২৫ জুন ২০২৬

অনুমোদন ছাড়াই ভিসা ফি নিজ দেশে নিতে পারবে দূতাবাস

প্রকাশ: বুধবার, জুন ২৪, ২০২৬
অনুমোদন ছাড়াই ভিসা ফি নিজ দেশে নিতে পারবে দূতাবাস

বিভিন্ন দূতাবাসের অনুমোদিত এজেন্সির বেলাতেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

ভিসা ফিসহ দূতাবাসের বিভিন্ন সেবার বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রায় নেওয়া অর্থ বিদেশি মুদ্রায় রূপান্তর করে নিজ দেশে নিতে এখন থেকে দূতাবাসগুলোকে অনুমোদন নিতে হবে না।

সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদন নেওয়ার আগের সিদ্ধান্ত বদলে বলেছে, অনুমোদিত এজেন্সির বেলাতেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। বাংলাদেশে অনেক রাষ্ট্রের দূতাবাস না থাকলেও ভিসা কেন্দ্র ও এজেন্সি রয়েছে।

তবে বৈদেশিক মুদ্রা ছাড় করতে ব্যাংকের অনুমোদিত ডিলার (এডি) শাখাকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করতে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে স্থানীয় সব ধরনের কর কেটে রাখতে হবে এডি শাখাকে।

এর আগে দূতাবাসগুলোর লেনদেন সহজ করতে মে মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক পৃথক সার্কুলার দেয়।

ওই সার্কুলারে বিভিন্ন দূতাবাস বা এমন আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষ যাদের কাছ থেকে ভিসা পেতে পূর্বশর্ত হিসেবে বৈদেশিক মুদ্রায় জামানত রাখতে হয়, তাদের জন্যও বৈদেশিক ‍মুদ্রা বরাদ্দ করার সুযোগ দেওয়া হয়।

অবশ্য ফেরতযোগ্য বা মেয়াদ শেষে বাংলাদেশে প্রত্যাবসন হবে এমন অর্থ কেবল জামানত হিসেবে বৈদেশিক মুদ্রায় রাখা যাবে। জামানতের মেয়াদ শেষে ব্যাংকগুলোকে বৈদেশিক মুদ্রার অর্থ ফেরত আনতে হবে।

এর ফলে বিদেশ পড়াশোনা, কর্মশালায় অংশ নেওয়া বা অন্য কোনো উদ্দেশে কোনো দেশে যাওয়ার সময়ে ঢাকায় থাকা দেশগুলোর দূতাবাসগুলোকে বৈদেশিক মুদ্রায় গ্যারান্টি বা জামানত দেওয়া সুযোগ তৈরি হয়।

অবৈধ ট্রাভেল এজেন্সির বিরুদ্ধে অ্যাকশনে সরকার

প্রকাশ: বুধবার, জুন ২৪, ২০২৬
অবৈধ ট্রাভেল এজেন্সির বিরুদ্ধে অ্যাকশনে সরকার

টিকেট কেনা বা ট্যুর প্যাকেজ বুকিং দেওয়ার আগে ট্রাভেল এজেন্সি নিবন্ধিত কি না বা মেয়াদ আছে কি না, দেখে নিতে বলা হয়েছে। নিবন্ধনের মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া ট্রাভেল এজেন্সিগুলোকে দ্রুত নিবন্ধনের তাগিদ দিয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।

দেশ-বিদেশের খবর হোয়াটসঅ্যাপে পেতে জয়েন করুন আমাদের গ্রুপে

রোববার এক তথ্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৩’ অনুযায়ী দেশে ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসা পরিচালনার জন্য নিবন্ধিত হওয়া বাধ্যতামূলক।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই নিবন্ধন ও নবায়ন প্রক্রিয়া www.regtravelagency.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়।

ফেসবুকে আমাদের সাথে থাকুন

মন্ত্রণালয় বলছে, সম্প্রতি কিছু প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন ছাড়াই অথবা নিবন্ধনের মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়ার পরও অবৈধভাবে ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসা পরিচালনা করছে এবং গ্রাহকরা বিভিন্ন ধরনের আর্থিক প্রতারণা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

এভাবে ব্যবসা করা যে ‘দণ্ডনীয় অপরাধ’, তা মনে করিয়ে দিয়ে মন্ত্রণালয় বলেছে, এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য বা অভিযোগ পাওয়া গেলে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় কিছু নির্দেশনাও দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

যেকোন ট্রাভেল এজেন্সি থেকে টিকেট কেনা বা ট্যুর প্যাকেজ বুকিং দেওয়ার আগে সেগুলো নিবন্ধিত কি না এবং নিবন্ধনের মেয়াদ আছে কি না, তা ট্রাভেল এজেন্সি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম www.regtravelagency.gov.bd এর এজেন্সির তথ্য যাচাই বক্স থেকে যাচাই করে নিতে হবে।

অনিবন্ধিত বা মেয়াদোত্তীর্ণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আকাশপথে ভ্রমণ বা ট্যুর সংক্রান্ত কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন ও সেবা গ্রহণ করা যাবে না বলে তথ্য বিবরণীতে বলা হয়েছে।

অনুমোদন ছাড়াই ভিসা ফি নিজ দেশে নিতে পারবে দূতাবাস

প্রকাশ: বুধবার, জুন ২৪, ২০২৬
অনুমোদন ছাড়াই ভিসা ফি নিজ দেশে নিতে পারবে দূতাবাস

বিভিন্ন দূতাবাসের অনুমোদিত এজেন্সির বেলাতেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

ভিসা ফিসহ দূতাবাসের বিভিন্ন সেবার বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রায় নেওয়া অর্থ বিদেশি মুদ্রায় রূপান্তর করে নিজ দেশে নিতে এখন থেকে দূতাবাসগুলোকে অনুমোদন নিতে হবে না।

সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদন নেওয়ার আগের সিদ্ধান্ত বদলে বলেছে, অনুমোদিত এজেন্সির বেলাতেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। বাংলাদেশে অনেক রাষ্ট্রের দূতাবাস না থাকলেও ভিসা কেন্দ্র ও এজেন্সি রয়েছে।

তবে বৈদেশিক মুদ্রা ছাড় করতে ব্যাংকের অনুমোদিত ডিলার (এডি) শাখাকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করতে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে স্থানীয় সব ধরনের কর কেটে রাখতে হবে এডি শাখাকে।

এর আগে দূতাবাসগুলোর লেনদেন সহজ করতে মে মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক পৃথক সার্কুলার দেয়।

ওই সার্কুলারে বিভিন্ন দূতাবাস বা এমন আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষ যাদের কাছ থেকে ভিসা পেতে পূর্বশর্ত হিসেবে বৈদেশিক মুদ্রায় জামানত রাখতে হয়, তাদের জন্যও বৈদেশিক ‍মুদ্রা বরাদ্দ করার সুযোগ দেওয়া হয়।

অবশ্য ফেরতযোগ্য বা মেয়াদ শেষে বাংলাদেশে প্রত্যাবসন হবে এমন অর্থ কেবল জামানত হিসেবে বৈদেশিক মুদ্রায় রাখা যাবে। জামানতের মেয়াদ শেষে ব্যাংকগুলোকে বৈদেশিক মুদ্রার অর্থ ফেরত আনতে হবে।

এর ফলে বিদেশ পড়াশোনা, কর্মশালায় অংশ নেওয়া বা অন্য কোনো উদ্দেশে কোনো দেশে যাওয়ার সময়ে ঢাকায় থাকা দেশগুলোর দূতাবাসগুলোকে বৈদেশিক মুদ্রায় গ্যারান্টি বা জামানত দেওয়া সুযোগ তৈরি হয়।

প্রবাসীদের বিনিয়োগ বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন উদ্যোগ

প্রকাশ: বুধবার, জুন ২৪, ২০২৬
প্রবাসীদের বিনিয়োগ বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন উদ্যোগ

প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য নতুন ধরনের একটি ব্যাংক হিসাব চালুর সুযোগ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘অনিবাসী বিনিময়যোগ্য টাকা হিসাব’ নামে এই হিসাবের মাধ্যমে প্রবাসীরা দেশে পাঠানো রেমিট্যান্সের অর্থ ব্যাংকের অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটে জমা রাখতে পারবেন। সেই অর্থ দেশে বিনিয়োগ, ঋণের জামানত হিসেবে ব্যবহার এবং প্রয়োজন হলে বিদেশে ফেরত নেওয়ারও সুযোগ থাকবে।

মঙ্গলবার এ–সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, রেমিট্যান্সের অর্থকে আরও কার্যকরভাবে আর্থিক খাতে যুক্ত করা, প্রবাসীদের বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানো এবং তফসিলি ব্যাংকগুলোর অফশোর ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্প্রসারণই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটে এই হিসাব খুলতে পারবেন। হিসাবটি সঞ্চয়ী, চলতি বা মেয়াদি আমানত—যেকোনো ধরনের হতে পারে। এই হিসাবে রেমিট্যান্স ছাড়াও অন্য অনিবাসী বিনিময়যোগ্য টাকা হিসাব থেকে স্থানান্তরিত অর্থ, সুদ বা মুনাফা, অনুমোদিত বিনিয়োগ থেকে পাওয়া আয়, শেয়ারে আবেদন করে ফেরত পাওয়া অর্থ এবং বৈদেশিক মুদ্রা–সম্পর্কিত অন্যান্য অনুমোদিত অর্থ জমা রাখা যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এই হিসাবে জমা রাখা মূল অর্থ ও এর বিপরীতে অর্জিত সুদ বা মুনাফা পুরোপুরি বিদেশে ফেরত নেওয়া যাবে। পাশাপাশি দেশের ভেতরেও এই অর্থ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যাবে। যেমন—স্থানীয় পরিশোধ, অন্য অনিবাসী হিসাব বা বৈদেশিক মুদ্রার হিসাবে স্থানান্তর এবং দেশে বিদেশি প্রত্যক্ষ বা পোর্টফোলিও বিনিয়োগ।

সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, এই হিসাবে থাকা অর্থ ব্যবহার করে অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট বিশেষায়িত অঞ্চলের টাইপ-এ শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে টাকায় ঋণ দিতে পারবে। তবে এই ঋণ শুধু চলতি ব্যয়—যেমন বেতন-ভাতা, মজুরি ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধে ব্যবহার করা যাবে। ঋণ পরিশোধ করতে হবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি আয়ের মাধ্যমে। এ ছাড়া এই হিসাবের অর্থ জামানত রেখে দেশের ডমেস্টিক ব্যাংকিং ইউনিট থেকে প্রবাসী বা তাঁদের মনোনীত ব্যক্তি ঋণ নিতে পারবেন। এই ঋণ ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার করা যাবে। তবে কৃষি, প্ল্যান্টেশন ও রিয়েল এস্টেট খাতে বিনিয়োগের জন্য এই ঋণ ব্যবহার করা যাবে না। একই সঙ্গে অ-প্রত্যাবাসনযোগ্য বিনিয়োগ বা নিজের ব্যবহারের জন্য আবাসিক সম্পত্তি কেনার ক্ষেত্রেও এই অর্থ ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।

ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, নতুন এই হিসাব চালুর ফলে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ আরও বেশি ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় আসবে। একই সঙ্গে অফশোর ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্প্রসারণের পাশাপাশি দেশে প্রবাসীদের বিনিয়োগের সুযোগও বাড়বে। বিশেষায়িত অঞ্চলের রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোও এ ব্যবস্থার মাধ্যমে টাকার তারল্য সহায়তা পাবে।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত খুলতে প্রধানমন্ত্রীর জোর দাবি

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুন ২৩, ২০২৬
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত খুলতে প্রধানমন্ত্রীর জোর দাবি

বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করা, দেশটিতে অবস্থানরত অনিয়মিত বাংলাদেশি অভিবাসীদের বৈধতার সুযোগ সৃষ্টি এবং বিভিন্ন কারণে আটক বাংলাদেশিদের সম্ভাব্য প্রত্যাবাসনের বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে অনুষ্ঠিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন।

সোমবার সকালে পুত্রজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের অবদান দীর্ঘদিনের। এ বাস্তবতায় আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ এবং শ্রমবাজার দ্রুত চালুর বিষয়টি তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কাছে গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করেছেন।

তিনি বলেন, “আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে অনুরোধ করেছি, যাতে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অনিয়মিত বাংলাদেশি শ্রমিকদের বৈধ করার সুযোগ এবং আটক কর্মীদের মানবিক বিবেচনায় দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।”

স্বচ্ছ ও কম খরচে কর্মী নিয়োগে ঐকমত্য

প্রধানমন্ত্রী জানান, দুই দেশই শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, ন্যায্য এবং সাশ্রয়ী করার বিষয়ে একমত হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় হ্রাসে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে অতীতে অতিরিক্ত ব্যয়, সিন্ডিকেট ও নানা অনিয়মের অভিযোগ ছিল। ফলে সাম্প্রতিক আলোচনায় শ্রমবাজার ব্যবস্থাপনাকে আরও জবাবদিহিমূলক ও কর্মীবান্ধব করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন গতি

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত বন্ধু ও উন্নয়ন অংশীদার। পারস্পরিক আস্থা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং জনগণের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ভিত্তিতে দুই দেশের বন্ধুত্ব আরও সুদৃঢ় হয়েছে।

তিনি জানান, আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে তার আলোচনা ছিল অত্যন্ত ফলপ্রসূ। দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে বিদ্যমান সহযোগিতা কাঠামো আরও সক্রিয় করার বিষয়ে একমত হয়েছেন।

মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ও বিনিয়োগে জোর

বৈঠকে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ নিয়েও আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

তিনি মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি, জ্বালানি, অবকাঠামো, হালাল শিল্প, কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত শিল্প, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজিটাল অর্থনীতি ও সেমিকন্ডাক্টর খাতে সহযোগিতার সুযোগ দিন দিন বাড়ছে।

গুরুত্বপূর্ণ দলিল বিনিময়

দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সংস্কৃতি বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এছাড়া সন্ত্রাসবাদ দমনবিষয়ক গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ সহযোগিতা সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল বিনিময় করা হয়।

সরকারি সূত্রগুলো বলছে, এসব উদ্যোগ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও বহুমাত্রিক রূপ দিতে সহায়ক হবে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতেও সমর্থন চাইল বাংলাদেশ

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য তিনি দেশটির সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

আসিয়ানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক চায় বাংলাদেশ

আঞ্চলিক সহযোগিতা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আসিয়ানের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা চায় এবং সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী। একই সঙ্গে আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব (আরসিইপি)-এ যোগদানের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের আগ্রহ রয়েছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর শুধু শ্রমবাজার নয়, বরং বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কূটনীতি ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ককে নতুন গতি দিতে পারে। বিশেষ করে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় পুরোপুরি উন্মুক্ত হলে বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

অবশেষে হরমুজ পেরিয়েছে ‘বাংলার জয়যাত্রা’

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুন ২৩, ২০২৬
অবশেষে হরমুজ পেরিয়েছে ‘বাংলার জয়যাত্রা’

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে পারস্য উপসাগরে দীর্ঘ চার মাস ধরে অবরুদ্ধ থাকার পর অবশেষে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিয়েছে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‌‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’।

সোমবার (২৩ জুন) বাংলাদেশ সময় ভোররাত তিনটায় জাহাজটি সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে বর্তমানে জ্বালানি বা বাংকারিং নেওয়ার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপর্যায়ের দীর্ঘ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং বিএসসির সুনিপুণ নৌ-কৌশলে জাহাজটিতে থাকা ৩১ জন বাংলাদেশি ক্রু ও নাবিক সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সুস্থ অবস্থায় এই চরম সংকটমুক্ত হলেন।

বিএসসি’র তথ্য অনুযায়ী, গত ২ ফেব্রুয়ারি জাহাজটি হরমুজ হয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছিল। পরে এটি কাতারের একটি বন্দর থেকে স্টিল কয়েল বোঝাই করে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়।

ঠিক তার পরের দিন অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আন্তর্জাতিক পরাশক্তি আমেরিকা ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু হয়। এর পরপরই হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরণের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করে ইরানি কর্তৃপক্ষ।

গত ১১ মার্চ জাবেল আলীতে পণ্য খালাসের পর জাহাজটির কুয়েতে যাওয়ার কথা ছিল। তবে নিরাপত্তার মারাত্মক ঝুঁকি বিবেচনায় বিএসসি জাহাজটিকে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

এরই ধারাবাহিকতায় জাহাজটি দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে যাওয়ার জন্য সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে ৩৭ হাজার টন সার বোঝাই করে। কিন্তু হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকায় জাহাজটি রাস আল খায়ের বন্দরেই আটকে পড়ে।

পরবর্তীতে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলে গত ৮ এপ্রিল জাহাজটি কেপটাউনের উদ্দেশ্যে রাস আল খায়ের ত্যাগ করলেও ১০ এপ্রিল হরমুজ পাড়ি দিতে গিয়ে পুনরায় ইরানি কোস্ট গার্ডের বাধার মুখে পড়ে।

নিরুপায় হয়ে জাহাজটি ওমানের মিনা সাকার বন্দরের বহির্নোঙরে আশ্রয় নেয়। সর্বশেষ ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক সমঝোতা চুক্তি হওয়ার পর বাংলাদেশ সরকারের দীর্ঘ ও নিবিড় কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় জাহাজটি আজ রাতে হরমুজ প্রণালি পার হতে সমর্থ হয়।

২০১৮ সালে নির্মিত ৩৮ হাজার ৮৯৪ টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন এই বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজটিতে কর্মরত ৩১ জন ক্রু-এর সবাই বাংলাদেশি নাগরিক।

কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, আমাদের নাবিকদের সীমাহীন সাহসিকতা, সুনিপুণ নৌ-কৌশল এবং সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সার্বক্ষণিক দিকনির্দেশনায় ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ এক চরম সংকটময় পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবিলা করেছে।

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের এই স্পর্শকাতর যুদ্ধক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে আটকা পড়ে তারা যে অসীম ধৈর্য দেখিয়েছেন, তা বিশ্ব মেরিটাইম খাতে বাংলাদেশের জন্য এক যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত।

কমডোর মালেক আরও জানান, দীর্ঘদিন অবরুদ্ধ থাকার পুরো সংকটকালীন সময়ে জাহাজের ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক ও ক্রুদের মনোবল সমুন্নত রাখতে বিএসসির পক্ষ থেকে সব ধরণের আপদকালীন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল।

জাহাজে সুপেয় পানি, খাবার, রসদ ও জ্বালানি তেলের মতো প্রয়োজনীয় লজিস্টিকস সরবরাহে কখনোই কোনো ঘাটতি হতে দেওয়া হয়নি।

পাশাপাশি নাবিকদের শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখতে স্বাভাবিক সুযোগ-সুবিধার অতিরিক্ত হিসেবে দৈনিক ৫ মার্কিন ডলার বিশেষ মিল অ্যালাউন্স, ঈদের বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা এবং ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের জন্য বিশেষ ‘ওয়ার ওয়েজ’ (War Wage) প্রদান করা হয়েছে।