সিরিয়ার ক্রমবর্ধমান মানবিক ও স্বাস্থ্য সংকট নিরসনে এবং অর্থাভাবে চিকিৎসা নিতে অক্ষম রোগীদের পাশে দাঁড়াতে এক বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা কাতার চ্যারিটি। সংস্থাটি ঘোষণা করেছে যে, তাদের বিশ্বব্যাপী পরিচালিত 'দেফা বালা' (Dafa Balaa) অভিযানের অংশ হিসেবে সিরিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে সরাসরি সমন্বয় করে তারা দেশটিতে ৮৩০টিরও বেশি বিশেষায়িত ও জীবন রক্ষাকারী অস্ত্রোপচার পরিচালনা করছে।
কাতার চ্যারিটির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রোগীদের জীবন বাঁচানো, দৃষ্টি ও শ্রবণশক্তি ফিরিয়ে আনা এবং সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই এই জরুরি চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
যেসব বিশেষায়িত চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার অন্তর্ভুক্ত
প্রকল্পটির বর্তমান ধাপে সিরিয়ার বিভিন্ন বয়সের রোগীদের বিনামূল্যে নিচের চিকিৎসা সেবাগুলো প্রদান করা হচ্ছে:
ছানি অস্ত্রোপচার (ক্যাটারাক্ট সার্জারি): সুবিধাভোগী ৭৫০ জন রোগীকে বিনামূল্যে চোখের ছানি অপসারণ অস্ত্রোপচার এবং প্রয়োজনীয় চশমা প্রদান।
শিশুদের জন্মগত হৃদরোগের চিকিৎসা: জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুদের সুস্থ করে তুলতে ৭০টি বিশেষ অস্ত্রোপচার।
ওপেন-হার্ট সার্জারি: জটিল হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য ১০টি ওপেন-হার্ট সার্জারি।
ককলিয়ার ইমপ্লান্ট: শ্রবণপ্রতিবন্ধীদের শ্রবণশক্তি ফিরিয়ে দিতে ৬টি উন্নত প্রযুক্তির ককলিয়ার ইমপ্লান্ট পদ্ধতি।
দামেস্ক, আলেপ্পো, হোমস, হামা এবং ইদলিব গভর্নরেটসহ সিরিয়ার প্রধান প্রধান এলাকার ৮৩০ জনেরও বেশি দরিদ্র ও অসহায় রোগী এই দাতব্য স্বাস্থ্য সেবা প্রকল্পের মাধ্যমে সরাসরি উপকৃত হবেন।
"জীবনের শেষ আশা পূরণ করছে কাতার চ্যারিটি"
সিরিয়ায় অবস্থিত কাতার চ্যারিটি অফিসের পরিচালক ইসাম দাব্বাব বলেন, “এই চিকিৎসা কার্যক্রমগুলো সবচেয়ে অসহায় ও দুস্থ রোগীদের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে কাতার চ্যারিটির দীর্ঘদিনের প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকারকেই প্রতিফলিত করে, যারা শুধুমাত্র আর্থিক সংকটের কারণে এতদিন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত ছিলেন।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই প্রকল্পের অধীনে পরিচালিত অনেক অস্ত্রোপচারই এই রোগীদের জীবন বাঁচানো এবং তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার মান ফিরিয়ে আনার একমাত্র শেষ আশা।
বিশ্বজুড়ে যেসকল দুস্থ রোগী অস্ত্রোপচারের ব্যয় বহনে অক্ষম, তাদের আর্থিক সহায়তা ও চিকিৎসা সেবা প্রদানের লক্ষ্যে কাতার চ্যারিটি সম্প্রতি ‘দেফা বালা’ অভিযানটি চালু করেছে। সিরিয়ায় তাদের এই বিশেষ উদ্যোগটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির ভঙ্গুর স্বাস্থ্য খাতের ওপর চাপ কিছুটা কমাতে এবং শত শত পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।