১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কাতারের দেওয়া বিমানটি আরও উন্নত করা হবে: ট্রাম্প

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুলাই ২১, ২০২৬
কাতারের দেওয়া বিমানটি আরও উন্নত করা হবে: ট্রাম্প

নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেওয়ায় কাতারের উপহার দেওয়া ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বিমানটি এখন আপগ্রেড বা উন্নত করার জন্য পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময়(২০ জুলাই) রবিবার নিউ জার্সিতে ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখে ফেরার পথে বিমান থেকে নামার সময় ট্রাম্পের কাছে নতুন সংস্কার করা ওই বিমানটির ক্ষেপণাস্ত্র-প্রতিরক্ষা সক্ষমতা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়।

জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, এটির অনেক সক্ষমতা রয়েছে, তবে আমি যতদূর জানি, মাসখানেকের মধ্যেই এটিকে সর্বোচ্চ সক্ষমতা সম্পন্ন করে তোলার জন্য পাঠানো হবে। তিনি আরও বলেন, তারা এটিকে পাঠাবে এবং এর সক্ষমতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করা হবে। এতে প্রায় এক মাস সময় লাগবে।

সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাতার-প্রদত্ত ৪০ কোটি ডলার মূল্যের নতুন বিমানটি নিয়ে উদ্বেগ সামনে আসে চলতি মাসের শুরুর দিকে। তুরস্কের ন্যাটো সম্মেলন থেকে ফেরার পথে ট্রাম্প অপ্রত্যাশিতভাবে বিমানটি ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি নতুন বিমানটিকে ইংল্যান্ডের মিলডেনহল বিমান ঘাঁটিতে আগেভাগে পাঠিয়ে দেন।

ট্রাম্প বলেছিলেন বিমান পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছিল মূলত ওই ঘাঁটিতে দায়িত্বরত মার্কিন সামরিক সদস্যদের ‘বিমানটি ঘুরে দেখার সুযোগ করে দেওয়ার’ জন্য।

সিএনএন-এর তথ্যানুসারে, যুক্তরাষ্ট্রের দুজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন নিরাপত্তা কর্মীরা প্রেসিডেন্টের ভ্রমণের জন্য অপেক্ষাকৃত পুরনো বিমানটিকেই বেশি নিরাপদ মনে করতেন। যেটি মূলত সর্বাধিনায়কের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছিল। কাতারের দেওয়া যে বিমানটিতে পরবর্তীতে নিরাপত্তা ও অন্যান্য সুবিধা সংযোজন (রেট্রোফিট) করা হয়েছিল, সেটির তুলনায় পুরনো বিমানটিকেই তারা বেশি স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ও নিরাপদ বলে মনে করতেন।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নতুন বিমানটির সক্ষমতা পুরোনো বিমানটির মতো ছিল না। তবে তৃতীয় একটি সূত্র দাবি করেছে, পুরোনো বিমানটির মতোই এতে অনেকগুলো বৈশিষ্ট্য বা সুবিধা বিদ্যমান ছিল। এই বিমানটির নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের বিষয়টি এর আগে ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এ প্রকাশিত হয়েছিল।

সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারের ভেতর থেকে কারা এই নিরাপত্তা ত্রুটি-সংক্রান্ত তথ্য ফাঁস করেছে তা শনাক্ত করতে হোয়াইট হাউস একটি বড় ধরনের তদন্ত শুরু করেছিল। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত সূত্রগুলো সিএনএন-কে জানিয়েছে, তদন্তের অংশ হিসেবে কিছু কর্মকর্তাকে হোয়াইট হাউস চত্বরেই তদন্তকারীদের কাছে তাদের ফোন জমা দিতে বলা হয়েছিল।

সূত্রগুলোর মতে, তথ্য ফাঁসের ঘটনায় ট্রাম্প তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করার পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

তৃণমূল পশ্চিমবঙ্গকে ‘গ্রেটার বাংলাদেশ’ বানাতে চায়: শুভেন্দু অধিকারী

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
তৃণমূল পশ্চিমবঙ্গকে ‘গ্রেটার বাংলাদেশ’ বানাতে চায়: শুভেন্দু অধিকারী
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শনিবার আগের বাম ও তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেছেন, এই দুই সরকার রাজ্যের ‘সনাতনী ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি’ দমন করার চেষ্টা করেছিল। তার অভিযোগ, বামেরা ধর্মকে ‘আফিম’ বলত। আর তৃণমূল বাংলাকে ‘বৃহত্তর বাংলাদেশ’ বানাতে চেয়েছিল।

কলকাতার কেষ্টপুরে একটি গণেশ পূজা মণ্ডপ উদ্বোধন করে শুভেন্দু এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, গত ৪৯ বছর ধরে রাজ্যের সাংস্কৃতিক পরিচয় নষ্ট করার চেষ্টা চলেছে। এর মধ্যে ৩৪ বছর বাম শাসন এবং ১৫ বছর তৃণমূল শাসনের কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘গত ৪৯ বছরে, ৩৪ বছর যারা ধর্মকে আফিম বলত তারা ক্ষমতায় ছিল কমিউনিস্টদের অধীনে, আর তার পরের ১৫ বছর তারা (তৃণমূল) একে বৃহত্তর বাংলাদেশ বানানোর চেষ্টা করেছে। এখন এমন সরকার এসেছে যারা ভুলে যাওয়া সংস্কৃতি ও পরম্পরা ফিরিয়ে আনতে চায়।’

শুভেন্দুর অভিযোগ, বাম আমলে পূজা মণ্ডপের বাইরে স্টলে কার্ল মার্কস আর ভ্লাদিমির লেনিনের বই থাকত। কিন্তু স্বামী বিবেকানন্দ বা লোকনাথ বাবার বই থাকত না। তিনি বলেন, ‘হনুমান চালিশা বা ভগবত গীতা খুঁজে পাওয়া যেত না। সেখানে স্পষ্ট বলা হত তারা ধর্মে বিশ্বাস করে না, ধর্মকে আফিম মনে করে।’

তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধেও কড়া মন্তব্য করেন শুভেন্দু। তার অভিযোগ, তৃণমূলের আমলে বাংলাকে ‘জামাতিকরণ’ করার চেষ্টা হয়েছিল। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না নিয়ে তিনি মহরমের সঙ্গে দুর্গা পূজার বিসর্জনের দিন বদলের প্রসঙ্গ তোলেন।

তিনি বলেন, ‘ওদের ১৫ বছরের শাসনে, প্রথম দিকে না হলেও শেষ দিকে, বাংলাকে জামাতি বানানোর চেষ্টা হয়েছিল। একবার বিসর্জনের দিন বদলানো হয়েছিল... তিনি বৈঠকে বলেছিলেন মহরম আছে, তাই বিজয়া দশমীতে বিসর্জন হবে না। এটা করা যায় না। পঞ্জিকা মেনে চলতে হয়। আমাদের পরম্পরা ধীরে ধীরে বদলে দেওয়া হচ্ছিল।’

জেলে থাকা এক প্রাক্তন রাজ্য মন্ত্রীর সমালোচনাও করেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিতৃপক্ষের সময় ওই মন্ত্রীর দুর্গা পূজার উদ্বোধনে গিয়েছিলেন। সনাতনী রীতি অনুযায়ী এই সময়টা পূজার জন্য অশুভ মনে করা হয়।

তিনি বলেন, দুর্গা পূজার উদ্বোধন মাতৃপক্ষে হওয়া উচিত। মহাষ্টমীর সময় ‘পূর্ণ শুদ্ধতা’ বজায় রাখার কথাও বলেন তিনি।

জাভা সাগরে ২৪০ যাত্রী নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার জাহাজ নিখোঁজ

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
জাভা সাগরে ২৪০ যাত্রী নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার জাহাজ নিখোঁজ

ইন্দোনেশিয়ার জাভা সাগরে ২৪০ জন আরোহী নিয়ে একটি যাত্রীবাহী জাহাজের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) পূর্ব জাভা থেকে বোর্নিও দ্বীপের দক্ষিণ কালিমন্তানের দিকে যাওয়ার পথে জাহাজটি নিখোঁজ হয়। বর্তমানে নিখোঁজ জাহাজ ও এর যাত্রীদের উদ্ধারে জোর তৎপরতা শুরু করেছে দেশটির উদ্ধারকারী দল।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ‘ভার্গো ট্রান্সপোর্ট ৮’ নামের যাত্রীবাহী জাহাজটি পূর্ব জাভা প্রদেশের সুরাবায়া থেকে বানজারমাসিনের দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে জাহাজটির যোগাযোগব্যবস্থায় আকস্মিক ত্রুটি দেখা দেয়। বানজারমাসিনের উদ্ধারকারী সংস্থা জানিয়েছে, বন্দর জেটি থেকে প্রায় ৯২ মাইল দূরে জাভা সাগরে অবস্থানকালে জাহাজটির সঙ্গে শেষবার যোগাযোগ হয়েছিল।

উদ্ধারকারী দলের অভিযান বিভাগের প্রধান আরিয়ান্তো আরদি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই উদ্ধারকর্মীদের ঘটনাস্থলের অভিমুখে পাঠানো হয়েছে এবং ট্রিসাক্তিতে একটি প্রধান নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

জাহাজ পরিচালনা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, সমুদ্রপথের মাঝপথে এটি তীব্র দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মুখোমুখি হয়েছিল। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর না পাওয়া গেলেও অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

নির্বাচনে জিততে সব প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকানকে ৫ হাজার ডলারের ‘লোভ’ দেখালেন ট্রাম্প

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
নির্বাচনে জিততে সব প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকানকে ৫ হাজার ডলারের ‘লোভ’ দেখালেন ট্রাম্প

আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে যদি রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সব প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে নগদ অর্থ দেওয়ার নজিরবিহীন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ডালাসে আয়োজিত রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচনী কনভেনশনের উদ্বোধনী রাতে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি এই ঘোষণা দেন।

ডেমোক্র্যাটদের তুলনায় জনমত জরিপে তার দল যখন কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। ট্রাম্প সমর্থকদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারা যেন ধরে নেন নির্বাচনে তিনি নিজেই ব্যালটে লড়াই করছেন।

ভাষণে সমর্থকদের উজ্জীবিত করতে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যদি রিপাবলিকানরা জয়ী হয়, তবে আমাদের সঙ্গে আপনারাও জিতবেন এবং প্রত্যেকে ৫ হাজার ডলার করে পাবেন। এটাকে বলা হবে ট্রাম্প ডিভিডেন্ড। তিনি আরও দাবি করেন, দেশের বিপুল অর্থনৈতিক শক্তি এবং সাফল্যের কারণেই তিনি এই অর্থ বিতরণ করতে চান।

ডালাসের মহাসমাবেশে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, যদি রিপাবলিকানরা হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস এবং মার্কিন সিনেট উভয় কক্ষেই জয়ী হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সব প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে আমি ৫ হাজার ডলারের ডিভিডেন্ড প্রদান করব। তবে আমার একমাত্র শর্ত হলো, এই অর্থ অবশ্যই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই খরচ করতে হবে।

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা ট্রাম্পের এই বিশাল অর্থ প্রদানের প্রস্তাবকে আর্থিক ও রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ অসম্ভব এবং অবাস্তব বলে বর্ণনা করছেন। দেশের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে এই অর্থ দিতে গেলে সরকারের খরচ হবে অন্তত ১ ট্রিলিয়ন (এক লাখ কোটি) ডলারেরও বেশি। কিন্তু এই বিপুল পরিমাণ অর্থ কোথা থেকে আসবে বা কীভাবে তহবিল সংগ্রহ করা হবে, সে বিষয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট করে কিছুই জানাননি। শুধু এটুকু দাবি করেছেন, আমাদের দেশ এখন বিপুল পরিমাণে অর্থ উপার্জন করছে।

জরিপের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেন, ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে তার দল কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই নিজেদের কর্তৃত্ব ধরে রাখতে পারবে। ডেলিপোর্ট ও সমর্থকদের উৎসাহ দিতে তিনি বারবার অনুরোধ জানান, তারা যেন ধরে নেন নির্বাচনে ট্রাম্প নিজেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি বলেন, আমি আপনাদের কাছে অনুরোধ করছি, ধরে নিন যে আমি ব্যালটে আছি। আমিই ব্যালটে আছি, আমিই ব্যালটে আছি; শুধু আর একটি বারের জন্য।

সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি এবং ইরানে ট্রাম্পের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে সাধারণ জনগণের মধ্যে অসন্তোষ তীব্র হয়েছে। জনমত জরিপ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর নাগরিকদের সমর্থনের হার নেমে এসেছে ৩০-এর কোঠায়।

ডিসিশন ডেস্ক এইচকিউ-এর সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, নভেম্বরের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদে ২৩০-২০৫ আসনে এবং সেনেটে ৫১-৪৯ আসনে জয়ী হয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে।

নভেম্বরের নির্বাচনের পরই যুদ্ধ থামার আশা ট্রাম্পের, তবে ভিন্ন মত শীর্ষ উপদেষ্টাদের

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
নভেম্বরের নির্বাচনের পরই যুদ্ধ থামার আশা ট্রাম্পের, তবে ভিন্ন মত শীর্ষ উপদেষ্টাদের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আশা করছেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরই ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটবে। কারণ, তার মতে ইরান এখন অত্যন্ত মরিয়া।

তবে তার শীর্ষ উপদেষ্টারা ব্যক্তিগতভাবে সতর্ক করে বলেছেন, এই সংঘাত ২০২৯ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত গড়াতে পারে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেডি ভ্যান্স ও মার্কো রুবিওর মতো শীর্ষ কর্মকর্তারা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ সামলে ইরান দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরোধ চালিয়ে যেতে পারে। গত সাত মাস ধরে চলা এই যুদ্ধে ইতোমধ্যে ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।

ট্রাম্প দ্রুত যুদ্ধ শেষের কথা বললেও, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংস করতে তিনি মূলত ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অবরোধ সমর্থন করছেন।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এবং ইরানের অর্থনীতি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।

যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কায় মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ মধ্যপ্রাচ্যে সেনা মোতায়েনের মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাড়াচ্ছেন।

বর্তমানে সেখানে ৫০ হাজার সেনা, ১৯টি যুদ্ধজাহাজ এবং বিমান ও আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট অবস্থান করছে। তাদের মোতায়েনের সময়সীমাও ৯ মাস থেকে বাড়িয়ে ১২ মাসের বেশি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ইরানও পিছিয়ে নেই। নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও রেভল্যুশনারি গার্ডের জেনারেল মোহাম্মদ রেজা নাকদি মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম পিবিএস-কে বলেন, আমেরিকার সঙ্গে কীভাবে লড়তে হয়, গত পাঁচ মাসে তারা সেই বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।

তিনি জানান, যেকোনো হামলার জন্য শত্রুকে যে চরম মূল্য চোকাতে হবে, সেই বার্তা দিতেই তারা পরবর্তী মার্কিন নির্বাচন পর্যন্ত এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করতে প্রস্তুত।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের তৎকালীন ৮৬ বছর বয়সী সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা নিহত হলে এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়।

এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় ইরান। সেই যুদ্ধ থেমে থেমে এখনও চলছে।

ভারতে আসছেন পুতিন-শি: ইরান ও ডলারবিরোধী নীতিতে বিরক্ত যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
ভারতে আসছেন পুতিন-শি: ইরান ও ডলারবিরোধী নীতিতে বিরক্ত যুক্তরাষ্ট্র

চতুর্থ বারের মত ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ব্রিকস(BRICS)এর ১৮তম সম্মেলন। এবারের মূল থিম ‘Building for Resilience, Innovation, Cooperation and Sustainability’ যার কেন্দ্রে রয়েছে মোদির ‘Humanity First’ ধারণা। তবে, ‘ডি-ডলারাইজেশন’ তথা ডলারের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করে অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণের কারণে ব্রিকসের সমালোচনা আরও জোরালো করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

আগামী ১২–১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য এ সম্মেলনে প্রাধান্য পাবে পশ্চিম এশিয়া (ইরান-মার্কিন যুদ্ধ) সংঘাত। এই সংঘাত নিয়ে সদস্য দেশগুলোর অবস্থান কী হবে তাই এখন বড় প্রশ্ন। এ বিষয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও সংগঠনটির যৌথ ঘোষণায় অভিন্ন অবস্থান তুলে ধরার জোরালো আহ্বান জানিয়েছে ইরান।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আয়োজনে দুই দিনের এই সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। এছাড়া ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিসর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতারাও এতে উপস্থিত থাকবেন।

দ্য স্টেটসম্যান প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য মতে, এ সম্মেলনের ফাঁকে অংশগ্রহণকারী নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক্ষেত্রে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে মোদীর বৈঠকে আলাদা নজর থাকবে। সীমান্ত বিরোধসহ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা অত্যাধিক গুরুত্ব পাবে।
বিশ্ব অর্থনীতির এক-চতুর্থাংশের বেশি নিয়ন্ত্রণ করে ব্রিকসের সদস্য ১১টি দেশ। এর পাশাপাশি বিশ্বের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যা এই দেশগুলোতে বসবাস করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিম এশিয়া নিয়ে ব্রিকসের অভিন্ন অবস্থান তৈরি করা কঠিন হতে পারে। এর কারণ সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে দ্বিমত করার সমূহ সম্ভাবনা। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অবস্থান নিতে সৌদি আরব ও আমিরাত। গত মে মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকেও মতপার্থক্যের কারণে কোনো যৌথ ঘোষণা দেওয়া সম্ভব হয়নি।