৩১ জুলাই ২০২৬

শাহজালালে বিমানের গাড়ির ধাক্কায় হাসপাতালে প্রবাসী যাত্রী

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ৩০, ২০২৬
শাহজালালে বিমানের গাড়ির ধাক্কায় হাসপাতালে প্রবাসী যাত্রী

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভেতরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি গাড়ি ধাক্কায় একজন দুবাই প্রবাসী যাত্রী আহত হয়েছেন।

এ দুর্ঘটনা ঘটে বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে সাড়ে ৭টার দিকে। আহত ওই যাত্রীর নাম জানা যায়নি, তবে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, সেই যাত্রী একটি এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে দুবাই থেকে ছুটিতে এসে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। এরপর তিনি বিমান থেকে নামার পর দুর্ঘটনার শিকার হন।

সূত্র আরও জানিয়েছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের র‍্যাম্পের অপারেটর হিসাবে ওই গাড়িটি চালাচ্ছিলেন।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক জনসংযোগ (ভারপ্রাপ্ত) মুহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেছেন, এয়ার এয়াবিয়ার ফ্লাইট থেকে নামার পরে ওই যাত্রী অসুস্থ বোধ করছিলেন। ওই ফ্লাইটের একজন স্টাফ তাকে বেরিয়ে বসার জন্য সাহায্য করেছিলেন। সেই পরিস্থিতিতে র‍্যাম্প অপারেট সাইফুল গাড়ি পিছনে দিতে গিয়ে তাকে ধাক্কা দেয়। এর ফলে ওই যাত্রী পড়ে গিয়ে হাতে আঘাত পান। পরে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ ঘটনার পর সাইফুলের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান বিমানের এই কর্মকর্তা।

শাহজালালে বিমানের গাড়ির ধাক্কায় হাসপাতালে প্রবাসী যাত্রী

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ৩০, ২০২৬
শাহজালালে বিমানের গাড়ির ধাক্কায় হাসপাতালে প্রবাসী যাত্রী

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভেতরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি গাড়ি ধাক্কায় একজন দুবাই প্রবাসী যাত্রী আহত হয়েছেন।

এ দুর্ঘটনা ঘটে বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে সাড়ে ৭টার দিকে। আহত ওই যাত্রীর নাম জানা যায়নি, তবে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, সেই যাত্রী একটি এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে দুবাই থেকে ছুটিতে এসে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। এরপর তিনি বিমান থেকে নামার পর দুর্ঘটনার শিকার হন।

সূত্র আরও জানিয়েছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের র‍্যাম্পের অপারেটর হিসাবে ওই গাড়িটি চালাচ্ছিলেন।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক জনসংযোগ (ভারপ্রাপ্ত) মুহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেছেন, এয়ার এয়াবিয়ার ফ্লাইট থেকে নামার পরে ওই যাত্রী অসুস্থ বোধ করছিলেন। ওই ফ্লাইটের একজন স্টাফ তাকে বেরিয়ে বসার জন্য সাহায্য করেছিলেন। সেই পরিস্থিতিতে র‍্যাম্প অপারেট সাইফুল গাড়ি পিছনে দিতে গিয়ে তাকে ধাক্কা দেয়। এর ফলে ওই যাত্রী পড়ে গিয়ে হাতে আঘাত পান। পরে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ ঘটনার পর সাইফুলের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান বিমানের এই কর্মকর্তা।

তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায় আগ্রহ দেখাল যুক্তরাষ্ট্রের 'সিকিউরিপোর্ট'

চলতি সপ্তাহে সিকিউরিপোর্টের শীর্ষ কর্মকর্তা ঢাকায় আসছেন
প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুলাই ২৮, ২০২৬
তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায় আগ্রহ দেখাল যুক্তরাষ্ট্রের 'সিকিউরিপোর্ট'

ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায় যুক্ত হতে চায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান। চলতি সপ্তাহে প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ একজন কর্মকর্তার বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। ঢাকায় একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করতে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এরই মধ্যে যোগাযোগ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সিকিউরিপোর্ট নামে প্রতিষ্ঠানটি এ ব্যাপারে আলোচনা শুরু করে। ওই সময় একটি ধারণাপত্রও উপস্থাপন করে তারা। বর্তমান সরকার আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু করতে চায়। এখনও টার্মিনাল পরিচালনার বিষয়ে কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়নি। তবে জাপানের সঙ্গে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।


বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক গতকাল সোমবার রাতে সমকালকে বলেন, ‘ডিসেম্বরের মধ্যে থার্ড (তৃতীয়) টার্মিনাল চালু করার ব্যাপারে আমাদের চেষ্টা রয়েছে।’

সিকিউরিপোর্টের আগ্রহের ব্যাপারে মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, ‘বিষয়টির ব্যাপারে আমার জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে হয়তো জানাতে পারব।’

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, সিকিউরিপোর্টের শীর্ষ কর্মকর্তা অ্যান্ডরিক সিকিউরার এ সপ্তাহে ঢাকায় আসার কথা রয়েছে।

সিকিউরিপোর্ট মূলত সফটওয়্যারসহ অন্যান্য প্রযুক্তিগত সরঞ্জামের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে থাকে। সিকিউরিপোর্টের ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা যায়, ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত সিকিউরিপোর্টের সদরদপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারকে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা-সংক্রান্ত প্রযুক্তি ও সেবা প্রদান করে তারা।

প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে বলা হয়, তাদের লক্ষ্য হলো স্মার্ট সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং বেসামরিক বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে উদ্ভাবনী প্রযুক্তিগত সমাধান দিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশকে সক্ষম করে তোলা। অবৈধ অভিবাসন, মানব পাচার, মাদক পাচার এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতেও তারা কাজ করে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সিকিউরিপোর্ট আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের সরকারের সঙ্গে সীমান্ত ও বিমানবন্দর নিরাপত্তা বিষয়ে কাজ করে। বাংলাদেশে তারা মূলত তৃতীয় টার্মিনালের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাপনা ও যাত্রীদের তথ্য সংরক্ষণসহ প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়।

প্রায় ২৫ হাজার ৮৪৬ কোটি টাকার তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পটির ৯০ ভাগ কাজ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শেষ হয়। তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পটি ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে শুরু হয়। এর বেশির ভাগ অর্থায়ন করেছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি (জাইকা)। সংস্থাটি সহজ শর্তে ১৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। বাকি অর্থ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এসেছে।

থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পটি অর্থায়নে থাকায় জাপানি কোম্পানির কাছে এটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার কথা শুরু থেকেই হচ্ছিল। জাপানি এই কনসোর্টিয়ামে রয়েছে জাপান এয়ারপোর্ট টার্মিনাল কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন, সোজিৎজ করপোরেশন ও নারিতা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট করপোরেশন। মার্চ ও এপ্রিলে জাপানি কনসোর্টিয়ামের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বসেছিলেন সরকারের একাধিক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও এক উপদেষ্টা।

সম্প্রতি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী ডিসেম্বরেই টার্মিনালটি উদ্বোধনের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করা হচ্ছে। ৩১ জুলাই দরপত্র জমা দেবে জাপানি কনসোর্টিয়াম। এরপর সিদ্ধান্ত।

এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বিমান ও ভ্রমণসেবা প্রতিষ্ঠান ডানাটা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা পরিচালনায় আগ্রহ প্রকাশ করে। সম্প্রতি ঢাকায় মন্ত্রণালয়ের কার্যালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলি আবদুল্লাহ আলহামুদির মধ্যে অনুষ্ঠিত এক সৌজন্য সাক্ষাতে এ বিষয়টি উঠে আসে।

আলোচনার সময় আমিরাতের রাষ্ট্রদূত রাজধানীর আসন্ন তৃতীয় টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে ডানাটার আগ্রহের কথা উল্লেখ করেন।

ডানাটা বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং, পণ্য পরিবহন, খাদ্য সরবরাহ, ভ্রমণ এবং অন্যান্য সেবা দিয়ে থাকে। এর আগে যুক্তরাজ্য ও তুরস্কের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানও তৃতীয় টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কাজ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিল।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জাপানি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার বিষয়ে অনাগ্রহ প্রকাশ করা হয়। ফলে প্রায় দেড় বছর বিমানবন্দরের এই তৃতীয় টার্মিনাল চালুর কাজ থমকে থাকে। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই কাজ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। টার্মিনালটি চালু না হলেও গত জুন থেকে ঋণের কিস্তি পরিশোধ শুরু করেছে বাংলাদেশ। ২০৫৬ সাল পর্যন্ত এই কিস্তি চলবে।

সরকারি দুই প্রতিষ্ঠানের টানাটানি: বীমার টাকা পাচ্ছেন না প্রবাসীরা

প্রকাশ: সোমবার, জুলাই ২৭, ২০২৬
সরকারি দুই প্রতিষ্ঠানের টানাটানি: বীমার টাকা পাচ্ছেন না প্রবাসীরা

পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে সৌদি আরবে পাড়ি দিয়েছিলেন নোয়াখালীর আব্দুল বাসেত। কিন্তু বিদেশে যাওয়ার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারান।

গত বছরের আগস্টে দেশে আসে তার মরদেহ। নিয়ম অনুযায়ী চলতি বছরের শুরুতেই ১০ লাখ টাকার বীমা দাবির আবেদন করেন মা জাকিয়া বেগম। কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও সে অর্থের দেখা মেলেনি। এখন পরিবারের ভরসা শুধু বড় ছেলের ছোট্ট চায়ের দোকান। সে আয়ে কোনো রকমে চলছে সংসার। ছোট ছেলেকে বিদেশে পাঠাতে নেয়া ঋণ এখনো শোধ হয়নি।

জাকিয়া বেগমের মতো এমন হাজারো পরিবার বীমার অর্থের অপেক্ষায় দিন গুনছে। কেবল নিহত প্রবাসীদের পরিবারই নয়, বিদেশে যাওয়ার ছয় মাসের মধ্যে কাজ হারিয়ে দেশে ফিরতে বাধ্য হওয়া অনেক কর্মীও চুক্তি অনুযায়ী প্রাপ্য বীমা সুবিধা পাচ্ছেন না। ফলে একদিকে ঋণের বোঝা, অন্যদিকে আয় হারানোর ধাক্কায় অনেক পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে।

এ পরিস্থিতির জন্য মূলত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান জীবন বীমা করপোরেশন (জেবিসি) ও ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মধ্যে বীমা দাবি নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা ও সমন্বয়হীনতাকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর ফলে শুধু প্রবাসীদের কল্যাণই ব্যাহত হচ্ছে না, ক্ষুণ্ন হচ্ছে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতাও।

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকে চলতি বছরের মে পর্যন্ত ৫৭ লাখ ৭৩ হাজার ৬২ প্রবাসী কর্মী এ বীমা কর্মসূচির আওতায় এসেছেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে সংগৃহীত প্রিমিয়াম হিসেবে বোর্ড জীবন বীমা করপোরেশনকে পরিশোধ করেছে ৪৮৮ কোটি ৫২ লাখ ৩৭ হাজার ৭৪০ টাকা। অথচ গত এপ্রিল পর্যন্ত এ প্রিমিয়ামের বিপরীতে বীমা দাবি নিষ্পত্তির হার মাত্র ৫৬ দশমিক ১১ শতাংশ।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত মৃত, অঙ্গহানির শিকার ও দেশে ফিরে আসা ২ হাজার ১০০ প্রবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারের প্রায় ৬৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকার বীমা দাবি এখনো বকেয়া। অন্যদিকে জীবন বীমা করপোরেশনের দাবি, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের কাছে তাদের ২২ কোটি ৮১ লাখ টাকার প্রিমিয়াম আটকে আছে। এ বকেয়া অর্থকে কেন্দ্র করে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত জীবন বীমা করপোরেশনকে নতুন প্রিমিয়াম পরিশোধ বন্ধ রাখে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড। ফলে দুই প্রতিষ্ঠানের টানাপড়েনে আটকে যায় হাজারো প্রবাসী পরিবারের প্রাপ্য অর্থ।

বিদেশগামী সব কর্মীর জন্য বীমা সুবিধা এখন বাধ্যতামূলক। এ লক্ষ্যে ২০২৩ সালে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড এবং জীবন বীমা করপোরেশনের মধ্যে নতুন চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ১৮-৫৫ বছর বয়সী যেকোনো বিদেশগামী কর্মী এককালীন ১ হাজার টাকা প্রিমিয়াম দিয়ে পাঁচ বছর মেয়াদি বীমা সুবিধার আওতায় আসতে পারেন। আর কর্মীদের কাছ থেকে সংগৃহীত এ প্রিমিয়াম ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড সরাসরি জীবন বীমা করপোরেশনকে দিয়ে থাকে।

বীমা সুবিধার আওতায় আসা কারো মৃত্যু কিংবা দুর্ঘটনায় সম্পূর্ণ স্থায়ী অক্ষমতা বা পঙ্গুত্ব বরণ করলে পরিবারকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেয়ার বিধান। আংশিক অক্ষমতার ক্ষেত্রেও নির্ধারিত হারে অর্থ দেয়া হয়। এছাড়া বিদেশে যাওয়ার ছয় মাসের মধ্যে চাকরি হারিয়ে দেশে ফিরতে বাধ্য হওয়া কর্মীদের জন্যও আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী বীমা কার্যক্রম থেকে অর্জিত লভ্যাংশও ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সঙ্গে ভাগাভাগি করার কথা।

বীমা দাবি পরিশোধে বিলম্বের পেছনে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সফটওয়্যার ও ডেটা ব্যবস্থাপনার সমন্বয়হীনতা বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। জীবন বীমা করপোরেশনের দাবি, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড নতুন এমআইএস (ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম) সফটওয়্যার চালু করলেও সেটির সঙ্গে জেবিসির সিস্টেম সমন্বিত হয়নি। ফলে ৫৬ কোটি টাকার বেশি দাবির নথিতে দীর্ঘদিনের ব্যাকলগ তৈরি হয়। একই সঙ্গে বোর্ডের কাছে ২২ কোটির বেশি টাকার প্রিমিয়ামও বকেয়া রয়েছে বলে দাবি প্রতিষ্ঠানটির।

অন্যদিকে, ২০২৩ সালের সংশোধিত চুক্তিতে বীমার মেয়াদ দুই বছর থেকে পাঁচ বছরে উন্নীত করা এবং ক্ষতিপূরণের পরিমাণ ৪ লাখ থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করায় আর্থিক ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে বলেও দাবি করছে জীবন বীমা করপোরেশন। তাদের হিসাবে, বর্তমান ধারায় চলতে থাকলে চুক্তির মেয়াদ শেষে সম্ভাব্য ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় ১ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকায়।

জীবন বীমা করপোরেশনের জেনারেল ম্যানেজার (অর্থ ও হিসাব বিভাগ) মোহাম্মদ আবু কাউছার জলিল বণিক বার্তাকে বলেন, ‘কল্যাণ বোর্ড তাদের সিস্টেম আপডেট করে জানায় যে আর হার্ডকপি পাঠাবে না; তাদের নতুন সফটওয়্যার এমআইএস ইন্টারফেস থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। এ কমিউনিকেশন ও সিস্টেম রূপান্তরের কারণে ৪৪ কোটি টাকার একটি ব্যাকলক বা গ্যাপ তৈরি হয়েছিল, যা জেবিসি পরবর্তী সময়ে ডেটা ডাউনলোড করে সম্পূর্ণ পরিশোধ করেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘কল্যাণ বোর্ড দাবি করছে যে তাদের এমআইএস সফটওয়্যারে তথ্য এন্ট্রি করার দায় জেবিসির। এটিকে”অন্যায্য উল্লেখ করে চিঠি দিয়ে কল্যাণ বোর্ডকে জানানো হয়েছে, তাদের কর্মীরাই এতে তথ্য এন্ট্রি দেবে। এর দায় জীবন বীমা করপোরেশনের নয়। আমাদের কাছে যেভাবে বীমা দাবি আসবে সেটি যাচাই করে কল্যাণ বোর্ডের অর্থ পরিশোধ করে দেব।’

দুই প্রতিষ্ঠানের পাল্টাপাল্টি দাবি-দাওয়ার মাঝখানে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন প্রবাসী কর্মী ও তাদের পরিবার, যাদের জন্যই এ বীমা কর্মসূচি চালু হয়েছিল। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদেশে কাজ করতে গিয়ে কেউ মারা গেছেন, কেউ দুর্ঘটনায় পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, আবার কেউ কাজ হারিয়ে ফিরেছেন দেশে। অথচ সংকটের সময় যে আর্থিক সুরক্ষা পাওয়ার কথা ছিল, তা পেতে তাদের মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

জানতে চাইলে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘জীবন বীমার কাছে কিছু টাকা পেন্ডিং আছে, সেটি আমরা খুব তাড়াতাড়ি সমাধান করতে পারব। সফটওয়্যারজনিত জটিলতা নিয়েও কাজ করছি, এ সপ্তাহেই সমাধান হয়ে যাবে আশা করছি। আমরা নিয়মিত জীবন বীমার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি, তাদেরও কিছু অর্থ পেন্ডিং আছে। এটা খুব তাড়াতাড়ি সমাধান করতে পারব আশা করি।’

আমিরাতে বাংলাদেশিদের সমস্যা সমাধানে রাষ্ট্রদূতের সহযোগিতা কামনা প্রতিমন্ত্রীর

প্রকাশ: সোমবার, জুলাই ২৭, ২০২৬
আমিরাতে বাংলাদেশিদের সমস্যা সমাধানে রাষ্ট্রদূতের সহযোগিতা কামনা প্রতিমন্ত্রীর

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) রাষ্ট্রদূত।

রবিবার সাক্ষাতে তারা বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের সম্মুখীন বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি এসব সমস্যা সমাধানে রাষ্ট্রদূতের সহযোগিতা কামনা করেন।

তিনি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ এবং বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের কল্যাণ ও বৈধ স্বার্থ সংরক্ষণে বাংলাদেশ সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রতিমন্ত্রী পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে ২০২৬ সালের মধ্যে ঢাকায় দ্বিতীয় বাংলাদেশ–সংযুক্ত আরব আমিরাত যৌথ কনস্যুলার কমিটির সভা আয়োজনের আগ্রহ ব্যক্ত করেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এ সভায় কনস্যুলার ও অভিবাসন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা এবং এ ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা সম্ভব হবে।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব পর্যালোচনা করা হয়। উভয় পক্ষ বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, অবকাঠামো, বন্দর, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

তারা সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি সংক্রান্ত আলোচনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্বের ওপর জোর দেন, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার জন্য একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুলবে।

এছাড়া, উভয় পক্ষ বাংলাদেশ–সংযুক্ত আরব আমিরাত জয়েন্ট বিজনেস কাউন্সিল সক্রিয় করার এবং পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে এর সভা আয়োজনের বিষয়ে একমত হন।

ইউএই রাষ্ট্রদূত সম্প্রতি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির অধিবেশনে ওয়াদি উরাইয়াহ ন্যাশনাল পার্ককে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের মূল্যবান সহযোগিতার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

উভয় পক্ষ দুই বন্ধুপ্রতিম দেশ ও জনগণের পারস্পরিক কল্যাণে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বহুমাত্রিক অংশীদারিত্বকে আরও গভীর ও গতিশীল করার লক্ষ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন।

বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পে কোনো অনিয়ম হয়নি: দাবি বেবিচকের

প্রকাশ: রবিবার, জুলাই ২৬, ২০২৬
বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পে কোনো অনিয়ম হয়নি: দাবি বেবিচকের

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পে আর্থিক অনিয়ম নিয়ে ওঠা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রকল্পের সব ব্যয় যথাযথ সরকারি অনুমোদন এবং চুক্তির শর্ত মেনেই করা হয়েছে।

শনিবার এক বিবৃতিতে বেবিচক বলেছে, সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকল্পের ব্যয়, ভেরিয়েশন ওয়ার্ক, চুক্তি বাস্তবায়ন এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে যে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, তা খণ্ডিত ও প্রেক্ষাপটবিহীন। এসব তথ্য জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।

বেবিচক বলছে, প্রায় দুই বছর আগে তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণকাজ শেষ হলেও বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করতে দেরি হয়েছে। এর কারণ ছিল পরিচালনাগত প্রস্তুতি, কারিগরি পরীক্ষা, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সময়।

এসব প্রস্তুতির কাজ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং সরকার ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে তৃতীয় টার্মিনালে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্যে কাজ করছে।

অনুমোদন ছাড়াই ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ের অভিযোগের বিষয়ে বেবিচক বলেছে, এ দাবি 'তথ্যগতভাবে ভুল'। ১৩ হাজার ৬১০ কোটি টাকার মূল উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) ২০১৭ সালের অক্টোবরে অনুমোদন পায়। পরে আন্তর্জাতিক দরপত্র মূল্যায়নের পর ২১ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকার সংশোধিত ডিপিপি ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে সরকার অনুমোদন দেয়।

এরপর দ্বিতীয়বার সংশোধিত ডিপিপি ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর পরিকল্পনা কমিশন অনুমোদন দেয়। যেখানে মোট ব্যয় ধরা হয় ২১ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা এবং ভেরিয়েশন ওয়ার্কের জন্য ৩ হাজার ২৬৭ কোটি টাকা।

এর আগে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি, প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ নেওয়া হয়। এ পর্যন্ত প্রকল্পে মোট ২০ হাজার ৩৪৭ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে, যা অনুমোদিত ব্যয়সীমার মধ্যেই রয়েছে।

সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ব্যবহৃত গাছপালা অতিরিক্ত দামে কেনার অভিযোগও অস্বীকার করেছে বেবিচক। সংস্থাটির দাবি, আন্তর্জাতিক চুক্তিতে নির্ধারিত একক দর অনুযায়ীই সব অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। চুক্তিতে প্রায় ১৪ হাজার ৮২৪টি বিল অব কোয়ান্টিটি (বিওকিউ) আইটেম রয়েছে এবং সামগ্রিক চুক্তি থেকে আলাদা করে কোনো একটি আইটেমের মূল্যায়ন করা যায় না।

পুকুর উন্নয়ন, মাটি অপসারণ, কোভিড-১৯ মহামারির সময় ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ এগিয়ে নিতে দেওয়া অর্থ এবং ভেরিয়েশন ওয়ার্কে অনিয়মের অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছে বেবিচক। সংস্থাটি জানায়, এসব কাজ ফিডিক চুক্তির আওতায় সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রকল্পের আন্তর্জাতিক প্রকৌশল পরামর্শক এনওসিডি জেভি তা অনুমোদন করেছে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সরকারি অনুমোদনও নেওয়া হয়েছে।

বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প অডিট অধিদপ্তর ৬ হাজার ৩০০ কোটি টাকার অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের যে আপত্তি তুলেছে, সে বিষয়ে বেবিচক বলেছে, সরকারি প্রকল্পে নিরীক্ষা আপত্তি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ নয়।

সংস্থাটি আরও জানায়, মন্ত্রণালয় গঠিত সমঝোতা কমিটি ইতোমধ্যে প্রকল্প ব্যয় থেকে ১ হাজার ৭৭ কোটি টাকা বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাকি অডিট আপত্তিগুলোর জবাবও প্রস্তুত করা হচ্ছে।

এদিকে, বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত শনিবার গণমাধ্যমকে বলেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, কথিত ভুয়া ভেরিয়েশন ওয়ার্কে কারা অনুমোদন দিয়েছেন, অনিয়মের মাধ্যমে কত অর্থ আত্মসাৎ বা অপচয় হয়েছে এবং এ প্রক্রিয়ায় কারা জড়িত ছিলেন—সব বিষয়ই সরকার খতিয়ে দেখবে।

প্রতিমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, দুর্নীতির অভিযোগে কোনো ধরনের সমঝোতার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, 'যেই জড়িত থাকুক না কেন, আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'