হঠাৎ ভিসা বাতিলের ঘটনায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। জানা গেছে, ছুটিতে দেশে এসে কর্মস্থলে ফেরার জন্য বিমানবন্দরে গিয়ে অনেক প্রবাসী জানতে পারছেন যে তাদের ভিসা আর কার্যকর নেই। আবার কেউ কেউ আমিরাতে পৌঁছে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার সময় জানতে পারছেন, তাদের ভিসা ইতোমধ্যে বাতিল হয়ে গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশিদের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্রমবাজার হিসেবে পরিচিত আরব আমিরাত। প্রায় ১০ লাখের বেশি বাংলাদেশি প্রবাসী সেখানে কর্মরত। দেশটিতে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই অনেকের কর্মভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাচ্ছে বলে বাংলাদেশি প্রবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রবাসীদের অভিযোগ, নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও কর্মচুক্তি ঠিক থাকার পরও অনেকের ভিসা বাতিল হচ্ছে।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত ২২ জুলাই থেকে বাংলাদেশি কর্মীদের ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হওয়ার ঘটনা সামনে আসতে শুরু করে। বর্তমানে দেশে অবস্থানরত কয়েক হাজার প্রবাসীর মধ্যে প্রায় ৫ হাজার বাংলাদেশির ভিসা বাতিল হয়েছে বলে জানা গেছে। অনেকেই অনলাইনে নিজেদের ভিসার স্ট্যাটাস পরীক্ষা করে ‘ক্যানসেল’ দেখছেন। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দেওয়ায় কতজনের ভিসা বাতিল হয়েছে কিংবা এর প্রকৃত কারণ কী—তা স্পষ্ট নয়।
এ পরিস্থিতিতে দেশে অবস্থানরত অনেকেই নির্ধারিত সময়ের আগেই দ্রুত কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এই সুযোগে এয়ারলাইন্সগুলো ৩০/৩৫ হাজার টাকার একমুখী বিমান টিকিটের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। কোথাও কোথাও প্রায় এক লাখ টাকায় পৌঁছেছে। এতে ভিসা বাতিলের শঙ্কার পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাড়া গুনে আর্থিক চাপেও পড়ছেন তারা।
এ বিষয়ে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, “এটি শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়। পাকিস্তান, নেপালসহ আরও কয়েকটি দেশের কর্মীদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ভিসা বাতিলের ঘটনা ঘটছে। ঠিক কী কারণে এটি হচ্ছে, তা আমরা খতিয়ে দেখছি। আশা করছি খুব শিগগিরই এর কারণ জানা যাবে।”
তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকের জন্য সময় নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশে ফিরলে কূটনৈতিক চ্যানেলেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করা হবে।
আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ অবস্থায় ভুক্তভোগীরা বাংলাদেশ দূতাবাসের দ্বারস্থ হচ্ছেন। স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসা বাতিল হওয়া বাংলাদেশি কর্মীদের সমস্যা সমাধানে দূতাবাস সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৩০০ প্রবাসীর আবেদন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আরও প্রায় ১ হাজার ৪০০টি আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
এদিকে ভিসা বাতিলের ঘটনায় আবুধাবির বাংলাদেশ দূতাবাস তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এটি কারিগরি ত্রুটি নাকি অন্য কোনো বিশেষ কারণে ঘটছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভিসা সমস্যার সমাধানের নামে কোনো ব্যক্তি, দালাল বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন না করার জন্য প্রবাসীদের সতর্ক করা হয়েছে।
দূতাবাস জানিয়েছে, ভিসাসংক্রান্ত যে কোনো জটিলতায় প্রবাসীদের সরকারি ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সরাসরি দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
ভিসা বাতিলের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো অজানা থাকায় আমিরাতে কর্মরত ও দেশে অবস্থানরত হাজারো বাংলাদেশি প্রবাসী চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও কার্যকর সমাধানের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।