২৫ জুন ২০২৬

রোনালদোর জোড়া গোল; উজবেকিস্তানকে ৫-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিল পর্তুগাল

প্রকাশ: বুধবার, জুন ২৪, ২০২৬
রোনালদোর জোড়া গোল; উজবেকিস্তানকে ৫-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিল পর্তুগাল

পর্তুগালের প্রথম ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ছায়া হয়ে ছিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। সেই ম্যাচে তার দলও খুঁইয়েছে পয়েন্ট। ম্যাচের পর জমছিলো সমালোচনার ঝড়। তবে কি ধূসর হয়ে গেলেন সময়ের অন্যতম সেরা তারকা? এই প্রশ্নের উত্তর পর্তুগাল অধিনায়ক দিলেন উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে।

জোড়া গোল করে জানালেন, তিনি এখনো রঙিন। আর তাতে গোল উৎসব করলো পর্তুগালও। উজবেকিস্তানকে ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে পর্তুগাল। রোনালদোর জোড়া গোলের সঙ্গে একটি গোল নুনো মেন্দেসের, একটি আত্মঘাতী গোল এবং বদলি খেলোয়াড় রাফায়েল লেয়াওর শেষ মুহূর্তের আঘাতে উজবেকিস্তানকে উড়িয়ে দিয়েছে পর্তুগাল। হিউস্টনে বিশ্বকাপের ‘কে’ গ্রুপের ম্যাচে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আধিপত্য দেখিয়ে বড় জয় তুলে নেয় পর্তুগিজরা। এই ম্যাচে গোল করে বিশ্বকাপের ছয়টি ভিন্ন আসরে গোল করা প্রথম ফুটবলার হিসেবেও ইতিহাস গড়েছেন রোনালদো।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তোলে পর্তুগাল। চতুর্থ মিনিটেই গোলের সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন রোনালদো। নুনো মেন্দেসের নিখুঁত ক্রস থেকে ঠিকঠাক সংযোগ করতে না পারায় তখন লিড নেওয়া হয়নি। তবে মাত্র দুই মিনিট পরই ভুল শুধরে নেন পর্তুগিজ অধিনায়ক। ডান দিক থেকে পেদ্রো নেতোর ক্রস প্রথম ছোঁয়াতেই জালে জড়িয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোলের দেখা পান তিনি। শুরুতেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় পর্তুগাল।

গোলের পরও আক্রমণের ধার কমেনি। ব্রুনো ফার্নান্দেজ, জোয়াও নেভেস ও পেদ্রো নেতোর নেতৃত্বে একের পর এক আক্রমণে ব্যস্ত রাখে উজবেক রক্ষণকে। ১৯ মিনিটে নাসরুল্লায়েভের শট ঠেকিয়ে উজবেকিস্তানের সম্ভাব্য সমতা ফেরানোর সুযোগ নষ্ট করেন গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তা। এরপর ১৭ মিনিটে পাওয়া এক ফ্রি-কিক থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করে পর্তুগাল। সবাই যখন রোনালদোর শটের অপেক্ষায়, তখন চমক দেখিয়ে নুনো মেন্দেস বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে বল জালে পাঠান। নেমাতভের কোনো সুযোগই ছিল না।

২৯ মিনিটে উজবেকিস্তান ম্যাচে ফেরার আশা দেখেছিল। আজিজজন গনিয়েভের দূরপাল্লার শট জালে জড়ালেও ভিএআরের সাহায্যে গোল বাতিল করেন রেফারি। আক্রমণ গড়ার সময় ফাউলের প্রমাণ মেলায় গোলটি স্বীকৃতি পায়নি। সেই হতাশা কাটার আগেই আবারও আঘাত হানে পর্তুগাল। ৩৯ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে বল টেনে এনে ব্রুনো ফার্নান্দেজ নিখুঁত থ্রু পাস দেন রোনালদোর উদ্দেশে। অফসাইডের ফাঁদ এড়িয়ে এগিয়ে গিয়ে ঠান্ডা মাথায় গোলরক্ষককে পরাস্ত করে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন তিনি। প্রথমার্ধ শেষ হয় ৩-০ ব্যবধানে।

খেলায় হাইড্রেশন বিরতির সময় খেলোয়াড়রা যখন পানীয় পান করে সতেজ হচ্ছেন, তখন পরিসংখ্যানের পাতায় আরও একবার নিজের নাম উজ্জ্বল করলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ইউরো ও বিশ্বকাপ মিলিয়ে বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ১১টি ভিন্ন আসরে গোল করেছেন রোনালদো, যা ইউরোপের কোনো ফুটবলারের জন্য সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড। তার কাছাকাছিও নেই আর কেউ। জার্মানির কিংবদন্তি ইয়ুর্গেন ক্লিন্সমান, মিরোস্লাভ ক্লোসা এবং সুইজারল্যান্ডের জেরদান শাকিরি—এই তিনজনই গোল করেছেন ৬টি করে বড় টুর্নামেন্টে। অর্থাৎ তাদের চেয়ে পাঁচটি বেশি আসরে গোল করে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে গেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।

বিরতির পর দুটি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে পর্তুগাল। জোয়াও কানসেলো ও পেদ্রো নেতোর জায়গায় নামেন নেলসন সেমেদো এবং ফ্রান্সিসকো কনসেইসাও। দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছেই রাখে ইউরোপের দলটি। ৫৮ মিনিটে হ্যাটট্রিকের সুযোগ পেয়েছিলেন রোনালদো। ব্রুনো ফার্নান্দেজের লব করা বল থেকে নেওয়া তার শট দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন নেমাতভ। কিন্তু দুই মিনিট পর আর রক্ষা হয়নি উজবেকদের। ব্রুনোর কর্নার থেকে রোনালদোর স্পর্শের পর বল খুসানোভের গায়ে লেগে গোলমুখে যায়। সেটি ঠেকাতে গিয়ে উল্টো নিজের জালেই বল জড়িয়ে ফেলেন গোলরক্ষক নেমাতভ। আত্মঘাতী সেই গোলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৪-০।

উজবেকিস্তান অবশ্য ৭৮ মিনিটে সান্ত্বনার গোলের খুব কাছাকাছি গিয়েছিল। শোমুরোদভের শট অল্পের জন্য ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে গেলে হতাশ হতে হয় তাদের। শেষদিকে আরও একবার জ্বলে ওঠে পর্তুগাল। ৮৭ মিনিটে ডান দিক থেকে নেলসন সেমেদোর দারুণ ক্রস পেয়ে বদলি খেলোয়াড় রাফায়েল লেয়াও জালের ওপরের বাঁ কোণায় নিখুঁত শটে বল পাঠিয়ে স্কোরলাইন ৫-০ করেন।

যোগ করা সময়ে হ্যাটট্রিকের সুযোগ পেয়েও গোল করতে পারেননি রোনালদো। তবে তাতে ম্যাচের গল্প বদলায়নি। রেকর্ডগড়া জোড়া গোল আর দলীয় আধিপত্যের প্রদর্শনীতে পর্তুগাল তুলে নেয় বিশ্বকাপের অন্যতম দাপুটে জয়। উদ্বোধনী ম্যাচের ধাক্কা ভুলে নকআউটের লড়াইয়ে নিজেদের শক্ত অবস্থানের বার্তাও দিয়ে রাখল রোনালদোর দল।

রোনালদোর জোড়া গোল; উজবেকিস্তানকে ৫-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিল পর্তুগাল

প্রকাশ: বুধবার, জুন ২৪, ২০২৬
রোনালদোর জোড়া গোল; উজবেকিস্তানকে ৫-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিল পর্তুগাল

পর্তুগালের প্রথম ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ছায়া হয়ে ছিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। সেই ম্যাচে তার দলও খুঁইয়েছে পয়েন্ট। ম্যাচের পর জমছিলো সমালোচনার ঝড়। তবে কি ধূসর হয়ে গেলেন সময়ের অন্যতম সেরা তারকা? এই প্রশ্নের উত্তর পর্তুগাল অধিনায়ক দিলেন উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে।

জোড়া গোল করে জানালেন, তিনি এখনো রঙিন। আর তাতে গোল উৎসব করলো পর্তুগালও। উজবেকিস্তানকে ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে পর্তুগাল। রোনালদোর জোড়া গোলের সঙ্গে একটি গোল নুনো মেন্দেসের, একটি আত্মঘাতী গোল এবং বদলি খেলোয়াড় রাফায়েল লেয়াওর শেষ মুহূর্তের আঘাতে উজবেকিস্তানকে উড়িয়ে দিয়েছে পর্তুগাল। হিউস্টনে বিশ্বকাপের ‘কে’ গ্রুপের ম্যাচে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আধিপত্য দেখিয়ে বড় জয় তুলে নেয় পর্তুগিজরা। এই ম্যাচে গোল করে বিশ্বকাপের ছয়টি ভিন্ন আসরে গোল করা প্রথম ফুটবলার হিসেবেও ইতিহাস গড়েছেন রোনালদো।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তোলে পর্তুগাল। চতুর্থ মিনিটেই গোলের সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন রোনালদো। নুনো মেন্দেসের নিখুঁত ক্রস থেকে ঠিকঠাক সংযোগ করতে না পারায় তখন লিড নেওয়া হয়নি। তবে মাত্র দুই মিনিট পরই ভুল শুধরে নেন পর্তুগিজ অধিনায়ক। ডান দিক থেকে পেদ্রো নেতোর ক্রস প্রথম ছোঁয়াতেই জালে জড়িয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোলের দেখা পান তিনি। শুরুতেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় পর্তুগাল।

গোলের পরও আক্রমণের ধার কমেনি। ব্রুনো ফার্নান্দেজ, জোয়াও নেভেস ও পেদ্রো নেতোর নেতৃত্বে একের পর এক আক্রমণে ব্যস্ত রাখে উজবেক রক্ষণকে। ১৯ মিনিটে নাসরুল্লায়েভের শট ঠেকিয়ে উজবেকিস্তানের সম্ভাব্য সমতা ফেরানোর সুযোগ নষ্ট করেন গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তা। এরপর ১৭ মিনিটে পাওয়া এক ফ্রি-কিক থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করে পর্তুগাল। সবাই যখন রোনালদোর শটের অপেক্ষায়, তখন চমক দেখিয়ে নুনো মেন্দেস বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে বল জালে পাঠান। নেমাতভের কোনো সুযোগই ছিল না।

২৯ মিনিটে উজবেকিস্তান ম্যাচে ফেরার আশা দেখেছিল। আজিজজন গনিয়েভের দূরপাল্লার শট জালে জড়ালেও ভিএআরের সাহায্যে গোল বাতিল করেন রেফারি। আক্রমণ গড়ার সময় ফাউলের প্রমাণ মেলায় গোলটি স্বীকৃতি পায়নি। সেই হতাশা কাটার আগেই আবারও আঘাত হানে পর্তুগাল। ৩৯ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে বল টেনে এনে ব্রুনো ফার্নান্দেজ নিখুঁত থ্রু পাস দেন রোনালদোর উদ্দেশে। অফসাইডের ফাঁদ এড়িয়ে এগিয়ে গিয়ে ঠান্ডা মাথায় গোলরক্ষককে পরাস্ত করে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন তিনি। প্রথমার্ধ শেষ হয় ৩-০ ব্যবধানে।

খেলায় হাইড্রেশন বিরতির সময় খেলোয়াড়রা যখন পানীয় পান করে সতেজ হচ্ছেন, তখন পরিসংখ্যানের পাতায় আরও একবার নিজের নাম উজ্জ্বল করলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ইউরো ও বিশ্বকাপ মিলিয়ে বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ১১টি ভিন্ন আসরে গোল করেছেন রোনালদো, যা ইউরোপের কোনো ফুটবলারের জন্য সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড। তার কাছাকাছিও নেই আর কেউ। জার্মানির কিংবদন্তি ইয়ুর্গেন ক্লিন্সমান, মিরোস্লাভ ক্লোসা এবং সুইজারল্যান্ডের জেরদান শাকিরি—এই তিনজনই গোল করেছেন ৬টি করে বড় টুর্নামেন্টে। অর্থাৎ তাদের চেয়ে পাঁচটি বেশি আসরে গোল করে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে গেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।

বিরতির পর দুটি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে পর্তুগাল। জোয়াও কানসেলো ও পেদ্রো নেতোর জায়গায় নামেন নেলসন সেমেদো এবং ফ্রান্সিসকো কনসেইসাও। দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছেই রাখে ইউরোপের দলটি। ৫৮ মিনিটে হ্যাটট্রিকের সুযোগ পেয়েছিলেন রোনালদো। ব্রুনো ফার্নান্দেজের লব করা বল থেকে নেওয়া তার শট দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন নেমাতভ। কিন্তু দুই মিনিট পর আর রক্ষা হয়নি উজবেকদের। ব্রুনোর কর্নার থেকে রোনালদোর স্পর্শের পর বল খুসানোভের গায়ে লেগে গোলমুখে যায়। সেটি ঠেকাতে গিয়ে উল্টো নিজের জালেই বল জড়িয়ে ফেলেন গোলরক্ষক নেমাতভ। আত্মঘাতী সেই গোলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৪-০।

উজবেকিস্তান অবশ্য ৭৮ মিনিটে সান্ত্বনার গোলের খুব কাছাকাছি গিয়েছিল। শোমুরোদভের শট অল্পের জন্য ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে গেলে হতাশ হতে হয় তাদের। শেষদিকে আরও একবার জ্বলে ওঠে পর্তুগাল। ৮৭ মিনিটে ডান দিক থেকে নেলসন সেমেদোর দারুণ ক্রস পেয়ে বদলি খেলোয়াড় রাফায়েল লেয়াও জালের ওপরের বাঁ কোণায় নিখুঁত শটে বল পাঠিয়ে স্কোরলাইন ৫-০ করেন।

যোগ করা সময়ে হ্যাটট্রিকের সুযোগ পেয়েও গোল করতে পারেননি রোনালদো। তবে তাতে ম্যাচের গল্প বদলায়নি। রেকর্ডগড়া জোড়া গোল আর দলীয় আধিপত্যের প্রদর্শনীতে পর্তুগাল তুলে নেয় বিশ্বকাপের অন্যতম দাপুটে জয়। উদ্বোধনী ম্যাচের ধাক্কা ভুলে নকআউটের লড়াইয়ে নিজেদের শক্ত অবস্থানের বার্তাও দিয়ে রাখল রোনালদোর দল।

একদিনে যে চারটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়েছেন মেসি

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুন ২৩, ২০২৬
একদিনে যে চারটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়েছেন মেসি

২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচে পাঁচ গোল করে লিওনেল মেসি এখন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা। শুধু এই টুর্নামেন্টই নয়, বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাও তিনি। রোজারিওর মেসি নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নেমে এক দিনে যেন অজস্র রেকর্ডের পসরা সাজিয়েছেন। এর মধ্যে চারটি আবার গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম লিখিয়েছেন।

মেসির অনবদ্য পারফরম্যান্সে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ ও অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা। ইউরোপিয়ান দলটির বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে জয় পেতে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল। কিন্তু মানুষটা মেসি বলেই সব সহজ করে নেন। এক নজরে দেখে নিন মেসির যে চারটি রেকর্ড গিনিস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম লেখিয়েছে।

১. বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোল – বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১৮টি গোল করে রেকর্ড গড়েছেন মেসি। এর আগে রেকর্ডটি ছিল মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের।

২. বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ জয় – অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে মেসির জয়টি তার ১৮তম জয়। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটিই কোন খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত জয়। এর আগে এতদিন ১৭ জয় নিয়ে রেকর্ডটি ছিল মিরোস্লাভ ক্লোসার

৩. বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ ম্যাচ – আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচ খেলে বিশ্বকাপে মেসি মোট ২৮টি ম্যাচ খেলার রেকর্ড গড়েন। জার্মানির লোথার ম্যাথিউসের গড়া ২৬টি ম্যাচ খেলার রেকর্ডকে টপকে যান তিনি।

৪. বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ মিনিট খেলা – বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৪৮৯ মিনিট খেলার রেকর্ড গড়লেন মেসি। এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল পাওলো মালদিনির ২ হাজার ২১৭ মিনিট খেলার রেকর্ড।

বিশ্বকাপে আজ সুপার সানডে: রাউন্ড অব ৩২-এর টিকিট পেতে মুখোমুখি স্পেন-সৌদি

প্রকাশ: রবিবার, জুন ২১, ২০২৬
বিশ্বকাপে আজ সুপার সানডে: রাউন্ড অব ৩২-এর টিকিট পেতে মুখোমুখি স্পেন-সৌদি

হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইউরোপিয়ান জায়ান্ট স্পেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিশালী দল সৌদি আরব। ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এইচ’-এর দ্বিতীয় ম্যাচ ডে-তে আজ কাতার সময় সন্ধ্যা ৭টায় মাঠে নামছে দুদল। নিজেদের প্রথম ম্যাচে কাঙ্ক্ষিত জয় না পাওয়ায় এই ম্যাচটি দুদলের জন্যই নকআউট পর্বে যাওয়ার পথ মসৃণ করার এক অগ্নিপরীক্ষা।

টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও স্পেনের প্রথম ম্যাচটি ছিল চরম হতাশাজনক। অভিষিক্ত কেপ ভার্দের রক্ষণ দুর্গে চিড় ধরা না পারায় গোলশূন্য ড্র (০-০) নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় লা রোজাদের। একটি পয়েন্ট পেলেও স্প্যানিশরা খুইয়ে ফেলেছে মূল্যবান দুটি পয়েন্ট। অন্যদিকে, লড়াকু ফুটবল খেলে উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে মূল্যবান ১ পয়েন্ট তুলে নিয়েছে সৌদি আরবও। ম্যাচের ৪১ মিনিটে আবদুল্লাহ আল আমরির গোলে সৌদি আরব এগিয়ে গেলেও শেষ মুহূর্তের গোল হজম করে পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয় জর্জিওস দোনিসের শিষ্যদের।

বর্তমানে গ্রুপ ‘এইচ’-এর চার দলেরই সংগ্রহ সমান ১ পয়েন্ট। ফলে গ্রুপ টেবিলের সমীকরণ এখনো সম্পূর্ণ উন্মুক্ত। স্পেন খুব ভালো করেই জানে যে, নকআউট পর্ব অর্থাৎ ‘রাউন্ড অব ৩২’-এ পা রাখতে হলে আগামী দুই ম্যাচ থেকে অন্তত ৪ পয়েন্ট নিশ্চিত করতে হবে। আর তাই আজকের রাতের ম্যাচে ৩ পয়েন্ট তুলে নিয়ে গ্রুপ টেবিলের শীর্ষে যাওয়াই এখন স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের প্রধান লক্ষ্য।

কেপ ভার্দের বিপক্ষে ফিফা র‌্যাংকিংয়ের তিনে থাকা স্পেনের আক্রমণভাগে সৃজনশীলতার তীব্র অভাব লক্ষ করা গেছে। তবে ম্যাচের শেষ ১৯ মিনিটে বার্সেলোনার ১৮ বছর বয়সি তরুণ সুপারস্টার লামিন ইয়ামাল মাঠে নামার পর স্পেনের খেলায় গতি ফেরে। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা এই বিস্ময় বালককে র‌্যাংকিংয়ের ৫৯তম দল সৌদি আরবের বিপক্ষে শুরু থেকেই খেলানোর ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের স্বপ্ন টিকিয়ে রাখতে হলে ইয়ামালের ছন্দে থাকা স্পেনের জন্য অত্যন্ত জরুরি। ইয়ামালের পাশাপাশি নিকো উইলিয়ামসও শুরুর একাদশে ফিরতে পারেন, যা স্পেনের আক্রমণভাগকে আরো ধারালো করবে।

বিশ্বকাপের মঞ্চে এর আগে মাত্র একবারই এই দুদল মুখোমুখি হয়েছিল। ২০০৬ সালের সেই গ্রুপ পর্বের ম্যাচে হুয়ানিতোর একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল স্পেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের দুটি সাক্ষাতেও শেষ হাসি হেসেছে স্প্যানিশরাই। ফলে সৌদি আরবের সামনে এবার স্পেনের বিপক্ষে প্রথম জয়ের ঐতিহাসিক সুযোগ, যার জন্য তারা কেপ ভার্দের লড়াকু পারফরম্যান্স থেকে অনুপ্রেরণা খুঁজবে। ১৯৯৪ সালে নিজেদের সেরা পারফরম্যান্সে রাউন্ড অব ১৬-এ খেললেও, ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল গ্রিন ফ্যালকনদের।

কাগজে-কলমে স্পেন এই ম্যাচে স্পষ্ট ফেভারিট। তবে উরুগুয়ের বিপক্ষে সৌদি আরবের লড়াকু মানসিকতা প্রমাণ করে যে, তারা স্পেনের জন্য সহজ প্রতিপক্ষ হবে না। অধিনায়ক সালেম আল-দাওসারির অভিজ্ঞতা এবং ফিরাস আল বুরাইকানের গোল করার দক্ষতা সৌদি আরবকে কাউন্টার অ্যাটাকে সুবিধা দিতে পারে। তবে লামিন ইয়ামাল এবং পেদ্রিদের নিয়ে গঠিত স্পেনের আক্রমণভাগ যদি নিজেদের চেনা ছন্দে ফিরতে পারে, তবে স্পেনের পূর্ণ ৩ পয়েন্ট পাওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।

ফিফা র‌্যাংকিংয়ে অবস্থান

স্পেন ৩

সৌদি আরব ৫৯

মুখোমুখি লড়াই

মোট ম্যাচ ৩

স্পেনের জয় ৩

সৌদি আরবের জয় ০

বিশ্বকাপ থেকে প্রথম দল হিসেবে বাদ পড়ল যে দেশ

প্রকাশ: শনিবার, জুন ২০, ২০২৬
বিশ্বকাপ থেকে প্রথম দল হিসেবে বাদ পড়ল যে দেশ

ব্রাজিলের কাছে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পর চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে সবার আগে বিদায়ঘণ্টা বেজে গেল হাইতির।

টানা দুই ম্যাচে হেরে ‘সি’ গ্রুপের তলানিতে থাকা ক্যারিবীয় দেশটি টুর্নামেন্টের প্রথম দল হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছে।

এবারের আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে হেরেছিল হাইতি, যার ফলে দুই ম্যাচ শেষে তাদের ঝুলিতে কোনো পয়েন্ট নেই।

অন্যদিকে এক জয় ও এক ড্রয়ে ব্রাজিল ও মরক্কোর পয়েন্ট চার করে এবং স্কটল্যান্ডের সংগ্রহে রয়েছে তিন পয়েন্ট। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে যদি হাইতি জয়ও পায়, তাহলেও তারা আর স্কটল্যান্ডকে টপকাতে পারবে না।

এর মূল কারণ, এবারের বিশ্বকাপে দুই দলের পয়েন্ট সমান হলে গোল ব্যবধানের আগে মুখোমুখি লড়াইয়ের ফলকে প্রথম বিবেচনা করা হচ্ছে।

যেহেতু স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই হেরে গিয়েছিল হাইতি, তাই সমীকরণের সেই হিসাবেও তারা অনেক পিছিয়ে রয়েছে।

ফলে শেষ ম্যাচের ফল যাই হোক না কেন, গ্রুপের শেষ স্থান থেকে তাদের আর উপরে ওঠার কোনো গাণিতিক সুযোগ নেই।

৪৮ দলের নতুন বিশ্বকাপ কাঠামোর নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দলের সঙ্গে সেরা আটটি তৃতীয় স্থানধারী দল পরবর্তী নকআউট পর্বে উঠবে।

কিন্তু প্রথম দুই ম্যাচেই কোনো পয়েন্ট না পাওয়ায় তৃতীয় স্থান অধীকারী সেরা আট দলের তালিকায় ঢোকার সেই সামান্য সম্ভাবনাও শেষ হয়ে গেছে হাইতির।

দীর্ঘ ৫৪ বছর পর ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই মঞ্চে ফেরা হাইতির বিশ্বকাপ যাত্রা তাই অত্যন্ত হতাশাজনকভাবে গ্রুপ পর্বেই থমকে গেল। টুর্নামেন্টে নিজেদের নিয়মরক্ষার শেষ ম্যাচে এবার শক্তিশালী মরক্কোর মুখোমুখি হবে ক্যারিবীয় দলটি।

হাইতিকে উড়িয়ে টেবিলের শীর্ষে উঠলো ব্রাজিল

প্রকাশ: শনিবার, জুন ২০, ২০২৬
হাইতিকে উড়িয়ে টেবিলের শীর্ষে উঠলো ব্রাজিল

মরক্কোর বিপক্ষে ড্র করে এবারের বিশ্বকাপ শুরু করেছিল ব্রাজিল। তবে সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে সেলসাওরা। বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে বড় জয় পেয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাথউস কুনহার জোড়া গোলে হাইতিকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা।

ম্যাচের ১২ মিনিটেই হাইতির জালে বল জড়ান রাফিনিয়া। তবে অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়ে যায়। এরপর গোলের লক্ষ্যে একের পর এক আক্রমণ করে ব্রাজিল।

অবশেষে ম্যাচের ২৩ মিনিটে গোলের দেখা পায় ব্রাজিল। ডান প্রান্ত থেকে বল নিয়ে হাইতির বক্সে ঢুকে শট নেন ভিনিসিয়ুস। হাইতি গোলরক্ষক জনি প্লাসিড শটটি ঠেকালেও ফিরতি বলে আলতো শটে বল জালে জড়ান কুনহা।

এরপর ম্যাচের ৩৬ মিনিটে আবারও গোল করেন কুনহা। মাঝমাঠ থেকে দারুণ এক মুভ শুরু করেন ভিনিসিয়ুস। দৌড়ে তার বাঁ দিকে চলে যাওয়া কুনহাকে ডিফেন্স চেরা থ্রু পাস দেন ভিনি। সেখান থেকে বাঁ পায়ের শটে ম্যাচে দ্বিতীয় গোল করেন এই ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার।

কুনহার পর স্কোরশিটে নাম লেখান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। প্রথমার্ধে যোগ করা সময়ের ৩ মিনিটে হাইতি গোলকিপার জনি প্লাসিডকে একা পেয়ে তার দুই পায়ের ভেতর দিয়ে ক্লিনিক্যাল ফিনিশিংয়ে গোল ভিনি।

প্রথমার্ধে দাপট দেখালেও দ্বিতীয়ার্ধে বেশ ছন্নছড়া ছিল ব্রাজিল। অন্যদিকে, হাইতি নিজেদের কিছুটা গুছিয়ে নেয়। বেশ কিছু আক্রমণ চালায় তারা। তবে গোল আদায় করতে ব্যর্থ হয়।

ম্যাচের ৭৮ মিনিটে ব্রাজিলের হয়ে বল জালে জড়িয়েছিলেন বদলি নামা এনদ্রিক। কিন্তু সেই গোল বাতিল হলো অফসাইডের কারণে। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হলে ৩-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল।

এই জয়ে দুই ম্যাচ শেষে মরক্কোর সমান ৪ পয়েন্ট পেলেও গোলব্যবধানে (+৩) এগিয়ে থেকে সবার উপরে ব্রাজিল। স্কটল্যান্ডকে আগের ম্যাচে ১-০ গোলে হারানোর পর মরক্কো (+১) শীর্ষে উঠলেও ব্রাজিলের জয়ে নেমে গেছে দুই নম্বরে।

হাইতিকে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা স্কটিশরা ৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে, শেষ ম্যাচে তারা খেলবে ব্রাজিলের বিপক্ষে।