২০ অক্টোবর ২০২৬

সৌদিতে ধরপাকড় অভিযান, প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য কতটা উদ্বেগের?

প্রকাশ: মঙ্গলবার, আগস্ট ০৪, ২০২৬
সৌদিতে ধরপাকড় অভিযান, প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য কতটা উদ্বেগের?

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবের কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান নাডিক কোম্পানিতে কাজ পাবেন, এমন নিশ্চয়তায় পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে দালালের মাধ্যমে সৌদি আরবের রিয়াদে যান ঢাকার কামরাঙ্গীর চরের বাসিন্দা মো. আরিফ হোসেন। রিয়াদে পৌঁছে সেখানে থাকা আরেকজন দালালকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা দেন তিনি।

আরিফ হোসেনের মত এমন আরো বেশ কয়েকজন বাংলাদেশিকে রিয়াদে অবস্থিত একটি স্থানে থাকার জায়গা দেন দালাল। তবে রিয়াদে যে কাজের কথা দেওয়া হয়েছিল সেই কাজ পাননি তিনি। বেশ কিছুদিন বসে থাকার পরে মক্কায় গিয়ে অন্য কাজে যোগ দেন আরিফ হোসেন।

কিন্তু এরপরই সৌদি আরবের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচালিত অভিযানে গ্রেপ্তার হন তিনি। ফলে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ টাকা খরচ করলেও কিছুই আয় করতে পারেননি বলে জানান।

তিনি বলেন, নাডিকে কাজ দেয় নাই, এক মাস চইলা যায় কাজ দেয় নাই। পরে বাধ্য হইয়া মক্কায় যাই অন্য কাজ নিয়া। জুলাইয়ের চার তারিখে পুলিশ (সৌদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী) ধরছিল, ১৬-১৭ দিন জেল খাটছি। এরপর ২২ জুলাই দেশে আসছি।

তবে শুধু আরিফ হোসেনই নন, এই তালিকায় আরো হাজারো প্রবাসী রয়েছেন। দেশটিতে গত কয়েক মাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দফায় দফায় অভিযানে অন্তত ৪০ হাজার প্রবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। যাদের মধ্যে বাংলাদেশিরাও রয়েছেন।

আবাসন, শ্রম এবং সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাদের ফেরত পাঠিয়েছে বলে ওই সময় প্রকাশিত গালফ নিউজের সংবাদে জানানো হয়। একইসঙ্গে, জুন মাস থেকে চলা এসব অভিযানে ৩০ হাজারের বেশি প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

আর সবশেষ ২৩ থেকে ২৯ জুলাই এই অভিযানে সাড়ে ১২ হাজারের বেশি প্রবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়; যাদের মধ্যে বাংলাদেশিরাও রয়েছেন। যদিও সৌদি আরবের জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল কার্যালয়ে নিযুক্ত কনসুলার (শ্রম) খন্দকার সিরাজুস সালেকিন বলছেন, নিয়ম-কানুন ভঙ্গ না করলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আতঙ্কের কিছু নেই। এক কাজের জন্য গিয়ে অন্য কাজ করার মতো ঘটনায় আইন লঙ্ঘন হয়। যারা এসব বিষয়ে সচেতন থাকবেন তাদের ভয়ের কিছু নেই।

সৌদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই অভিযান নিয়মিত অভিযানেরই অংশ বলেও জানিয়েছেন তিনি।

• অভিযান নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্বেগের কারণ আছে কী?
গালফ নিউজের তথ্য বলছে, গত ২৩ জুলাই থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত এক সপ্তাহে পরিচালিত যৌথ তল্লাশি অভিযানে ১২ হাজার ৬১৩ জন প্রবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে সৌদি আরব। একইসঙ্গে, ১৪ হাজার ১৫৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এর মধ্যে, আবাসন আইন ভঙ্গের অপরাধে ৭ হাজার ১০৩, শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৩ হাজার ৩৯৭ জন এবং সীমান্ত নিরাপত্তা অভিযোগে ৩ হাজার ৬৫৪ জনকে এই অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সৌদি আরবের মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে গালফ নিউজের এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব অপরাধে ৩০ হাজার ৬৭৯ জন প্রবাসীর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তাদের মধ্যে ১৭ হাজার ৯০৩ জনকে ভ্রমণের কাগজপত্রের জন্য নিজ নিজ কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে এবং পাঁচ হাজার ৪২৪ জন দেশ ছাড়ার আগে ভ্রমণের চূড়ান্ত প্রস্তুতি শেষ করছেন বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয় সতর্ক করেছে, কেউ যদি অবৈধভাবে দেশটিতে প্রবেশ করতে চায়, পরিবহন করা বা নিয়ম ভঙ্গকারীদের লুকিয়ে থাকতে সাহায্য করে, তাহলে তার সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হবে। একইসঙ্গে, ১০ লাখ রিয়েল বা প্রায় দুই লাখ ৬৬ হাজার ৬০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত জরিমানাও করা হতে পারে।

এছাড়া অপরাধে ব্যবহৃত গাড়ি ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত এবং জনসম্মুখে নাম প্রকাশের মতো কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করেছে সৌদি আরব। তবে, ওই সাড়ে ১২ হাজারের মধ্যে কত সংখ্যক বাংলাদেশি রয়েছেন সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এই অভিযানের তথ্য সর্বশেষ তথ্য হলেও গালফ নিউজের সংবাদ ঘেঁটে দেখা যায়, এই দফার অভিযান শুরু হয়েছে ১৮ জুন থেকে ২৪ জুন। সৌদি আরবের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জুলাই মাসে দুই দফায় অভিযান চালায়।

এর মধ্যে ১৬ থেকে ২২ জুলাই এবং ২৩ থেকে ২৯ জুলাই সবশেষ অভিযানে দেশটির আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর আগে, ৭ মে থেকে ১৩ মে এক সপ্তাহব্যাপী সৌদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন ভঙ্গের অভিযোগে ১১ হাজার ২৭২ অবৈধ প্রবাসীদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠায় দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

তবে, জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল নিযুক্ত কনসুলার(শ্রম) খন্দকার সিরাজুস সালেকিন জানান, গত সপ্তাহের সর্বশেষ এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে চার হাজার বাংলাদেশি জেদ্দার তারহিলের সফর জেলে রয়েছেন। অর্থাৎ বাংলাদেশে ফেরার জন্য সেখানে রয়েছেন তারা।

এছাড়া আরো প্রায় সাড়ে তিন হাজার বাংলাদেশি সৌদি আরবের আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে দেশটির কারাগারে রয়েছেন। তবে, তাদের প্রত্যেকেই যে জুন থেকে শুরু হওয়া অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন সেটি নয়। এই গ্রেপ্তারকৃত ও সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে এই সময়ের আগের প্রবাসী বাংলাদেশিও রয়েছেন বলে জানান তিনি।

তবে সালেকিন বলছেন, সৌদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই অভিযান একটি নিয়মিত ঘটনা। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি, হজ মৌসুমসহ সামগ্রিক প্রেক্ষাপট মনিটরিং করে সৌদির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান পরিচালনা করে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, এটা একটা রেগুলার প্রসেসে চলতে থাকে। হজ্জের সময় এটা খুব কঠোরভাবে চেক করা হয়। হজ ছাড়া অন্যান্য সময় অন্যান্য দেশের পারস্পরিক বিষয়ের সাথে রিলেট করে অভিযান পরিচালনা হয়। নানা ধরনের নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে প্রবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠায় সৌদি আরব।

এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেশটি নিয়ে নেতিবাচক পোস্ট করলেও সেটি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত এবং সৌদি আরব বিষয়টি মনিটরিং করে বলেও জানান তিনি।

এর মধ্যে, এক কাজের কথা বলে অন্য কাজে নিযুক্ত হওয়া, এক স্থানের কথা বলে অন্য স্থানে অবস্থান করা, যে মেয়াদে কাজের জন্য গিয়েছেন সেই সময় মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া অথবা সড়কে বা ফুটপাতে হকার হিসেবে পণ্য বিক্রি করা এমন নানা কারণে যারা দেশটিতে অবস্থান করছেন সৌদি কর্তৃপক্ষের অভিযানে তাদেরই গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এটা একটা নরমাল প্রসিডিউর। এখানকার কিছু রুলস আছে। আপনি যেই কাজে আসছেন সেই কাজেই থাকতে হবে। দেখা যাচ্ছে আপনি আসছেন এক কাজে এসে আপনি এখানে বিজনেস করছেন।

‌‌‘‘এক জায়গার ইকামা নিয়ে আরেক জায়গায় কাজ করা যায় না। ধরুন, একজনের ইকামাতে জব লোকেশনটা রিয়াদ কিন্তু তিনি জেদ্দা বা মক্কায় আছেন এক্ষেত্রে রেসিডেন্স ভায়োলেশন হয়। অর্থাৎ যখন ইকামার সাথে আপনার ন্যাচার অফ ওয়ার্কের কনক্লুয়েন্সি বা চূড়ান্ত রূপ পাওয়া যাচ্ছে না তখন অভিযানে ধরছেন তারা।’’

সাধারণত এসব কারণেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশে ফেরত পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন তিনি। এছাড়া, অভিযানে গ্রেপ্তার হয়ে জেলে যাওয়ার পর যখন তিনি ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেন উনার নামে যদি কোনো মামলা হয় বিশেষ করে আর্থিক মামলা হয় তখন ওনার ট্রাভেল ব্যানড করে রাখা হয়। যতক্ষণ না পর্যন্ত ট্রাভেল ব্যানের টাকা পরিশোধ করা না যায় ততক্ষণ উনি নিজ দেশে যেতে পারেন না, বলেন কনসুলার সালেকিন।

গত ২৮ মে থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত সৌদি আরব থেকে হজ্জ ফেরত ফ্লাইট শিডিউল ছিল। সে সময় ফ্লাইট স্বল্পতায় যারা বাংলাদেশে ফিরতে পারেননি তারাও সেখানে অবস্থান করেছেন জুলাইয়ে অভিযানের ওই সময়ে।

সেইসব বাংলাদেশিদের দেশে পাঠাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তিনটি বাড়তি ফ্লাইটের ব্যবস্থা করেছিল। জেদ্দায় বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল কার্যালয়ে নিয়োজিত কনসু্লার(শ্রম) খন্দকার সিরাজুস সালেকিন জানান, ২৬ ও ২৭ জুলাই প্রায় ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ জনকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

যেসব প্রবাসী বাংলাদেশি আবাসন, চাকরি বা সৌদি আরবের বিভিন্ন আইন ভঙ্গ করেছেন জুলাইয়ে সৌদি আরবের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে কেবল তাদেরই গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান এই কনসুলার।

সৌদি আরবের রুলস-রেগুলেশনস মেনে চললে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য আতঙ্কের কিছু নেই। তিনি বলেন, তারা যদি সৌদি রুলস, রেগুলেশনস মেনে চলেন এবং যে যেখানে কাজে আছেন সেখানে ঠিকমতো কাজ করেন রুলস ভায়োলেশন না করেন, তাহলে ইনশাল্লাহ কোনো ভয়ের কিছু নেই।

সৌদি আরবে প্রায় ৩৭ থেকে ৩৮ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি এখন বসবাস করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখনো সৌদি আরবের শ্রম বাজার বাংলাদেশি লেবার মার্কেটের ওপর অনেকটাই ডিপেন্ডেন্ড। এ কারণেই সৌদি আরবে অবস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিজের ইকামা দিয়ে অন্য কাউকে সাহায্য না করার মতো ঘটনার বিষয়ে আরো সচেতন হতে আহ্বান জানিয়েছেন জেদ্দা কনসুলেটের কনসুলার(শ্রম) খন্দকার সিরাজুস সালেকিন।

• সৌদি আরবে বাংলাদেশের শ্রমবাজারের অবস্থা কী?
সত্তরের দশক থেকে সৌদি আরবের শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের প্রবেশ শুরু হয়। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রম বাজার সৌদি আরব। বাংলাদেশের জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে মোট ১১ লাখেরও বেশি মানুষ কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশ গিয়েছেন। যার মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি মানুষই সৌদি আরবে গেছেন।

২০২৫ সালে সৌদি আরবে রেকর্ড সংখ্যক কর্মী পাঠিয়েছে বাংলাদেশ, এই সংখ্যা তার আগের বছরের ১৬ শতাংশ বেড়েছে গতবছর। অর্থাৎ সাত লাখ ৫০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি কর্মী গত বছর কর্মসংস্থানের জন্য দেশটিতে গিয়েছেন।

আর ২০২৪ সালে প্রায় ছয় লাখ ২৮ হাজার বাংলাদেশি সৌদি আরবে গিয়েছেন। কোনো একটি নির্দিষ্ট দেশে এক বছরে জনশক্তি পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী সৌদি আরবই সর্বোচ্চ রেকর্ড। এর পরের অবস্থানে রয়েছে কাতার, দেশটিতে গত বছর এক লাখ ৪৭২ হাজার কর্মী পাঠিয়েছে বাংলাদেশ।

এছাড়া বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে সিঙ্গাপুর যেখানে ৭০ হাজার ৫৬ জন এবং কুয়েতে ৭২ হাজার ৭১৭ জনকে পাঠানো হয়েছে।

অবশ্য সৌদি আরবে পাঠানো কর্মী সংস্থার তুলনায় অন্যান্য দেশে এই হার খুবই কম। এ বছরের জানুয়ারিতে প্রকাশিত নিউজ অব বাহরাইন পত্রিকার এক খবরে বলা হয়েছে, সৌদি আরবে বসবাসরত ৩৫ লাখ প্রবাসীর প্রতি বছর পাঁচ বিলিয়ন ডলার বা পাঁচশো কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠান বাংলাদেশে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের আগের রেকর্ড ভেঙ্গে প্রথমবারের মতো দেশের রেমিট্যান্স ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল বলে এই বছরের ৫ জানুয়ারি প্রকাশিত বাসসের এক খবরে বলা হয়েছে।

গত বছরের অক্টোবরে বাংলাদেশ সৌদি আরবের সঙ্গে জনশক্তি রপ্তানির একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। যেটি দুই দেশের ৫০ বছরের কূটনৈতিক সম্পর্কের ইতিহাসে প্রথম চুক্তি। এই চুক্তির ফলে কর্মীদের সুরক্ষা, বেতন পরিশোধ, কল্যাণ এবং স্বাস্থ্যসেবার মান আরো উন্নত হবে।

নিউজ অব বাহরাইন পত্রিকা বলছে, এখন তাকামোল যাচাইকরণ কর্মসূচির মাধ্যমে দক্ষ কর্মী নিয়োগের দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সৌদি আরব। একইসঙ্গে, সৌদি আরবের বিশেষ ভিশন ২০৩০ প্রকল্পের অধীনে খনি ও নির্মাণ খাতে নতুন করে আরো কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। এই প্রকল্পের অধীনে ২০২৬ সালে নতুন একটি কর্মসংস্থান চুক্তির আওতায় আরো তিন লাখ বাংলাদেশির কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইয়েমেন যুদ্ধে ফিরছে আমিরাত, সৌদি আরবের সঙ্গে সমঝোতা

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
ইয়েমেন যুদ্ধে ফিরছে আমিরাত, সৌদি আরবের সঙ্গে সমঝোতা
ছবি: দ্য ক্রেডলের সৌজন্যে

ইয়েমেন সংঘাতে আবারও সম্পৃক্ত হওয়ার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এর অংশ হিসেবে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ইরান-সমর্থিত হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সরকারি বাহিনীকে পুনরায় অর্থায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে ইয়েমেনের বিভিন্ন সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। অন্যদিকে, হুতিবিরোধী বাহিনীকে বিমান সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছে সৌদি আরব।

ইয়েমেনের ভবিষ্যৎ নিয়ে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য কমতে শুরু করার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে এই সহযোগিতাকে। প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর শাসকদের উদ্বেগের অন্যতম কারণ হুতিদের ক্রমবর্ধমান সামরিক অগ্রযাত্রা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরব নিয়মিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়ছে। এসব হামলায় দেশটির বিমানবন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামোর কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি বাহিনী আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ ও অর্থায়ন পেয়েছে। এসব বাহিনীর উল্লেখযোগ্য অংশ ‘জায়ান্ট ব্রিগেড’-এর অন্তর্ভুক্ত, যাদের হুতিবিরোধী সামরিক জোটের কার্যকর শক্তিগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

তবে গত জানুয়ারিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইয়েমেন থেকে তাদের সব সামরিক সম্পদ প্রত্যাহার করে এবং আর্থিক সহায়তা বন্ধ করে দেয়। নতুন করে অর্থায়নের উদ্যোগ সেই অবস্থান থেকে সম্ভাব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা অঞ্চলটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গণভোট আয়োজনের দাবি জানিয়ে আসছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, দক্ষিণ ইয়েমেন স্বাধীন হলে ১৯৬৭ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বিদ্যমান পৃথক রাষ্ট্রের সীমানা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে। তবে এ বিষয়ে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে কোনো সুস্পষ্ট অবস্থান জানানো হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এসটিসি) বাহিনী এখনো সাবেক দক্ষিণ ইয়েমেনের সীমানার বাইরে গিয়ে লড়াই করার অনুমতি পায়নি। সৌদি আরব গণভোটের পক্ষে স্পষ্ট সমর্থন জানালে এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে, এডেনভিত্তিক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার গত সপ্তাহে রাজধানী সানার নিয়ন্ত্রণে থাকা হুতিদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযান শুরুর ঘোষণা দেয়। তবে মারিবের কাছে মাজজার এবং বাব এল-মান্দেব প্রণালির আশপাশে অভিযানটি এখন পর্যন্ত সীমিত সাফল্য পেয়েছে।

এসটিসি প্রধান আইদারুস আল-জুবাইদি ও সৌদি কর্মকর্তাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ নেই বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। গত জানুয়ারিতে দক্ষিণ ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং দুই বছরের মধ্যে স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোট আয়োজনের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। পরে জুবাইদি আবুধাবিতে পালিয়ে যান।

এর জবাবে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এসটিসি বাহিনীর জন্য পাঠানো আমিরাতের অস্ত্রের একটি চালানে বিমান হামলা চালানো হয়। এরপর সংযুক্ত আরব আমিরাত ইয়েমেনে তাদের সব কার্যক্রম থেকে সরে দাড়ানোর ঘোষণা দেয়। সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারও জুবাইদির বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগে বিচারের কথা জানায়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে আমিরাতের কর্মকর্তারা উদ্বিগ্ন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও হুতিরা সাবেক দক্ষিণ ইয়েমেনের সীমানার বাইরে অবস্থিত তাইজ ও মারিব শহর দখলের লক্ষ্য ধরে রেখেছে।

এদিকে, মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাতাহ আল-সিসি জানিয়েছেন, সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সামরিক বাহিনীকে ক্ষমতা দিতে তিনি পার্লামেন্টের জরুরি অধিবেশন আহ্বান করেছেন।

সিসি জোর দিয়ে বলেছেন, মিসর কোনো আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নেবে না। দেশটির ভূমিকা হবে সৌদি আরবকে রক্ষা করা। ইয়েমেন সংঘাতকে কেন্দ্র করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিসরের এই অবস্থান আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

নিরাপত্তা উদ্বেগে সৌদির ৯৯ তলা কিংডম সেন্টার বন্ধ ঘোষণা

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
নিরাপত্তা উদ্বেগে সৌদির ৯৯ তলা কিংডম সেন্টার বন্ধ ঘোষণা

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের ৯৯ তলাবিশিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ভবন কিংডম সেন্টারের সব অফিসকর্মীকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাধ্যতামূলকভাবে বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে এ সিদ্ধান্তের কোনো কারণ জানানো হয়নি। রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের বড় ধরনের হামলার একসপ্তাহ পর এ নির্দেশ এল।

ইরান-সমর্থিত হুথিদের সঙ্গে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার মধ্যে আবারও তীব্র হয়েছে। উভয় পক্ষ থেকেই নিয়মিত হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

সৌদি আরবে সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ২

রিয়াদের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত কিংডম সেন্টারে মেরিল লিঞ্চের মতো আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান, ব্যবস্থাপনা পরামর্শক সংস্থা ম্যাককিনজি এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কার্যালয় রয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির এক ইমেইলে ভবনটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানায়, অবিলম্বে সব অফিসকর্মীর জন্য দূর থেকে কাজ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে। এ সময়ে কর্মীদের দপ্তরে সশরীরে উপস্থিত না হতেও বলা হয়েছে। তবে ভবনটির নিচতলার শপিংমল খোলা রয়েছে।

এদিকে, স্কুলগুলোতে দূরবর্তী শিক্ষা কার্যক্রমের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। গত সপ্তাহের হামলার পর রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও এখনো বন্ধ রয়েছে।

মুসলিমদের মধ্যে ‘মোহাম্মদ’ নামের জনপ্রিয়তা নিয়ে ট্রাম্পের উপহাস

ইয়েমেন সীমান্তবর্তী নাজরান অঞ্চলে সৌদি জোটের দুই হেলিকপ্টার পাইলটের মৃত্যুর খবর প্রকাশের পরপরই কিংডম সেন্টারে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।

সৌদি জোট ঘটনাটিকে কারিগরি ত্রুটিজনিত দুর্ঘটনা বললেও হুথিরা দাবি করেছে, তারা ওই এলাকায় একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে।

সৌদি প্রেস এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি জানান, ন্যাশনাল গার্ড মন্ত্রণালয়ের একটি এএইচ-৬আই নজরদারি হেলিকপ্টার নাজরান অঞ্চলে সৌদি ভূখণ্ডের ভেতরে কারিগরি ত্রুটির কারণে বিধ্বস্ত হয়।

এতে হেলিকপ্টারের দুই কর্মকর্তা নিহত হন।

যাত্রীশূন্য শাহজালাল বিমানবন্দর, বদলে গেছে চেনা চিত্র

অন্যদিকে, শনিবার গভীর রাতে হুথি মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি দাবি করেন, তাদের যোদ্ধারা একই এলাকায় সৌদি বাহিনীর একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছেন।

সৌদি আরবে সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ২

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ১৮, ২০২৬
সৌদি আরবে সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ২

সৌদি আরবের নাজরান অঞ্চলে একটি সামরিক পর্যবেক্ষণকারী হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে চালকদলের দুই সদস্য নিহত হয়েছেন।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।ঘড়ি কিনুন

কারিগরি ত্রুটির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বিবৃতিতে জানানো হয়, সৌদি ন্যাশনাল গার্ডের মালিকানাধীন হেলিকপ্টারটি নিয়মিত টহল দেওয়ার সময় নাজরান অঞ্চলে ন্যাশনাল গার্ড মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি এলাকায় হঠাৎ কারিগরি ত্রুটির মুখে পড়ে এবং আছড়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই হেলিকপ্টারে থাকা ক্রু দলের দুই সদস্যের মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্ত চলছে বলে জানা গেছে।

সূত্র: এনডিটিভি

মদিনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

প্রকাশ: শুক্রবার, অক্টোবর ১৬, ২০২৬
মদিনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

মদিনায় হুতি বিদ্রোহীদের একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহতের দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। আজ বৃহস্পতিবার তারা এ দাবি করে বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি এক পোস্টে বলেছেন, সৌদি আরব মদিনা অঞ্চলে একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে।

এদিকে জোটটি বৃহস্পতিবার সকালে জানায়, তারা পূর্বাঞ্চলেও একটি ড্রোন প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে।

অন্যদিকে হুতি আনসার আল্লাহ আন্দোলনের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি সৌদি ভূখণ্ডে এ ধরনের কোনো হামলার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, মদিনার দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার যে অভিযোগ সৌদি আরব করেছে, তা মিথ্যা।

ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনী নিশ্চিত করেছে, তারা আজ সৌদি আরবের ভূখণ্ডে কোনো অভিযান পরিচালনা করেনি এবং মদিনায় হামলার দাবি একটি নির্লজ্জ এবং মিথ্যা অপপ্রচার।

তিনি আরও বলেন, একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল এবং সেটি নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে।

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সারি আরও দাবি করেন, সাদা প্রদেশের আকাশসীমায় ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য একটি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সৌদি আরবের একটি টাইফুন যুদ্ধবিমানে আঘাত করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিমানটিকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে এবং এটি ধ্বংস হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

বিশাল প্রতিরক্ষা বাজেটেও হুতি হামলায় দিশেহারা সৌদি আরব: সিএনএনের বিশ্লেষণ

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৫, ২০২৬
বিশাল প্রতিরক্ষা বাজেটেও হুতি হামলায় দিশেহারা সৌদি আরব: সিএনএনের বিশ্লেষণ

গত বছর প্রতিরক্ষায় ৮ হাজার ৩০০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে সৌদি আরব। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অত্যাধুনিক অস্ত্রও কিনেছে। তবু ইয়েমেনের হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন থেকে বিমানবন্দর, তেল শোধনাগার ও পাইপলাইন রক্ষায় হিমশিম খাচ্ছে দেশটি।

সিএনএনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মূল সমস্যার একটি সৌদির বিশাল ভূখণ্ড ও তিন দিকের হুমকি। পূর্বে ইরান, উত্তরে ইরাকের ইরানসমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং দক্ষিণে হুথিরা হামলা চালাচ্ছে। বহু স্থাপনা রক্ষায় সীমিত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কোথায় বসানো হবে, তা নিয়েও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।

হুথিরা ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে দূরপাল্লার ড্রোন ব্যবহার করে প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে চাপে ফেলছে। নিচু দিয়ে ওড়া ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা কঠিন। অনেক হামলা ঠেকানো গেলেও কিছু লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাচ্ছে। কোনো একক প্রতিরক্ষাব্যবস্থাই সব হামলা ঠেকানোর নিশ্চয়তা দেয় না।

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা আগেই ইয়েমেনে ইরানি অস্ত্রের প্রমাণ পেয়েছিলেন। হুথিদের নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের নকশার সঙ্গেও ইরানি অস্ত্রের মিল রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।

তবে তেহরানের মিত্র হলেও হুথিদের নিজস্ব লক্ষ্য আছে। ২০১৫ থেকে ২০২২ সালের যুদ্ধের পরও তাদের ওপর অর্থনৈতিক ও পরিবহন অবরোধ চলেছে। জুলাইয়ে তারা লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজে হামলার ঘোষণা দেয়। এরপর শুরু হয় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা।

হুথিদের দাবি, ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে সহায়তায় সৌদি বিমান হামলা বন্ধ করতে হবে। ক্ষতিপূরণও দিতে হবে। সোমবার ইরান মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে। হুথি নেতা মোহাম্মদ আল-বুখাইতির দাবি, মধ্যস্থতায় রিয়াদ রাজি হলেও হুথিরা দুই সপ্তাহ ও এক মাসের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।

রিয়াদ বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলার আগে ফোনে সতর্কবার্তা দেওয়া বন্ধ হয়েছিল। বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পরে তা চালু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য চেয়েছে সিএনএন।

স্থল অভিযানে হুথিদের হারানোর সম্ভাবনা কম বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র সাত সপ্তাহের অভিযানে ১০০ কোটি ডলারের বেশি খরচ করেও গোষ্ঠীটিকে সরাতে পারেনি। সোমবার ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার জানিয়েছে, হুথিরা সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন তাইজ ঘিরে ফেলেছে।

সৌদি এখন আন্তর্জাতিক জোট গড়তে চাইছে। পাকিস্তান কয়েক হাজার সেনা পাঠিয়েছে। মিসর প্রয়োজনমতো সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব প্রতিরক্ষাসরঞ্জামেও ঘাটতি রয়েছে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের তিন সপ্তাহ আগে নতুন সংঘাতে জড়ানো নিয়ে সতর্ক ট্রাম্প। সরাসরি হামলার সম্ভাবনা নাকচ না করলেও প্রতিশ্রুতি দেননি তিনি। সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইকেল র‍্যাটনির মতে, শেষ পর্যন্ত কূটনীতিতেই ফিরতে হতে পারে।