২৩ জুলাই ২০২৬

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৩, ২০২৬
সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার প্রয়োগ সহজ করা এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

আজ বুধবার (২২ জুলাই) অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে প্রবাসীদের ভোটদান প্রক্রিয়া আরও সহজ ও কার্যকর করা, এনআইডি নিবন্ধনের দীর্ঘসূত্রতা কমানো এবং নাগরিকদের এনআইডি সংশোধন ও ভোটার এলাকা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠকে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে ‘আউট অব কান্ট্রি ভোটিং-সাপোর্ট ডেক্স ইন্টিগ্রেশন’ (ওসিভি-এসডিআই) প্রকল্পের কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। এ প্রকল্পের আওতায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা তথ্যপ্রযুক্তি-সমর্থিত ডাকযোগে ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এ ব্যবস্থায় ইতোমধ্যে ৭ লাখ ৬৩ হাজার ২৩৩ জন প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন করেছিলেন। তাদের মধ্যে ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৩৭৮ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন এবং রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছানো ব্যালটের মধ্যে ৪ লাখ ৭১ হাজার ৯৭৩টি ভোট বৈধ হিসেবে গণ্য হয়।

প্রবাসীদের জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা কমাতেও নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান ব্যবস্থায় প্রবাসীদের বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ ও আবেদনের পর দেশে একাধিক ধাপে তদন্ত করা হতো। নতুন ব্যবস্থায় বায়োমেট্রিক তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে অনলাইনে আপলোড করা হবে। এরপর ঢাকায় প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে সব তথ্য সঠিক পাওয়া গেলে অতিরিক্ত একটি তদন্ত ধাপ বাদ দিয়ে সরাসরি এনআইডি অনুমোদনের ব্যবস্থা করা হবে। এতে প্রবাসীদের এনআইডি পাওয়ার সময় ও জটিলতা দুটোই কমবে বলে মনে করছে কমিশন।

এ ছাড়া বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি সেবা আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সিঙ্গাপুর, বাহরাইন ও সুইডেনে প্রবাসীদের জন্য ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি সেবা চালুর সম্ভাব্যতা যাচাই করতে চলতি মাসেই তিন নির্বাচন কমিশনার দেশগুলো সফর করবেন বলে বৈঠকে জানানো হয়।

নাগরিকদের এনআইডি সংশোধন প্রক্রিয়াও সহজ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। জেএসসি, এসএসসি বা পিএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষার সনদে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন এখন থেকে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের পরিবর্তে মাঠপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কার্যালয় থেকেই নিষ্পত্তি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে সাধারণ নাগরিকদের এনআইডি সংশোধনে ভোগান্তি ও সময় দুটোই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদনও অনলাইনে করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে নাগরিকরা অনলাইনের মাধ্যমে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন করতে পারবেন। এর ফলে ভোটার স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় নাগরিকদের সরাসরি কার্যালয়ে গিয়ে আবেদন করার প্রয়োজন কমবে।

ভবিষ্যতে ছয় বছর বয়সী শিশুদেরও জাতীয় পরিচয়পত্রের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিশুদের নিবন্ধনের মাধ্যমে এনআইডি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পরবর্তী সময়ে তাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন সংশোধন নিয়েও বেশ কিছু সুপারিশ চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রস্তাবিত সংশোধন অনুযায়ী ঋণখেলাপি, বিলখেলাপি এবং দ্বৈত নাগরিকত্বধারীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না দেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে।

এ ছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞার আওতায় সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগ, এনআইডি সেবা গ্রহণ এবং সাধারণ নাগরিকদের ভোটারসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বৈশ্বিক পাসপোর্ট সূচকে একই অবস্থানে বাংলাদেশ ও উত্তর কোরিয়া

প্রকাশ: বুধবার, জুলাই ২২, ২০২৬
বৈশ্বিক পাসপোর্ট সূচকে একই অবস্থানে বাংলাদেশ ও উত্তর কোরিয়া

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় ফের পিছিয়েছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের জুলাই মাসে প্রকাশিত হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান নেমে এসেছে ৯৭তম স্থানে। বছরের শুরুতে যদিও এ অবস্থান ছিল ৯৫তম স্থানে। একই অবস্থানে রয়েছে উত্তর কোরিয়াও।

লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স মঙ্গলবার (২১ জুলাই) তাদের ওয়েবসাইটে সর্বশেষ সূচক প্রকাশ করে। বিশ্বের ১৯৯টি দেশের পাসপোর্ট এবং ২২৭টি সম্ভাব্য ভ্রমণ গন্তব্যের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ সূচক তৈরি করা হয়েছে। কোনো দেশের নাগরিক আগাম ভিসা ছাড়া বা অন অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধায় কতটি দেশে প্রবেশ করতে পারেন, সেটিই এই সূচকের মূল ভিত্তি।

সূচক অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা বর্তমানে আগাম ভিসা ছাড়া বা অন অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধায় বিশ্বের ৩৫টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন। জানুয়ারি ২০২৬ এবং ২০২৫ সালের সূচকে এ সংখ্যা ছিল ৩৭। অর্থাৎ ছয় মাসের ব্যবধানে বাংলাদেশ দুইটি ভিসামুক্ত বা সহজ ভিসা সুবিধার গন্তব্য হারিয়েছে।

তবে ভিসামুক্ত দেশের সংখ্যা কমলেও গত বছরের এ সময়ের থেকেও তিন ধাপ উন্নত হয়েছে বাংলাদেশের অবস্থান। সেসময় বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১০০তম। নতুন সূচক অনুযায়ী, বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে ৯৭তম অবস্থানে রয়েছে উত্তর কোরিয়া। ২০২৫ সালের সূচকে উত্তর কোরিয়ার অবস্থান ছিল ৯৯তম। সর্বশেষ হালনাগাদে দেশটির অবস্থানেরও পরিবর্তন হয়েছে এবং দুই দেশ একই কাতারে এসেছে।

বাংলাদেশের মতো উত্তর কোরিয়ার পাসপোর্ট দিয়ে মোট ৩৫টি দেশে কোনো অগ্রিম ভিসা ছাড়া প্রবেশ করা যায়। এর মধ্যে সম্পূর্ণ ভিসামুক্ত দেশের সংখ্যা প্রায় ৮ থেকে ১০টি। বাকি প্রায় ২৫ থেকে ২৭টি দেশে উত্তর কোরিয়ার নাগরিকরা ভিসা অন অ্যারাইভাল বা পৌঁছানোর পর ভিসা নেওয়ার সুবিধা পান।

বিগত কয়েক বছরের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০২০ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৯৮তম। এরপর ২০২১ সালে নেমে যায় ১০৮তম স্থানে। ২০২২ সালে অবস্থান হয় ১০৩তম এবং ২০২৩ সালে ১০১তম। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ আবার ৯৭তম স্থানে উঠে আসে। ২০২৫ সালে অবস্থান নেমে যায় ১০০তমে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে উন্নতি হয়ে ৯৫তম হলেও জুলাইয়ে তা আবার ৯৭তম হয়েছে।

সূচকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের মর্যাদা ধরে রেখেছে সিঙ্গাপুর। দেশটির নাগরিকরা আগাম ভিসা ছাড়াই বিশ্বের ১৯২টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এসব দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসামুক্ত বা সহজ প্রবেশযোগ্য গন্তব্য ১৮৮টি।

তৃতীয় স্থানে রয়েছে সুইডেন, যার পাসপোর্ট দিয়ে ১৮৭টি দেশে ভ্রমণ করা যায়। চতুর্থ স্থানে রয়েছে বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে ও স্পেন। এসব দেশের নাগরিকরা ১৮৬টি দেশে আগাম ভিসা ছাড়াই যেতে পারেন।

পঞ্চম স্থানে রয়েছে অস্ট্রিয়া, গ্রিস, মাল্টা, পর্তুগাল ও সুইজারল্যান্ড। এসব দেশের নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে ১৮৫টি গন্তব্য। ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য। সপ্তম স্থানে আছে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, চেক প্রজাতন্ত্র, লাটভিয়া, মালয়েশিয়া, নিউজিল্যান্ড, স্লোভাকিয়া ও স্লোভেনিয়া। অষ্টম স্থানে রয়েছে ক্রোয়েশিয়া ও এস্তোনিয়া। নবম স্থানে লিচেনস্টেইন ও লিথুনিয়া এবং দশম স্থানে রয়েছে আইসল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র।

এবার ও একই অবস্থানে রয়েছে ফুটবলের দুই পরাশক্তি ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। দুটি দেশের অবস্থান ১৬তম এবং তাদের নাগরিকরা আগাম ভিসা ছাড়াই ১৬৯টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন।

যুদ্ধরত ইউক্রেন রয়েছে ৩১তম এবং রাশিয়া ৪৭তম অবস্থানে। ইউক্রেনের নাগরিকরা ১৪২টি এবং রাশিয়ার নাগরিকরা ১১৪টি দেশে ভিসামুক্ত বা সহজ প্রবেশ সুবিধা পান।

ইসরায়েল রয়েছে ১৮তম অবস্থানে। দেশটির নাগরিকরা ১৬৬টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন। অন্যদিকে ইরান ও ফিলিস্তিন যৌথভাবে ৯৬তম অবস্থানে রয়েছে, যেখানে ভিসামুক্ত গন্তব্য ৩৭টি।

মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরব রয়েছে ৫৪তম অবস্থানে। চীন কসোভোর সঙ্গে যৌথভাবে ৬০তম এবং হাইতি ও ভিয়েতনাম রয়েছে ৮৭তম স্থানে।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্ট মালদ্বীপের। দেশটি ৫২তম অবস্থানে রয়েছে এবং তাদের নাগরিকরা ৯৩টি দেশে ভিসামুক্ত বা সহজ প্রবেশ সুবিধা পান। এরপর রয়েছে ভারত, যার অবস্থান ৮১তম এবং ভিসামুক্ত গন্তব্য ৫৫টি। ভুটান রয়েছে ৮৮তম স্থানে, মিয়ানমার ৯১তম এবং শ্রীলঙ্কা ৯৪তম অবস্থানে।

বাংলাদেশ রয়েছে ৯৭তম স্থানে, যেখানে ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল সুবিধার দেশ ৩৫টি। বাংলাদেশের ঠিক পরেই ৯৮তম অবস্থানে রয়েছে নেপাল। দেশটির নাগরিকরা ৩৪টি দেশে সহজে ভ্রমণ করতে পারেন।

অন্যদিকে পাকিস্তান রয়েছে ১০১তম অবস্থানে এবং তাদের নাগরিকদের জন্য ভিসামুক্ত গন্তব্য ২৯টি। সিরিয়া ১০৩তম, ইরাক ১০২তম এবং আফগানিস্তান ১০৪তম অবস্থানে রয়েছে। আফগানিস্তানের নাগরিকরা মাত্র ২২টি দেশে আগাম ভিসা ছাড়াই ভ্রমণ করতে পারেন, যা সূচকের সর্বনিম্ন।

প্রবাসী কার্ডধারীদের জন্য বিমান টিকিট ও লাউঞ্জসহ বিশেষ সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করা হবে

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুলাই ২১, ২০২৬
প্রবাসী কার্ডধারীদের জন্য বিমান টিকিট ও লাউঞ্জসহ বিশেষ সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করা হবে

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেছেন,প্রবাসীদের সকল ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতে আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স টিকেট এবং বলাকা লাউঞ্জ ব্যবহারে বিশেষ ডিসকাউন্ট প্রদানের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার বেলা ১১টায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রবাসী কার্ড বিতরণে বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের করণীয় সম্পর্কে অবহিতকরণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী বলেন, আমরা ইতোমধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী সাধারণের সুবিধার্থে শাটল বাস সার্ভিস চালু করেছি। প্রবাসীদের জন্য হয়রানিমুক্ত বিমানসেবা নিশ্চিতে আমরা বদ্ধপরিকর।

প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের হোটেল-মোটেলগুলোতেও আমরা প্রবাসীদের জন্য বিশেষ ছাড় প্রদানের বিষয়ে ভাবছি। এছাড়া, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রবাসীদের জন্য পায়োরিটি চেক-ইন ও বোর্ডিং সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে। এসব সুবিধা মিলবে বর্তমান সরকারের প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে।

সভার শুরুতে বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের অন্তর্ভুক্ত প্রবাসী কার্ড বাস্তবায়নে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর কাছে বিভিন্ন সহযোগিতার ক্ষেত্রসমূহ উপস্থাপন করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

সভায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক) ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ও অধস্তন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক।

প্রকৃত পাসপোর্টধারীর বদলে অন্য নারীকে ইতালি পাচার, চক্রের ৭ সদস্য গ্রেপ্তার

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুলাই ২১, ২০২৬
প্রকৃত পাসপোর্টধারীর বদলে অন্য নারীকে ইতালি পাচার, চক্রের ৭ সদস্য গ্রেপ্তার

প্রকৃত পাসপোর্টধারীর পরিবর্তে অন্য এক নারীকে ইতালিতে পাঠানোর অভিযোগে সংঘবদ্ধ মানবপাচার ও ভিসা জালিয়াতি চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ ঘটনায় গুলশান থানায় মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা করা হয়েছে।

এ সময় তাদের কাছ থেকে ৫৬টি পাসপোর্ট, ১৫৩টি বিভিন্ন ধরনের সিল, একটি এম্বোস সিল, তিনটি সিপিইউ, একটি ল্যাপটপ এবং নগদ আড়াই লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, বেলায়েত হোসেন (৪০), মেহেদী হাসান (৩৭), সোলাইমান সুমন (৩২), ফজলে রাব্বী (২৭), তৌহিদুর রহমান (২৪) ও কাওসার হোসেন (৪২)।

সোমবার রাজধানীর গুলশান-১ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, গতকাল সিআইডির মানবপাচার শাখার (টিএইচবি) একটি চৌকস দল তাৎক্ষণিক গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর গুলশান থানাধীন গুলশান-১ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করে। এ বিষয়ে গুলশান থানায় মামলা হয়েছে।

সিআইডির মানবপাচার শাখা (টিএইচবি) পরিচালিত ওই অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতদের অফিস থেকে তিনটি সিপিইউ, একটি এইচপি ল্যাপটপ, বিভিন্ন ব্যক্তির নামে থাকা ৫৬টি পাসপোর্ট, সরকারি, বেসরকারি ও বিদেশি বিভিন্ন ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যবহৃত ১৫৩টি সিল, ১টি লোহার তৈরি এম্বোস সিল এবং নগদ দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী বাদীর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে বসবাস করছেন। স্বামী ও চার সন্তানকে নিয়ে ইতালিতে যাওয়ার আশায় বাদী দীর্ঘদিন ধরে ভিসা পাওয়ার চেষ্টা করে আসছিলেন।

একপর্যায়ে তিনি ইতালির দূতাবাসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও পাসপোর্ট জমা দেন। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর তার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে ইতালির দূতাবাস থেকে তাকে ফোন করে পাসপোর্ট নবায়নের বিষয়ে অবহিত করা হয়।

পাসপোর্ট সংগ্রহের জন্য তিনি দূতাবাসে গেলে সেখানে অত্র মামলার এজাহারনামীয় দুই নম্বর অভিযুক্ত নাজমুল হাসানের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। নাজমুল নিজেকে পাসপোর্ট নবায়নসহ ইতালির ভিসা করে দেওয়ার কাজে সক্ষম ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিয়ে তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাসপোর্ট নবায়ন করে দেওয়ার আশ্বাস দেয়।

পরবর্তীতে নাজমুল ওই নারীকে রাজধানীর গুলশান-১ এলাকার একটি ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যায় এবং সেখানে প্রতিষ্ঠানপ্রধান হিসেবে অত্র মামলার এজাহারনামীয় এক নম্বর অভিযুক্ত মো. বেলায়েত হোসেনের সঙ্গে তার পরিচয় করিয়ে দেয়।

অভিযুক্তরা ভিসা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ওই নারীর সঙ্গে আর্থিক চুক্তি করেন। পরে বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে মোট ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। টাকা পরিশোধের পর তাকে পাসপোর্ট ফেরত দেওয়া হয়।

এরপর ইতালিতে থাকা স্বামী স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য বিমানের টিকিট কাটেন। নির্ধারিত দিনে ভুক্তভোগী সন্তানদের নিয়ে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গেলে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা জানান, তার পাসপোর্টে থাকা ইতালির ভিসা ব্যবহার করে অন্য এক নারী গত ২৪ এপ্রিল ইতোমধ্যে ইতালি চলে গেছেন।

এ ঘটনায় হতবাক হয়ে তিনি সিআইডির মানবপাচার শাখায় অভিযোগ করেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি বিদেশে যেতে আগ্রহীদের ইতালির ভিসা ও উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিত। পরে কৌশলে তাঁদের পাসপোর্ট নিজেদের হেফাজতে রেখে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রকৃত পাসপোর্টধারীর পরিবর্তে অন্য ব্যক্তিকে বিদেশে পাঠানো হতো।

জব্দ করা ৫৬টি পাসপোর্ট ও ১৫৩টি সিল থেকে ধারণা করা হচ্ছে, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে ভিসা জালিয়াতি ও মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল।

সিআইডি আরও জানায়, চক্রের মূলহোতা হিসেবে গ্রেপ্তার বেলায়েত হোসেন ২০১৬ সাল থেকে একই কৌশলে প্রায় ৩০ জনকে ইতালিতে পাঠানোর সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য মিলেছে। একই ধরনের অপরাধে ২০২৪ সালে বিমানবন্দর থানায় দায়ের করা একটি মামলায় তিনি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন এবং মামলাটি বিচারাধীন।

অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আবু তালেব জানান, জব্দ করা পাসপোর্ট, সিল ও কম্পিউটারের ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে। পাশাপাশি অভিযুক্তদের আর্থিক লেনদেন, দেশি-বিদেশি সহযোগী এবং সম্ভাব্য আরও ভুক্তভোগীদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

সিআইডি বিদেশে কর্মসংস্থান বা অভিবাসনের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রলোভনে পড়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া অর্থ বা পাসপোর্ট হস্তান্তর না করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে সরকার অনুমোদিত বৈধ প্রক্রিয়ায় বিদেশ যাওয়ার এবং ভিসা জালিয়াতি বা মানবপাচারের সন্দেহ হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করেছে।

বাংলাদেশের পাসপোর্টে আবারও যুক্ত হলো ‘EXCEPT ISRAEL’

প্রকাশ: সোমবার, জুলাই ২০, ২০২৬
বাংলাদেশের পাসপোর্টে আবারও যুক্ত হলো ‘EXCEPT ISRAEL’

পাসপোর্টে আবারও ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শব্দবন্ধ যুক্ত করে নতুন আদেশ জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের স্বীকৃতি না দেওয়ার নীতির অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় পাসপোর্ট বইয়ের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর আগে ২০২১ সালের মে মাসে এ শব্দবন্ধটি পাসপোর্ট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।

পাশাপাশি পরিবর্তন আনা হয়েছে ই-পাসপোর্টের জলছাপেও, যেখানে যুক্ত করা হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ৩ শহীদের (আবু সাঈদ, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ ও ওয়াসিম আকরাম) ছবি। এ বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

রোববার (১৯ জুলাই) উপসচিব মোহাম্মদ নুরুজ্জামান সরকারি আদেশে বলা হয়েছে, ই-পাসপোর্ট বুকলেটে বিদ্যমান ছবি পুনর্বিন্যাস করে এর ডিজাইন পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও সংশোধন করে জলছাপগুলো সুবিন্যস্ত করা হলো।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী ৪৮ ও ৬৪ পৃষ্ঠার ই-পাসপোর্টের জলছাপে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিদ্যমান নকশা পুনর্বিন্যাস করে নতুন ডিজাইন চূড়ান্ত করা হয়েছে, যা ধাপে ধাপে নতুন ইস্যু হওয়া পাসপোর্টে সংযুক্ত করা হবে।

সরকারি আদেশ অনুযায়ী, পাসপোর্টের শুরুতে ডাটা পেজের বিপরীত অংশ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে পাসপোর্টে আবারও যুক্ত করা হয়েছে ‘THIS PASSPORT IS VALID FOR ALL COUNTRIES OF THE WORLD EXCEPT ISRAEL’ বা ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শব্দবন্ধ।

নতুন জলছাপে জাতীয় পাখি দোয়েল, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, জাতীয় স্মৃতিসৌধের শিখা অনির্বাণ এবং জাতীয় সংসদ ভবনের ছবি স্থান পেয়েছে।

নতুন নকশার অংশ হিসেবে ই-পাসপোর্ট থেকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধ, রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতার স্তম্ভ, মডেল মসজিদ, বঙ্গবন্ধু সেতু (যমুনা সেতু), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, নৌকাসহ কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের ছবি, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং মেহেরপুরের মুজিবনগর সরকারের স্মৃতিসৌধের ছবি বাদ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪-এর স্মারক হিসেবে শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ ও শহীদ ওয়াসিম আকরামের ছবি সংবলিত বিশেষ জলছাপ যুক্ত করা হয়েছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রতীকী ছবি হিসেবে দুই হাত প্রসারিত অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকা আবু সাঈদের ছবি, উত্তরার আজমপুরে পানির বোতল হাতে থাকা মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর ছবি এবং জাতীয় পতাকার জার্সি পরিহিত ওয়াসিম আকরামের ছবি। এই তিনটি ছবি ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪’ শিরোনামে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংশোধিত এই নকশা ৪৮ ও ৬৪ পৃষ্ঠার সব নতুন ই-পাসপোর্টে ব্যবহার করা হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ইতোমধ্যে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দেশে ৩টি মহাসড়কে প্রতি ১০ কিলোমিটারে থাকবে ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স

প্রকাশ: রবিবার, জুলাই ১৯, ২০২৬
দেশে ৩টি মহাসড়কে প্রতি ১০ কিলোমিটারে থাকবে ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স

সড়ক দুর্ঘটনার পর আহত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দেয়া অনেক সময়ই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠে। হাসপাতালে নিতে দেরি হলে বাড়ে মৃত্যুঝুঁকি।

এমন বাস্তবতায় সড়কে আহতকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে পৌঁছে দিতে দেশে প্রথমবারের মতো চালু হচ্ছে সমন্বিত দুর্ঘটনা-পরবর্তী জরুরি সেবা (পোস্ট-ক্র্যাশ রেসপন্স)। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন ‘বাংলাদেশ রোড সেফটি প্রজেক্ট’-এর আওতায় জয়দেবপুর চৌরাস্তা-টাঙ্গাইল-রাজশাহী, জয়দেবপুর চৌরাস্তা-ময়মনসিংহ ও সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল-রংপুর করিডোরে পরীক্ষামূলকভাবে ১০ কিলোমিটার পরপর একটি করে মোট ৬০টি বেসিক লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হবে।

দুর্ঘটনার পর প্রথম ১ ঘণ্টা বা ‘গোল্ডেন আওয়ার’-এর মধ্যে আহতকে চিকিৎসার আওতায় আনাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য। চলতি মাসের শেষ দিকে অথবা আগামী মাসের শুরুতেই সেবাটি চালুর পরিকল্পনা করছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)।

জানা গেছে, প্রতিটি অ্যাম্বুলেন্সে চালকের পাশাপাশি থাকবেন একজন প্রশিক্ষিত প্যারামেডিক বা মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট। তারা ঘটনাস্থলেই আহত ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেবেন। এরপর দ্রুত নিকটস্থ উপযুক্ত হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থা করবেন। ৬০টি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে কয়েকটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংরক্ষিত থাকবে।

পুরো সেবাটি পরিচালিত হবে একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে। প্রতিটি অ্যাম্বুলেন্সে জিপিএস ট্র্যাকার থাকবে। ফলে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে অ্যাম্বুলেন্সগুলোর অবস্থান সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা যাবে। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সবচেয়ে কাছের অ্যাম্বুলেন্সটি ঘটনাস্থলে পাঠানো হবে।

দুর্ঘটনার পর প্রাথমিক সহায়তা নিশ্চিত করতে মহাসড়কসংলগ্ন এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। তাদের ফার্স্ট এইড বক্সও সরবরাহ করা হবে, যাতে অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছার আগ পর্যন্ত আহত ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া যায়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এটি শুধু অ্যাম্বুলেন্স সেবা নয়; দুর্ঘটনার পর জরুরি চিকিৎসাসেবার একটি সমন্বিত ব্যবস্থা। বর্তমানে অ্যাম্বুলেন্স, প্রশিক্ষিত জনবল ও দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে অনেক আহত ব্যক্তি দুর্ঘটনার প্রথম ১ ঘণ্টার মধ্যেই মারা যায় বা পঙ্গুত্বের শিকার হয়। নতুন ব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় কল সেন্টার, জিপিএস-ভিত্তিক অ্যাম্বুলেন্স ট্র্যাকিং, প্রশিক্ষিত প্যারামেডিক ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে দ্রুত সাড়া দেয়ার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে।

এ সেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেয়া হবে। আহত ব্যক্তি বা তার পরিবারকে কোনো অর্থ ব্যয় করতে হবে না। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যয় প্রকল্পের অধীনে বহন করা হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জনবল নিশ্চিত করবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

জরুরি চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি নিরাপদ করিডোরগুলোয় সড়কের নকশা উন্নয়ন, সাইন ও রোড মার্কিং স্থাপন, পথচারীদের জন্য নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা এবং গতি নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেয়া হবে। ট্রাফিক ও হাইওয়ে পুলিশকে আধুনিক সরঞ্জাম দেয়া হবে। অতিরিক্ত গতিতে চলা ও অতিরিক্ত পণ্যবাহী যান শনাক্তে চালু হবে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি।

মহাসড়কগুলো সিসি ক্যামেরার আওতায় এনে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে। এসব কার্যক্রমে সওজ, বিআরটিএ, পুলিশ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করবে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার পর আহত ব্যক্তিকে দ্রুত চিকিৎসাসেবা দেয়ার জন্য এ ধরনের সমন্বিত ব্যবস্থা আগে ছিল না। প্রকল্পের অভিজ্ঞতা ইতিবাচক হলে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য মহাসড়কেও একই ধরনের ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে।

‘বাংলাদেশ রোড সেফটি প্রজেক্ট’-এর পরিচালক ও সওজের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাব্বির হাসান খান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘চলতি মাসেই ৬০টি অ্যাম্বুলেন্সের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ। এর অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য মহাসড়কেও একই ধরনের দুর্ঘটনা-পরবর্তী জরুরি সেবা চালু করা হবে।’