১৪ জুলাই ২০২৬

শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনা : বিশ্বখ্যাত ৫ এভিয়েশন জায়ান্টের প্রতিদ্বন্দ্বিতা

প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ০৩, ২০২৬
শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনা : বিশ্বখ্যাত ৫ এভিয়েশন জায়ান্টের প্রতিদ্বন্দ্বিতা

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (এইচএসআইএ) তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব পেতে বিশ্বের পাঁচটি শীর্ষস্থানীয় বিমানবন্দর সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতায় নেমেছে, যা বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের লক্ষ্যের প্রতি ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক আস্থারই প্রতিফলন।

স্বাধীনতার পর এই প্রথমবারের মতো বিশ্বখ্যাত বিমানবন্দর সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং খাতে প্রবেশ করতে চাইছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) তৃতীয় টার্মিনালে যাত্রী গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের জন্য দ্বিতীয় অপারেটর নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরই এই আগ্রহ দেখা গেছে।

আলোচনার সঙ্গে যুক্ত বেবিচকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাসস’কে নিশ্চিত করেছেন যে, যাত্রীসেবা সম্পর্কিত গ্রাউন্ড সার্ভিসের জন্য দ্বিতীয় একজন অপারেটর নিয়োগ করা হবে। তবে নতুন টার্মিনালের কার্গো হ্যান্ডলিং বা পণ্য ওঠানো-নামানোর দায়িত্ব এককভাবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের হাতেই থাকবে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘দ্বিতীয় হ্যান্ডলারের কাজ শুধু যাত্রী ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব এককভাবে বিমানের কাছেই থাকছে।’

খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা এই অগ্রগতিকে বাংলাদেশের সম্প্রসারণশীল এভিয়েশন শিল্পের জন্য একটি শক্তিশালী স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন। ক্রমাগত যাত্রী বৃদ্ধি, বড় ধরনের অবকাঠামো বিনিয়োগ এবং ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক যোগাযোগই এই খাতের মূল চালিকাশক্তি।

আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্যের মেনজিস এভিয়েশন, সুইজারল্যান্ডের সুইসপোর্ট, তুরস্কের চেলেবি এভিয়েশন হোল্ডিং, সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) এমিরেটস গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ডনাটা এবং সিঙ্গাপুরের স্যাটস। এই সবগুলোই বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত বিমানবন্দর সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান।

বেবিচকের সাবেক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মুহাম্মদ মাফিদুর রহমান বলেন, একসঙ্গে এতগুলো আন্তর্জাতিক এভিয়েশন কোম্পানির আগ্রহ দেখানোর ঘটনা বাংলাদেশে বিরল। এটি দক্ষিণ এশিয়ার এভিয়েশন খাতে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্বকেই প্রমাণ করে।

কূটনৈতিক তৎপরতায় আস্থার প্রতিফলন
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ড, তুরস্ক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূতরা বাংলাদেশের এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করেছেন। সেখানে তারা নিজ নিজ দেশের কোম্পানির আগ্রহের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন।

মাফিদুর রহমান বলেন, ‘এই কূটনৈতিক তৎপরতা প্রমাণ করে, বাংলাদেশের সম্প্রসারণশীল এভিয়েশন বাজারকে বিশ্ব কতটা বাণিজ্যিক গুরুত্ব দিচ্ছে এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনার ওপর আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কতটা আস্থা রয়েছে।’

একটি যুগান্তকারী সংস্কার
তৃতীয় টার্মিনালের এই সিদ্ধান্তটি একটি বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনকে নির্দেশ করে। কারণ, গত কয়েক দশক ধরে যাত্রী গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের একক দায়িত্ব ছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ওপর। এখন সেখানে প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছে।

গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের মধ্যে রয়েছে উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ, লাগেজ ব্যবস্থাপনা, যাত্রী চেক-ইন, র‌্যাম্প অপারেশন এবং উড়োজাহাজ অবতরণের পর পুনরায় ওড়ার উপযোগী করার প্রক্রিয়া (টার্নঅ্যারাউন্ড সার্ভিস)। এসব সেবা সরাসরি বিমানবন্দরের পরিচালন দক্ষতা এবং যাত্রী সেবার মানের ওপর প্রভাব ফেলে।

বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলো দীর্ঘদিন ধরেই এই খাতে আরও বেশি প্রতিযোগিতার দাবি জানিয়ে আসছিল। তাদের মতে, এর ফলে সেবার মান উন্নত হবে, উড়োজাহাজ প্রস্তুত করার সময় কমবে এবং বাংলাদেশের বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক মানের সমপর্যায়ে পৌঁছাবে।

নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং এয়ারলাইন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এওএবি) সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, বিষয়টি আরও গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা দরকার, এমনকি এটি পরের ধাপে করা হলেও চলতো। তবে আপাতত যাত্রী সেবা হ্যান্ডলিংয়ে অন্তত প্রতিযোগিতা শুরু হচ্ছে দেখে আমি আনন্দিত।’
বিশিষ্ট এভিয়েশন উদ্যোক্তা এবং টাস এভিয়েশন গ্রুপের চেয়ারম্যান কে এম মুজিবুল হকও এই বৈশ্বিক আগ্রহকে একটি ইতিবাচক দিক বলে মনে করছেন।

তিনি বলেন, ‘কার্গো ভিলেজ এবং গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং-উভয় কার্যক্রমই আন্তর্জাতিকভাবে অভিজ্ঞ অপারেটরদের দ্বারা পরিচালিত হওয়া উচিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘মালিকানা সরকারের কাছেই থাকতে পারে, তবে পরিচালনার দায়িত্ব অভিজ্ঞ ও দক্ষ বৈশ্বিক কোম্পানিগুলোর হাতে ছেড়ে দেওয়া উচিত। পেশাদার অপারেটররা দক্ষতা, নিরাপত্তা, নিয়ম-কানুন মেনে চলা এবং সেবার মান বাড়াতে পারে। একইসঙ্গে তারা স্থানীয় জনশক্তিকেও এ বিষয়ে দক্ষ করে তুলতে পারবে।’

যাত্রী হ্যান্ডলিংয়ে প্রতিযোগিতাকে স্বাগত জানালেও, তৃতীয় টার্মিনালের স্বয়ংক্রিয় কার্গো ভিলেজে বিমানকে একমাত্র কার্গো হ্যান্ডলার হিসেবে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

মফিজুর রহমান বলেন, ‘বিমানের কার্গো হ্যান্ডলিং আন্তর্জাতিক মানের কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে। এর সক্ষমতা এবং সততা-উভয় বিষয়েই গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে।’

বেবিচকের সাবেক চেয়ারম্যান মাফিদুর রহমানও মনে করেন, টার্মিনালের উন্নত কার্গো সিস্টেমের সর্বোচ্চ সুফল পেতে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।

তিনি বলেন, ‘যেসব যন্ত্রপাতি বসানো হয়েছে তা অত্যন্ত আধুনিক এবং এগুলো পরিচালনার জন্য অভিজ্ঞ অপারেটরের প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, ‘শুরুতেই বিমানের পাশাপাশি একজন অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক অপারেটর কাজ করলে ভালো হতো। এতে করে পুরোপুরি স্থানীয়ভাবে পরিচালনার আগে আমাদের জনবল কাজগুলো শিখে নিতে পারত।’
তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘হতাশ হওয়ার কিছু নেই। দক্ষ পেশাদারদের সঠিকভাবে কাজে লাগানো গেলে এভিয়েশন খাত নতুন গতি পাবে।’

বিমানের আত্মবিশ্বাস
বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম বাসস’কে জানান, বিমান ইতোমধ্যেই প্রয়োজনীয় গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করেছে এবং তৃতীয় টার্মিনালের জন্য আরও ১ হাজারের বেশি অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ করেছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা তৃতীয় টার্মিনালে যাত্রী ও কার্গো হ্যান্ডলিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।’
তিনি আরও জানান, বিমান কার্গো হ্যান্ডলিং ব্যবস্থার বিষয়ে জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে কাজ করছে। তবে দ্বিতীয় যাত্রী গ্রাউন্ড হ্যান্ডলার নিয়োগের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি তারা পাননি।

চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের পর জাপান এয়ারপোর্ট টার্মিনাল কোম্পানি, সুমিতোমো কর্পোরেশন, নিপ্পন কোয়েই এবং নারিতা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট কর্পোরেশন সমন্বয়ে গঠিত একটি জাপানি কনসোর্টিয়াম হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেবে।

বিশেষ প্রতিবেদন

বাংলাদেশের পরম সুহৃদ ফাদার আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির গৌরবময় জীবন ও অবদান

প্রকাশ: সোমবার, জুলাই ১৩, ২০২৬

আধুনিক কাতারের প্রধান রূপকার, মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক এবং বাংলাদেশের কোটি মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু, শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি ইন্তিকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গতকাল রোববার সকালে ৭৪ বছর বয়সে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর এই আকস্মিক প্রয়াণে কাতারজুড়ে ৪ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। একই সাথে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান পৃথক পৃথক শোকবার্তায় মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং আধুনিক কাতার বিনির্মাণ ও বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে তাঁর অবিস্মরণীয় অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেছেন।

গতকাল রোববার আমীরের কার্যালয় থেকে তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। তাঁর এই বিদায়ের পর বিশ্বমঞ্চের পাশাপাশি বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি, জ্বালানি খাত এবং মানবিক উন্নয়নে তাঁর রাখা অসামান্য ও ঐতিহাসিক অবদানের কথা। ১৯৫২ সালের জানুয়ারিতে দোহায় জন্মগ্রহণ করা এই অনন্য সাধারণ দূরদর্শী নেতার জীবন, কর্ম এবং বাংলাদেশ-কাতার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক বিস্তারিত বিবরণ নিচে তুলে করা হলো:

জন্ম, শিক্ষা ও ক্ষমতার স্বর্ণযুগ (১৯৯৫-২০১৩)

শিক্ষা ও দায়িত্ব গ্রহণ: শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত রয়্যাল একাডেমি স্যান্ডহার্স্ট থেকে তাঁর স্নাতক সম্পন্ন করেন. পরবর্তীতে ১৯৯৫ সালের জুনে তিনি কাতারের আমিরের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

অর্থনৈতিক বিপ্লব ও এলএনজি: তিনি যখন ক্ষমতা গ্রহণ করেন, তখন কাতার ছিল পারস্য উপসাগরের একটি সাধারণ ও ছোট রাষ্ট্র. ১৮ বছরের (১৯৯৫ থেকে ২০১৩) শাসনকালে তাঁর প্রজ্ঞা এবং অনন্য অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে কাতারকে বিশ্বের অন্যতম ধনী রাষ্ট্রে পরিণত করেন. তাঁর সময়েই কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) শিল্পের অভূতপূর্ব সম্প্রসারণ ঘটে এবং ২০০৬ সালের মধ্যে কাতার বিশ্বে শীর্ষস্থান অর্জন করে. তাঁর শাসনামলে দেশটির জিডিপি (GDP) প্রায় ২৪ গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিল.

গণমাধ্যমের রূপান্তর: কেবল অর্থনীতিই নয়, বিশ্ব গণমাধ্যমের চিত্র বদলে দেওয়া আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘আল-জাজিরা’ ১৯৯৬ সালে তাঁর একটি বিশেষ ডিক্রির মাধ্যমেই যাত্রা শুরু করেছিল।

বিরল দৃষ্টান্ত: ২০১৩ সালে তিনি স্বেচ্ছায় তাঁর ছেলে ও বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন এবং এরপর থেকে ‘ফাদার-আমির’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

বাংলাদেশের অর্থনীতি ও রেমিট্যান্সে অসামান্য অবদান

ফাদার আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি কেবল কাতারের নেতাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের মানুষের এক পরম সুহৃদ. তাঁর দূরদর্শী অভিবাসন নীতির কারণে ১৯৯০-এর দশকের শেষভাগ থেকে এবং ২০০০ সালের পরবর্তী সময়ে লাখো বাংলাদেশি শ্রমিকের জন্য কাতারের শ্রমবাজার উন্মুক্ত হয়।

শ্রমবাজারের আইনি সহজীকরণ: তাঁর শাসনামলেই কাতারে বাংলাদেশি প্রবাসীদের সংখ্যা কয়েক লক্ষে উন্নীত হয়. বর্তমানে কাতারে যে প্রায় ৪ লক্ষাধিক বাংলাদেশি কর্মরত আছেন এবং দেশের অর্থনীতিতে প্রতি বছর বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন, তার মূল ভিত্তি ও আইনি সহজীকরণ সম্পন্ন হয়েছিল শেখ হামাদের হাত ধরেই।

শ্রমিকদের মূল্যায়ন ও আইন সংস্কার: কাতারের উন্নয়নযজ্ঞে (যেমন ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপের অবকাঠামো নির্মাণসহ মেগা প্রজেক্টসমূহ) বাংলাদেশি নির্মাণশ্রমিক, প্রকৌশলী ও চিকিৎসকদের অংশগ্রহণকে তিনি সর্বদা উচ্চ মূল্যায়ন করতেন. প্রবাসীদের কাজের পরিবেশ উন্নয়ন ও নিরাপত্তার জন্য তিনি বিশেষ শ্রম আইন সংস্কার করেছিলেন।

জ্বালানি নিরাপত্তা (এলএনজি কূটনীতি): বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ শিল্পোৎপাদন এবং বিদ্যুৎ খাতের স্থায়িত্ব ধরে রাখার ক্ষেত্রে কাতার অন্যতম প্রধান অংশীদার. বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাতার বর্তমানে দেশের অন্যতম প্রধান দীর্ঘমেয়াদী এলএনজি সরবরাহকারী দেশ. এই জ্বালানি কূটনীতির রূপরেখাও শেখ হামাদের আমলেই তৈরি হয়েছিল।

সংকট ও দুর্যোগে বাংলাদেশের পাশে কাতার: শত মিলিয়ন ডলারের অনুদান

ফাদার আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির প্রত্যক্ষ নির্দেশনা এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রীয় ও দাতব্য সংস্থাসমূহের (যেমন: কাতার ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট-কিউএফএফডি, কাতার চ্যারিটি, এবং থানি বিন আব্দুল্লাহ ফাউন্ডেশন-আরএএফ) মাধ্যমে বাংলাদেশ গত তিন দশকে শত শত মিলিয়ন ডলারের অনুদান ও মানবিক সহায়তা পেয়েছে।

২০০৭ সালের সিডর পুনর্বাসন: ২০০৭ সালে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ‘সিডর’ যখন বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল লণ্ডভণ্ড করে দেয়, তখন ফাদার আমির শেখ হামাদের বিশেষ নির্দেশে কাতার রেড ক্রিসেন্ট ও কাতার ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্টের মাধ্যমে জরুরি ত্রাণ ও পুনর্বাসনের জন্য মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের বিশেষ অনুদান পাঠানো হয়. ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় আন্তর্জাতিক মানের আশ্রয়কেন্দ্র ও হাসপাতাল নির্মাণে কাতার সরাসরি অর্থায়ন করে।

রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট: ২০১৭ সালে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক বিপর্যয় দেখা দিলে কাতার সরকার ও কাতার ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট ব্যাপক আর্থিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা এবং তাদের আশ্রয় দেওয়া স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য ও বাসস্থান নিশ্চিত করতে কাতার এ পর্যন্ত ১৭৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি (প্রায় ২,১০০ কোটি টাকা) বৈশ্বিক মানবিক সহায়তার একটি বড় অংশ বাংলাদেশে নিবেদিত করেছে। এছাড়া ২০১৮ সালে উখিয়া ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফিল্ড হাসপাতাল সচল রাখতে সরাসরি ৪ মিলিয়ন কাতারি রিয়াল অনুদান দেওয়া হয়।

স্বাস্থ্য কূটনীতি: লাখো শিশুর অন্ধত্ব দূরীকরণ

ফাদার আমিরের দূরদর্শী স্বাস্থ্য কূটনীতির অংশ হিসেবে ২০১৬ সালে বাংলাদেশে শিশু অন্ধত্ব দূরীকরণের লক্ষ্যে ৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৯৫ কোটি টাকা) অনুদানের মাধ্যমে একটি মেগা প্রকল্প চালু করা হয়। এই মানবিক প্রকল্পের অধীনে বাংলাদেশ ও ভারতের প্রায় ৬ দশমিক ৭ মিলিয়নেরও বেশি শিশুর চোখ পরীক্ষা ও বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে, যা দুই দেশের চিকিৎসা ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

কাতার জুড়ে রাষ্ট্রীয় শোক ও জানাজা সম্পন্ন

মরহুম ফাদার আমিরের জানাজার নামাজ ১২ জুলাই রবিবার মাগরিবের নামাজের পর রাজধানী দোহার ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওহাব মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়েছে. জানাজা শেষে তাঁর মরদেহ ঐতিহ্যবাহী ও ইসলামী রীতিনীতি অনুসরণ করে লুসাইল কবরস্থানে দাফন করা হয়।

৪ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক: ফাদার আমিরের প্রয়াণে কাতারে ৪ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে এবং দেশজুড়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।

সরকারি দপ্তরে ছুটি: শোক প্রকাশ ও প্রয়াত নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ১৩ জুলাই সোমবার থেকে দেশের সব সরকারি প্রতিষ্ঠান, মন্ত্রণালয় ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় দাপ্তরিক কাজ স্থগিত করা হয়েছে. টানা এই ছুটি শেষে আগামী ১৯ জুলাই রবিবার থেকে সব সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা পুনরায় কাজে যোগ দেবেন।

তিন দিন শোকবার্তা গ্রহণ: কাতারের মহামান্য আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি আগামী সোমবার, মঙ্গলবার এবং বুধবার (১৩, ১৪ ও ১৫ জুলাই) লুসাইল প্রাসাদে আনুষ্ঠানিকভাবে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, শাসক পরিবার, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং সাধারণ নাগরিকদের কাছ থেকে শোকবার্তা গ্রহণ করবেন. (সময়সূচি: সকাল ৮:০০ টা থেকে বেলা ১১:৩০ টা পর্যন্ত এবং আসরের নামাজের পর থেকে ইশার নামাজ পর্যন্ত)।

ফাদার আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির প্রয়াণে দোহায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং কাতারের বিশাল বাংলাদেশ কমিউনিটি গভীর শোক প্রকাশ করেছে. দূতাবাস এক শোকবার্তায় জানায়, কাতারের অভূতপূর্ব রূপান্তরের এই রূপকার আজীবন বাংলাদেশ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক অকৃত্রিম বন্ধু ছিলেন. তাঁর রাষ্ট্রনায়কোচিত অবদান এবং প্রবাসীদের প্রতি সদয় দৃষ্টিভঙ্গি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি

প্রকাশ: সোমবার, জুলাই ১৩, ২০২৬
কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি

কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তা‌রেক রহমান।

রবিবার (১২ জুলাই) কাতা‌রের বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানিকে লেখা এক চি‌ঠি‌তে শোক প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

চি‌ঠি‌তে তা‌রেক রহমান লি‌খে‌ছেন, বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে এবং আমার নিজের পক্ষ থেকে আপনার (বর্তমান আমির) রাজপরিবার, সরকার এবং কাতারের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাই।

সরকারপ্রধান চি‌ঠি‌তে উ‌ল্লেখ ক‌রেন, শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি ছিলেন একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক, যার নেতৃত্ব কাতারকে একটি আধুনিক, সমৃদ্ধশালী এবং বিশ্বব্যাপী সম্মানিত জাতিতে রূপান্তরিত করেছে। আঞ্চলিক শান্তি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে তার অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে।

তা‌রেক রহমান চি‌ঠি‌তে আরো লি‌খে‌ছেন, বাংলাদেশ কাতা‌রের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ককে অত্যন্ত মূল্যায়ন করে, যেটি পারস্পরিক বিশ্বাস, ভাগ করা মূল্যবোধ এবং জনগণের মধ্যে স্থায়ী সম্পর্কের মাধ্যমে কয়েক দশক ধরে লালিত হ‌য়ে আস‌ছে।

গভীর শোকের এই মুহূর্তে আমার চিন্তাভাবনা এবং প্রার্থনা আপনার, রাজপরিবার এবং কাতারের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের সঙ্গে রয়েছে। আমি সর্বশক্তিমান আল্লাহ কাছে মরহুমের আত্মাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করার জন্য এবং আপনা এবং রাজপরিবারের শোকাহত সদস্যদের ধৈর্য, ​​শক্তি এবং সান্ত্বনা দান করার জন্য প্রার্থনা করছি।

বর্তমান রিজার্ভ প্রায় ৩৬.০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার : অর্থমন্ত্রী

প্রকাশ: সোমবার, জুলাই ১৩, ২০২৬
বর্তমান রিজার্ভ প্রায় ৩৬.০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার : অর্থমন্ত্রী

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ২৫ জুন পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রার বর্তমান রিজার্ভ প্রায় ৩৬.০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। রবিবার (১২ জুলাই) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলামের এক প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী এসব কথা জানান।

এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম) অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন।
সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলাম জানতে চান, চলমান ডলার ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকটের কারণে ব্যাংকগুলো প্রয়োজনীয় সময়ে এলসি বা ঋণপত্র খুলিতে পারছে না।

তার ফলে শিল্প-কারখানা কাঁচামাল ও অতি প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য আমদানি ব্যাহত হচ্ছে, যা সরাসরি অভ্যন্তরীণ বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই সমস্যা উত্তরণে সরকারের পরিকল্পনা কী?

জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী (২৫ জুন, ২০২৬) বৈদেশিক মুদ্রার বর্তমান রিজার্ভ প্রায় ৩৬.০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক মূলত সরকারের বৈদেশিক দায়-দেনা নিষ্পত্তি এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্লিয়ারিং অ্যাকাউন্টে, ব্যাংকের নস্ট্রো অ্যাকাউন্টে এবং নগদ বৈদেশিক মুদ্রার সামষ্টিক মজুত প্রায় ২.১৬৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রয়েছে।

ঢাকা-রিয়াদ সরাসরি ফ্লাইটের টিকিট বিক্রি শুরু করেছে রিয়াদ এয়ার

প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ১০, ২০২৬
ঢাকা-রিয়াদ সরাসরি ফ্লাইটের টিকিট বিক্রি শুরু করেছে রিয়াদ এয়ার

আগামী ৭ আগস্ট ঢাকা-রিয়াদ সরাসরি দৈনিক ফ্লাইট চালুর আগে আজ থেকে এ রুটের টিকিট বিক্রি শুরু করেছে রিয়াদ এয়ার। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে আকাশপথে যোগাযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।

এয়ারলাইন্সের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন এ রুটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (এইচএসআইএ) এবং রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মধ্যে বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজে দৈনিক ফ্লাইট পরিচালিত হবে।

এ দৈনিক ফ্লাইট বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে ভ্রমণ, বাণিজ্য ও পর্যটন-সংযোগ আরও জোরদার করবে। একই সঙ্গে রিয়াদ এয়ারের সম্প্রসারিত নেটওয়ার্ক ও কোডশেয়ার অংশীদারিত্বের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রীদের জন্য সুবিধাজনক সংযোগ নিশ্চিত করবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন এ রুট দক্ষিণ এশিয়ার দ্রুত বিকাশমান বিমান পরিবহন বাজারগুলোর একটির প্রতি রিয়াদ এয়ারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন এবং বাংলাদেশ-সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।

ফ্লাইট সূচি অনুযায়ী, আরএক্স০৭৬৩ ফ্লাইট রিয়াদ থেকে স্থানীয় সময় রাত ৯টা ২০ মিনিটে ছেড়ে পরদিন সকাল ৬টা ১০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে। ফিরতি আরএক্স০৭৬৪ ফ্লাইট স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে ঢাকা থেকে ছেড়ে সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে রিয়াদে অবতরণ করবে।

রিয়াদ এয়ার জানিয়েছে, নতুন এ সেবা ব্যবসা, অবকাশ যাপন ও শিক্ষাসংক্রান্ত ভ্রমণের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতকারী বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য রিয়াদকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।

এয়ারলাইন্সটি আরও জানায়, বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক ভ্রমণ বাজার এবং সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিবেচনায় এ রুট তাদের বৈশ্বিক নেটওয়ার্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।

যাত্রীরা রিয়াদ এয়ারের ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন এবং অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্টদের মাধ্যমে টিকিট কিনতে পারবেন।

ফ্লাইটগুলো রিয়াদ এয়ারের বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনারে পরিচালিত হবে। উড়োজাহাজে বিজনেস এলিট, বিজনেস, প্রিমিয়াম ইকোনমি ও ইকোনমি- এই চারটি কেবিন শ্রেণি থাকবে। এতে সর্বাধুনিক ইন-ফ্লাইট বিনোদন ব্যবস্থা, ওয়্যারলেস সংযোগ এবং উন্নত যাত্রীসেবা সুবিধা থাকবে।

সৌদি আরবের নতুন জাতীয় এয়ারলাইন্স রিয়াদ এয়ার দেশটির বৈশ্বিক সংযোগ বৃদ্ধি, পর্যটন খাতের বিকাশ এবং অর্থনীতির বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে গৃহীত বৃহত্তর বিমান পরিবহন কৌশলের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক রুট নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করছে।

বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহ অর্ধেকে নামিয়েছে কাতারএনার্জি

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুলাই ০৭, ২০২৬
বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহ অর্ধেকে নামিয়েছে কাতারএনার্জি

চলতি বছর বাংলাদেশে নির্ধারিত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে কাতারের সমন্বিত জাতীয় তেল ও গ্যাস করপোরেশন ‘কাতারএনার্জি’। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে পেট্রোবাংলা।

সোমবার (০৬ জুলাই) বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পেট্রোবাংলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান।

তিনি বলেন, ‘এসব সমস্যার মূল কারণ যুদ্ধ। ঘাটতি মোকাবিলায় আমরা বিকল্প উৎস খুঁজছি। স্পট মার্কেট থেকে বেশি এলএনজি কেনা যেতে পারে। অন্যান্য সরবরাহকারী দেশের সরকারের সঙ্গে চুক্তির বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সবচেয়ে সুবিধাজনক বাণিজ্যিক বিকল্পই বেছে নেওয়া হবে।’

বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম এলএনজি উৎপাদনকারী দেশ কাতার। বাংলাদেশে আমদানি হওয়া এলএনজির সবচেয়ে বড় সরবরাহকারীও দেশটি। গত বছর বাংলাদেশ প্রায় ৭০ লাখ টন এলএনজি আমদানি করে, যার মধ্যে প্রায় ৪০ লাখ টনই এসেছে কাতার থেকে।

বর্তমানে কাতারএনার্জির সঙ্গে পেট্রোবাংলার দুটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি রয়েছে। এর একটি বছরে ২৫ লাখ টন এবং অন্যটি ১৮ লাখ টন এলএনজি সরবরাহের জন্য।

আবদুল মান্নান জানান, নির্ধারিত সরবরাহ কমানো হলেও কাতার কর্তৃপক্ষ যতটা সম্ভব এলএনজি সরবরাহ অব্যাহত রাখবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। এ বিষয়ে কাতারএনার্জির তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে, জ্বালানি বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলার জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর আগে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় চলতি বছর কাতার থেকে ১৯টি এলএনজি কার্গো পেয়েছিল বাংলাদেশ।

তবে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর কাতারের রাস লাফান রপ্তানি টার্মিনাল থেকে বাংলাদেশে আর কোনো এলএনজি কার্গো আসেনি। ফলে দেশের চাহিদা মেটাতে স্পট মার্কেট থেকে বিকল্প চালান কিনতে হচ্ছে। মার্চের পর থেকে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে স্পট মার্কেট থেকে ৩৫টি এলএনজি কার্গো আমদানি করেছে।

উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট এলএনজি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ সাধারণত হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এ নৌপথে বিঘ্ন সৃষ্টি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের পাশাপাশি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জ্বালানি নিরাপত্তার ওপরও বড় ধরনের প্রভাব পড়ে।