২৭ জুন ২০২৬

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

প্রকাশ: শুক্রবার, জুন ২৬, ২০২৬
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেলে বেইজিংয়ের ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে এই সমঝোতা স্মারকগুলো সই হয়।

সমঝোতা স্মারকে সই করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

দেশ-বিদেশের খবর হোয়াটসঅ্যাপে পেতে জয়েন করুন আমাদের গ্রুপে

সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সমঝোতা স্মারকগুলো মূলত বিনিয়োগ সহযোগিতা, সবুজ উন্নয়ন (গ্রিন ডেভেলপমেন্ট) ও অন্যান্য ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সই করা হয়েছে। এছাড়া বৈঠকে একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনা (জয়েন্ট অ্যাকশন প্ল্যান) নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

ফেসবুকে আমাদের সাথে থাকুন

স্থানীয় সময় বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন দিয়াওইউতাই থেকে বিশেষ মোটর শোভাযাত্রা সহকারে গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ পৌঁছান। সেখানে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও স্বাগত জানান চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং।

পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় ও দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে পরিচয় পর্ব শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা মঞ্চে নিয়ে যান লি কিয়াং। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয় এবং চীনের সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত চৌকস দল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংকে সশস্ত্র সালাম প্রদান করে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মানে তোপধ্বনি দেওয়া হয় এবং পরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর প্যারেড পরিদর্শন করেন।

পরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ঐতিহাসিক গ্রেট হলে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসেন। বৈঠকে বাংলাদেশ-চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের রূপরেখা, বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারে ১৩টি সমঝোতা স্মারক আনুষ্ঠানিকভাবে সই হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন বলেন, আমাদের গ্লোবাল ডেভেলপে ন্ট ইনিশিয়েটিভ অর্থাৎ যার অধীনে স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়ন সম্পর্কিত বিষয়গুলো রয়েছে, সেগুলো নিয়ে এমওইউ হয়েছে। একই সাথে মানবসম্পদ উন্নয়নে এক পৃথক কো-অপারেশন প্ল্যান সই হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে আমাদের জাতীয় ফল কাঠালের রপ্তানি বিষয়েও একটা এমওইউ হয়েছে।

তিনি বলেন, টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল এডুকেশনে সহযোগিতায় দুটো পৃথক এমওইউ হয়েছে। গণমাধ্যম খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং তথ্য আদান-প্রদান বৃদ্ধির লক্ষ্যে চারটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে চীন সরকার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি তাদের সম্পূর্ণ সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। ট্রেড, এডুকেশন, কালচার, বাণিজ্যসহ সকল বিষয়ে চীন বাংলাদেশের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে চায়।

ফেসবুকে আমাদের সাথে থাকুন

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়েও কথা বলেছেন। এ বিষয়ে চীন বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে আশ্বস্ত করেছে।

চীন বিএনপি সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর শুধু একটি গল্প নয়, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্কের নতুন শুভ সূচনা।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, চীনের মতো একটি বৃহত্তম দেশ প্রধানমন্ত্রীকে যেভাবে সম্মানিত করেছেন, তাতে আমরা মুগ্ধ, সম্মানিত এবং আনন্দিত। আমরা মনে করি, প্রধানমন্ত্রীর সম্মানের সঙ্গে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি উপস্থিত ছিলেন।

লন্ডভণ্ড আমেরিকা, এবার বাংলাদেশেও থাবা বসাচ্ছে ‘জম্বি ড্রাগ’!

► আমেরিকার টেক্সাস থেকে আনছে চক্র ► বিশেষ অভিযানেও থামছে না অন্য মাদকের ঢল ► ইয়াবারই রাজত্ব, নতুন মাদকও হুমকি ► অধরাই থাকছে তালিকাভুক্ত গডফাদার
প্রকাশ: শুক্রবার, জুন ২৬, ২০২৬
লন্ডভণ্ড আমেরিকা, এবার বাংলাদেশেও থাবা বসাচ্ছে ‘জম্বি ড্রাগ’!

বাংলাদেশেও চোখ রাঙাচ্ছে আমেরিকান ভয়ংকর মাদক জম্বি। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে রাজধানী ঢাকার একটি মেট্রোরেল স্টেশন, গাজীপুরের টঙ্গী ও দিনাজপুরের হিলিতে জম্বি সেবনকারীদের অদ্ভুত আচরণের ভিডিও ভাইরাল হয়। এরপরই মাদকটি সম্পর্কে অধিকতর অনুসন্ধান শুরু করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। ইতোমধ্যে জম্বি পাচারে জড়িত একটি দেশীয় চক্রের সন্ধান পেয়েছে সংস্থাটি।

দেশ-বিদেশের খবর হোয়াটসঅ্যাপে পেতে জয়েন করুন আমাদের গ্রুপে

ডিএনসি সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি ভারতে জম্বি মাদকের প্রাদুর্ভাবের খবর আসা শুরু হলেও বাংলাদেশেও এটি আসতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছিল। ইতোমধ্যে বাংলাদেশেও জম্বি মাদক আনা একটি চক্র শনাক্ত করা হয়েছে। যারা আমেরিকার টেক্সাস থেকে ভয়ংকর এ মাদক দেশে আনছে। দ্রুতই চক্রটি গ্রেপ্তার হবে।

তখন আরও বিস্তারিত বলা যাবে। সূত্র আরও জানায়, চক্রটি ধনাঢ্য পরিবারের সন্তানদের জন্য মাদকটি আনছে। তবে এখনো বাংলাদেশে এটি ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করতে পারেনি।

এ বিষয়ে ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক (ডিডি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, জম্বি দেশে ঢুকছে এমন সন্দেহ আমরাও করছি। কারা আনছে এবং ক্রেতা কারা এ বিষয়ে আমরা কাজ করছি। এর নেপথ্যে যারা জড়িত, দ্রুতই আইনের আওতায় আনা হবে।

ফেসবুকে আমাদের সাথে থাকুন

ডিএনসির গোয়েন্দা শাখা জানিয়েছে, সম্প্রতি ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া দিনাজপুরের হিলির একটি ভিডিও বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে সেটি জম্বি মাদকের প্রতিফলন। শুরুতে ধারণা করা হচ্ছিল- ডেন্ডির কারণে এমনটি হতে পারে।

তবে ভিডিওটি জম্বি আছে এমন অন্য দেশে মাদক নিয়ন্ত্রণে যুক্ত কর্মকর্তাদের কাছে পাঠিয়ে নিশ্চিত হয়েছে ডিএনসি। এরপর জম্বি উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ডিএনসির কেন্দ্রীয় পরীক্ষাগারের সহকারী রাসায়নিক পরীক্ষক এস এম রাজিবুর রহমান বলেন, মাংসখেকো ড্রাগ হিসেবে খ্যাত জম্বি সংশ্লিষ্ট কোনো আলামত পরীক্ষার জন্য আমাদের কাছে এখনো আসেনি। তবে জম্বি মাদক মূলত জাইলাজিন নামক চেতনানাশক ওষুধ।

যা বিভিন্ন পশুর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। ফেনটানিল বা হেরোইনের মতো মাদকের সঙ্গে এটি মিশিয়ে সেবন করা হয়। এর ফলে সেবনকারীদের হাঁটাচলা, আচার-আচরণ জীবন্মৃত বা জম্বিদের মতো হয়ে যায় এবং শরীরের চামড়ায় পচন ধরে। এটি অতিরিক্ত মাত্রায় সেবন করলে শ্বাসকষ্ট ও হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু হতে পারে।

এদিকে জম্বি ছাড়াও দেশের মাদকের বাজার দখল করে রাখা ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিল, হেরোইনের ঢল থামানো যাচ্ছে না। ক্রমেই নীরব বিস্তার ঘটছেই কিটামিন, কুশ, এলএসডি, আইস, ট্যাপেন্টাডলের মতো ভয়ংকর মাদকেরও।

গোয়েন্দা তথ্যে উঠে এসেছে দেশের ৩২ জেলার দেড় শতাধিক সীমান্ত রুট দিয়ে দেদার ঢুকছে বিভিন্ন মাদক। যা দেশের তরুণ সমাজকে দিনদিন আরও বেশি হুমকিতে ফেলছে। মাদকের টাকা জোগাড়ে বাড়ছে দেশের অপরাধ চিত্র।

বিশেষ অভিযানেও কমেনি ঢল : বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করে। গত ১ মে মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান শুরু হয়। কিন্তু অভিযানের প্রায় ২ মাস হতে চললেও থামানো যায়নি মাদকের ঢল। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখনো দেশের বাজারে ইয়াবারই রাজত্ব চলছে।

গডফাদাররা অধরাই থাকছে : গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, সারা দেশে ৩ স্তরে সক্রিয় সাড়ে ২২ হাজারের বেশি কারবারি। এর মধ্যে খুচরা ব্যবসায়ী ১৪ হাজার ২৪৮ জন, পাইকারি ব্যবসায়ী ৭ হাজার ২৭ জন ও গডফাদার দেড় হাজারের বেশি। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে- বিশেষ অভিযানেও কোনো গডফাদার ধরা পড়ছে না। যারা ধরা পড়ে তাদের বেশির ভাগই মাদকবহনের সঙ্গে জড়িত থাকে।

গডফাদাররা গ্রেপ্তার না হলে মাদক নিয়ন্ত্রণে আসবে না বলে জানিয়েছেন বিশেজ্ঞরা। এদিকে ৩২ জেলার সীমান্ত পথ দিয়ে ভারত ও মিয়ানমার থেকে দেশে ঢুকছে মাদক।

মাদক নির্মূলে কঠোর বার্তা ডিএনসির : ডিএনসির ডিডি (অপারেশন্স) মুকুল জ্যোতি চাকমা বলেন, অনেক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্যেও ডিএনসি মাদক নির্মূলে সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। বর্তমান সরকার বিশেষ অভিযান ঘোষণার পর বিভিন্ন পর্যায়ের কারবারিদের আইনের আওতায় হয়েছে। সরকার দ্রুতই আমাদের অস্ত্র দিতে যাচ্ছে। তখন অভিযানিক কার্যক্রমে আরও গতি আসবে।

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

প্রকাশ: শুক্রবার, জুন ২৬, ২০২৬
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেলে বেইজিংয়ের ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে এই সমঝোতা স্মারকগুলো সই হয়।

সমঝোতা স্মারকে সই করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

দেশ-বিদেশের খবর হোয়াটসঅ্যাপে পেতে জয়েন করুন আমাদের গ্রুপে

সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সমঝোতা স্মারকগুলো মূলত বিনিয়োগ সহযোগিতা, সবুজ উন্নয়ন (গ্রিন ডেভেলপমেন্ট) ও অন্যান্য ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সই করা হয়েছে। এছাড়া বৈঠকে একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনা (জয়েন্ট অ্যাকশন প্ল্যান) নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

ফেসবুকে আমাদের সাথে থাকুন

স্থানীয় সময় বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন দিয়াওইউতাই থেকে বিশেষ মোটর শোভাযাত্রা সহকারে গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ পৌঁছান। সেখানে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও স্বাগত জানান চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং।

পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় ও দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে পরিচয় পর্ব শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা মঞ্চে নিয়ে যান লি কিয়াং। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয় এবং চীনের সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত চৌকস দল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংকে সশস্ত্র সালাম প্রদান করে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মানে তোপধ্বনি দেওয়া হয় এবং পরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর প্যারেড পরিদর্শন করেন।

পরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ঐতিহাসিক গ্রেট হলে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসেন। বৈঠকে বাংলাদেশ-চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের রূপরেখা, বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারে ১৩টি সমঝোতা স্মারক আনুষ্ঠানিকভাবে সই হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন বলেন, আমাদের গ্লোবাল ডেভেলপে ন্ট ইনিশিয়েটিভ অর্থাৎ যার অধীনে স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়ন সম্পর্কিত বিষয়গুলো রয়েছে, সেগুলো নিয়ে এমওইউ হয়েছে। একই সাথে মানবসম্পদ উন্নয়নে এক পৃথক কো-অপারেশন প্ল্যান সই হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে আমাদের জাতীয় ফল কাঠালের রপ্তানি বিষয়েও একটা এমওইউ হয়েছে।

তিনি বলেন, টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল এডুকেশনে সহযোগিতায় দুটো পৃথক এমওইউ হয়েছে। গণমাধ্যম খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং তথ্য আদান-প্রদান বৃদ্ধির লক্ষ্যে চারটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে চীন সরকার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি তাদের সম্পূর্ণ সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। ট্রেড, এডুকেশন, কালচার, বাণিজ্যসহ সকল বিষয়ে চীন বাংলাদেশের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে চায়।

ফেসবুকে আমাদের সাথে থাকুন

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়েও কথা বলেছেন। এ বিষয়ে চীন বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে আশ্বস্ত করেছে।

চীন বিএনপি সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর শুধু একটি গল্প নয়, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্কের নতুন শুভ সূচনা।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, চীনের মতো একটি বৃহত্তম দেশ প্রধানমন্ত্রীকে যেভাবে সম্মানিত করেছেন, তাতে আমরা মুগ্ধ, সম্মানিত এবং আনন্দিত। আমরা মনে করি, প্রধানমন্ত্রীর সম্মানের সঙ্গে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি উপস্থিত ছিলেন।

অবৈধ ট্রাভেল এজেন্সির বিরুদ্ধে অ্যাকশনে সরকার

প্রকাশ: বুধবার, জুন ২৪, ২০২৬
অবৈধ ট্রাভেল এজেন্সির বিরুদ্ধে অ্যাকশনে সরকার

টিকেট কেনা বা ট্যুর প্যাকেজ বুকিং দেওয়ার আগে ট্রাভেল এজেন্সি নিবন্ধিত কি না বা মেয়াদ আছে কি না, দেখে নিতে বলা হয়েছে। নিবন্ধনের মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া ট্রাভেল এজেন্সিগুলোকে দ্রুত নিবন্ধনের তাগিদ দিয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।

দেশ-বিদেশের খবর হোয়াটসঅ্যাপে পেতে জয়েন করুন আমাদের গ্রুপে

রোববার এক তথ্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৩’ অনুযায়ী দেশে ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসা পরিচালনার জন্য নিবন্ধিত হওয়া বাধ্যতামূলক।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই নিবন্ধন ও নবায়ন প্রক্রিয়া www.regtravelagency.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়।

ফেসবুকে আমাদের সাথে থাকুন

মন্ত্রণালয় বলছে, সম্প্রতি কিছু প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন ছাড়াই অথবা নিবন্ধনের মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়ার পরও অবৈধভাবে ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসা পরিচালনা করছে এবং গ্রাহকরা বিভিন্ন ধরনের আর্থিক প্রতারণা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

এভাবে ব্যবসা করা যে ‘দণ্ডনীয় অপরাধ’, তা মনে করিয়ে দিয়ে মন্ত্রণালয় বলেছে, এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য বা অভিযোগ পাওয়া গেলে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় কিছু নির্দেশনাও দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

যেকোন ট্রাভেল এজেন্সি থেকে টিকেট কেনা বা ট্যুর প্যাকেজ বুকিং দেওয়ার আগে সেগুলো নিবন্ধিত কি না এবং নিবন্ধনের মেয়াদ আছে কি না, তা ট্রাভেল এজেন্সি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম www.regtravelagency.gov.bd এর এজেন্সির তথ্য যাচাই বক্স থেকে যাচাই করে নিতে হবে।

অনিবন্ধিত বা মেয়াদোত্তীর্ণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আকাশপথে ভ্রমণ বা ট্যুর সংক্রান্ত কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন ও সেবা গ্রহণ করা যাবে না বলে তথ্য বিবরণীতে বলা হয়েছে।

প্রবাসীদের বিমানভাড়া কমাল সরকার

প্রকাশ: বুধবার, জুন ২৪, ২০২৬
প্রবাসীদের বিমানভাড়া কমাল সরকার

সৌদি আরব, কাতার, ওমান ও মালয়েশিয়াগামী বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মীদের যাতায়াত ব্যয় কমাতে বিমানভাড়া উল্লেখযোগ্য হারে কমানোর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। একই সাথে জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে নতুন আরও ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে।

দেশ-বিদেশের খবর হোয়াটসঅ্যাপে পেতে জয়েন করুন আমাদের গ্রুপে

জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম।

ফিরতি খালি ফ্লাইটে বিশেষ ছাড়

সংসদে এমপি শাহাদত হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে বিমানমন্ত্রী জানান, হজ মৌসুমে জেদ্দা ও মদিনা থেকে যেসব ফ্লাইট খালি দেশে ফেরত আসে, সেগুলোতে প্রবাসী কর্মীদের যাতায়াত সহজ করতে ভাড়ায় বিশাল ছাড় দেওয়া হয়েছে। এই বিশেষ ফ্লাইটের ভাড়া আগের ৫০-৫৫ হাজার টাকা থেকে এক লাফে কমিয়ে মাত্র ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ফেসবুকে আমাদের সাথে থাকুন

‘টি-ক্লাস’ নামে বিশেষ স্বল্পমূল্যের টিকিট

মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ৪টি শীর্ষ শ্রমবাজারে যাতায়াতকারী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের বিমানভাড়ার চাপ কমাতে ‘টি-ক্লাস’ (T-Class) নামে বিশেষ স্বল্পমূল্যের টিকিট চালুর কথা জানান মন্ত্রী। নতুন এই ক্যাটাগরির আওতায় বিভিন্ন প্রধান রুটের ভাড়া যেভাবে কমানো হয়েছে:

রুট পূর্বের ভাড়া বর্তমান ভাড়া (টি-ক্লাস)
ঢাকা – জেদ্দা ৬২,০০০ টাকা ৪৮,০০০ টাকা
ঢাকা – রিয়াদ / দাম্মাম ৫৩,০০০ টাকা ৪৮,০০০ টাকা
ঢাকা – দোহা ৫৩,০০০ টাকা ৪৬,০০০ টাকা
ঢাকা – মাসকাট ৩৯,০০০ টাকা ৩০,০০০ টাকা
ঢাকা – কুয়ালালামপুর ২৮,০০০ টাকা ২১,০০০ টাকা

বিমানের বহরে যুক্ত হচ্ছে ১৪টি উড়োজাহাজ

প্রবাসী কর্মীদের বিমানভাড়া কমানোর পাশাপাশি জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থার আন্তর্জাতিক সেবার পরিধি ও সক্ষমতা বাড়াতে সরকারের বড় পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন বিমানমন্ত্রী। তিনি সংসদকে জানান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণ পরিকল্পনার আওতায় আরও ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার জন্য ইতিমধ্যেই বৈশ্বিক জায়ান্ট বোয়িংয়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিমানভাড়ার এই যৌক্তিক হ্রাস মধ্যপ্রাচ্য ও মালয়েশিয়ায় কর্মরত লাখ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসীর ওপর থেকে বিশাল আর্থিক বোঝা লাঘব করবে এবং হজের সময়ে আসন ফাঁকা রেখে আসা ফ্লাইটের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হবে।

অনুমোদন ছাড়াই ভিসা ফি নিজ দেশে নিতে পারবে দূতাবাস

প্রকাশ: বুধবার, জুন ২৪, ২০২৬
অনুমোদন ছাড়াই ভিসা ফি নিজ দেশে নিতে পারবে দূতাবাস

বিভিন্ন দূতাবাসের অনুমোদিত এজেন্সির বেলাতেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

ভিসা ফিসহ দূতাবাসের বিভিন্ন সেবার বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রায় নেওয়া অর্থ বিদেশি মুদ্রায় রূপান্তর করে নিজ দেশে নিতে এখন থেকে দূতাবাসগুলোকে অনুমোদন নিতে হবে না।

সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদন নেওয়ার আগের সিদ্ধান্ত বদলে বলেছে, অনুমোদিত এজেন্সির বেলাতেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। বাংলাদেশে অনেক রাষ্ট্রের দূতাবাস না থাকলেও ভিসা কেন্দ্র ও এজেন্সি রয়েছে।

তবে বৈদেশিক মুদ্রা ছাড় করতে ব্যাংকের অনুমোদিত ডিলার (এডি) শাখাকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করতে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে স্থানীয় সব ধরনের কর কেটে রাখতে হবে এডি শাখাকে।

এর আগে দূতাবাসগুলোর লেনদেন সহজ করতে মে মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক পৃথক সার্কুলার দেয়।

ওই সার্কুলারে বিভিন্ন দূতাবাস বা এমন আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষ যাদের কাছ থেকে ভিসা পেতে পূর্বশর্ত হিসেবে বৈদেশিক মুদ্রায় জামানত রাখতে হয়, তাদের জন্যও বৈদেশিক ‍মুদ্রা বরাদ্দ করার সুযোগ দেওয়া হয়।

অবশ্য ফেরতযোগ্য বা মেয়াদ শেষে বাংলাদেশে প্রত্যাবসন হবে এমন অর্থ কেবল জামানত হিসেবে বৈদেশিক মুদ্রায় রাখা যাবে। জামানতের মেয়াদ শেষে ব্যাংকগুলোকে বৈদেশিক মুদ্রার অর্থ ফেরত আনতে হবে।

এর ফলে বিদেশ পড়াশোনা, কর্মশালায় অংশ নেওয়া বা অন্য কোনো উদ্দেশে কোনো দেশে যাওয়ার সময়ে ঢাকায় থাকা দেশগুলোর দূতাবাসগুলোকে বৈদেশিক মুদ্রায় গ্যারান্টি বা জামানত দেওয়া সুযোগ তৈরি হয়।