২৫ জুলাই ২০২৬

লন্ডনের হোটেলের বাথরুমে ২৯ বছর বয়সী সৌদি যুবরাজের মৃত্যু

প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ২৪, ২০২৬
লন্ডনের হোটেলের বাথরুমে ২৯ বছর বয়সী সৌদি যুবরাজের মৃত্যু

যুক্তরাজ্যের লন্ডনের একটি পাঁচতারা হোটেলে ২৯ বছর বয়সী এক সৌদি যুবরাজের মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

যুক্তরাজ্যের মৃত্যু তদন্তকারী কর্মকর্তা 'করোনা'র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্রাতিরিক্ত অ্যালকোহল, পার্টি ড্রাগস এবং উদ্বেগ কমানোর ওষুধের মারাত্মক মিশ্রণের কারণে হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে (কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট) তার মৃত্যু হয়েছে। তদন্তে হত্যা বা আত্মহত্যার কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় একে ‘দুর্ঘটনাবশত মৃত্যু’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

মৃত ওই যুবরাজের নাম আবদুল্লাহ বিন ফাহাদ বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ বিন জালাউয়ি আল সৌদ। গত বছরের ২৫ নভেম্বর লন্ডনের কেনসিংটন এলাকার ম্যারিয়ট হোটেলের একটি কক্ষের বাথরুম থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।

পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা তালাবদ্ধ কক্ষটি খোলার পর তাকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে জরুরি চিকিৎসকেরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত মৃত ঘোষণা করেন। এর আগে ১৯ নভেম্বর এক সপ্তাহের জন্য ওই হোটেলে উঠেছিলেন তিনি।

ইনার ওয়েস্ট লন্ডন করোনারস কোর্টের তদন্তে যুবরাজের শরীরে মারাত্মক মাত্রায় নেশাজাতীয় দ্রব্যের উপস্থিতি পাওয়া যায়। বিষতত্ত্ব পরীক্ষায় দেখা যায়, তার রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা ছিল ১০০ মিলিলিটারে ২২২ মিলিগ্রাম, যা ইংল্যান্ডে গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে নির্ধারিত বৈধ মাত্রার চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি। এর পাশাপাশি তার শরীরে ‘জিএইচবি’ নামের পার্টি ড্রাগ, গাঁজার আলামত এবং জ্যানাক্সসহ (অ্যালপ্রাজোলাম) উদ্বেগ কমানোর বিভিন্ন ওষুধের বিপজ্জনক মাত্রার উপস্থিতি পাওয়া যায়।

ময়নাতদন্তে যুবরাজের কোনো দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক অসুস্থতার খোঁজ মেলেনি। চিকিৎসকদের মতে, মদ ও একাধিক ওষুধের এই বিষাক্ত মিশ্রণই তার মৃত্যুর মূল কারণ।

তবে এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যা নাকি আত্মহত্যা, সে বিষয়েও বিস্তারিত তদন্ত করেছে পুলিশ। হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মৃত্যুর আগের দিন সন্ধ্যায় যুবরাজ একা হোটেলের বাইরে ধূমপান করতে গিয়েছিলেন এবং একাই নিজ কক্ষে ফিরে আসেন।

কক্ষে অন্য কারও প্রবেশের প্রমাণ না পাওয়ায় তৃতীয় পক্ষের সম্পৃক্ততার সন্দেহ বাতিল করা হয়। এ ছাড়া কক্ষ থেকে কোনো চিরকুট বা ‘সুইসাইড নোট’ উদ্ধার হয়নি।

সহকারী করোনার জিন হারকিন তার রায়ে বলেন, ‘যুবরাজ আবদুল্লাহ নিজের জীবন শেষ করতে চেয়েছিলেন, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একাধিক মাদকের বিক্রিয়ায় দুর্ঘটনাবশত তার মৃত্যু হয়েছে।’

শুনানিতে উপস্থাপন করা চিকিৎসা সনদের তথ্যমতে, মৃত্যুর আগে থেকেই এই সৌদি যুবরাজ মাদকাসক্তি ও মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। গত বছরের আগস্টে তিনি লন্ডনের একটি রিহ্যাবে ভর্তি হয়ে অ্যালকোহল ও ওষুধের আসক্তি কাটানোর চিকিৎসা নেন।

পরে অক্টোবরে অন্য একটি ক্লিনিক থেকে চিকিৎসা শেষে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। তখন চিকিৎসকেরা তাকে মানসিক অবসাদমুক্ত জানালেও, পরবর্তী সময়ে তিনি চিকিৎসকদের নির্ধারিত অনলাইন ফলোআপ সেশনগুলোতে আর অংশ নেননি।

যুবরাজের মৃত্যুর কয়েক দিন পর ২ ডিসেম্বর সৌদি আরবের রয়্যাল কোর্ট আনুষ্ঠানিকভাবে তার মৃত্যুর খবর প্রকাশ করে। রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানায়, আবদুল্লাহ ছিলেন অত্যন্ত শান্তশিষ্ট ও পরোপকারী একজন মানুষ।

রিয়াদের ইমাম তুর্কি বিন আবদুল্লাহ মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে রাজপরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্য ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তুরস্কে স্রোতে ভেসে প্রাণ হারালেন সৌদি পর্যটক

প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ২৪, ২০২৬
তুরস্কে স্রোতে ভেসে প্রাণ হারালেন সৌদি পর্যটক

তুরস্কের উত্তর অঞ্চলের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা ত্রাবজোন প্রদেশের উজুনগোলে (Uzungöl) এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় এক সৌদি নাগরিক প্রবাল পানির স্রোতে ভেসে গিয়ে ডুবে মারা গেছেন। সকল আইনি ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষে তাঁর মরদেহ জন্মভূমি সৌদি আরবে ফেরত পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মর্মান্তিক দুর্ঘটনার বিবরণ ও উদ্ধারকাজ
তুর্কি স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্যের জন্য পরিচিত উজুনগোল পরিদর্শনের সময় অসাবধানতাবশত বা প্রবল আকস্মিক পানির তোড়ে প্রবাল স্রোতে ভেসে যান ওই সৌদি ব্যক্তি। পরবর্তীতে স্থানীয় উদ্ধারকারী দল ও কর্তৃপক্ষের সহায়তায় তাঁর লাশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

মৃতদেহ স্থানান্তর ও আঙ্কারাস্থ সৌদি দূতাবাসের পদক্ষেপ
দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই তুরস্কে অবস্থিত সৌদি রিয়্যাল দূতাবাস বিশেষ জরুরি দল গঠন করে তদন্ত শুরু করে এবং তুর্কি প্রশাসনের সাথে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপন করে:

মরদেহ ইস্তাম্বুলে স্থানান্তর: প্রয়োজনীয় স্থানীয় চিকিৎসাসংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহটি ত্রাবজোন থেকে বিমানযোগে ইস্তাম্বুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

সৌদি দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে ইস্তাম্বুল থেকে বিমানযোগে মরহুমের মরদেহ নিজ দেশ সৌদি আরবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

দূতাবাসের কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং মরদেহ পরিবহনসহ পরিবারটির সার্বিক প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক সহায়তার নিশ্চায়ন করেছেন।

সৌদিতে ১৬ লাখ রিয়াল ঘুষ নিতে গিয়ে কর্মকর্তা আটক

প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ২৪, ২০২৬
সৌদিতে ১৬ লাখ রিয়াল ঘুষ নিতে গিয়ে কর্মকর্তা আটক

ঘুষ, ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রতারণা ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী ও সরকারি কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে সৌদি আরবের দুর্নীতি দমন কর্তৃপক্ষ ‘নাজাহা’।

এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা হলো- স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মী একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে অন্যায়ভাবে সরকারি প্রকল্প পাইয়ে দেওয়ার চুক্তিতে কিস্তিতে নয় লাখ রিয়াল ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে আটক হয়েছেন। এছাড়া জেদ্দা ইসলামিক বন্দরে এক সৌদি ব্যবসায়ী প্রায় এক কোটি ৪০ লাখ রিয়ালের শুল্ক ফাঁকি দিতে ১৬ লাখ রিয়াল ঘুষ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে গ্রেপ্তার হন।

কাস্টমস ছাড়াও স্বাস্থ্য, জ্বালানি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরগুলোতেও দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর প্রমাণ মিলেছে। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পে কর্মরত এক ব্যক্তি একটি প্রতিষ্ঠানকে ১৫ লাখ রিয়ালের জরিমানা থেকে বাঁচাতে দুই লাখ রিয়াল ঘুষ গ্রহণ করেন। প্রবাসীদের লেনদেন ও আমদানি করা পণ্যের ছাড়পত্রে অবৈধ পরিবর্তন আনার অভিযোগে পাসপোর্ট ও শুল্ক কর্তৃপক্ষের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

দুর্নীতি বিরোধী এই অভিযানে সরকারি বিভিন্ন পর্যায়ের আরও বেশ কয়েকজন অসাধু কর্মী ধরা পড়েছেন। এদের মধ্যে পৌরসভা, মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতের কর্মীরা রয়েছেন, যারা টাকার বিনিময়ে সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন ছাড়পত্র দিয়েছেন।

এমনকি ঘরে বসে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও মেডিকেল রিপোর্ট তৈরি করে দেওয়া, ভুয়া সনদে প্রবাসীদের স্পনসরশিপ বদলানো এবং মন্ত্রণালয়ের গুদাম থেকে কম্পিউটার চুরির মতো গুরুতর অপরাধও প্রকাশ্যে এসেছে।

ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিলেই মিলবে পারমাণবিক প্রযুক্তি: সৌদি আরবকে ট্রাম্পের বার্তা

প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ২৪, ২০২৬
ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিলেই মিলবে পারমাণবিক প্রযুক্তি: সৌদি আরবকে ট্রাম্পের বার্তা

বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি বিকাশের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের সই করা ঐতিহাসিক চুক্তিটি অনুমোদন পাওয়ার আগেই নতুন শর্ত জুড়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি কার্যকর হবে কি না, তা পুরোপুরি নির্ভর করবে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের ওপর।

বৃহস্পতিবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, এ চুক্তি বেসামরিক কাজে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের জন্য। তবে এটি পুরোপুরি নির্ভর করবে সৌদি আরবের আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দেওয়ার ওপর। এ চুক্তির মাধ্যমে আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর একদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ ঘোষণা দেয়, ওয়াশিংটন ও রিয়াদ কয়েক বিলিয়ন ডলারের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি এবং একটি দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সুরক্ষা চুক্তি সই করেছে। এসব চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি চালুর পথ তৈরি হবে। তবে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এটি কার্যকর করতে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের অনুমোদনও প্রয়োজন।

ট্রাম্পের নতুন বক্তব্যে চুক্তি নিয়ে আরো ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। কারণ আগে ঘোষিত চুক্তিতে সৌদি আরবের ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কোনো শর্ত প্রকাশ্যে উল্লেখ করা হয়নি। এ বিষয়ে সৌদি আরবও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

মার্কিন কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, এ চুক্তির আওতায় সৌদি আরব নিজ দেশে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ (এনরিচ) করতে পারবে, অর্থাৎ বিদেশ থেকে পারমাণবিক জ্বালানি আমদানি না করে নিজেরাই তা উৎপাদন করবে, কিন্তু বৃহস্পতিবার ট্রাম্প এ দাবি অস্বীকার করে লিখেছেন, কোনো ধরনের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ হবে না। তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বেসামরিক (অসমৃদ্ধ) পারমাণবিক স্থাপনার বিরোধী নয়।

পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) অনুযায়ী, শান্তিপূর্ণ কাজে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা নিষিদ্ধ নয়। তবে একই প্রযুক্তি উচ্চমাত্রায় ব্যবহার করলে তা দিয়ে পারমাণবিক অস্ত্রও তৈরি করা সম্ভব।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল দীর্ঘদিন ধরে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচিকে নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরেছে। যদিও তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না, বরং শান্তিপূর্ণ কাজে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা তাদের সার্বভৌম অধিকার। অন্যদিকে তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমাতে দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি আরব বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থা। কয়েকজন মার্কিন আইনপ্রণেতারও আশঙ্কা, সৌদিকে যদি নিজ দেশে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি দেওয়া হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে। এতে ইরানও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে আরো এগোতে উৎসাহিত হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তারা।

এদিকে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের পরিকল্পনার বিষয়ে তারা অবগত রয়েছে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তদারকির কোনো আবেদন তাদের কাছে আসেনি। সংস্থাটি জানিয়েছে, আবেদন পেলে তারা প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

ওয়াশিংটন থেকে আলজাজিরার প্রতিবেদক মাইক হান্না বলেছেন, ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্যে চুক্তি নিয়ে আরো অনেক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তার মতে, ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়টি আগের ঘোষিত চুক্তির অংশ ছিল বলে মনে হচ্ছে না। ফলে বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেসেও ব্যাপক আলোচনা হতে পারে।

২০২০ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে সই করে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে। পরে মরক্কো ও সুদানও এ চুক্তিতে যোগ দেয়, যদিও সুদান এখনো আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেয়নি।

গাজায় চলমান সংকটের পর এসব দেশের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ক আগের তুলনায় অনেকটাই শীতল হয়ে পড়েছে। এরপরও ট্রাম্প প্রশাসন এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি আরবকে আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দিতে উৎসাহিত করে আসছে।

লোহিত সাগরে ২টি সৌদি ট্যাংকারে হামলার দাবি হুথির

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৩, ২০২৬
লোহিত সাগরে ২টি সৌদি ট্যাংকারে হামলার দাবি হুথির

ইরানের ওপর টানা দ্বাদশ রাতের মতো বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এরপরই লোহিত সাগরে দুটি সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার দাবি করেছে, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। তারা আনুষ্ঠানিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

এদিকে, নতুন করে চালানো মার্কিন হামলায় দক্ষিণ ইরানে অন্তত দুইজন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে সেদেশের রাষ্ট্রীয় মাধ্যম। এর পরপরই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার কথা জানিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)।

হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারে জানিয়েছেন, নৌশ অবরোধ লঙ্ঘনের দায়ে এনসেলিয়া ও লায়লা নামের দুটি সৌদি তেল ট্যাংকারকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। ব্রিটিশ সামুদ্রিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সংস্থা ভ্যানগার্ডও সৌদি ট্যাংকার এনসেলিয়া আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

যুক্তরাজ্য সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা সংস্থা জানিয়েছে, সৌদি আরবের আল শুকাইক উপকূল থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে একটি অজানা বস্তু একটি ট্যাংকারে আঘাত হানলে আগুন ধরে যায়, তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এর আগে হুথি সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধের দেয়।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ইরানের সক্ষমতা কমিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনায় এ হামলা পরিচালিত হয়েছে। মার্কিন পদক্ষেপের জবাবে ইরান বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত আমেরিকান লক্ষ্যবস্তুগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তাদের ওপর যেকোনো হামলার কড়া ও সমপরিমাণ জবাব দেওয়া হবে।

সূত্র: বিবিসি

এক বছর মেয়াদি মাল্টিপল-এন্ট্রি উমরাহ ভিসা চালু সৌদির

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুলাই ২১, ২০২৬
এক বছর মেয়াদি মাল্টিপল-এন্ট্রি উমরাহ ভিসা চালু সৌদির

উমরাহ পালনে ইচ্ছুক মুসল্লিদের জন্য দারুণ এক সুখবর দিল সৌদি আরব। এখন থেকে এক ভিসাতেই একাধিকবার উমরাহ পালনের সুযোগ মিলবে। দেশটির হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয় এক বছর মেয়াদি নতুন যে ‘মাল্টিপল-এন্ট্রি উমরাহ ভিসা’ চালু করেছে, তার আওতায় প্রতিবার ভ্রমণে একটানা সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত সৌদি আরবে অবস্থান করা যাবে।

সৌদি প্রেস এজেন্সির তথ্য অনুসারে, এই ভিসার মেয়াদ ইস্যুর দিন থেকে ৩৬৫ দিন পর্যন্ত থাকবে। তবে দেশটিতে প্রবেশের আগে দর্শনার্থীদের অবশ্যই ‘নুসুক’ (Nusuk) প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অনুমোদিত সেবাদাতাদের কাছ থেকে একটি প্যাকেজ কিনতে হবে। পাশাপাশি, এই অ্যাপ থেকেই উমরাহ পালনের অনুমতি বা পারমিট সংগ্রহ করতে হবে। পারমিটের তারিখ ও প্যাকেজের সময়সীমা অবশ্যই এক হতে হবে।

একবার উমরাহ পালন করে দেশে ফেরার পর ভিসার কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে। পরবর্তী যাত্রার জন্য ভিসাটি পুনরায় সচল করতে হলে নুসুক অ্যাপ থেকে নতুন করে প্যাকেজ ও পারমিট নিতে হবে। তবে মনে রাখতে হবে, হজ মৌসুম অর্থাৎ ১ জিলকদ থেকে ১৩ জিলহজ পর্যন্ত এই ভিসা সুবিধা বন্ধ থাকবে।

মূলত উমরাহ যাত্রাকে আরও সহজ ও ডিজিটাল করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত বছরের আগস্টে নুসুক প্ল্যাটফর্মে উমরাহ ভিসা সেবা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করে সৌদি আরব। এর আওতায় জিসিসিভুক্ত দেশের নাগরিকরা আগে থেকেই এক বছর মেয়াদি এই মাল্টিপল-এন্ট্রি সুবিধা পাচ্ছিলেন।

এছাড়া প্রতারণা এড়াতে নুসুক পোর্টালে ‘প্যাকেজ ভিসা’ নামে একটি দারুণ বিকল্প রয়েছে। সেখানে আবাসন, ব্যক্তিগত যাতায়াত ও দর্শনীয় স্থান ঘোরার সুবিধাসহ লাইসেন্সপ্রাপ্ত সেবাদাতাদের তালিকা দেওয়া আছে, যাতে সাধারণ যাত্রীরা প্রতারণার শিকার না হন। সূত্র: এনডিটিভি