২০ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করলেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২৬

ঢাকা সফরের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এর ফলে বাংলাদেশের সামনে একটি বড় কূটনৈতিক সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই উদ্যোগ দুই দেশের সম্পর্কে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। এটি দীর্ঘদিন ধরে থমকে থাকা বিনিয়োগ ও কৌশলগত সহযোগিতাগুলো আবার চালু করতে সাহায্য করবে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশের জন্য বড় অর্থনৈতিক সুবিধা বয়ে আনবে। একই সঙ্গে তৈরি হবে রাজনৈতিক সদিচ্ছা। বাংলাদেশ এখন একটি জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নিজেদের আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব বাড়াতে বাংলাদেশ যখন নতুন পথ খুঁজছে, এমন সময়ে এই সুযোগটি এলো।

বিগত এক দশকে বাংলাদেশের বড় অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদার হওয়ার তীব্র আগ্রহ দেখিয়েছিল সৌদি আরব। তবে ঢাকার আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে বেশ কয়েকটি বড় প্রস্তাব আটকে যায়। নীতির ধারাবাহিকতার অভাব ও দুর্বল সমন্বয়ের কারণেও এগুলো এগোয়নি। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কূটনীতিক ও সাবেক কর্মকর্তারা এমন তথ্যই জানিয়েছেন।

রিয়াদ এখন বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। তাই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুবরাজের সফরের আগে বাংলাদেশের দ্রুত প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। অতীতের মতো সুযোগ যেন হাতছাড়া না হয়, সে জন্য সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবের একটি প্যাকেজ তৈরি করা দরকার।

যুবরাজের ঢাকা সফর
গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফের এইচ বিন আবিয়াহ ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে একটি বৈঠক হয়। সেখানে এই অগ্রগতির বিষয়টি সামনে আসে। বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত ছিলেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের একটি চিঠি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে হস্তান্তর করেছেন রাষ্ট্রদূত। চিঠিতে যুবরাজ বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন।

বৈঠককালে রাষ্ট্রদূত সৌদি সরকারের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের মৌখিক আমন্ত্রণও জানান। তারেক রহমান সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন।

রাষ্ট্রদূত আরও জানান, সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ শিগগিরই ঢাকা সফর করতে চান। তাছাড়া বিনিয়োগের সম্ভাবনা দেখতে একটি সৌদি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলও দ্রুত বাংলাদেশ সফরে আসবে।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা এই সফরগুলোকে একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। রিয়াদ এখন প্রথাগত ‘নিয়োগকর্তা-শ্রমিক’ সম্পর্কের বাইরে গিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়তে চায়।

অমিমাংসিত সম্ভাবনার সম্পর্ক
সৌদি আরব দীর্ঘকাল ধরে মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের অন্যতম ঘনিষ্ঠ বন্ধু। বিগত সাড়ে চার দশক ধরে লাখ লাখ বাংলাদেশি কর্মী সৌদি অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস।

মানুষে মানুষে এই শক্তিশালী বন্ধন থাকলেও দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম।

গত এক দশকে রিয়াদ বারবার বাংলাদেশের জ্বালানি, অবকাঠামো, বিমান চলাচল ও শিল্প খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে বেশিরভাগ প্রস্তাব আলোচনা বা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর আর এগোয়নি।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ ৯ বছর বন্ধ থাকার পর ২০১৬ সালে বাংলাদেশ সৌদি আরবে পুনরায় কর্মী পাঠানো শুরু করে। এটি একটি বড় সাফল্য ছিল। তবে এই সম্পর্ককে বড় অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বে রূপান্তর করা সম্ভব হয়নি।

তারা মনে করেন, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের প্রস্তাবিত সফর এই ঘাটতি দূর করার বড় সুযোগ।

ভুল বোঝাবুঝি থেকে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ
বিগত সরকারের অধীনে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ঢাকা ও রিয়াদের সম্পর্কে ভুল বোঝাবুঝি ও স্থবিরতা ছিল। ২০১৫ সালে সৌদি আরবের সঙ্গে গভীর যোগাযোগসম্পন্ন একজন অভিজ্ঞ কূটনীতিককে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য উন্নতি শুরু হয়। তার নেতৃত্বে দুই দেশ উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ শুরু করে। বাণিজ্য, জ্বালানি, বিনিয়োগ ও প্রতিরক্ষার মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন পথ তৈরি হয়। এটি একটি গতিশীল সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপন করেছিল।

সৌদি আরব বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ক্রমান্বয়ে আগ্রহী হয়ে ওঠে। অন্যদিকে ঢাকাও মুসলিম বিশ্বের এই প্রভাবশালী দেশের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগ বাড়াতে চায়।

তখন প্রতিরক্ষা সহযোগিতাসহ বেশ কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এর মধ্যে সৌদি আরবের জন্য বাংলাদেশের অ-যুদ্ধকালীন (নন-কমব্যাট) সহায়তার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল।

তবে এই সহযোগিতার বড় অংশই কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ রয়ে যায়, বাস্তবে কোনো ফল আসেনি।

সাবেক কূটনীতিকদের মতে, বাংলাদেশ সময়মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগের গুরুত্ব বুঝতেও ব্যর্থ হয়েছিল। এই কারণে অনেক সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেছে।

হাতছাড়া হওয়া বিনিয়োগের সুযোগ
বিনিয়োগ হাতছাড়া হওয়ার সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো সৌদি রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানি ‘আরামকো’।

২০২৫ সালে ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানে তৎকালীন সৌদি রাষ্ট্রদূত ঈসা ইউসেফ ঈসা আল দুহাইলান জানান, আরামকো বাংলাদেশে একটি বড় বিনিয়োগের চেষ্টা করেও সফল হতে পারেনি।

রাষ্ট্রদূতের মতে, মাতারবাড়িতে তেল শোধনাগার, এলএনজি টার্মিনাল ও পেট্রো-কেমিক্যাল কমপ্লেক্স স্থাপনের পরিকল্পনা ছিল। এই বিনিয়োগের সম্ভাবনা যাচাই করতে ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে আরামকোর প্রতিনিধি দল তিনবার বাংলাদেশ সফর করে। তবে সফরকালে তারা প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা পায়নি।

রাষ্ট্রদূত বলেছিলেন, ‘তারা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে মন্ত্রণালয়, সচিব ও আমলাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছে। বারবার তারা ব্যবস্থার (সিস্টেম) মধ্যে আটকে গেছে।’ এই ব্যর্থতার জন্য তিনি কিছু ব্যক্তিকে দায়ী করেন। রাষ্ট্রদূতের অভিযোগ, তারা জাতীয় স্বার্থের চেয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছিলেন।

এত প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও সৌদি আরব বাংলাদেশে বিনিয়োগে এখনও আগ্রহী। অতীত ভুলে উভয় দেশকে ভবিষ্যতের সহযোগিতায় মনোনিবেশ করার আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আরামকো ছাড়াও বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজতে গিয়ে বেশ কয়েকটি বড় সৌদি ব্যবসায়িক গ্রুপ একই আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় পড়ে। যেমন, জেমকো-এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল সংস্থার সঙ্গে প্রথম যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেটি গত পাঁচ বছর ধরে অকার্যকর। বাংলাদেশি পক্ষের প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা ও প্রশাসনিক সহযোগিতার অভাবেই এমনটা হয়েছে।

ডানা মেলেনি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা
প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে শুরুতে বেশ উৎসাহ দেখিয়েছিল দুই দেশ। ২০১৯ সালে প্রতিরক্ষা চুক্তি হওয়ার পর সৌদি আরব বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার কর্মী নেওয়ার আগ্রহ দেখায়। তারা অ-যুদ্ধকালীন কাজের জন্য প্রকৌশলী, প্রযুক্তিবিদ ও লজিস্টিক বিশেষজ্ঞ নিতে চেয়েছিল।

তবে এই প্রস্তাবটি গতি পায়নি। বাংলাদেশ এই উদ্যোগটি এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ করেনি।

আলোচনা থমকে পড়ায় সৌদি আরব ২০২৫ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি করে। সেই অংশীদারিত্ব এখন অনেক বেড়েছে। পাকিস্তান রিয়াদ থেকে শত কোটি ডলারের বিনিয়োগ ও বড় রাজনৈতিক সমর্থন পেয়েছে।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, বাংলাদেশ একটি প্রভাবশালী শক্তির সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করার সুযোগ হারিয়েছে।

আলোর মুখ দেখেনি বিমান চলাচল প্রকল্প
বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতেও সৌদি বিনিয়োগের আরেকটি বড় প্রস্তাব ছিল। সৌদি আরব পরিত্যক্ত লালমনিরহাট বিমানঘাঁটিতে একটি বড় বিমান মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র গড়ার প্রস্তাব দেয়। এই প্রকল্পে বিনিয়োগের প্রস্তাব ছিল প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার।

এই প্রকল্পের দায়িত্বে ছিল বোয়িংয়ের একটি যৌথ উদ্যোগ, ‘আল সালাম অ্যারোস্পেস’। তাদের পরিকল্পনা ছিল এই ঐতিহাসিক বিমানক্ষেত্রটিকে আঞ্চলিক বিমান রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্রে রূপান্তর করা। সেখানে বিমানের খুচরা যন্ত্রাংশ তৈরির কারখানাও হওয়ার কথা ছিল। এতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের বড় সুযোগ তৈরি হতো। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিলম্ব ও আগ্রহের অভাবের কারণে প্রকল্পটি বাতিল হয়ে যায়।

কূটনৈতিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই বিনিয়োগটি পরবর্তীতে অন্য দেশে চলে যায়। ভারত এর বড় সুবিধাভোগী হিসেবে আবির্ভূত হয়।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহকে বাস্তব প্রকল্পে রূপান্তর করতে বাংলাদেশের ব্যর্থতার এটি আরেকটি বড় উদাহরণ।

আমলাতান্ত্রিক জটিলতা
কূটনীতিক ও বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করা নয়। আসল সমস্যা হলো সেই আগ্রহকে বাস্তব প্রকল্পে রূপান্তর করা।

তারা জমি বরাদ্দে বিলম্ব, অপর্যাপ্ত অবকাঠামো ও দীর্ঘ অনুমোদন প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করেন। এর সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বের ওভারল্যাপিং ও দুর্বল জবাবদিহিতাও বড় সমস্যা।

অনেক বিদেশি বিনিয়োগকারী নীতির ধারাবাহিকতাহীন বাস্তবায়ন ও দীর্ঘায়িত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার বিষয়েও অভিযোগ করেন।

ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করছে নতুন সুযোগ
বিশ্লেষকরা মনে করেন, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি বাংলাদেশ-সৌদি সহযোগিতা বাড়াতে সাহায্য করবে।

মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর প্রতিযোগিতা চলছে। এই কারণে সৌদি আরব তার আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব বহুমুখীকরণ করতে চায়।

একই সময়ে বাংলাদেশ তার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে চাইছে। বড় ধরনের বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য প্রথাগত বন্ধুদের বাইরে গিয়ে নতুন কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়াতে চায় দেশটি।

সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ কর্মসূচিও বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ। সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম অর্থনৈতিক রূপান্তর কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। অবকাঠামো, পর্যটন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, উৎপাদন ও প্রযুক্তিতে তারা শত শত বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে।

বাংলাদেশ এই খাতের বেশ কয়েকটিতে অংশীদার হতে পারে। দক্ষ জনশক্তি, শিল্প সহযোগিতা, ওষুধ শিল্প, তথ্য প্রযুক্তি ও খাদ্য নিরাপত্তার মাধ্যমে এটি সম্ভব।

সৌদি আরব ২০৩০ সালে এক্সপো ও ২০৩৪ সালে ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজন করবে। এর জন্য ব্যাপক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সমর্থনের প্রয়োজন।

বিশাল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী ও মুসলিম বিশ্বের সুদৃঢ় সম্পর্কের কারণে বাংলাদেশ এই আয়োজনে অবদান রাখতে পারে।

রোহিঙ্গা শরণার্থী
মুসলিম বিশ্বে নিজস্ব প্রভাবের কারণে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মিয়ানমার ও বাংলাদেশের সঙ্গে দেশটির দীর্ঘদিনের ভালো সম্পর্ক রয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে সৌদি-সমর্থিত একটি উদ্যোগের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের অগ্রগতি হয়েছিল। তবে বাংলাদেশ এই কূটনৈতিক যোগাযোগের চেয়ে আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দিকে বেশি মনোযোগ দেয়। ফলে সেই প্রচেষ্টা আর এগোয়নি।

সতর্ক প্রস্তুতির সময়
সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ বলেন, বাংলাদেশ যেন সৌদি যুবরাজের সফরটিকে কেবল আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে না দেখে সুপরিকল্পিতভাবে গ্রহণ করে।

তিনি আরও বলেন, ‘সৌদি প্রশাসন অত্যন্ত পেশাদার এবং কাজের ফলাফলে বিশ্বাসী। যুবরাজ বাংলাদেশ সফরে আগ্রহী হবেন যদি তিনি নিশ্চিত হন যে এর থেকে বড় কোনো ফল আসবে। সেই ফল যেন উভয় দেশের জন্যই লাভজনক হয়।’

গোলাম মসীহ উল্লেখ করেন, এর আগে দুই জন সিনিয়র সৌদি মন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি ৩২ সদস্যের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করেছিল। তবে তারা প্রস্তাবিত বিনিয়োগ প্রকল্পগুলোতে কোনো অগ্রগতি করতে পারেনি।

প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে অন্যতম বড় বাধা হলো বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নিষ্ক্রিয়তা। গোলাম মসীহ মনে করেন, বিডাকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। শুধুমাত্র অনুমোদন ও লাইসেন্স দেওয়ার মধ্যেই নিজেদের দায়িত্ব সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। প্রকল্প পরিকল্পনা থেকে শুরু করে বাস্তবায়ন ও পরিচালনগত সহায়তা পর্যন্ত সমগ্র বিনিয়োগ প্রক্রিয়াটিকে সহজ করতে হবে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, সব মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থাকে দেশের বিনিয়োগ নীতির সঙ্গে মিল রেখে কাজ করতে হবে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বিদেশি বিনিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সত্যটি সবাইকে স্বীকার করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘উভয় দেশেরই এমন ক্ষেত্রগুলো খুঁজে বের করা প্রয়োজন যা পারস্পরিক সুবিধা দেবে।’

তার পরামর্শ হলো, সফরের আগে বিডা’র উচিত বিস্তারিত তথ্যসহ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিনিয়োগ প্রকল্পগুলোর একটি তালিকা তৈরি করা। বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করতে পারে এমন লাভজনক প্রস্তাব সেখানে থাকতে হবে।

সাধারণ বক্তব্য বা কেবল ইচ্ছা প্রকাশের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। বিনিয়োগের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত সুযোগগুলোই উপস্থাপন করতে হবে। এই তালিকায় শিল্পাঞ্চল, জ্বালানি, লজিস্টিকস, বিমান চলাচল ও অবকাঠামোর প্রকল্পগুলো থাকা উচিত।

কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা একটি জরুরি সুপারিশ করেছেন। তাদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিডার মধ্যে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় থাকা দরকার। এর ফলে দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন করা যাবে।

তারা মনে করেন, বাংলাদেশের সৌদি যুবরাজের সফরকে কেবল একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান হিসেবে দেখা ভুল হবে। এর পরিবর্তে বিনিয়োগ চুক্তি ও অর্থায়নের সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি আদায় করতে হবে। স্পষ্ট বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াসহ দৃশ্যমান ফলাফল নিশ্চিত করা দরকার। এটি একটি নির্ভরযোগ্য বিনিয়োগের গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি তৈরি করবে।

সঠিকভাবে প্রস্তুতি নিলে মোহাম্মদ বিন সালমানের এই সফর গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হবে। এটি এখনকার শ্রমবাজার-ভিত্তিক সম্পর্ককে বিনিয়োগ, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা ও রাজনৈতিক সহযোগিতার মতো বড় একটি সম্পর্কে রূপান্তর করবে।

সৌদি আরব নতুন করে আগ্রহ দেখাচ্ছে, বাংলাদেশও নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ খুঁজছে। পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, এতদিন ধরে অবিকশিত থাকা এই সম্পর্ককে জাগিয়ে তোলার জন্য আগামী মাসগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

একটি শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আগামী বছরগুলোতে লাখ লাখ বাংলাদেশি যুবকের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে বড় শ্রমবাজারের সুযোগ, নতুন ভিসা, বর্ধিত বিনিয়োগ ও ব্যাপক অর্থনৈতিক সহযোগিতার পথ সুগম হবে।

বিমানবন্দরে প্রবাসীদের ভোগান্তি কমাতে ১৫০টি নতুন ট্রলি উপহার!

প্রকাশ: মঙ্গলবার, অক্টোবর ২০, ২০২৬
বিমানবন্দরে প্রবাসীদের ভোগান্তি কমাতে ১৫০টি নতুন ট্রলি উপহার!

প্রবাসী কর্মীদের লাগেজ পরিবহন সহজ করতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১৫০টি ট্রলি হস্তান্তর করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসীদের সুবিধার্থে মোট ২০০টি ট্রলি সরবরাহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ট্রলি হস্তান্তর অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী জানান, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের উদ্যোগে চট্টগ্রাম ও সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আগে ২৫টি করে ট্রলি সরবরাহ করা হয়েছে।

জাপানে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রচলিত ‘টেকনিক্যাল ইন্টার্নশিপ’ পদ্ধতির পরিবর্তে নতুন ‘এমপ্লয়মেন্ট ফর স্কিলস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তির আওতায় বাংলাদেশি কর্মীরা জাপানের স্থানীয় শ্রমিকদের সমতুল্য আইনি সুরক্ষা পাবেন। পাশাপাশি নারী-পুরুষের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং গর্ভাবস্থা বা সন্তান জন্মদানের কারণে নারী কর্মীদের প্রতি বৈষম্য রোধের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সৌদি আরবে বোমা হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির বিষয়ে মন্ত্রী জানান, তাঁদের একজন অভিবাসী শ্রমিক এবং অন্যজন ওমরাহ যাত্রী। একজনের বাড়ি বগুড়ায়, অন্যজনের কুমিল্লায়।

আকাশপথের যোগাযোগ ও সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাঁদের মরদেহ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

সৌদি আরবে সম্প্রতি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সঠিক তথ্য জানতে বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে সৌদি কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। জবাব পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে জানানো হবে।

প্রবাসীদের সন্তানদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি: আবেদন শুরু হচ্ছে

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
প্রবাসীদের সন্তানদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি: আবেদন শুরু হচ্ছে

প্রবাসী কর্মীদের মেধাবী সন্তানদের উচ্চশিক্ষায় উৎসাহিত করতে শিক্ষাবৃত্তির জন্য আবেদন আহ্বান করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত এই আবেদন করা যাবে। গত ৮ অক্টোবর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রবাসী কর্মীদের সন্তানদের শিক্ষাজীবনে সহায়তা এবং মেধার বিকাশে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে সরাসরি মন্ত্রীর ই-মেইলে অভিযোগ জানানোর আহ্বান

জানা যায়, শিক্ষাবৃত্তির জন্য আগ্রহী ও যোগ্য শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে আবেদন করতে হবে।

আবেদনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন জমা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রবাসী কর্মীদের পরিবারের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং আর্থিক সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যৎ গঠনে এ ধরনের উদ্যোগ সহায়ক হতে পারে।

বিশেষ করে মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা অর্জনের পথে আর্থিক প্রতিবন্ধকতা কমাতে শিক্ষাবৃত্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিদেশে গিয়ে নরকযন্ত্রণা, দেশে ফিরে সামাজিক কটূক্তি! বিদেশফেরত নারী শ্রমিকদের মানবেতর জীবন

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনের যোগ্যতা, আবেদনপদ্ধতি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, আবেদনের শেষ তারিখ এবং শিক্ষাবৃত্তি পাওয়ার শর্তাবলি উল্লেখ রয়েছে।

আবেদন করার আগে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞপ্তিটি ভালোভাবে পড়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, শিক্ষাবৃত্তির জন্য আবেদন করতে আগ্রহীদের নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করে সঠিক তথ্য দিয়ে আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে।

আবেদনে কোনো ভুল বা প্রয়োজনীয় তথ্যের ঘাটতি থাকলে তা বিবেচনায় সমস্যা হতে পারে।

দুই প্রবাসীর মৃত্যুদণ্ড: সৌদি রাষ্ট্রদূতকে তলব করল বাংলাদেশ

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
দুই প্রবাসীর মৃত্যুদণ্ড: সৌদি রাষ্ট্রদূতকে তলব করল বাংলাদেশ

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনায় ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রোববার (১৮ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাঁকে তলব করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ সময় সরকারের পক্ষ থেকে দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ করার ঘটনা ও এ-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য রাষ্ট্রদূতের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে।

এর আগে শনিবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি জানান, ওই দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো বাংলাদেশ সরকারকে কিছু জানানো হয়নি। তবে চিঠির মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে। এ সময় সৌদি আরবে ঘটা এই ঘটনাকে ‘আমাদের জন্য একটি বড় শিক্ষা’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বেলজিয়ামে বিক্ষোভে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ, গ্রেপ্তার ১৯৫

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, সৌদি আরবে থাকা বাংলাদেশ মিশনের শ্রম উইং থেকে পাঠানো বার্তা অনুযায়ী, মক্কা নগরীর একটি মসজিদের ভেতরে অনৈতিক বা ‘ব্যভিচার’ সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন ওই দুই প্রবাসী—যা সৌদি আইনে অত্যন্ত গর্হিত ও গুরুতর অপরাধ।

সেই দেশের আইন অনুযায়ী আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ সরকার এখনো কোনো নথিপত্র না পাওয়ায় বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে। সৌদি আরবের তরফ থেকে জবাব এলে নিহতদের মরদেহ ফেরত আনা সম্ভব হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।

কিং খালিদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রবাসীর মৃত্যু: দেশে শোকের ছায়া

উল্লেখ্য, গত বুধবার সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ‘সৌদি প্রেস এজেন্সি’ (এসপিএ) দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবরটি নিশ্চিত করে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ওই দুই প্রবাসী হলেন নজরুল ইসলাম ও সুইটি আখতার।

আকাশে খুলে গেল দরজা: ঢাকায় জরুরি অবতরণ করল ভারতীয় এয়ার অ্যাম্বুলেন্স

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
আকাশে খুলে গেল দরজা: ঢাকায় জরুরি অবতরণ করল ভারতীয় এয়ার অ্যাম্বুলেন্স

মাঝ আকাশে দরজা খুলে যাওয়ায় ভারতের আগরতলা থেকে কলকাতাগামী একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেছে। রোববার, ১৮ অক্টোবর দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। পরে উড়োজাহাজে থাকা অসুস্থ এক ভারতীয় নারীকে দ্রুত কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি ভারতের আগরতলা থেকে কলকাতার উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। পথে মাঝ আকাশে উড়োজাহাজটির দরজা খুলে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি বিবেচনায় পাইলট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন। অবতরণের পর উড়োজাহাজে থাকা অসুস্থ নারীকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মো. রিয়াজ উদ্দিন ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

নাশতায় নিয়মিত পাউরুটি খেলে কী হয়

যাত্রীতালিকা অনুযায়ী, ওই নারীর নাম অঞ্জনা ভৌমিক। তিনি ভারতের নাগরিক। তাঁর সঙ্গে উড়োজাহাজে ছিলেন চিকিৎসক ডা. ফিরোজ খান, প্যারামেডিক আজিম খান এবং দুই সঙ্গী সান্তা ভৌমিক ও দীপ জ্যোতি মিশ্র। যাত্রীতালিকায় তাঁদের সবার জাতীয়তা ভারতীয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

উড়োজাহাজটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এসকেবি ইনফ্রাকন প্রাইভেট লিমিটেড। এর মডেল সি৯০এ এবং নিবন্ধন নম্বর ভিটি-এইচওয়াইএ। উড়োজাহাজটি ভারতের আগরতলা থেকে কলকাতায় যাওয়ার পথে এ পরিস্থিতির মুখে পড়ে।

যাত্রীতালিকার তথ্য অনুযায়ী, উড়োজাহাজটির পাইলট ইন কমান্ড ছিলেন ক্যাপ্টেন পুণ্য অনুপ এবং সহকারী পাইলট ছিলেন ক্যাপ্টেন তনুজ শর্মা। দুই পাইলটসহ উড়োজাহাজটিতে মোট সাতজন অবস্থান করছিলেন।

ঢাকা এয়ারপোর্টে লাগেজ নামানোর দৃশ্য সরাসরি দেখা যাবে

মাঝ আকাশে উড়োজাহাজের দরজা খুলে যাওয়ার মতো ঘটনা যাত্রী ও ক্রুদের জন্য গুরুতর নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং নিরাপদে উড়োজাহাজ অবতরণ করানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ঘটনায় পাইলট জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় উড়োজাহাজটি ঢাকায় অবতরণ করে এবং অসুস্থ নারীকে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

তবে উড়োজাহাজটির দরজা কী কারণে খুলে গিয়েছিল, সেটি যান্ত্রিক ত্রুটি, দরজার লকিং ব্যবস্থার সমস্যা নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে—তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। একইভাবে অঞ্জনা ভৌমিকের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটির পর উড়োজাহাজটির নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং মাঝ আকাশে দরজা খুলে যাওয়ার কারণ নির্ধারণে বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন হতে পারে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা তদন্তের ফলাফল পাওয়া না পর্যন্ত ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

যাত্রীশূন্য শাহজালাল বিমানবন্দর, বদলে গেছে চেনা চিত্র

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
যাত্রীশূন্য শাহজালাল বিমানবন্দর, বদলে গেছে চেনা চিত্র

সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের স্বাভাবিক চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। একসময় যেখানে যাত্রী ও স্বজনদের ভিড়ে টার্মিনাল এলাকা ছিল সরগরম, সেখানে এখন বিরাজ করছে অনেকটা নীরবতা। ফাঁকা আগমনী ও বহির্গমন টার্মিনাল, গাড়িশূন্য পার্কিং এবং যাত্রীদের অপেক্ষায় থাকা স্বজনদের অনুপস্থিতিতে বিমানবন্দরের চেনা চিত্রই যেন বদলে গেছে।

রবিবার, ১৮ অক্টোবর দুপুর ১২টার দিকে বিমানবন্দরে গিয়ে দেখা যায়, আগমনী ও বহির্গমন টার্মিনালের বিভিন্ন এলাকায় যাত্রীদের উপস্থিতি খুবই কম। বিমানবন্দরের সামনের গাড়ি পার্কিং এলাকাও ছিল প্রায় ফাঁকা। আগে যেখানে যাত্রীদের নিতে আসা স্বজনদের ভিড়, গাড়ির চাপ এবং টার্মিনালে প্রবেশের তাড়াহুড়ো দেখা যেত, সেখানে এখন অনেকটাই নিরবচ্ছিন্ন পরিবেশ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকায় দেশে প্রবাসীদের আসা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সঙ্গে সৌদিগামী অনেক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বহির্গমন টার্মিনালেও যাত্রীর চাপ কমে গেছে।

সাধারণত মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রবাসীদের ফ্লাইট অবতরণের সময় বিমানবন্দরে স্বজনদের ব্যাপক ভিড় তৈরি হয়। একজন প্রবাসীকে নিতে অনেক সময় সাত থেকে আটজন পর্যন্ত স্বজন বিমানবন্দরে আসেন। এতে টার্মিনালের বাইরের অংশ এবং গাড়ি পার্কিং এলাকায় প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়। জায়গার অভাবে অনেককে যেখানে-সেখানে গাড়ি রাখতে হয়। কিন্তু বর্তমানে সেই পরিচিত দৃশ্য অনেকটাই অনুপস্থিত।

দুবাই থেকে আসা ভাইকে নিতে বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন হাবিবুর রহমান। তিনি জানান, আগেও একাধিকবার বিমানবন্দরে এসেছেন, তবে এবারকার মতো এতটা ফাঁকা পরিবেশ আগে দেখেননি।

বিমানবন্দরের বহিরাঙ্গনে দায়িত্ব পালনকারী এপিবিএনের সদস্য ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, যাত্রী কম থাকায় বিমানবন্দর এখন অনেকটাই ফাঁকা। আগে যাত্রী ও তাঁদের স্বজনদের সামলাতে যে চাপ ছিল, বর্তমানে তা নেই। পরিস্থিতির উন্নতি হলে আবারও যাত্রীদের চাপ বাড়তে পারে।

বহির্গমন টার্মিনালেও একই চিত্র দেখা গেছে। সৌদিগামী ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় যাত্রীদের উপস্থিতি কমেছে। কিছু ওমরাহযাত্রী দেখা গেলেও আগের মতো ভিড় ছিল না। কাতারের দোহাগামী যাত্রী আকবর হোসেন জানান, দুই মাস আগে বিমানবন্দরে এসে যে ভিড় দেখেছিলেন, এবার তার সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র চোখে পড়েছে।

যাত্রী কমে যাওয়ায় কাস্টমস, ইমিগ্রেশনসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারাও আপাতত কাজের চাপ কম অনুভব করছেন। তবে দীর্ঘদিনের ব্যস্ত পরিবেশে অভ্যস্ত কর্মীদের কাছে এই অস্বাভাবিক নীরবতা কিছুটা অস্বস্তিকর মনে হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ১০ অক্টোবর সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দরে হুতিদের হামলার পর ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর প্রভাবে আট দিনে শাহজালাল বিমানবন্দরে ১১৪টি ফ্লাইট বাতিল হয় এবং ১৭ হাজারের বেশি প্রবাসী আটকা পড়েন। একই সঙ্গে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরতে না পেরে ভোগান্তিতে পড়েছেন আরও হাজারো প্রবাসী।

স্বামী প্রবাসে, অন্য ব্যক্তির ভাড়া বাসায় মিললো স্ত্রীর মরদেহ

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান শেখ আব্দুল হান্নান কাতারে গ্রেফতার

মাঝ আকাশে খুলে গেল দরজা: ঢাকায় জরুরি অবতরণ করল ভারতীয় এয়ার অ্যাম্বুলেন্স