২১ জুলাই ২০২৬

আগস্টেই শুরু হচ্ছে ‘প্রবাসী কার্ড’-এর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পাওয়া যাবে যেসব সুবিধা

প্রকাশ: রবিবার, জুলাই ১৯, ২০২৬
আগস্টেই শুরু হচ্ছে ‘প্রবাসী কার্ড’-এর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পাওয়া যাবে যেসব সুবিধা

আগামী আগস্ট মাসে সরকারের ‘প্রবাসী কার্ড’ কর্মসূচির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। গতকাল (১৮ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে প্রবাসী কার্ড চালুর উদ্যোগ-সংক্রান্ত একটি বৈঠকে একথা জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চামেলী হলে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে জানানো হয়, প্রবাসী কার্ড চালুর মূল উদ্দেশ্য হলো প্রবাসীদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা এবং ডুয়াল কারেন্সি কার্ডের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ও ব্যাংকিং সুবিধা সহজলভ্য করা।

সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ক্রীড়া কার্ড বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় প্রবাসী কার্ডও সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারমূলক উদ্যোগ হিসেবে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে।

বৈঠকে আরও জানানো হয়, আগামী আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময়ে প্রবাসী কার্ডের পরীক্ষামূলক উদ্বোধন করা হবে। প্রথম পর্যায়ে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী ডেবিট কার্ড ইস্যু করা হবে। এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০ হাজার এবং আগামী ২০২৭ সালের জুন মাসের মধ্যে ২ লাখ প্রবাসী কার্ড বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী কার্ড-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন বলেন, প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা বিভিন্ন ধরনের সুবিধা পাবেন। এগুলো হচ্ছে দেশে-বিদেশে ‘কমপ্লিমেন্টারি এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ’ ব্যবহার ও বিশেষ ইমিগ্রেশন বুথের মাধ্যমে দ্রুত সেবা, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ‘কমপ্লিমেন্টারি মিট অ্যান্ড গ্রিট’ সেবা, উড়োজাহাজের টিকিট ও হোটেল বুকিংয়ে ডিসকাউন্ট, দেশে-বিদেশে ন্যায্যমূল্যে গাড়ি বুকিং ও সিগনেচার কার্ডে ‘এয়ারপোর্ট পিক অ্যান্ড ড্রপ’ সেবা, সরকারি হাসপাতালে প্রবাসী সেবা বুথ ও বেসরকারিতে ডিসকাউন্ট সুবিধা, কার্ডধারীর মৃত্যুতে বিনা খরচে লাশ পরিবহন, প্রবাসফেরতদের পুনর্বাসনের সুযোগ ও বিমা সুবিধা, জমি রেজিস্ট্রেশন, নামজারি, ইউটিলিটি, লাইসেন্স ও বৈদেশিক বিনিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়া। এ ছাড়া রেমিট্যান্স রিওয়ার্ড পয়েন্ট, ক্রেডিট স্কোরিং ও ঋণ সুবিধা, কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি টাকা পাঠানোসহ সহজে লেনদেন। এনআইডি, পাসপোর্ট ও কনস্যুলার সেবায় অগ্রাধিকার, ব্যাংক ও সরকার প্রদত্ত অন্যান্য সুবিধা দেওয়া।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে আরও আধুনিক, যুগোপযোগী ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তোলার নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত সব বাংলাদেশি প্রবাসীকে পর্যায়ক্রমে প্রবাসী কার্ডের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন তিনি।

বৈঠকে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ ও মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দেশে ৩টি মহাসড়কে প্রতি ১০ কিলোমিটারে থাকবে ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স

প্রকাশ: রবিবার, জুলাই ১৯, ২০২৬
দেশে ৩টি মহাসড়কে প্রতি ১০ কিলোমিটারে থাকবে ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স

সড়ক দুর্ঘটনার পর আহত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দেয়া অনেক সময়ই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠে। হাসপাতালে নিতে দেরি হলে বাড়ে মৃত্যুঝুঁকি।

এমন বাস্তবতায় সড়কে আহতকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে পৌঁছে দিতে দেশে প্রথমবারের মতো চালু হচ্ছে সমন্বিত দুর্ঘটনা-পরবর্তী জরুরি সেবা (পোস্ট-ক্র্যাশ রেসপন্স)। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন ‘বাংলাদেশ রোড সেফটি প্রজেক্ট’-এর আওতায় জয়দেবপুর চৌরাস্তা-টাঙ্গাইল-রাজশাহী, জয়দেবপুর চৌরাস্তা-ময়মনসিংহ ও সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল-রংপুর করিডোরে পরীক্ষামূলকভাবে ১০ কিলোমিটার পরপর একটি করে মোট ৬০টি বেসিক লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হবে।

দুর্ঘটনার পর প্রথম ১ ঘণ্টা বা ‘গোল্ডেন আওয়ার’-এর মধ্যে আহতকে চিকিৎসার আওতায় আনাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য। চলতি মাসের শেষ দিকে অথবা আগামী মাসের শুরুতেই সেবাটি চালুর পরিকল্পনা করছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)।

জানা গেছে, প্রতিটি অ্যাম্বুলেন্সে চালকের পাশাপাশি থাকবেন একজন প্রশিক্ষিত প্যারামেডিক বা মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট। তারা ঘটনাস্থলেই আহত ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেবেন। এরপর দ্রুত নিকটস্থ উপযুক্ত হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থা করবেন। ৬০টি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে কয়েকটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংরক্ষিত থাকবে।

পুরো সেবাটি পরিচালিত হবে একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে। প্রতিটি অ্যাম্বুলেন্সে জিপিএস ট্র্যাকার থাকবে। ফলে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে অ্যাম্বুলেন্সগুলোর অবস্থান সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা যাবে। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সবচেয়ে কাছের অ্যাম্বুলেন্সটি ঘটনাস্থলে পাঠানো হবে।

দুর্ঘটনার পর প্রাথমিক সহায়তা নিশ্চিত করতে মহাসড়কসংলগ্ন এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। তাদের ফার্স্ট এইড বক্সও সরবরাহ করা হবে, যাতে অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছার আগ পর্যন্ত আহত ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া যায়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এটি শুধু অ্যাম্বুলেন্স সেবা নয়; দুর্ঘটনার পর জরুরি চিকিৎসাসেবার একটি সমন্বিত ব্যবস্থা। বর্তমানে অ্যাম্বুলেন্স, প্রশিক্ষিত জনবল ও দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে অনেক আহত ব্যক্তি দুর্ঘটনার প্রথম ১ ঘণ্টার মধ্যেই মারা যায় বা পঙ্গুত্বের শিকার হয়। নতুন ব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় কল সেন্টার, জিপিএস-ভিত্তিক অ্যাম্বুলেন্স ট্র্যাকিং, প্রশিক্ষিত প্যারামেডিক ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে দ্রুত সাড়া দেয়ার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে।

এ সেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেয়া হবে। আহত ব্যক্তি বা তার পরিবারকে কোনো অর্থ ব্যয় করতে হবে না। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যয় প্রকল্পের অধীনে বহন করা হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জনবল নিশ্চিত করবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

জরুরি চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি নিরাপদ করিডোরগুলোয় সড়কের নকশা উন্নয়ন, সাইন ও রোড মার্কিং স্থাপন, পথচারীদের জন্য নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা এবং গতি নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেয়া হবে। ট্রাফিক ও হাইওয়ে পুলিশকে আধুনিক সরঞ্জাম দেয়া হবে। অতিরিক্ত গতিতে চলা ও অতিরিক্ত পণ্যবাহী যান শনাক্তে চালু হবে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি।

মহাসড়কগুলো সিসি ক্যামেরার আওতায় এনে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে। এসব কার্যক্রমে সওজ, বিআরটিএ, পুলিশ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করবে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার পর আহত ব্যক্তিকে দ্রুত চিকিৎসাসেবা দেয়ার জন্য এ ধরনের সমন্বিত ব্যবস্থা আগে ছিল না। প্রকল্পের অভিজ্ঞতা ইতিবাচক হলে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য মহাসড়কেও একই ধরনের ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে।

‘বাংলাদেশ রোড সেফটি প্রজেক্ট’-এর পরিচালক ও সওজের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাব্বির হাসান খান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘চলতি মাসেই ৬০টি অ্যাম্বুলেন্সের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ। এর অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য মহাসড়কেও একই ধরনের দুর্ঘটনা-পরবর্তী জরুরি সেবা চালু করা হবে।’

আগস্টেই শুরু হচ্ছে ‘প্রবাসী কার্ড’-এর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পাওয়া যাবে যেসব সুবিধা

প্রকাশ: রবিবার, জুলাই ১৯, ২০২৬
আগস্টেই শুরু হচ্ছে ‘প্রবাসী কার্ড’-এর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পাওয়া যাবে যেসব সুবিধা

আগামী আগস্ট মাসে সরকারের ‘প্রবাসী কার্ড’ কর্মসূচির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। গতকাল (১৮ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে প্রবাসী কার্ড চালুর উদ্যোগ-সংক্রান্ত একটি বৈঠকে একথা জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চামেলী হলে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে জানানো হয়, প্রবাসী কার্ড চালুর মূল উদ্দেশ্য হলো প্রবাসীদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা এবং ডুয়াল কারেন্সি কার্ডের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ও ব্যাংকিং সুবিধা সহজলভ্য করা।

সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ক্রীড়া কার্ড বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় প্রবাসী কার্ডও সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারমূলক উদ্যোগ হিসেবে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে।

বৈঠকে আরও জানানো হয়, আগামী আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময়ে প্রবাসী কার্ডের পরীক্ষামূলক উদ্বোধন করা হবে। প্রথম পর্যায়ে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী ডেবিট কার্ড ইস্যু করা হবে। এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০ হাজার এবং আগামী ২০২৭ সালের জুন মাসের মধ্যে ২ লাখ প্রবাসী কার্ড বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী কার্ড-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন বলেন, প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা বিভিন্ন ধরনের সুবিধা পাবেন। এগুলো হচ্ছে দেশে-বিদেশে ‘কমপ্লিমেন্টারি এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ’ ব্যবহার ও বিশেষ ইমিগ্রেশন বুথের মাধ্যমে দ্রুত সেবা, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ‘কমপ্লিমেন্টারি মিট অ্যান্ড গ্রিট’ সেবা, উড়োজাহাজের টিকিট ও হোটেল বুকিংয়ে ডিসকাউন্ট, দেশে-বিদেশে ন্যায্যমূল্যে গাড়ি বুকিং ও সিগনেচার কার্ডে ‘এয়ারপোর্ট পিক অ্যান্ড ড্রপ’ সেবা, সরকারি হাসপাতালে প্রবাসী সেবা বুথ ও বেসরকারিতে ডিসকাউন্ট সুবিধা, কার্ডধারীর মৃত্যুতে বিনা খরচে লাশ পরিবহন, প্রবাসফেরতদের পুনর্বাসনের সুযোগ ও বিমা সুবিধা, জমি রেজিস্ট্রেশন, নামজারি, ইউটিলিটি, লাইসেন্স ও বৈদেশিক বিনিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়া। এ ছাড়া রেমিট্যান্স রিওয়ার্ড পয়েন্ট, ক্রেডিট স্কোরিং ও ঋণ সুবিধা, কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি টাকা পাঠানোসহ সহজে লেনদেন। এনআইডি, পাসপোর্ট ও কনস্যুলার সেবায় অগ্রাধিকার, ব্যাংক ও সরকার প্রদত্ত অন্যান্য সুবিধা দেওয়া।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে আরও আধুনিক, যুগোপযোগী ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তোলার নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত সব বাংলাদেশি প্রবাসীকে পর্যায়ক্রমে প্রবাসী কার্ডের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন তিনি।

বৈঠকে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ ও মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রবাসীদের জন্য দেশের কোটায় হজে যাওয়ার সুযোগ দিচ্ছে ধর্ম মন্ত্রণালয়

প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ১৭, ২০২৬
প্রবাসীদের জন্য দেশের কোটায় হজে যাওয়ার সুযোগ দিচ্ছে ধর্ম মন্ত্রণালয়

বাংলাদেশের হজ কোটার আওতায় ২০২৭ সালে হজ পালনে আগ্রহী প্রবাসী বাংলাদেশি (এনআরবি) নাগরিকদের প্রাক-নিবন্ধন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সরকারি কিংবা বেসরকারি—উভয় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই প্রবাসীরা হজে যেতে পারবেন বলে জানিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ই-হজ সিস্টেমে প্রাক-নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারীর বাংলাদেশি পাসপোর্ট অথবা জাতীয় পরিচয়পত্র কিংবা জন্মসনদ, পাসপোর্ট সাইজের ছবি, হোয়াটসঅ্যাপ-সক্রিয় মোবাইল নম্বর এবং বাংলাদেশের একটি ব্যাংক হিসাবের তথ্য থাকতে হবে। একই পরিবারের একাধিক সদস্য একটি ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করেও প্রাক-নিবন্ধন করতে পারবেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ই-হজ সিস্টেমে আবেদন করার সময় আবেদনকারীকে এনআরবি (Non-Resident Bangladeshi) হিসেবে তথ্য প্রদান করতে হবে। পাশাপাশি তিনি যে দেশে বসবাস করছেন, সেই দেশের নাম উল্লেখ করে বৈধ বসবাসের প্রমাণপত্র (ডকুমেন্ট) আপলোড করতে হবে।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজ ও গাইডলাইন শিগগিরই ঘোষণা করা হবে। এরপর ই-হজ সিস্টেমে প্রকাশিত প্যাকেজ থেকে পছন্দ অনুযায়ী নির্বাচন করে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।

সৌদি আরব সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী নিবন্ধিত হজযাত্রীরাই হজ পালনের সুযোগ পাবেন।

মন্ত্রণালয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের সময়মতো প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রেখে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় প্রাক-নিবন্ধন সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে।

এয়ারবাসের বিমান সংগ্রহে আগ্রহী বাংলাদেশ

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৬, ২০২৬
এয়ারবাসের বিমান সংগ্রহে আগ্রহী বাংলাদেশ

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জন্য একটি টেকসই মিশ্র বিমান বহর (মিক্সড ফ্লিট) গড়ে তুলতে এয়ারবাসের বিমান সংগ্রহে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। একইসঙ্গে সরকার দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতের আধুনিকায়নে ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা চায়।

বুধবার বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী এম. রাশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, স্পেন, জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকদের সৌজন্য সাক্ষাতে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যাঁ-মার্ক সেরে-শারলে, ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল সিস্তিয়াগা, জার্মানির ভারপ্রাপ্ত মিশনপ্রধান (শার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স) আনইয়া টার্সটেন এবং বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের উপপ্রধান বাইবা জেরিনা।

আলোচনায় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ভবিষ্যৎ বহর উন্নয়ন কৌশলের অংশ হিসেবে এয়ারবাসের বিমান সংগ্রহে সরকারের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন।

তারা বলেন, জাতীয় স্বার্থ সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত রেখে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জন্য একটি টেকসই মিশ্র বিমান বহর গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।

ইউরোপীয় প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের এই আগ্রহকে স্বাগত জানান এবং এয়ারবাসের প্রস্তাবিত বিমান সংগ্রহের পাশাপাশি সামগ্রিক বিমান চলাচল খাতে সহযোগিতা জোরদারে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং এর সদস্য দেশগুলোর মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা এবং বহুমাত্রিক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণে উভয়পক্ষ তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

এ সময় দেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ গুরুত্ব পায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহর সম্প্রসারণ কর্মসূচি।

সরকারের বিমান বহর আধুনিকায়ন এবং দেশের বিমান পরিবহন অবকাঠামো শক্তিশালী করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ও ইউরোপের মধ্যে বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়।

বাংলাদেশে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহ সৌদি আরবের

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৬, ২০২৬
বাংলাদেশে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহ সৌদি আরবের

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন সৌদি আরবের পরিবহন ও রসদ পরিষেবা বিষয়ক উপমন্ত্রী ড. রুমাইহ মোহাম্মদ আল-রুমাইহের নেতৃত্বে রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনালের সিইওসহ একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল।

বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের দ্বিপাক্ষিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক, বিনিয়োগ এবং অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। ভবিষ্যতে এ সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তার সরকারের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীকে জানায়, রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশে ১৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগে একটি বে (Bay) টার্মিনাল নির্মাণের পাশাপাশি বাংলাদেশের বন্দর ব্যবস্থাপনায় তাদের বিনিয়োগ ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করতে আগ্রহী।

এ ছাড়া রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনালসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের অন্যান্য খাতেও বিনিয়োগে আগ্রহী বলে প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীকে জানান। প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের বিনিয়োগবান্ধব নীতি ও উদ্যোগ সম্পর্কে সৌদি প্রতিনিধি দলকে অবহিত করেন।

প্রতিনিধি দল জানায়, তারা বাংলাদেশে বন্দর, রেলওয়েসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা যাচাই করেছে। এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে দুই দেশের মধ্যে যৌথ বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে বলেও তারা উল্লেখ করে।

বাংলাদেশ সফর এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশের জন্য সৌদি প্রতিনিধি দলকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জবাবে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জানান, তারা সৌদি আরবে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

সাক্ষাৎকালে সড়ক পরিবহন, সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

সৌদি প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন সৌদি আরবের বিনিয়োগ উন্নয়ন বিষয়ক সহকারী উপমন্ত্রী প্রকৌশলী আম্মার আল-তাফ, রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সিইও আমের রেদা (Amer Reda), রেড সি গেটওয়ে টার্মিনালের সিইও লার্স ভ্যাং (Lars Vang), বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ বিন আবিয়া এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।