১০ আগস্ট ২০২৬

সৌদি আরবে শুটিংয়ে গিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন জনপ্রিয় হলিউড অভিনেতা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুন ২৩, ২০২৬
সৌদি আরবে শুটিংয়ে গিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন জনপ্রিয় হলিউড অভিনেতা

জনপ্রিয় মার্কিন অভিনেতা জিয়ানকার্লো এসপোসিতো ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন বলে জানিয়েছেন সৌদি আরবের জেনারেল এন্টারটেইনমেন্ট অথরিটির চেয়ারম্যান তুর্কি আল–শেখ।

গত শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত এক পোস্টে তুর্কি আল-শেখ জানান, সৌদি আরবে একটি সিনেমার শুটিং চলাকালে এসপোসিতো মাধ্যমে ইসলাম গ্রহণ করেন। পরে তিনি একটি মসজিদে প্রযোজনা দলের সদস্যদের সঙ্গে নামাজও আদায় করেন। তুর্কি আল-শেখ এ ঘটনার একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন।

৬৮ বছর বয়সী এসপোসিতো বর্তমানে অ্যাকশনধর্মী চলচ্চিত্র ‘৭ ডগজ’–এর শুটিংয়ের সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। সিনেমাটিতে মিসরের জনপ্রিয় অভিনেতা আহমেদ ইজ ও করিম আবদেল আজিজও। এ ছাড়া এতে আরও কয়েকজন আন্তর্জাতিক তারকাও যুক্ত রয়েছেন।

স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবে অবস্থানকালে মুসলিম সম্প্রদায়ের আতিথেয়তা, সংস্কৃতি এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এসপোসিতোর ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। তিনি মুসলিমদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং শুটিং চলাকালে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতাকে অত্যন্ত ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেছেন।

ইতালীয় ও আফ্রো-আমেরিকান বংশোদ্ভূত জিয়ানকার্লো এসপোসিতোর অভিনয় ক্যারিয়ার দীর্ঘ পাঁচ দশকের বেশি সময়জুড়ে বিস্তৃত। মাত্র আট বছর বয়সে ব্রডওয়ের ‘ম্যাগি ফ্লিন’ মিউজিক্যালে অভিনয়ের মাধ্যমে তাঁর যাত্রা শুরু। পরে তিনি বিখ্যাত নির্মাতা স্পাইক লির ‘ডু দ্য রাইট থিং’, ‘স্কুল ডেজ’, ‘মো বেটার ব্লুজ’ ‘ম্যালকম এক্স’ ইত্যাদি সিনেমায় অভিনয় করেন।

তবে তাঁকে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি এনে দেয় ‘ব্রেকিং ব্যাড’। সেখানে তিনি গাস ফ্রিঞ্জের চরিত্রে অভিনয় করেন—একজন ভদ্র, শান্ত স্বভাবের রেস্তোরাঁমালিক, যিনি গোপনে পরিচালনা করেন বিশাল মাদকসাম্রাজ্য। টেলিভিশনের ইতিহাসে অন্যতম সেরা খলচরিত্র হিসেবে গাস বিবেচনা করা হয়।

পরবর্তী সময়ে তিনি একই চরিত্রে অভিনয় করেন ‘বেটার কল সল’ সিরিজও। এ ছাড়া তিনি ‘দ্য ম্যানডালোরিয়ান’, ‘দ্য বয়েজ’সহ আরও অনেক জনপ্রিয় প্রকল্পে অভিনয় করেছেন।

ডনের গ্রেপ্তারে আবেগাপ্লুত নীলা চৌধুরী, সালমান শাহর ন্যায়বিচারের আশা!

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ১০, ২০২৬
ডনের গ্রেপ্তারে আবেগাপ্লুত নীলা চৌধুরী, সালমান শাহর ন্যায়বিচারের আশা!

২৯ বছর ধরে ছেলের মৃত্যুর রহস্যের বিচার দেখার অপেক্ষায় সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী। সেই অপেক্ষার মধ্যে এলো নতুন খবর— সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ডন। খবরটি শোনার পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি নীলা চৌধুরী। কণ্ঠে ফিরে আসে দীর্ঘদিনের কষ্ট, ক্ষোভ আর বিচারের প্রত্যাশা।

রোববার (৯ আগস্ট) আন্তর্জাতিক শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে ডনকে আটক করা হয়। পরে সালমান শাহ হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

ডনের গ্রেপ্তারের বিষয়ে স্টার নিউজকে ফোনে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে নীলা চৌধুরী বলেন, ‘আমার বুকের মধ্যে সালমান শাহ ছিল, আছে, থাকবে। আমার ছেলেকে মেরে ফেলা হয়েছে। আজ আমার ছেলেকে কলঙ্কমুক্ত করা হলো।’

ডনের বিরুদ্ধে সালমান শাহকে নিয়ে মিথ্যা বক্তব্য দায়ার অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, বিভিন্ন সময় ডন তার ছেলেকে বেয়াদব হিসেবে তুলে ধরেছেন এবং তাকে নিয়ে নানা মিথ্যা কথা বলেছেন।

নীলা চৌধুরী বলেন, ‘ডন অনেক কিছু করেছে। আমাকে অপমান করেছে, আমার ছেলের নামে মিথ্যা কথা বলেছে। আমার ছেলেকে বেয়াদব বানিয়েছে।’

নিজের বাড়িতে সালমান শাহকে নিয়ে ডনের দেয়া একটি বক্তব্যেরও প্রতিবাদ করেন তিনি। নীলা চৌধুরীর দাবি, ডন তার ঘরে কখনো যাননি।

তিনি বলেন, ‘সে কত বড় মিথ্যা কথা বলছে, যে আমার ছেলে আমাকে মারতে দেখেছে। সে তো আমার ঘরে কোনোদিন যায় নাই, আমার বিল্ডিংয়ের ওপর কোনোদিন ওঠেই নাই।’

ডনের গ্রেপ্তারের পর নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে নীলা চৌধুরী জানান, দীর্ঘদিনের তদন্তের পর সত্য সামনে আসবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তবে সেই সত্য তার ছেলে দেখে যেতে পারবে না— এটাই তার সবচেয়ে বড় কষ্ট।

তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর বিচার। আমার প্রতিক্রিয়ার কিছু নাই। আমার মনটা কাঁদছে। সবই প্রমাণ হবে, কিন্তু সালমান দেখতে পাবে না।’

সালমান শাহ হত্যা মামলার বিচার নিয়ে বর্তমান সরকারের ওপর আস্থার কথাও জানান তিনি।

নীলা চৌধুরী বলেন, ‘আল্লাহর কাছে ও বর্তমান সরকারের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। বর্তমান সরকারের ওপর আমার নির্ভরশীলতা আছে। বিচার এখন হবেই, ইনশাআল্লাহ।’

দীর্ঘদিন ধরে সালমান শাহর মৃত্যুর রহস্য নিয়ে কাজ করা সাংবাদিক, পুলিশ কর্মকর্তা ও দেশবাসীর প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। নানা বাধার মধ্যেও অনেকে বিষয়টি নিয়ে কাজ করেছেন বলে মন্তব্য করেন নীলা চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘সারা বাংলাদেশের সাংবাদিক, পুলিশ অফিসার যারা আছেন, তারা অনেকে বাধাগ্রস্ত হয়ে হয়ত করতে পারেন নাই কিন্তু তারাও সাহায্য করছে, তারাও ভক্ত।’

সালমান শাহর ভক্তদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তার মা। দীর্ঘদিন ধরে ভক্তদের ভালোবাসা ও দাবির কারণেই বিষয়টি মানুষের মনে এখনও রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘এই ১৮ কোটি মানুষের কাছে আমিও কৃতজ্ঞ। এই ভক্ত বাচ্চারা না থাকলে আজকেও তারা কাঁদছে।’

সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে নীলা চৌধুরী বলেন, ‘আমি একটা না, ৪২ থেকে ৪৬টা মৃত্যুর বিচার চাই। আমার বাচ্চার সঙ্গে যারা আত্মহত্যা করছে, তারা মরে গেছে— আল্লাহ তাদের বেহেশত নসিব করুক। এই আসামিদের গ্রেপ্তার করে সকলের বিচার হোক। সেটাই আমি চাই।’

সবশেষে দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তোমাদের সবাইকে ধন্যবাদ। দেশবাসীর কাছে আমার কৃতজ্ঞতা জানাই।’

ইন্ডিয়ান আইডল বিজয়ী হয়ে কত টাকা পেলেন জ্যোতির্ময়ী

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুলাই ২৮, ২০২৬
ইন্ডিয়ান আইডল বিজয়ী হয়ে কত টাকা পেলেন জ্যোতির্ময়ী

এক সময় ‘ইন্ডিয়ান আইডল’-এর অডিশনে বাদ পড়েছিলেন। ছয় বছর পর সেই একই মঞ্চেই চ্যাম্পিয়নের ট্রফি হাতে তুললেন ওডিশার জ্যোতির্ময়ী নায়েক। ২০১৯ সালের প্রত্যাখ্যান থেকে ২০২৬ সালে ‘ইন্ডিয়ান আইডল ১৬’-এর বিজয়ী হওয়ার এই যাত্রাকে তিনি বলছেন ‘পূর্ণ বৃত্ত সম্পন্ন হওয়ার’ গল্প।

রোববার ‘ইন্ডিয়ান আইডল ১৬’-এর গ্র্যান্ড ফিনালেতে তার হাতে পুরস্কার তুলে দেন সংগীতশিল্পী শ্রেয়া ষোষাল ও র‌্যাপার বাদশাহ। চূড়ান্ত অনুষ্ঠানে জ্যোতির্ময়ীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন অংশিকা চোনকার, মনরাজ বীর সিং, মাইস্কমে বসু, সুহাইল সুফি ও তনিষ্ক শুক্লা।

বিজয়ী হিসেবে জ্যোতির্ময়ী নায়েক ট্রফির পাশাপাশি ২০ লাখ রুপি পুরস্কার পেয়েছেন।

ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জ্যোতির্ময়ী বলেন, শুরুতে প্রতিযোগিতাটি ছিল রোমাঞ্চকর। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি কঠিন চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়।

তিনি বলেন, ‘এই যাত্রা যেমন কঠিন ছিল, তেমনি আমার জীবনও বদলে দিয়েছে। ওডিশায় আমি ইতিমধ্যেই প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ছিলাম। তারপরও নিজেকে নতুনভাবে প্রমাণ করার জন্য ঝুঁকি নিয়েছিলাম। এখন মনে হচ্ছে, সেই সিদ্ধান্তই আমার জীবনের সেরা সিদ্ধান্ত ছিল।’

জ্যোতির্ময়ী জানান, ২০১৯ সালে মুম্বাইয়ে আসার পর প্রথমবার ‘ইন্ডিয়ান আইডল’-এর অডিশনে অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু তখনই বাদ পড়তে হয় তাকে।

তিনি বলেন, “একই সময়ে উদিত নারায়ণ স্যারের সঙ্গে আমার প্রথম গান রেকর্ড করার সুযোগ হয়েছিল। তখন তাকে বলেছিলাম, আমি ‘ইন্ডিয়ান আইডল’-এর অডিশন দিয়েছিলাম। তিনি সব সময় আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন। শোতে যখনই এসেছেন, আমার গানের প্রশংসা করেছেন এবং আশীর্বাদ করেছেন।”

জ্যোতির্ময়ী জানান, ফাইনালে উঠেও তিনি কখনো ভাবেননি যে শিরোপা জিতবেন। তার ভাষায়, ‘সত্যি বলতে, আমি কখনো জয়ের কথা ভাবিনি। প্রতিটি পারফরম্যান্সের পর শুধু মনে হতো, ভালো গাইতে পেরেছি কি না। যখন আমার নাম ঘোষণা করা হলো, আমি একেবারেই প্রস্তুত ছিলাম না। অন্যরা বক্তব্য তৈরি করে রেখেছিল, কিন্তু আমার কিছুই বলার ছিল না। আমি শুধু কৃতজ্ঞতায় ভরে গিয়েছিলাম।”

গানের পাশাপাশি জ্যোতির্ময়ীর রয়েছে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিগ্রি। পরে তিনি মিউজিক থেরাপি নিয়ে প্রশিক্ষণ নেন এবং প্যালিয়েটিভ কেয়ারে ইন্টার্নশিপের সময় ক্যানসার রোগীদের সঙ্গে কাজ করেন।

এ অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘নতুন কিছু শেখার আগ্রহ থেকেই মিউজিক থেরাপির সঙ্গে পরিচয়। সংগীত মানুষকে অন্যের প্রতি আরও সহানুভূতিশীল করে তোলে। ক্যানসার রোগীদের সঙ্গে কাজ করে অনেক আশীর্বাদ পেয়েছি। এখন সময় পেলেই জ্যোতিষশাস্ত্র নিয়েও পড়তে চাই।’

গুলশানের সেই তরুণীকে এখনো মিস করেন শাকিব খান!

প্রকাশ: সোমবার, জুলাই ২৭, ২০২৬
গুলশানের সেই তরুণীকে এখনো মিস করেন শাকিব খান!

‘ওকেই বিয়ে করতে চেয়েছিলাম’—অপূর্ণ প্রেমের গল্প শোনালেন শাকিব
জীবনে কখনো কারও প্রেমে পড়েনি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। হোক সে বিয়ের আগে প্রেম বা বিয়ের পরে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে প্রেম। তারকারও তার ব্যতিক্রম নন। কেননা তারাও রক্তে-মাংসে গড়া মানুষ। তাদের জীবনেও থাকে প্রেম, সম্পর্ক আর পরিণয়ের গল্প। তেমনি একজন চিত্রনায়ক শাকিব খান।

Advertisement


ঢালিউড এই মেগাস্টারের ব্যক্তিজীবন নিয়ে সাধারণত আলোচনায় আসে চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস ও শবনম বুবলীর নাম। কিন্তু এই দুই সম্পর্কের বাইরেও তার জীবনে ছিল আরেকটি গভীর ভালোবাসা। যা এতদিন ছিলো অজানা। প্রথম প্রেমের সেই গল্পই এবার শোনালেন মেগাস্টার।

জানালেন রাজধানীর গুলশানের ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করা এক তরুণীর প্রেমে পড়েছিলেন তিনি। তাকে বিয়েও করতে চেয়েছিলেন। তবে সেই সম্পর্ক বেশি দূর এগোয়নি। সম্পর্কের পরিণতি না হলেও এখনো সেই ভালোবাসা ভুলতে পারেননি শাকিব। কখনো কখনো সেই দিনের কথা মনে পড়লে এক ধরনের না-পাওয়ার বেদনা ও অনুশোচনায় ভরে ওঠে শাকিবের মন।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে দেশের বেসরকারি একটি টেলিভিশনের একটি অনুষ্ঠানে চিত্রনায়িকা পূর্ণিমার মুখোমুখি হয়ে জীবনের সেই প্রথম প্রেমের গল্পই শোনান চিত্রনায়ক।

Advertisement

জানা যায়, পূর্ণিমার উপস্থাপনায় ‘চাঁদ তারার গুঞ্জরণ’ নামের টক শোতে এসেছিলেন শাকিব খান। সেখানে চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারের পাশাপাশি ব্যক্তিজীবন নিয়েও কথা বলেন তিনি। সেই অনুষ্ঠানে নিজের অপূর্ণ প্রেমকাহিনির কথা শেয়ার করেন এই নায়ক।

শাকিব বলেন, ‘মনে মনে আমি তাকেই বিয়ে করতে চেয়েছিলাম। ওর পরিবার খুব ভালো, বনেদি পরিবার। দেখতে খুব সুন্দর ছিল। আমাকেও অনেক ভালোবাসত, আমিও।’

জানা যায়, অভিনয় জীবনের কয়েক বছর পরে সেই মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে শাকিব খানের। মেয়েটির পরিবার ছিল গুলশানের প্রতিষ্ঠিত ও উচ্চশিক্ষিত পরিবার। সম্পর্কও ভালোভাবেই এগোচ্ছিল।

প্রেম ভেঙে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে শাকিব খান বলেন, ‘বেশি ভালোবাসা থাকলে আমরা ছোট ছোট বিষয়ে অভিমান করি। একে অপরের প্রতি খুব মান-অভিমান হয়। ভালোবাসা বেশি ছিল, তাই ছোট ছোট বিষয়েও রাগ করে ফেলতাম। আসলে কী থেকে কী হয়ে গেল, বুঝে উঠতে পারিনি। বিষয়টি আমার কাছে মিস্ট্রি থেকে গেছে।’

এরপর পূর্ণিমা জানতে চান, সেই সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ায় তিনি রিগ্রেট ফিল করেন কি না। শাকিব খানের সোজাসাপটা উত্তর, ‘একদম, খুব।’

প্রথম প্রেমের কথা বলতে গিয়ে কিছুটা আবেগপ্রবণ হন শাকিব। তা আবার তুলে ধরেন পূর্ণিমা। শাকিব বলেন, ‘আমি ওখানেই সেটেল্ড হতে চেয়েছিলাম। মাঝে মাঝে একা বসে থাকলে ভাবি, আমি যেতে চাইলাম কোথায়? আমি কার সঙ্গে থাকতে চাইলাম, ভালোবাসলাম কাকে, আর আমি গেলাম কোথায়! কীভাবে ঘটনাটা ঘটল, আমি নিজেও বুঝতে পারিনি।’

এখনো ওই তরুণীকে মিস করেন কি না—জানতে চাইলে শাকিবের উত্তর ‘মাঝেমধ্যে মিস করি তাকে। তবে এখন আর যোগাযোগ নেই। যোগাযোগ আর করতে চাইনি। তার সেই আগের বাসার সামনে দিয়ে এখনো আমার যাতায়াত হয়, কিন্তু তার খোঁজ জানি না। সে আসলে অনেক ভালো কিছু ডিজার্ভ করে।’

প্রেম, প্রেমের সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে শেষে ভাগ্যের প্রসঙ্গ টেনে চিত্রনায়ক জানান, ‘আমরা অনেকেই ভাগ্যে বিশ্বাস করতে চাই না। কিন্তু জীবনে কিছু ঘটনা ঘটে, তখন মনে হয়—কিছু বিষয় আল্লাহ তার হাতেই রেখে দিয়েছেন।’

সেই ভালোবাসা পূর্ণতা না পেলেও পরবর্তী সময়ে শাকিব খান ভালোবেসে বিয়ে করেন চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস ও শবনম বুবলীকে। তবে এখন আর নিজের এই সম্পর্কগুলো নিয়ে কোনো কথা বলতে চাইলেন না তিনি।

তারকাদের পাশে পেয়ে গতিশীল ভারতের জেনজি আন্দোলন

প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ২৪, ২০২৬
তারকাদের পাশে পেয়ে গতিশীল ভারতের জেনজি আন্দোলন

ভারতে দিল্লির রাজপথে প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এর আগে পাশে পেয়েছেন শাবানা আজমী, প্রকাশ রাজসহ জনপ্রিয় সব বলিউড তারকাকে। যত সময় গাড়াচ্ছে, আন্দোলনে যোগ দিচ্ছেন বর্ষীয়ান তারকারা।

নাসিরুদ্দিন শাহ, সালমান খান, প্রীতি জিনতাসহ জনপ্রিয় সব তারকাকে পাশে পেয়ে আন্দোলন বেগবান হচ্ছে। অন্যদিকে জেনজিদের দল ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সমর্থনে মুখ না খোলায় সামাজিকমাধ্যমে সমালোচনার শিকার হচ্ছেন অনেক তারকা। বলিউডের বিখ্যাত খান, কাপুর ও বচ্চন পরিবারের সদস্যরা আন্দোলন নিয়ে চুপ থাকায় কটাক্ষের শিকার হচ্ছেন। তবে সেক্ষেত্রে ব্যতিক্রম সালমান খান। শাহরুখ-আমির থেকে অমিতাভ কিংবা কাপুর পরিবারের সদস্যরা যখন শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে একেবারে চুপ, তখন নিজের ছাত্রজীবনের ছবি দিয়ে বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়ালেন ‘ভাইজান’, যা দেখে অনুরাগীরা বলছেন, ‘টাইগার আভি জিন্দা হ্যায়’।

গত বুধবার গভীর রাতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে কলম ধরেন সালমান। সামাজিকমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে নিজের ছাত্রজীবনের সাদা-কালো একটি ছবি শেয়ার করে তিনি বলেন, ‘আন্দোলন অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ছিল; কিন্তু শেষ পর্যন্ত যেমন সহিংস রূপ নিল, সেটা সত্যিই দুঃখজনক! যারা আহত হয়েছেন, সেসব শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের প্রতি আমার গভীর সহানুভূতি রইল। প্রশ্নপত্র ফাঁস আদতেই শিক্ষাব্যবস্থার এক গুরুতর সমস্যা। তবে আমাকে এটা আনন্দ দিচ্ছে যে, উন্নত শিক্ষাব্যবস্থার দাবিতে আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা একজোট হয়েছে এবং তাদের অভিভাবকরাও পাশে দাঁড়িয়েছেন। ওরা দৃঢ় কণ্ঠে যে অবস্থান নিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।’

শুধু তা-ই নয়, বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েও কিন্তু সতর্কবাণী দিয়েছেন সালমান। বলিউডের এই সুপারস্টারের ভাষ্য, ‘এ আন্দোলন মূলত শিক্ষার্থী ও দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যকার একটি বিষয়, তাই এ আন্দোলনকে কোনো রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। এর কৃতিত্ব শুধু শিক্ষার্থীদের প্রাপ্য। আমার বিশ্বাস, সরকারও তাদের পূর্ণ সহায়তা করবে এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করে তুলবে। আখেরে এটা সবার জন্যই ফলপ্রসূ হবে। ইতিবাচক ফলের আশাই রাখছি আমি। যারা শিক্ষিত হতে চায়, সৃষ্টিকর্তা তাদের সবার মঙ্গল করুন।’

জনপ্রিয় অভিনেত্রী প্রীতি জিনতা উদ্বেগ প্রকাশের পর তোপের মুখে পড়েন। তবে সেটার বিপরীতে তিনি পুনরায় আরো স্পষ্ট প্রতিবাদ জানিয়েছেন। প্রীতি তার পোস্টে লেখেন, ‘শিক্ষার্থীদের সমর্থন করা এবং শিক্ষার সংস্কার দাবি করা অত্যন্ত জরুরি, যা তরুণদের ভবিষ্যতের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন যেন কোনো দেশবিরোধী গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে, সেদিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। অনলাইনে এত ঘৃণা ও বিভাজন দেখে আমার মনে প্রশ্ন জাগছে—দেশের ভেতরের ও বাইরের কিছু অপশক্তি কি আমাদের শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ও হতাশাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে কাজ করা শুরু করেছে?’

অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ সোশ্যাল মিডিয়ায় এক ভিডিও বার্তায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দেশ পরিচালনাকারীর যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। নিন্দা জানিয়ে এ ঘটনায় জড়িত দিল্লির পুলিশদের ‘গুণ্ডা’র সঙ্গে তুলনা করেছেন তিনি। তাদের তুলনা করেছেন একটি বিদেশি সংস্থার এজেন্টের সঙ্গেও। পাশাপাশি আশা না ছেড়ে শিক্ষার্থীদের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন।

ভারতীয় শিল্পী অরিজিৎ সিং সরকারের মন্ত্রী ও দলের নেতারা নিজেদের ভগবান ভাবছেন কী না, সে প্রশ্ন তুলেছেন। অরিজিৎ এক্সে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘আরে, এখন তো আপনারা শিক্ষার্থীদের পেটাচ্ছেন! আপনারা এতটুকুও লজ্জিত নন? এই যে নেতা-মন্ত্রীরা, নিজেদের কি ভগবান মনে করছেন? সব মনে থাকবে। মনে রাখবেন, পরিবর্তনই হলো একমাত্র নিয়ম।’

পুলিশের হামলার বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়ে অভিনেতা রাজকুমার রাও এক লিখিত বার্তায় বলেন, ‘তরুণরা যখন নিজেদের অবহেলিত মনে করে, তখন সমাজ ও রাষ্ট্রের উচিত তাদের কথা শোনা। প্রতিটি কণ্ঠস্বরের সম্মান, ন্যায্যতা ও মর্যাদার সঙ্গে শোনার অধিকার রয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে, শান্তিপূর্ণ উপায়ে কথা বলা আমাদের আসল শক্তি। সহিংসতা কেবল কষ্ট বাড়ায়, যেকোনো সঠিক সমাধান থেকে আমাদের দূরে সরিয়ে দেয়।’

জনপ্রিয় র‍্যাপার হানি সিং এক বার্তায় লিখেছেন, ‘আমাদের দেশের তরুণরা অমর।’ বলিউডের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নেহা কক্কর সম্প্রতি ‘জাস্টিস ফর স্টুডেন্টস’ লেখা একটি ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাওয়া প্রতিটি শিক্ষার্থীর পাশে আমি আছি। আমি তোমাদের সমর্থন করি এবং তোমাদের শক্তির জন্য প্রার্থনা করি। তোমাদের স্বপ্নগুলোর গুরুত্ব অনেক। শক্ত থেকো।’

‘ধুরন্ধর’ খ্যাত অভিনেত্রী আয়েশা খান গিয়েছেন মুম্বাইয়ের দাদারে। সেখানেও শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করছিল। কিন্তু বিক্ষোভস্থলে যাওয়ার পরই পুলিশের হাতে আটক হন অভিনেত্রী। তবে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন করছে দেশটির জেনজিদের নিয়ে গঠিত ককরোজ জনতা পার্টি। আন্দোলন দিনকে দিন সহিংস রূপ নিচ্ছে। পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেলের মুখে জেনজিদের আন্দোলনে বলিউড তারকাদের যোগ দেওয়াকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন আন্দোলনকারীরা।

বিয়ে করেছেন মিস্টার বিস্ট, লিখেছেন— 'মিসেস বিস্টকে খুঁজে পেয়েছি'

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৩, ২০২৬
বিয়ে করেছেন মিস্টার বিস্ট, লিখেছেন— 'মিসেস বিস্টকে খুঁজে পেয়েছি'

বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ইউটিউবার মিস্টার বিস্ট, যার প্রকৃত নাম জিমি ডোনাল্ডসন, দীর্ঘদিনের প্রেমিকা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর থিয়া বয়সেনকে বিয়ে করেছেন। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে বিয়ের একাধিক ছবি প্রকাশ করে ভক্তদের সঙ্গে সুখবরটি ভাগ করে নেন তিনি।

ছবির ক্যাপশনে মিস্টার বিস্ট লেখেন, ‘আমি মিসেস বিস্টকে খুঁজে পেয়েছি, আর এটাই ছিল আমার জীবনের সেরা দিন।’বড় বাজেট ও জাঁকজমকপূর্ণ ভিডিও নির্মাণের জন্য পরিচিত হলেও নিজের বিয়ের আয়োজনটি ছিল একান্ত ব্যক্তিগত। দুই পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ স্বজনদের উপস্থিতিতে নিরিবিলি পরিবেশে সম্পন্ন হয় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা।

বিয়ের অনুষ্ঠানে থিয়া বয়সেন পরেছিলেন আইভরি ও নুড রঙের ওপর ফুল ও লেসের সূক্ষ্ম নকশায় তৈরি একটি গাউন। অন্যদিকে মিস্টার বিস্টের পরনে ছিল সাদা টাক্সেডো জ্যাকেট, সাদা শার্ট, কালো ট্রাউজার এবং কালো বো-টাই।এর আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাগদান সম্পন্ন করেন এই যুগল।

সে সময় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মিস্টার বিস্ট জানিয়েছিলেন, অনেকে ধারণা করেছিলেন তিনি হয়তো কোনো বড় অনুষ্ঠানে বিয়ের প্রস্তাব দেবেন। তবে তিনি চেয়েছিলেন সেই মুহূর্তটি ব্যক্তিগত ও ঘনিষ্ঠ থাকুক।দক্ষিণ আফ্রিকায় এক অভিন্ন বন্ধুর মাধ্যমে জিমি ডোনাল্ডসন ও থিয়া বয়সেনের পরিচয় হয়।

পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) থিয়ার লেখা The Marked Children বই নিয়ে আলাপের সূত্র ধরে তাদের সম্পর্কের শুরু।সম্পর্কের এক বছর পূর্ণ হওয়ার পর থিয়াকে বিয়ের প্রস্তাব দেন জিমি। তবে থিয়া এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিউম্যান কগনিটিভ নিউরোসাইকোলজি বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন না করা পর্যন্ত তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেন।

বিয়ের আগে এক সাক্ষাৎকারে থিয়া বয়সেন বলেছিলেন, আমার মনে হয় আমরা মানসিকভাবে অনেক আগেই বিবাহিত। আমাদের ভবিষ্যৎ, সন্তান এবং ৭০ বছর বয়সেও একসঙ্গে থাকার স্বপ্ন নিয়ে আমরা নিয়মিত কথা বলি। এই বিয়ে আমাদের সম্পর্কের আরেকটি সুন্দর ধাপ।