চট্টগ্রাম সফরের অংশ হিসেবে হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক আমির মরহুম আল্লামা শাহ আহমেদ শফীর (রহ.) কবর জিয়ারত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (৯ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে ঐতিহাসিক হাটহাজারীর আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিয়ারতে অংশ নেন।
এর আগে বিকেলে ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলামের বর্তমান আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।
হাটহাজারী মাদ্রাসায় জিয়ারত ও প্রবীণ আলেমদের সাথে কুশল বিনিময়
রোববার বিকাল পৌনে ৬টার দিকে সড়কপথে হাটহাজারী মাদ্রাসায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে পৌঁছানোর পর তিনি মরহুম শাহ আহমেদ শফীর কবরের পাশে দাঁড়িয়ে রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন।
কবর জিয়ারত শেষে হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক আল্লামা খলীল আহমেদ কাসেমী প্রধানমন্ত্রীকে মাদ্রাসার ভেতরে নিয়ে যান। সেখানে তিনি মাদ্রাসার জ্যেষ্ঠ শিক্ষক ও আলেমদের সাথে মতবিনিময় ও কুশল বিনিময় করেন।
(উল্লেখ্য, হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আল্লামা আহমেদ শফী ২০২০ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। তিনি দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।)
বাবুনগরী মাদ্রাসায় হেফাজত আমিরের সাথে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক
হাটহাজারী যাওয়ার আগে বিকেল ৪টা ১২ মিনিটে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে অবস্থিত 'আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসা'য় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী মাদ্রাসায় এসে পৌঁছালে আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং অতিথি আপ্যায়ন কক্ষে নিয়ে যান।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী প্রবীণ এই ইসলামী পণ্ডিতের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন এবং পারস্পরিক সৌজন্য বিনিময় করেন। এ সময় মাদ্রাসার ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে মোবারকবাদ জানালে প্রধানমন্ত্রী গাড়ি থেকে নেমে তাদের কাছে গিয়ে ভালোবাসাপূর্ণ কুশল বিনিময় করেন।
মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ প্রধানমন্ত্রীর কাছে হেফাজতের ৯ দফা দাবি
মতবিনিময় সভায় হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর কাছে সংগঠনের পক্ষ থেকে লিখিত নয় দফা দাবি তুলে ধরেন।
দাবিগুলো হলো—
১. মহান আল্লাহ, রাসুলুল্লাহ (সা.), পবিত্র কোরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন পাস করা।
২. কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন পাস না করা।
৩. ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনা, ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা।
৪. দাওরায়ে হাদিসের মাস্টার্সের সমমানের স্বীকৃতি কার্যকর করে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের দেশ-বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা।
৫. প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলাম ধর্ম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা।
৬. কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা এবং হিজবুত তাওহিদকে নিষিদ্ধ করা।
৭. পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে দেশি-বিদেশি মিশনারিদের কথিত ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতা বন্ধ করা।
৮. আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আলেমদের বিরুদ্ধে করা কথিত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে আলেম-ওলামাকে রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠনে অংশীদার করা।
৯. টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ও তাবলিগ জামাতের কার্যক্রম ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে পরিচালনা এবং ভারতের মাওলানা সাদকে বাংলাদেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা ও টঙ্গী ময়দানে সাদপন্থীদের ইজতেমার অনুমতি না দেওয়া।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন:
-
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
-
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
-
ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল
-
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত
-
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা এ টি এম শামসুল ইসলাম
-
অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন
-
স্থানীয় সংসদ সদস্য সরোয়ার আলম ও গিয়াস কাদের চৌধুরী সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
হেফাজতে ইসলামের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন
-
সংগঠনটির মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান
-
কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও হেফাজত আমিরের ছেলে মাওলানা আইয়ুব বাবুনগরী
-
মাওলানা মহিউদ্দিন।
-
কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা আজিজুল হক ইসলামীবাদী।
প্রধানমন্ত্রীর এই চট্টগ্রাম সফর এবং দেশের শীর্ষ আলেম সমাজের সাথে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়কে জাতীয় ঐক্য ও সামাজিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক ও তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।