২১ জুলাই ২০২৬

কাতার যাওয়ার সময় উগ্রবাদী সন্দেহে গ্রেপ্তার মামুন ৩ দিনের রিমান্ডে

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুলাই ২১, ২০২৬
কাতার যাওয়ার সময় উগ্রবাদী সন্দেহে গ্রেপ্তার মামুন ৩ দিনের রিমান্ডে

উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে কাতার যাওয়ার সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার মো. মামুন হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।

কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের আবেদনের প্রেক্ষিতে সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা এ আদেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ এ তথ্য দিয়েছেন।

রোববার রাতে শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে মামুন হোসেনকে সন্দেহভাজন হিসেবে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করা হয়।

এ সময় তার কাছ থেকে পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোনসহ ব্যক্তিগত মালামাল জব্দ করা হয়। আসামির বিরুদ্ধে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা ও গেন্ডারিয়া থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দুইটি মামলা রয়েছে, যা বর্তমানে বিচারাধীন।

সোমবার ঢাকা মহানগর পুলিশ-ডিএমপির সিটিটিসি ইউনিটের এসআই মো. মতিউর রহমান মোল্লা আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

মামুনের পক্ষে তার আইনজীবী খন্দকার এম. খলিলুর রহমান ও মোহাম্মদ খলিলুর রহমান রিমান্ডের আবেদন বাতিল করে জামিন আবেদন করেন।

আদালত এসআই মতিউরের কাছে জানতে চান, তিনি উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার কী আলামত আসামির কাছে পেয়েছেন? কী তথ্য পাওয়া গেছে যে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে?

এর সদুত্তর দিতে পারেননি মতিউর রহমান। তিনি বলেন, “আসামির মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। মোবাইলে চার্জ না থাকার কারণে, তা পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি।”

মামুনের বিরুদ্ধে গেন্ডারিয়া ও তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দুইটি মামলা থাকার কথা বলেন মতিউর রহমান।

এরপর আদালত মামুন হোসেনের বক্তব্য শুনতে চান। তিনি বলেন, “তারা আমাকে গ্রেপ্তার করেছে। আমার কাছে কিছু পায়নি। আমার বিরুদ্ধে দুটি মামলা রয়েছে। মামলায় আমি জামিনে আছি। পরিবারের উপার্জনের জন্য আমি কাতার যাচ্ছি। আমি জামিনের কোনো শর্ত ভঙ্গ করিনি।”

বিচারক জুয়েল রানা বলেন, “বিদেশে যাবেন কোর্টকে জানিয়েছেন?” এসময় নীরব থাকেন মামুন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, “এ আসামি ২০১৯ সালে পর্তুগাল হয়ে ফ্রান্স যান। জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকায় ফ্রান্স সরকার তাকে দেশে পাঠিয়ে দেয়। তার বিরুদ্ধে ঢাকার দুই থানায় দুটি সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলা বিচারাধীন।”

এসময় আবারও মামুনের বক্তব্য জানতে চায় আদালত। তখন তিনি বলেন, “ফ্রান্সে বৈধভাবে বসবাস করার আবেদন করি। কিন্তু সেটা হয়নি। এরপর সেখান থেকে আমাকে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বিমানবন্দর থেকে ২০১৯ সালে আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২৫ দিন গুম রেখে গেন্ডারিয়া থানার মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়।”

আদালত বলেন, “ওই সময় তো সময় ছিল অন্যদল। আপনি কার লোক?”

জবাবে মামুন বলেন, “আমি কারো লোক না।”

কি অভিযোগে মামলা দেওয়া হয়, বিচারক জানতে চাইলে মামুন বলেন, “স্বামীবাগে মন্দিরের কাছে লোকজন নিয়ে ঘোরাঘুরি করেছি, এই অভিযোগে। আমার কাছ থেকে জোর করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায় করা হয়। বলে, স্বীকারোক্তি না দিলে পাঁচটা মামলা দেবে।”

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে কী বলেছেন মামুন, তা জানতে চান বিচারক।

মামুন বলেন, “তারা পেন ড্রাইভে লিখে দিয়েছিল। সেটায় বলেছি।”

কী লিখে দিয়েছিল, বিচারমের এ প্রশ্নে তিনি বলেন, “বিদেশ থেকে ফিরে আসছি। স্বামীবাগ মন্দিরের কাছে দলবল নিয়ে ঘোরাফেরা করেছি।”

বিচারক বলেন, “বৈধ কাগজপত্র না থাকলে তো এভাবে বিদেশ যাওয়া ঠিক না। দেশের জন্য ভালো না।”

পরে আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দেয়।

সৌদি প্রবাসী যুবকের বাড়িতে ২ নারীর অনশন

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুলাই ২১, ২০২৬
সৌদি প্রবাসী যুবকের বাড়িতে ২ নারীর অনশন

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে নাজমুল ইসলাম (৩০) নামে এক সৌদি প্রবাসীর বাড়িতে স্ত্রীর অধিকারের দাবিতে এক সপ্তাহ ধরে একসঙ্গে দুই নারী অনশন করছেন। উপজেলার সাতপোয়া ইউনিয়নের চর সরিষাবাড়ী উত্তরপাড়া এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে।

জানা গেছে, নাজমুল ওই এলাকার আমবাজ আলীর ছেলে। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন। তিনি এর আগেও এক নারীকে বিয়ে করেছিলেন। বিদেশে যাওয়ার আগে তিনি সেই নারীকে তালাক দেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই দুই নারীর সঙ্গে আলাদাভাবে নাজমুলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রবাসে থাকা অবস্থায় দুই নারীর সঙ্গেই নিয়মিত যোগাযোগ করতেন তিনি। গত ৪ জুলাই ছুটিতে দেশে ফেরেন তিনি। এরপর কামরাবাদ ইউনিয়নের হেলেঞ্চাবাড়ি গ্রামের এক নারীকে তিনি বিয়ে করেন।

এর তিন দিন পর ৭ জুলাই কাজিপুর উপজেলার মনসুরনগর ইউনিয়নের এক নারীকে তিনি বিয়ে করেন।
দুই বিয়ে সম্পন্ন করে তিনি বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। পরে তার দুই স্ত্রী স্বামীর খোঁজে শ্বশুরবাড়ি এসে দেখেন তার কোনো হদিস নেই। এ অবস্থায় স্ত্রীর অধিকার পেতে তারা এক সপ্তাহ ধরে সেখানে একসঙ্গেই অনশনে আছেন।’

নাজমুলের বাবা আমবাজ আলী জানান, হেলেঞ্চাবাড়ির মেয়েটির সঙ্গে আগে তার ছেলের বিয়ের আলোচনা হয়। তবে তিনি তখন তাকে বিয়ে না করে অন্য মেয়েকে বিয়ে করেন। পরে তিনি তাকে তালাক দিয়ে বিদেশে চলে যান।

তিনি বলেন, শুনেছি বিদেশ থেকেও নাকি মেয়েটির সঙ্গে নাজমুল যোগাযোগ রেখেছিল। দেশে এসে আমাদের না জানিয়ে নিজের ইচ্ছায় বিয়ে করেছে।

নাজমুলের মা শাহনাজ বেগম জানান, দ্বিতীয় মেয়েটি তার ছোট ছেলের স্ত্রীর বড় বোন। সম্প্রতি তার মা এসে তাকে তাদের বাড়িতে রেখে গেছেন। এখন তারা কি করবেন কিছুই বুঝে উঠতে পারছেন না।

এদিকে, অনশনরত দুই নারী জানান, তারা একে অপরের বিয়ের ব্যাপারে জানতেন। নাজমুল তাদের দুজনকেই রেজিস্ট্রি করে বিয়ে করেছেন। এখন স্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব না নিয়ে তিনি পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। ছেড়ে যাওয়ার জন্য তারা তাকে বিয়ে করেননি। তিনি দুজনকে নিয়ে সংসার করবেন, নাকি একজনকে নিয়ে, সেই সিদ্ধান্ত তাকেই নিতে হবে।

এ বিষয়ে কথা বলতে অভিযুক্ত নাজমুলের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। সরিষাবাড়ী থানার ওসি মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জেল খেটে খালি হাতে, এক কাপড়ে দেশে ফিরলেন ৭৬ প্রবাসী

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুলাই ২১, ২০২৬
জেল খেটে খালি হাতে, এক কাপড়ে দেশে ফিরলেন ৭৬ প্রবাসী

সৌদি আরবে কারাভোগ শেষে খালি হাতে দেশে ফিরেছেন ৭৬ জন বাংলাদেশি প্রবাসী। সোমবার (২০ জুলাই) সকালে তারা চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। বিদেশে স্বপ্নভঙ্গের এই করুণ বাস্তবতা আবারও প্রবাস জীবনের অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকিকে সামনে এনে দিয়েছে।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, সকাল ৭টা ৪৬ মিনিটে ওমানের সালাম এয়ারের ওভি-৪০১ ফ্লাইটে ওই প্রবাসীরা দেশে ফেরেন। ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ক্ষতিগ্রস্তদের তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদান করে।

ফিরে আসা প্রবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ১৮ জনকে জরুরি সহায়তা দেওয়া হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত ‘প্রত্যাশা-২’ প্রকল্পের আওতায় তাদের খাবার ও নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য যাতায়াত ভাতা দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা সবাই বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বৈধ পথেই সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পরই শুরু হয় নানা সমস্যার। অনেকের নিয়োগকর্তা নির্ধারিত সময় শেষে আকামা নবায়ন করেননি। আবার অনেককে বৈধ কাগজপত্রের আশ্বাস দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বৈধ কাগজপত্র না থাকায় স্থানীয় পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। দেশে ফেরার আগে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাগারে মানবেতর জীবন কাটাতে হয়েছে।

নেত্রকোনার বাসিন্দা মো. রাসেল জানান, তিনি চার লাখ টাকা ঋণ নিয়ে দালালের মাধ্যমে দুই বছর আগে সৌদি আরবে যান। শুরুতে কোনো কাজ পাননি। পরে মরুভূমিতে উটের খামারে কাজ পেলেও নিয়মিত বেতন পাননি। আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ১৬ দিন কারাভোগ শেষে এক কাপড়ে দেশে ফিরেছেন তিনি।

খুলনার ইব্রাহীম শেখ বলেন, ১৫ মাস বিদেশে থাকলেও প্রথম পাঁচ মাস কোনো কাজ পাননি। পরবর্তী সময় কাজ করলেও মাত্র পাঁচ মাসের বেতন পেয়েছেন। বকেয়া বেতন চাইলে মালিক দায় চাপান দালালের ওপর। পরে দেশে ফেরার জন্য আরেক দালালকে টাকা দিলে তিনি উল্টো পুলিশের হাতে তুলে দেন। ২১ দিন কারাভোগ শেষে দেশে ফিরতে হয়েছে তাকে।

বাগেরহাটের সেলিম শিকদার জানান, ছয় মাস কাজ করেও বেতন না পাওয়ায় পাওনা দাবি করলে নিয়োগকর্তা তার বিরুদ্ধে মামলা করেন। এরপর ২২ দিন কারাভোগ শেষে দেশে ফিরতে বাধ্য হন।

ফিরে আসা প্রবাসীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দেশি-বিদেশি দালাল ও কিছু অসাধু এজেন্সির ভিসা জালিয়াতির কারণে তারা চরম আর্থিক ও মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন। এতে সৌদি আরবে বাংলাদেশের শ্রমবাজারও হুমকির মুখে পড়ছে বলে তারা মনে করছেন।

তারা সরকারের কাছে দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি বিদেশগামীদের দালালের প্রলোভনে পা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৪৫ হাজারের বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বিদেশফেরত অভিবাসীকে জরুরি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শুধু চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়েই ৫ হাজারের বেশি প্রবাসী এই সহায়তা পেয়েছেন।

সব মিলিয়ে, এই ৭৬ প্রবাসীর করুণ অভিজ্ঞতা শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতির গল্প নয়, বরং এটি একটি বড় সতর্কবার্তা। বৈধ পথেও ঝুঁকি থাকায় বিদেশে যাওয়ার আগে সঠিক তথ্য, নির্ভরযোগ্য মাধ্যম এবং সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় স্বপ্নের সন্ধানে গিয়ে অনেকের জীবনই দুর্বিষহ হয়ে উঠতে পারে।

কাতারের ফাদার আমিরের মৃত্যুতে বাংলাদেশ দূতাবাসের শোক সভা ও বিশেষ মোনাজাত

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুলাই ২১, ২০২৬
কাতারের ফাদার আমিরের মৃত্যুতে বাংলাদেশ দূতাবাসের শোক সভা ও বিশেষ মোনাজাত

কাতারের বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির পিতা কাতারের সাবেক আমির এবং আধুনিক কাতারের রুপকার শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির মৃত্যুতে স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস কাতার। কাতারের স্থানীয় সময় সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টায় দোহা আল হিলাল বাংলাদেশ দূতাবাসে এ স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ হযরত আলী খানের সভাপতিত্বে ও কাউন্সেলর পলিটিক্যাল ও দূতালয় প্রধান মোহাম্মদ বারিকুল ইসলামের পরিচালনায়।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রম কাউন্সিলর মোহাম্মদ মাশহুদুল কবীর, সামরিক উপদেষ্টা সরদার ইশতিয়াক আহমেদ, প্রথম সচিব ভিসা পাসপোর্ট মো. ময়নুল ইসলাম ও শ্রম প্রথম সচিব শোয়েব আহমদ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে কাতারের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, বাংলাদেশ দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কাতার প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিপুল সংখ্যক সাধারণ নাগরিক উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও দোহায় কর্মরত ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার বিপুল সংখ্যক সংবাদকর্মী ও সাংবাদিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

প্রয়াত ফাদার আমিরের আমলে কাতার ও বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়ন এবং প্রবাসীদের কল্যাণে তাঁর গৃহীত দূরদর্শী পদক্ষেপগুলোর কথা স্মরণ করে বক্তারা গভীর শোক ব্যক্ত করেন।

স্মরণসভা শেষে মরহুম শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতে আধুনিক কাতার গঠনে তাঁর অসামান্য অবদানকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয় এবং কাতারের জনগণ ও আল থানি রাজপরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করে সার্বিক শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা কামনা করা হয়।

শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি ১৯৯৫ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত কাতারের আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি ক্ষমতা তার ছেলে শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির কাছে হস্তান্তর করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।

গৃহহীন হয়ে রাস্তায় বহু প্রবাসী বাংলাদেশী, দূতাবাসের সহযোগিতা না পাওয়ার দাবি

প্রকাশ: রবিবার, জুলাই ১৯, ২০২৬
গৃহহীন হয়ে রাস্তায় বহু প্রবাসী বাংলাদেশী, দূতাবাসের সহযোগিতা না পাওয়ার দাবি

কুয়েতে বাসস্থান হারিয়ে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশী শ্রমিকের দিন-রাত কাটছে রাস্তা কিংবা খোলা জায়গায়। গত বুধবার (১৫ জুলাই) থেকে শুরু হওয়া এ সংকট এখন তীব্র আকার ধারণ করেছে।

গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমে গতকাল দেশটির তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তীব্র এ গরমে অনেক প্রবাসী অসুস্থ হয়ে পড়লেও বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে তেমন কোনো সহযোগিতা মিলছে না বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন।

কুয়েতের সরকারি পরিসংখ্যানের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, কুয়েতে প্রায় সাড়ে তিন লাখ বাংলাদেশী শ্রমিক বসবাস করছেন। এসব শ্রমিকের অনেকেই এখন বাসস্থান সংকটের মুখে। গত ১৫ জুলাই রাতে আকস্মিকভাবে দেশটির জিলিব আল-শুয়ুখ, হাসাবিয়া ও আব্বাসিয়া এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবন উচ্ছেদ এবং অবৈধ অভিবাসীবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়।

কুয়েতের প্রথম উপপ্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ ফাহাদ ইউসুফ সৌদ আল-সাবাহর সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ অভিযানে সেনাবাহিনী, ন্যাশনাল গার্ড, ফায়ার ফোর্স, বিদ্যুৎ ও পানি মন্ত্রণালয়, গণপূর্ত এবং বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় যৌথভাবে অংশ নেয়। অভিযানে আইন লঙ্ঘনকারী ভবনগুলোর বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়। একই সঙ্গে ভবনের মালিকসহ সংশ্লিষ্টদের জরিমানা করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১১ মাসে (জুলাই-মে) কুয়েত প্রবাসীরা ১৬১ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কুয়েত থেকে আসা রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ১৬৩ কোটি ডলার। রেমিট্যান্স আহরণের ক্ষেত্রে কুয়েতের অবস্থান অষ্টম স্থানে রয়েছে।

টানা তিনদিন খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করা কুয়েতপ্রবাসী বাংলাদেশী আবদুল কাইয়ুম বলেন, ‘বুধবার রাত ১২টার দিকে হঠাৎ করেই বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বাসা থেকে বের করে দেয়া হয়। ওই সময় থেকে রাস্তায় রাত-দিন কাটছে। ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় গায়ের চামড়া পুড়ে যাচ্ছে। টানা তিনদিন ঘুমহীন, গোসল ও পানিছাড়া। এ পরিস্থিতির মধ্যে আর টিকে থাকা সম্ভব হচ্ছে না।’ আবদুল কাইয়ুম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘শুনেছি বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে কেউ একজন এ এলাকায় এসেছিল। কিন্তু এখানে থাকা শত শত বাংলাদেশীর কেউ তাদের দেখেনি। দূতাবাসের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা পাইনি।’

কুয়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযানে মূলত অনিরাপদ ও অবৈধ ভবন, রাষ্ট্রীয় জমিতে অবৈধ দখলদারত্ব, অতিরিক্ত ঘনবসতিপূর্ণ আবাসন, আকামা (বসবাসের অনুমতি) লঙ্ঘনকারী, পলাতক ব্যক্তি এবং আবাসিক এলাকায় লাইসেন্সবিহীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

অভিযানের পর অনেক বাড়িওয়ালা রাতারাতি ঘর ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন, যার ফলে অনেক প্রবাসী আশ্রয় হারিয়ে রাস্তায় নেমে এসেছেন। বাসা ভাড়াও বাড়ার পাশাপাশি হঠাৎ সামর্থ্যের মধ্যে বাসা খুঁজে পাচ্ছেন না অনেকে। এসব এলাকায় আগে যেখানে কুয়েতি ২০০ দিনার (৮০ হাজার টাকা) থেকে ২৫০ দিনার (প্রায় ১ লাখ টাকা) এর মধ্যে বাসা ভাড়া পাওয়া যেত, এখন সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০০-৫০০ দিনার। বাংলাদেশী টাকায় দেড় লাখ থেকে ২ লাখ টাকার সমপরিমাণ অর্থে বাসা ভাড়া নেয়া অনেক প্রবাসীরই আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

উচ্ছেদের শিকার এসব এলাকার প্রবাসীরা জানান, হাসাবিয়া ও আব্বাসিয়া—এ দুই এলাকায় সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশী থাকেন। আনুমানিক ১০ হাজারেরও বেশি প্রবাসী থাকেন এখানে। গত বুধবার মাঝরাতে হঠাৎ পুলিশ এসে প্রায় সবাইকে বের করে দেয়। এরপর থেকেই দিন কাটছে অনিশ্চয়তায়। ভবঘুরের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছেন রাস্তাঘাটে। কেউ কেউ নতুন বাসা খোঁজার চেষ্টা করছেন, কিন্তু আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় বেশির ভাগ প্রবাসীই খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন।

উচ্ছেদ করা আব্বাসিয়া এলাকায় দুই বছর ধরে বসবাস করছিলেন নড়াইলের রিয়াজুল ইসলাম। এখন কাটছে খোলা আকাশের নিচে। রিয়াজুল বলেন, ‘রাত ৩টার দিকে হঠাৎ দরজায় লাথির শব্দ শুনে খুলে দেখি পুলিশ। তারা সবাইকে পাসপোর্ট, মোবাইল আর আকামা নিয়ে ৫ মিনিটের মধ্যে রুম থেকে বের হওয়ার নির্দেশ দেয়। এরপর পানি, বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। কে বৈধ বা অবৈধ সেটা দেখার জন্য সবার আইডিও চেক করে। ভোর ৬টা পর্যন্ত সবাইকে এক জায়গায় বসিয়ে রাখে। অনেকেই প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে বের হতে পারেনি। তাই পরদিন আবার এসব ভবনে এসে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নেন। এ সময় অনেকে কোথাও যাওয়ার উপায় না পেয়ে ভবনের ছাদে রাতে আশ্রয় নেন। তবে পুলিশ লাঠিচার্জ করে সবাইকে বের করে দিয়েছে।’

বাড়ি ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে জানিয়ে রিয়াজুল ইসলাম আরো বলেন, ‘আগে যেখানে আমরা ২০০-২৫০ দিনার খরচ করে বাসায় থাকতাম, এখন খোঁজ নিয়ে দেখলাম দুই-তিন রুমের একই ফ্ল্যাটের ভাড়া ৪০০-৫০০ দিনার। এটা অনেকেরই সামর্থ্যের বাইরে।’

উচ্ছেদের পরদিন ১৬ জুলাই কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, উচ্ছেদের শিকার প্রবাসীদের একটি সরকারি স্কুলে অস্থায়ী শেল্টার হাউজে থাকার ব্যবস্থা করেছে দেশটির সরকার। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘অভিযানের ফলে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তি ও পরিবারগুলো তাদের বৈধ অবস্থানের প্রয়োজনীয় প্রমাণ উপস্থাপন সাপেক্ষে অস্থায়ীভাবে শেল্টার হাউজে অবস্থান করতে পারবে। তবে সেখানে অবস্থানকালে তারা কর্মস্থলে যোগদান বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে শেল্টার হাউজ ত্যাগ করতে পারবেন না।’

এছাড়া বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সেলর ও চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ও দূতাবাসের শ্রম কল্যাণ উইংয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউন্সেলর (শ্রম) শোয়াইব-উল-ইসলাম তরফদারসহ একটি প্রতিনিধি দল ওই শেল্টার হাউজে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নেয়া প্রবাসী বাংলাদেশীদের সার্বিক অবস্থা সরজমিনে পরিদর্শন করেছেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

অস্থায়ীভাবে শেল্টার হাউজে অবস্থানকালে কর্মস্থলে যোগদান বা কোনো উদ্দেশ্যে শেল্টার হাউজ ত্যাগ করার সুযোগ না থাকায় অনেক প্রবাসীই এ আশ্রয় কেন্দ্রে যাননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রবাসী বলেন, ‘আমরা যেসব প্রবাসী এখানে থাকতাম তারা কম খরচে থাকতে পারতাম। যেহেতু ভবনগুলো পুরনো, তাই ভাড়াও কম ছিল। উচ্ছেদের বিষয়ে আমাদের মালিক পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি। তারা হয়তো ভাড়ার জন্য আমাদের উচ্ছেদের তথ্য গোপন রেখেছে। দূতাবাস থেকেও কিছু জানতে পারিনি। তাহলে বাসা ছাড়ার একটা প্রস্তুতি থাকত। এসব ভবনে আমাদের মতো সাধারণ কর্মজীবী লোকজন থাকে। হঠাৎ করে রাতের মধ্যে সবাইকে বাসা থেকে বের করে দেয়। এত পরিমাণ বাংলাদেশীর জন্য দূতাবাসের তেমন কোনো উদ্যোগ নেই। তারা শুধু শেল্টারে গিয়ে পরিদর্শন করেছেন কিন্তু যারা ভবঘুরের মতো রাস্তায় থাকছেন তাদের খবর কেউ নিচ্ছে না।’

কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা যায়, প্রবাসীরা যেসব ভবনে থাকতেন সেখানে উচ্ছেদের বিষয়টি অনেক পুরনো। যেহেতু সরকার বাড়ির মালিকের কাছে নোটিস পাঠায়, তাই মালিকরা ভাড়া হারানোর ভয়ে হয়তো ভাড়াটিয়াদের কোনো তথ্য জানায়নি। তাই হঠাৎ উচ্ছেদে বিপাকে পড়েছেন প্রবাসীরা।

সরকারিভাবে যে শেল্টারে অস্থায়ীভাবে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে, সেখান থেকে বের হওয়া বা কাজে যোগ দেয়ার সুযোগ নেই। শেল্টার থেকে বের হতে হলে উচ্ছেদ করা এলাকার ভবনের বাইরে থাকার জায়গা আছে মর্মে মুচলেকা দিয়ে বের হতে হবে প্রবাসীদের। তাই অনেকেই শেল্টারে আসেননি। আবার শেল্টারে না আসা উদ্বাস্তু অবস্থায় থাকা প্রবাসীদের জন্য দূতাবাসের পক্ষ থেকে কোনো একটি ভবন ভাড়া নিয়ে সেখানে রাখার ব্যবস্থা করার মতোও পরিস্থিতিও নেই বলে জানায় দূতাবাস সূত্রটি।

কুয়েতের বর্তমান এ পরিস্থিতির বিষয়ে ভালোভাবে অবগত নন বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, ‘আমাদের দূতাবাসের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব, সর্বোচ্চ সহায়তা করা হবে।

কুয়েত সরকার যদি কোনো ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে সেখানে বসবাসে নিষেধাজ্ঞা দেয়, সেটি তাদের রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত। আমাদের দেশেও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অনেক সময় সরকার সিলগালা করে দেয়। কুয়েতেও যদি এমন কোনো বিষয় হয়ে থাকে, তাহলে বিস্তারিত জেনে আমাদের পক্ষ থেকে যা করণীয়, সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া হবে। আলোচনার মাধ্যমে যতটুকু সহায়তা করা সম্ভব, আমরা তা করব।’

উগ্রবাদ-সংশ্লিষ্ট পোস্ট দেওয়ায় সিঙ্গাপুরে দুই বাংলাদেশির ওয়ার্ক পারমিট বাতিল

প্রকাশ: শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬
উগ্রবাদ-সংশ্লিষ্ট পোস্ট দেওয়ায় সিঙ্গাপুরে দুই বাংলাদেশির ওয়ার্ক পারমিট বাতিল

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উগ্রবাদ-সংশ্লিষ্ট পোস্ট প্রকাশের অভিযোগে দুই বাংলাদেশির কাজের অনুমতি (ওয়ার্ক পারমিট) বাতিল করেছে সিঙ্গাপুর। তদন্ত শেষে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

ওই দুই বাংলাদেশির নাম রিশাদ তায়ানী ও সাহেদুল ইসলাম। তদন্ত শেষে গত ৮ জুলাই তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। শুক্রবার (১৭ জুলাই) দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (আইএসডি) এ তথ্য জানিয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ করেছে সিএনএ।

বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর একই দিন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থানার পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। পরদিন আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আইএসডি জানায়, বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করা হয়েছে। তবে তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।