ভিশন ২০৩০-এর আওতায় খনিজ সম্পদ ও পারমাণবিক শক্তির সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে সৌদি আরবের মদিনা অঞ্চলে প্রায় ১১ কোটি (১১০ মিলিয়ন) টন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ খনিজ আকরিকের সন্ধান পাওয়া গেছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ৭০তম সাধারণ সম্মেলনে সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রী যুবরাজ আব্দুলআজিজ বিন সালমান এই ঐতিহাসিক আবিষ্কারের ঘোষণা দেন।
জ্বালানি মন্ত্রী জানান, মদিনার 'জাবল সায়েদ' প্রকল্পের অধীনে পরিচালিত ভূতাত্ত্বিক জরিপ ও অনুসন্ধানে এই খনির সন্ধান মেলে। এই আকরিকগুলোতে ভারী উপাদানসহ দুর্লভ মৃত্তিকা খনিজের (রেয়ার আর্থ মিনারেল) উচ্চ ঘনত্ব রয়েছে এবং সেই সাথে ইউরেনিয়ামের প্রতিশ্রুতিশীল উপস্থিতি চিহ্নিত করা হয়েছে।
সৌদি আরব তাদের 'ভিশন ২০৩০' পরিকল্পনার মাধ্যমে অর্থনীতিকে বহুমুখী করতে জাতীয় জ্বালানি মিশ্রণে পারমাণবিক শক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করার কাজ দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে। তবে, আকরিকগুলোতে ইউরেনিয়ামের সুনির্দিষ্ট ঘনত্ব কত তা মন্ত্রী প্রকাশ করেননি। ফলে এই খনি থেকে ঠিক কত পরিমাণ খাঁটি ইউরেনিয়াম নিষ্কাশন করা সম্ভব হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।
যুবরাজ আব্দুলআজিজ জানান, সৌদি আরব ইউরেনিয়াম অনুসন্ধানের পাশাপাশি অন্যান্য শিল্প প্রক্রিয়া থেকে ইউরেনিয়াম আহরণের প্রযুক্তি নিয়েও কাজ করছে। দেশের উত্তরাঞ্চলের ফসফেট সার শিল্পে উৎপাদিত ফসফরিক অ্যাসিড থেকে ইউরেনিয়াম নিষ্কাশনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। ফরাসি প্রতিষ্ঠান 'ওরানো'-এর সাথে পরিচালিত পরীক্ষামূলক কাজে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক পন্থায় ইউরেনিয়াম আহরণের ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
সৌদি আরব কেবল অপ্সরিত কাঁচামাল রপ্তানির ওপর নির্ভর না করে অনুসন্ধান, খনন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও শোধনের মাধ্যমে একটি সমন্বিত শিল্প অবকাঠামো গড়ে তুলতে চায়। এর অংশ হিসেবে ফসফেট, সোনা, তামা, দস্তা এবং অন্যান্য মূল্যবান খনিজ সম্পদ উন্নয়নে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব জোরদার করা হচ্ছে।
সম্মেলনে জ্বালানি মন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন যে, পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি)-র অধীনে পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের পূর্ণ অধিকার সৌদি আরবের রয়েছে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নির্দেশিকা মেনে একটি নিরাপদ ও টেকসই পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তুলছে রিয়াদ।
অন্যদিকে, ভিয়েনায় মার্কিন জ্বালানি সচিবের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে যে, সৌদি আরবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কোনো পরিকল্পনা এই মুহূর্তে নেই।
উল্লেখ্য, ইউরেনিয়াম মূলত পারমাণবিক বিদ্যুৎ চুল্লির জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত আইসোটোপ উৎপাদন ও গবেষণাতেও এর ব্যবহার রয়েছে।