কাতারের মহামান্য আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি এবং ভ্রাতৃপ্রতিম ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি ফালেহ আল-জাইদির মধ্যে গত রবিবার রাজধানী দোহার ঐতিহ্যবাহী লুসাইল প্রাসাদে এক আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আলোচনার শুরুতে মহামান্য আমির ইরাকি প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদলকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই সফরের মধ্য দিয়ে দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের বহুমুখী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
অন্যদিকে, ইরাকি প্রধানমন্ত্রী ‘ফাদার আমির’ শেখ হামাদ বিন খলিফা আল-থানির মৃত্যুতে মহামান্য আমির ও কাতারের জনগণের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। আন্তরিক আতিথেয়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে একযোগে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক অগ্রাধিকারের বিষয়সমূহ
বৈঠকে উভয় নেতা দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও উন্নয়নমূলক সহযোগিতা জোরদারের পাশাপাশি অঞ্চলের উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করেন:
-
দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বিস্তার: বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে যৌথ অংশীদারিত্ব ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হন।
-
আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও কূটনীতি: মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে সংঘাত এড়াতে সংলাপ ও কূটনৈতিক সমাধানের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।
-
হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচলের স্বাধীনতা: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্পাদিত সমঝোতা স্মারকের গুরুত্ব তুলে ধরে দুই নেতা হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখার তাগিদ দেন।
বৈঠকে উপস্থিত উচ্চপদস্থ নেতৃবৃন্দ
উচ্চপর্যায়ের এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে কাতার ও ইরাকের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
কাতারের পক্ষে: ১. মহামান্য প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান বিন জসিম আল-থানি ২. মহামান্য আমিরি দিওয়ানের প্রধান আব্দুল্লাহ বিন মোহাম্মদ আল-খুলাইফি ৩. পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. মোহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আল-খুলাইফি
ইরাকের পক্ষে: ১. পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুয়াদ হুসেন ২. ইরাকি প্রতিনিধিদলের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ
আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমন এবং মধ্যপ্রাচ্যে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ রাখতে কাতার ও ইরাকের এই শীর্ষবৈঠক অত্যন্ত সময়োপযোগী ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।