড়া কোনো যাত্রীকে বিমানে উঠতে বাধা দেওয়া যায় না। বিশেষ করে একটি দুধের শিশুকে নিয়ে ভ্রমণকারী পরিবারের সঙ্গে এমন সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য।

আদালত কাতার এয়ারওয়েজকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ১০ লক্ষ টাকা এবং মামলার খরচ হিসেবে অতিরিক্ত ২৫ হাজার টাকা পরিশোধ করার নির্দেশ দিয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই অর্থ পরিশোধ না করলে তার ওপর সুদ দিতে হবে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোর কার্যপ্রণালীতে এই রায় একটি বড় বার্তা হয়ে থাকবে। বৈধ নথিপত্র ও বোর্ডিং পাস থাকার পরও যাত্রীদের শেষ মুহূর্তে বিমানে উঠতে বাধা দেওয়ার মতো একতরফা সিদ্ধান্তের দায় যে এয়ারলাইন্সগুলোকে নিতেই হবে, এই রায়ের মাধ্যমে বিষয়টি আরও জোরালো হলো।

কাতার এয়ারওয়েজকে ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
কাতার এয়ারওয়েজকে ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ

বোর্ডিং পাস দেওয়ার পরও মাত্র ১০ মাসের এক স্তন্যপানরত শিশুকে বিমানে উঠতে বাধা দেওয়ার ঘটনায় কাতার এয়ারওয়েজের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন আদালত। যাত্রীদের সঙ্গে এমন আচরণকে ‘চূড়ান্ত অমানবিক’, পরিষেবায় গুরুতর ত্রুটি এবং অন্যায্য বাণিজ্যিক আচরণ হিসেবে অভিহিত করে এয়ারলাইন্সটিকে ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কেরলের উপভোক্তা বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন।

ঘটনার বিস্তারিত:

ইতালিতে বসবাসকারী এক ভারতীয় পরিবার কোচি বিমানবন্দর থেকে কাতার এয়ারওয়েজের ফ্লাইটে ইতালি ফেরার জন্য সমস্ত প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। বিমানবন্দরে এয়ারলাইন্সের কর্মীরা যাত্রীদের সমস্ত নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করার পরই তাদের নামে বোর্ডিং পাস ইস্যু করেছিলেন। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে শেষ মুহূর্তে পরিবারের দুই শিশুকে—যার মধ্যে একজন ১০ মাসের একটি স্তন্যপানরত শিশুও ছিল—বিমানে উঠতে বাধা দেওয়া হয়।

কোনও ধরনের যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়াই এই অনুমতি বাতিল করায় ওই পরিবার চরম মানসিক যন্ত্রণা, হয়রানি ও আকস্মিক ভোগান্তির শিকার হয়। পরবর্তীতে বাধ্য হয়েই আদালতের দ্বারস্থ হয় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও রায়:

মামলার শুনানিতে কেরলের ভোক্তা কমিশন অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে একবার সমস্ত নথিপত্র যাচাই করে বোর্ডিং পাস ইস্যু করার পর কোনো যথাযথ কারণ ছাড়া কোনো যাত্রীকে বিমানে উঠতে বাধা দেওয়া যায় না। বিশেষ করে একটি দুধের শিশুকে নিয়ে ভ্রমণকারী পরিবারের সঙ্গে এমন সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য।

আদালত কাতার এয়ারওয়েজকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ১০ লক্ষ টাকা এবং মামলার খরচ হিসেবে অতিরিক্ত ২৫ হাজার টাকা পরিশোধ করার নির্দেশ দিয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই অর্থ পরিশোধ না করলে তার ওপর সুদ দিতে হবে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোর কার্যপ্রণালীতে এই রায় একটি বড় বার্তা হয়ে থাকবে। বৈধ নথিপত্র ও বোর্ডিং পাস থাকার পরও যাত্রীদের শেষ মুহূর্তে বিমানে উঠতে বাধা দেওয়ার মতো একতরফা সিদ্ধান্তের দায় যে এয়ারলাইন্সগুলোকে নিতেই হবে, এই রায়ের মাধ্যমে বিষয়টি আরও জোরালো হলো।

১৯১টি দেশের ১০ হাজার তরুণ প্রতিনিধিকে ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ বার্তা

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
১৯১টি দেশের ১০ হাজার তরুণ প্রতিনিধিকে ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ বার্তা
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন

বিশ্বের তরুণদের স্বপ্নপূরণে রাশিয়াকে সহযোগী হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তার শুভেচ্ছা বার্তা ও জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে রাশিয়ার ইকাতেরিনবার্গে শুরু হয়েছে ‘ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভ্যাল অব ইয়ুথ-২০২৬’।

গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) উৎসবের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হলেও মূল আয়োজনের উদ্বোধন হয় আজ রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) এ উপলক্ষে বিকেলে ইকাতেরিনবার্গের ইন্টারন্যাশনাল এক্সিবিশন সেন্টারে বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে ভিডিও বার্তায় পুতিন বলেন, আন্তর্জাতিক যুব উৎসবের অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের স্বাগত জানাতে পেরে তিনি আনন্দিত।

তিনি বলেন, এ বছর বিশ্বের তরুণরা সমবেত হয়েছেন উরাল অঞ্চলের রাজধানী ইয়েকাতেরিনবার্গে—এমন এক শহরে, যেখানে ইউরোপ ও এশিয়ার মিলন ঘটেছে এবং যেখানে ইতিহাস জীবন্ত হয়ে আছে।

পুতিন তার বক্তব্যে উরাল অঞ্চলের ঐতিহাসিক ও বৌদ্ধিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই অঞ্চল এমন সব ধারণা সৃষ্টি করেছে, যা রাশিয়াকে এগিয়ে নিয়েছে। প্রথম কারখানা, রাশিয়ার শিল্পবিপ্লব এবং আধুনিক যুগের অসংখ্য বৈজ্ঞানিক সাফল্যের কথাও তিনি স্মরণ করেন।

তার মতে, নতুন প্রযুক্তির প্রভাবে বদলে যাওয়া বিশ্ব ও ভবিষ্যৎ মানবসমাজ নিয়ে আলোচনা করার জন্য ইয়েকাতেরিনবার্গের চেয়ে উপযুক্ত স্থান খুব কমই আছে।

তবে তার বক্তব্যের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশ ছিল তরুণদের প্রতি আহ্বান। পুতিন বলেন, রুশ ভাষায় ‘মির’ শব্দের অর্থ যেমন বন্ধুত্ব, শান্তি ও সম্প্রীতি, তেমনি এর অর্থ বিশ্বও। এই ধারণাই রাশিয়ার বহুজাতিক রাষ্ট্রচরিত্র, সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডকে ব্যাখ্যা করে।

তার ভাষায়, ‘আমরা যদি বন্ধু হই, তবে আমাদের বন্ধুত্ব হবে দৃঢ় ও দীর্ঘস্থায়ী। আমরা যদি প্রতিবেশী হই, তবে আমরা ন্যায়বিচার ও পারস্পরিক সম্মান কামনা করি।’

তিনি আরও বলেন, পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের অধিকার আছে মানুষ হিসেবে মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার। কারও ভাগ্য তার জাতীয়তা, আর্থিক অবস্থা, সামাজিক মর্যাদা বা পারিবারিক পটভূমি দিয়ে নির্ধারিত হওয়া উচিত নয়। একই সঙ্গে প্রতিটি জাতির স্বাধীনভাবে নিজের পথ বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে।

ওষুধ, খাদ্য, পানি, জ্বালানি, শিক্ষা এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে সবার সমান প্রবেশাধিকার থাকা উচিত—এ কথাও জোর দিয়ে বলেন রুশ প্রেসিডেন্ট।

তরুণদের উদ্দেশে পুতিনের বার্তার শেষ অংশে ছিল সরাসরি আহ্বান। তিনি বলেন, যারা রাশিয়ায় এসে বিভিন্ন প্রকল্পে যুক্ত হতে চান, তাদের স্বাগত জানানো হবে। আবার যারা নিজ নিজ দেশে থেকে একটি নতুন, উন্মুক্ত ও ন্যায্য বিশ্ব গড়তে ভূমিকা রাখতে চান, তাদের প্রতিও রাশিয়ার সমান সমর্থন থাকবে।

তরুণ প্রজন্মকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আমার কোনো সন্দেহ নেই যে তোমরা সফল হবে। এটাই তোমাদের সময়। রাশিয়ার সঙ্গে তোমাদের স্বপ্ন অনুসরণ করো।’

আয়োজকরা জানিয়েছেন, বিশ্বের ১৯১টি দেশের ১০ হাজার যুব প্রতিনিধি, পেশাভিত্তিক বিশেষজ্ঞ ও গণমাধ্যমকর্মীর অংশগ্রহণে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এই উৎসব। প্রেসিডেন্ট পুতিনের নির্দেশনায় রাশিয়ার কেন্দ্রীয় যুব সংস্থা রজমলোদেজ এবং ওয়ার্ল্ড ইয়ুথ ফেস্টিভ্যাল অধিদপ্তর এই ফেস্টিভ্যাল আয়োজন করছে।

বাংলাদেশ থেকে এবারের উৎসবে অংশ নিয়েছেন ৭০ জন যুব প্রতিনিধি এবং চারজন গণমাধ্যমকর্মী। প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত অংশগ্রহণকারীদের সব খরচ বহন করছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ।

তৃণমূল পশ্চিমবঙ্গকে ‘গ্রেটার বাংলাদেশ’ বানাতে চায়: শুভেন্দু অধিকারী

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
তৃণমূল পশ্চিমবঙ্গকে ‘গ্রেটার বাংলাদেশ’ বানাতে চায়: শুভেন্দু অধিকারী
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শনিবার আগের বাম ও তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেছেন, এই দুই সরকার রাজ্যের ‘সনাতনী ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি’ দমন করার চেষ্টা করেছিল। তার অভিযোগ, বামেরা ধর্মকে ‘আফিম’ বলত। আর তৃণমূল বাংলাকে ‘বৃহত্তর বাংলাদেশ’ বানাতে চেয়েছিল।

কলকাতার কেষ্টপুরে একটি গণেশ পূজা মণ্ডপ উদ্বোধন করে শুভেন্দু এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, গত ৪৯ বছর ধরে রাজ্যের সাংস্কৃতিক পরিচয় নষ্ট করার চেষ্টা চলেছে। এর মধ্যে ৩৪ বছর বাম শাসন এবং ১৫ বছর তৃণমূল শাসনের কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘গত ৪৯ বছরে, ৩৪ বছর যারা ধর্মকে আফিম বলত তারা ক্ষমতায় ছিল কমিউনিস্টদের অধীনে, আর তার পরের ১৫ বছর তারা (তৃণমূল) একে বৃহত্তর বাংলাদেশ বানানোর চেষ্টা করেছে। এখন এমন সরকার এসেছে যারা ভুলে যাওয়া সংস্কৃতি ও পরম্পরা ফিরিয়ে আনতে চায়।’

শুভেন্দুর অভিযোগ, বাম আমলে পূজা মণ্ডপের বাইরে স্টলে কার্ল মার্কস আর ভ্লাদিমির লেনিনের বই থাকত। কিন্তু স্বামী বিবেকানন্দ বা লোকনাথ বাবার বই থাকত না। তিনি বলেন, ‘হনুমান চালিশা বা ভগবত গীতা খুঁজে পাওয়া যেত না। সেখানে স্পষ্ট বলা হত তারা ধর্মে বিশ্বাস করে না, ধর্মকে আফিম মনে করে।’

তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধেও কড়া মন্তব্য করেন শুভেন্দু। তার অভিযোগ, তৃণমূলের আমলে বাংলাকে ‘জামাতিকরণ’ করার চেষ্টা হয়েছিল। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না নিয়ে তিনি মহরমের সঙ্গে দুর্গা পূজার বিসর্জনের দিন বদলের প্রসঙ্গ তোলেন।

তিনি বলেন, ‘ওদের ১৫ বছরের শাসনে, প্রথম দিকে না হলেও শেষ দিকে, বাংলাকে জামাতি বানানোর চেষ্টা হয়েছিল। একবার বিসর্জনের দিন বদলানো হয়েছিল... তিনি বৈঠকে বলেছিলেন মহরম আছে, তাই বিজয়া দশমীতে বিসর্জন হবে না। এটা করা যায় না। পঞ্জিকা মেনে চলতে হয়। আমাদের পরম্পরা ধীরে ধীরে বদলে দেওয়া হচ্ছিল।’

জেলে থাকা এক প্রাক্তন রাজ্য মন্ত্রীর সমালোচনাও করেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিতৃপক্ষের সময় ওই মন্ত্রীর দুর্গা পূজার উদ্বোধনে গিয়েছিলেন। সনাতনী রীতি অনুযায়ী এই সময়টা পূজার জন্য অশুভ মনে করা হয়।

তিনি বলেন, দুর্গা পূজার উদ্বোধন মাতৃপক্ষে হওয়া উচিত। মহাষ্টমীর সময় ‘পূর্ণ শুদ্ধতা’ বজায় রাখার কথাও বলেন তিনি।

জাভা সাগরে ২৪০ যাত্রী নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার জাহাজ নিখোঁজ

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
জাভা সাগরে ২৪০ যাত্রী নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার জাহাজ নিখোঁজ

ইন্দোনেশিয়ার জাভা সাগরে ২৪০ জন আরোহী নিয়ে একটি যাত্রীবাহী জাহাজের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) পূর্ব জাভা থেকে বোর্নিও দ্বীপের দক্ষিণ কালিমন্তানের দিকে যাওয়ার পথে জাহাজটি নিখোঁজ হয়। বর্তমানে নিখোঁজ জাহাজ ও এর যাত্রীদের উদ্ধারে জোর তৎপরতা শুরু করেছে দেশটির উদ্ধারকারী দল।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ‘ভার্গো ট্রান্সপোর্ট ৮’ নামের যাত্রীবাহী জাহাজটি পূর্ব জাভা প্রদেশের সুরাবায়া থেকে বানজারমাসিনের দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে জাহাজটির যোগাযোগব্যবস্থায় আকস্মিক ত্রুটি দেখা দেয়। বানজারমাসিনের উদ্ধারকারী সংস্থা জানিয়েছে, বন্দর জেটি থেকে প্রায় ৯২ মাইল দূরে জাভা সাগরে অবস্থানকালে জাহাজটির সঙ্গে শেষবার যোগাযোগ হয়েছিল।

উদ্ধারকারী দলের অভিযান বিভাগের প্রধান আরিয়ান্তো আরদি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই উদ্ধারকর্মীদের ঘটনাস্থলের অভিমুখে পাঠানো হয়েছে এবং ট্রিসাক্তিতে একটি প্রধান নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

জাহাজ পরিচালনা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, সমুদ্রপথের মাঝপথে এটি তীব্র দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মুখোমুখি হয়েছিল। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর না পাওয়া গেলেও অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

নির্বাচনে জিততে সব প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকানকে ৫ হাজার ডলারের ‘লোভ’ দেখালেন ট্রাম্প

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
নির্বাচনে জিততে সব প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকানকে ৫ হাজার ডলারের ‘লোভ’ দেখালেন ট্রাম্প

আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে যদি রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সব প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে নগদ অর্থ দেওয়ার নজিরবিহীন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ডালাসে আয়োজিত রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচনী কনভেনশনের উদ্বোধনী রাতে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি এই ঘোষণা দেন।

ডেমোক্র্যাটদের তুলনায় জনমত জরিপে তার দল যখন কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। ট্রাম্প সমর্থকদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারা যেন ধরে নেন নির্বাচনে তিনি নিজেই ব্যালটে লড়াই করছেন।

ভাষণে সমর্থকদের উজ্জীবিত করতে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যদি রিপাবলিকানরা জয়ী হয়, তবে আমাদের সঙ্গে আপনারাও জিতবেন এবং প্রত্যেকে ৫ হাজার ডলার করে পাবেন। এটাকে বলা হবে ট্রাম্প ডিভিডেন্ড। তিনি আরও দাবি করেন, দেশের বিপুল অর্থনৈতিক শক্তি এবং সাফল্যের কারণেই তিনি এই অর্থ বিতরণ করতে চান।

ডালাসের মহাসমাবেশে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, যদি রিপাবলিকানরা হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস এবং মার্কিন সিনেট উভয় কক্ষেই জয়ী হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সব প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে আমি ৫ হাজার ডলারের ডিভিডেন্ড প্রদান করব। তবে আমার একমাত্র শর্ত হলো, এই অর্থ অবশ্যই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই খরচ করতে হবে।

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা ট্রাম্পের এই বিশাল অর্থ প্রদানের প্রস্তাবকে আর্থিক ও রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ অসম্ভব এবং অবাস্তব বলে বর্ণনা করছেন। দেশের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে এই অর্থ দিতে গেলে সরকারের খরচ হবে অন্তত ১ ট্রিলিয়ন (এক লাখ কোটি) ডলারেরও বেশি। কিন্তু এই বিপুল পরিমাণ অর্থ কোথা থেকে আসবে বা কীভাবে তহবিল সংগ্রহ করা হবে, সে বিষয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট করে কিছুই জানাননি। শুধু এটুকু দাবি করেছেন, আমাদের দেশ এখন বিপুল পরিমাণে অর্থ উপার্জন করছে।

জরিপের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেন, ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে তার দল কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই নিজেদের কর্তৃত্ব ধরে রাখতে পারবে। ডেলিপোর্ট ও সমর্থকদের উৎসাহ দিতে তিনি বারবার অনুরোধ জানান, তারা যেন ধরে নেন নির্বাচনে ট্রাম্প নিজেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি বলেন, আমি আপনাদের কাছে অনুরোধ করছি, ধরে নিন যে আমি ব্যালটে আছি। আমিই ব্যালটে আছি, আমিই ব্যালটে আছি; শুধু আর একটি বারের জন্য।

সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি এবং ইরানে ট্রাম্পের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে সাধারণ জনগণের মধ্যে অসন্তোষ তীব্র হয়েছে। জনমত জরিপ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর নাগরিকদের সমর্থনের হার নেমে এসেছে ৩০-এর কোঠায়।

ডিসিশন ডেস্ক এইচকিউ-এর সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, নভেম্বরের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদে ২৩০-২০৫ আসনে এবং সেনেটে ৫১-৪৯ আসনে জয়ী হয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে।