২২ জুলাই ২০২৬

প্রকৃত পাসপোর্টধারীর বদলে অন্য নারীকে ইতালি পাচার, চক্রের ৭ সদস্য গ্রেপ্তার

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুলাই ২১, ২০২৬
প্রকৃত পাসপোর্টধারীর বদলে অন্য নারীকে ইতালি পাচার, চক্রের ৭ সদস্য গ্রেপ্তার

প্রকৃত পাসপোর্টধারীর পরিবর্তে অন্য এক নারীকে ইতালিতে পাঠানোর অভিযোগে সংঘবদ্ধ মানবপাচার ও ভিসা জালিয়াতি চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ ঘটনায় গুলশান থানায় মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা করা হয়েছে।

এ সময় তাদের কাছ থেকে ৫৬টি পাসপোর্ট, ১৫৩টি বিভিন্ন ধরনের সিল, একটি এম্বোস সিল, তিনটি সিপিইউ, একটি ল্যাপটপ এবং নগদ আড়াই লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, বেলায়েত হোসেন (৪০), মেহেদী হাসান (৩৭), সোলাইমান সুমন (৩২), ফজলে রাব্বী (২৭), তৌহিদুর রহমান (২৪) ও কাওসার হোসেন (৪২)।

সোমবার রাজধানীর গুলশান-১ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, গতকাল সিআইডির মানবপাচার শাখার (টিএইচবি) একটি চৌকস দল তাৎক্ষণিক গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর গুলশান থানাধীন গুলশান-১ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করে। এ বিষয়ে গুলশান থানায় মামলা হয়েছে।

সিআইডির মানবপাচার শাখা (টিএইচবি) পরিচালিত ওই অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতদের অফিস থেকে তিনটি সিপিইউ, একটি এইচপি ল্যাপটপ, বিভিন্ন ব্যক্তির নামে থাকা ৫৬টি পাসপোর্ট, সরকারি, বেসরকারি ও বিদেশি বিভিন্ন ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যবহৃত ১৫৩টি সিল, ১টি লোহার তৈরি এম্বোস সিল এবং নগদ দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী বাদীর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে বসবাস করছেন। স্বামী ও চার সন্তানকে নিয়ে ইতালিতে যাওয়ার আশায় বাদী দীর্ঘদিন ধরে ভিসা পাওয়ার চেষ্টা করে আসছিলেন।

একপর্যায়ে তিনি ইতালির দূতাবাসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও পাসপোর্ট জমা দেন। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর তার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে ইতালির দূতাবাস থেকে তাকে ফোন করে পাসপোর্ট নবায়নের বিষয়ে অবহিত করা হয়।

পাসপোর্ট সংগ্রহের জন্য তিনি দূতাবাসে গেলে সেখানে অত্র মামলার এজাহারনামীয় দুই নম্বর অভিযুক্ত নাজমুল হাসানের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। নাজমুল নিজেকে পাসপোর্ট নবায়নসহ ইতালির ভিসা করে দেওয়ার কাজে সক্ষম ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিয়ে তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাসপোর্ট নবায়ন করে দেওয়ার আশ্বাস দেয়।

পরবর্তীতে নাজমুল ওই নারীকে রাজধানীর গুলশান-১ এলাকার একটি ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যায় এবং সেখানে প্রতিষ্ঠানপ্রধান হিসেবে অত্র মামলার এজাহারনামীয় এক নম্বর অভিযুক্ত মো. বেলায়েত হোসেনের সঙ্গে তার পরিচয় করিয়ে দেয়।

অভিযুক্তরা ভিসা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ওই নারীর সঙ্গে আর্থিক চুক্তি করেন। পরে বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে মোট ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। টাকা পরিশোধের পর তাকে পাসপোর্ট ফেরত দেওয়া হয়।

এরপর ইতালিতে থাকা স্বামী স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য বিমানের টিকিট কাটেন। নির্ধারিত দিনে ভুক্তভোগী সন্তানদের নিয়ে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গেলে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা জানান, তার পাসপোর্টে থাকা ইতালির ভিসা ব্যবহার করে অন্য এক নারী গত ২৪ এপ্রিল ইতোমধ্যে ইতালি চলে গেছেন।

এ ঘটনায় হতবাক হয়ে তিনি সিআইডির মানবপাচার শাখায় অভিযোগ করেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি বিদেশে যেতে আগ্রহীদের ইতালির ভিসা ও উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিত। পরে কৌশলে তাঁদের পাসপোর্ট নিজেদের হেফাজতে রেখে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রকৃত পাসপোর্টধারীর পরিবর্তে অন্য ব্যক্তিকে বিদেশে পাঠানো হতো।

জব্দ করা ৫৬টি পাসপোর্ট ও ১৫৩টি সিল থেকে ধারণা করা হচ্ছে, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে ভিসা জালিয়াতি ও মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল।

সিআইডি আরও জানায়, চক্রের মূলহোতা হিসেবে গ্রেপ্তার বেলায়েত হোসেন ২০১৬ সাল থেকে একই কৌশলে প্রায় ৩০ জনকে ইতালিতে পাঠানোর সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য মিলেছে। একই ধরনের অপরাধে ২০২৪ সালে বিমানবন্দর থানায় দায়ের করা একটি মামলায় তিনি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন এবং মামলাটি বিচারাধীন।

অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আবু তালেব জানান, জব্দ করা পাসপোর্ট, সিল ও কম্পিউটারের ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে। পাশাপাশি অভিযুক্তদের আর্থিক লেনদেন, দেশি-বিদেশি সহযোগী এবং সম্ভাব্য আরও ভুক্তভোগীদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

সিআইডি বিদেশে কর্মসংস্থান বা অভিবাসনের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রলোভনে পড়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া অর্থ বা পাসপোর্ট হস্তান্তর না করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে সরকার অনুমোদিত বৈধ প্রক্রিয়ায় বিদেশ যাওয়ার এবং ভিসা জালিয়াতি বা মানবপাচারের সন্দেহ হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করেছে।

প্রবাসী কার্ডধারীদের জন্য বিমান টিকিট ও লাউঞ্জসহ বিশেষ সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করা হবে

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুলাই ২১, ২০২৬
প্রবাসী কার্ডধারীদের জন্য বিমান টিকিট ও লাউঞ্জসহ বিশেষ সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করা হবে

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেছেন,প্রবাসীদের সকল ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতে আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স টিকেট এবং বলাকা লাউঞ্জ ব্যবহারে বিশেষ ডিসকাউন্ট প্রদানের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার বেলা ১১টায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রবাসী কার্ড বিতরণে বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের করণীয় সম্পর্কে অবহিতকরণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী বলেন, আমরা ইতোমধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী সাধারণের সুবিধার্থে শাটল বাস সার্ভিস চালু করেছি। প্রবাসীদের জন্য হয়রানিমুক্ত বিমানসেবা নিশ্চিতে আমরা বদ্ধপরিকর।

প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের হোটেল-মোটেলগুলোতেও আমরা প্রবাসীদের জন্য বিশেষ ছাড় প্রদানের বিষয়ে ভাবছি। এছাড়া, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রবাসীদের জন্য পায়োরিটি চেক-ইন ও বোর্ডিং সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে। এসব সুবিধা মিলবে বর্তমান সরকারের প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে।

সভার শুরুতে বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের অন্তর্ভুক্ত প্রবাসী কার্ড বাস্তবায়নে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর কাছে বিভিন্ন সহযোগিতার ক্ষেত্রসমূহ উপস্থাপন করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

সভায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক) ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ও অধস্তন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক।

প্রকৃত পাসপোর্টধারীর বদলে অন্য নারীকে ইতালি পাচার, চক্রের ৭ সদস্য গ্রেপ্তার

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুলাই ২১, ২০২৬
প্রকৃত পাসপোর্টধারীর বদলে অন্য নারীকে ইতালি পাচার, চক্রের ৭ সদস্য গ্রেপ্তার

প্রকৃত পাসপোর্টধারীর পরিবর্তে অন্য এক নারীকে ইতালিতে পাঠানোর অভিযোগে সংঘবদ্ধ মানবপাচার ও ভিসা জালিয়াতি চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ ঘটনায় গুলশান থানায় মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা করা হয়েছে।

এ সময় তাদের কাছ থেকে ৫৬টি পাসপোর্ট, ১৫৩টি বিভিন্ন ধরনের সিল, একটি এম্বোস সিল, তিনটি সিপিইউ, একটি ল্যাপটপ এবং নগদ আড়াই লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, বেলায়েত হোসেন (৪০), মেহেদী হাসান (৩৭), সোলাইমান সুমন (৩২), ফজলে রাব্বী (২৭), তৌহিদুর রহমান (২৪) ও কাওসার হোসেন (৪২)।

সোমবার রাজধানীর গুলশান-১ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, গতকাল সিআইডির মানবপাচার শাখার (টিএইচবি) একটি চৌকস দল তাৎক্ষণিক গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর গুলশান থানাধীন গুলশান-১ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করে। এ বিষয়ে গুলশান থানায় মামলা হয়েছে।

সিআইডির মানবপাচার শাখা (টিএইচবি) পরিচালিত ওই অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতদের অফিস থেকে তিনটি সিপিইউ, একটি এইচপি ল্যাপটপ, বিভিন্ন ব্যক্তির নামে থাকা ৫৬টি পাসপোর্ট, সরকারি, বেসরকারি ও বিদেশি বিভিন্ন ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যবহৃত ১৫৩টি সিল, ১টি লোহার তৈরি এম্বোস সিল এবং নগদ দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী বাদীর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে বসবাস করছেন। স্বামী ও চার সন্তানকে নিয়ে ইতালিতে যাওয়ার আশায় বাদী দীর্ঘদিন ধরে ভিসা পাওয়ার চেষ্টা করে আসছিলেন।

একপর্যায়ে তিনি ইতালির দূতাবাসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও পাসপোর্ট জমা দেন। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর তার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে ইতালির দূতাবাস থেকে তাকে ফোন করে পাসপোর্ট নবায়নের বিষয়ে অবহিত করা হয়।

পাসপোর্ট সংগ্রহের জন্য তিনি দূতাবাসে গেলে সেখানে অত্র মামলার এজাহারনামীয় দুই নম্বর অভিযুক্ত নাজমুল হাসানের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। নাজমুল নিজেকে পাসপোর্ট নবায়নসহ ইতালির ভিসা করে দেওয়ার কাজে সক্ষম ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিয়ে তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাসপোর্ট নবায়ন করে দেওয়ার আশ্বাস দেয়।

পরবর্তীতে নাজমুল ওই নারীকে রাজধানীর গুলশান-১ এলাকার একটি ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যায় এবং সেখানে প্রতিষ্ঠানপ্রধান হিসেবে অত্র মামলার এজাহারনামীয় এক নম্বর অভিযুক্ত মো. বেলায়েত হোসেনের সঙ্গে তার পরিচয় করিয়ে দেয়।

অভিযুক্তরা ভিসা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ওই নারীর সঙ্গে আর্থিক চুক্তি করেন। পরে বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে মোট ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। টাকা পরিশোধের পর তাকে পাসপোর্ট ফেরত দেওয়া হয়।

এরপর ইতালিতে থাকা স্বামী স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য বিমানের টিকিট কাটেন। নির্ধারিত দিনে ভুক্তভোগী সন্তানদের নিয়ে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গেলে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা জানান, তার পাসপোর্টে থাকা ইতালির ভিসা ব্যবহার করে অন্য এক নারী গত ২৪ এপ্রিল ইতোমধ্যে ইতালি চলে গেছেন।

এ ঘটনায় হতবাক হয়ে তিনি সিআইডির মানবপাচার শাখায় অভিযোগ করেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি বিদেশে যেতে আগ্রহীদের ইতালির ভিসা ও উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিত। পরে কৌশলে তাঁদের পাসপোর্ট নিজেদের হেফাজতে রেখে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রকৃত পাসপোর্টধারীর পরিবর্তে অন্য ব্যক্তিকে বিদেশে পাঠানো হতো।

জব্দ করা ৫৬টি পাসপোর্ট ও ১৫৩টি সিল থেকে ধারণা করা হচ্ছে, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে ভিসা জালিয়াতি ও মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল।

সিআইডি আরও জানায়, চক্রের মূলহোতা হিসেবে গ্রেপ্তার বেলায়েত হোসেন ২০১৬ সাল থেকে একই কৌশলে প্রায় ৩০ জনকে ইতালিতে পাঠানোর সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য মিলেছে। একই ধরনের অপরাধে ২০২৪ সালে বিমানবন্দর থানায় দায়ের করা একটি মামলায় তিনি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন এবং মামলাটি বিচারাধীন।

অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আবু তালেব জানান, জব্দ করা পাসপোর্ট, সিল ও কম্পিউটারের ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে। পাশাপাশি অভিযুক্তদের আর্থিক লেনদেন, দেশি-বিদেশি সহযোগী এবং সম্ভাব্য আরও ভুক্তভোগীদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

সিআইডি বিদেশে কর্মসংস্থান বা অভিবাসনের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রলোভনে পড়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া অর্থ বা পাসপোর্ট হস্তান্তর না করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে সরকার অনুমোদিত বৈধ প্রক্রিয়ায় বিদেশ যাওয়ার এবং ভিসা জালিয়াতি বা মানবপাচারের সন্দেহ হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করেছে।

দেশে ৩টি মহাসড়কে প্রতি ১০ কিলোমিটারে থাকবে ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স

প্রকাশ: রবিবার, জুলাই ১৯, ২০২৬
দেশে ৩টি মহাসড়কে প্রতি ১০ কিলোমিটারে থাকবে ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স

সড়ক দুর্ঘটনার পর আহত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দেয়া অনেক সময়ই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠে। হাসপাতালে নিতে দেরি হলে বাড়ে মৃত্যুঝুঁকি।

এমন বাস্তবতায় সড়কে আহতকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে পৌঁছে দিতে দেশে প্রথমবারের মতো চালু হচ্ছে সমন্বিত দুর্ঘটনা-পরবর্তী জরুরি সেবা (পোস্ট-ক্র্যাশ রেসপন্স)। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন ‘বাংলাদেশ রোড সেফটি প্রজেক্ট’-এর আওতায় জয়দেবপুর চৌরাস্তা-টাঙ্গাইল-রাজশাহী, জয়দেবপুর চৌরাস্তা-ময়মনসিংহ ও সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল-রংপুর করিডোরে পরীক্ষামূলকভাবে ১০ কিলোমিটার পরপর একটি করে মোট ৬০টি বেসিক লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হবে।

দুর্ঘটনার পর প্রথম ১ ঘণ্টা বা ‘গোল্ডেন আওয়ার’-এর মধ্যে আহতকে চিকিৎসার আওতায় আনাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য। চলতি মাসের শেষ দিকে অথবা আগামী মাসের শুরুতেই সেবাটি চালুর পরিকল্পনা করছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)।

জানা গেছে, প্রতিটি অ্যাম্বুলেন্সে চালকের পাশাপাশি থাকবেন একজন প্রশিক্ষিত প্যারামেডিক বা মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট। তারা ঘটনাস্থলেই আহত ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেবেন। এরপর দ্রুত নিকটস্থ উপযুক্ত হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থা করবেন। ৬০টি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে কয়েকটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংরক্ষিত থাকবে।

পুরো সেবাটি পরিচালিত হবে একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে। প্রতিটি অ্যাম্বুলেন্সে জিপিএস ট্র্যাকার থাকবে। ফলে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে অ্যাম্বুলেন্সগুলোর অবস্থান সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা যাবে। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সবচেয়ে কাছের অ্যাম্বুলেন্সটি ঘটনাস্থলে পাঠানো হবে।

দুর্ঘটনার পর প্রাথমিক সহায়তা নিশ্চিত করতে মহাসড়কসংলগ্ন এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। তাদের ফার্স্ট এইড বক্সও সরবরাহ করা হবে, যাতে অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছার আগ পর্যন্ত আহত ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া যায়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এটি শুধু অ্যাম্বুলেন্স সেবা নয়; দুর্ঘটনার পর জরুরি চিকিৎসাসেবার একটি সমন্বিত ব্যবস্থা। বর্তমানে অ্যাম্বুলেন্স, প্রশিক্ষিত জনবল ও দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে অনেক আহত ব্যক্তি দুর্ঘটনার প্রথম ১ ঘণ্টার মধ্যেই মারা যায় বা পঙ্গুত্বের শিকার হয়। নতুন ব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় কল সেন্টার, জিপিএস-ভিত্তিক অ্যাম্বুলেন্স ট্র্যাকিং, প্রশিক্ষিত প্যারামেডিক ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে দ্রুত সাড়া দেয়ার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে।

এ সেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেয়া হবে। আহত ব্যক্তি বা তার পরিবারকে কোনো অর্থ ব্যয় করতে হবে না। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যয় প্রকল্পের অধীনে বহন করা হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জনবল নিশ্চিত করবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

জরুরি চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি নিরাপদ করিডোরগুলোয় সড়কের নকশা উন্নয়ন, সাইন ও রোড মার্কিং স্থাপন, পথচারীদের জন্য নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা এবং গতি নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেয়া হবে। ট্রাফিক ও হাইওয়ে পুলিশকে আধুনিক সরঞ্জাম দেয়া হবে। অতিরিক্ত গতিতে চলা ও অতিরিক্ত পণ্যবাহী যান শনাক্তে চালু হবে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি।

মহাসড়কগুলো সিসি ক্যামেরার আওতায় এনে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে। এসব কার্যক্রমে সওজ, বিআরটিএ, পুলিশ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করবে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার পর আহত ব্যক্তিকে দ্রুত চিকিৎসাসেবা দেয়ার জন্য এ ধরনের সমন্বিত ব্যবস্থা আগে ছিল না। প্রকল্পের অভিজ্ঞতা ইতিবাচক হলে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য মহাসড়কেও একই ধরনের ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে।

‘বাংলাদেশ রোড সেফটি প্রজেক্ট’-এর পরিচালক ও সওজের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাব্বির হাসান খান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘চলতি মাসেই ৬০টি অ্যাম্বুলেন্সের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ। এর অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য মহাসড়কেও একই ধরনের দুর্ঘটনা-পরবর্তী জরুরি সেবা চালু করা হবে।’

আগস্টেই শুরু হচ্ছে ‘প্রবাসী কার্ড’-এর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পাওয়া যাবে যেসব সুবিধা

প্রকাশ: রবিবার, জুলাই ১৯, ২০২৬
আগস্টেই শুরু হচ্ছে ‘প্রবাসী কার্ড’-এর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পাওয়া যাবে যেসব সুবিধা

আগামী আগস্ট মাসে সরকারের ‘প্রবাসী কার্ড’ কর্মসূচির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। গতকাল (১৮ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে প্রবাসী কার্ড চালুর উদ্যোগ-সংক্রান্ত একটি বৈঠকে একথা জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চামেলী হলে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে জানানো হয়, প্রবাসী কার্ড চালুর মূল উদ্দেশ্য হলো প্রবাসীদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা এবং ডুয়াল কারেন্সি কার্ডের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ও ব্যাংকিং সুবিধা সহজলভ্য করা।

সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ক্রীড়া কার্ড বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় প্রবাসী কার্ডও সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারমূলক উদ্যোগ হিসেবে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে।

বৈঠকে আরও জানানো হয়, আগামী আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময়ে প্রবাসী কার্ডের পরীক্ষামূলক উদ্বোধন করা হবে। প্রথম পর্যায়ে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী ডেবিট কার্ড ইস্যু করা হবে। এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০ হাজার এবং আগামী ২০২৭ সালের জুন মাসের মধ্যে ২ লাখ প্রবাসী কার্ড বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী কার্ড-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন বলেন, প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা বিভিন্ন ধরনের সুবিধা পাবেন। এগুলো হচ্ছে দেশে-বিদেশে ‘কমপ্লিমেন্টারি এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ’ ব্যবহার ও বিশেষ ইমিগ্রেশন বুথের মাধ্যমে দ্রুত সেবা, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ‘কমপ্লিমেন্টারি মিট অ্যান্ড গ্রিট’ সেবা, উড়োজাহাজের টিকিট ও হোটেল বুকিংয়ে ডিসকাউন্ট, দেশে-বিদেশে ন্যায্যমূল্যে গাড়ি বুকিং ও সিগনেচার কার্ডে ‘এয়ারপোর্ট পিক অ্যান্ড ড্রপ’ সেবা, সরকারি হাসপাতালে প্রবাসী সেবা বুথ ও বেসরকারিতে ডিসকাউন্ট সুবিধা, কার্ডধারীর মৃত্যুতে বিনা খরচে লাশ পরিবহন, প্রবাসফেরতদের পুনর্বাসনের সুযোগ ও বিমা সুবিধা, জমি রেজিস্ট্রেশন, নামজারি, ইউটিলিটি, লাইসেন্স ও বৈদেশিক বিনিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়া। এ ছাড়া রেমিট্যান্স রিওয়ার্ড পয়েন্ট, ক্রেডিট স্কোরিং ও ঋণ সুবিধা, কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি টাকা পাঠানোসহ সহজে লেনদেন। এনআইডি, পাসপোর্ট ও কনস্যুলার সেবায় অগ্রাধিকার, ব্যাংক ও সরকার প্রদত্ত অন্যান্য সুবিধা দেওয়া।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে আরও আধুনিক, যুগোপযোগী ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তোলার নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত সব বাংলাদেশি প্রবাসীকে পর্যায়ক্রমে প্রবাসী কার্ডের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন তিনি।

বৈঠকে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ ও মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রবাসীদের জন্য দেশের কোটায় হজে যাওয়ার সুযোগ দিচ্ছে ধর্ম মন্ত্রণালয়

প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ১৭, ২০২৬
প্রবাসীদের জন্য দেশের কোটায় হজে যাওয়ার সুযোগ দিচ্ছে ধর্ম মন্ত্রণালয়

বাংলাদেশের হজ কোটার আওতায় ২০২৭ সালে হজ পালনে আগ্রহী প্রবাসী বাংলাদেশি (এনআরবি) নাগরিকদের প্রাক-নিবন্ধন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সরকারি কিংবা বেসরকারি—উভয় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই প্রবাসীরা হজে যেতে পারবেন বলে জানিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ই-হজ সিস্টেমে প্রাক-নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারীর বাংলাদেশি পাসপোর্ট অথবা জাতীয় পরিচয়পত্র কিংবা জন্মসনদ, পাসপোর্ট সাইজের ছবি, হোয়াটসঅ্যাপ-সক্রিয় মোবাইল নম্বর এবং বাংলাদেশের একটি ব্যাংক হিসাবের তথ্য থাকতে হবে। একই পরিবারের একাধিক সদস্য একটি ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করেও প্রাক-নিবন্ধন করতে পারবেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ই-হজ সিস্টেমে আবেদন করার সময় আবেদনকারীকে এনআরবি (Non-Resident Bangladeshi) হিসেবে তথ্য প্রদান করতে হবে। পাশাপাশি তিনি যে দেশে বসবাস করছেন, সেই দেশের নাম উল্লেখ করে বৈধ বসবাসের প্রমাণপত্র (ডকুমেন্ট) আপলোড করতে হবে।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজ ও গাইডলাইন শিগগিরই ঘোষণা করা হবে। এরপর ই-হজ সিস্টেমে প্রকাশিত প্যাকেজ থেকে পছন্দ অনুযায়ী নির্বাচন করে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।

সৌদি আরব সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী নিবন্ধিত হজযাত্রীরাই হজ পালনের সুযোগ পাবেন।

মন্ত্রণালয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের সময়মতো প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রেখে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় প্রাক-নিবন্ধন সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে।