মালয়েশিয়ায় কর্মরত ৪০ জন বাংলাদেশি শ্রমিকের বেতন ও সংরক্ষিত ১ লাখ ৩৬ হাজার ৫০৫ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪০ লাখ ৯৫ হাজার ১৫০ টাকা) আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে এক বাংলাদেশি প্রবাসীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বাংলাদেশে মামলা দায়েরের পাশাপাশি কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ দূতাবাসে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ও কূটনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযুক্ত মোহাম্মদ আব্দুল খালেক (৪৩), পাসপোর্ট নম্বর: EH0595136। তিনি বগুড়া জেলার শাজাহানপুর উপজেলার কাটাবাড়িয়া মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। অভিযোগকারী মো. আবুল কালাম (৩৩) নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বস্তল গ্রামের বাসিন্দা এবং বর্তমানে মালয়েশিয়ার একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কন্ট্রাক্টর হিসেবে কর্মরত।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আবুল কালাম ও আব্দুল খালেক একই প্রতিষ্ঠানে কন্ট্রাক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। শ্রমিকদের বেতন সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত একটি লকারের চাবি তাদের দুজনের কাছেই ছিল। পরে প্রতিষ্ঠানের মালিক শ্রমিকদের বেতন ও অন্যান্য ব্যয় মেটানোর জন্য ১ লাখ ৩৬ হাজার ৫০৫ রিঙ্গিত তাদের কাছে হস্তান্তর করেন, যা লকারে সংরক্ষণের কথা ছিল।
ভুক্তভোগীদের দাবি, কর্মব্যস্ততার কারণে আবুল কালাম টাকার ব্যাগটি লকারে রাখার জন্য আব্দুল খালেকের হাতে দেন। কিন্তু তিনি টাকাসহ গত জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশে চলে যান। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি নিজ এলাকায় অবস্থান করছেন।
এরপর ভুক্তভোগীরা বগুড়ায় অভিযুক্তের বড় ভাই আব্দুল মজিদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন। পরবর্তীতে আব্দুল খালেকও ব্যাংক হিসাব নম্বর নিয়ে পর্যায়ক্রমে শ্রমিকদের টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেন। তবে কিছুদিন পর তিনি সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং ভুক্তভোগীদের মোবাইল নম্বর ব্লক করে দেন।
বাধ্য হয়ে তারা মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
ভুক্তভোগী আবুল কালাম অভিযোগ করেন, গত ২০ জুন তার ভাই অভিযুক্তের বগুড়ার বাড়িতে গিয়ে আত্মসাৎ করা অর্থ ফেরত চাইলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। এ সময় প্রাণনাশের হুমকিসহ বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও তোলেন তিনি।
আবুল কালাম বলেন, আত্মসাৎ হওয়া অর্থের কারণে ৪০ জন বাংলাদেশি শ্রমিক তাদের ন্যায্য বেতন থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। ফলে বাসাভাড়া, খাবার এবং দৈনন্দিন খরচ চালাতে তারা চরম সংকটে পড়েছেন। শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করতে না পারায় তিনিও আর্থিক, সামাজিক ও মানসিকভাবে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পর মালয়েশিয়ায় পুলিশ রিপোর্ট, বাংলাদেশে মামলা এবং কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ দূতাবাসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।
ভুক্তভোগী শ্রমিকরা জানান, কয়েক মাসের কষ্টার্জিত বেতন আত্মসাতের কারণে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেকে বাসাভাড়া, খাবার ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। তারা দ্রুত তাদের ন্যায্য পাওনা ফেরত এবং অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিক, মালয়েশিয়ার এক চীনা নাগরিক, ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের জন্য তিনি আব্দুল খালেকের কাছে অর্থ হস্তান্তর করেছিলেন। পরে তিনি পুরো অর্থ নিয়ে পালিয়ে যান। তিনি চান, ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা যেন দ্রুত তাদের প্রাপ্য অর্থ ফিরে পান।
এদিকে ভুক্তভোগী আবুল কালাম প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতি দ্রুত আইনগত ও কূটনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণ, আত্মসাৎ হওয়া অর্থ উদ্ধার, ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ এবং অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।